Netarhat

পুজোয় অদূরে ৩ / রাঁচি-নেতারহাট-বেতলা

আর মাত্র ২৫ দিন। এ মাসের ২৫ তারিখে মহালয়া। এখন আর পুজোয় বেড়ানোর বড়ো পরিকল্পনা করা যাবে না। ট্রেনের টিকিট নেই, অনেক বেশি বিমানভাড়া গুনতে হবে, হোটেল-রিসর্টে জায়গা মেলাও ভার। তবে পুজোর ছুটিতে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের শেষে বা অক্টোবরে কাছেপিঠে ভ্রমণ করে আসতেই পারেন। তেমনই কিছু জায়গার সুলুকসন্ধান দিচ্ছে ভ্রমণ অনলাইন। আজ চলুন বাঙালির আর-এক অতি পরিচিত ও প্রিয় জায়গা রাঁচি, সঙ্গে নেতারহাট-বেতলা। ৭ রাত ৮ দিনের ট্যুরে বেরিয়ে পড়ুন।

প্রথম দিন থেকে তৃতীয় দিন

দেখুন ‘পুজোয় অদূরে ২ / রাঁচি-ম্যাকলাস্কিগঞ্জ’ ছকের প্রথম তিন দিন।

জোনা ফল্‌স।

চতুর্থ দিন

সকালেই চলুন নেতারহাট, ১৫৩ কিমি। রাঁচি থেকে সরকারি বা বেসরকারি বাসে বা গাড়িতে যেতে পারেন। গাড়িতে গেলে পথে দেখে নিন রাতুর রাজবাড়ি।

দুপুরের মধ্যে নেতারহাট চলে এলে পাইনের জঙ্গলে ঘোরাঘুরি করুন। চলে যান এখানকার পাবলিক স্কুল দেখতে। এ দিনই দেখে নিতে পারেন ম্যাগনোলিয়া পয়েন্ট থেকে সূর্যাস্ত।

পঞ্চম দিন 

ভোরে দেখুন সূর্যোদয়। অপরূপ এই সূর্যোদয়ের সাক্ষী থাকতে ভুলবেন না। তার পর ঘোরাঘুরি।

লোধ জলপ্রপাত।

কী দেখবেন নেতারহাটে

‘ছোটোনাগপুরের রানি’ হিসাবে খ্যাত ঝাড়খণ্ডের হিলস্টেশন নেতারহাটের (৩৫১৪ ফুট) খ্যাতি তার অনাবিল প্রকৃতির জন্য। চোখ জুড়িয়ে যায় এখানকার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তে। একটা গাড়ি বা জিপ ভাড়া করে দেখে নিন নেতারহাটের দ্রষ্টব্য।

সূর্যাস্তের জন্য বিখ্যাত ম্যাগনোলিয়া পয়েন্ট (১০ কিমি),  আপার ঘঘরি ফল্‌স (৪ কিমি), লোয়ার ঘঘরি ফল্‌স (১০ কিমি), কোয়েল ভিউপয়েন্ট (৩ কিমি), লোধ ফল্‌স (৬০ কিমি) এবং সদনি ফল্‌স (৩৫ কিমি)। নেতারহাট আবাসিক বিদ্যালয় দেখতেও ভুলবেন না। এর প্রাকৃতিক পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবেই।

ষষ্ঠ দিন

সকালেই চলুন বেতলা, ৯৪ কিমি। গাড়ি ভাড়া করে আসাই সুবিধা। সরাসরি বাসেও আসতে পারেন। তবে সরাসরি বাসের সংখ্যাল্পতার জন্য মহুয়াডারে বাস বদল করে আসতে পারেন। বেতলা ন্যাশনাল পার্কে এ দিন গাইড নিয়ে প্রথমে চলুন বেতলা ফোর্ট বা রাজা মেদিনী রায়ের ফোর্ট দেখতে। তার পরে বিকেলের দিকে করুন জিপ সাফারি।

বেতলা ন্যাশনাল পার্ক।

সপ্তম দিন

সকালে করুন হাতি সাফারি। চলুন কেঁচকি (১০ কিমি, কোয়েল ও ওর্গা নদীর সঙ্গম), ডালটনগঞ্জ (২৪ কিমি)। 

অষ্টম দিন

আজ ঘরে ফেরার দিন। এক্কেবারে ভোরে বেরিয়ে পড়ুন বেতলা থেকে। রাঁচি (দূরত্ব ১৭৪ কিমি) এসে হাওড়াগামী শতাব্দী এক্সপ্রেস ধরুন। রবিবার ছাড়া ট্রেনটি প্রতি দিন দুপুর ১:৪৫-এ রাঁচি ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় রাত সাড়ে ন’টায়।

কোথায় থাকবেন

রাঁচি, নেতারহাট এবং বেতলায় রয়েছে ঝাড়খণ্ড পর্যটনের হোটেল। অনলাইন বুকিং: tourism.jharkhand.gov.in/। বেতলা তথা পালামৌ টাইগার রিজার্ভে থাকার অনেক ব্যবস্থা আছে। দেখুন ওয়েবসাইট https://palamautigerreserve.in/accomodation.php। যোগাযোগ – ০৬৫৬৭-২২২৬৫০। রাঁচিতে থাকার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ভ্রমণ সংস্থা ট্রাভেলিজম-এর (Travelism) সঙ্গে। যোগাযোগ ৮২৭৬০০৮১৮৯, ৯৯০৩৭৬৩২৯৬।

নেতারহাটে ঝাড়খণ্ড পর্যটনের হোটেল প্রভাত বিহারের একাংশ।

কী ভাবে ঘুরবেন

(১) সব চেয়ে ভালো হয় রাঁচি থেকে একটা গাড়ি ভাড়া করে নিন। ওই গাড়িতে রাঁচির দ্রষ্টব্য দেখুন। তার পর নেতারহাট, বেতলা ঘুরে নিয়ে রাঁচি ফিরে ছেড়ে দিন।

(২) আরেকটি বিকল্প, রাঁচিতে একটা গাড়ি ভাড়া করে ঘুরুন। সেই গাড়ি বা বাসে নেতারহাট আসুন। রাঁচির গাড়িতে এলে গাড়ি ছেড়ে দিন। নেতারহাটে গাড়ি বা জিপ ভাড়া করে ঘুরুন। নেতারহাট থেকে একটা গাড়ি ভাড়া করে বেতলা এসে গাড়ি ছেড়ে দিন। এর পর বেতলায় গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে সেই গাড়িতে বা বাসে রাঁচি ফিরুন।

নেতারহাটের পথে।

মনে রাখবেন

(১) অষ্টম দিন শতাব্দী না ধরে রাতের ক্রিয়াযোগ এক্সপ্রেস ধরতে পারেন। ট্রেনটি রাত ১০.১০-এ রাঁচি থেকে ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় পরের দিন সকাল সাড়ে ৬টায়। এই ট্রেনে সাধারণত টিকিট থাকে।

(২) ভ্রমণ যদি কাটছাঁট করতে চান, তা হলে ছক থেকে বেতলা বাদ দিয়ে দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ষষ্ঠ দিনে ভোর ভোর নেতারহাট থেকে রওনা হয়ে রাঁচি ফিরে সে দিনই দুপুর পৌনে ২টোয় শতাব্দী অথবা রাত ১০.১০-এর ক্রিয়াযোগ ধরে  কলকাতা ফিরে আসুন।

আরও পড়তে পারেন

পুজোয় অদূরে ১ / ঘাটশিলা

ভ্রামণিকদের কাছে কেন অনন্য কেরল? রইল একাধিক কারণ

চোখধাঁধানো স্থাপত্যের প্রাসাদ: মাইসোর প্যালেস

ওড়িশায় ১৩টি নতুন পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা 

আরও পড়তে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published.