Browsing Category:গন্তব্য

a-few-places-in-west-bengal-to-spend-a-few-days-in-royal-style

ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: মাঝেমধ্যে মনে হয় না দু’-তিনটে দিন কোথাও একটু বিলাসিতায় কাটিয়ে আসি? এই পশ্চিমবঙ্গেই রয়েছে এমন কিছু জায়গা। তারই সন্ধান দিল ভ্রমণ অনলাইন।

ঝাড়গ্রাম রাজ প্যালেস

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শৈলীর মেলবন্ধনে কী সুন্দর স্থাপত্যের সৃষ্টি হতে পারে তা ঝাড়গ্রাম রাজ প্যালেস না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। মল্লদেব রাজাদের তৈরি এই রাজবাড়ির কিছুটা হেরিটেজ হোটেল। বেশির ভাগটায় রাজপরিবারের লোকজন থাকেন।   

থাকা

এখানে থাকার নানা ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে – রয়্যাল স্যুট, রয়্যাল গেস্ট হাউস, প্রিমিয়াম ডিলাক্স, একজিকিউটিভ স্যুট, ফ্যামিলি ডিলাক্স, ক্ল্যাসিক ডিলাক্স। /

কী দেখবেন

১। সাবিত্রী মাতা মন্দির – রাজবাড়ির অদূরেই, ঝাড়গ্রাম মল্ল রাজাদের আরাধ্যা দেবী।

২। ডিয়ার পার্ক – ৩ কিমি।

৪। ইকো ট্যুরিজম সেন্টার ও ট্রাইবাল মিউজিয়াম – ২ কিমি।

৫। ভেষজ উদ্যান – ৯ কিমি দূরে গড় শালবনিতে।

৩। চিলকিগড় ও কনকদুর্গা মন্দির – ডুলুং নদীর ধারে, ১৫ কিমি।

৬। গুড়গুড়িপল ইকো পার্ক – ২৭ কিমি।

৬। কোদোপল অ্যাগ্রো ট্যুরিজম – ৪৫ কিম দূরে সুবর্ণরেখা ও ডুলুং নদীর সঙ্গমে ২০০ একর জায়গা জুড়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অ্যাগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্প।

৭। রামেশ্বর মন্দির – ৪২ কিমি দূরে, গোপীবল্লভপুরের কাছে।

৮। শ্রীরাধাগোবিন্দ মন্দির অথবা গুপ্ত বৃন্দাবন – ১৫ শতকের মন্দির, ৩৫ কিমি দূরে গোপীবল্লভপুরে।

৯। বেলপাহাড়ি – ৩৭ কিমি দূরে আদিবাসী গ্রাম, আরও ৯ কিমি গিয়ে পাহাড়ে ঘেরা ঘাঘরা ঝরনা, কাছেই তারাফেনি ব্যারাজ।

১০। কাঁকড়াঝোড় ফরেস্ট ও ময়ূরঝরনা এলিফ্যান্ট রিজার্ভ – ৬২ কিমি দূরে কাঁকড়াঝোড় হয়ে আরও ৮ কিমি।

১১। গোপগড় হেরিটেজ অ্যান্ড নেচার ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার – ৩৬ কিমি।  

প্যাকেজ ট্যুর

হোটেলের উদ্যোগেই ৪ রাত্রি/৫ দিনের প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা আছে। এই প্যাকেজ ট্যুরগুলিতে ঝাড়গ্রামের পাশাপাশি মুকুটমণিপুর, সিমলিপাল বা টাটানগর দেখে নেওয়া যায়।

কী ভাবে যাবেন

হাওড়া থেকে ঝাড়গ্রাম ট্রেনে আড়াই থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার ভ্রমণ। সকাল থেকেই নানা ট্রেন। বিশদে জানতে দেখে নিন erail.in । সড়কপথে কলকাতা থেকে জাতীয় সড়ক ১৬ ও ৪৯ (পুরোনো নম্বর ৬, মুম্বই রোড) ধরে খড়গপুর-লোধাশুলি হয়ে ঝাড়গ্রাম ১৭৩ কিমি। বাসে বা গাড়িতে যেতে পারেন। বাসের সময়ের জন্য দেখুন http://sbstc.co.in/

যোগাযোগ

০৩২২১ ২৫৫৪০১, ৬২৯৪০ ২৪৩১৯, ৯৬৩৫২ ৬৯৪১৬; ই মেল [email protected] ওয়েবসাইট http://www.jhargrampalace.com/    

ইটাচুনা রাজবাড়ি

ইটাচুনা রাজবাড়ির আরেক নাম ‘বর্গি ডাঙা’। বাংলার নবাবের দেয় এক চতুর্থাংশ কর (চৌথ) আদায়ের জন্য মরাঠারা বাংলা সুবা আক্রমণ করেছিল। সেই মরাঠা যোদ্ধাদের বলা হত ‘বর্গি’। যুদ্ধবিগ্রহ থেমে যাওয়ার পর ‘বর্গি’দের একটা বড়ো অংশ এখানেই থেকে গেয়েছিল এবং ব্যবসাপাতি করে প্রচুর সম্পদ সৃষ্টি করেছিল। এই মরাঠা ‘বর্গি’দের একাংশ ছিল ‘কুন্দন’ উপাধিধারী। এঁরাও এই বঙ্গেই থেকে যান। এই ‘কুন্দন’রা কালক্রমে ‘কুণ্ডু’ হন। এ রকম এক ‘কুণ্ডু’ হলেন সাফল্য নারায়ণ কুণ্ডু। এঁরই পূর্বসূরিরা ১৭৬৬ সালে ইটাচুনা রাজবাড়ি তৈরি করেন।

কলকাতা থেকে ঘণ্টা দুয়েকের জার্নি। চলে আসা যায় ইটাচুনায়। সবুজ প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করা, ভিজে মাটির গন্ধ শোঁকা, তারাভরা আকাশ দেখা, হুইসল বাজিয়ে শেষ ট্রেন চলে যাওয়ার সাক্ষী থাকা, ছাদ থেকে ঘুড়ি ওড়ানো, কবাডি খেলা, বাঁশির সুরে ভেসে যাওয়া, স্থানীয় মানুষজনের দৈনন্দিন জীবনের স্বাদ নেওয়া – নিজেদের রোজকার রুটিন থেকে একটু ব্রেক নিতে চলে আসুন ইটাচুনা।   

থাকা ও ভাড়া

হরেক রকমের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে রাজবাড়িতে – ‘এ’ ক্যাটেগরিতে ‘বড়ো বউদি’, ‘ছোটো বউদি’, ‘ঠাকুমা’ আর ‘বড়ো পিসি’; ‘মা’ ক্যাটেগরিতে ‘গিন্নি মা’, ‘বড়ো মা’, ‘মেজো মা’; এ ছাড়া ঘর রয়েছে ‘বিলাস’, ‘মঞ্জরী’, ‘কাকাবাবু’, ‘পিসেমশাই’, ‘ছোটো পিসি’, ‘বড়দি’, ‘জ্যাঠামশাই’ ও ‘বড়দা’ নামে – এক একটি ঘরে ২/৩/৪ জনের থাকার ব্যবস্থা, আছে এসি, নন এসি ব্যবস্থা – ভাড়ার হার ২৭০০ টাকা থেকে ৪৫০০ টাকা, জিএসটি আলাদা। এ ছাড়াও ‘হাট’ (মাটির ঘর) আছে – ‘অপরাজিতা’ ও ‘মাধবীলতা’ (২ জনের ১৫০০ টাকা) এবং ‘কনকলতা’ ও ঝুমকোলতা (২ জনের ২৪০০ টাকা), জিএসটি আলাদা।

সারা দিনের সফরেও আসা যায় ইটাচুনায়। ১৫ থেকে ২০ জনের দল নিয়ে এলে বিশ্রাম করা যায় ‘আনন্দ’ সভাঘরে।

কী দেখবেন

১। মহানাদ ব্রহ্মময়ী কালীবাড়ি – ২০০ বছরের কালীবাড়ি, ৮ কিমি।

২। জটেশ্বর শিব মন্দির – মহানাদ কালীবাড়ি থেকে ২ কিমি।

৩। দেবীপুর লক্ষ্মী জনার্দন মন্দির – ২৪ কিমি দূরে টেরাকোটার মন্দির।

৪। পান্ডুয়া মিনার – ১৩ শতকের ১২৫ ফুট উঁচু মিনার, ৮ কিমি।

৫। বাঁশবেড়িয়া –  হংসেশ্বরী ও অনন্ত বাসুদেব মন্দির, ২০ কিমি।

৬। দেবানন্দপুর – কথাশিল্পী শরৎচন্দ্রের জন্মস্থান, ১৮ কিমি।

৭। ব্যান্ডেল চার্চ – ২২ কিমি।

৮। ইমামবাড়া, চুঁচুড়া – ২৫ কিমি।

৯। চন্দননগর – এক সময়ের ফরাসি কলোনি, ৩০ কিমি।

১০। কালনা – সিদ্ধেশ্বরী কালী, ১০৮ শিব মন্দির, লালজি মন্দির, প্রতাপেশ্বর মন্দির, ২৫ চুড়োর কৃষ্ণচন্দ্র মন্দির, ৩০ কিমি।

১১। গুপ্তিপাড়া – চার টেরাকোটার চার বৈষ্ণব মন্দির, ২৭ কিমি।

কী ভাবে যাবেন

হাওড়া থেকে বর্ধমান মেন লাইনে খন্ন্যান লোকাল ট্রেনে দেড় ঘণ্টার পথ। স্টেশন থেকে টোটো, অটো আর ম্যাজিকে ৭ থেকে ১০ মিনিটের পথ ইটাচুনা রাজবাড়ি। কলকাতা থেকে গাড়িতে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বাঁ দিকে আজাদ হিন্দ ধাবা ও হিন্দুস্থান হোটেল পেরোনোর পর বাঁ দিকের ‘একজিট’ ধরুন। ডান দিকে ঘুরে ব্রিজের তোলা দিয়ে আসুন বসিপুর। এখান থেকে সোজা হালুসাই, ১৯ কিমি। খন্ন্যান রেলস্টেশনের দিকে বাঁ দিক ঘুরুন। হালুসাই থেকে ১০ মিনিটের ড্রাইভে পৌঁছে যান ইটাচুনা রাজবাড়ি। রাস্তার বাঁ দিকে।                        

যোগাযোগ

ফোন ৭০০৩১২১৮১১, ৯৬৭৪৫৩৭৯৪০, ৯৭৪৮৭০০৮২০। ওয়েবসাইট http://www.itachunarajbari.com/

মহেশগঞ্জ এস্টেট, বলাখানা

কৃষ্ণনগর থেকে ১২ কিমি দূরে নবদ্বীপ ঘাট রোডে অবস্থিত এই রাজবাড়ি স্থানীয় জমিদার পালচৌধুরীদের এস্টেট, আদতে অষ্টাদশ শতকের এক নীলকুঠি। কৃষক বিদ্রোহের পর নীলচাষ অলাভজনক হয়ে গেলে নীলকুঠির তখনকার মালিক হেনরি নেসবিট স্যাভি ওই অঞ্চলের ক্ষমতাশালী জমিদার পালচৌধুরীদের কাছে ওই এস্টেট বিক্রি করে দেন।   

থাকা ও ভাড়া

৩টি এসি ঘর, ২টি নন এসি গেস্টরুম। ২ জনের থাকা খরচ ৪০০০ টাকা (সোম থেকে বৃহস্পতি) থেকে ৫০০০ টাকা (শুক্র থেকে রবি)। এসি ব্যবহার করলে প্রতি রাতে ১০০০ টাকা। এই খরচের মধ্যে বেড টি, ব্রেকফাস্ট ও ইভিনিং টি ধরা আছে। লাঞ্চ ও ডিনারের খরচ জনপ্রতি ৪০০ টাকা (নিরামিষ) এবং ৫০০ টাকা (আমিষ)। ১০ বছর পর্যন্ত বয়সি শিশুর থাকার জন্য কোনো খরচ লাগে না। তার বেশি বয়স হলে ১০০০ টাকা অতিরিক্ত। ৫ থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুর মিল চার্জ ২৫০ টাকা।

১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বলাখানা বন্ধ থাকে। বর্ষায় বিশেষ ছাড়ের বন্দোবস্ত আছে।

কী দেখবেন

১। মায়াপুর – ৪ কিমি।

২। বল্লাল ঢিপি – ৪ কিমি।

৩। জগন্নাথ মন্দির – ৪ কিমি।

৪। কৃষ্ণনগর – ১২ কিমি।

৫। শান্তিপুর, ফুলিয়া – ৩০ কিমি।

৬। কালনা – ৩৫ কিমি।

৭। নবদ্বীপ – ১২ কিমি।

কী ভাবে যাবেন

ট্রেনে শিয়ালদা/কলকাতা স্টেশন থেকে কৃষ্ণনগর মোটামুটি আড়াই ঘণ্টার পথ। সেখান থেকে অটো বা গাড়িতে ১২ কিমি দূরে মহেশগঞ্জ। কলকাতা থেকে গাড়িতে তিন ভাবে যাওয়া যায়-

(১) ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে রানাঘাট-ফুলিয়া হয়ে শান্তিপুর বাইপাস ধরুন।  কৃষ্ণনগরের আগে রেলওয়ে ক্রসিং পেরিয়ে বাঁ দিকে নবদ্বীপ ঘাট রোড ধরুন। ৮ কিমি গেলে মহেশগঞ্জ।

(২) দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে হিন্দুস্থান হোটেল, তার পর বাঁ দিক ধরে ডান দিকে ফ্লাইওভারের নীচে দিয়ে বাঁ দিকে ঘুরে বৈঁচির পথে। জিটি রোড পেরিয়ে, রেলওয়ে ক্রসিং পেরিয়ে বাঁ দিকে কালনার পথে। সেখান থেকে ধাত্রীগ্রাম-সমুদ্রগড় ছাড়িয়ে গৌরাঙ্গ সেতু পেরিয়ে মহেশগঞ্জ।

(৩) ডানকুনি মোড়ের আগেই ডান দিকে দিল্লি রোড ধরুন। মগরা রেলওয়ে ক্রসিং-এ ডান দিক ঘুরে ফ্লাইওভারের নীচে দিয়ে এসে বাঁ দিকে হেয়ারপিন বাঁক নিয়ে সোজা কালনা। তার পর সমুদ্রগড় ছাড়িয়ে গৌরাঙ্গ সেতু পেরিয়ে মহেশগঞ্জ।

যোগাযোগ

ফোন ০৩৩২৩৯৯৪৯৯৪, ৯৮৩১৩২৮৪৮৬, ৯৮৩১২৭০৮০৭; ই-মেল [email protected]। ওয়েবসাইট http://www.balakhana.com

বাওয়ালি রাজবাড়ি

কলকাতা শহরের উপকণ্ঠে বাওয়ালির মণ্ডল জমিদারদের এই প্রাসাদ আড়াইশো বছরের পুরোনো।

থাকা

এখানে থাকার হরেক ব্যবস্থা – ক্ল্যাসিক হেরিটেজ, জমিন্দারি জুনিয়র স্যুট, রয়্যাল স্যুটস, ডাকবাংলো।

কোথায় ঘুরবেন

কাছেপিঠে ঘোরার জায়গা অনেক রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অছিপুরে চিনা মন্দির, বজবজে কোমাগাতা মারু স্মারক, বড়ো কাছারি। চলে যেতে পারেন ৩০ কিমি দূরে গঙ্গাতীরে ডায়মন্ড হারবার বা রায়চক কিংবা ২০ কিমি দূরে গঙ্গাতীরে ফলতা।

কী ভাবে যাবেন

কলকাতা থেকে ৩৫ কিমি। ডায়মন্ড হারবার রোডে জোকা থেকে ডান দিকের রাস্তা, বিবিরহাট হয়ে। গাড়িতে যাওয়াই সুবিধা। অন্যথায় বাসে জোকা গিয়ে সেখান থেকে স্থানীয় যানে ১৭ কিমি।

যোগাযোগ

ফোন ৯০৭৩৩ ১২০০০। রয়েছে অনলাইন বুকিং-এর সুবিধা http://www.therajbari.com/

কাশিমবাজার রাজবাড়ি

মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থেকে তিন কিমি এগোলেই কাশিমবাজার রোডে পড়বে ‘কাশিমবাজার প্যালেস অব দ্য রয়ে’স তথা কাশিমবাজার রাজবাড়ি। এখানে রাজকীয় আতিথেয়তায় দু’টো দিন কাটিয়ে ঘুরে নিন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের রাজধানী। বিশদ তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন ৯৮৩১০৩১১০৮। ওয়েবসাইট https://cossimbazarpalaceroys.business.site/

0 Comments
Share
visit-to-gwalior-the-witness-of-countrys-first-war-of-independence

sahana chakraborty
সাহানা চক্রবর্তী

হাতে যদি চার-পাঁচ দিনের ছুটি থাকে, আর থাকে ইতিহাসের প্রতি টান, তা হলে অনায়াসেই ঘুরে আসা যেতে পারে মধ্যপ্রদেশের সব চেয়ে আকর্ষণীয় শহর গ্বালিয়রে। কলকাতা থেকে প্রায় ২৪ ঘণ্টা, আর রাজধানী দিল্লি থেকে মাত্র ৫ ঘণ্টার দূরত্ব অতিক্রম করলেই পৌঁছে যাওয়া যায় প্রাচীনকালের গোপাদ্রি তথা মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়র শহরে।

ইতিহাস আর রূপকথা যেখানে হাত ধরাধরি করে চলে, সেই হল গ্বালিয়র (গোয়ালিয়র)। বিশ্বাস আর বিশ্বাসঘাতকতা, ভালোবাসা আর হিংস্রতা, হিন্দু-মুসলিম স্থাপত্যের সঙ্গে চৈনিক স্থাপত্য শিল্প যেখানে মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছে, সেই হল গ্বালিয়র। এই শহর দেশকে দিয়েছে তানসেন, বৈজু বাওরা থেকে হকির জাদুকর ধ্যানচাঁদকে। এই শহর দেখেছে ঔরঙ্গজেবের হিংস্রতা, দেখেছে মানসিং তোমরের ভালোবাসা। দেখেছে ঝাঁসির রানির দেশপ্রেম, সয়েছে সিপাহি বিদ্রোহের আঘাত। এখান থেকেই দেশের ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ। প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের সাক্ষী এই শহরেই পাওয়া গিয়েছে পৃথিবীর প্রথম শূন্যের নিদর্শন।

আরও পড়ুন ভারতভূমের সাহেবপাড়া ম্যাকলুস্কিগঞ্জ

প্রাচীন কালে এই শহরের নাম ছিল গোপাদ্রি বা গোপগিরি। দ্বিতীয় শতকে এখানে নাগবংশ রাজত্ব করত। তাদের রাজধানী ছিল বিদিশা। যদিও পরে ভীমনাগ তাঁর রাজধানী স্থানান্তরিত করেন পদ্মাবতীতে। গুপ্তবংশের রাজা সমুদ্রগুপ্তের হাতে নাগ-শাসনের অবসান ঘটে। মধ্য যুগে মহম্মদ ঘোরীর হাতে আক্রান্ত হয় এই শহর। পরবর্তীকালে দাস বংশের শাসনকালে ইলতুৎমিসের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় এখানে। অতঃপর হিন্দু তোমর বংশের হাত ঘুরে পানীপতের (পানিপথ) প্রথম যুদ্ধের পর এই শহর বাবর তথা মুঘলদের অধীনে আসে। বাবর তাঁর আত্মজীবনীতে গোয়ালিয়র দুর্গকে ‘ভারতের দুর্গগুলির মধ্যে নেকলেসের মুক্ত’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।

jain tirthankars' statues
জৈন তীর্থঙ্করদের মূর্তি।

বাস্তবিকই, এই শহরের মূল আকর্ষণ দুর্গ। শহরের মধ্যেই প্রায় তিন বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দাঁড়িয়ে। দুর্গে প্রবেশপথের দু’ধারে চোখে পড়বে পাহাড়ের গায়ে খোদিত জৈন তীর্থঙ্করদের মূর্তি। এদের বয়স পাঁচশো থেকে তেরোশো বছর। এগুলির মধ্যে সব চেয়ে উল্লেখযোগ্য জৈনগুরু আদিনাথের ৫৮ ফুট উঁচু দণ্ডায়মান মূর্তিটি। প্রায় ৩৫ ফুট উঁচু পদ্মাসনা আরও একটি মূর্তি নজর কাড়ে। দুর্গে ঢোকার গোপাচল পাহাড়ের গায়ে বিভিন্ন আকারের জৈন স্থাপত্য-মূর্তি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেই। মূর্তিগুলির অধিকাংশই ‍১৩৪১ থেকে ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রাজা দুঙ্গর সিং ও তোমররাজ কীর্তি সিংহের আমলে খোদিত বলে জানা যায়। তবে এগুলির মধ্যে পারশনাথের ৪২ ফুট উঁচু মূর্তিটি অবাক করে। ১৫২৭ সালে মুঘলসম্রাট বাবরের আক্রমণকালে এই জৈন স্থাপত্যগুলি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার নিদর্শন আজও বিদ্যমান।

এ বার মূল দুর্গ। কবে দুর্গ তৈরি হয়েছিল, সঠিক জানা যায় না, জানা যায় না নির্মাণকারী রাজার নামও। জনশ্রুতি, খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে সুরজ সেন নামে এক রাজা এই দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। গ্বালিপা নামে এক সাধু এক পবিত্র পুকুরের জল ছিটিয়ে দিয়ে তাঁর কুষ্ঠরোগ সারিয়েছিলেন। সেই কথা মনে রেখে কৃতজ্ঞ রাজা দুর্গটি নির্মাণ করেন। পুকুরটি দুর্গের মধ্যেই। রাজাকে ‌‘পাল’(রক্ষক) উপাধিতে ভূষিত করেন সাধু । আর বলেন, যত দিন তাঁরা এই উপাধি ব্যবহার করবেন, তত দিন পর্যন্ত এই দুর্গ তাঁদের পরিবারের দখলে থাকবে। সত্য সত্যই সুরজ সেন পালের ৮৩ জন উত্তরাধিকারী এই দুর্গে রাজত্ব করেন। কিন্তু ৮৪তম বংশধর তেজকরণের আমলে এই দুর্গ ওই পরিবারের হাতছাড়া হয়।

আরও পড়ুন বিশ্বনাথের বারাণসী, বারাণসীর বিসমিল্লাহ

দুর্গের নির্মাণকাল নিয়ে যতই বিতর্ক থাকুক, খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকের আগেই যে এটি নির্মিত হয়েছিল, বিভিন্ন প্রমাণ থেকে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। গজনীর সুলতান মামুদ চার দিন এই দুর্গ অধিকার করে রেখেছিলেন। কুতুবউদ্দিন আইবক, ইলতুৎমিসের হাত ঘুরে ১৩৯৮ সালে এই দুর্গের মালিকানা যায় তোমর রাজবংশের হাতে। এই তোমর রাজবংশের শাসনকালকেই বলা হয় গ্বালিয়রের স্বর্ণযুগ। এই বংশের সব চেয়ে উল্লেখযোগ্য রাজা মানসিং তোমর। তাঁর আমলেই এই দুর্গে সাতটি নতুন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু শীঘ্রই সিকান্দার লোদির চোখ পড়ে এই দুর্গ। অবশেষে ইব্রাহিম লোদির হাতে মানসিং নিহত হন। এর পর দুর্গের দখল নেন বাবর। মুঘলদের থেকে দুর্গের মালিকানা ছিনিয়ে নেন শেরশাহ। কিন্তু আকবর ফের দুর্গের দখলদারি পুনরুদ্ধার করেন। সেই থেকেই এই দুর্গ হয়ে যায় মুঘলদের কারাগার। ঔরঙ্গজেব তাঁর ভাই মুরাদকে নেশাগ্রস্ত করে এখানেই বন্দি করে রেখেছিলেন। পরে এখানেই তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

gwalior man mandir
মানমন্দির প্রাসাদ।

দুর্গে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই পর্যটকদের নজর কাড়ে মানমন্দির প্রাসাদ, আর তার মীনাকারি। ১৮৫৭-য় সিপাহি বিদ্রোহের সময় অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় মানমন্দির, যদিও পরে তা পুনর্নিমিত হয়। কিন্তু প্রাচীন গঠনশৈলীর সঙ্গে পুনর্নিমিত অংশের ফারাকটা অতি বড়ো আনাড়ির চোখেও ধরা পড়ে।

ডান দিকে হাতি পোল গেট। এক সময় ওই দরজা দিয়েই চলাচল করত রাজকীয় হস্তিবাহিনী। বাঁ দিকে মিউজিয়াম। দুর্গ থেকে দেখা যায় গোটা শহরটাকে। দুর্গের ওপর থেকেই কিছুটা দূরে দেখা যায় তানসেনের সমাধিস্থল।

আরও পড়ুন ওখরে-হিলে-ভার্সে, যেন মেঘ-বালিকার গল্প

দুর্গের মূল অংশ দু’টি — মানমন্দির এবং গুজারি মহল। প্রিয় রানি মৃগনয়নীর জন্য গুজারি মহল নির্মাণ করিয়েছিলেন রাজা মানসিং। তবে মূল আকর্ষণ কিন্তু মানমন্দিরই। বাইরে-ভেতরে অপূর্ব স্থাপত্য, ভারতীয় শিল্পকলার সঙ্গে চৈনিক স্থাপত্যশিল্পের অপূর্ব সংমিশ্রণ সত্যিই দেখার মতো। এখানে রানিদের দোলনা-ঘরে রয়েছে প্রাচীন টেলিফোনিক ব্যবস্থার নিদর্শনও। ওপর থেকে নেমে এসেছে একটি পাইপ। পুরোটাই ‘কনসিলড’। সেটিতে কান রাখলে স্পষ্ট শোনা যায় ওপর থেকে পাঠানো কোনো বার্তা। আর চমকে যাওয়ার মতো ঘটনা হল, এই দোলনা-ঘরেই বন্দি ছিলেন মুরাদ আর এখানেই তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। গোটা মানমন্দিরের জৌলুসের মধ্যে এই ঘরটিতেই যেন কোথাও একটা হাহাকার ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। 

অবাক করে সে যুগের নির্মাণশৈলীতে ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা। গোটা মানমন্দির জুড়ে আলো এবং বায়ু চলাচলের অভিনব ব্যবস্থা বিস্ময় জাগায়।

sas bahu temple
সাস বহু মন্দির।

মানমন্দির থেকে বেরিয়ে দুর্গের চত্বরের মধ্যেই আরও কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শন দেখার পালা। প্রতিহাররাজ মিহিরভোজের আমলে তৈরি তেলি কা মন্দির, গরুড়স্তম্ভ, রাণা ভীম সিংহের ছত্রী ইত্যাদি। আর সাস-বহু মন্দিরের অপূর্ব কারুকাজের জন্য একে গ্বালিয়রের ‘দিলওয়ারা মন্দির’ বলাই যায়। এ ছাড়া রয়েছে কর্ণ মহল, বিক্রম মহল ইত্যাদি। দুর্গের মধ্যেই রয়েছে গুরুদ্বার দাতা বন্দি ছোর। মুঘল বাদশাহ জাহাঙ্গীরের নির্দেশে যেখানে ষষ্ঠ শিখগুরু হরগোবিন্দ সিংকে বন্দি রাখা হয়েছিল, সেখানেই নির্মিত এই গুরুদ্বারটি। আমরা জানি, শূন্যের আবিষ্কর্তা ভারতীয়রাই। দুর্গের এককোণে চতুর্ভুজ মন্দিরে রয়েছে পৃথিবীর প্রাচীনতম শূন্যের নিদর্শন।

jai vilas palace
জয়বিলাস প্রাসাদ।

এ বার জয়বিলাস প্যালেস। পাশ্চাত্য স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই প্রাসাদ নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন স্যার মাইকেল ফিলোস। নির্মিত হয় রাজা জয়াজিরাও সিন্ধিয়ার আমলে। এখানে রয়েছে আধুনিক গ্বালিয়রের রূপকার মাধবরাও সিন্ধিয়ার নামে গোটা একটি গ্যালারি। রয়েছে সিন্ধিয়া পরিবারের ব্যবহৃত নানা জিনিসপত্র। তবে এর মূল আকর্ষণ হল ১০০ X ৫০ X ৪১ ফুট উঁচু দরবার হলটি। আর সাড়ে ১২ মিটার লম্বা সাড়ে তিন টন ওজনের দু’টি ঝাড়লণ্ঠন। শোনা যায়, এই দু’টি ঝাড়লণ্ঠনই হল বিশ্বের সব থেকে বড়ো ঝাড়লণ্ঠন। আর রয়েছে এক কার্পেট, যা বুনতে নাকি লেগে গিয়েছিল ১২ বছর।

rani laxmi bai statue
রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের স্ট্যাচু।

আরও একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থল হল ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাইয়ের সমাধিস্থল। এই শহরেই ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে প্রাণ দিয়েছিলেন লক্ষ্মীবাই। কিংবদন্তি বলে, সিন্ধিয়াদের বিশ্বাসঘাতকতার জন্যই ঝাঁসির রানির বীরত্ব হেরে গিয়েছিল ব্রিটিশদের কাছে। তারা ইচ্ছাকৃত ভাবেই একটি দুর্বল ঘোড়া সরবরাহ করেছিল রানিকে, যাতে তিনি সহজেই ব্রিটিশদের হাতে বন্দি হয়ে যান। ফুলবাগ এলাকায় অত্যন্ত অনাড়ম্বরভাবে রক্ষিত এই মহীয়সী রানির সমাধি। রেলস্টেশন থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্থিত এই সমাধিস্থল। সেখানে প্রস্তর ফলকের ওপর লেখা, ‘‘জ্যোতি জ্বালাই আজাদি কি/দে কর কে কুরবানি/যুগ যুগ তক ইতিহাস কহেগা/তেরি শৌর্য কি কহানি।’’  ২৪ ঘণ্টা জ্বলছে ‘অমরজ্যোতি’, ঝাঁসির রানির অমর বীরত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে।

এই শহর হল দেশের একাধিক নামজাদা শিল্পীর জন্মস্থান। তাঁদেরই একজন হাফিজ আলি খান। তাঁর পৈতৃক বাড়িতে সরোদ ঘর (সংগীত মিউজিয়াম) অবশ্যই দেখবেন। প্রাচীন বাদ্যযন্ত্রের প্রভূত সংগ্রহ রয়েছে এখানে।

কেনাকাটা

কেনাকাটার জন্য যেতে হবে পটঙ্কর বাজার। এখানে রয়েছে ট্র্যাডিশনাল মাহেশ্বরী এবং চান্দেরী শাড়ির সম্ভার। এ ছাড়াও, এখানকার ওয়াল হ্যাঙ্গিং, হাতে বোনা কার্পেট, ধাতুর তৈরি নানা হস্তশিল্প, চামড়ার পোশাক, আর গোয়ালিয়র শ্যুটিং-শার্টিং তো অত্যন্ত বিখ্যাত। 

খাবার

এখানকার নোনতা খাবার অত্যন্ত বিখ্যাত। গজক, নিমকি, গুড়ের বিভিন্ন রকমারি খাবার, বিভিন্ন রকমের চাট অবশ্যই খেয়ে দেখবেন।

tansen tomb
তানসেনের সমাধি।

উৎসব

আকবরের অত্যন্ত প্রিয় সভাসদ তানসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয় তানসেন সংগীত সমারোহ। তানসেনের সমাধিস্থলে চার দিন ধরে চলা এই অনুষ্ঠানে দেশের প্রতিটি রাজ্য থেকে নামজাদা শিল্পীরা হাজির হন। কাজেই ডিসেম্বর মাসে এলে এই অনুষ্ঠানে দেখতে ভুলবেন না। আগে থেকে ইন্টারনেটে অনুষ্ঠানের দিন দেখে যাত্রা করলে বাড়তি পাওনা হিসেবে দেশের বেশ কয়েক জন নামজাদা শিল্পীর অনুষ্ঠান সামনে থেকে দেখার অভিজ্ঞতা হয়ে যেতে পারে।

কী ভাবে যাবেন

রাজধানী দিল্লি থেকে গ্বালিয়রের দূরত্ব ৩৪৩ কিলোমিটার, ট্রেনে পাঁচ-ছ’ ঘণ্টা। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত দিল্লি থেকে অজস্র ট্রেন। আর হাওড়া থেকে গ্বালিয়রের দূরত্ব ১২৮৫ কিলোমিটার। চম্বল এক্সপ্রেসে লাগে প্রায় ২৪ ঘণ্টা। ১২১৭৫ চম্বল এক্সপ্রেস ছাড়ে মঙ্গল, বুধ, ও রবি এবং ১২১৭৭ চম্বল এক্সপ্রেস শুক্রবারে। সপ্তাহে চার দিনই বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে হাওড়া থেকে ছাড়ে। 

কোথায় থাকবেন

এখানে সব রকম পর্যটকদের জন্যই হোটেল রয়েছে। বাজেট হোটেল থেকে পাঁচতারা হোটেল সবই রয়েছে। এ সব হোটেলের সন্ধান পাবেন makemytrip, goibibo, trivago, cleartrip, holidayiq  ইত্যাদি ওয়েবসাইট থেকে। আগে থেকে বুক করে রাখলে অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষই স্টেশনে গাড়ি পাঠিয়ে দেন।

এ ছাড়াও এমপি পর্যটনের ‘তানসেন রেসিডেন্সি’ও রয়েছে। অনলাইন বুকিং www.mptourism.com ।  

 

 

0 Comments
Share
now-you-can-do-online-booking-of-forest-safari-of-north-bengal

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: উত্তরবঙ্গ সফরে পর্যটকদের অন্যতম লক্ষ্য থাকে ডুয়ার্সের কোনো এক জঙ্গলে সাফারি করা। কিন্তু সে সাফারির বুকিং করতে গিয়ে কম ঝক্কি পোহাতে হয় না।

বুকিং-এর জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে শেষে দেখলেন টিকিট শেষ। তখন এক রাশ হতাশা।

পর্যটকদের সেই সমস্যা দূর করতেই এ বার উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য বন দফতর। এ বার থেকে অনলাইনেই করে ফেলতে ফেলতে পারবেন সাফারি বুকিং।

কী ভাবে এই বুকিং করবেন?

  • প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ফরেস্ট ডেভলপমেন্ট এজেন্সির ওয়েবসাইটে (www.wbsfda.org) লগইন করুন
  • এর পরে আপনার স্ক্রিনে ডান দিকে ‘বুক রাইড’ অপশনটা দেখুন। সেখানে ক্লিক করুন।
  • ওই অপশনে ক্লিক করলে আপনি আরও দুটি অপশন পাবেন, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান এবং গরুমারা জাতীয় উদ্যান।
  • জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে ক্লিক করলে আপনি চারটে অপশন পাবেন- চিলাপাতা গাড়ি সাফারি, কোদালবস্তি গাড়ি সাফারি, মাদারিহাট গাড়ি সাফারি এবং হলং হাতি সাফারি। আপনার পছন্দের সাফারিতে ক্লিক করে অনলাইনে সেই সাফারি বুক করে নিন।
  • গরুমারা জাতীয় উদ্যানে ক্লিক করলে অবশ্য একটাই জঙ্গল সাফারির অপশন আপনি পাবেন।

বন দফতরের আশা, অনলাইনের মাধ্যমে সাফারি বুকিং শুরু হওয়ায়, উত্তরবঙ্গে পর্যটকদের আনাগোনা আরও বাড়বে।

এই ওয়েবসাইট থেকে আপনি অনেক ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারের বুকিং-ও করে ফেলতে পারবেন। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারগুলি। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন ওই ওয়েবসাইটেই।

0 Comments
Share
a-trip-yo-subhasgram-and-other-places-related-to-netaji

jahir raihan
জাহির রায়হান

সাবমেরিন। সংজ্ঞা-সহ সাবমেরিনের ব্যাখ্যা বুঝতে বুঝতেই টের পেয়েছিলাম দেশনায়কের কলজের জোর। কতই বা বয়স তখন, মেরে কেটে বারো-তেরো, ষষ্ঠ শ্রেণির হাফপ্যান্ট-পরা ছাত্র। ক্লাসে দুলালবাবু বলে চলেন, “সাবমেরিন একটি জলযান, জলে ডুবে ডুবে যায়, ওপর থেকে কিছুই বোঝা যায় না।” সেই সাবমেরিন চেপে ইংরেজদের চোখে ধুলো দিয়ে দেশান্তরী হন সুভাষ, মাতৃভূমি ভারতবর্ষকে ব্রিটিশ কবল থেকে মুক্ত করতে। মিঠুন-অমিতাভকে সরিয়ে সেই দিনই আমার বল্গা মনের নায়ক হয়ে বসেন সুভাষচন্দ্র। তার পর একটা একটা করে নতুন শ্রেণিতে উর্ত্তীর্ণ হই, আর একটু একটু করে হৃদয়াকাশে উদ্ভাসিত হতে থাকেন সুভাষচন্দ্র বোস। তাঁর ব্যাপকতা এবং দেশপ্রেম ছাড়িয়ে যায় বাকিদের। এর মধ্যেই একদিন শুনলাম, একবার বেলডাঙা এসেছিলেন তিনি। ঘটনা জানামাত্রই গর্বিত হলাম অতীতের সেই আগমনকে স্মরণ করে। শহরের নেতাজি পার্ক ও নেতাজি তরুণতীর্থের যৌথ উদ্যোগে জানুয়ারি মাসের সপ্তাহব্যাপী নেতাজি স্মরণোৎসবের তাৎপর্য ধরা দিল নব রূপে।

আরও পড়ুন পর্যটনের প্রসারে উত্তরবঙ্গে একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস মুখ্যমন্ত্রীর

গোটা শীত জুড়েই বঙ্গের এ-দিক ও-দিক চরকিপাকের সিদ্ধান্ত নিয়েছি গরমের গুঁতো থাকাকালীনই। তাই মিলনদা কোদালিয়া যাওয়ার কথা বললে রাজি হলাম তৎক্ষণাৎ। ২০১৭’র শেষ দিনে যখন সবাই নতুন বছরকে আবাহনের প্রস্তুতিতে মগ্ন, আমি ছুটলাম সুভাষচন্দ্রের পিতৃদেব জানকীনাথের পৈতৃকভিটে দর্শনে। প্রথমে যাব কোদালিয়া, তার পর এলগিন রোডে নেতাজিভবন। সেইমতো কাউকে কিছু না বলে একা একাই বেরোলাম অমৃতপুত্রের সন্ধানে। ভাগীরথী এক্সপ্রেস দেরি করায় সুভাষগ্রাম যাওয়ার ট্রেন পেতে দেরি হল, তবে মধ্যবর্তী সময়টুকুর সদ্ব্যবহার হল ‘জনআহার’-এর চিকেন বিরিয়ানিতে। ৭৮ টাকায় বছরের শেষ লাঞ্চ। সেই ছাত্রাবস্থা থেকেই শিয়ালদহে যাতায়াত আমার। হাতে সময় বা ট্রেনের দেরি থাকলে স্টেশনের ধাপিতে বসে বসে নানা কিসিমের লোকজন ও তাদের কাণ্ডকারখানা নাগাড়ে খেয়াল করা আমার খুব প্রিয় টাইমপাস। একটা করে ট্রেন ঢোকে আর মিছিলের মতো লোক গলগল করে বেরিয়ে হারিয়ে যায় মহানগরীর পথে পথে। এবং আশ্চর্য, নিজেরটা ছাড়া বাকিরা কোথায় কী কাজে যায় তা আমি একেবারেই জানি না।

kodalia house
কোদালিয়ার বাড়ি, সংস্কারের আগে।

গড়িয়ায় বছর তিনেক ছিলাম আমি, তখন নিউ গড়িয়া স্টেশনটাই ছিল না, ছিল না মেট্রো রেলের বাহাদুরিও। বাঘাযতীন ছাড়ালেই তখনও তেপান্তরের মাঠঘাট চোখে পড়ত, অট্টালিকার বাড়বাড়ন্ত ছিল না। আর একটা ব্যাপারে অবাক হতাম, গড়িয়ার দুই দিকের সিগন্যালই সর্বদা হলুদ হয়েই থাকত, ট্রেন এসেই যেত, এসেই যেত। এখনও আমার বিশ্বাস, সোনারপুর থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত ট্রেন ধরতে কেউই সময় দেখে না, জানে স্টেশনে গেলেই কোনো না কোনো লোকাল পেয়ে যাব ঠিক। ডায়মন্ড হারবার লোকাল গড়িয়া ঢুকতেই এ-দিক সে-দিক উঁকিঝুকি মারলাম, কিছুই ঠাহর হল না। মিলনদা বলে দিয়েছিল, সোনারপুরের পরই সুভাষগ্রাম। সেইমতো গুতোঁগুঁতি বাঁচিয়ে নিলাম নামার প্রস্তুতি। এত ভিড়ের মধ্যেও পল্টু ব্যাটার অস্থিরতা টের পাচ্ছি, সে বুঝি সেই সন্ধিক্ষণের নাগাল পেয়ে গিয়েছে, যার কারণে এখানে আসা। রাজপুর-সোনারপুর পৌরসভার অন্তর্গত সুভাষগ্রাম। রিকশায় উঠে দেখি, চালক পা তুলে হ্যান্ডেল পাকড়ে বসে রয়েছে আর রিকশা চলছে আপন গতিতে। সাধারণ রিকশার এই অসাধারণ আচরণ এর আগে দেখি নাই কখনও। হাঁটতেই চাইছিলাম, কিন্তু এক কাকাবাবুর খপ্পরে পড়েই এই রিকশাবিলাস, উনি লম্বা করে জানালেন চল্লিশ মিনিট হাঁটলে তবেই বোসবাড়ি, অগত্যা!

আরও পড়ুন চণ্ডীদাসের প্রেম ও নানুর

নেতাজি সুভাষের সম্মানেই যে চাংড়িপোতা হয়েছে সুভাষগ্রাম, সে কথা না জানালেও চলে। রিকশা চড়ে রবিবারের সুভাষগ্রামের মহল্লা নজরে রাখতে রাখতেই এগিয়ে চলি হরনাথ বসুর বাড়ির দিকে, যাঁর নাতিকে আজও খুঁজে ফেরে বাঙালি, বিশ্বাস করে দেশের এই দুর্দশায় তিনি নিশ্চিত ভাবেই ফিরে আসবেন, মৃ্ত্যু-বিজ্ঞান হেরে যায় বাঙালি আবেগের কাছে, বারবার। তরুণ সংঘের মাঠ পার করে বাবুদাকে পাওয়া গেল। সৌম্যদর্শন ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করতেই দেখিয়ে দিলেন সেই ভিটেটিকে যার মাটি সৃষ্টি করেছিল এক আপসহীন অগ্নিপুত্রের যিনি অত্যাচারীর চোখে চোখ রেখে কথা বলতে জানতেন। হলুদ রঙা দোতলা বাড়ি, বড়ো বারান্দা, বেশ কিছু ছাদের অংশ ভেঙে পড়েছে, ঘরগুলি তালাবন্ধ। খোলা জানলার ফাঁক দিয়ে কিছু আসবাবপত্রও চোখে পড়ে। বাড়ির সামনেও অনেকটা ফাঁকা জায়গা। ক্ষয়ে যাওয়া ইটগুলিকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়, কেমন ছিল বোসেদের ঘরকন্না? দাদুর বাড়ির ঘরময়, বারান্দা জুড়ে, বাগানে, হামাগুড়ি, দৌড়োদৌড়ি করেছে কি ছোট্ট সুভাষ? কটকে পড়াশোনার ফাঁকে, ছুটিছাটাতে বা বার্ষিক পরীক্ষার শেষে কখনও কি এসেছে দাদু-ঠাকুমার কাছে? কেমনধারা ছিল তার আবদার? কী ভাবে সে পেল এত সাহস? এত শৌর্য? এত তাপ? নিরুত্তর চুনসুরকি ধুলো হয়ে ঝরে পড়ে অবিরত, আমি বসে পড়ি বারান্দায়, ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করি সেই কালকে যা এখন মহাকালের কবলে।

netaji bhawan
এলগিন রোডে নেতাজিভবন।

শঙ্কর ঘোষ এ বাড়ির বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক। বংশপরম্পরায় তাঁরা এই কাজ করে আসছেন। তিনিই জানালেন, রাজ্য সরকারের পূর্ত দফতর বাড়িটি অধিগ্রহণ করেছে, সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজও শুরু হবে শীঘ্র। এ তথ্যে নিশ্চিন্ত হয়ে বেরিয়ে এলাম। (এই দু’ বছরে সেই ভবনের সংস্কার হয়েছে।) বাবুদা তখনও ওখানে বসেছিলেন, বললেন এত দূর থেকে এসেছেন বোসেদের পারিবারিক নারায়ণ মন্দির দেখে যান। তাঁর কথামতো ঠাকুরদালান দেখে নিলাম, দুর্গাপুজোও হয় সেখানে, বোস পরিবারের বর্তমান সন্তানসন্ততিরা নাকি এখনও একত্রিত হন পুজোর ক’টা দিন। নির্জন দালানচত্বরটি আমার বেশ লাগল, অনেকক্ষণ বসে রইলাম চুপচাপ, একা একাই। কান পেতে শোনার চেষ্টা করলাম হরনাথ বোস, জানকীনাথ বোস ও তাঁদের পরিবারবর্গের পুজোকালীন হইচই, হাঁকডাক, কলরব যা কালের অভিঘাতে হয়েছে নিরুদ্দেশ। মন্দিরের গেটটিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে হরনাথ লজ, পাশেই কোদালিয়া হরনাথ বীনাপাণি লাইব্রেরি, অগ্রদূত এবং কোদালিয়া ডাকঘর যার সামনে প্রশস্ত খেলার মাঠ। সম্পন্ন গৃহস্থ হরনাথ বোসই ছিলেন এ সবের মালিক। পাড়াটিও বেশ, ছিমছাম, কোলাহলমুক্ত, শরৎচন্দ্রের পল্লিসমাজের কথা মনে পড়ায়।

কবি সুভাষ থেকে নেতাজি ভবন মেট্রো স্টেশন। পুরো পথটিতেই কোদালিয়া আচ্ছন্ন করে রাখল আমায়। তবে শুধু নেতাজির দাদুর বাড়ি নয়, আরও এক বিখ্যাত বাঙালি সলিল চৌধুরীর মাতুতালয়ও নাকি কোদালিয়া। এ দিকে ট্রেনে উঠেই এক সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছি, যাব ‘নেতাজি ভবন’, টিকিট করেছি ‘নেতাজি’-এর। এই লাইনে প্রথম যাত্রা আমার, তাই ‘নেতাজি’ আর ‘নেতাজি ভবন’ গিয়েছে গুলিয়ে। ভাড়ায় পুরো পাঁচ টাকার ব্যবধান, বৈদ্যুতিক দরজা খুললে হয়! যা ভেবেছি তা-ই, যেখানে ভূতের ভয় সেখানেই সন্ধে হয়, দরজার কাছে নীল পোশাকের নিরাপত্তারক্ষী আর প্লাস্টিকের গোল চাকতিটিকে অবলীলায় অস্বীকার করল মেশিন বাবাজি, পর পর দু’ বার, চিচিং ফাঁকও হল না। ভয়ানক অপ্রস্তুত পরিস্থিতি, এমন সময় দেখা দিলেন স্বয়ং নারায়ণ, আমার পিছনের ভদ্রলোকটি চাকতিটি কুড়িয়ে মেশিনের ওপর রাখলেন, হাতে থাকা স্মার্ট কার্ডটি চেপে ধরতেই পাঁচ টাকার সীমান্ত খুলে গেল, উনি শুধু বললেন, চলুন চলুন। আপনাদের অনেক আগেই জানিয়েছি ভগবান আমার বখাটেপনা ভালোওবাসেন, প্রশ্রয়ও দেন, আজ আবার প্রমাণ হল।

নতুন নাম লালা লাজপৎ রায় সরণি হলেও আমার ভোট এলগিন রোডের তরে, কেননা এলগিন রোড উচ্চারিত হলেই সাথে সাথে সেই ইতিহাসও মনে এসে ভিড় করে যা নিয়ে বাঙালির গর্বের শেষ নেই। নেতাজিভবনের বিশালতা ও শৈলীতে গা ছম ছম শুরু হবে প্রবেশমাত্রই। প্রথমেই চোখ পড়বে সেই গাড়িটির দিকে যা দেশের স্বাধীনতায় দিকনির্ণয়ী ভূমিকা নিয়েছিল। ভাইপো শিশিরচন্দ্র বসু এই অডি করে কাকা সুভাষ বোসকে পৌঁছে দিয়েছিলেন গোমো। যা ইতিহাসের পাশাপাশি বাঙালিজীবনেও মহানিস্ক্রমণ বলে খ্যাত। এ ইতিহাস যদি আপনার জানা থাকে, তা হলে গাড়িটির সামনে গিয়ে দাঁড়ান, ষ্টিয়ারিং হাতে শিশিরচন্দ্র আর পেছনের সিটে হেলান দিয়ে বসে রয়েছেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষ – শুধু এই দৃশ্যটুকু কল্পনা করতে পারলেই মেরুদণ্ডের বৈদ্যুতিক শিরশরানি টের পাবেন নিশ্চিত। এ এমন একটা ঘটনা যা ছাপোষা, সাধারণ, ভীরু বাঙালিকেও আস্পর্ধার পাঠ দেয়, তাকেও বিশ্বাস করতে শেখায় হ্যাঁ বাঙালিও পারে।

the car driven by sisir bose
এই গাড়িতে চাপিয়ে নেতাজিকে গোমো পৌঁছে দিয়েছিলেন ভাইপো শিশির।

নেতাজি রিসার্চ ব্যুরোর যত্নে জানকীনাথ, শরৎচন্দ্র ও সুভাষচন্দ্রের ব্যবহৃত ঘর, বিছানা-সহ আসবাবপত্র দেখানোর আন্তরিক ব্যবস্থাপনা আপনাকে মুগ্ধ করবে। এমন কিছু অনন্য অনুভূতি আপনার মনের দখল নেবে যার নাগাল কখনোই কোথাও বেড়াতে বেরিয়েই আপনি পাননি। মার্বেলপাথরে নির্মিত একজোড়া থালা ও বাটি যা দিয়ে এ বাড়িতে সুভাষের শেষ ডিনার সম্পন্ন হয়েছিল তা দেখে আপনার চোখ ভিজে যাওয়া স্বাভাবিক, যদি আপনি ভাবতে পারেন, এই থালায় খেয়েই ঘরের ছেলেটি দেশান্তরী হয়েছিল। জান্তে অজান্তে সুভাষকে তো আমরা ঘরের ছেলে বলেই মনে করি, তাই না? তাঁর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সংরক্ষিত পদচিহ্নে পা দেবেন না যেন, পারলে ওই মহামানবের পদচিহ্নেই প্রণাম করুন, পুণ্যি হবে। কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীন যে ঘরে বসে কাজকর্ম এবং আগত লোকজনের সঙ্গে উনি দেখা করতেন, তার দেওয়াল ছিল ত্রিবর্ণরঞ্জিত, আজও সে ভাবে রাখা রয়েছে। তিন তলায় সাজিয়ে রাখা তাঁর নিজ হস্তে লেখা চিঠিপত্র, বা জামাকাপড়ের সামনে দাঁড়ালেই আপনার লোম খাড়া হয়ে যাবে অজ্ঞাত মগ্নতায়।

একটা মানুষের কর্মকাণ্ডের ব্যাপ্তি কতখানি হলে তাঁকে ‘নেতাজি’ বলে মেনে নেন স্বয়ং রবিঠাকুর, একটিবার ভেবে দেখুন। কতটা আবেদন থাকলে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত রাষ্ট্রনায়েকরা ছুটে আসেন তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে আজও, এখনও, সেটাও ভাবার বিষয়। আজ যখন সর্বত্রই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা তখন তাঁর উদাত্ত আহ্বান, তাঁর বলিষ্ঠ প্রত্যয় ভীষণই জরুরি ছিল। নেতাজিভবনের আনাচেকানাচে ইতস্তত পদচারণা করলে শ্রদ্ধায় আপন হতেই মাথা নত হয়ে আসে। মিউজিয়াম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে। ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসি বাড়ি থেকে, রাস্তা হতে লাগাতার ছবি তুলতে থাকি, তবুও যেন আশ মেটে না। মহানিষ্ক্রমণের ৭৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে গত ২০১৬ সালে, তবুও যেন সব জীবন্ত। সব দেখেও মনের খিদে মেটে না, কিন্তু যেতে তো হবে। মেট্রো ধরে মহাত্মা গান্ধী রোড স্টেশন, ওপরে উঠলেই মহাজাতি সদন। যার নামফলকে লেখা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিকল্পিত মহাজাতি সদনের শিলান্যাস করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পরবর্তীতে যার দ্বরোদঘটন হয় ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের হাত থরে। এটাও শেষ নয়, শিয়ালদহ যাব বলে মহাত্মা গান্ধী রোড-চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ ক্রসিংয়ে গিয়ে দেখি আরও একটা স্মৃতিফলক। সেখানেও জ্বলজ্বল করছে সুভাষচন্দ্রের নাম । সে ফলক জানান দিচ্ছে, Through this historical place Netaji Subhas Chandra Bose continued his ambitious and never ending journey to free our motherland-INDIA । সত্তর বছরেরও বেশি হয়ে গেল মাতৃভূমি স্বাধীন হয়েছে, নেতাজির পথচলা শেষ হয়নি, সুভাষ ঘরে ফেরে নাই, আজও।

ছবি: পিন্টু মণ্ডল ও লেখক

0 Comments
Share
various-tourism-projects-foundation-stone-laid-by-chief-minister

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: পর্যটনের প্রসারে উত্তরবঙ্গে একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দার্জিলিং ম্যালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন পালনের মঞ্চেই এই প্রকল্পগুলির শিলান্যাস হয়। 

যে যে পর্যটন প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছে, সে গুলি হল-

  • ডেলো টুরিস্ট রিসর্ট, কালিম্পং
  • ঝালং টুরিস্ট রিসর্ট, কালিম্পং
  • চালসা টুরিস্ট রিসর্ট, জলপাইগুড়ি
  • ক্যাম্পসাইট, ভোরের আলো, গজোলডোবা
  • টংলু ইকো কটেজ, সান্দাকফু সার্কিট, দার্জিলিং
  • বোদাগঞ্জে বিভিন্ন পর্যটন সুলভ ব্যবস্থা, জলপাইগুড়ি। 

আরও পড়ুন গজলডোবায় চালু হল ‘ভোরের আলো’, দেখে নিন কিছু ছবি

এ দিকে পাহাড়ে পর্যটনের প্রসারে আরও অনেক কিছু প্রকল্পের কাজ চলছে। দার্জিলিং-এর কাছে টাইগার হিলে কটেজের কাজ কিছু দিনের মধ্যেই শেষ হবে। পাশাপাশি কালিম্পং-এ মর্গ্যান হাউস তুরিস্ট লজ সংস্কারের কাজও শেষ হয়েছে। 

মুখ্যমন্ত্রীর আশা, এর পর পর্যটকের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে দার্জিলিং পাহাড়। 

0 Comments
Share
a-visit-to-nanur-of-poet-chandidas

writwik das
ঋত্বিক দাস

বাংলা সাহিত্যে একাধিক চণ্ডীদাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এই একাধিক চণ্ডীদাস নিয়ে আধুনিক পণ্ডিতরা দ্বিধাবিভক্ত। কেউ কেউ বলেন এক চণ্ডীদাস বৈষ্ণবপদাবলির রচয়িতা। আর অন্য চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা। এঁদের এক জন বাঁকুড়ার ছাতনার অধিবাসী ছিলেন, আরেক জন বীরভূমের নানুরের। অনেকে আবার বলেন, এই দুই চণ্ডীদাসই এক। বিতর্ক থাক, চণ্ডীদাস সম্পর্কে যে কাহিনি সব চেয়ে বেশি প্রচারিত, সেই কাহিনিই আজ শোনাই, সেই সঙ্গে তাঁর নানুরের কিছু কথা৷

১৩৭০ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন নানোর এবং অধুনা নানুরে চণ্ডীদাসের জন্ম৷ তাঁদের পদবি ছিল ‘বাড়ুজ্জে’ বা ‘বন্দোপাধ্যায়’৷ এই জন্য তাঁকে বড়ু চণ্ডীদাস বলেও ডাকা হয়৷ তাঁর পরিবার খুব দরিদ্র ছিল৷ দারিদ্রের ভারে এক সময় তাঁরা নানুরের ভিটেমাটি ছেড়ে দিয়ে অধুনা বাঁকুড়া জেলার ছাতনা গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে পণ্ডিতগিরি করে কিছু অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে দিন অতিবাহিত করতে লাগলেন৷ তাঁর প্রথম স্ত্রীর নাম ছিল পদ্মজা৷ অভাবের জ্বালায় একদিন পদ্মজা তাঁকে ছেড়ে চলে যান কীর্নাহারের বাপের বাড়িতে৷

basulidevi temple
বাসুলীদেবীর মন্দির।

নিঃসঙ্গ অবস্থায় চণ্ডীদাসও ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন৷ ঘুরে বেড়িয়ে নিজে কবিতা লিখে সেগুলো বিদ্বজনদের শুনিয়ে বেড়াতে থাকেন৷ সারা দিনে যেটুকু হাতে আসে সেইটুকু দিয়ে রাতেরবেলায় একটি মাটির হাঁড়িতে অন্ন ফুটিয়ে আধাপেটা খেয়ে দিন কাটাতে থাকলেন৷ এ ভাবে ঘুরতে ঘুরতে তিনি একদিন চললেন রাজদরবারের পথে৷ রাজা তখন সভায় বসে মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যাস্ত৷ তাঁর কানে এল সুন্দর কণ্ঠে ঝুমুর গানের আওয়াজ৷ রাজা আলোচনায় আর মন লাগাতে পারলেন না৷ কোথা দিয়ে আসছে এত সুরেলা কণ্ঠ, এত সুন্দর ঝুমুরগান কেই-বা গাইছে৷ ভাবতে ভাবতে এক ভিখারিকে তাঁর দরবারের দিকে এগিয়ে আসতে দেখলেন৷ রাজদরবার পাহারায় নিয়োজিত সৈন্যরা সেই ভিখারীকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দিলে স্বয়ং রাজা সৈন্যদের থামিয়ে ভিখারি চণ্ডীদাসকে ভেতরে আসার অনুমতি দিলেন এবং সেই সঙ্গে আবদার করলেন, আরও ঝুমুরগান শুনিয়ে তাঁর মন তৃপ্ত করতে হবে৷ এমন অবস্থায় চণ্ডীদাস ঝোলা থেকে তাঁর লেখা পদ্য ও ঝুমুরগানের একখানি সংকলন বার করে বেশ ক’টি গান রাজামশাইকে শোনালেন৷ রাজামশাই যারপরনাই তৃপ্ত চণ্ডীদাসের গানে৷ তাঁর অবস্থার খবর নিয়ে পুরস্কারস্বরূপ রাজা তাঁকে বাসুলীদেবীর মন্দিরের পুরোহিতপদে নিযুক্ত করলেন এবং মন্দিরসংলগ্ন একটি ঘরে থাকার অধিকার দিলেন৷ চণ্ডীদাস জীবনধারণের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে শ্রীকৃষ্ণর পদ রচনায় ব্রতী হলেন এবং বাসুলীদেবীর পূজা করতে লাগলেন৷

দেবী বাসুলী বীণারঞ্জিত সরস্বতীদেবী, যদিও তাঁকে দুর্গাদেবী মনে করে শাক্ত রূপে পূজা করা হয়৷ এই দেবীর পূজা করতে করতে চণ্ডীদাস দেবীর ভক্তিপ্রেমে বাঁধা পড়লেন৷ বাসুলীদেবীর উপাসনাই তাঁর জীবনের মুল অঙ্গ হয়ে উঠল৷ দেবীর পূজা করার পাশাপাশি শ্রীকৃষ্ণের ভক্তিরস মাঝেমধ্যে সৃষ্টি করে মুখে আওড়াতে লাগলেন, সঙ্গে সঙ্গে সেই পদগুলি লিখে ফেলতে থাকলেন৷

এমন চলতে চলতে একদিন তাঁর মনে এক দোটানার উদ্ভব হল – যে অঙ্গ দিয়ে শাক্তের উপাসনা করে চলেছেন সেই অঙ্গ দিয়ে কী করে শ্রীকৃষ্ণের পদ রচনা করবেন৷ দিশেহারা তিনি৷ এমন অবস্থায় এক অমাবস্যার রাতে বাসুলীদেবী তাঁকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে পদ রচনার আদেশ দিলেন৷ দেবীর আদেশ পেয়ে চণ্ডীদাস প্রদীপের টিমটিমে আলোয় বসে মহানন্দে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পদ রচনা করতে লাগলেন৷

teracotta work in nanur temples.
নানুরে মন্দিরের গায়ে টেরাকোটার কাজ।

এমন ভাবে দিন কাটতে কাটতে চণ্ডীদাসের জীবনে আবার পরিবর্তন এল৷ বাসুলীদেবীর মন্দিরে একদিন আগমণ ঘটল এক পরমা সুন্দরী যুবতীর৷ অপূর্ব মুখশ্রী তাঁর৷ তিনি রজকিনি রামী৷ পিতৃমাতৃহারা রামী মন্দিরে দেবদাসীর কাজ করতে এলেন৷ মন্দিরের কাজ গুছিয়ে করেন রামী৷ ঠাকুরের কাপড় ধোয়া থেকে ঝাঁট দেওয়া, সবেতেই নিখুঁত৷ একদিন ভোগ বিতরণের সময় রামীর সঙ্গে চণ্ডীদাসের মুখোমুখি সাক্ষাৎ ঘটে৷ প্রথম দর্শনেই রামীর রূপে মুগ্ধ হয়ে যান চণ্ডীদাস, তাঁর মনের প্রেমসাগর যেন উত্তাল হয়ে ওঠে৷

স্ত্রী পদ্মজাকে হারিয়ে একাকী জীবন৷ পদ্মজাকে সে ভাবে সুখ দিতে পারেননি৷ অনেক দিন নারীর শরীরসুখ থেকেও বঞ্চিত৷ এমন অবস্থায় রামীর মুখ চণ্ডীদাসকে মাতোয়ারা করে তোলে৷ আহা্ কী সৌন্দর্য্য রামীর! হিরের দ্যুতির মতো মুখের ঔজ্জ্বল্য৷ বিদ্যুতের ঝলকানির মতো বাহুযুগল, তন্বী শরীর – সব মিলিয়ে চণ্ডীদাসের দু’ নয়নে শুধুই রামীর উপস্থিতি৷ কখনও বা বাসুলীদেবীর সঙ্গে রামীকে গুলিয়ে ফেলছেন আবার কখনও শ্রীরাধিকার সঙ্গে৷ “ইস্ একবার এসে যদি রামী তাঁর কাছে বসে বুকে তাঁর সুন্দর হাতখানি ছোঁয়াতেন”, “যদি কখনও রামীর শরীর স্পর্শ করার মতো সুখ কপালে জুটত”৷ রাতের একাকী বিছানায় শুধুই এমন ভাবনা তাঁর৷

“ব্রহ্মাণ্ড ব্যাপিয়া আছয়ে যে জন, কেহ না জানয়ে তারে।
প্রেমের আরতি যে জন জানয়ে সেই সে চিনিতে পারে।।”

basulidevi
বাসুলীদেবী।

এ ভাবে এক দিন উঠোন নিকোনোর সময় সুপুরুষ রামীর পথ আগলে দাঁড়ান চণ্ডীদাস এবং রামীকে প্রেম নিবেদন করেন৷ রামী কিঞ্চিৎ লজ্জিত। চণ্ডীদাস তাঁকে আলিঙ্গন করতে অগ্রসর হলেন৷ রামী তখন চণ্ডীদাসকে মনেমনে গ্রহণ করে প্রস্তাব দিলেন – ঠাকুর, তুমি তোমার সব কাম-বাসনা, সর্বশরীর এবং পুরো সম্মতিতে আমাকে গ্রহণ করো, তা হলেই আমি তোমার হতে পারব৷

চণ্ডীদাস এ বার খুশিতে পাগলপারা হয়ে বললেন, আজ থেকে আমার শরীর, এই বাসুলীদেবীর মন্দিরের দায়িত্ব সব তোমার৷ তুমি শুধু আমার৷ তুমি এই একাকী উত্তপ্ত মন ও শরীরকে শান্ত করো৷ চণ্ডীদাসের প্রেম গ্রহণ করলেন রামী৷ সঙ্গে ভয় পেলেন, যদি পাড়ার লোক তাঁদের প্রেমে বাধা দেয়৷ রামী বললেন, “না ঠাকুর, আমাকে ছাড়ো এতে তোমার বিপদ”৷ “আসুক বিপদ, শুধু তুমি আমাকে ভালোবাসো আমি সব সময় তোমার”- চণ্ডীদাসের জবাব৷ “তবে তা-ই হোক, আজ থেকে আর কোনো লোকলজ্জাকে ভয় নয়” – স্পষ্ট উক্তি রামীর৷

“মরম না জানে, মরম বাথানে, এমন আছয়ে যারা।
কাজ নাই সখি, তাদের কথায়, বাহিরে রহুন তারা।
আমার বাহির দুয়ারে কপাট লেগেছে – ভিতর দুয়ার খোলা।”

প্রেমের টানে পদাবলি রচনায় যাতে বাধার সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারে সংযত চণ্ডীদাস৷ রামী, বাসুলীদেবী ও কৃষ্ণের পদ – এই তিনটি বিষয় আবর্তিত হতে লাগল চণ্ডীদাসের জীবন৷

বাসুলীদেবীর প্রতি ভক্তি ও রামীর প্রতি প্রেমসুখ, দুয়ে মিলে পরমসুখে এ বার জোর কদমে শ্রীকৃষ্ণ পদাবলি লিখতে লাগলেন চণ্ডীদাস৷ কখনও ভাবের ঘোরে নিজেদের প্রেমকাহিনি স্থান পেল পদাবলির কাব্যে৷ এ ভাবে একদিন সৃষ্টি হল বাংলার প্রথম সাহিত্য শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের৷

আজ যেখানে মাটির ঢিবি অতীতে সেখানে সাঁঝের বেলায় চণ্ডীদাস  ও রামী কীর্তনের আসর বসাতেন যাতে গ্রামের মানুষ তাদের দু’জনের সম্পর্ককে গুরুশিষ্যার মতো করেই দেখেন৷ তাঁদের কীর্তন শুনতে জড়ো হতেন গ্রামের প্রায় সকলেই৷

চণ্ডীদাস ও রামীর মৃত্যু নিয়ে প্রচলিত কাহিনির কথায় আসি। সেই সময় বাংলার পাঠান সুলতান কিরগিজ খাঁ জোর করে বিয়ে করলেন এক হিন্দু কন্যাকে৷ সেই সুলতানের পত্নীও প্রায়ই আসতেন চণ্ডীদাসের কীর্তন শুনতে৷ ধীরে ধীরে সুলতানের সেই স্ত্রীও চণ্ডীদাসের প্রেমে পড়লেন৷ সুলতান তাঁর স্ত্রীর কাছে সব ব্যাপার জানতে চাইলেন৷ চণ্ডীদাসের প্রেমে পড়ার কথা সুলতানের স্ত্রী নিজমুখে স্বীকার করে নিলে কিরগিজ এক সন্ধেবেলা নিজ স্ত্রীকে বাসগৃহে আটকে রেখে চণ্ডীদাসের কীর্তনের আসরে আচমকা গোলাবর্ষণ করেন৷ ঘটনাস্থলেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যান চণ্ডীদাস, রামী-সহ বেশ ক’জন গ্রামবাসী৷ ধ্বংস হয় বাসুলীদেবীর মন্দির৷

that mound in nanur
সেই ঢিবি।

তবে চণ্ডীদাসের মৃত্যু নিয়ে আরেকটি মত প্রচলিত৷ চণ্ডীদাস ও রামির প্রেমকাহিনি গ্রামবাসীরা জানতে পেরে রেগে ফুঁসে ওঠে এক রাতে দু’জনকেই বেধড়ক পিটিয়ে মেরে ফেলে৷ পরে তাঁদের দুজনের মৃতদেহের ওপর মাটি জড়ো করে ঢিবি বানিয়ে দেয়৷

এই সব কাহিনি কতটা বিশ্বাসযোগ্য, সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। বিশেষ করে, চণ্ডীদাসের সময় গোলা, বিশ্বাস করা যায় না।

১৭-১৮ শতক নাগাদ এই অঞ্চলের তিলি সম্প্রদায়ের মানুষ মাটি খুঁড়ে বাসুলীদেবীর মূর্তি পুনরুদ্ধার করেন এবং মাটির ঢিবির পাশেই মন্দিরগুলি নির্মাণ করেন৷ পরবর্তীকালে ১৯৪৫ সাল নাগাদ সরকারি ভাবে খনন চালিয়ে অতীত পুনরুদ্ধার করা হয়৷ বর্তমানে বাসুলীদেবীর মন্দির-সহ আরও ১৪টি শিবমন্দির রয়েছে মন্দিরচত্বরে৷ সব ক’টাই চারচালাবিশিষ্ট৷ এর মধ্যে দু’টি শিবমন্দিরে টেরাকোটার সুন্দর কাজ লক্ষ করা যায়৷ মন্দিরদু’টির দেওয়ালে টেরাকোটার কাজে রাধাকৃষ্ণের লীলাকেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে৷

এ ছাড়া মন্দিরচত্বরের দু’ পাশে চারটি করে শিবমন্দিরে পঙ্খের অতি সুন্দর কারুকাজ দৃশ্যমান৷ বাকি শিবমন্দিরগুলি সাধারণ ইটে তৈরি এবং চারচালা চূড়াবিশিষ্ট৷

narayan mandir,nanur
নারায়ণ মন্দির।

বাসুলীদেবীর মন্দিরের ডান দিকে চারচালার সমতল ছাদবিশিষ্ট মন্দিরটিতে নারায়ণের পূজা হয়৷ আর সামনের ঘরটিতে বিভিন্ন মৃন্ময়ী দেবদেবীর পূজা হয়৷

বাসুলিদেবীর মন্দির সমতল চারচালাবিশিষ্ট, ইটের তৈরি, মন্দিরের মাথায় একটি চূড়া৷ মন্দিরের গর্ভগৃহে চণ্ডীদাস পূজিত দেবীমূর্তি৷ কালো কষ্টিপাথরের দেবীমূর্তি বীণারঞ্জিত হলেও মুলত শাক্তমতে তাঁর পূজা হয়৷ আশ্বিন মাসে শারদোৎসবের সময় পাঁচ দিন ধরে দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়৷ সেই সময় মোষবলিও হয়৷

এই মন্দিরচত্বর থেকে সামান্য দূরে থানার পাশে যে পুকুরটি আছে সেখানেই রামী কাপড় কাচতে যেতেন৷ এখনও পুকুরধারে রক্ষাকালী মন্দিরের এক দিকে রামীর কাপড় কাচার পাটাটি সংরক্ষিত আছে৷

washing stone of Rami
রামীর কাপড় কাচার পাটা।

নানুরে বাসস্ট্যান্ডের মোড়ে রয়েছে চণ্ডীদাস ও রামীর বড়ো মূর্তি৷ এ ছাড়া নানুরের কাঁথার কাজের খ্যাতি উল্লেখযোগ্য৷ নানুর সফরে সেখানকার মিষ্টির স্বাদ নিতে ভুলবেন না৷

কী ভাবে যাবেন

রেলপথে হাওড়া/শিয়ালদা-রামপুরহাট লাইনে বোলপুর-শান্তিনিকেতন পৌছে সেখান থেকে বাসে বা গাড়ি ভাড়া করে যেতে পারেন নানুর, মাত্র ২১ কিলোমিটা৷ বোলপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে মুহুর্মুহু বাস যাচ্ছে নানুর গ্রাম হয়ে৷ কলকাতা থেকে সড়কপথ দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বর্ধমান, সেখান থেকে মঙ্গলকোট-নতুনহাট হয়ে নানুর।

কোথায় থাকবেন

নানুরে থাকার তেমন জায়গা নেই৷ শান্তিনিকেতন বেড়াতে গিয়ে ঘুরে নিন নানুর। শান্তিনিকেতনে নানা বাজেটের হোটেল আছে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের রয়েছে শান্তিনিকেতন ট্যুরিস্ট লজ ও রাঙাবিতান ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স। দু’টোরই অনলাইন বুকিং www.wbtdcl.com। বেসরকারি হোটেলের সন্ধান পাওয়া যাবে goibibo, makemytrip, trivago, booking.com, tripadvisor, yatra.com, cleartrip প্রভৃতি ওয়েবসাইট থেকে।

ছবি: লেখক

 

 

 

 

 

 

0 Comments
Share
mamata-makes-big-announcements-on-plassey-mayapur-and-nabadwip

নদিয়া: পলাশিতে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং নবদ্বীপ, মায়াপুরকে হেরিটেজ সিটি হিসেবে ঘোষণা করা এখন রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ব্যাপারে কাজ কতটা এগিয়েছে, নদিয়া জেলা সফরে এসেছে জেলাশাসক সুমিত গুপ্তের কাছে জানতে চাইলেন তিনি।

তবে জেলাশাসক জানিয়ে দিয়েছেন জমির কোনো সমস্যা নেই। এর পরেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, যত দ্রুত সম্ভব এই কাজ শেষ করতে হবে।

উল্লেখ্য, পলাশির যুদ্ধকে স্মরণ করে সেখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। সেই কাজ কিছুটা এগিয়ে গিয়েছে। অন্য দিকে গৌরাঙ্গের নবদ্বীপ এবং মায়াপুরে দেশবিদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক আসেন। সে কারণেই হেরিটেজ সিটি হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

অন্য দিকে নদিয়া জেলার খেজুর গুড়কে কেন্দ্র করেও কিছু করা যায় কি না সেই দিকটাও দেখার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। গুড়কে প্যাকেজিং করে বাইরে বিক্রি করার ব্যাপারটিও কেন্দ্রকে দেখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলার সমস্ত উন্নয়নের কাজ যাতে সঠিক ভাবে হয় এবং সেই সব কাজে সব স্তরের নেতা–কর্মী, এমনকি জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদ্যস্যরা যুক্ত হতে পারেন, সেই দিকটাও দেখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

0 Comments
Share
does-snowfall-really-occurs-in-daringbadi
শ্রয়ণ সেন

শুরু হয়েছিল সেপ্টেম্বরেই। সময়ের বরফে ঢেকে গিয়েছিল হিমাচলের লাহুল-স্পিতি। তার পর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ। তুষারপাতে ঢেকে গেল কেদার-বদরী। ডিসেম্বরের শুরুতেই বরফ পড়ল শিমলায়। গত দশ বছরে বড়োদিনের এত আগে বরফ দেখেনি শিমলা। এর কিছু দিনের মধ্যেই দার্জিলিং, সিকিম, ভুটান। ‘ফেটাই’-এর প্রভাবে প্রবল তুষারপাত হল সান্দাকফুতে। সাদা হয়ে গেল ছাঙ্গু হ্রদ। বরফের আনন্দে একদিনের ছুটি ঘোষণা করল ভুটান সরকার। সময়ের আগেই এ বার বরফ পাচ্ছে হিমালয়ের বিভিন্ন অঞ্চল।

স্বভাবতই অনেক মানুষের মধ্যেই প্রশ্ন জেগেছে, ওড়িশার দারিংবাড়িতে কি এ বার তুষারপাত হবে? সোশ্যাল মিডিয়ায় কান পাতলেই দেখা যাচ্ছে, অনেক মানুষের প্রশ্ন। দারিংবাড়িতে বরফ পড়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছেন তাঁরা।

এ রকম পোস্টই ছড়িয়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

দারিংবাড়ি। সমুদ্রতল থেকে তিন হাজারের ফুটের কিছু বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই জায়গাটি ওড়িশার কাশ্মীর হিসেবে পরিচিত। ইদানীং পর্যটকদের, আরও পরিষ্কার করে বললে, বাঙালি পর্যটকদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই দারিংবাড়ি।

দক্ষিণ ওড়িশার কন্ধমল জেলায় অবস্থিত এই শৈলশহর। একটা সময় ছিল, যখন মাওবাদীদের দাপট ছিল এই অঞ্চলে। তাই ওড়িশা পর্যটনের একটা পান্থনিবাস থাকলেও, ধীরে ধীরে পর্যটকের অভাবে সেটা বন্ধ হয়ে যায়। তার পর মাওবাদীদের দাপট কমলে আবার দারিংবাড়ির রমরমা। এ বার আরও জোরদার। দারিংবাড়িকে পর্যটনের মানচিত্রে নিয়ে আসার জন্য অনিল সোয়েনের অবদানও কম কিছু নয়। তিনিই এখানে ইকো হোম তৈরি করেন। দারিংবাড়ি জনপদের একটু বাইরে অবস্থিত এই ইকো হোম থেকে সামনের উপত্যকাটি বেশ লাগে। পর্যটক সমাগম বাড়তে শুরু করায় এখন আরও দু’একটি হোটেল তৈরি হয়েছে বাজার সংলগ্ন এলাকায়। ওড়িশা ইকো ট্যুরিজম দফতরও একটি সুন্দর রিসোর্ট তৈরি করেছে এখানে।

সুতরাং এ সব থেকেই বোঝা যায় দারিংবাড়ি ঠিক কতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এ বার আসা যাক মূল বক্তব্যে। দারিংবাড়িতে সত্যিই বরফ পড়ে? সেই সত্যিটা উদ্ঘাটন করার জন্য এটি লেখা। ব্যাপারটা এ বার বিশ্লেষণ করা যাক।

দারিংবাড়ির ইকো হোম থেকে।

প্রথমেই বলা যাক দারিংবাড়িতে তুষারপাত হয় না। অতীতে কোনো দিনই দারিংবাড়িতে বরফ পড়েনি, আর ভবিষ্যতেও পড়বে না। তা হলে বরফ পড়ার প্রসঙ্গ আসছে কেন?

এটা স্রেফ সংবাদমাধ্যমের একটা অংশের তৈরি করে দেওয়া বিভ্রান্তি। যে বিভ্রান্তিতে সওয়ার হয়ে সাধারণ পর্যটকও বিশ্বাস করেন এখানে বরফ পড়ে।

দারিংবাড়িতে তুষারপাত হয় না, কিন্তু শীতকালে মাঝেমধ্যে যেটা হয় তা হল গ্রাউন্ড ফ্রস্ট। অর্থাৎ, প্রবল ঠান্ডায় রাতে পড়া শিশিরই ভোরের দিকে জমে বরফ হয়ে যায়। ভোরবেলায় সাধারণ মানুষ ঘুম থেকে উঠেই খেলায় করেন মাঠঘাটে সাদা বরফের একটা আস্তরণ তৈরি হয়ে গিয়েছে। প্রতি বছরই এই ঘটনাটি ঘটে। এ বছর জানুয়ারির ২৭-২৮ তারিখেও এমন ভাবেই বরফের আস্তরণ দেখা গিয়েছিল।

গ্রাউন্ড ফ্রস্ট এবং তুষারপাতের মধ্যে পার্থক্য কী?

তুষারপাত হতে গেলে প্রাথমিক ভাবে যেটা দরকার তা হল মেঘ এবং বৃষ্টি। বৃষ্টির পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে, কোনো ভাবেই তুষারপাত হবে না। অন্য দিকে গ্রাউন্ড ফ্রস্টের জন্য দরকার পরিষ্কার আকাশ, জম্পেশ ঠান্ডা।

এ ভাবেই গাছের ওপরে পড়া শিশির জমে বরফ হয়ে যায় দারিংবাড়িতে।

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা বলেন, উত্তর এবং মধ্য ভারত যখন প্রবল শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়ে, তার প্রভাব আসে দারিংবাড়ির ওপরেও। তাঁর কথায়, “ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দারিংবাড়ির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির কাছাকাছি চলে যাওয়া কোনো ভাবেই অস্বাভাবিক নয়। কারণ মধ্য ভারতের প্রবল ঠান্ডার প্রভাব পড়ে দারিংবাড়ি এবং সমগ্র কন্ধমল জেলা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে।” সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শূন্যর কাছাকাছি চলে গেলেই দেখা দেবে গ্রাউন্ড ফ্রস্ট।

কখনও যদি শীতে দারিংবাড়িতে বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হলে কোনো ভাবেই সেখানে তুষারপাত হবে না। কারণ তুষারপাত হতে গেলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রাকে পৌঁছে যেতে হবে শূন্যের কাছে আর দারিংবাড়িতে শীতে বৃষ্টি হলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমবে তো না-ই, বরং অনেকটাই বেড়ে যাবে। কারণ বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প ঢুকবে এই অঞ্চলের ওপরে।

উচ্চতাজনিত কারণ

কখনও শুনেছেন রুদ্রপ্রয়াগে বরফ পড়ছে? রুদ্রপ্রয়াগ এবং দারিংবাড়ির উচ্চতা কিন্তু প্রায় একই রকম। হিমালয়ের কোলে অবস্থান করা রুদ্রপ্রয়াগেই যদি বরফ না পড়ে, তা হলে দারিংবাড়িতে বরফ পড়ার ব্যাপারটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

এটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রবীন্দ্রবাবু বলেছেন, “দারিংবাড়ি এক হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত হলেও নিরক্ষরেখার অনেকটাই কাছে। ফলে এখানে ক্রান্তীয় বা গ্রীষ্মপ্রধান আবহাওয়ার প্রাধান্যই বেশি। সুতরাং কোনো ভাবেই এখানে তুষারপাত সম্ভব নয়।”

দারিংবাড়ির ইকো হোমের কটেজগুলি।

তা হলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াল? দারিংবাড়িতে তুষারপাত হয় না। কিন্তু মাঝেমধ্যে গ্রাউন্ড ফ্রস্ট দেখা দেয়। তাই তুষারপাতের আকাঙ্খায় দারিংবাড়ি গেলে ব্যর্থ হবেন। কিন্তু আপনার ভাগ্য যদি অত্যন্ত ভালো হয়, তা হলে কড়া শীতের কোনো এক ভোরে দেখবেন আপনার ঘরের বাইরে শিশির জমে বরফ হয়ে গিয়েছে। এটাই দারিংবাড়ির সৌন্দর্য।

0 Comments
Share
many-winter-attractions-in-kolkata

নিজস্ব প্রতিনিধি: দিন তিনেক পরেই বড়োদিন। তার পরেই বর্ষ বিদায়ের সুর। আসবে নতুন বছর ২০১৯। হিমেল হাওয়ার পরশ নিয়ে সপ্তাহব্যাপী আনন্দে মেতে উঠতে চলেছে মহানগরী। ‘সিটি অব জয়’-এ মানুষকে নানা উপহার দিতে বিনোদন পার্কগুলো সেজে উঠছে নবরূপে। সঙ্গে রয়েছে বহু চমক। কোথাও রয়েছে এসি টয়ট্রেন, কোথাও বা প্যারিসের আদলে তৈরি আইফেল টাওয়ার থেকে নগর দর্শন। আবার কোথাও গোটা পার্কটি সেজে উঠছে রং-বেরঙের চিনা আলোয়। এ ভাবেই দু’টি বছরের সন্ধিক্ষণে তৈরি হয়েছে ইকো ট্যুরিজম পার্ক থেকে কলকাতার জাদুঘর বা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল।

আরও পড়ুন ওড়িশার দারিংবাড়িতে কি সত্যিই বরফ পড়ে?

বিনোদনের বড়ো কেন্দ্র নিউটাউনের ইকো পার্ক। সারা বছরই এখানে লোক সমাগম ঘটে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ইকো পার্ক। বিগত দু’ বছর ধরে ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি ভিড়ের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে ইকো পার্ক। এ বছর এখানে মূল আকর্ষণ হতে চলেছে এসি টয়ট্রেন। হিডকোর চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন বলেন, “এ বার দর্শকদের জন্য অনেক চমক রয়েছে ইকো পার্কে। যেমন এসি ট্রেন, সপ্তম আশ্চর্য, স্কাল্পচার গার্ডেন বা ভাস্কর্য উদ্যান, আইফেল টাওয়ার ইত্যাদি।”

eifel tower in Eco Park
ইকো পার্কে আইফেল টাওয়ার। ছবি সৌজন্যে এসআরএস ফোটোজ ।

উল্লেখ্য, এ বছর প্রথম দর্শকদের জন্য চালু করা হচ্ছে লাক্সারি এসি ট্রেন। এই ট্রেনে থাকছে গদি মোড়া আরামাদায়ক বসার ব্যবস্থা। কাচে ঘেরা পর্দা দেওয়া জানলা। সপ্তম আশ্চর্য আগে থেকেই ছিল, সেটা পুরো খুলে দেওয়া যায়নি। এ বার শীতে তা পুরো খুলে দেওয়া হচ্ছে। আইফেল টাওয়ারটি অভিনব। লিফটে চড়ে উপরে উঠে চার দিক দেখা যাবে। সেখান থেকে দর্শকরা দেখতে পাবেন নবনির্মিত ঝুলন্ত রেস্তোরাঁটিও। আইফেল টাওয়ার খুলে দেওয়া হবে ২৫ ডিসেম্বর। ভাস্কর্য উদ্যানে এ বার নতুন সংযোজন অডিও ভিস্যুয়াল লাইট অ্যান্ড সাউন্ড।

নিকো পার্কে এ বারের আকর্ষণ ফেস্টিভ্যাল অব লাইট। বিশেষ ধরনের ‘ম্যাজিক্যাল পান্ডা লাইট’-এর আয়োজন করেছে একটি চিনা কোম্পানি। নানা দেশে এই আলোর উৎসবের আয়োজন করার পর এ বার আসছে কলকাতায়। আলোর এই খেলা দেখা যাবে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিন পর্যন্ত।

pyramid in Eco park
ইকো পার্কে পিরামিড। ছবি সৌজন্যে এলবিবি।

সায়েন্স সিটিতেও থাকছে বিশেষ আকর্ষণ। অধিকর্তা শুভব্রত চৌধুরী বলেন, “থাকছে থ্রিডি ফিল্ম থিয়েটার। থাকছে ডার্ক রাইড, যেখানে তুলে ধরা হয়েছে মানবজাতির ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস। ডিজিট্যাল প্যানোরামার সাহায্যে দেখানো হবে এভ্যুলিউশনের নানা পর্যায়।”

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের ডিরেক্টর জয়ন্ত সেনগুপ্ত জানান, “আমাদের এ বারে মূল আকর্ষণ পুরো বাগান জুড়ে খ্রিস্টমাস ফেস্টিভ লাইট। এই লাইট থাকবে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঝেমাঝেই লাইভ মিউজিক চলবে।”

আলিপুর চিড়িয়াখানার এ বারের বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে নকটারনাল হাউজ বা রাতচরাদের আবাস। তৈরি হয়েছে হায়নার ঘর। এ ছাড়াও একটি বাঘ আনা হচ্ছে চিড়িয়াখানায়।

0 Comments
Share
see-the-pics-of-snow-covered-sandakphu

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: ফেটাইয়ের প্রভাবে সান্দাকফু-ফালুট অঞ্চলে তুষারপাত হতে পারে তেমন পূর্বাভাস ছিলই, কিন্তু সেটা যে এতটা বেশি হবে সে আন্দাজ করা যায়নি। সোমবার রাত থেকেই বরফ পড়তে শুরু করে সান্দাকফু-ফালুটের একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। সাধারণ এই অঞ্চলে জানুয়ারির শেষ থেকে মার্চ পর্যন্তই বরফের দেখা মেলে, কিন্তু সব কিছুই আগাম চলছে। বড়োদিনের এক সপ্তাহ আগে শেষ বার এই অঞ্চল কবে বরফ দেখেছিল, তা অনেকেই মনে করতে পারছেন না।

যাইহোক, আবহাওয়া পরিষ্কার হতে শুরু করেছে বুধবার সকাল থেকে। উঠেছে রোদ। সেই সঙ্গে আরও মায়াবী হয়ে উঠেছে সান্দাকফু। তুষারে ঢাকা সান্দাকফুর এই ছবিগুলো দেখুন। এই ছবি আপনাকে মোহিত করবেই।

তখন প্রবল তুষারপাত চলছে।
বরফ পড়ছে অবিরাম

 

মেঘ সরিয়ে অবশেষে বেরোচ্ছে রোদ।
বরফে ঢাকা সান্দাকফুর আনন্দ নিচ্ছেন পর্যটকরা।
বরফের চাদরে মুড়ে রয়েছে বাংলার সর্বোচ্চ স্থান।
মায়াবী সান্দাকফু

ছবি সৌজন্য: ওম গুরুং (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

0 Comments
Share
1238