Browsing Category:ভ্রমণ-সংস্কৃতি

after-tusu-immersion-bankura-is-agog-with-fairs-in-different-places
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: চোখের জলে টুসুকে বিদায় দিল জেলাবাসী। মকর সংক্রান্তির আগের দিন সারা রাত জেগে টুসু জাগরণ পুণ্যস্নান শেষ। এখন জেলার বিভিন্ন জায়গা মেতে উঠেছে নানা মেলায়।

টুসু উৎসব মূলত বাঁকুড়া জেলার লোকসংস্কৃতির এক অঙ্গ। এখানে টুসু ঘরের মেয়ে। মূলত এটি মেয়েদের একটি ব্রত। অগ্রহায়ণ সংক্রান্তি থেকে পয়লা মাঘ পর্যন্ত চলে এই ব্রত পালন। অগ্রহায়ণ সংক্রান্তিতে টুসু ঘট বা মূর্তি স্থাপন করা হয়। এর পর এক মাস চলে সন্ধ্যারতি ও গান। মেয়েরাই এই কাজ করে সম্মিলিত ভাবে। পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন হল জাগরণ। পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তিতে টুসুর ভাসান বা বিসর্জন। এ দিন দলবেঁধে টুসুর বিসর্জন দেওয়া হয় জলাশয় বা নদীতে। তার পর মূর্তি ও চৌডল বিসর্জন দিয়ে নতুন জামা কাপড় পরে পিঠে-পুলি খেয়ে মকর পরবের সমাপ্তি ঘটে। এর সঙ্গে সঙ্গেই জেলা জুড়ে সূচনা হয় মেলা আর পৌষ পার্বণের। নতুন জামাকাপড়, নতুন চাল আর খেজুর গুড়ের গন্ধ জানান দেয় পিঠে সংক্রান্তির।

আরও পড়ুন জানুয়ারির শেষেই কলকাতা-তারাপীঠ এসি বাস পরিষেবা, জানাল এসবিএসটিসি

টুসু নিয়ে বিভিন্ন জনশ্রুতি রয়েছে। বিশিষ্ট গবেষক ও শিক্ষক সৌমেন রক্ষিত বলেন, “টুসু নিয়ে একাধিক কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। পরকুলে বা দক্ষিণ বাঁকুড়ায় টুসু নিয়ে প্রচলিত লোকগাথা হল রাজনন্দিনী টুসু নতুন বৌ হয়ে পালকি চড়ে পতিগৃহে যাচ্ছিলেন পথে মুসলমান সেনারা তাঁর স্বামীকে হত্যা করে তাঁকে অধিকার করতে চেয়েছিল। টুসু আপন সতীত্ব রক্ষার্থে নিকটবর্তী নদীতে ঝাঁপ দেয়। টুসুর এই আত্মবিসর্জনের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পৌষ সংক্রান্তির দিন পরকুলের রাজা সেখানে টুসুমেলার আয়োজন করেন।” সৌমেনবাবু  আরও বলেন, অনেকেই টুসুকে শস্যের দেবী বলে মনে করেন। তাই শীতকালীন শস্য বাড়িতে উঠে এলে কৃষকেরা আনন্দে এই দেবীর পুজো করেন। আবার টুসু শব্দের অর্থ পুতুল (মুন্ডারী ভাষায়)। আদতে টুসু হল সাধারণ মানুষের উৎসব। টুসু রাজনন্দিনীই হোন, কিংবা শস্যের দেবী, তাঁর আগমন যে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলোর ঘরে ঘরে আনন্দ নিয়ে আসে, তাতে সন্দেহ নেই।

parkul mela
পরকুল মেলা।

অন্য দিকে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে জেলা জুড়ে বিভিন্ন মেলার সূচনা হয়, যার মধ্য অন্যতম হল ইন্দাসের আকুই গ্রামে রানার জাত বা পীরবাবার মেলা। শতাব্দী প্রাচীন এই মেলা শুরুর ইতিহাস আজও অজানা বর্তমান প্রজন্মের কাছে। রানার পুকুরে টুসু ভাসিয়ে মকর চান করে বুড়ো পীরের কাছে পুজো দেন ভক্তরা। সত্যপীরের পুজোর জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাতাসা, পাটালি, ধূপ, মাটির ঘোড়ার পসরা নিয়ে বসে থাকেন। একে শিন্নি বলে। সত্যপীরের কাছে ঘোড়া দেওয়ার নিয়ম। সাথে করে বাড়ির ঠাকুরের জন্য ও অনেক মানুষ জোড়া মাটির ঘোড়া কিনে আনেন।

indas mela
ইন্দাস মেলা।

পাশাপাশি ইন্দাসেও চলছে বাঁকুড়ারায়ের কুড়চি মেলা। ইন্দাস পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ফরিদা খাতুন বলেন, সংক্রান্তির দিন থেকে ছয় দিন ধরে চলবে এই মেলা। মেলা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হবে। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ এই মেলাতে অংশ নেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

0 Comments
Share
tusu-festival-is-being-celebrated-in-chhotonagpur-plateau

মৃণাল মাহাত

“আইসছে মকর দুদিন সবুর কর/তরহা মুড়ি চিড়া জোগাড় কর” – এই টুসু গানে মত্ত ছোটোনাগপুর মালভূমির তামাম কুড়মী জনপদ। শুরু হয়েছে সেই ‘ছোটোমকরে’ টুসু পাতানোর মাধ্যমে। চলবে পোষ সংক্রান্তির টুসু ভাসান পর্যন্ত। এক সংক্রান্তি থেকে আরেক সংক্রান্তির এই যে যাত্রাপথ তার মাঝখানে প্রতি বছর ভূমিষ্ঠ হয় হাজার হাজার টুসু গান। যে গানের বেশির ভাগই দু:খ, দারিদ্র্য, প্রেম-পিরীতের রসে রঞ্জিত। সাম্প্রতিক কালে এই টুসু গান ভূমিপুত্রদের কাছে বঞ্চনা বিদ্রোহের হাতিয়ারও।

সোমবার ছিল বাঁউড়ি। জঙ্গলমহলের প্রতিটি গ্রামে এ দিন সকাল থেকে চলেছে মহিলাদের ব্যস্ততা। ভোর থেকে শুরু হয়ে গিয়েছিল ঢেঁকিতে গুঁড়ি তৈরির কাজ। শালবনীর অনিমা মাহাত, মমতা মাহাতরা বলেন, এখনকার দিনে অধিকাংশ গুঁড়ি মেশিনে তৈরি হলেও, পরব-পার্বণে ঢেঁকিতে গুঁড়ি তৈরির মজাটাই আলাদা। জঙ্গলমহলের সংস্কৃতিতে ঢেঁকি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে রয়েছে বলে লোকসংস্কৃতিবিদদের অভিমত। তাঁদের বক্তব্য, আনন্দ, উদ্দীপনার দিক থেকে টুসু উৎসব কোনো অংশেই দুর্গাপূজার থেকে কম যায় না। লালগড়ের বিশিষ্ট কুড়মী সমাজকর্মী প্রাণবল্লভ মাহাত বলেন, যে সময় শারদীয়া দুর্গাপূজা হয়, সে সময় সারা ছোটোনাগপুর মালভূমি এলাকা জুড়ে অভাবের মাস। ধান রোপনের পর অধিকাংশ আদিবাসী পরিবারে অর্থের সংকুলান হয়। তাই দুর্গাপূজার সময় জঙ্গলমহল সে ভাবে মেতে উঠতে পারে না। কিন্তু, পোষসংক্রান্তির এই টুসু মেলায় প্রতিটি বাড়ি ধানে ভরে ওঠে। তাই পরিবারের প্রত্যেকের শরীরে ওঠে নতুন কাপড়।

টুসু আসলে কী? কে ছিলেন? এই প্রশ্ন নিয়ে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম জঙ্গলমহলের বেশ কিছু বিদগ্ধ মানুষের কাছে। টুসু উৎসব সম্পর্কে প্রচলিত নানা কিংবদন্তি এই উৎসবকে আরও মহিমান্বিত করেছে। টুসুকে কাশীপুরের রাজার কন্যা মনে করা হলেও এবং মকর সংক্রান্তির দিন মুসলমান নবাবের লালসার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নদীতে আত্মবিসর্জন এর কাহিনি প্রচলিত থাকলেও, জঙ্গলমহলের গবেষকরা কেউই এই কাহিনি মানতে চাননি।

busy artist
মূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পী। নিজস্ব চিত্র।

প্রাক্তন অধ্যাপক ড: অনাদিনাথ কড়ইয়ার বলেছেন, টুসু হল সম্পূর্ণ ভাবে কৃষিভিত্তিক উৎসব। কার্তিক মাস থেকে যে ধানকাটা শুরু হয় শেষ হয় অগ্রহায়ণের সংক্রান্তিতে। অগ্রহায়ণ মাসের সংক্রান্তি যা জঙ্গলমহলে ‘ছোটোমকর’ নামে পরিচত।ওই দিন প্রতিটি কুড়মী পরিবারের কর্তা জমি থেকে ধানের শেষ আঁটিটিকে পুজো করে মাথায় করে নিয়ে এসে বাড়িতে স্থাপন করেন।এই অনুষ্ঠানটিকে বলা হয় ‘ডেনী মাঁই’ আনা। অনাদিবাবুর মতে, এই ‘ডেনী মাই’ হল টুসু। এই সময় প্রতিটি বাড়ি যে হেতু ফসলে টুসটুস করে ওঠে অর্থাৎ ভরে ওঠে, ওই জন্য এটা টুসু নামে পরিচিত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অগ্রহায়ণ মাসের সংক্রান্তি থেকে পোষমাসের সংক্রান্তি পর্যন্ত প্রতি দিন টুসুকে পুজো করা হয় নৃত্যগীতের মাধ্যমে।

হাজারিবাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ড.বিনয় মাহাত টুসুকে শস্যের পুনর্জন্মের উৎসব বলে বর্ণনা করেছেন। বর্ষার শুরুতে মাটিতে পোঁতা বীজ থেকে নতুন শস্যের জন্ম হয়। সারা বছর চাষবাসের পর পোষমাসের শেষে সেই শস্য পূর্ণতা লাভ করে মকর সংক্রান্তিতে। টুসু উৎসব তাই আদিম মানুষের মৃত শস্যের পুনর্জীবন কামনার একটি জীবনধর্মী, সৃষ্টিধর্মী অভিনব লোকউৎসব। অনেক গবেষকের মতে, ‘তুষ’ শব্দ থেকে টুসু শব্দের উৎপত্তি। বিনয়বাবু তাঁর ‘লোকায়ত ঝাড়খণ্ড’ গ্রন্থে বলেছেন, এই তুষ মৃত ধানের প্রতীক। আর জলাশয়ে টুসু বিসর্জনের অর্থ হল মৃত শস্যকে কবর দেওয়া। তবু টুসু ভাসান শোকোৎসব নয়। বরং মৃতের অবশ্যম্ভাবী পুনর্জন্মকে ত্বরান্বিত করার জন্য আনন্দোৎসব।

আরও পড়ুন শীতে জলপাইগুড়ি গেলে এই জিনিসটার স্বাদ নিতে ভুলবেন না

টুসুর সঙ্গে মূর্তি পূজার কোনো সম্পর্ক নেই। তবু অঞ্চলভেদে বাঁকুড়া, মেদিনীপুরের কিছু এলাকায় মুর্তিপুজো হচ্ছে। টুসু উৎসব এর প্রাণকেন্দ্র পুরুলিয়াতে কোনো ধরনের মূর্তি করা হয় না। টুসুর বাহন রূপে ‘চোড়ল’ ব্যাবহার করা হয় নৃত্যগীতে। পুরুলিয়ার বিশিষ্ট গবেষক চারিয়ান মাহাতের মতে, টুসু উৎসবে সূর্যদেবতাকে পুজো করা হয়। কুড়মালী শব্দ ‘টুই’ এর অর্থ সর্বোচ্চ, আর ‘সু’ এর অর্থ সূর্য। এই সময় সূর্যের উত্তরায়ণ শুরু হওয়ায় সূর্য সর্বোচ্চ স্থানে থাকে। সূর্য যে হেতু সকল শক্তির উৎস, তাই সূর্যদেবতাকে পূজো করা হয় টুসুর মাধ্যমে।

‘টুসু’ সম্পর্কে যা-ই মতবাদ প্রচলিত থাকুক, টুসু বৃহত্তর ছোটোনাগপুর মালভূমি এলাকার জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। টুসু কুড়মী জনজাতির প্রধান উৎসব হলেও, এই এলাকায় বসবাসকারী সমস্ত জাতিগোষ্ঠী এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। মকরসংক্রান্তিতে স্নানের পর ধনী, গরিব প্রত্যেকের শরীরে উঠবে নতুন পোশাক। ওই দিন পুরুষরা চলে যায় নিকটবর্তী ‘পরকুল’ মেলায়। মহিলারা নিকটবর্তী নদী বা পুকুরে চলে যান টুসু বিসর্জনে। বাস্তবিকই টুসু হয়ে উঠেছে জঙ্গলমহলের প্রাণের উৎসব।

0 Comments
Share
21st-anniversary-of-bhramanadda

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভ্রামণিক, ভ্রমণলেখক, ভ্রমণাগ্রহীদের সমাবেশে জমজমাট হয়ে উঠল ‘ভ্রমণ আড্ডা’র আসর। মেঘলা আবহাওয়ায় হালকা শীতের ছোঁয়া নিয়ে সারা দিন ধরে উপভোগ করলেন আসরে হাজির সবাই। চলল ভ্রমণের ছবি দেখা, ভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথা শোনা, ভ্রমণের বই নেড়েচেড়ে দেখা এবং কেনা, আর দুপুরের অত্যন্ত সুস্বাদু ভোজ। আর সেই সঙ্গে অবশ্যই তিনটি সম্মান প্রদান।

a signboard of bhramanadda
ভ্রমণ নিয়ে আড্ডা। নিজস্ব চিত্র।

আসর বসেছিল রবিবার, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ভদ্রশ্বরের ভোলানাথ চক্রবর্তী মেমোরিয়াল স্কুল প্রাঙ্গণে। উদ্যোক্তা ‘ভ্রমণ আড্ডা’। একুশ বছরে পা দিল এই আসর। আসর চলল সন্ধে পর্যন্ত।

bhraman samman awarded to raj basu
রাজ বসুকে ভ্রমণ সম্মান দিচ্ছেন রতনলাল বিশ্বাস। নিজস্ব চিত্র।

তিনটি সম্মান প্রদান করা হল তিনজনকে – ভ্রমণ সম্মান দেওয়া হল ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজম’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রাজ বসুকে, মুসাফির সম্মান দেওয়া হল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলবিদ্যা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান গুরুপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়কে এবং কলম সম্মান দেওয়া হল ভ্রামণিক সুলেখক ফাল্গুনী মণ্ডলকে। সঙ্গে ছিল ভ্রমণ নিয়ে ছবির ‘অঘোষিত’ প্রদর্শনী এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত বইয়ের স্টল।

travel books in bhraman adda
আসরে ভ্রমণের বই। নিজস্ব চিত্র।

কথায় বলে ‘টুরিস্ট’ শব্দটির অর্থ অভিধানে খুঁজতে গেলে দেখা যাবে সেখানে লেখা আছে ‘বাঙালি’। সুযোগ পেলেই বাঙালি বেরিয়ে পড়ে। নিজের মতো করে ঘুরে বেড়ায় – কেউ করে নানা ধরনের অভিযান, কেউ করে নিছকই ভ্রমণ। আবার অভিযানেরও রকমফের আছে। কেউ পর্বতশীর্ষের মাথায় ওঠেন, কেউ বা পাহাড়ের দুর্গম পথে ট্রেক করেন। কেউ সমুদ্রের তীর ধরে হাঁটেন, কেঊ বা প্রবল শীতে জমে যাওয়া নদী বা লেকের বুকের ওপর দিয়ে হাঁটেন, কেউ আবার মরুভূমির বুক চিরে হেঁটে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যান। কেউ সাইকেলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘোরেন, কেঊ বা গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন অতি দুর্গম রাস্তায়। এ তো গেল একটা উদ্দেশ্যমূলক ভ্রমণ। কিন্তু গড়পড়তা বাঙালি তো ছুটি পেলেই ঘর থেকে দু’ পা ফেলেন বাইরে – সে যেখানেই হোক।

tasty food
ভোজন ছাড়া কি আড্ডা হয়? নিজস্ব চিত্র

আর আড্ডাপ্রিয় বাঙালি যে শুধু যে বেড়াতে ভালোবাসেন তা-ই নয়, সে-ই বেড়ানো নিয়ে সারা দিনের আড্ডাতেও মাতেন, বিখ্যাত ‘পথিক’ রতনলাল বিশ্বাসের বৈকাল হৃদে ট্রেকিং-এর ছবি গোগ্রাসে গেলেন, লিপিকা বিশ্বাসের একাকী সাইকেল-ভ্রমণের তারিফ করেন। ‘ভ্রমণ আড্ডা’ দেখিয়ে দিল আড্ডাপ্রিয় বাঙালিকে ভ্রমণ নিয়ে আড্ডার আসরে টেনে আনা খুব কঠিন নয়, যদি আবার সেই আসরে থাকে ভোজনপ্রিয় বাঙালির রসনা তৃপ্ত করার মতো খাবারের আয়োজন – সুস্বাদু ভাত, বেশ জমজমাট ডাল, মুচমুচে বেগুনি, এঁচোড়ের ডালনা, ছানার ডালনা (মনে রাখুন, পনির নয়), পাঁপড় ভাজা আর টমেটো-আমসত্ত্বের চাটনি।

0 Comments
Share
get-the-taste-of-bhaka-pithe-in-jalpaiguri-during-winter

রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, জলপাইগুড়ি: বাষ্পের সাহায্যে সেদ্ধ হবে চালের গুঁড়ো। তার মাঝখানে তিন জায়গায় সামান্য মিষ্টির ছোঁয়া। এই হল ‘ভাকা পিঠে’। শীতে কি এই অপরূপ পিঠের স্বাদ নিতে চান? তা হলে চলুন জলপাইগুড়ি।

জলপাইগুড়ি শহর এবং সংলগ্ন এলাকাতে এই ভাকা পিঠের বিক্রি শুরু হয়েছে। চলবে পৌষ সংক্রান্তি পর্যন্ত।

জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলায় এই ভাকা পিঠের কদর প্রচুর। এখন তো নিউ জলপাইগুড়ি-সহ বিভিন্ন স্টেশনে সারা বছর এই ভাকা পিঠে বিক্রি হয়। কোনো তেল মশলা নেই। কেবল দরকার চালের গুঁড়ো। বাকি যে উপকরণ লাগে সেগুলি হল নারকেল কোরা, গুড় এবং চিনি।

জলপাইগুড়ির দিনবাজার সেতুর ওপর মোট চার জন ভাকা পিঠে বিক্রি করেন। তাঁদের মধ্যে দু’ জন সম্পর্কে ভাই। জলপাইগুড়ি শহর থেকে কিছু দূরের রাহুতবাগানের বাসিন্দা নিতাই পাল এবং খরুম পাল। পাশাপাশি আলাদা ভাবে ভাকা পিঠে বিক্রি করলেও নিজেদের মধ্যে কোনো রেষারেষি নেই। শীতের দুপুরে দু’ জন দু’টো ভ্যানরিকশায় মালপত্র নিয়ে চলে আসেন দিনবাজার সংলগ্ন করলা সেতুর ওপর। ভ্যানরিকশার ওপর স্টোভ ধরিয়ে একটা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে জল গরম করতে দেন। ওপরের ঢাকনায় একটি এক ইঞ্চি গোলাকৃতি এবং অন্যটি অপেক্ষাকৃত ছোটো দু’টো ফুটো করা থাকে।

জল ফোটা আরম্ভ করলে দু’টো ফুটো দিয়ে বাষ্প বার হতে থাকে। তখন ব্যাগে রাখা চালের গুঁড়ো স্টিলের বাটিতে ভরা হয়। বাষ্পের ওপর বসানোর আগে বাটির চালের গুঁড়োর ওপরে গুড় মেশানো নারকেল কোরা অল্প মাত্রায় দেওয়া হয়। একটা সাদা কাপড়ে বাটির মুখ আটকে দেওয়া হয়। তার পর যে পাত্রটির ফুটো থেকে বাষ্প বার হচ্ছিল তার ওপর উলটো করে বাটি বসিয়ে দেওয়া হয়। বড়ো ফুটোর ওপর বড়ো বাটি এবং ছোটো ফুটোর ওপর ছোটো বাটি। বাষ্প যে ফুটো দিয়ে বার হচ্ছে তার মুখের ওপর  সাদা কাপড়ে ঢাকা বাটির মধ্যের চালের গুঁড়ো থাকে। এক মিনিট পরেই তৈরি হবে যায় ভাকা পিঠে। গুড়, নারকেল কোরার মিশ্রণ না দিয়ে অনেকে আবার চিনিও ব্যবহার করেন। ক্রেতা চাইলেই কাগজের ওপর রেখে পরিবেশন করা হয়। বড়োটার দাম ১০ এবং ছোটোটার দাম ৫ টাকা।

বিক্রেতা পাল ভাইয়েরা জানালেন যে তাঁরা প্রত্যেকে রোজ আট কিলোগ্রাম চালের গুঁড়ো নিয়ে বসেন। এক কিলোগ্রাম চালের গুঁড়োয় ছোটো বড়ো মিলিয়ে ২২ থেকে ২৫টা ভাকা পিঠে তৈরি হয়। পৌষ সংক্রান্তি পর্যন্ত ভাকা পিঠে জলপাইগুড়ি শহরে বিক্রি হবে। পৌষ সংক্রান্তির পর বাড়িতে বাড়িতে পিঠে তৈরি শুরু হয়ে যায়। তখন ভাকা পিঠের কদর কমে যায়। নিতাই এবং খরুম পালের দাবি, “ভাকা পিঠে অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য। শরীরের কোনো ক্ষতি করে না।”

সুতরাং এই শীতে জলপাইগুড়ি এবং সংলগ্ন এলাকায় গেলে খেতেই হবে ভাকা পিঠে।

0 Comments
Share
pandal-hopping-in-south-kolkata-and-south-subarb-selections-of-bhramon-online

দুর্গাপুজো এখন মধ্যগগনে। কারণ আজ বুধবার মহাষ্টমী। আজ বেশির ভাগ বাঙালিই সকালের দিকটা ব্যস্ত রয়েছেন পূজা-অঞ্জলি নিয়ে। তার পর মধ্যাহ্নভোজ সেরে একটু বিকেলের দিকে বেরিয়ে পড়বেন ঠাকুর দর্শনে। ভ্রমণ  অনলাইন আজ নিয়ে যাচ্ছে ফের দক্ষিণে। তবে সেখান থেকে চলে যাবে দক্ষিণ শহরতলিতে – চেতলা, নিউ আলিপুর, বেহালা, হরিদেবপুর, গড়িয়া হয়ে পাটুলিতে শেষ হচ্ছে এই পরিক্রমা।

চেতলা অগ্রণী

রাসবিহারী মোড় থেকে পশ্চিমে চলুন। চেতলা ব্রিজ পেরিয়ে পৌঁছে যান চেতলা অগ্রণীর মণ্ডপে। এদের এ বারের ভাবনা ‘ইয়ে দুনিয়া দর্শন কা মেলা’ যা ফুটে উঠছে ‘বিসর্জন’ নাম নিয়ে। মহালয়ার দিন চেতলা অগ্রণীর প্রতিমার চক্ষুদান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

suruchi sangha
সুরুচি সংঘ। ছবি রাজীব বসু।
সুরুচি সংঘ

চেতলা অগ্রণী থেকে দুর্গাপুর ব্রিজ হয়ে চলে আসুন নিউ আলিপুর পেট্রল পাম্পের কাছে। ৬৫তম বর্ষে সুরুচি সংঘের থিম মা ও মাটি। মাটির কাজ দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। এই পুজোর থিম সং রচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গানের প্রথম লাইন ‘জয় মা জয় দুর্গা’। পুজোর শ্রেষ্ঠ থিম সং হিসাবে রাজ্য সরকারের পুরস্কার পেয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর গান।

বেহালা

থিমপুজোর জন্মভূমি বেহালা। এক সময়ে কলকাতার অন্দর থেকে লোকে বেহালা ছুটে যেত থিমের ঠাকুর দেখতে। এখনও থিমপুজোর প্রতিযোগিতায় একেবারে সামনের সারিতে বেহালা। সুরচি সংঘ দেখে তারাতলা হয়ে চলুন বেহালায়।

বেহালা ক্লাব

বেহালা থানার বিপরীতে হরিসভা ময়দানে মণ্ডপ। ইংরাজি, হিন্দির চাপে বাংলা ভাষা বর্তমান প্রজন্মের কাছে ক্রমেই অবহেলিত হচ্ছে। সেই বাংলা ভাষাকে সঙ্গী করে প্রাক প্ল্যটিনাম জুবিলি বর্ষে বেহালা ক্লাব তাদের মণ্ডপভাবনায় রেখেছে ছোটোদের হাতেখড়ি দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত অসংখ্য স্লেট, যাতে লেখা রয়েছে বর্ণমালার বিভিন্ন অক্ষর।

বেহালা ফ্রেন্ডস ক্লাব

বেহালা ১৪ নম্বর বাসস্ট্যান্ড থেকে রায়বাহাদুর রোড ধরে ইলোরা সিনেমার নিকটেই পেয়ে যাবেন মণ্ডপ। “মা কী তোর একার রে পাগল!” বহু কাল আগে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ কথাটা বলেছিলেন। মা কারওর একার নয়, মা সকলের। বেহালা ফ্রেন্ডসের ২০১৮-এর মণ্ডপভাবনায় এমনই মায়ের আরাধনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

আরও পড়ুন পুজো পরিক্রমা ২০১৮ : পূর্ব কলকাতা ও শহরতলি : খবর অনলাইনের বাছাই

বেহালা দেবদারু ফটক

বেহালার ১৪ নং বাসস্ট্যান্ডের বিপরীতে শিশু উদ্যান পার্কে। “ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি” — সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘হে মহাজীবন’ কবিতার মূল বিষয়বস্তুকে এ বারের মণ্ডপভাবনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

বড়িশা ক্লাব

সখের বাজার মোড় থেকে বাঁ দিকে, জেমস লং সরণি ক্রসিং-এর কাছে। এদের এ বছরের পুজোর থিম ‘মায়ের ঋণ’। সন্তান যতই মাকে নিজের থেকে দূরে ঠেলে দিক না কেন, মা কিন্তু সব সময়েই তার সন্তানকে আগলে রাখে। মায়ের ঋণ যে কখনও শোধ করা যায় না, সেটাই বোঝানো হয়েছে এই থিমে।

barisha sarbojanin
বড়িশা সর্বজনীন। নিজস্ব চিত্র।
বড়িশা সর্বজনীন

সখেরবাজার মোড় থেকে কেকে রায়চৌধুরী রোড ধরে দ্বাদশ মন্দিরের কাছেই পাওয়া যাবে আন্দামানকে। প্রকৃতি-মানব আন্দামানের জারোয়াদের জীবনকাহিনি, তাদের এক টুকরো সংস্কৃতিকে এ বারের থিম-ভাবনায় স্থান দিয়েছে বড়িশা সর্বজনীনের পুজো কমিটি।

barisha youth club
বড়িশা ইউথ ক্লাব। ছবি পাপিয়া মিত্র।
বড়িশা ইউথ ক্লাব

সখেরবাজার মোড় থেকে ডান দিকে গেলে দত্তের মাঠ ছাড়িয়ে দক্ষিণ বেহালা রোডে ইউথ ক্লাবের মণ্ডপ। এ বারের পুজোর থিমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘অন্নপূর্ণার রান্নাঘর’। মণ্ডপে প্রবেশ করলে দেখা যাবে একটা বিশালাকার উনুন, যাতে বিরাট আকৃতির একটা হাঁড়ি। এ ছাড়াও মণ্ডপের চারি দিকে তাকালেই দেখা যাবে ছোটো-বড়ো নানা রকমের কাঠের হাতা, খুন্তি, ডালকাঁটা ইত্যাদি।

বড়িশা তপোবন

সখের বাজার ছাড়িয়ে ডায়মন্ড হারবার রোড ধরে চলে আসুন শীলপাড়ায়। বাঁ দিকে মণ্ডপ। চণ্ডীমঙ্গল ও মনসামঙ্গলের কাহিনি পটচিত্রে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এ ভাবেই প্রায় অবলুপ্ত হয়ে যাওয়া এই শিল্পকলাকে মানুষের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে তপোবন।

হরিদেবপুর

বেহালা-বড়িশা অঞ্চলের ঠাকুর দেখে সন্তোষ রায় রোড ধরে ধারাপাড়া হয়ে চলে আসুন মহাত্মা গান্ধী রোডে। ডান দিকে ঘুরে চলুন হরিদেবপুর।

হরিদেবপুর অজেয় সংহতি

এদের এ বছরের থিম খোলা হাওয়া। বারান্দার অলিন্দে বইছে, যে হাওয়া মন-প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। বিশ্বের সব দূষণ মুছে দিক এই খোলা হাওয়া, এই ভাবনা থেকেই এই থিম।

haridevpur 41 palli
হরিদেবপুর ৪১ পল্লি।ছবি রাজীব বসু।
হরিদেবপুর ৪১ পল্লি

অজেয় সংহতি দেখে করুণাময়ী মোড়ের দিকে আসুন। ডান দিকে ৪১ পল্লির মণ্ডপ। ৬১তম বর্ষে এদের থিম ‘সৃষ্টির তরণীতে আমি’। যার সৃষ্টি আছে, তার ধ্বংস আছে। আবার ধ্বংস হলেই নতুন করে সৃষ্টি হবে। তাই ধ্বংসের ভয় না পেয়ে সকলে হাতে হাত মিলিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করুন।

গড়িয়ার পথে

পশ্চিম পুটিয়ারি পল্লি উন্নয়ন সমিতি

করুণাময়ী সেতুর আগে ডান দিকের রাস্তা ধরে চলে আসুন এদের মণ্ডপে। এ বছরে এদের থিম ‘ছায়াছবি’। ৬৪তম বর্ষে এই থিমের মাধ্যমে এরা বার্তা দিতে চায় – ‘আদম ক্ষুধায় লাগাম টানো, দাও উমাকে সম্মান’। গণধর্ষিতা উমা কী ভাবে জীবনযুদ্ধে লড়াই করে এগিয়ে চলে সেই কাহিনি শোনানো হয়েছে এখানে।

naktala udayan sangha
নাকতলা উদয়ন সংঘ। ছবি রাজীব বসু।
নাকতলা উদয়ন সংঘ

মুর অ্যাভেনিউ, নেতাজি সুভাষ রোড ধরে চলে আসুন নাকতলায়। এ বারের পূজার থিম ‘সময়কে ধরে রাখা’। শুধু সময় নয়, তার সঙ্গে প্রকৃতির যে অনবরত বদল হচ্ছে তা-ও তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জায়। মণ্ডপের ভেতরে কাঠের পাটাতন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দোতলা বাড়ি। মাঝখানে প্রতিমার মঞ্চ। সেখানে প্রতিমা বসে আছেন মানুষের কোলে। মানুষের মুখে মুখোশ। মঞ্চ ঘঁড়ির কাঁটার মতো বদলে যাচ্ছে। এবং দর্শনার্থীরাও দেখছেন ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রতিমার স্থান বদল হচ্ছে।

গড়িয়া-পাটুলি

চলে আসুন গড়িয়া মোড়ের দিকে। গড়িয়া অঞ্চলে কানুনগো পার্ক, শ্রীরামপুর ক্লাব, মিলন পার্ক ইত্যাদি দেখে চলে আসুন পাটুলি কানেক্টরে।

কেন্দুয়া শান্তি সংঘ

এ বছরে এদের থিম ‘আসা যাওয়ার পথের ধারে’। এখানে মা দুর্গা সপরিবার ট্রাকবাহনে। মণ্ডপের কাজে অভিনবত্ব আছে।

পাটুলি সর্বজনীন

বাইপাস মোড়ের দিকে আসুন। বাঁ দিকের রাস্তায় কিছুটা ভিতরে পাটুলি সর্বজনীনের পুজো। এদের থিম ‘রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড়িয়ে’। উন্নয়নের প্রতীক হিসাবে মণ্ডপে রাখা হয়েছে ঢালাই মেশিন।

বৈষ্ণবঘাটা-পাটুলি সর্বজনীন

বাইপাস মোড়ের দিকে আরও এগিয়ে চলুন। ডান দিকে পাটুলির মাঠে এদের পুজো। এই পুজোর থিম যা-ই হোক, পুজোর পরিবেশই এর ইউএসপি। খোলা মাঠে মেলা, আড্ডা, গানের আসর, এ সব নিয়ে জমজমাট এই পুজো।

0 Comments
Share
duga-puja-parikrama-2018-north-kolkata

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: আজ সোমবার মহাষষ্ঠী। তবে পঞ্জিকা মতে গতকালই ষষ্ঠী পড়ে যাওয়ায় পুজোর বোধন হয়ে গিয়েছে। রবিবার রাস্তায় ছিল জনজোয়ার। লোকে ঠাকুর দেখতে নেমে পড়েছে। আজ অবশ্য হিসেবমতো কাজের দিন। তবু মানুষ দিনের কাজের শেষে পথে নেমে পড়বেন। কিন্তু আজ কোথায়? সাহায্য করছে ভ্রমণ অনলাইন। এ দিনের ঠাকুর দেখা না হয় উত্তর কলকাতাতেই হোক। শুরু করুন বাগবাজার দিয়ে।

bagbazar sarbojanin
বাগবাজার সর্বজনীন। ছবি পাপিয়া মিত্র।
বাগবাজার সর্বজনীন

শত বর্ষে প্রতিবারের মতোই বিশাল প্রতিমা। একচালা ঠাকুর, ডাকের সাজ। সামনের মাঠে বিশাল মেলা। গিরিশ মঞ্চের পাশে মাঠের ওপর মণ্ডপ।

কুমোরটুলি সর্বজনীন

বাগবাজার দেখে রবীন্দ্র সরণি ধরে চলে আসুন কুমোরটুলি সর্বজনীনে। ৮৮তম বর্ষে এদের থিম ‘মাটির ফিসফাস’। গঙ্গাপদ্মার মাটি মিশিয়ে প্রতিমা তৈরি হয়েছে। মণ্ডপের ভিতর আর বাইরে মাটি দিয়ে সাজানো হয়েছে। রয়েছে মাটির লরি, মাটি পোড়ানোর লরি। থিম সং করেছেন ও-পার বাংলার শিল্পী ফারজানা অয়াহিদ সায়ান। কুমোরটুলি বাসস্টপ থেকে গঙ্গার দিকে যেতে গলির ভেতর মণ্ডপ।

কুমোরটুলি পার্ক

কুমোরটুলি সর্বজনীন দেখে রবীন্দ্র সরণিতে আসুন। আরও দক্ষিণে যেতে ডান দিকের গলিতে কুমোরটুলি পার্কের মণ্ডপ। ২৬তম বর্ষে এদের থিম ‘স্বপ্নের রাখাল’। হিংসা হানাহানির মাঝে ভালোবাসার কথা বলতে রাখালের বেশে শ্রীকৃষ্ণ। তিনিও আরাধনা করছেন দেবী দুর্গার।

হাটখোলা গোঁসাইপাড়া

৮১তম বর্ষে এদের নিবেদন ‘সময়ের সংযোগ’। সময়ের সঙ্গে ছুটতে ছুটতে একে অপরের কাছে থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এটিই থিমের বিষয়। থিম বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের স্কালপচার, লোহার খাঁচা ইত্যাদি। কুমোরটুলি পার্ক দেখে রবীন্দ্র সরণি ধরে আরও দক্ষিণে এলে পেয়ে যাবেন হাটখোলা গোঁসাইপাড়া।ল্যান্ডমার্ক হিসেবে রয়েছে বি কে পাল অর্থাৎ বটকৃষ্ণ পালের বাড়ি।

ahiritola sarbojanin
আহিরীটোলা সর্বজনীন। ছবি রাজীব বসু।
আহিরীটোলা সর্বজনীন

৭৯তম বর্ষ। মণ্ডপ তৈরি হয়েছে একটা পুরোনো রাজবাড়ির আদলে। থিমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আহিরীটোলা রাজবাড়ির অঞ্জলির প্রস্তুতি’। মণ্ডপকে ‘ন্যাচরাল লুক’ দিতে ব্যবহার করা হয়েছে আসল মার্বেল, ১৫৭ বাতির বেলজিয়াম গ্লাসের ঝাড়, পুরোনো দিনের আলোর স্ট্যান্ড, ছবি, ঝোলানো পাখা, সুইজ বোর্ড, আসবাবও। থিমের সঙ্গে মিলিয়ে সাবেক ঠাকুর। হাটখোলা গোঁসাইপাড়া দেখে রবীন্দ্র সরণি ধরে আরও দক্ষিণে এসে বিকে পাল আভেনিউ ধরে গঙ্গার দিকে গেলে আহিরিটোলার মোড়েই মণ্ডপ।

নিমতলা সর্বজনীন

৫৩তম বছরের পুজো। থিমে তুলে আনা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। নারী ও শিশু পাচারের বিষয়। থিমের ক্যাপশন ‘আমায় কেন আনলি ডেকে মা’?থিমের সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিমা। অসুর বধের দৃশ্য নেই। আহিরীটোলা থেকে আরও দক্ষিণে গিয়ে নিমতলা ঘাট স্ট্রিটের ওপরই মণ্ডপ।

রবীন্দ্র কানন সর্বজনীন

নিমতলা ঘাট স্ট্রিট ধরে যতীন্দ্রমোহন অ্যাভেনিউয়ের দিকে আসুন। ডান দিকে রবীন্দ্র কানন। ৭৮ বছরের এই পুজো। মণ্ডপে উপহার দেওয়া হচ্ছে রাজস্থান। জয়পুরের স্থাপত্যের আদলে। একটি কাল্পনিক মন্দির তৈরি করা হয়েছে। শিল্পীরা এসেছেন কাঁথি থেকে। নিমতলা ঘাট স্ট্রিট আর রবীন্দ্র সরণির ক্রসিং-এই পার্কের মধ্যে মণ্ডপ।

মৈত্রী সংঘ (যতীন মৈত্র পার্ক)

৭৮তম বর্ষের মণ্ডপ সেজেছে প্যাগোডার রূপে। গোটা মণ্ডপ তৈরি হয়েছে টিনের পাত দিয়ে। কারুকার্যও টিনের, সঙ্গে স্টিলের বাটি। প্রতিমা সাবেক চেহারার। রবীন্দ্র কানন দেখে এইটু উত্তরে চলে আসুন। যতীন্দ্রমোহন অ্যাভেনিউয়ের ওপর যতীন মৈত্র পার্কের ভেতর পুজো।

মহম্মদ আলি পার্ক

যতীন্দ্রমোহন অ্যাভেনিউ, সেন্ট্রাল অ্যাভেনিউ বরাবর মহাত্মা গান্ধী রোডের ক্রসিং পেরিয়ে চলে আসুন মহম্মদ আলি পার্কে। বাঁ দিকে পুজোমণ্ডপ। ৫০তম বর্ষে থিম পদ্মাবত। চিতোরগড় দুর্গ। গোটা মণ্ডপ জুড়ে রাজস্থানের পরিবেশ বিরাজ করছে। দেবীর সাজপোশাক রাজস্থানী রাজকন্যা বা রানির মতোই।

কলেজ স্কোয়ার

৭১তম বছরে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে অক্ষরধাম মন্দিরের আদলে। ভেতরে সাবেক দুর্গা। বিশাল চৌকো ঝাড় লণ্ঠন। মণ্ডপের ভেতরে রামের রাবণবধের গোটা কাহিনি। আলোকসজ্জায় রয়েছে অভিনবত্ব। রয়েছে বুলেট ট্রেনও। কলেজ স্ট্রিটের উপরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উলটো দিকে পার্কের ভেতর মণ্ডপ।

কানাইধর লেন অধিবাসীবৃন্দ

৬৮তম বছরে থিম ‘বিশ্বমাঝে রঙিন এ জীবন’। হানাহানি হিংসার মধ্যে এই ক’দিন শান্তি ফিরে পেতে এই থিম-ভাবনা। মণ্ডপের গলির ভেতরটাকে পৃথিবী কল্পনা করে সর্বত্র মা দুর্গার পায়ের ছাপ আঁকা হয়েছে। ভেতরে সুতোর কাজ। কলেজ স্কোয়ারের পেছনে রাজা রামমোহন সরণির কাছে।

santosh mitra square pandal
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার মণ্ডপ। নিজস্ব চিত্র।
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার বা লেবুতলা পার্ক

৮৩ বছরের চমক রুপোর বিশাল রথ। ১০ টন রুপোর ব্যবহার হয়েছে। ৪০ ফুট উঁচু রথ। দর্শকদের কালো চশমা পরে ঠাকুর দর্শনে আসতে বলা হয়েছে। শিয়ালদা অঞ্চলে লেবুতলা পার্কে মণ্ডপ।

শিয়ালদা অ্যাথলেটিক ক্লাব

৭১তম বর্ষে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে গ্রামের আদলে। রয়েছে আদিবাসীদের জীবনের টুকরো ছবি। মণ্ডপময় ধানের খেত, গোয়ালে গরু, ছাগল, পুকুরে মাছ ইত্যাদি দেখানো হয়েছে। প্রতিমা সাবেক। শিয়ালদা স্টেশন বাসস্টপের কাছে গলির ভেতর মাঠের ওপর বিশাল মণ্ডপ।

chaltabagan
চালতাবাগান মণ্ডপ। ছবি রাজীব বসু।
চালতাবাগান

শিয়ালদা অ্যাথলেটিক ক্লাব দেখে উত্তরে চলুন। মানিকতলা মোড় থেকে বাঁ দিকে বিবেকানন্দ রোডে ঢুকুন। আমহার্স্ট স্ট্রিট ও বিবেকানন্দ রোডের ক্রসিং-এ মণ্ডপ। ৭৬তম বছরে মণ্ডপ রয়েছে শান্তিনিকেতনে। উপস্থিত রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। তুলে ধরা হচ্ছে দোল, বাউল উৎসবের মতো শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন উৎসব।

সিমলা ব্যায়াম সমিতি

বিবেকানন্দ রোড ধরে এগিয়ে যান। গিরিশ পার্কের কিছু আগে বাঁ দিকের রাস্তায় মণ্ডপ। ৯৩তম বছরে সিমলা ব্যায়াম সমিতি তৈরি করেছে মার্বেল প্যালেস। ভিতরে রয়েছে রাজমহলের পরিবেশ। রাজকীয় ঝাড় থেকে আসবাব সবই রয়েছে সেখানে। ঠাকুর ঐতিহ্য মেনে সাবেক ধরনের।

বিডন স্ট্রিট সর্বজনীন

সিমলা ব্যায়াম সমিতি দেখে একটু পিছিয়ে এসে বিধান সরণি ধরুন, উত্তরে এগিয়ে চলুন। বিডন স্ট্রিটের মোড়ে এসে বাঁ দিকে চলুন। বিডন স্ট্রিটের উপরেই মণ্ডপ। ৭৮ তম বছরেও ঠাকুরদালানের আদলে মণ্ডপ। একচালার সাবেক প্রতিমা।

হরিঘোষ স্ট্রিট সর্বজনীন

বিডন স্ট্রিট সর্বজনীনের কাছেই হরি ঘোষ স্ট্রিট সর্বজনীন। বিধান সরণিতে হেদুয়া পার্কের উলটো দিকে বিডন স্ট্রিটে ঢুকে ডান হাতের প্রথম গলি হরি ঘোষ স্ট্রিট। একটু এগোলেই মণ্ডপ। ৭৯তম বর্ষে এদের প্রচেষ্টার নাম – ‘মাগো তোমার চরণে দিলাম ফুল, ক্ষমা কর মোর সব ভুল’। কৃত্রিম ফুল পাতা ইত্যাদি দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে।

durga of kashibose lane
কাশীবোস লেনের প্রতিমা। ছবি রাজীব বসু।
কাশীবোস লেন

কাছেই কাশীবোস লেনের পূজা। ৮১তম বর্ষে থিম ‘আমার আলিন্দে’। মণ্ডপ তৈরি হয়েছে একাধিক বারান্দার আদলে। মণ্ডপের সামনেটা ছাদ। ভেতরে বারান্দা। নানান ধরনের হারিয়ে যাওয়া বারান্দার দেখা মিলছে মণ্ডপে। সবটা জুড়েই রয়েছে হারিয়ে যাওয়া নানান জিনিসের উপস্থিতি। প্রতিমা রাজনন্দিনীর বেশে মুক্ত আকাশের নীচে ছাদের ওপর নৃত্যরতা অবস্থায় বিরাজ করছেন।

darjipara
দর্জিপাড়ার প্রতিমা। ছবি রাজীব বসু।
দর্জিপাড়া সর্বজনীন

কাশীবোস লেন দেখে চলে আসুন দর্জিপাড়া সর্বজনীনে। রূপবাণী বাসস্টপের কাছে লক্ষ্মীনারায়ণ চপের দোকানের গায়ে গলির ভেতরে ব্ল্যাকস্কোয়ার পার্কের মাঠে পুজো। ৮১তম বছরে দর্জিপাড়ার থিম দশভূজা। বিশালকার দশ হাত দিয়ে মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে। মণ্ডপের বাইরে হরপার্বতীর মূর্তি। ভেতরে একাধিক দুর্গার রূপ ও পদ্মের ইন্সটলেশন।

hatibagan sarbojanin
হাতিবাগান সর্বজনীন। ছবি রাজীব বসু।
হাতিবাগান সর্বজনীন

চলে আসুন হাতিবাগান মোড়ে, চলুন খান্নার দিকে। পথেই পড়বে হাতিবাগান সর্বজনীন। ৮৪তম বছরে থিম-ভাবনা ‘অন্তর্জাল’। প্রযুক্তি, ইন্টারনেট কী ভাবে সমাজ-মানসকে গ্রাস করছে তা বোঝানো হয়েছে অসংখ্য তারের জাল, স্তম্ভ ইত্যাদি দিয়ে। তারের জাল দিয়েই গোটা মণ্ডপ। থিমের সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিমা। জাল কেটে বেরিয়ে আসার ভঙ্গিতে।

nalin sarkar street durgapuja
নলিন সরকার স্ট্রিট দুর্গাপুজো। ছবি রাজীব বসু।
হাতিবাগান নলিন সরকার স্ট্রিট

খান্নার মোড়ের কাছে নলিন সরকার স্ট্রিটের ৮৬ বছর। এদের পুজোর থিম প্রযুক্তি আর ইন্টারনেট নিয়েই। এই সবের বশে চলে যাচ্ছে মানবজীবন। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে মানুষ। এই সবের ফলাফল কী দাঁড়াচ্ছে তাই রয়েছে গোটা মণ্ডপ জুড়ে। দেবীর রূপ সাবেক।

হাতিবাগান নবীনপল্লি

৮৫তম বছরে থিম ‘পাঠাগার’। ইন্টারনেটের যুগে ব্যস্ততম সময় হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার অভ্যাস, সময়ও নেই বললেই চলে। এই অবস্থায় ই-বুকই সম্বল। নতুন প্রজন্ম তো পাঠাগার ব্যাপারটাই সে ভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। তাই প্রায় ৫০ হাজার বই দিয়ে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। একচালা প্রতিমার চালচিত্রও বইয়ের। হাতিবাগান মোড় থেকে শ্যামবাজারের দিকে যেতে বাঁ হাতে মণ্ডপ।

শিকদারবাগান

১০৬ বছরে থিম সে কালের বাবুদের সংস্কৃতি। মণ্ডপে রয়েছে সে কালের খড়খড়ির জানলা, আলো-বাতি, আবহতে সেই সময়কার গান। পরিবেশে বনেদিয়ানা বিরাজ করছে। মূল মণ্ডপ বনেদিবাড়ির নাটমন্দিরের আদলে। সাবেক প্রতিমা একচালার। টাউন স্কুল বাসস্টপের কাছে গলির মুখে পুজো।

মোহনবাগান বারোয়ারি

১০২ বছরে সাবেক প্রতিমা ও মণ্ডপসজ্জায় সাবেকিয়ানা। অষ্টমীতে কুমারীপুজো। হাতিবাগান থেকে শ্যামবাজার যাওয়ার পথে ডান হাতে গলির ভেতর পুজো।

টালাপল্লি সাধারণ দুর্গোৎসব

৭১ বছরে থিম ‘বাঁচুন ও বাঁচতে দিন’। মণ্ডপ তৈরি হয়েছে প্ল্যাস্টিক ব্যাগ ও বোতল দিয়ে। মণ্ডপের ভেতরে একটি কৃত্রিম পাড়া তৈরি করা হয়েছে সচেতনতা গড়ে তুলতে। সঙ্গে পাটের ব্যবহারও রয়েছে অন্দরসজ্জার কাজে এবং প্রতিমার পোশাক ও অলংকারের কাজে। টালা পোস্ট অফিস বাসস্টপে নেমে বাঁ হাতেই মণ্ডপ ব্রিজের পাশেই।

টালা বারোয়ারি               

এ বছরের থিম ‘মা’। সারা জীবন মা সন্তানের জন্য ব্যয় করেন। সেই মাকে ঘিরে নানান বিষয় তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপে। বলা হয়েছে ‘আমি খানিকটা আমার মতো, বাকিটা আমার মায়ের মতো’। থিমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঠাকুর। টালা পোস্ট অফিস বাসস্টপে নেমে ডান দিকে এই পুজো।

টালা সরকারবাগান সম্মিলিত সংঘ

এ বছরের থিম ‘উৎসর্গ’। মণ্ডপ ত্রিনয়নের আদলে। সফল নারীদের উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে মণ্ডপ। টালা স্টেশনের কাছে মণ্ডপ।

টালা পার্ক প্রত্যয়

এ বছরের থিম ভূগর্ভের জগৎ ‘অতল অনন্ত’। মণ্ডপে ঢোকার সময় ভূমিকল্প অনুভব করবেন দর্শকরা। তার পরই রয়েছে টারবাইনে চড়ে টানেলের ভেতর দিয়ে জলের নীচে পৌঁছোনোর পালা। একটি গুহায় রয়েছেন প্রতিমা। টালা পার্কের কাছে মণ্ডপ।

0 Comments
Share
durgapuja-pandal-hopping-in-east-kolkata-and-subarb-selections-of-bhramononline

আজ বাদে কাল বোধনের ঢাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কাঠি পড়বে। কিন্তু কলকাতা ও শহরতলিতে মানুষের ঠাকুর দেখার ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। বেশির ভাগ নামকরা পুজোরই উদ্বোধন হয়ে গিয়েছে। ‘তিতলি’ও চলে গিয়েছে। রাস্তায় নিশ্চিন্তে বেরিয়ে পড়েছেন মানুষজন। মহালয়ার পর থেকেই ফি সন্ধ্যায় মহানগরের রাস্তায় হচ্ছে জ্যাম। তাই  ভ্রমণ অনলাইনও বেরিয়ে পড়ল, পুজো পরিক্রমা সারতে। কলকাতা শহরকে কী ভাবে ভাগ করবেন, কী ভাবে শুরু করবেন ঠাকুর দেখা, কোন কোন ঠাকুর দেখবেন এ সবেরই সুলুকসন্ধান।

আজ রবিবার পঞ্চমী। শুরু করা যাক পূর্ব কলকাতা দিয়ে। প্রথমেই যাওয়া যেতে পারে ভিআইপি রোড অঞ্চলে। সেখান থেকে ঘুরে ঢুকে পড়ুন সল্টলেকে। তার পর বেলেঘাটা, কাঁকুড়গাছি হয়ে উলটোডাঙা।

ভিআইপি রোড অঞ্চল

দমদম পার্ক তরুণ দল

এই পুজোয় থিমের নাম ‘আবাহন’। আসলে শৈশব ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন। মণ্ডপে ঢুকেই মনে হবে শিশুমুখ খোদাই করা অসংখ্য সূর্যমুখী ফুল আকাশ থেকে গড়িয়ে আসছে। প্রতিমার সামনে স্বর্গীয় দৃশ্য। এয়ারপোর্টের দিকে যেতে বাঁ দিকে দমদম পার্ক পোস্ট অফিসের কাছে।

দমদম পার্ক তরুণ সংঘ

শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ‘গণশা’দের কথা বলা হয়েছে এদের মণ্ডপে। মণ্ডপে ঢুকে একটা ছোটো গল্পের মতো যাত্রা শুরু হবে দর্শকদের। সেই গল্পের শেষে মিলবে মুক্তির স্বাদ। যে ‘গণশা’দের কথা এখানে বলা হচ্ছে তাদের জন্য মা-ও কাতর। তাই তাঁর সাজ সাদামাটা। দমদম পার্ক ট্যাঙ্ক নম্বর ৩–এর কাছে।

দমদম পার্ক ভারতচক্র

মেয়েরা ‘ঘরে ও বাইরে’ কেমন করে এগিয়ে চলেছেন, পুজোমণ্ডপে সে কথাই বলছে এরা। সর্বত্রই মেয়েদের উড়ান। মূল মণ্ডপ শিবলিঙ্গের আদলে। দমদম পার্ক ট্যাঙ্ক নম্বর ২–এর কাছে।

দমদম পার্ক যুবকবৃন্দ

এদের থিমও নারীকেন্দ্রিক – ‘মা গো তোমায় রাখব কেমন করে’। নারীর অবস্থার কথা সাপ-সিঁড়ির রূপকে বলা হয়েছে। সিঁড়ি বেয়ে সাফল্য যেমন আসে, তেমনই নারীর জীবনে সাপের দংশনও সমানে চলে। দমদম পার্ক ট্যাঙ্ক নম্বর ৪–এর কাছে।

লেকটাউন অধিবাসীবৃন্দ

৫৬ বছরে এদের থিম ‘কৃষ্টির পরম্পরা’। গ্রামবাংলার শিল্পের ধারাকে একটা কোলাজের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপে। পুজো প্রাঙ্গণে ঢোকার মুখে ডোকরা শিল্পের নিদর্শন, হস্তীমুখী ষাঁড়। ঘুঘুমারির শীতলপাটি, নতুন গ্রামের কাঠের পুতুল, চড়িদার মুখোশ, পাঁচমুড়ার টেরাকোটা, পিংলার পটচিত্র – কী নেই মণ্ডপে। কোচবিহারের মদনমোহন ঠাকুরবাড়ির চত্বরে ভবানীদেবীর আদলে প্রতিমা। জয়া সিনেমা হলের কাছে মণ্ডপ।

লেকটাউন নেতাজি স্পোর্টিং

৯ বছরে থিম ‘বাংলার নাটক-কথা’। বাংলার নাটকের এ-কাল সে-কাল দুর্গাপুজোর আবহে বলতে চাওয়া হয়েছে। মণ্ডপে ঢুকেই দর্শকরা যাত্রাপথের মধ্য দিয়ে যাবেন। সেই পথে নাটকের ইতিহাস সম্পর্কে নানা তথ্য। শেষে প্রতিমা দেখে মনে হবে দুর্গা যেন নাটকেরই এক চরিত্র। যশোর রোডের দিকে লেকটাউন এ ব্লকের কাছে।

নতুন পল্লি প্রদীপ সংঘ

৩৮তম বছরে থিম ‘সাজিয়ে নিয়ে অতীত গাথা, আসল ফিরে বিবাহ কথা’। এ দেশে বিবাহ একটা সুপ্রাচীন রীতি। কিন্তু এই পবিত্র বন্ধন নারী নির্যাতন, বধূহত্যার মতো অনাচার থেকে মুক্তি দিতে পারেনি নারীকে। অশুভ শক্তির বিনাশ শেষে প্রতিমা অষ্টমঙ্গলার সাজে। বাসস্টপ নতুনপল্লি। এস কে দেব রোডের ওপর পুজো।

sreebhumi sporting club
শ্রীভূমির মণ্ডপ। ছবি রাজীব বসু।
শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব

মহালয়ার কয়েক দিন আগেই পুজো উদ্বোধন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এরা। এদের এ বারের থিম ‘পদ্মাবত’। মণ্ডপের সামনে রয়েছে ঘোড়া। আছে ফরিদাবাদের ঝাড়বাতি। প্রতিমার সাজেও রয়েছে চমক। বহুমূল্য হিরের গয়নায় সজ্জিতা শ্রীভূমির দুর্গাপ্রতিমা। ভিআইপি রোডে শ্রীভূমি বাসস্টপ।

সল্টলেক

ভিআইপি রোড ধরে ঠাকুর দেখে এসে এ বার ঢুকে পড়ুন সল্ট লেকে।

লাবণি আবাসন

৪৪তম বর্ষে  লাবণি আবাসনের থিম ‘ভিন্ন গ্রহে, প্রাণের সন্ধানে’। দর্শকদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মহাকাশের অনন্ত সম্ভারের মাঝে। থিম অনুসারে মণ্ডপের পরিকল্পনা ও আলোর ব্যবহার। প্রতিমা সাবেকি।

বিজে ব্লক

৩৫তম বর্ষের পুজোয় তুলে আনা হয়েছে চিনের ইউনান প্রদেশের জনজাতিদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা। ওই অঞ্চলের একটি দল উৎসবের চার দিন অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে পুজো প্রাঙ্গণে। প্রতিমায় থাকছে থিমের মিশেল।

একে ব্লক

৩১তম বর্ষের থিম ‘সল্টলেকে সীতাহরণ’। দেখানো হয়েছে শুভ ও অশুভের দ্বন্দ্ব এবং সেখান থেকে শুভ শক্তির জয়। মণ্ডপের প্রবেশপথে রয়েছে ৫৫ ফুট উঁচু রাবণের মডেল।

এই (পার্ট ওয়ান)

৩৫তম বর্ষে এরা বলছে দু’টি হাতের গল্প। এক হাত দিয়ে সৃষ্টি, অন্য হাত দিয়ে তৈরি হচ্ছে ধ্বংসের অস্ত্র। কয়েক হাজার হাতের মডেল দিয়ে সেজে উঠেছে মণ্ডপ। প্রতিমার অলংকরণেও সেই চিন্তার প্রতিফলন।

FD block, Saltlake
এফডি ব্লকের প্রতিমা। ছবি রাজীব বসু।
এফডি ব্লক

মানুষকে, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের আনন্দ দিতে পার্কের মধ্যেই তৈরি হয়েছে আরও একটি পার্ক। সেখানে রয়েছে প্রায় ২৫ রকমের ডাইনোসর। ৩৪তম বর্ষের পুজোয় থিমের নাম, ‘ডাইনোসর পার্ক-এফডি পারক’। প্রতিমা সাবেক।

বেলেঘাটা

সল্টলেক থেকে বেরিয়ে পড়ে ঢুকে পড়ুন বেলেঘাটায়।

বেলেঘাটা সরকার বাজার

৭০তম বছরে এদের পুজোর শিরোনাম ‘রং-বেরঙের বেণুর সাজে, দুর্গা এ বার মোদের মাঝে’। বিষয়বস্তুর সঙ্গে সাযুজ্য রেখে আলোকসজ্জা। ডেঙ্গি-সচেতনতা তৈরি করতে বার্তা দেওয়া হয়েছে মণ্ডপে। বেলেঘাটা সিআইটি মোড়ে এসে চলুন হেমচন্দ্র নস্কর রোডের এই মণ্ডপে।

বেলেঘাটা ৩৩ পল্লি

এ বার চলুন ৩৩ পল্লির ঠাকুর দেখতে। জ্যামিতির উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। বয়সে নবীন এই পুজোর এ বারের থিম, ‘ঈশান কোণে ঈশানী’। দেবী দুর্গার অবস্থান ঈশান কোণে। সেখান থেকে এই ভাবনা। সাবেক প্রতিমায় তামার গয়না। ফুলবাগানের মোড় পেরিয়ে ডান দিকে পুজোমণ্ডপ।

কাঁকুড়গাছি

বেলেঘাটার ঠাকুর দেখে চলে আসুন কাঁকুড়গাছিতে।

কাঁকুড়গাছি যুবকবৃন্দ

৮৮তম বছরে এখানে তুলে আনা হয়েছে ওড়িশার রঘুরাজপুরের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি। সেখানকার চিত্রকলাতেই সেজে উঠেছে মণ্ডপ। গ্রামের শিল্পীরা মণ্ডপে বসে ছবি আঁকছেন। প্রতিমায় রয়েছে মেহগনি কাঠের কাজ। সঙ্গে মানানসই গয়না। কাঁকুড়গাছি মোড়ের আগে বাঁ দিকের রাস্তায় মণ্ডপ।

স্বপ্নার বাগান

সাবেক ও থিমের সহাবস্থানের বার্তা রয়েছে স্বপ্নার বাগানে। মণ্ডপের দু’টি ভাগ। প্রথমটি থিমের – সাজানো হয়েছে বাতিল প্লাস্টিক বোতল, থার্মোকল, টিন দিয়ে। এর পরে দর্শকরা ঢুকবেন সাবেক মণ্ডপে। আয়নায় আছে দু’ ধরনের প্রতিমা। সাবেক না থিম, কোনটা পছন্দ – ভোটেরও ব্যবস্থা আছে। কাঁকুড়গাছি মোড় থেকে বাইপাসের দিকে, মানিকতলা মেন রোডে।

কাঁকুড়গাছি মিতালি

পুজো মানেই আনন্দ। সেই আনন্দে মাতোয়ারা করার ব্যবস্থা মিতালির পুজোয়। ছেলেবেলায় ফিরে যাচ্ছেন দর্শকরা। ১৩ ফুট উঁচু প্রতিমার সবার নজর কাড়ছে।  কাঁকুড়গাছি মোড় থেকে বাইপাসের দিকে, ঘোষবাগান বাজারের কাছে এই পুজো।

উলটোডাঙা

কাঁকুড়গাছি থেকে চলে আসুন উলটোডাঙায়। স্টেশন ছাড়িয়ে এগিয়ে চলুন অরবিন্দ সেতুর দিকে।

তেলেঙ্গাবাগান

কিছুটা এগিয়ে প্রথমেই ডান দিকে পড়বে তেলেঙ্গাবাগান। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের লক্ষ্য ছিল ধর্মের দীনতা মলিনতা ঘুচিয়ে একটি সুন্দর দেশ হিসাবে ভারতবর্ষকে গড়ে তোলা। কিন্তু কোথায় স্বপ্নের ভারতবর্ষ। চারি দিকে শুধু স্বপ্নভঙ্গের বেদনা। তবু উৎসব নিয়ে আসে আশার আলো। নতুন আশ্বাস। বাঙালির শ্রেষ্ঠোৎসব দুর্গাপুজো। সেই পুজোকে কেন্দ্র করে তাই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ওই স্বপ্নকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সেই ‘আলোর পথযাত্রী’দের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়েছে তেলেঙ্গাবাগান সর্বজনীনে।

ultodanga pallisree
পল্লিশ্রীর মণ্ডপ। নিজস্ব চিত্র।
উলটোডাঙা পল্লিশ্রী

অরবিন্দ সেতুর দিকে আর একটু এগিয়ে ডান দিকে পল্লিশ্রীর মণ্ডপ। ৭০তম বর্ষে উলটোডাঙা পল্লশ্রীর নিবেদন ‘অন্তহীন প্রাণ’। এই বিষয়কে মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলতেই শিল্পী আশ্রয় নিয়েছেন শ্রীকৃষ্ণ আর জগন্নাথের। মণ্ডপের ভেতরে বিভিন্ন ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই বিষয়। সেখানে মাতৃশক্তি অর্থাৎ নারীশক্তিকে প্রাণের ধারকশক্তি হিসাবে দেখানো হয়েছে।

karbagan sarbojanin
করবাগানের প্রতিমা। নিজস্ব চিত্র।
করবাগান সর্বজনীন

অরবিন্দ সেতুর দিকে আরও এগিয়ে করবাগানের পুজো, পল্লিশ্রীর কাছেই। ‘বাঁধনে বাঁধা’ ৭১তম বর্ষে করবাগান সর্বজনীন। থিমের মূল বিষয় শিক্ষার বাঁধন। জীবনে যা কিছুই করতে চাও তার সবই নির্ভর করে শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর। তার ওপর নির্ভর করে কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতিও। সেই শিক্ষার বাঁধনে আটকে থাকে সবই। থিমের সঙ্গে মানানসই আলো।

উলটোডাঙা যুববৃন্দ

করবাগানের কাছেই উলটোডাঙা যুববৃন্দের পূজামণ্ডপ। বাংলার তাঁতশিল্পকে থিম হিসাবে বেছে নিয়েছে সুবর্ণজয়ন্তী পেরিয়ে যাওয়া এই পুজো। মণ্ডপসজ্জায় থাকছে তাঁতের কাপড়ের কারুকাজ। প্রতিমার গয়নাতেও রয়েছে তাঁতের ব্যবহার। মায়ের আঁচলে রয়েছেন তাঁর সন্তানেরা।

গৌরীবেড়িয়া সর্বজনীন

অরবিন্দ সেতু পেরিয়ে আসুন। সেতুর গা ঘেঁসে ডান দিকের রাস্তায় পূজামণ্ডপ। এ বারের থিম ‘স্মৃতির রঙ্গমঞ্চ’। কেমন ছিল কলকাতার ‘থিয়েটার-পাড়া’, সেটাই ফিরে দেখবে ৮৫ বছরে পা দেওয়া এই পুজো। মণ্ডপ সেজেছে স্টেজের আদলে। নাটকে ব্যবহৃত আলো, আবহ – সব কিছুর সঙ্গে পরিচয় করানো হচ্ছে দর্শকদের। প্রতিমার অধিষ্ঠান ‘কমা’র মাধ্যমে।

লালাবাগান নবাঙ্কুর

ঢুকে পড়ুন রাজা দীনেন্দ্র স্ট্রিটে, শ্যামবাজারের দিকে নয়, মানিকতলার দিকে। দীনেন্দ্র স্ট্রিটে ঢুকে ডান দিকের রাস্তায় নবাঙ্কুরের মণ্ডপ। ৫৯তম বর্ষে এই পুজোর স্লোগান ‘উপকারী প্লাস্টিক থাকুক, বাদ যাক অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক’। প্লাস্টিক দূষণ রুখতে এ ভাবেই সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মানুষের কাছে। মণ্ডপসজ্জায় পিংলার পটচিত্র।

সম্মিলিত লালাবাগান

কাছেই লালাবাগান ময়দানে পুজোমণ্ডপ। বোধন থেকে বিসর্জন, পাঁচ দিনের এই দুর্গা আরাধনার অন্যতম অঙ্গ হল দর্পণ। ৭০তম বর্ষে তাই এই পুজোর থিম ‘দর্পণে অর্পণ’। বিভিন্ন আকারের আয়না ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে ছোটো শিসমহল। সেই শিসমহল পেরিয়ে দর্শকরা ঢুকবেন মণ্ডপে। সনাতন প্রতিমার আকর্ষণ রুপোর গয়না।

হালসিবাগান সর্বজনীন

রাজা দীনেন্দ্র স্ট্রিট ধরে আরও বেশ খানিকটা এগিয়ে চলুন। বাঁ দিকে নীরদবিহারী মল্লিক রোডে পূজামণ্ডপ। ৭৪ বছরে এদের নিবেদন ‘ফোক লোক’। দর্শকরা মুখোমুখি হচ্ছেন আফ্রিকার জনজাতি সংস্কৃতির। তার সঙ্গে জুড়ে আছে বাংলার লোকসংস্কৃতিও।

আজকের মতো পরিক্রমা এখানেই শেষ করুন।

0 Comments
Share
pora-matir-haat-to-be-arranged-in-bishnupur
ইন্দ্রাণী সেন

লাল মাটির রাস্তা, সোঁদা মাটির গন্ধ, ধামসা মাদলে ভেসে আসছে রাঙা মাটির সুর। শরতের আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ। মা উমা এলেন বলে। তারপরই শুরু হবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।

মা তো চলে এলো আপনি কি ঠিক মতো পেরেছেন তৈরি হতে? যদি এখনও কেনাকাটা বাকি থাকে, তা হলে চিন্তার কোন কারণ নেই। চলুন বিষ্ণুপুরের ‘পোড়া মাটির হাটে’। শুধু কী কেনাকাটা! রয়েছে খাওাদাওয়ার যাবতীয় আয়োজন। কানামাছি, কুমির ডাঙা, রুমাল ছোঁয়া ছুয়ি, কিতকিত আপনাকে ফিরিয়ে দেবে আপনার শৈশবে। এই ‘পোড়া মাটির হাট’-এ এলেই আপনার হাতের সামনে সবকিছু।

পর্যটন শিল্পের প্রসারে এ বার এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসন। আগামী মহালয়ার দিন শহরের জোড় মন্দির প্রাঙ্গনে শুরু হচ্ছে ‘পোড়া মাটির হাট’। যেখানে সরাসরি শিল্পীদের কাছ থেকেই সংগ্রহ করা যাবে তাদের তৈরী শিল্প সামগ্রী। বালুচরী, টেরাকোটা, ডোকরা থেকে শুরু, রেশম, তসর, তাঁত এমনকি লন্ঠন,শাঁখ, কাঁসা , পোড়ামাটির জিনিস সব কিছুই কিনতে পারবেন এখানে।

আরও পড়ুন তালের রসগোল্লার স্বাদ নিতে চলুন বাঁকুড়ার সিমলাপাল

শুধু এই হাটই নয়। মহকুমার পর্যটনের প্রসারে নিয়ে আসা হয়েছে বিশেষ একটি ওয়েবসাইটও। সম্প্রতি এই ওয়েবসাইটটি আত্মপ্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। বিষ্ণুপুর মহকুমাশাসক মানস মন্ডল বলেন, “বিষ্ণুপুরের পর্যটন শিল্পের বিকাশে মহকুমা প্রশাসন এই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।” বিষ্ণুপুর পর্যটনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে অনেক তথ্য পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ওয়েবসাইটটি হল bishnupurtourism.com।

0 Comments
Share
photography-exhibition-by-twf

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: বাঙালির মন সর্বদা উড়ু উড়ু। মন চায় বেরিয়ে পড়তে। কিন্ত সব সময় তা হয়ে ওঠে না। ছবিতেই যাতে বিশ্বভ্রমণে বেরিয়ে পড়তে পারে আমবাঙালি, সেই উদ্দেশ্যেই ভ্রমণবিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ভ্রমণলেখকদের সংগঠন ট্র্যাভেল রাইটার্স ফোরাম।

শনিবার বিকেলে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায় শুরু হল এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ফটোগ্রাফির সভাপতি সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং খ্যাতনামা নাট্যব্যক্তিত্ব সৌমিত্র বসু। 

উদ্বোধন করছেন সৌমিত্র বসু এবং সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভ্রমণ লেখকদের নিয়ে কলকাতা তথা গোটা বাংলার বৃহত্তম সংগঠন ট্র্যাভেল রাইটার্স ফোরাম। সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৫১। এই প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হচ্ছে মোট ৭৯টি সবই। সব সদস্যেরই অন্তত একটা করে ছবি ঠাঁই পেয়েছে এখানে। এ ছাড়াও রয়েছে একজন অতিথি সদস্যের ছবিও। 

রবি এবং সোমবার দুপুর দুটো থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলবে। সাধারণ মানুষ এই প্রদর্শনীতে আসুন এমনই প্রার্থনা সংগঠনের সভাপতি রতনলাল বিশ্বাস, সম্পাদক রথীন চক্রবর্তী এবং বাকি সদস্যরা। 

0 Comments
Share
take-the-taste-of-taler-rosogolla-in-bankura
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: জঙ্গলঘেরা বাঁকুড়ার পর্যটন সম্পদের কথা সবার জানা। বাঁকুড়া বলতেই প্রথমে মনে আসে বিষ্ণুপুর, জয়পুর, মুকুটমণিপুর,সুতান অথবা রাইপুরের সবুজ দ্বীপ। সেই সঙ্গে মা সারদা, মল্লরাজা, মদনমোহন, মদনগোপাল আবার অন্য দিকে পৃথিবী বিখ্যাত ভাস্কর, চিত্রশিল্পী রামকিঙ্কর বেজ, যামিনী রায় আবার মনোহর দাস, চণ্ডীদাস, বাসুলীদেবী। এই বাঁকুড়ারই নবতম সংযোজন রসগোল্লা। বাংলার সাধারণ রসগোল্লা নয়। এটা তালের রসগোল্লা। জেলার সিমলাপালে তৈরি তালের রসগোল্লা ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছে।

পাকা তাল দিয়ে তৈরি রসগোল্লাই গত তিন বছর ধরে বিক্রি হচ্ছে বাঁকুড়ার সিমলাপাল স্কুল মোড়ের হরিপদ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে। রাজ্যের আর কোথাও এই ধরনের অভিনব রসগোল্লা মিলবে না বলে দাবি করেছেন হরিপদ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক নীলয় পাত্র।

কী ভাবে তৈরি হয় এই অভিনব তালের রসগোল্লা? এর উত্তরে নীলয়বাবু বলেন, “রসগোল্লা তৈরির মূল উপাদান ছানার সঙ্গে পাকা তালের মাড়ি অর্থাৎ কাথ মিশিয়ে এই মিষ্টি তৈরি হয়।” তালের নিজস্ব স্বাদ আর মিষ্টি গন্ধের জন্যই এই রসগোল্লা গত কয়েক বছরে জনপ্রিয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। রথযাত্রা থেকে এই মিষ্টি তৈরি হয়। চলে দুর্গাপুজো পর্যন্ত। সিমলাপাল ছাড়িয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই রসগোল্লার স্বাদ নিতে ভিড় করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও তালের রসগোল্লাপ্রেমী অনুপ পাত্র বলেন, “নলেন গুড়, আমের, চকলেট, স্ট্রবেরি টু-ইন-ওয়ান রসগোল্লা স্বাদ নিয়েছি। একটু অভিনব কিছুর স্বাদ নেওয়ার জন্যই এই দোকানের কারিগরদের তালের রসগোল্লা তৈরির কথা বলি। তার পর থেকেই এই রসগোল্লা তৈরি করে এই দোকানের কারিগররা সাড়া ফেলে দিয়েছে।” তালের রসগোল্লার আর এক ক্রেতা রজত সিংহ মহাপাত্র বলেন, “অনেক দিন ধরে অভিনব তালের রসগোল্লার কথা শুনেছিলাম। আজ নিজেও খেলাম আর বাড়ির জন্য নিয়েও যাচ্ছি।”

তালের রসগোল্লার স্বাদ নিয়ে এ বার বাঁকুড়া ছাড়িয়ে বাংলার অন্য প্রান্তের মানুষও এখানে ভিড় করুক, এমনই চাইছে সিমলাপাল।

কী ভাবে যাবেন সিমলাপাল

কলকাতা থেকে বাসে বা ট্রেনে বাঁকুড়া। বাঁকুড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বাঁকুড়া থেকে ঝাড়গ্রামগামী যে কোনো বাসে সিমলাপাল স্কুল মোড়ে নামতে হবে। বাঁকুড়া শহর থেকে সিমলাপালের দূরত্ব ৩৮ কিমি। বাঁকুড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩০ মিনিট অন্তর সিমলাপাল যাওয়ার বাস পাবেন।

0 Comments
Share
12