Browsing Category:ভ্রমণের খবর

after-tusu-immersion-bankura-is-agog-with-fairs-in-different-places
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া:চোখের জলে টুসুকে বিদায় দিল জেলাবাসী। মকর সংক্রান্তির আগের দিন সারা রাত জেগে টুসু জাগরণ পুণ্যস্নান শেষ। এখন জেলার বিভিন্ন জায়গা মেতে উঠেছে নানা মেলায়।

টুসু উৎসব মূলত বাঁকুড়া জেলার লোকসংস্কৃতির এক অঙ্গ। এখানে টুসু ঘরের মেয়ে। মূলত এটি মেয়েদের একটি ব্রত। অগ্রহায়ণ সংক্রান্তি থেকে পয়লা মাঘ পর্যন্ত চলে এই ব্রত পালন। অগ্রহায়ণ সংক্রান্তিতে টুসু ঘট বা মূর্তি স্থাপন করা হয়। এর পর এক মাস চলে সন্ধ্যারতি ও গান। মেয়েরাই এই কাজ করে সম্মিলিত ভাবে। পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন হল জাগরণ। পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তিতে টুসুর ভাসান বা বিসর্জন। এ দিন দলবেঁধে টুসুর বিসর্জন দেওয়া হয় জলাশয় বা নদীতে। তার পর মূর্তি ও চৌডল বিসর্জন দিয়ে নতুন জামা কাপড় পরে পিঠে-পুলি খেয়ে মকর পরবের সমাপ্তি ঘটে। এর সঙ্গে সঙ্গেই জেলা জুড়ে সূচনা হয় মেলা আর পৌষ পার্বণের। নতুন জামাকাপড়, নতুন চাল আর খেজুর গুড়ের গন্ধ জানান দেয় পিঠে সংক্রান্তির।

আরও পড়ুন জানুয়ারির শেষেই কলকাতা-তারাপীঠ এসি বাস পরিষেবা, জানাল এসবিএসটিসি

টুসু নিয়ে বিভিন্ন জনশ্রুতি রয়েছে। বিশিষ্ট গবেষক ও শিক্ষক সৌমেন রক্ষিত বলেন, “টুসু নিয়ে একাধিক কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। পরকুলে বা দক্ষিণ বাঁকুড়ায় টুসু নিয়ে প্রচলিত লোকগাথা হল রাজনন্দিনী টুসু নতুন বৌ হয়ে পালকি চড়ে পতিগৃহে যাচ্ছিলেন পথে মুসলমান সেনারা তাঁর স্বামীকে হত্যা করে তাঁকে অধিকার করতে চেয়েছিল। টুসু আপন সতীত্ব রক্ষার্থে নিকটবর্তী নদীতে ঝাঁপ দেয়। টুসুর এই আত্মবিসর্জনের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পৌষ সংক্রান্তির দিন পরকুলের রাজা সেখানে টুসুমেলার আয়োজন করেন।” সৌমেনবাবু  আরও বলেন, অনেকেই টুসুকে শস্যের দেবী বলে মনে করেন। তাই শীতকালীন শস্য বাড়িতে উঠে এলে কৃষকেরা আনন্দে এই দেবীর পুজো করেন। আবার টুসু শব্দের অর্থ পুতুল (মুন্ডারী ভাষায়)। আদতে টুসু হল সাধারণ মানুষের উৎসব। টুসু রাজনন্দিনীই হোন, কিংবা শস্যের দেবী, তাঁর আগমন যে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলোর ঘরে ঘরে আনন্দ নিয়ে আসে, তাতে সন্দেহ নেই।

parkul mela
পরকুল মেলা।

অন্য দিকে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে জেলা জুড়ে বিভিন্ন মেলার সূচনা হয়, যার মধ্য অন্যতম হল ইন্দাসের আকুই গ্রামে রানার জাত বা পীরবাবার মেলা। শতাব্দী প্রাচীন এই মেলা শুরুর ইতিহাস আজও অজানা বর্তমান প্রজন্মের কাছে। রানার পুকুরে টুসু ভাসিয়ে মকর চান করে বুড়ো পীরের কাছে পুজো দেন ভক্তরা। সত্যপীরের পুজোর জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাতাসা, পাটালি, ধূপ, মাটির ঘোড়ার পসরা নিয়ে বসে থাকেন। একে শিন্নি বলে। সত্যপীরের কাছে ঘোড়া দেওয়ার নিয়ম। সাথে করে বাড়ির ঠাকুরের জন্য ও অনেক মানুষ জোড়া মাটির ঘোড়া কিনে আনেন।

indas mela
ইন্দাস মেলা।

পাশাপাশি ইন্দাসেও চলছে বাঁকুড়ারায়ের কুড়চি মেলা। ইন্দাস পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ফরিদা খাতুন বলেন, সংক্রান্তির দিন থেকে ছয় দিন ধরে চলবে এই মেলা। মেলা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হবে। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ এই মেলাতে অংশ নেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

0 Comments
Share
kolkata-tarapith-ac-bus-to-be-started-by-january-end

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: চলতি মাসের শেষে কলকাতা থেকে তারাপীঠ পর্যন্ত এসি বাস চালু করবে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (এসবিএসটিসি)। এমনই ঘোষণা করলেন এসবিএসটিসির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক তমোনাশ ঘোষ।

মঙ্গলবার তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের অফিসে এই বিষয়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায়, তমোনাশবাবু এবং এসবিএসটিসির কর্তারা।

বৈঠক শেষে একগুচ্ছ নতুন বাসরুটের ঘোষণা হয় এসবিএসটিসির তরফ থেকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল তারাপীঠ থেকে কলকাতার মধ্যে এসি বাস চালু করা। তমোনাশবাবু বলেন, এই বাসটি কলকাতা থেকে সকাল সাড়ে সাতটায় ছেড়ে সাড়ে বারোটায় তারাপীঠ পৌঁছোবে আবার তারাপীঠ থেকে দুপুর দুটোর সময় বাসটি ছেড়ে কলকাতা ফিরে আসে সন্ধ্যা ছ’টার মধ্যে। তিনি বলেন, ‘‘এক দিনে তারাপীঠে গিয়ে পুজো দিয়ে আবার ওই বাসে চড়েই যাতে দর্শনার্থীরা ফিরতে পারেন সেই জন্য বাসের এ রকম সূচি ধার্য করা হয়েছে।”

এ ছাড়াও তারাপীঠ থেকে আরও বেশ কিছু বাস রুট চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। দুই ধর্মীয়স্থানের মধ্যে সংযোগস্থাপনের জন্য বেলুড়-তারাপীঠ বাস পরিষেবাও চালু করার কথা বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, এই মাসের শেষের দিকেই তারাপীঠ সফরে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার পরেই এই বাসরুট চালু হয়ে যাবে বলে আশাবাদী এসবিএসটিসি।

0 Comments
Share
west-bengal-ahead-of-goa-and-kerala-in-attracting-foregin-tourist

ভ্রমণঅনলাইনডেস্ক: বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এমনকি এ রাজ্যের পেছনে রয়েছে গোয়া এবং কেরলের মতো রাজ্যগুলি। এমনই জানিয়েছেন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) পর্যটক বিষয়ক সাবকমিটির চেয়ারম্যান বিজয় দেওয়ান।

সিআইআই আয়োজিত বেঙ্গল ট্যুরিজম মিট শুরু হয়েছে সোমবার। সেই সভার শুরুতেই এই খবরে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত রাজ্যের পর্যটনের সঙ্গে জড়িত সবাই। এই প্রসঙ্গে দেওয়ান বলেন, “বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের ক্ষেত্রে গোয়া এবং কেরলের থেকেও এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ। সারা দেশের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে এ রাজ্য। গুণগত পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের থেকে অনেকটা এগিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।”

রাজ্যের মধ্যে দার্জিলিং এবং তার সন্নিহিত অঞ্চল বিদেশি পর্যটকদের বেশি আকর্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন পাহাড়ের ট্যুর অপারেটররা। ইস্টার্ন হিমালয়া ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর্‌স অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিনিধি বলেন, “দার্জিলিং এবং সন্নিহিত অঞ্চলেই পর্যটকের পা বেশি করে পড়ছে। এর মূল কারণ হল আবহাওয়া। অনেক ঠান্ডার দেশের থেকে দার্জিলিং-এর আবহাওয়া মনোরম। পাশাপাশি এখানে টয়ট্রেনের মতো ইউনেস্কোর হেরিটেজ জিনিস রয়েছে।”

পাহাড়ে হোমস্টে কেন্দ্রিক পর্যটন, পর্যটন ব্যবসাকে আরও উন্নত করেছে বলে জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। তিনি বলেন, “হোমস্টেগুলির জন্য পাহাড়ে পর্যটনে আরও জোয়ার এসেছে। এর ফলে পাহাড়ের মানুষের মধ্যে আরও কর্মসংস্থান বেড়েছে। অনেক উন্নত পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি, তবুও কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে প্রত্যাশামতো পরিষেবা দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা সেই সব দিক ভালো করে খতিয়ে দেখে পর্যটন ব্যবসাকে আরও উন্নত করব।”

পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বাঁকুড়ায় হেরিটেজ পর্যটন, পার্ক স্ট্রিট, ট্যাংরা, সেক্টর ফাইভে বিনোদন হাব এবং এ ছাড়াও রাজ্য জুড়ে নদী পর্যটনের জোয়ার আনার ডাক দিয়েছেন দেওয়ান।

0 Comments
Share
army-rescues-tourists-from-sikkim

ওয়েবডেস্ক: উত্তর ও পূর্ব সিকিমে প্রবল তুষারপাতের জেরে আটকে পড়া প্রায় দেড়শো পর্যটককে উদ্ধার করল সেনা। বুধবার রাতে ৫০ জনকে উদ্ধার করে ডোগরাতে সেনা ব্যারাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। বাকিদের উদ্ধার করে লাচুং-এর হোটেলে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার বিকেল থেকেই প্রবল তুষারপাত শুরু হয় সিকিমে। পূর্বাভাস মতো উত্তর সিকিমের লাচেন, লাচুং, গুরুদংমার এবং পূর্ব সিকিমের ছাঙ্গু, নাথুলা-সহ বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় বরফ পড়ে। সেনা সূত্রে খবর, বরফে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে নামেন সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কোরের শিখ রেজিমেন্টের জওয়ানরা।

প্রবল তুষারপাতের পরে সিকিমের কিছু জায়গায় তাপমাত্রা নেমে যায় হিমাঙ্কের অনেকটাই নীচে। ফলে আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে অনেকেই শ্বাস-প্রশ্বাস সহ নানান সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। এই সব পর্যটককে উদ্ধার করে খাবার এবং চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়।

তুষারপাতের পূর্বাভাস আগে থেকেই ছিল। সেই কারণেই অনেক পর্যটক সেখানে গিয়েছিলেন তুষারপাতের সাক্ষী থাকতে। কিন্তু সেই তুষারপাত যে এ রকম ভয়ংকর রূপ নেবে সেটা আন্দাজ করা যায়নি। এর ফলেই বিপদ আরও বাড়ে।

প্রবল তুষারপাতের ফলে আপাতত বন্ধ রয়েছে লাচুং থেকে ইয়ুমথাংগামী রাস্তা। অন্য দিকে গ্যাংটক থেকে নাথুলাগামী রাস্তাও বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেই রাস্তা খোলা হবে কি না পরিস্থিতি বিচার করে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিকিম পুলিশ।

0 Comments
Share
mamata-makes-big-announcements-on-plassey-mayapur-and-nabadwip

নদিয়া: পলাশিতে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং নবদ্বীপ, মায়াপুরকে হেরিটেজ সিটি হিসেবে ঘোষণা করা এখন রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ব্যাপারে কাজ কতটা এগিয়েছে, নদিয়া জেলা সফরে এসেছে জেলাশাসক সুমিত গুপ্তের কাছে জানতে চাইলেন তিনি।

তবে জেলাশাসক জানিয়ে দিয়েছেন জমির কোনো সমস্যা নেই। এর পরেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, যত দ্রুত সম্ভব এই কাজ শেষ করতে হবে।

উল্লেখ্য, পলাশির যুদ্ধকে স্মরণ করে সেখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। সেই কাজ কিছুটা এগিয়ে গিয়েছে। অন্য দিকে গৌরাঙ্গের নবদ্বীপ এবং মায়াপুরে দেশবিদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক আসেন। সে কারণেই হেরিটেজ সিটি হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

অন্য দিকে নদিয়া জেলার খেজুর গুড়কে কেন্দ্র করেও কিছু করা যায় কি না সেই দিকটাও দেখার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। গুড়কে প্যাকেজিং করে বাইরে বিক্রি করার ব্যাপারটিও কেন্দ্রকে দেখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলার সমস্ত উন্নয়নের কাজ যাতে সঠিক ভাবে হয় এবং সেই সব কাজে সব স্তরের নেতা–কর্মী, এমনকি জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদ্যস্যরা যুক্ত হতে পারেন, সেই দিকটাও দেখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

0 Comments
Share
does-snowfall-really-occurs-in-daringbadi
শ্রয়ণ সেন

শুরু হয়েছিল সেপ্টেম্বরেই। সময়ের বরফে ঢেকে গিয়েছিল হিমাচলের লাহুল-স্পিতি। তার পর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ। তুষারপাতে ঢেকে গেল কেদার-বদরী। ডিসেম্বরের শুরুতেই বরফ পড়ল শিমলায়। গত দশ বছরে বড়োদিনের এত আগে বরফ দেখেনি শিমলা। এর কিছু দিনের মধ্যেই দার্জিলিং, সিকিম, ভুটান। ‘ফেটাই’-এর প্রভাবে প্রবল তুষারপাত হল সান্দাকফুতে। সাদা হয়ে গেল ছাঙ্গু হ্রদ। বরফের আনন্দে একদিনের ছুটি ঘোষণা করল ভুটান সরকার। সময়ের আগেই এ বার বরফ পাচ্ছে হিমালয়ের বিভিন্ন অঞ্চল।

স্বভাবতই অনেক মানুষের মধ্যেই প্রশ্ন জেগেছে, ওড়িশার দারিংবাড়িতে কি এ বার তুষারপাত হবে? সোশ্যাল মিডিয়ায় কান পাতলেই দেখা যাচ্ছে, অনেক মানুষের প্রশ্ন। দারিংবাড়িতে বরফ পড়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছেন তাঁরা।

এ রকম পোস্টই ছড়িয়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

দারিংবাড়ি। সমুদ্রতল থেকে তিন হাজারের ফুটের কিছু বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই জায়গাটি ওড়িশার কাশ্মীর হিসেবে পরিচিত। ইদানীং পর্যটকদের, আরও পরিষ্কার করে বললে, বাঙালি পর্যটকদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই দারিংবাড়ি।

দক্ষিণ ওড়িশার কন্ধমল জেলায় অবস্থিত এই শৈলশহর। একটা সময় ছিল, যখন মাওবাদীদের দাপট ছিল এই অঞ্চলে। তাই ওড়িশা পর্যটনের একটা পান্থনিবাস থাকলেও, ধীরে ধীরে পর্যটকের অভাবে সেটা বন্ধ হয়ে যায়। তার পর মাওবাদীদের দাপট কমলে আবার দারিংবাড়ির রমরমা। এ বার আরও জোরদার। দারিংবাড়িকে পর্যটনের মানচিত্রে নিয়ে আসার জন্য অনিল সোয়েনের অবদানও কম কিছু নয়। তিনিই এখানে ইকো হোম তৈরি করেন। দারিংবাড়ি জনপদের একটু বাইরে অবস্থিত এই ইকো হোম থেকে সামনের উপত্যকাটি বেশ লাগে। পর্যটক সমাগম বাড়তে শুরু করায় এখন আরও দু’একটি হোটেল তৈরি হয়েছে বাজার সংলগ্ন এলাকায়। ওড়িশা ইকো ট্যুরিজম দফতরও একটি সুন্দর রিসোর্ট তৈরি করেছে এখানে।

সুতরাং এ সব থেকেই বোঝা যায় দারিংবাড়ি ঠিক কতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এ বার আসা যাক মূল বক্তব্যে। দারিংবাড়িতে সত্যিই বরফ পড়ে? সেই সত্যিটা উদ্ঘাটন করার জন্য এটি লেখা। ব্যাপারটা এ বার বিশ্লেষণ করা যাক।

দারিংবাড়ির ইকো হোম থেকে।

প্রথমেই বলা যাক দারিংবাড়িতে তুষারপাত হয় না। অতীতে কোনো দিনই দারিংবাড়িতে বরফ পড়েনি, আর ভবিষ্যতেও পড়বে না। তা হলে বরফ পড়ার প্রসঙ্গ আসছে কেন?

এটা স্রেফ সংবাদমাধ্যমের একটা অংশের তৈরি করে দেওয়া বিভ্রান্তি। যে বিভ্রান্তিতে সওয়ার হয়ে সাধারণ পর্যটকও বিশ্বাস করেন এখানে বরফ পড়ে।

দারিংবাড়িতে তুষারপাত হয় না, কিন্তু শীতকালে মাঝেমধ্যে যেটা হয় তা হল গ্রাউন্ড ফ্রস্ট। অর্থাৎ, প্রবল ঠান্ডায় রাতে পড়া শিশিরই ভোরের দিকে জমে বরফ হয়ে যায়। ভোরবেলায় সাধারণ মানুষ ঘুম থেকে উঠেই খেলায় করেন মাঠঘাটে সাদা বরফের একটা আস্তরণ তৈরি হয়ে গিয়েছে। প্রতি বছরই এই ঘটনাটি ঘটে। এ বছর জানুয়ারির ২৭-২৮ তারিখেও এমন ভাবেই বরফের আস্তরণ দেখা গিয়েছিল।

গ্রাউন্ড ফ্রস্ট এবং তুষারপাতের মধ্যে পার্থক্য কী?

তুষারপাত হতে গেলে প্রাথমিক ভাবে যেটা দরকার তা হল মেঘ এবং বৃষ্টি। বৃষ্টির পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে, কোনো ভাবেই তুষারপাত হবে না। অন্য দিকে গ্রাউন্ড ফ্রস্টের জন্য দরকার পরিষ্কার আকাশ, জম্পেশ ঠান্ডা।

এ ভাবেই গাছের ওপরে পড়া শিশির জমে বরফ হয়ে যায় দারিংবাড়িতে।

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা বলেন, উত্তর এবং মধ্য ভারত যখন প্রবল শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়ে, তার প্রভাব আসে দারিংবাড়ির ওপরেও। তাঁর কথায়, “ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দারিংবাড়ির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির কাছাকাছি চলে যাওয়া কোনো ভাবেই অস্বাভাবিক নয়। কারণ মধ্য ভারতের প্রবল ঠান্ডার প্রভাব পড়ে দারিংবাড়ি এবং সমগ্র কন্ধমল জেলা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে।” সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শূন্যর কাছাকাছি চলে গেলেই দেখা দেবে গ্রাউন্ড ফ্রস্ট।

কখনও যদি শীতে দারিংবাড়িতে বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হলে কোনো ভাবেই সেখানে তুষারপাত হবে না। কারণ তুষারপাত হতে গেলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রাকে পৌঁছে যেতে হবে শূন্যের কাছে আর দারিংবাড়িতে শীতে বৃষ্টি হলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমবে তো না-ই, বরং অনেকটাই বেড়ে যাবে। কারণ বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প ঢুকবে এই অঞ্চলের ওপরে।

উচ্চতাজনিত কারণ

কখনও শুনেছেন রুদ্রপ্রয়াগে বরফ পড়ছে? রুদ্রপ্রয়াগ এবং দারিংবাড়ির উচ্চতা কিন্তু প্রায় একই রকম। হিমালয়ের কোলে অবস্থান করা রুদ্রপ্রয়াগেই যদি বরফ না পড়ে, তা হলে দারিংবাড়িতে বরফ পড়ার ব্যাপারটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

এটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রবীন্দ্রবাবু বলেছেন, “দারিংবাড়ি এক হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত হলেও নিরক্ষরেখার অনেকটাই কাছে। ফলে এখানে ক্রান্তীয় বা গ্রীষ্মপ্রধান আবহাওয়ার প্রাধান্যই বেশি। সুতরাং কোনো ভাবেই এখানে তুষারপাত সম্ভব নয়।”

দারিংবাড়ির ইকো হোমের কটেজগুলি।

তা হলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াল? দারিংবাড়িতে তুষারপাত হয় না। কিন্তু মাঝেমধ্যে গ্রাউন্ড ফ্রস্ট দেখা দেয়। তাই তুষারপাতের আকাঙ্খায় দারিংবাড়ি গেলে ব্যর্থ হবেন। কিন্তু আপনার ভাগ্য যদি অত্যন্ত ভালো হয়, তা হলে কড়া শীতের কোনো এক ভোরে দেখবেন আপনার ঘরের বাইরে শিশির জমে বরফ হয়ে গিয়েছে। এটাই দারিংবাড়ির সৌন্দর্য।

0 Comments
Share
many-winter-attractions-in-kolkata

নিজস্ব প্রতিনিধি: দিন তিনেক পরেই বড়োদিন। তার পরেই বর্ষ বিদায়ের সুর। আসবে নতুন বছর ২০১৯। হিমেল হাওয়ার পরশ নিয়ে সপ্তাহব্যাপী আনন্দে মেতে উঠতে চলেছে মহানগরী। ‘সিটি অব জয়’-এ মানুষকে নানা উপহার দিতে বিনোদন পার্কগুলো সেজে উঠছে নবরূপে। সঙ্গে রয়েছে বহু চমক। কোথাও রয়েছে এসি টয়ট্রেন, কোথাও বা প্যারিসের আদলে তৈরি আইফেল টাওয়ার থেকে নগর দর্শন। আবার কোথাও গোটা পার্কটি সেজে উঠছে রং-বেরঙের চিনা আলোয়। এ ভাবেই দু’টি বছরের সন্ধিক্ষণে তৈরি হয়েছে ইকো ট্যুরিজম পার্ক থেকে কলকাতার জাদুঘর বা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল।

আরও পড়ুন ওড়িশার দারিংবাড়িতে কি সত্যিই বরফ পড়ে?

বিনোদনের বড়ো কেন্দ্র নিউটাউনের ইকো পার্ক। সারা বছরই এখানে লোক সমাগম ঘটে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ইকো পার্ক। বিগত দু’ বছর ধরে ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি ভিড়ের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে ইকো পার্ক। এ বছর এখানে মূল আকর্ষণ হতে চলেছে এসি টয়ট্রেন। হিডকোর চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন বলেন, “এ বার দর্শকদের জন্য অনেক চমক রয়েছে ইকো পার্কে। যেমন এসি ট্রেন, সপ্তম আশ্চর্য, স্কাল্পচার গার্ডেন বা ভাস্কর্য উদ্যান, আইফেল টাওয়ার ইত্যাদি।”

eifel tower in Eco Park
ইকো পার্কে আইফেল টাওয়ার। ছবি সৌজন্যে এসআরএস ফোটোজ ।

উল্লেখ্য, এ বছর প্রথম দর্শকদের জন্য চালু করা হচ্ছে লাক্সারি এসি ট্রেন। এই ট্রেনে থাকছে গদি মোড়া আরামাদায়ক বসার ব্যবস্থা। কাচে ঘেরা পর্দা দেওয়া জানলা। সপ্তম আশ্চর্য আগে থেকেই ছিল, সেটা পুরো খুলে দেওয়া যায়নি। এ বার শীতে তা পুরো খুলে দেওয়া হচ্ছে। আইফেল টাওয়ারটি অভিনব। লিফটে চড়ে উপরে উঠে চার দিক দেখা যাবে। সেখান থেকে দর্শকরা দেখতে পাবেন নবনির্মিত ঝুলন্ত রেস্তোরাঁটিও। আইফেল টাওয়ার খুলে দেওয়া হবে ২৫ ডিসেম্বর। ভাস্কর্য উদ্যানে এ বার নতুন সংযোজন অডিও ভিস্যুয়াল লাইট অ্যান্ড সাউন্ড।

নিকো পার্কে এ বারের আকর্ষণ ফেস্টিভ্যাল অব লাইট। বিশেষ ধরনের ‘ম্যাজিক্যাল পান্ডা লাইট’-এর আয়োজন করেছে একটি চিনা কোম্পানি। নানা দেশে এই আলোর উৎসবের আয়োজন করার পর এ বার আসছে কলকাতায়। আলোর এই খেলা দেখা যাবে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিন পর্যন্ত।

pyramid in Eco park
ইকো পার্কে পিরামিড। ছবি সৌজন্যে এলবিবি।

সায়েন্স সিটিতেও থাকছে বিশেষ আকর্ষণ। অধিকর্তা শুভব্রত চৌধুরী বলেন, “থাকছে থ্রিডি ফিল্ম থিয়েটার। থাকছে ডার্ক রাইড, যেখানে তুলে ধরা হয়েছে মানবজাতির ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস। ডিজিট্যাল প্যানোরামার সাহায্যে দেখানো হবে এভ্যুলিউশনের নানা পর্যায়।”

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের ডিরেক্টর জয়ন্ত সেনগুপ্ত জানান, “আমাদের এ বারে মূল আকর্ষণ পুরো বাগান জুড়ে খ্রিস্টমাস ফেস্টিভ লাইট। এই লাইট থাকবে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঝেমাঝেই লাইভ মিউজিক চলবে।”

আলিপুর চিড়িয়াখানার এ বারের বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে নকটারনাল হাউজ বা রাতচরাদের আবাস। তৈরি হয়েছে হায়নার ঘর। এ ছাড়াও একটি বাঘ আনা হচ্ছে চিড়িয়াখানায়।

0 Comments
Share
why-tourist-decreasing-in-sunderban

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুন্দরবন: শীতে বেড়ানোর প্রিয় জায়গা সুন্দরবন। বছর শেষ হতে চলল অথচ এ বছর সুন্দরবনে পর্যটক সংখ্যা কম হওয়ায় রীতিমতো চিন্তিত পর্যটন ব্যবসায়ীরা। অন্য বছর শীত পড়তেই দেশি-বিদেশি পর্যটকে ভরে ওঠে সুন্দরবন। তবে এ বছর এখনও পর্যন্ত বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা না কমলেও কমেছে দেশি পর্যটকের  সংখ্যা। কারণ হিসাবে উঠে আসছে সরকারের বাড়তি করের পাশাপাশি একাধিক ক্ষেত্রে ব্যয়বৃদ্ধি। সেই যুক্তি অবশ্য স্বীকার করা হয়নি সরকারি তরফে।

Sunderban

পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানালেন, গত বছর পর্যন্ত দু’ দিন-এক রাতে সুন্দরবন বেড়ানোর খরচ ছিল মাথাপিছু  আড়াই-তিন হাজার টাকা। এ বছর সে খরচ বেড়ে হয়েছে চার হাজার টাকা। আগে ভ্রমণ কর ছিল ৬০ টাকা। আর এখন ১০০ টাকা। আগে গাইড ছিল ৪০০ টাকা। এখন ৫০০ টাকা। এবং গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তা ছাড়া লঞ্চ-ভুটভুটির খরচও ভালো রকম বেড়েছে।

Sunderban

পাখিরালার এক অভিজাত হোটেলের ম্যানেজার জানালেন, “সারা বছরের দু’-তিন মাস আমরা মূলত দেশি ও বিদেশি পর্যটক পাই। সজনেখালি, পাখিরালা, বুড়িরডাবরী, নেতিধোপানি, সুধন্যখালি, ঝড়খালি-সহ বেশ কিছু জায়গা পর্যটকদের কাছে খুব প্রিয়। কিন্তু এ বছর বাড়তি করের চাপে এখনও পর্যন্ত দেশি পর্যটক খুব একটা বেশি আসেননি।”

পর্যটন বিভাগ সূত্রে অবশ্য জানা গেল, বেশ কয়েক বছর ধরে সুন্দরবনে ভ্রমণের খরচ বাড়ানো হয়নি। এ বছর সামান্য বাড়ানো হয়েছে ভ্রমণ কর। এর জন্য পর্যটক কমার কারণ নেই। আর এই বাড়তি করের টাকায় সুন্দরবনের উন্নয়নে খরচ করা হচ্ছে।

গোসাবা থেকে পাখিরালা অবধি রাস্তা সংস্কারের কাজ হচ্ছে। সাজানো হচ্ছে সুন্দরবনের বেড়ানোর জায়গাগুলি। সুন্দরবনের বেড়ানোর স্পটগুলি দেখে খুশি রাশিয়া থেকে আগত বিদেশি পর্যটকদের একটি দলও। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, শীতের শুরুটা তাঁদের জন্য মোটেই সুখবর বয়ে আনেনি।

0 Comments
Share
jungle-safari-initiated-by-dhr-from-siliguri-to-rongtong

শিলিগুড়ি: টয়ট্রেনে এ বার করে নিতে পারে বৈকালিক জঙ্গল সাফারি। তিন ঘণ্টার সফরে শিলিগুড়ি থেকে পাহাড়ে পৌঁছে আবার ফিরতে পারবেন শিলিগুড়ি।

উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের উদ্যোগে শিলিগুড়ি থেকে রংটং পর্যন্ত, ১৭ কিমি পথে জঙ্গল সাফারি শুরু করল টয়ট্রেন। রবিবার বিকেলে এই যাত্রার সূচনা করেন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের ডিআরএম চন্দ্রপ্রকাশ গুপ্তা।

এই ট্রেনে থাকছে দু’টি বগি, ডাইনিং কোচ ও ফার্স্ট ক্লাস। ডাইনিং কোচে ১৩ জন বসে যেতে পারবেন। এই বগির জন্য জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১২০০ টাকা। ফার্স্ট ক্লাসে রয়েছে গদিযুক্ত চেয়ার। এই কোচে ভাড়া নির্ধারিত করা হয়েছে ১০০০ টাকা। পর্যটকেরা ডাইনিং কোচে জলখাবার পাবেন। মিলবে চা, কফি, স্ন্যাকস। রীতিমতো কাঠের চেয়ারটেবিলে বসে মনভোলানো অনুভূতি নিতে নিতে পৌঁছাবেন রংটং। একই রকম ভ্রমণের সুবিধা পেলেও ফার্স্ট ক্লাসে জলখাবারের ব্যবস্থা নেই।

প্রতিদিন বিকেল ৩টায় ট্রেনের যাত্রা শুরু হবে শিলিগুড়ি জংশন থেকে। ৩টে ৫০ মিনিটে পৌঁছে যাবে রংটং। এর পর সেখানে কিছুটা সময় কাটিয়ে ৪টে ২০ মিনিটে আবার ফেরার যাত্রা শুরু করবে ট্রেনটি। বিকেল ৫:৫৫-এ ফিরে আসবে শিলিগুড়ি জংশনে। রবিবার প্রায় ১৫ জন এই যাত্রার সাক্ষী থাকলেন।

উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের আশা, নতুন এই পরিষেবার মধ্যে দিয়েই পর্যটকদের কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে টয়ট্রেন।

0 Comments
Share
new-properties-coming-up-in-darjeeling-hills-says-goutam-deb

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: শীঘ্রই আরও নতুন নতুন টুরিস্ট স্পট আসতে চলেছে। এমনই বললেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। পাশাপাশি পুরোনো টুরিস্ট স্পটগুলোকে আরও নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রংবুলের কাছে ধোতরেতে একটি পরিত্যক্ত চা-বাগানকে ঘিরে নতুন পর্যটনস্থল তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, “চা-বাগানটা পরিত্যক্ত। পুরো জমিটাই মূলত সমতল। ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য রয়েছে। এই জমির ২৫ একর আমরা কিনব। এখানে কটেজ তৈরি করা হবে, হেলিপ্যাড তৈরি হবে। ‘ডেসটিনেশন ওয়েডিং’-এর ব্যবস্থাও থাকবে। মূল সড়ক থেকে এই স্থানটার দূরত্ব ৫ কিমি। সেই রাস্তাটা নতুন করে তৈরি করা হবে।”

২৫ কোটি টাকায় দার্জিলিং টুরিস্ট লজের ভোল বদল করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নবরূপে সজ্জিত এই টুরিস্ট লজে একটি রুফটপ রেস্তোরাঁ থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে দেখতেই খাবার খাওয়া যাবে। কার্শিয়াং টুরিস্ট লজের জায়গা আরও বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, “কার্শিয়াং টুরিস্ট লজের ঠিক নীচেই একটা বাড়ি রয়েছে। ওই বাড়িটাকে টুরিস্ট লজের সঙ্গে জুড়ে দেব। পাশাপাশি ঘর, রেস্তোরাঁ, সব কিছু নতুন করে সাজিয়ে তোলা হবে।” পাশাপাশি কালিম্পং-এর হিলটপ এবং মরগ্যান হাউস সারানোর কাজ চলছে।

গৌতমবাবু বলেন, টাইগার হিলে একটি পুরোনো বাংলোকে নতুন ভাবে তৈরি করা হচ্ছে। ১৯৮৬-এর আন্দোলনে সেটা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেটা তৈরি হলে টাইগার হিলেও মানুষ রাত্রিবাস করতে পারবেন। ফালুট এবং টংলুতে ট্রেকার্স হাট তৈরি হচ্ছে। গৌতমবাবু কথায়, “আট কোটি টাকা খরচে টেন্ট তৈরি করা হচ্ছে এই দুই জায়গায়।”

মংপু, ঝালং এবং চালসায় পর্যটন নিগমের নতুন টুরিস্ট লজ তৈরি হবে বলেও জানিয়েছেন গৌতমবাবু।

0 Comments
Share
12310