Browsing Category:গন্তব্য

photogallery-of-munsiyari-snowfall

ভ্রমণ অনলাইনডেস্ক: বাঙালিদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র মুন্সিয়ারি। কুমায়ুনের একটা রত্ন এই মুন্সিয়ারি শহর। স্থানীয়রা আদর করে শহরটাকে হিমনগরী বলে ডাকে। এই মুন্সিয়ারিই ঢেকেছে বরফের চাদরে। বুধবার রাত থেকে প্রবল তুষারপাত শুরু হয় মুন্সিয়ারি-তথা সমগ্র উত্তরাখণ্ড জুড়ে। 

তুষারশুভ্র এই মুন্সিয়ারির কিছু ছবি দেখে নিন। মুন্সিয়ারি নিবাসী সুরেশ কুমারের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এই ছবিগুলি। 

এবার দেখে নিন এই তুষারপাতের কিছু ভিডিও। মুন্সিয়ারি নামক একটি ফেসবুক পেজে এই ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। 

0 Comments
Share
a-visit-to-maccluskieganj
writwick das
ঋত্বিক দাস

ইংরেজ সরকারের হাতে ভারত তখন বন্দি৷ শুধু শাসন করাই নয়, এই দেশের সম্পত্তি বিদেশে রফতানি করে কী ভাবে ফুলেফেঁপে উঠতে হয় তা ব্রিটিশকর্তারা তখন ভালোই জেনে গিয়েছেন৷ ব্রিটিশ সরকার খোঁজ পেল ছোটোনাগপুর অঞ্চলের খনিজ সম্পদ আর দামোদরের উপত্যকায় ছড়িয়ে থাকা কয়লা-সহ বিভিন্ন খনিজ দ্রব্যের ভাণ্ডার৷ সেই সম্পদ বিদেশের মাটিতে পৌঁছে দিতে পারলেই পকেট আরও ফুলেফেঁপে উঠবে৷

আরও পড়ুন ‘লাল কাঁকড়ার দেশ’- তাজপুর

কিন্তু বাধ সাধল ছোটোনাগপুরের গভীর জঙ্গল৷ এত সম্পদ এই জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পরিবহণ করে কলকাতা বন্দরে আনা কী ভাবে সম্ভব? পরিকল্পনা হল, জঙ্গল কেটে রেলপথ তৈরি করার৷ কলকাতা-দিল্লি রেলপথের গোমো স্টেশন৷ সেখান থেকে ডালটনগঞ্জ দিয়ে লাইন নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হল৷ রেললাইনের স্লিপার করতে বহু গাছ কাটা পড়ল৷ স্লিপার তৈরির বরাত দেওয়া হল কলকাতার কিছু ঠিকাদারকে৷

evening coming in maccluskieganj
শেষ বিকেলে ম্যাকলুস্কিগঞ্জ।

এক বার এমনই রেলের কাজের দায়িত্ব নিয়ে এলেন আর্নেস্ট টিমোথি ম্যাকলুস্কি নামে এক কলকাতাবাসী এক ব্রিটিশ ব্যবসায়ী৷ ম্যাকলুস্কি সাহেবের জায়গাটা বেশ ভালো লেগে গেল৷ তখন ওই অঞ্চলে লাপড়া, কঙ্কা ও হেসাল, এই তিনটি জঙ্গলময় বসতি ছিল৷ পরিবেশটা পুরো বিলেতের মতো৷ সারা বছরই ঠান্ডা আবহাওয়া৷ পাহাড়ে ঘেরা, অরণ্যে মোড়া এক মনোরম জায়গা, গোটা পরিবেশটাই যেন বিলেতের একটা ছোটো সংস্করণ৷

ম্যাকলুস্কি সাহেব জায়গাটির প্রেমে পড়ে গেলেন এবং এখানেই স্থায়ী ভাবে বসতি গড়লেন৷ পাশাপাশি বন্ধু আত্মীয়পরিজনকে এখানে এসে থাকার আহ্বান জানালেন৷ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেশ কিছু পরিবার এখানে এসে বসতি স্থাপন করলেন৷

আরও পড়ুন কুমারী সৈকত চাঁদপুরে একটা দিন

ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ইংল্যান্ডকে কোণঠাসা করে ফেলল। ইংল্যান্ডের অর্থনীতি ক্রমশ ভেঙে পড়তে লাগল। তার প্রভাব এসে পড়ল এ দেশে অ্যাংলো সাহেবদের ওপর৷ ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো এ দেশে একের পর এক অ্যাংলো সাহেবকে কর্মচ্যুত করতে লাগল তুচ্ছ অজুহাতে৷ এই সময় বহু অ্যাংলো কাজ হারালেন৷ তাঁরা ঠিক করলেন এই ঘটনা তাঁরা ব্রিটেনে গিয়ে মহারানিকে সরাসরি জানাবেন৷ এতে ঘোরতর বিপদ বুঝে ব্রিটিশ সরকার অ্যাংলোদের ব্রিটেনে যাওয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করল৷

another view from watchtower
ওয়াচটাওয়ার থেকে আরও দৃশ্য।

এমনিতেই অ্যাংলোদের কোনো স্থায়ী জায়গা ছিল না ভারতে, তার ওপর কর্মচ্যুত হওয়ার পর তাদের প্রতিবাদ ভাবিত করে তুলল ব্রিটিশ সরকারকে৷ সরকার প্রমাদ গনল। অ্যাংলো ইন্ডিয়ানদের সঙ্গে সমঝোতা করতে রাজি হল৷ ডেকে পাঠানো হল  ম্যাকলুস্কি সাহেবকে৷ তিনি এসে এই জায়গার (আজকের ম্যাকলুস্কিগঞ্জ) কথা সবাইকে বলেন৷ তিনি অ্যাংলোদের বোঝালেন, “চলো, কাছেই আমাদের বিলেতের মতো একটি গ্রাম আছে। সেখানে আমরা সবাই মিলে বসতি স্থাপন করে তাকে ইংল্যান্ডের রূপের পরিপূর্ণতা দিই।”

১৯৩৩-এ তৈরি হল কলোনাইজেশন সোসাইটি অব ইন্ডিয়া। ঠিক হল, এই সমবায়ে অ্যাংলো ইন্ডিয়ানরা শেয়ার কিনলে তাদের এক টুকরো করে জমি দেওয়া হবে। ভারতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় দু’ লক্ষ অ্যাংলো ইন্ডিয়ানকে এই অঞ্চলে বসতি গড়ার জন্য আহ্বান জানালেন ম্যাকলুস্কি।

আরও পড়ুন বিশ্বনাথের বারাণসী, বারাণসীর বিসমিল্লাহ

ম্যাকলুস্কি সাহেবের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রায় ৪০০ অ্যাংলো পরিবার এই স্থানে পাকাপাকি ভাবে বসতি স্থাপন করে৷ ১৯৩৪ সাল নাগাদ রাতু মহারাজের কাছ থেকে লাপড়া, কঙ্কা ও হেসাল, এই তিনটি অঞ্চল দান হিসেবে চেয়ে নিলেন ম্যাকলুস্কি সাহেব৷ রাতু মহারাজ সেই আবদারে রাজি হয়ে অঞ্চল তিনটি ম্যাকলুস্কি সাহেবকে দান করলেন৷ ম্যাকলুস্কি সাহেবের নামে নাম হল ম্যাকলুস্কিগঞ্জ৷ অনেক অ্যাংলো স্কুল এখানে গড়ে উঠল৷ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অ্যাংলো ছেলেমেয়েরা এই সব স্কুলে পড়তে এল৷ তাদের থাকার জন্য অনেক হোস্টেল তৈরি হল৷ ব্রিটিশরা ম্যাকলুস্কিগঞ্জকে ঝাড়খণ্ডের স্কটল্যান্ড বলেও ডাকত৷ আজও অনেকে এই স্থানটিকে ‘স্কটল্যান্ড অব ঝাড়খণ্ড’ বলে ডেকে থাকেন৷

dugadagi
ডুগাডগি।

তবে অ্যাংলোদের বসতি স্থাপন সুখের হয়নি৷ তাদের সঙ্গে স্থানীয় আদিবাসীদের সম্পর্ক ক্রমশ খারাপের দিকে এগোতে থাকে৷ আদিবাসীরা নিজেদের পুরোনো জায়গায় কেমন যেন পর হয়ে গেল৷ অ্যাংলোদের কাছে তারা চাকরের মতো হয়ে গেল৷ গাছের ফলে হাত দিলে জুটত অপমান, এমনকি কখনও মারও৷ একই জায়গায় থেকেও নিজেদের মধ্যে মেলামেশা করতে পারত না আদিবাসীরা৷ সব সময় সাহেবরা বন্দুক নিয়ে ঘুরত আর তাদের ওপর নজর রাখত৷ এমন অবস্থায় আদিবাসীরা ক্রমশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে৷ যার ফলস্বরূপ স্বাধীনতা লাভের পর বহু অ্যাংলো পরিবারকে ম্যাকলুস্কিগঞ্জ ছাড়তে হল।

এর পরও বেশ কিছু অ্যাংলো পরিবার এখানে থেকে গেল নিজেদের জমি আঁকড়ে। পরবর্তীকালে তাদের উত্তরসূরিরাও একে একে পাড়ি জমাল বিদেশে রোজগারের সূত্রে৷ ক্রমশ সাহেবদের বাড়িগুলো পরিত্যক্ত হতে শুরু করল৷ সেগুলো পরে স্থানীয় ক্ষমতাশালী মানুষজন ও ব্যবসায়ীরা নেন৷ কিছু অ্যাংলো পরিবার অবশ্য এই অঞ্চলেই নিজেদের বাড়িতে থেকে গেল৷

আরও পড়ুন তারাপীঠকে ‘বুড়ি’ করে

সত্যি কথা বলতে কি বাঙালির কাছে ম্যাকলুস্কিগঞ্জকে পরিচিত করেছেন সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ৷ যথারীতি আমারও এই জায়গাটার প্রতি আকর্ষণ ছিল। আমার সেই আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিল আমার এক ছোটো ভাই সৌম্যদীপ মণ্ডল। শেষ পর্যন্ত নভেম্বর মাসের ২৩ তারিখে উঠে পড়লাম ট্রেনে৷

প্রথম বার গিয়েই প্রেমে পড়ে গেলাম ম্যাকলুস্কিগঞ্জের৷ তবে এখানে ‘এলাম দেখলাম আর জয় করলাম’, এমন মনোভাব নিয়ে এলে নিরাশই হতে হবে৷ এখানে দু’টো দিন হাতে নিয়ে আসতে হবে৷ আর প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার ইচ্ছা থাকলেই এখানে আসা সার্থক৷ এখানে সে ভাবে কোনো ট্যুরিস্ট স্পট নেই৷ শুধু ভোরের সুর্য ওঠা থেকে শুরু করে বিকেলের সুর্যাস্ত পর্যন্ত রেললাইনের পাশ দিয়ে কিংবা মেঠো রাস্তা দিয়ে প্রকৃতিকে আপন করে ঘুরে বেড়ানো৷

আসলে সত্যিকারের প্রকৃতিপ্রেমিকদের কাছে আদর্শ জায়গা এই ম্যাকলুস্কিগঞ্জ। লাল কাঁকুড়ে পথঘাট, আশেপাশে সাহেবদের কটেজ৷ দূরে অরণ্য ও পাহাড়ের হাতছানি৷ পূর্ণিমার রাতে মায়াবী রূপ ধরে প্রকৃতি৷ বসন্তে পলাশ, শিমুলের সঙ্গে জাকারান্ডায় ছেয়ে যায় চারি দিক৷ সেই রূপ আরও মোহময়ী৷ এক অপার্থিব নিস্তব্ধতায় হিমেল হাওয়ার স্পর্শ৷ দিনের বেলায় শুধুই পাখির কুজন।

view from watchtower
ওয়াচটাওয়ার থেকে।

ম্যাকলুস্কিগঞ্জের আশেপাশে কিছু জায়গা আছে যেগুলোকে যুক্ত করে একটা সুন্দর ট্রিপ হতে পারে৷ এই প্রসঙ্গে প্রথমেই আসি ওয়াচটাওয়ারের কথায়৷ স্টেশন থেকে প্রায় আড়াই কিমি দূরে ছোটো একটি টিলার টঙে এই ওয়াচ টাওয়ার। সেখান থেকে গোটা অঞ্চলটিকে ছবির মতো দেখায়৷ ১৮০ ডিগ্রি বৃত্তাকারে পাহাড়শ্রেণি ম্যাকলুস্কিগঞ্জকে ঘিরে রেখেছে৷

ডুলি
ডুলি উপাসনাস্থল।

চলুন, এ বার যাওয়া যাক ডুলি উপসনাস্থলে৷ স্টেশন থেকে প্রায় ন’ কিমি। হিন্দু, ইসলাম, শিখ আর খ্রিস্টান, এই চার ধর্মের এক সঙ্গে পাশাপাশি উপাসনার বেদি৷ জায়গাটি সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা বহন করে৷

duli forest
ডুলি ফরেস্ট।

ডুলির পাশেই একটি ছোটো দিঘি, নাম তার সীতাকুণ্ড৷ স্থানীয়রা এই কুণ্ডকে খুব মান্যি করে৷ রাস্তার দু’ধারে ডুলি ফরেস্ট। মাঝেমধ্যে হাতি অভিসারে আসে এই অরণ্যে৷

এখান থেকে সামান্য দুরে জাগৃতিবিহার৷ আদিবাসীদের হস্তশিল্পের সমবায়৷

Chatti river
চাট্টি নদী।

জাগৃতি বিহার থেকে কিছুটা দূরে চাট্টিনদীর পাড়৷ জায়গাটির নাম ডুগাডগি বা ডিগাডগি৷ চাট্টি ম্যাকলুস্কিগঞ্জের নিজস্ব নদী৷ দামোদর থেকে এর উৎপত্তি৷ টিলাময় এই জায়গা৷ জায়গাটায় দু’ দণ্ড বসে চার পাশের দৃশ্য বেশ সুখকর লাগে৷

রেলগেটের বাঁহাতি পথে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে দামোদর নদীর ব্রিজ৷ ব্রিজের ওপর থেকে দামোদর নদী আর চাট্টি নদীর মিলনস্থল দেখা যায়৷ এখান থেকে সূর্যাস্ত বা সুর্যোদয়ের দৃশ্যও মনোরম৷ এখান থেকে প্রায় ৫০ কিমি দূরে একটি পাহাড়ের ঝোরা থেকে দামোদরের উৎপত্তি৷

আর একটি জায়গা হল ম্যাকলুস্কি সাহেবের কবরখানা৷

এ ছাড়া চলতে ফিরতে অসংখ্য হোস্টেল রয়েছে জায়গাটিকে ঘিরে৷ এক সঙ্গে এত হোস্টেল খুব কম জায়গায়ই দেখা যায়।

দুপুরের খাওয়াদাওয়া করে বেরিয়ে পড়ুন। ৮০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে রফা করে গাড়ি বা অটো নিয়ে ঘুরে আসুন। সন্ধে নামার আগেই হোটেলে ফিরে আসা যায়৷ তবে সব সময় সন্ধের অন্ধকার নামার আগে গেস্টহাউসে ফিরে আসা ভালো৷

এ ছাড়াও ম্যাকলুস্কিগঞ্জকে কেন্দ্র করে ঘুরে আসতে পারেন ৫০ কিমি দুরের লাতেহারের জঙ্গল থেকে৷

পাহাড়, জঙ্গল, স্থাপত্য, নদী সব মিলিয়ে ম্যাকলুস্কিগঞ্জ এক স্বয়ংসম্পূর্ণ জায়গা৷ সপ্তাহান্তে দু’-তিন দিন হাতে নিয়ে এখানে ঘুরে আসতে পারলে সেটা জীবনের একটা স্মৃতি হয়েই থাকবে৷

যাওয়া 

হাওড়া থেকে রাঁচিগামী ট্রেনে রাঁচি পৌঁছে সেখান থেকে গাড়িতে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দুরে ম্যাকলুস্কিগঞ্জ৷ এ ছাড়া হাওড়া থেকে সরাসরি শক্তিপুঞ্জ এক্সপ্রেস ম্যাকলুস্কিগঞ্জ পৌঁছে দেয় রাত পৌনে ১১টায়৷ হোটেল/গেস্টহাউসে বলে রাখলে তারা স্টেশনে গাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করে৷ তবে হাওড়া থেকে রাতের ট্রেন ধরে সকালে রাঁচি পৌঁছে সেখান থেকে ম্যাকলুস্কিগঞ্জ যাওয়াই ভালো।

maccluskieganj station
ম্যাকলুস্কিগঞ্জ স্টেশন।

থাকা 

ম্যাকলুস্কিগঞ্জ গিয়ে দিন দুয়েক থাকতেই হবে৷ থাকার জন্য সব চেয়ে উপযুক্ত হল গর্ডন গেস্টহাউস৷ ফোন নম্বর: ০৯৮৩৫৭৭০৬৭৯/৯৪৭০৯৩০২৩০৷ এ ছাড়া আছে মাউন্টেন হলিডে রিসর্ট৷ ফোন নম্বর: ২৭৬৩৫৭/৭৭৩৯০৮৯০৫২

Gordon guest house
গর্ডন গেস্ট হাউস।

খাওয়া

যে গেস্টহাউসে থাকবেন সেই গেস্টহাউসে বলে রাখলে তারা দুপুর বা রাতের খাবারের ব্যবস্থা করে দেয়৷ এ ছাড়া বাইরে অনেক খাবারের হোটেল আছে৷ তাদের বলে রাখলে আপনার পছন্দসই খাবারের ব্যবস্থা করে, এমনকি গেস্টহাউসে পৌঁছেও দেয়৷ স্টেশনের সামনে সুরেশের শিঙাড়ার স্বাদ নিন৷ আর স্টেশনের বাইরেই এক জন চাউমিন বানান, স্বাদ খুব ভালো৷ এ ছাড়া ম্যাকলুস্কিগঞ্জের তেলেভাজা, কচুরি, জিলিপি ও চাল দিয়ে তৈরি ধোস্কার স্বাদ নিতে ভুলবেন না৷

ঘোরাফেরা

auto available in station
স্টেশনেই মিলবে অটো।

স্টেশন থেকেই অটো পেয়ে যাবেন৷ গেস্টহাউস থেকেও অটো বা গাড়ির ব্যাবস্থা করা হয়৷ অটোর জন্য যোগাযোগ করতে পারেন সুখেন্দ্র মুন্ডার সঙ্গে, ফোন নম্বর: ৮৫২১৪৫৩৫৪০

ছবি লেখক
0 Comments
Share
a-visit-to-the-land-of-red-crabs-tajpur
avijit chatterjee
অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়

‘পায়ের তলায় সরষে’ – আমি বাধ্য হয়েই ভ্রমণকারী, ভ্রমণ আমার জীবনযাপনেরই অঙ্গ। কিছু দিন এক জায়গায় থিতু হয়ে থাকলেই মন উচাটন হয়, মাথার মধ্যে একটা ক্যারা নড়াচড়া করে।

প্রতি দিন একই মানুষের সঙ্গ, খুব ঘনিষ্ট হলেও, আর উত্তাপ দেয় না! একই রকম মুখ দেখতে দেখতে চোখ খরখরে হয়ে যায়, তখন ইচ্ছে করে কিছু দিনের জন্য অন্য নদীতে ডুব দিয়ে আসি, অন্য হাওয়ায় আচমন করি। মনে হয়, অরণ্যের দিনরাত্রির চরিত্রগুলো বোধহয় আমিই! আচ্ছা ভাবুন তো, নিরিবিলি জঙ্গলে বসে থাকা বা গড়ানো কিংবা পাহাড়, সমুদ্র, নদীতে মিশে যাওয়া – এর আকর্ষণ আপনি অস্বীকার করতে পারেন।

আরও পড়ুন কুমারী সৈকত চাঁদপুরে একটা দিন

পরিচিত পরিবেশ ছাড়িয়ে, দূরে কোথাও নির্জন জায়গায় থাকলে, নিজের সঙ্গে দেখা হয়। মাঝে মাঝে নিজের সাহচর্য্ও তো দরকার! জঙ্গলে, পাহাড়ে, উপরে পরিষ্কার তারাভরা আকাশ, মাঝে মাঝে শোনা যাচ্ছে বাতাসে পাতার শব্দ… আর কোনো মানুষ নেই… নিজের সঙ্গে কথা বলেছেন কখনো! দেখবেন, নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করবেন! অনুভব করবেন, রূপসী বসুন্ধরা, মানুষের বসবাসের পক্ষে চমৎকার এক জায়গা! এ রকম নিস্তব্ধতার মধ্যেই তো টের পাওয়া যায় – মানুষের কণ্ঠস্বরঃ… একটা দু’টো পাখির ডাক, কিংবা বাতাসে, গাছের পাতার শব্দ, কত মধুর।

the lone boat at tajpur
আমিও একাকী।

প্রতি দিন আমরা অনেক স্বপ্ন দেখি, অধিকাংশ স্বপ্নই আর মনে থাকে না। ধূপের গন্ধের মতো মিলিয়ে যায়, কোনো কোনোটি সকালে জেগে ওঠার পরেও কিছুক্ষণ মনে থাকে, আর কিছু স্বপ্ন বেশ স্থায়ী দাগ রেখে যায় স্মৃতিতে। তাজপুর যেন অনেকটা, সে রকমই। তাজপুর আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে আপনার স্বপ্নে – সমুদ্রের ঢেউয়ের দোলা আর ফেনার আস্তরণ সঙ্গে সবুজ ঝাউগাছের গা- ঘেঁষাঘেঁষি বাস, যেন পথিকের ‘দিগন্ত-পথ’, কোথায় শেষ হবে, কেউ জানে না। জানতে চায়-ও না। ভ্রমর যেমন ফুলের সৌন্দর্যের তোয়াক্কা করে না, শুধু মধুর সন্ধানে ফুলের গভীরে ঢুকে যায়, তেমনই আমি এই প্রকৃতির সৌন্দর্যের তোয়াক্কা না করে, প্রকৃতির সৌন্দর্যের অনুভূতির মধ্যে ঢুকে পড়লাম। প্রকৃতি এখানে উদার আর উন্মত্ত। নরম সকাল, পড়ন্ত বিকেল, সাঁঝবেলা কি রাতের বেলায়… সব কিছুই তো আপনার!

এখানে আছে শুধু অন্তহীন ঢেউ ভাঙার শব্দ আর ঢেউ গোনার অবসর, নীলচে সুমুদ্রে কখনো আলো কখনো ছায়া, সফেদ ঢেউয়ের আছড়ে পড়া, সবুজ ঝাউগাছে, আলতো ছোঁয়ায় সেই ঢেউ পা-দুখানি ভিজিয়ে দিয়ে যাবে, বিন্দু বিন্দু জলকণা, স্নেহধারার মতো ঝরে পড়বে আপনার চোখে-মুখে।

sunrise at tajpur
নতুন সূর্য।

ঘুম থেকে উঠে এসে দাঁড়ালাম সমুদ্রের ধারে। শনশন হাওয়ায় ঝাউগাছগুলো পাগলের মতো দুলছে, চোখের সামনে সূর্য পৃথিবীকে চুমু খাচ্ছে, চমৎকার একটি আলো ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে, সেই আলোয় মাখামাখি হয়ে, আকাশ খিলখিল করে হেসে উঠছে। হঠাৎ করে আমার মাথায় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের চরিত্রহীন উপনাস্যের ‘কিরণময়ী ও দিবাকরের’ কথা মনে পড়ে গেল… কিরণময়ী দিবাকরকে চুম্বন করেছিলেন, তার পর খিলখিল করে হেসে উঠেছিলেন। মনে হল আমার চরিত্রহীন আর হয়ে ওঠা হল না। হালকা লালচে সোনালি রং-মাখা আকাশ, যেন পৃথিবীর সেরা সুন্দরী! খিলখিল করে হেসে উঠছে।

নতুন এক ফুসফুস পেলাম, তাজপুরে এসে, মনটা ভরে গেল। বয়সটা বেড়ে গিয়েছে, তা না হলে সারা দিন, নতুন প্রেম করলে যেমন হয়… শুধু কথা বলতাম আর ফটো তুলতাম।

শহর থেকে অল্প দূরে কোলাহলমুক্ত এক নির্জন জায়গা, ‘শব্দের অঙ্গীকার’ না-রাখা এক সমুদ্রতট – এই তাজপুর।

কচি আলো গায়ে মেখে জেগে ওঠা – পৃথিবীটাকে কী মায়াময় মনে হচ্ছে। ঘুম ভাঙা পাখিরা একটু হকচকিয়ে উঠেই, পৃথিবীটাকে দেখতে পেয়ে আনন্দে চিৎকার শুরু করেছে, কোমল ও বিনীত ভাবে সূর্য উঠছে!

casurina jungle, tajpur
ঝাউবনে পাতায় পাতায়।

তাজপুরের ঝাউবনে হাঁটতে হাঁটতে মনে হল এ যেন অভাগীর বুকে সবুজ ভালোবাসার গল্প, এক প্রান্তিক মানুষের আপনজন হয়ে ওঠার কথা, একই আকাশের নীচে, প্রান্তিক মানুষেরা অনেক বড়ো মনের মালিক বলে মনে হয়। প্রান্ত্যজনের বাঁচার হাতিয়ার…ঝাউগাছের ভিতর হাঁটা, আর সমুদ্রের ওপর আদিগন্ত নীল শামিয়ানা। এ যেন ‘অসময়ের পায়ে পায়ে হাঁটা’, শহুরে খোলস ছেড়ে দিয়ে মানবিক মন নিয়ে মিশে যান মানুষের সঙ্গে, দয়িত্বশীল ভবঘুরে ভাব নিয়ে – অনুভবটা অনেকটা এ রকম… ‘একেলা এসেছি এই ভবে, একেলাই চলে যেতে হবে…’।

সমুদ্রের ধারে এলে চোখে পড়ে  আকাশলীনা – কবি জীবনানন্দ দাস বলেছিলেন, ‘সমুদ্র আর আকাশ যেখানে মিশেছে, সেই হল ‘আকাশলীনা’, ইংরেজিতে যাকে বলে স্কাইলাইন’।

কবি সুবোধ সরকারের একটি লেখা পড়েছিলাম,”এখন কলকাতায় আকাশ কিনে নিচ্ছে, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো, পঞ্চাশ-ষাট তলা হাইরাইস বানিয়ে, ভেঙে চুরচুর করে দিচ্ছে আকাশরেখা, আসলে মানুষ ইন্ডাস্ট্রি চায়, চাকরি চায়, দু’বেলা দু’মুঠো পেটে দিতে চায়, আকাশ দিয়ে কি পেট ভরে! তাতে যদি আকাশ হারিয়ে যায়, কোনো ক্ষতি নেই। আমরা যেমন বছরে এক বার দু’ বার পিকনিক করতে জঙ্গলে যাই, কিন্তু জঙ্গল সঙ্গে করে নিয়ে আসি না, তেমনি আমরা আকাশ দেখতে যাব” – তাই পরের প্রজন্মকে আকাশলীনা দেখাতে তাজপুরের সমুদ্রের ধারে ছুটে ছুটে আসতে হবে।

beauty of tajpur beach
সুদূরের ডাক।

খাওয়ার কতগুলি অস্থায়ী আস্তানা সমুদ্রের ধারেই – চলুন না, দিনযাপনের একঘেয়েমি কাটাতে, এক কাপ কফি নিয়ে – না, মত বিনিময় নয়, হৃদয় বিনিময় করি, সেই হৃদয় যা আমরা খইয়ে ফেলতে ফেলতে এখনও দু’ হাতে আঁকড়ে ধরে রেখেছি। জীবন মানে তো হিরের খনি! মনে পড়ে গেল কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দু’টি লাইন, “অবান্তর স্মৃতির ভেতরে আছে, তোমার মুখ..অশ্রু ঝলোমলো..”।

‘২২শে শ্রাবণ’ – প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত একটি বাংলা সিনেমা দেখেছিলাম। ওঁর মুখে একটি সংলাপ ছিল, “জীবনে ভাত ডাল আর বিরিয়ানির ডিফারেন্সটা বোঝা দরকার, প্রথমটা নেসেসিটি,আর পরেরটা লাক্সারি”। ছোটো ছোটো এই বেড়ানোর মুহূর্তগুলোই, সেই নেসেসিটি, তাজপুরের সমুদ্রতট আর লাল কাঁকড়াদের লুকোচুরি, কিংবা মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের অনলস জীবনসংগ্রাম, আপনাকে সেই কথাই মনে করিয়ে দেবে, এটা নেসেসিটি। যদি কেউ অন্যের জিনিস আঁকড়ে থাকে, তা হলে সে একা হয়ে যাবে, কিন্তু যেগুলো নিজের, নিজের ভালোবাসা, নিজের কামনা, নিজের সৃষ্টি আঁকড়ে রাখলে, কোনোদিন একা হতে হবে না।

আরও পড়ুন বিশ্বনাথের বারাণসী, বারাণসীর বিসমিল্লাহ

আকাশ কালো, সাপের ফনার মতো মেঘগুলো সুমুদ্র থেকে উঠে আসছে। সুমিতা চেঁচিয়ে উঠল খানিকটা ভয়েই, সুনামি আসছে! সুনামি আসছে! আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম প্রকৃতির এই উন্মত্ত রূপ – সুমুদ্র ফুঁসছে, সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানি, আর বাজের চমক। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যাওয়া এই রূপ – এ কি মুহূর্তের উপলব্ধি না অনুভূতি? চিমটি কাটলাম। সম্বিত ফিরল ভাস্করের ডাকে – “অভিজিৎ দৌড়াও, বৃষ্টি নেমে গেছে যে”।

cloud on tajpur
ছায়া ঘনাইছে।

জানেন, ‘আপেক্ষিকতার তত্ত্ব’ খুব সহজ করে বোঝাতে আইনস্টাইন নাকি কাউকে বলেছিলেন, “মনে করো, কোনো লোকের একটি পা ফায়ার প্লেসের আগুনে ঠুসে দেওয়া হয়েছে, তা হলে সেই লোকটির কাছে পাঁচ মিনিটই মনে হবে এক ঘণ্টা। আবার কেউ যদি প্রেমিকার পাশে ঘনিষ্ট হয়ে বসে থাকে তা হলে তার এক ঘণ্টাকেই মনে হবে পাঁচ মিনিট” – প্রকৃতির এই রূপ দেখতে দেখতে আমার অনুভুতিটা অনেকটাই প্রেমিকার পাশে বসে থাকার মতো।

মনে হচ্ছিল, এত তাড়াতাড়ি, এত অল্প সময়ে, আমি স্নান করব কী করে, প্রকৃতির এই মুগ্ধতার সাথে।

আচ্ছা, কি মুশকিল! পাঁচ মিনিটে কি মহাভারত শেষ করা যায়?

শহরের কংক্রিটের তৈরি আস্তানাগুলো থেকে বেরিয়ে এসে রোজকার শহুরে মধ্যবিত্ত জীবন থেকে চুরি করে নেওয়া একটা ছোটো ছুটি, মনে থাকবে চিরকাল।

কোথায় থাকবেন 

তাজপুরে থাকার জন্য বহু হোটেল আছে, ঘরে বসে সুমুদ্র দেখা কোনো হোটেল থেকেই সম্ভব নয়, হোটেল ও সুমুদ্রের মধ্যে আপনার বাধা ঝাউগাছের সারি। এদের সন্ধান পেয়ে যাবেন makemytrip, holidayiq, tripadvisor, yatra.com, travelguru প্রভৃতি ওয়েবসাইট থেকে। আমরা ছিলাম মল্লিকা রিসর্টে (৯০০৭৪০১৮৬৮, ০৯৪৩৩০৭৫৪৬৪)।

কী ভাবে যাবেন

কলকাতা থেকে তাজপুর ১৭৩ কিমি, দিঘা যাওয়ার পথে বালিসাই, সেখান থেকে বাঁ দিকের রাস্তা ধরে ৫ কিমি গেলেই তাজপুর। চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা সময় লাগে। কলকাতা-দিঘা বাসের কন্ডাক্টরকে বলে রাখলে বালিসাইয়ে নামিয়ে দেবেন। সেখান থেকে মিলবে টোটো।

কাছাকাছি রেলস্টেশন রামনগর। হোটেলে আগে থেকে বলে রাখলে ওঁরা স্টেশন বা বালিসাই থেকে পিক আপের ব্যবস্থা রাখেন। অন্যথায় স্টেশন থেকে টোটো বা ট্রেকারে করেও চলে আসতে পারেন তাজপুর।

ছবি : লেখক

 

0 Comments
Share
chandpur-beach-in-a-short-weekend-tour
শ্রয়ণ সেন

সে দিন চাঁদের আলো…

কী জানতে চেয়েছিল? সম্ভবত তার আলোর ছটায় সমুদ্রকে কেমন লাগছে সেটাই জানতে চেয়েছিল। বলতে দ্বিধা নেই, সমুদ্রকে এ রকম মায়াবী রূপে আগে কখনও দেখিনি। যে জায়গার নামেই রয়েছে চাঁদ, সেখানে চাঁদ যে এ রকম মায়াবী রাত তৈরি করবে সেটা আন্দাজই করা যায়।

জায়গাটার নাম চাঁদপুর। বছর তিনেক হল পশ্চিমবঙ্গের ভ্রমণ-মানচিত্রে স্থান পেয়েছে নতুন উপকূলীয় এই গন্তব্যটি। দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণির তুলনায় এখনও সে ভাবে এর পরিচিতি বাড়েনি। এখানে থাকার জায়গাও মাত্র একটি, ‘হোটেল মুন’।

পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের সেই আপাত কুমারী সৈকতকে দেখতে সকালেই একটা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছি। হোটেলের ম্যানেজার আগে থেকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে সরাসরি গাড়িতে এলে তাজপুরের রাস্তা ধরতে। তাজপুর পেরিয়ে গেলে সমুদ্রের ধার দিয়ে পিচ রাস্তা ধরে কিলোমিটার তিনেক গেলেই পড়বে চাঁদপুর।

“হাত-পা ধুয়ে আগে আমাদের ছাদটা দেখে আসুন।”

হোটেলে ঢুকতেই এ কথাটি বললেন ম্যানেজার সাহেব। বলা ভালো আগে কখনও কোনো হোটেলে এ রকম শুনিনি, যে ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই পর্যটককে কেউ ছাদে পাঠায়। অবশ্য ছাদে না উঠলে বোঝা যেত না এই চাঁদপুরের আসল সৌন্দর্য। হোটেলের ঘরগুলি সি-ফেসিং নয়। ছাদই এই হোটেলের ইউএসপি। হোটেলের সামনে পিচ রাস্তা, তার ঠিক পরেই সমুদ্র।

সমুদ্রে এখন ভরা জোয়ার। বোঝা গেল এখানে সৈকত বলতে কিছুই নেই। বরং বলা ভালো, ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে সমুদ্র-ভাঙন। সেই ভাঙনকে আটকাতে তিন চারটে স্তরে শালবল্লা আর পাথর দিয়ে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতিকে রোখে কার সাধ্যি। তিনটে স্তরের বাঁধ টপকে জল চলে আসছে একদম প্রথম স্তরে। সেখানে রয়েছে একটি ছিটেবেড়ার ছোটো দোকান। কার্যত সেই দোকানের পেছনেই ধাক্কা মারছে জল।

আরও পড়ুন তারাপীঠকে ‘বুড়ি’ করে

চাঁদপুর সৈকত। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

সমুদ্রের এই ভয়ংকর রূপ দেখতে দেখতে কিছুটা সময় কেটে গেল। মধ্যাহ্নভোজনের ডাক এল নীচে থেকে।

এখানকার খাবারের আলাদা ভাবে তারিফ করতেই হয়। কাঁসার থালা-বাসনে কোনো হোটেলে খাওয়াতে পারে এটা ভাবা যায় না। ঘি সহযোগে ভাত, ডাল, আলুভাজা, আলুপটলের তরকারি, বেগুনভাজা এবং তার সঙ্গে ইয়া বড়ো বড়ো পমফ্রেট। পেট এবং মন দু’টোই ভরে গেল। এ রকম পেট ভরে খাওয়ার পর একটা ভালো ভাতঘুম চাইছিল শরীর।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়েছে। রোদটা একটু কমতেই বেরিয়ে পড়লাম। ভাটার ফলে সমুদ্র এখন বেশ কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছে। দেখা যাচ্ছে বালি। কিন্তু নামার কোনো উপায়ই নেই। সারি সারি শালবল্লা এবং পাথর পেরিয়ে সমুদ্রে নামতে গেলে চোট পেতে বাধ্য। কিন্তু সমুদ্রের ধারে এসে সমুদ্রে নামতে না পারা, এ কখনও হয়! উপায় বলে দিলেন স্থানীয় দোকানি। শংকরপুরে যাওয়ার কথা বললেন আমাদের। এখান থেকে সৈকত সরণি ধরে গেলে মাত্র ২ কিমি।

সমুদ্র-ভাঙন গ্রাস করেছে শংকরপুরকেও। সে এগিয়ে এসে গিলে খেয়েছে ঝাউবনের সারিকে। এখানেও তাকে আটকানোর জন্য তৎপর প্রসাশন। তৈরি করা হয়েছে ওল্ড দিঘার মতো বাঁধ। তবে ভাটা থাকায়, সেই বাঁধ পেরিয়ে সহজেই চলে গেলাম সমুদ্রের সামনে।

এ ভাবেই খেতে দেওয়া হয় হোটেল মুনে। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

উফ কী আরাম! অনেক দিন পর সমুদ্রের জলে পা ভিজিয়ে একটা অনাবিল আনন্দ গ্রাস করল। কিন্তু দিনের আলো যে কমে আসছে, তাই উঠে পড়তে হল।

লোডশেডিং যে এত ভালো লাগতে পারে সে দিন সন্ধ্যায় বুঝলাম। আসলে এখানে সন্ধ্যাটা ঘরে বসে কাটানোর জন্য নয়। যার ছাদ থেকে এত ভালো সমুদ্র দেখা যায়, সেখানে সন্ধ্যাটা ঘরে বসে কাটাব, এ হতেই পারে না। উঠে পড়লাম ছাদে। আর দু-তিন দিন পরেই পূর্ণিমা, তাই আকাশে বেশ বড়ো চাঁদ উঠেছে। একটু পরেই লোডশেডিং, ঝুপ করে অন্ধকার হয়ে গেল চার দিক। জেনারেটরের সৌজন্যে হোটেলের ঘরে আলো জ্বলেছে কিন্তু ছাদ বা আশেপাশের ঘরবাড়ি তো অন্ধকার। এই অন্ধকারকে কাজে লাগিয়েই আরও মায়াবী হয়ে উঠেছে সন্ধ্যাটা।

আরও পড়ুন জলসাঘরের করুণ সুরে নিমতিতা রাজবাড়ি

ফসফরাস থাকার জন্য অন্ধকারেও সমুদ্রের ঢেউ ভালো বোঝা যায়। চাঁদের আলোয় আরও ভালো করে উপভোগ করছি তাকে। জোয়ার আসছে, তাই ক্রমশ এগিয়ে আসছে জল।

হিসেব করতে পারলাম না যে কত দিন পর এ রকম ভাবে আকাশ দেখছি। আসলে বাড়ি-অফিস, অফিস-বাড়ি করতে করতে তো খোলা আকাশটাই আর দেখা হয়ে ওঠে না। সেই সঙ্গে দেখছি তারার সম্ভার। কোনটা সপ্তর্ষি মণ্ডল, কোনটা কালপুরুষ, বোঝার চেষ্টা করছিলাম এবং ছোটোবেলার পড়াশোনা ঝালিয়ে নিচ্ছিলাম।

সমুদ্র এবং মুক্ত আকাশ দেখতে দেখতে কখন যে রাত এগারোটা বেজে গিয়েছে খেয়ালই করিনি। রেস্টুরেন্ট থেকে নৈশভোজের ডাক এসেছে। তাই এই সুন্দর রাতের মায়া কাটিয়ে নেমে পড়লাম।

তাজপুর থেকে চাঁদপুর হয়ে শংকরপুরগামী এই রাস্তা। ছবি: লেখক

পরের দিন সক্কালে ঘুম ভাঙতেই বুঝলাম বাইরে অঝোরে বৃষ্টি।  ছাতা নিয়েই চলে গেলাম ছাদে। তবে ছাতা মাথায় দিতে হল না। ছাদেই, জলের ট্যাঙ্কের নীচে বেশ ভালো বসার জায়গা রয়েছে। সেখানেই বসে রইলাম। বৃষ্টি অবিরাম, কখনও কমছে কখনও বাড়ছে, কখনও পুরো সমুদ্র থেকে ধেয়ে আসছে কালো মেঘ আবার কখনও সেই কালো মেঘকে সরিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করছে এক চিলতে রোদ্দুর।

আরও পড়ুন এক টুকরো ইতিহাস – বাণগড়

তবে বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারলাম না। বাড়ি ফেরার তোড়জোড় শুরু করতে হবে যে। আসলে হাতে সময় অল্প। কোনো রকমে একদিনের ছুটি ম্যানেজ করে চলে এসেছি। বাড়ি ফিরেই আবার কর্মব্যস্ত জীবনে ঢুকে যেতে হবে।

সুযোগ পেলেই আবার চাঁদপুর চলে আসব, হোটেলের কর্মচারীদের এই আশ্বাস দিয়ে কলকাতার উদ্দেশে স্টার্ট দিল আমাদের গাড়ি। দিঘা তো কত বার গিয়েছি। কিন্তু চাঁদপুরের ওই মায়াবী রাত আমার স্মৃতিতে গেঁথে থাকবে অনেক দিন।

কী ভাবে যাবেন?

ট্রেনে গেলে হাওড়া থেকে তাম্রলিপ্ত বা কান্ডারি এক্সপ্রেসে চড়ে নামুন দিঘার আগে রামনগর স্টেশনে। স্টেশন থেকে গাড়ি বা টোটো পাওয়া যায়। আগে থেকে হোটেলকে বলে রাখলে পিকআপের ব্যবস্থাও হয়ে যাবে। রামনগর থেকে চাঁদপুর ৮ কিমি। বাসে গেলে নামুন বালিসাই বাসস্টপে। সেখানে থেকে তাজপুরের রাস্তা দিয়ে তাজপুর হয়ে পৌঁছে যান চাঁদপুর। দূরত্ব ৬ কিমি।

কোথায় থাকবেন?

হোটেল মুন। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

চাঁদপুর থাকার জন্য হোটেল মুন বেশ ভালো। সমুদ্রের ধারে অবস্থিত হলেও হোটেলের ঘর থেকে সমুদ্র দেখা যায় না। তবে ছাদ থেকে সমুদ্র দেখায় কোনো বাধা নেই। সারা দিন কাটিয়ে দিতে পারেন হোটেলের ছাদে। যোগাযোগ ৯৮৩০৪০১৪৬০। এ ছাড়াও চাঁদপুরে থাকার জন্য রয়েছে চাঁদপুর ভিলেজ ইকো রিসর্ট যোগাযোগ ০৮৪২০২৪৩৪৩৩।

0 Comments
Share
a-visit-to-varanasi-of-bismillah-khan
jahir raihan
জাহির রায়হান

‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ অর্থাৎ শুরু সেই দয়া পরবেশ ক্ষমাশীল খোদাতলার স্মরণ করে। ইসলাম মতে ‘বিসমিল্লাহ’ শব্দের গুরুত্ব অপরিসীম। যে কোনো শুভ কাজের শুরুয়াৎ, এমনকি খাদ্যগ্রহণের সময়ও নিষ্ঠাভরে খোদাকে স্মরণ করা হয় ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণে, নিয়মিত। আবার রোজকার ব্যবহারিক জীবনে কোনো কাজ শুরুতেই বিফল হলে বলা হয় বিসমিল্লায় দ। অর্থাৎ সূচনাতেই গলদ।

যতখানি সময় সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যয় করেছি অদ্যাবধি তার কিয়দাংশ অনন্য উপহার হয়ে ফিরে ফিরে আসছে ইদানীং। এমনই এক উপহার শ্রীঅসীম মৌলিক। অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী, পাশের জেলা নদিয়ার মানুষ, এখন কলকাতাবাসী। চাক্ষুষ আলাপ নেই এখনও, ফোনালাপ হয়েছে বারকয়েক, তাঁর কন্ঠের উষ্ণতায় অনুভব করেছি তিনি আমায় স্নেহ করেন বড়ো দাদার মতো। ব্যক্তিজীবনে আমি পরিবারের প্রথম সন্তান, বড়োদাদা বা বড়োদিদির অভাব এবং তাঁদের সান্নিধ্যের একটা নিভৃত আকাঙ্ক্ষা নিরন্তর কাজ করে আমার অন্তরে। তাই বড়দা-তুল্য অসীমবাবুর উষ্ণতার আঁচে হৃদয়ে মন-কেমন-করা ভালো-লাগা বাসা বাঁধে, বুঝি আমি। অসীমবাবু বেনারস ভ্রমণের কথা শুনে যখন বলেন, “ভাই জাহির, বেনারস কিন্তু শুধু বাবা বিশ্বনাথের নয়, বেনারস বিসমিল্লাহ খান সাহেবেরও, আমার ইচ্ছে তুমি একবার ওনার বাসায় যাও, শ্রদ্ধা জানিয়ে এসো, তোমার কলমে ওনার প্রতি তোমার অনুভূতি আমি অনুধাবন করতে আগ্রহী”, বিশ্বাস করুন আমি কুন্ঠিত হয়ে পড়ি এমন মরমি প্রত্যাশায়।

আরও পড়ুন জলসাঘরের করুণ সুরে নিমতিতা রাজবাড়ি

আমার যে খানকতক শুভাকাঙ্ক্ষী পাঠকবন্ধু রয়েছেন, তাঁরাও জেনে গেছেন ইত্যবসরে, যে আমি মূলত পথিক, পথ চলতেই ভালোবাসি। বেনারসের গলি, তস্য গলি এবং অলিগলি পদ সঞ্চালনে ঘোরার চক্করেই আমি আর বন্ধু শিবাজির বেনারস যাত্রার পরিকল্পনা। এটা জেনেই অসীমবাবুর আন্তরিক ফরমায়েস আর আমার উচ্চচাপের সূত্রপাত। এমন নয় যে বিসমিল্লাহ খান সাহেবের নাম শুনিনি ইতিপূর্বে, শুনেছিলাম, ধরে রাখতে পারিনি আসলে, পড়েছিলাম বিশ্বনাথ মন্দিরের কোনো একটি অনুষ্ঠানের সূচনা খানসাহেবের সানাই পরিবেশন বিনা ছিল অসম্ভব অথবা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি পর্যায়, তাঁরই সানাইয়ের মূর্ত মূর্ছনায়। শুধু সেই জানাটুকু ভর করে দাদাকে কথা দিলাম, যদিও রাগ, সংগীত ও সানাইয়ের সমঝদার শ্রোতা নই আমি, তবুও একবার চোখ মেলে আসব সেই উর্বর অঙ্গনে যেথায় একদা হুটোপুটি করেছেন আজকের ভারতরত্ন ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান।

road named after bismillah khan
ভারতরত্ন উস্তাদ বিসমিল্লা খাঁ মার্গ।

শীতের এক সকালে গঙ্গাস্নান সেরে রওনা দিলাম ওস্তাদজির ভিটের পানে। নয়াসড়ক থেকে যে রাস্তাটি চলেছে সানাই-সম্রাটের বাড়ির পথে, তার নাম ‘ভারতরত্ন উস্তাদ বিসমিল্লা খাঁ মার্গ’। নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে বোঝা গেল ঘোরাঘুরির সময় বহু বার এ রাস্তার আশেপাশে এসেছি, শুধু বোঝা যায়নি এ অঞ্চলেই তাঁর আবাস। এলাকাটি দশাশ্বমেধ ঘাট হতে সর্বাধিক মিনিট পনেরোর হাঁটাপথ। রাস্তা হতে একটি গলি ধরে কিছুটা এগিয়েই এক দুধসাদা দোতলা বাড়ির সম্মুখে উপস্থিত, সন্নিবিষ্ট লেটারবক্স ওস্তাদ নায়ের হুসেন খানের নামে, ঠিকানা – সি কে ৪৬/৬২, সারাই হারাহা, বারাণসী। ছবি তোলার দ্বিধায় যখন দ্বিধান্বিত, এক কিশোর দরজা খুলে আহ্বান জানাল। উন্মুক্ততার আলোয় নজরে এল ঘরের দেওয়াল জুড়ে নানান আলোকচিত্রের প্রদর্শনী, এক ভদ্রলোক ব্যস্ত রয়েছেন সেগুলির যত্নে। পরবর্তী চল্লিশ মিনিট এমনই নিরুচ্চার অভিজ্ঞতার মগ্ন মূহূর্ত, যা সহসা আসে না জীবনাকাশে।

letterbox on bismillah's house
লেটারবক্স ওস্তাদ নায়ের হুসেন খানের নামে।

জুতো পায়ে প্রবেশের অনুমতি রইলেও মনের সায় ছিল না। তাই জুতো রইল বাইরে, অদ্ভুত এক অজ্ঞাত আবেশে প্রবেশ করলাম ওস্তাদজির বৈঠকখানার অন্দরে, যার প্রতিটি অংশে বর্তমান ভারতরত্নের স্পর্শময়তার অদৃশ্য অস্ত্বিত্ব। পুরোনো একটি চৌকি, একটি দিন-যাওয়া সোফা, খানদুই গদিআঁটা চেয়ার আর ঘরময় ফ্রেমবন্দি ওস্তাদজির জীবনবোধের নানান সোনালি সফর। আলাপ হল বিসমিল্লাহ সাহেবের নাতি ওস্তাদ নাসির আব্বাস খানের সঙ্গে। আমার মা বলেন, বাচনভঙ্গি আর তার লয়েই ধরা পড়ে পারিবারিক শিক্ষাদীক্ষা ও রুচিশীলতা। আব্বাস সাহেবের কথামালায় সেই ঐতিহ্যেরই আবহমান তরঙ্গ।

বাবা পয়গম্বর খান ও মা মিঠান দ্বিতীয় সন্তানকে প্রথম ডেকেছিলেন আমিরুদ্দিন নামে।  কিন্তু পিতামহ নবজাতককে দেখে উচ্চারণ করলেন ‘বিসমিল্লাহ’ আর এই ভাবেই আমিরুদ্দিন হয়ে গেলেন বিসমিল্লাহ খান। তাঁর পূর্বপুরুষেরা ছিলেন বিহারের ডুমরাঁও রাজ্যের রাজ-সংগীতজ্ঞ। সংগীতগুরু প্রয়াত আলী বকস্ বিলায়াতু, সম্পর্কে ওস্তাদজির মামা, যিনি ছিলেন  বিশ্বনাথ মন্দিরের প্রখ্যাত সানাইবাদক। প্রাত্যহিক জীবনে একজন অত্যন্ত ধার্মিক শিয়া মুসলিম হলেও ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান সাহেব জ্ঞান ও সংগীতের দেবী সরস্বতীরও আরাধনা করতেন সুনিপুণ নিষ্ঠায়।

আরও পড়ুন ওখরে-হিলে-ভার্সে, যেন মেঘ-বালিকার গল্প

তাঁর সাংগীতিক নিষ্ঠা, তাঁর জীবনবোধ ছিল বহতা গঙ্গার মতোই সাবলীল, পবিত্র। তাঁর সংগীত ও বেনারসী গঙ্গা যেন একে অপরের পরিপূরক, আত্মজ। বেনারসের অলিগলি, আকাশ-বাতাস, ধূলিকণা, পথপ্রান্তর সবই ছিল ওস্তাদজির বড় আপনজন। রামনগর রাজবাড়ির দিগন্ত থেকে কখনও বা মেঘ জমছে আকাশে, একটু একটূ করে কালোয় ছেয়ে যাচ্ছে বেনারসের নীলাকাশ। গঙ্গার ওপর দিয়ে বইছে আসন্ন বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীতে ভাসমান পল্টন ব্রিজে লাগল দোলা সেই প্রবাহী পবনের মৃদু সংঘাতে। অনুভবে ওস্তাদেরও মন ছুঁয়ে গেল মেঘবালিকার আকুতি, তার ঝরে পড়ার অভিপ্রায়ে ওস্তাদের হৃদয় হতেও হয়তো উৎসারিত হল সুর, উঠল ঝড় তাঁর সংগীত-মননে। মেঘমল্লারের সুরমূর্ছনায় মুখরিত হতে থাকল তাঁর প্রিয় বেনারস। নিশি কালো মেঘ কখন যেন তরল হয়ে অবিশ্রান্ত বৃষ্টিধারায় ঝরতে থাকল ধরণীর বুকে, স্নিগ্ধ শীতল হল খানসাহেবের বাসভূমি। এক দিকে প্রকৃতির খেয়ালি সুর, গঙ্গার সঙ্গে বৃষ্টির জলকেলির সুখশ্রাব্য ধ্বনি, অন্য দিকে সানাইয়ের হৃদয়লালিত সঙ্গত, একাত্ম হয়ে সৃষ্টি করল এক অদ্ভুত সুরেলা জগৎ, যাঁর অধীশ্বর স্বয়ং ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান, যাঁর ভিটেতে আমরা দুই বঙ্গবাসী, আত্মবিভোর হয়ে।

photos on bismillah's life
ঘরময় ফ্রেমবন্দি ওস্তাদজির জীবনবোধের নানান সোনালি সফর।

সানাইকে ভারত তথা বিশ্বমঞ্চের উচ্চাঙ্গসংগীত জগতের কৌলিন্যে এক অমূল্য বাদ্যযন্ত্র রূপে প্রতিষ্ঠিত করার একক কারিগর তিনি। ১৯৩৭ সালে কলকাতায় অল ইন্ডিয়া মিউজিক কনফারেন্সে সানাই বাজিয়ে একে ভারতীয় সংগীতের মূল দরবারে দেন প্রতিষ্ঠা।  ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট, স্বাধীনতার স্বাদে উদ্বেল ভারতবাসীর সামনে লালকেল্লায় সানাইবাদনের বিরল কৃতিত্ব তাঁরই। ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০, ওই লালকেল্লাতেই পালিত ভারতের প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসে তাঁর অন্তরের মাধুরী ঢেলে রাগ কাফি পরিবেশন, মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন করেছিল তামাম স্বাধীন ভারতসন্তানকে। তাঁর সুযোগ্যতার নিরিখে সানাই এবং ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান প্রায় সমার্থক। দূরদর্শনের স্বাধীনতা দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সেথায় তাঁর সানাইয়ের সংগত এক অবিচ্ছেদ্য শ্রুতিময়তার বৈভব। লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর পরই ভারতীয় দূরদর্শনে সানাইগুরুর মেহফিল সম্প্রচারিত হত সরাসরি। পণ্ডিত নেহরুর সময় হতেই তরঙ্গিত এই  রাগ পরম্পরা।

আফগানিস্তান, ইউরোপের নানা দেশ, ইরান, ইরাক, কানাডা, পশ্চিম আফ্রিকা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, জাপান, হংকং-সহ পৃথিবীর প্রায় সকল দেশই আন্দোলিত হয়েছে ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান সাহেবের সাংগীতিক পরশে। রিপাবলিক অফ ইরান প্রদান করেছে সে দেশের সংগীত বিষয়ক শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। নিজ দেশ আপন করে নিয়েছে তাঁকে ‘ভারতরত্ন’ হিসেবে। এ ছাড়াও দেশবিদেশ থেকে পেয়েছেন অজস্র সম্মান। তাঁর বাঙালি-যোগও আছে বই-কি, কাজ করেছেন সত্যজিৎ রায়ের ‘জলসাঘরে’।

আরও পড়ুন এক টুকরো ইতিহাস – বাণগড়

এত সুনাম এবং অর্জন সত্ত্বেও অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন খানসাহেব। সব সময়ই রইতেন বারাণসীর পুরোনো পৃথিবীর অলিন্দে। সাইকেল রিকশাই ছিল তাঁর চলাচলের মূলবাহন। অত্যন্ত অন্তর্মুখী বিনম্র এই সংগীতগুরু বিশ্বাস করতেন, সংগীত শ্রবণের বিষয়, দেখার বা দেখাবার নয়। সে কথায় বিশ্বাস রাখেন তাঁর বর্তমান প্রজন্মও। আব্বাস সাহেরের গলায় আতিথেয়তার উষ্ণতা। তিনি  চায়ের আমন্ত্রণ জানালেন। আমাদের অসম্মতিতে বললেন, “দাদাজি বলতেন, ‘আগর মেহমান আয়ে ঘর মে তো উনহে বাঠনে কা জাগা দো, ঔর কুছ নেহী মিলে তো থোড়া পিনে কা পানি দো, তুমহে ঔর মেহমান দোনো কো হি এক সকুন মিলেগা’।” আমাদের জন্য চা নিয়ে এল নাসির সাহেবের পুত্র রামিস হাসান। কথা চলতে থাকে আর আমরা বিহ্বল হতে থাকি। এত বড়ো মানুষ, এত বড়ো ঐতিহ্যের অধিকারী এক ভিটেয় বসে রয়েছি অচঞ্চল, ভাবতেই শিহরিত হচ্ছি। নাসির সাহেব জানালেন, তাঁর বাবা সানাই বাজাতেন, পরিবেশন করেন তিনি নিজেও, আমাদের অনুরোধও জানালেন কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের নানান উৎসব অনুষ্ঠান বা বিয়েশাদিতে তাঁদের আমন্ত্রণের জন্য কেননা তাঁর ইচ্ছা যে সানাইয়ের সুর তাঁর দাদাজির হাত ধরে তাঁদের পরিবারকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে, দিয়েছে সম্মান ও মর্যাদা, সেই সুরধারা প্রবাহিত হোক আগামী প্রজন্মের জীবনতরীতেও। সব চেয়ে গভীর মুহূর্ত ঘনাল সেই সময়, যখন আমি প্রস্তাব করলাম ওস্তাদজির পারিবারিক জীবন নিয়ে প্রকাশিত হোক ছোটো একটি পুস্তিকা এবং তাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিয়ে বাড়িতেই গড়ে উঠুক অভিনব এক পারিবারিক সংগ্রহাগার। প্রয়োজনে আমরাও এ ব্যাপারে কায়িক শ্রমদানে উৎসাহী। এ কথা বলার সময়ই নিকটবর্তী মসজিদ হতে ভেসে এল যোহরের আজান, অদ্ভুত চাঞ্চল্যের খেলা তখন নাসির আব্বাস খানের মুখমণ্ডলে, আমার দু’ হাত জড়িয়ে ধরে তিনি বললেন, “বাতচিত কি ওয়ক্ত যব আজান কি আওয়াজ শুনাই দেতি হ্যায়, সমঝ লো খোদা ভি এহি চাহতে হ্যায়।”

২১ আগস্ট ২০০৬, ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান ইহলোক ত্যাগ করেন বারাণসীর পুণ্যভূমিতেই। গঙ্গা অন্তপ্রাণ ওস্তাদজিকে সমাহিত করা হয় পুরোনো বারাণসীর কবরস্থানে এক নিমগাছের ছায়াময়তায়, সঙ্গে দেওয়া হয় একটি সানাই, স্ত্রীর মৃত্যুর পর যে সানাইকে তিনি তাঁর ‘বেগম’ বলেই মানতেন। তাঁর নশ্বর দেহ বিলীন হয়ে গেছে প্রায় এক দশক, তবুও তিনি ভাস্বর হয়ে রয়েছেন হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির এক উজ্বল উদাহরণস্বরূপ জনমানসের মনে, মননে, আজও। বেনারসে যত দিন রইবেন বিশ্বনাথ, তত দিন রইবেন বিসমিল্লাহ আর রইবে তাঁর বিশ্বাস – “Even if the world ends, the music will still survive”

ছবি: লেখক

0 Comments
Share
guest-houses-run-by-wbsfdc

ওয়েবডেস্ক: পর্যটন দফতর, বন দফতরের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রিসর্ট রয়েছে মৎস্য দফতরেরও। বকখালির কাছে হেনরি আইল্যান্ড হোক, বা উদয়পুর সৈকতের কাছে ওশিয়ানা হোক, পর্যটকদের কাছে এই রিসর্টগুলি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

কিন্তু এর পাশাপাশি রাজ্যের আরও কয়েকটি জায়গাতেও রিসর্ট রয়েছে মৎস্য উন্নয়ন নিগমের। কোথায় কোথায় এই রিসর্ট রয়েছে এবং তাদের কত ভাড়া, জেনে নেব বিস্তারিত ভাবে।

যমুনাদিঘি কমপ্লেক্স

১) হেনরি আইল্যান্ড

*** সুন্দরি কমপ্লেক্স (নন-এসি দ্বিশয্যা ৮০০ টাকা, এসি দ্বিশয্যা ৯৯৯/১২০০ টাকা)।

*** ম্যানগ্রোভ কমপ্লেক্স (নন-এসি দ্বিশয্যা ২০০/৩০০ টাকা,  এসি দ্বিশয্যা ১০০০/১২০০/১৪০০ টাকা)।

২) বকখালি (ফ্রেজারগঞ্জ)

ফ্রেজারগঞ্জ কমপ্লেক্স (নন-এসি দ্বিশয্যা ৬০০ টাকা, এসি দ্বিশয্যা ১২০০ টাকা)।

৩) দিঘা

*** ওল্ড দিঘা কমপ্লেক্স- বাংলো ১ (এসি দ্বিশয্যা ৯৯৯ টাকা) এবং বাংলো ২ (এসি ডরমিটরি ৩৫০ টাকা)।

*** ওশিয়ানা- কমপ্লেক্স ১ এবং কমপ্লেক্স ২ (এসি দ্বিশয্যা ১২০০ টাকা) এবং কমপ্লেক্স ২ (সাধারণ এসি দ্বিশয্যা ১২০০ টাকা, ডিলাক্স এসি দ্বিশয্যা ১৪০০/১৫০০ টাকা, সুপার ডিলাক্স এসি দ্বিশয্যা ১৬০০ টাকা, স্পেশ্যাল রুম ২০০০ টাকা)।

ওশিয়ানা কমপ্লেক্স

৪) পেটুয়াঘাট (পূর্ব মেদিনীপুর)

পেটুয়াঘাট গেস্ট হাউস (এসি দ্বিশয্যা ৯৯৯ টাকা)।

৫) শঙ্করপুর

মৎস্যগন্ধা কমপ্লেক্স (এসি দ্বিশয্যা ৯৯৯ টাকা)।

৬) বর্ধমান

যমুনাদিঘি আম্রপালি কমপ্লেক্স (নন-এসি দ্বিশয্যা ৬০০/৮০০ টাকা, এসি দ্বিশয্যা ১২০০ টাকা)

৭) শিলিগুড়ি

গিরিরাজ কমপ্লেক্স (নন-এসি দ্বিশয্যা ২৫০/৩৫০/৪০০ টাকা, এসি দ্বিশয্যা ৮০০/১০০০ টাকা)

৮) বিষ্ণুপুর

কৃষ্ণবাঁধ টুরিস্ট কমপ্লেক্স (এসি দ্বিশয্যা ৯৯৯/ ১২০০ টাকা)।

মৎস্যগন্ধা কমপ্লেক্স।

৯) কলকাতা

*** নলবন ফুড পার্ক (দ্বিশয্যা এসি কটেজ ১৪০০ টাকা)।

*** ক্যাপ্টেন ভেড়ি (দ্বিশয্যা এসি ২০০০ টাকা)।

অনলাইন পরিষেবার মধ্যে দিয়ে এই রিসর্টগুলি আপনি বুক করতে পারেন। বুক করার জন্য লগইন করুন http://wbsfdc.com/tourism/-এ।

0 Comments
Share
sirpur-of-chattisgarh

ভ্রমণ অনলাইনডেস্ক: একটা সময় ছিল, যখন মাওবাদী সমস্যায় জর্জরিত ছিল ছত্তীসগঢ়। কিন্তু সে সব এখন কার্যত অতীত। মাওবাদীদের রমরমা অনেকটাই কমে গিয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন মানচিত্রে ছত্তীসগঢ়কে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর সে রাজ্যের সরকার। পর্যটকদের কাছে নতুন নতুন জায়গা তুলে ধরছে ছত্তীসগঢ় পর্যটন।

না, জায়গাগুলো নতুন নয়। বরং ঐতিহাসিক ভাবে এদের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু বছর তিন-চার হল পর্যটকদের কাছে ক্রমশ পরিচয় পাচ্ছে সে জায়গাগুলি। এমনই একটি জায়গা হল সিরপুর।

ছত্তীসগঢ়ে বেড়ানোর জায়গা বলতে আমরা অনেকেই বুঝি জগদলপুর, চিত্রকূট, গাংরেল ইত্যাদি, কিন্তু মহানদীর পাড়ে সিরপুর সত্যিই এক অনন্য জায়গা।

বৌদ্ধ, জৈন এবং হিন্দু ধর্মচর্চার অন্যতম পীঠস্থান ছিল সিরপুর। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত এখানে বৌদ্ধ মনাস্টেরি, জৈন এবং হিন্দু মন্দির গড়ে উঠেছিল। সাম্প্রতিক কালে খননকাজের মধ্যে দিয়ে সেগুলিকে আবার উদ্ধার করা হয়েছে। খননের পরে বেরিয়ে এসেছে ১২টি বৌদ্ধ বিহার, একটি জৈন বিহার, বুদ্ধ এবং মহাবীরের মূর্তি, ২২টি শিব মন্দির এবং ৫টি বিষ্ণু মন্দির। ভূপর্যটক হুয়েন সাং এসেছিলেন এখানে। এই সব সৌধ নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘সিরপুর গ্রুপ অফ টেম্পল্‌স।’ এ ছাড়াও সিরপুরের অন্যতম আকর্ষণ লক্ষ্মণ মন্দির এবং গন্ধেশ্বর মন্দির।

sirpur chattisgarh
মহানদী। সিরপুর।

তবে শুধুমাত্র মহানদীর ধারে হাওয়া খেলে এবং সৌধ দেখে সময় কাটালেই তো চলবে না। সাইটসিয়িং-ও তো করতে হবে। সেই সুযোগও রয়েছে আপনার কাছে। সিরপুর থেকে ৭৫ কিমি দূরেই পাহাড়ের কোলে অবস্থিত বর্নপাড়া অভয়ারণ্য। বাইসন, সম্বর, চিতল, নীলগাই, বুনো শুয়োরের দেখা মিলবে এখানে।

আরও পড়ুন সবুজ প্রকৃতি আর জলাধার নিয়ে গাংরেল

কী ভাবে যাবেন

ছত্তীসগঢ়ের রাজধানী রায়পুর থেকে ৭৮ কিমি দূরে সিরপুর। কলকাতা থেকে রায়পুর যাওয়ার একগাদা ট্রেন রয়েছে। তবে শালিমার-লোকমান্য তিলক এক্সপ্রেস গেলে দ্বিতীয় দিন সকাল সকাল রায়পুর পৌঁছোনো যাবে। সে ক্ষেত্রে বেলা দশটার মধ্যেই সিরপুর পৌঁছে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন?

হুয়েং সাং টুরিস্ট রিসর্টের ঘর

সিরপুরে থাকার সব থেকে ভালো ব্যবস্থা ছত্তীসগঢ় পর্যটনের হুয়েন সাং টুরিস্ট রিসর্টে। এসি দ্বিশয্যা ঘর ২০০০ টাকা। অনলাইনে বুক করার জন্য লগইন করুন visitcg.in-এ।

0 Comments
Share
new-road-connectiong-manali-to-kargil

ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক : জাঁসকার অঞ্চলের ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচলের নতুন রাস্তা তৈরি হওয়ার ফলে মানালি থেকে কার্গিল পৌঁছে যাওয়া যাবে লেহকে বাদ দিয়েই। নতুন এই রাস্তা দিয়ে গেলে নতুন একটি জায়গা উপভোগ করার সুযোগও থাকছে আপনার কাছে।

হিমাচলের লাহুল স্পিতির দারচা থেকে কাশ্মীরের জাঁসকারের পাদুম পর্যন্ত একটি ট্রেক রুট ছিল। ১৬,৬০০ ফুট ওপরের শিঙ্কু লা পাসের ওপর দিয়ে এই ট্রেক রুটটিকে চওড়া করে গাড়ি চলাচলের যোগ্য করে তুলেছে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (বিআরও)।

কেলং থেকে দারচা ৩২ কিলোমিটার। দারচা থেকে পাদুম ১৪৮ কিলোমিটার। অন্য দিকে পাদুম থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরে কার্গিলের সরু রাস্তাটি দিয়ে গাড়ি চলাচল আগে থেকেই করে। এখন দারচা থেকে পাদুম গাড়ি চলাচলের যোগ্য হয়ে ওঠায় দারচা থেকে পাদুম হয়ে সরাসরি পৌঁছে যাওয়া যাবে কার্গিল।

এই মুহূর্তে দারচা থেকে পাদুম পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থা এখনও ভালো নয়। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই সেটি পুরোপুরি ঠিকঠাক করে দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সেনার আধিকারিকরা। পাশাপাশি শিঙ্কু লা পাসের নীচে দিয়ে একটি টানেল তৈরিরও চেষ্টা হচ্ছে যাতে সারা বছরই এই রাস্তায় গাড়ি চলাচল করতে পারে।

0 Comments
Share
online-booking-for-gajoldoba-starts
ভ্রমণ অনলাইনডেস্ক: গত ৩ অক্টোবর গজলডোবায় চালু হয়েছে পর্যটন প্রকল্প ‘ভোরের আলো‘। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত দিয়ে ওই নতুন প্রকল্পের উদ্বোধনের পরই চালু হয়ে গেল অনলাইনে বুকিং পরিষেবা। ফলে পুজোর ছুটিতে নির্ভেজাল আনন্দের টানে ভোরের আলোয় থাকার প্ল্যান থাকলে নিতে পারেন ওই অনলাইন পরিষেবার সুবিধা।
ভোরের আলোয় রয়েছে পাঁচটি কটেজ এবং দু’টি এসি টেন্ট। কটেজের ভাড়া প্রতি রাতের জন্য মাত্র আড়াই হাজার টাকা। সঙ্গে ১৮ শতাংশ হারে জিএসটি। কটেজে পাওয়া যাবে ওয়েস্টার্ন স্টাইলের টয়লেট-সহ অ্যাটাচড বাথরুম। আর ২৪ ঘণ্টা জেনারেটর ব্যবস্থা তো থাকছেই। অন্য দিকে এসি টেন্টে থাকতে হলে আপনাকে খরচ করতে হবে মাত্র ১১০০ টাকা। তবে যদি নিজের পছন্দ মতো দিনে কটেজ বা টেন্ট খালি থাকে তবেই মিটতে পারে মনের খিদে।
তাই অনলাইনের বুকিং পরিষেবার মাধ্যমে প্রথমেই জেনে নেওয়া যেতে পারে আপনার পছন্দের নির্দিষ্ট দিনটিতে কোনো কটেজ বা টেন্ট ফাঁকা রয়েছে কি না। যদি না পান একই সঙ্গে জেনে নেওয়া যাবে কোন কোন দিন তা পাওয়া যেতে পারে। ক্লিক করুন পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের এই লিঙ্কে:হোম ভোরের আলো অনলাইন বুকিং
আরও পড়ুন  গজলডোবায় চালু হল ‘ভোরের আলো’, দেখে নিন কিছু ছবি
বলে রাখা ভালো, কটেজগুলি ছাড়াও বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলে সাইক্লিং এবং বোটিং প্রকল্পেরও সূচনা করে দেওয়া হয়েছে। কটেজগুলি রাজ্য পর্যটন নিগমের অন্তর্গত। শুরুতে অনলাইন বুকিং পরিষেবা চালু না হলেও বুকিংয়ের জন্য নির্ধারিত ৮৯৪২৮৪৪৫১৬ ফোন নম্বরে অনবরত আগ্রহীরা ফোন করতে থাকেন। নিগমের কর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইন বুকিং চালু হওয়ার পরেও ওই ফোন নম্বরেও সমান ভাবে জেনে নেওয়া যাবে বিশদ তথ্য।
0 Comments
Share
tourism-dept-special-initiative-for-the-homestays-of-north-bengal
ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: পাহাড় এবং তরাই-ডুয়ার্সের হোমস্টেগুলিকে আরও উন্নত করতে এবং হোমস্টে কেন্দ্রিক পর্যটনকে আরও উন্নত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য পর্যটন দফতর। হোমস্টেগুলো সংস্কারের জন্য সরকারের তরফ থেকে অর্থসাহায্য করা হবে। পুজোর পর এই কাজ জোরকদমে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব।
সম্প্রতি পাহাড় সফরে এসে হোমস্টে-কেন্দ্রিক পর্যটনের ডাক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, এর ফলে একদিকে যেমন মানুষ স্বনির্ভর হবে, তেমনই পর্যটনের বিকাশও হবে। এ, বি এবং সি, এই তিনটে বিভাগে হোমস্টেগুলিকে বিভক্ত করা হবে। এর ভিত্তিতেই দেখা হবে কাকে কত আর্থিক বরাদ্দ করা হবে। এর মধ্যেই সংস্কারের কাজের জন্য ৪০০ উপভোক্তার নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজ্য পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, “এই মুহূর্তে হোমস্টে-কেন্দ্রিক পর্যটনে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এই জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তরাই এবং ডুয়ার্সে পর্যটন দফতর এই কাজ করলেও, পাহাড়ে এই কাজের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন বোর্ডকে।

গৌতমবাবু আরও জানান, এই প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ের কয়েকটি গ্রামকে চিহ্নিত করে সেখানেও হোমস্টে তৈরি করার ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হবে। এই কাজে প্রয়োজনে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের সাহায্য নেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী।

0 Comments
Share
1237