Browsing Category:ভ্রমণ-ছক

weekend-visit-to-parimal-kanan
সুদীপ মাইতি

সপ্তাহান্ত কাটানোর মতো সুন্দর জায়গা, বেশ খোলামেলা, সঙ্গে ছোটোদের পার্ক। পাশেই একটি লেক, যেখানে চার সিটের নৌকায় প্যাটেল সহযোগে করা যাবে নৌকাবিহার। আবার এই লেকের মাঝে রয়েছে  একটি ছোট্ট  কিন্তু আকর্ষণীয় অ্যাকোয়ারিয়াম। পাশাপাশি এই বাগানেই রয়েছে প্রায়  ১২০০ গাছের রকমারি গোলাপ।  সঙ্গে  নানা রকমারি ফুলও।  এই বাংলায় এক সঙ্গে সব চেয়ে বেশি ফুল  বন দফতরের এই বাগানেই ফোটে বলে জানালেন বিট অফিসার তাপস কারক। শুধু তা-ই নয়, ছোটো ছোটো বনসাই গাছের মোড়কে বাগানের মধ্যে হাঁটার রাস্তা। এর সঙ্গে জুড়ে দিন শালের বাগান। সঙ্গে লাল চন্দন, সাদা চন্দন, পিয়াশালের বাগান। এ সব কিছু কিন্তু প্ল্যান্টেশন করে তৈরি করা। এ সবের সঙ্গে পাবেন পাখির চিড়িয়াখানা। ময়ূর, এমু পাখিরা আপনাকে অভিবাদন জানাবে। সঙ্গে পাবেন খরগোশও।

আরও পড়ুন পুজোয় চলুন: গন্তব্য মধ্যপ্রদেশ ১

এতক্ষণে হয়তো মনে কৌতূহল জন্মেছে,  এ সব এক জায়গায় পাওয়া যাবে! হ্যাঁ। পাওয়া যাবে, ‘পরিমল কানন’-এ, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা রোডে। বন বিভাগের ৪০০ বিঘা এলাকা জুড়ে বিস্তৃত চোখজুড়োনো একটি স্পট।  ওঃ হ্যাঁ, বলতে ভুলেই গেছি, রয়েছে টয় ট্রেনও, যা চড়ে আপনি ‘পরিমল কানন’-এর কিছুটা অংশ হইহই করে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। আরও রয়েছে – বিভিন্ন ওষধি গাছের বাগান। আবার এই বাগানের অভ্যন্তরে রয়েছে ১৫০ আসন বিশিষ্ট একটি কনফারেন্স রুম, যেখানে সারা বছরের প্রতিটা রবিবারই লেগে থাকে মিটিং। সরকারি প্রচেষ্টায় এত সুন্দর জায়গার জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।

কী করে পত্তন হল ‘পরিমল কানন’-এর? বন বিভাগের এই জমিকে আশেপাশের দখলদারি থেকে রুখতে সেই ১৯৮৮-৮৯ সালে   মাত্র এক-দেড় একর জমি ঘিরে একটি পার্ক তৈরি হয়। সেই সময় মাইকে করে গ্রামে গ্রামে প্রচার চালানো হত বিকালে পার্কে আসার জন্য। আর আজ এর থেকে বছরে আয় হয়  চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ লক্ষ টাকা।  এই শুরুর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষ। পরে বনমন্ত্রী পরিমল মিত্র উদ্যোগী হন।  এটি প্রায় পরিপূর্ণ রূপ দেওয়ার পর পরই এখান থেকে একদিন ফেরার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তার পরই তাঁকে স্মরণ করে এই বাগানের নাম রাখা হয় ‘পরিমল কানন’, যা বর্তমানে আরও সুচারু ভাবে সেজে উঠেছে।

বছরের সব সময়ই এখানে মানুষজন আসেন। তবে শীতকালে গোলাপ-সহ বিভিন্ন ফুলের সৌন্দর্যের আকর্ষণ ‘পরিমল কানন’-এর মহিমাকে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়। শীতকাল তো এখানে জমজমাট। একসঙ্গে ষাট-সত্তরটি পিকনিক পার্টি  পিকনিক করতে পারেন কোনো রকম অসুবিধা ছাড়াই।  তবে বর্ষার সময় এখানে প্রকৃতির আর এক রূপ, জানালেন তাপসবাবু। এখানে বসে প্রকৃতির সেই রূপ দেখার সুযোগ কখনোই হাতছাড়া করা যায় না।

আপনি এখানে পৌঁছোলে কাছাকাছি পেয়ে যাবেন আরও অনেক স্পট। ঠিক পাশেই রয়েছে  বিখ্যাত আরাবাড়ি ফরেস্ট রেঞ্জ। দেখা মিলতে পারে হাতির।  ২০-২৫ কিমির মধ্যে পেয়ে যাবেন গড়বেতায় অবস্থিত শিলাবতী নদীর তীরে গণগনি। তার পরেই তো বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর, টেরাকোটা মন্দির ভাস্কর্যের জন্য যার খ্যাতি বিশ্বজোড়া। 

কী ভাবে যাবেন

হাওড়ার শালিমার টার্মিনাল থেকে সকালে আরণ্যক এক্সপ্রেস বা সাঁতরাগাছি থেকে রূপসী বাংলা ধরে চন্দ্রকোনা রোড স্টপেজ। এ ছাড়া বাঁকুড়া, পুরুলিয়াগামী যে কোনো ট্রেন। সময় লাগে তিন ঘণ্টার মতো। স্টেশন থেকে দেড় কিমি, পেয়ে যাবেন যে কোনো যানবাহন। এ ছাড়া কলকাতা থেকে বাসেও আসতে পারেন, দূরত্ব ১৬৩ কিমি। আর নিজস্ব গাড়ি থাকলে তো সোনায় সোহাগা।

কোথায় থাকবেন

থাকা-খাওয়ার সুবন্দোবস্ত আছে পরিমল কাননে। ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির দ্বিশয্যা এসি পরিবহন কটেজ, নন-এসি বকুল ও বলাকা কটেজ। এ ছাড়া রয়েছে নন-এসি দ্বিশয্যা ঘর ও ডরমিটরি। ফোন ৮৩৩৭০৬৬৮৮২, ৯৭৩২৬৭৭১৮২। অনলাইন বুকিং https://wbsfda.org/

0 Comments
Share
puja-destination-travel-plan-for-madhya-pradesh-part-1

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: দ্য হার্ট অব ইনক্রেডিবল্‌ ইন্ডিয়া – ভারতের হৃদয়ে অবস্থান করছে মধ্যপ্রদেশ। প্রকৃতি, তীর্থস্থান, ইতিহাস, ভাস্কর্য – কী নেই এই রাজ্যে। ছত্তীসগঢ় বেরিয়ে যাওয়ার পরেও এই রাজ্যটি আয়তনে এত বড়ো যে এক বারে দেখে শেষ করা যায় না। বার বার যেতে হয়। এ বার পুজোয় চলুন না! ভ্রমণ অনলাইন এই পর্বে সাজিয়ে দিচ্ছে মধ্যপ্রদেশ বেড়ানোর নানা ছক। এটা মধ্যপ্রদেশ নিয়ে প্রথম পর্ব। আগামী পর্বে থাকবে আরও মধ্যপ্রদেশ। আগের তিনটি পর্বে ছিল গাড়োয়াল, কুমায়ুন এবং রাজস্থান

ভ্রমণছক ১ – ইলাহাবাদ-খজুরাহো–বান্ধবগড়-কানহা-জবলপুর-পাঁচমাড়ি

প্রথম দিন – ইলাহাবাদের উদ্দেশে রওনা।  

ইলাহাবাদের সঙ্গে ভারতের সব বড়ো শহর যুক্ত। এমন ট্রেন ধরার চেষ্টা করুন যাতে সকাল সকাল ইলাহাবাদ (এলাহাবাদ) পৌঁছোতে পারেন। সে ক্ষেত্রে কলকাতা থেকে এলাহাবাদ যাওয়ার সব চেয়ে ভালো ট্রেন হাওড়া-কালকা মেল (হাওড়া ছাড়ে রোজ সন্ধে ৭.৪০, ইলাহাবাদ পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৯টা), হাওড়া-মুম্বই মেল (হাওড়া ছাড়ে রোজ রাত ৯.৫৫, ইলাহাবাদ পৌঁছোয় সকাল ১১.১৫), বিভূতি এক্সপ্রেস (হাওড়া ছাড়ে রোজ রাত ৮টায়, ইলাহাবাদ পৌঁছোয় পরের দিন বেলা ১২টায়), অজমের এক্সপ্রেস (রোজ শিয়ালদহ ছাড়ে রাত ১০.৫৫, ইলাহাবাদ পৌঁছোয় পরের দিন বেলা ১২টা), জোধপুর এক্সপ্রেস (হাওড়া ছাড়ে রোজ রাত ১১.৩৫, ইলাহাবাদ পৌঁছোয় পরের দিন বেলা ১২.২৫), তুফান এক্সপ্রেস (হাওড়া ছাড়ে রোজ সকাল ৯.৩৫, ইলাহাবাদ পৌঁছোয় পরের দিন ভোর ৫.০৫), চম্বল এক্সপ্রেস (মঙ্গল, বুধ, শুক্র ও রবি হাওড়া থেকে ছাড়ে বিকেল ৫.৪৫, ইলাহাবাদ পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৭.২৫)। এ ছাড়াও এক গুচ্ছ সাপ্তাহিক, দ্বি-সাপ্তাহিক ট্রেন আছে।

নিউ জলপাইগুড়ি থেকে যাত্রা করে পরের দিন সকালে ইলাহাবাদ পৌঁছোনোর রোজ দু’টি ট্রেন আছে – নর্থ ইস্ট এক্সপ্রেস, মহানন্দা এক্সপ্রেস।

দিল্লি ও মুম্বই থেকে রওনা হয়ে পরের দিন সকালে ইলাহাবাদ পৌঁছোনোর এক গুচ্ছ ট্রেন আছে।

দ্বিতীয় দিন – ইলাহাবাদ পৌঁছোনো। রাত্রিবাস ইলাহাবাদ (এলাহাবাদ)।

তৃতীয় দিন – সারা দিন ঘোরাঘুরি করে ইলাহাবাদ থেকে রাত ১০.২৫-এর বারাণসী-খাজুরাহো লিঙ্ক এক্সপ্রেস ধরুন। ত্রিসাপ্তাহিক ট্রেনটি সোম, বুধ ও শনিবার ইলাহাবাদ থেকে পাওয়া যায়।   

কী দেখবেন ইলাহাবাদে –

প্রয়াগ সঙ্গম, আকবরের দুর্গ (দুর্গ দেখার জন্য অনুমতি চেয়ে আগাম চিঠি লিখতে হয় Commandant, Ordnance Depot, Fort –কে), অশোক পিলার (দুর্গের প্রবেশ ফটকের বিপরীতে), খসরু বাগ (জংশন স্টেশন লাগোয়া), আনন্দ ভবন (নেহরু পরিবারের বসতবাড়ি), ভরদ্বাজ আশ্রম, আলফ্রেড তথা মতিলাল নেহরু পার্ক), ঝুসি ((ইলাহাবাদ থেকে ৯ কিমি দূরে যমুনার অপর পাড়ে চন্দ্র মৌর্য ও গুপ্ত যুগের শহর), ভিটা (ইলাহাবাদ থেকে ১৭ কিমি দূরে যমুনার অপর পাড়ে মাটি খুঁড়ে আবিষ্কৃত মৌর্য, কুষাণ ও গুপ্ত যুগের সমৃদ্ধ নগরী) এবং কৌশাম্বী (ইলাহাবাদ থেকে ৫৭ কিমি দূরে যমুনাতীরে বুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত শহর)।

চতুর্থ দিন – ভোর ৫.২০ মিনিটে পৌঁছে যান খজুরাহো। রাত্রিবাস খাজুরহো।       

পঞ্চম দিন – আজও থাকুন খজুরাহোয়। 

খজুরাহোয় দেখুন

১৩ বর্গ কিমি জুড়ে খজুরাহোর মন্দিররাজি তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত – ওয়েস্টার্ন, ইস্টার্ন ও সাদার্ন। তবে পশ্চিমি গোষ্ঠীরই প্রশস্তি বেশি। পশ্চিম অঞ্চলই খাজুরাহোর প্রাণকেন্দ্র। ১২টি মন্দির নিয়ে পশ্চিমের মন্দিররাজি। সবগুলো না পারলে অবশ্যই দেখবেন কাণ্ডারীয় মহাদেব, লক্ষণ, বিশ্বনাথ, চিত্রগুপ্ত ও দেবী জগদম্বার মন্দির। পশ্চিম গোষ্ঠীর দক্ষিণে শিব সাগর বা লেক। সাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমে চৌষাট যোগিনী মন্দির।

দুলাদেও আর চতুর্ভুজ, এই দুই মন্দির নিয়ে দক্ষিণ গোষ্ঠী। খজুরাহোর মেন স্কোয়ার থেকে দেড় কিমি দক্ষিণে দুলাদেও মন্দির। আর দুলাদেও থেকে দেড় এবং পশ্চিম থেকে চার কিমি দূরে বিমানবন্দরের পথে শিখরধর্মী চতুর্ভুজ মন্দির।

পশ্চিম তথা বাসস্ট্যান্ড থেকে ১ কিমি পুবে নিনোরা তালের পাড়ে দুটি ভাগে পুবের মন্দিররাজি। ৩টি মন্দির জৈন, একই চত্বরে। আর ৩টি হিন্দু মন্দির গ্রামময় ছড়িয়ে। আদিনাথ, পার্শ্বনাথ ও শান্তিনাথ মন্দির দেখে তার পর দেখে নিন জবারী মন্দির, বামন মন্দির ও ব্রহ্মা মন্দির।

দ্বিতীয় দিনে সক্কালেই চলুন পান্না জাতীয় উদ্যানে। উদ্যানের মাডলা গেট ২৪ কিমি। জাতীয় উদ্যান দেখে আরও ৭ কিমি পশ্চিমে গিয়ে দেখে নিন পাণ্ডব ফলস্‌। খজুরাহো ফিরে দুপুরের খাওয়া সেরে চলুন ৫ কিমি উত্তরে ১৯ শতকের পাহাড়ি দুর্গ তথা রাজনগর প্রাসাদ এবং আরও ১৯ কিমি উত্তরে রাজা ওয়াটারফলস্‌।

ষষ্ঠ দিন – চলুন বান্ধবগড়, দূরত্ব ২২৭ কিমি। বাসে গেলে সাতনায় বদল করে টালা চলুন। না হলে গাড়ি ভাড়া করে চলুন। রাত্রিবাস বান্ধবগড়।

সপ্তম দিন – সকালে ও বিকেলে সাফারি করুন। রাত্রিবাস বান্ধবগড়।

অষ্টম দিন – খুব সকালে বেরিয়ে পড়ুন। গাড়ি ভাড়া করে চলুন কানহার কিসলি বা মুক্কি গেটে, দূরত্ব কম-বেশি ২৫০ কিমি। সময় থাকলে বিকেলে একটা সাফারি করুন। রাত্রিবাস কানহা।

নবম দিন – সকালে ও বিকালে সাফারি করুন। রাত্রিবাস কানহা।

দশম দিন – গাড়ি ভাড়া করে চলুন জবলপুর, দূরত্ব ১৯৭ কিমি। রাত্রিবাস জবলপুর।

একাদশ দিন – রাত্রিবাস জবলপুর।

জবলপুরে দেখুন –

জবলপুরের মূল আকর্ষণ মার্বেল রকস্‌, শহর থেকে ২৩ কিমি পশ্চিমে। নর্মদা নদীর খাতে দুই তীরে শ’ খানেক ফুট উঁচু খাড়া পাহাড় ম্যাগনেসিয়াম চুনাপাথরের। পূর্ণিমা রাতে চাঁদের আলোয় সে এক অপরূপ দৃশ্য। নৌকাবিহার করুন নর্মদার বুকে। পাহাড় যেখানে শেষ হয়েছে তার নাম মানকিস লিপ, ডান হাতে দত্তাত্রেয় মুনির গুহা। মহর্ষি ভৃগুও তপস্যা করেছেন এই পাহাড়ে। এই জায়গার নাম ভেরাঘাট।

ভেরাঘাটের কাছেই ১০৮ ধাপ সিঁড়ি উঠে পাহাড়চুড়োয় চৌষাট যোগিনী মন্দির।ভেরাঘাটের কাছেই ধুঁয়াধার জলপ্রপাত – নর্মদা নদী শ’ খানেক ফুট নীচে আছড়ে পড়েছে। মার্বেল রকসের পথে ৭ কিমি দূরে গোন্ড রাজাদের এক কালের রাজপ্রাসাদ তথা মদল মহল দুর্গ। দুর্গের পাহাড়ি পথে ব্যালান্সিং রক – একের ওপরে আর এক পাথরখণ্ডের অবস্থান মুগ্ধ করে। বাস বা ট্যাক্সিতে পাহাড়তলি পৌঁছে পায়ে হেঁটে দুর্গ।   মার্বেল রকসের পথেই পিসান হরি জৈন মন্দির। শহরে দেখুন মতিলাল পার্ক, রানি দুর্গাবতী মিউজিয়াম।

দ্বাদশ দিন – চলুন পাঁচমাড়ি। জবলপুর থেকে পিপারিয়া যাওয়ার অনেক ট্রেন আছে। সব থেকে ভালো হয়, সকাল ৭টার বিন্ধ্যাঞ্চল এক্সপ্রেস বা ৮.০৫-এর সঙ্ঘমিত্রা এক্সপ্রেস। পিপারিয়া পৌঁছে যাবেন সকাল ১০.০৪ বা ১০.২৩-এ। পিপারিয়া থেকে পাঁচমাড়ি ৫৪ কিমি পথ, ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাস। গাড়ি ভাড়া করেও যেতে পারেন। অথবা জবলপুর থেকে বাসে এলে গদরওয়ারায় বাস বদল করতে হবে। জবলপুর থেকে সরাসরি গাড়ি ভাড়া করে আসতে পারেন পাঁচমাড়ি, দূরত্ব ২৫১ কিমি। রাত্রিবাস পাঁচমাড়ি।

ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ দিন – রাত্রিবাস পাঁচমাড়ি (৩৫০০ ফুট)।

পাঁচমাড়িতে দেখুন –

পাণ্ডব গুহা, হান্ডি খো, প্রিয়দর্শিনী পয়েন্ট, মহাদেব গুহা, মারাদেও গুহা (গুহার কমপ্লেক্স), পার্বতী গুহা, গুপ্ত মহাদেবের গুহা, চৌরাগড় পাহাড় শিরে শিবমন্দির, রাজেন্দ্রগিরি। ধূপগড় (সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের জন্য বিখ্যাত, শেষ ২ কিমিতে চড়াই উঠে সাতপুরা রেঞ্জে৪৪২৯ ফুটের সর্বোচ্চ শিখর), জটাশংকর গুহা, হার্পারস কেভ, মূল পথের বাঁয়ে অম্বাদেবীর মন্দির, ডাচেস ফলস্‌ (অসংখ্য সিঁড়ি ভেঙে নামতে হয়), সুন্দরকুণ্ড, যমুনা জলপ্রপাত (বি ফলস্‌), লিটল্‌ ফলস্‌, রজত প্রপাত, বিগ ফলস্‌, আইরিন পু্‌ল, চার্চ ইত্যাদি সহ ৫০টিরও বেশি ভিউ পয়েন্ট।

পাঁচমাড়ি অবস্থানে অবশ্যই ঘুরে নেবেন সাতপুরা ন্যাশনাল পার্ক। রজত প্রপাত, অপ্সরা বিহার, পাঞ্চালী কুণ্ডের অবস্থান জাতীয় উদ্যানে।     

পঞ্চদশ দিন – ঘরে ফেরা। চলে আসুন পিপরিয়া, দূরত্ব ৫৩ কিমি। ধরুন মুম্বই-হাওড়া মেল। হাওড়া মেল সকাল পৌনে ১০টায় পিপরিয়া ছেড়ে পরের দিন বেলা ১২টায় হাওড়া। অন্য শহরে ফেরার ট্রেনও পেয়ে যাবেন।

ভ্রমণছক ২ – জঙ্গলদর্শন (বান্ধবগড়-কানহা-পেঞ্চ-তাডোবা)

প্রথম দিন – বান্ধবগড়ের উদ্দেশে রওনা। উমারিয়া থেকে ৩৫, শাহদোল থেকে ৬৭, কাটনি থেকে ১০২ এবং সাতনা থেকে ১২০ কিমি। যে কোনো জায়গাতে নেমেই বান্ধবগড় যাওয়া যায়। 

হাওড়া থেকে মুম্বই মেল (ভায়া ইলাহাবাদ) ছাড়ে রাত ৯.৫৫ মিনিটে। সাতনা পৌঁছোয় পরের দিন দুপুর ২.৫০ মিনিটে, কাটনি পৌঁছোয় বিকেল সোয়া ৪টেয়। শক্তিপুঞ্জ এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে দুপুর ১.১০ মিনিটে ছেড়ে কাটনি পৌঁছোয় পরের দিন দুপুর ১২.২৫ মিনিটে। শিপ্রা এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে ছাড়ে সোম, বৃহস্পতি ও শনি, বিকেল ৫.৪৫ মিনিটে। সাতনা পৌঁছোয় পরের দিন সকাল সোয়া ১১টায়, কাটনি পৌঁছোয় দুপুর ১২.৫৫ মিনিটে। সাতনা/কাটনি  থেকে গাড়ি ভাড়া করে চলে আসতে পারেন বান্ধবগড় জাতীয় উদ্যানের টালা গেটে। অথবা বাসে টালা মোড়ে এসে সেখান থেকে ট্রেকারে চলে আসুন সাড়ে ৩ কিমি দূরে বান্ধবগড় জাতীয় উদ্যানের টালা গেটে।       

কলকাতা থেকে শাহদোল যাওয়ার জন্য তিনটি সাপ্তাহিক ট্রেন আছে, বুধ, শনি ও রবি। দু’টি ছাড়ে শালিমার থেকে আর একটি সাঁতরাগাছি থেকে। তিনটি ট্রেনই পৌঁছোয় সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ। শাহদোল থেকে বাসে চলে আসুন টালা মোড়। সেখান থেকে ট্রেকারে টালা গেটে।   

উমারিয়া যেতে হলে বিলাসপুরে ট্রেন বদল করতে হবে। হাওড়া থেকে বিলাসপুর যাওয়ার অনেক ট্রেন আছে। তবে বিলাসপুর পৌঁছোনোর সময় অনুযায়ী সব চেয়ে ভালো ট্রেন হাওড়া-মুম্বই (ভায়া নাগপুর) মেল এবং আজাদ হিন্দ এক্সপ্রেস। প্রথমটি বিলাসপুর পৌঁছোয় সকাল সোয়া ৭টায় এবং দ্বিতীয়টি সকাল পৌনে ৮টায়। বিলাসপুর থেকে উমারিয়া যাওয়ার অনেক ট্রেন আছে। ট্রেন বিশেষে সময় লাগে চার থেকে ছ’ ঘণ্টা। উমারিয়া থেকে আধ ঘণ্টায় জিপে চলে আসুন টালা গেটে।

মুম্বই থেকে এলে কাটনিতে নামাই সুবিধাজনক। প্রচুর ট্রেন আছে। ট্রেন বিশেষে সময় লাগে ১৬ থেকে ২২ ঘণ্টা। দিল্লি থেকে এলে ট্রেন বিশেষে কাটনি বা উমারিয়াতে নামা যায়।

বিমানে এলে নামতে হবে খাজুরাহোয়। সেখান থেকে বান্ধবগড় ২২৭ কিমি। গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন।         

দ্বিতীয় দিন –  সাতনা/কাটনি/শাহদোল/উমারিয়া পৌঁছে সেখান থেকে চলুন বান্ধবগড়। রাত্রিবাস বান্ধবগড়।

তৃতীয় দিন – সকালে ও বিকেলে জঙ্গল সাফারি করুন। রাত্রিবাস বান্ধবগড়।

চতুর্থ দিন – সকালে আরও একবার সাফারি করুন। দুপুরে লাঞ্চের পর ঘুরে আসুন বান্ধবগড় ফোর্ট। রাত্রিবাস বান্ধবগড়।

পঞ্চম দিন – খুব সকালে বেরিয়ে পড়ুন। গাড়ি ভাড়া করে চলুন কানহার কিসলি বা মুক্কি গেটে, দূরত্ব কম-বেশি ২৫০ কিমি। সময় থাকলে বিকেলে একটা সাফারি করুন। রাত্রিবাস কানহা।

ষষ্ঠ দিন – সকালে ও বিকালে সাফারি করুন। রাত্রিবাস কানহা।

সপ্তম দিন – গাড়ি ভাড়া করে চলুন পেঞ্চের তুরিয়া গেটে, দূরত্ব ১৯৪ কিমি। বিকেলে সাফারি করুন। রাত্রিবাস পেঞ্চ।

অষ্টম দিন – সকালে আরও একটা সাফারি করে বেরিয়ে পড়ুন নাগপুরের উদ্দেশে। সরাসরি গাড়ি ভাড়া করে চলে আসতে পারেন নাগপুরে, ৯৫ কিমি। কিংবা গাড়ি ভাড়া করে বা ট্রেকারে ১৫ কিমি দূরের খাওয়াসা এসে বাসে চলে আসুন ৮০ কিমি দূরের নাগপুর। রাত্রিবাস নাগপুর।

নাগপুরে দেখে নিন

ভোঁসলে প্রাসাদ, ভোঁসলে ছত্তিশ, গান্ধীসাগর, গান্ধীবাগ, সতী মন্দির, সর্বেশ্বরা মন্দির ইত্যাদি।

নবম দিন – চলুন তাডোবা। নাগপুর থেকে ভোর ৪.১০-এর কেরল এক্সপ্রেস ধরলে সকাল ৬.৫২-য় চন্দ্রপুর। কিংবা সকাল ৯.৪৫-এর তেলঙ্গানা এক্সপ্রেস ধরলে বেলা ১২.২৩-এ চন্দ্রপুর। সেখান থেকে বাসে বা গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন ৪৫ কিমি দূরের তাডোবায়। নাগপুর থেকে বাসে চন্দ্রপুরা এসে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে আসতে পারেন তাডোবায়। কিংবা সরাসরি গাড়ি ভাড়া করে নাগপুর থেকে তাডোবা চলে আসুন, ১৩২ কিমি। বিকেলে তাডোবায় সাফারি করুন। রাত্রিবাস তাডোবা।

দশম দিন – আজও থাকুন তাডোবায়। সকালে-বিকেলে সাফারি করুন। মনে রাখবেন, ভারতে একমাত্র তাডোবাতেই বাঘ দেখার সম্ভাবনা সব চেয়ে বেশি।

একাদশ দিন – নাগপুর হয়ে ফিরুন ঘরপানে।      

দেশের যে কোনো প্রান্তের সঙ্গে নাগপুর ট্রেন ও বিমানপথে যুক্ত। হাওড়া আসার অনেক ট্রেন আছে। তবে সময় অনুযায়ী সুবিধাজনক ট্রেন জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস সকাল ৯.৫০, ওখা-হাওড়া এক্সপ্রেস সকাল ৯.৫০, আজাদ হিন্দ এক্সপ্রেস ১০.১০  সমরসতা এক্সপ্রেস সকাল ১০.৫৫, মুম্বই-হাওড়া মেল সকাল ১১.১৫, এলটিটি-শালিমার এক্সপ্রেস দুপুর ১.২৫, অমদাবাদ-হাওড়া এক্সপ্রেস বিকেল ৫.৫৫, গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেস সন্ধে ৭টা।

ভ্রমণছক ৩ – বারাণসী-খাজুরাহো-ওরছা-শিবপুরী-গ্বালিয়র (গোয়ালিয়র)

প্রথম দিন – বারাণসীর উদ্দেশে রওনা। ভারতের সব বড়ো জায়গা ট্রেন ও বিমান পথে বারাণসির সঙ্গে যুক্ত। সুবিধাজনক ট্রেন ধরে বারাণসী বা দীনদয়াল উপাধ্যায় নগর (মোঘলসরাই) পৌঁছে যান সকালের দিকে।  

হাওড়া থেকে বারাণসী যাওয়ার সুবিধাজনক ট্রেন – অমৃতসর মেল (হাওড়া সন্ধে ৭.১০, বারাণসী পরের দিন সকাল ৯.১২); বিভূতি এক্সপ্রেস (হাওড়া রাত ৮টা, বারাণসী পরের দিন সকাল সাড়ে ৯টা); দুন এক্সপ্রেস (হাওড়া রাত ৮.২৫, বারাণসী পরের দিন সকাল ১০.২০); এ ছাড়াও হাওড়া থেকে দীনদয়াল উপাধ্যায় নগর (মোঘলসরাই) আসার এক গুচ্ছ ট্রেন আছে। মোঘলসরাই থেকে বারাণসী ১৯ কিমি, ট্যাক্সি বা অটো করে চলে আসুন।

দ্বিতীয় দিন – রাত্রিবাস বারাণসী।

তৃতীয় দিন – সারা দিন বারাণসীতে কাটিয়ে বিকেল পৌনে ৬টার খজুরাহো লিঙ্ক এক্সপ্রেস ধরে চলুন খজুরাহো। এই ট্রেন সোম, বুধ ও শনি বারাণসী থেকে ছাড়ে।

বারাণসীতে কী দেখবেন, কী করবেন –

দেখুন বিশ্বনাথ মন্দির, আলমগীর মসজিদ, মন্দির ও মসজিদের মাঝে জ্ঞানের কূপ জ্ঞানভাপী, বিশ্বনাথ মন্দিরের বিপরীতে গলিপথে অন্নপূর্ণা মন্দির। এ ছাড়াও দেখুন রানি ভবানীর তৈরি নাগারা শৈলীর দুর্গা মন্দির, রামচরিতমানস স্রষ্টা তুলসীদাসের স্মৃতিতে তৈরি তুলসী মানস মন্দির, বিদ্যাপীঠ রোডে ভারতমাতা মন্দির, কোতোয়ালি থানার পিছনে ভৈরবনাথের মন্দির, কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সংকটমোচন মন্দির, কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি। সন্ধ্যায় দশাশ্বমেধ ঘাটে গঙ্গারতি দেখুন। বারাণসীতে উত্তরবাহিনী গঙ্গায় রয়েছে ৩৬৫টি ঘাট, যার মধ্যমণি দশাশ্বমেধ। নৌকাবিহার করে যতগুলো সম্ভব ঘাট দেখে নিন। দশাশ্বমেধ ঘাট থেকে নৌকায় বা গোধুলিয়া থেকে বাসে বা অটোয় চলুন ১৮ কিমি দূরে রামনগর (১৭ শতকের রাজবাড়ি, অস্ত্রাগার, সংগ্রহশালা, গঙ্গাকিনারে রাজা জৈৎ নির্মিত দুর্গা মন্দির, প্রাসাদের পিছে গঙ্গা কিনারে ব্যাসদেবের মন্দির)। কাশী-রামনগর পথে ব্যাসকাশী। অবশ্যই ঘুরে আসুন ১০ কিমি বুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সারনাথ।

চতুর্থ দিন – ভোর ৫.২০ মিনিটে পৌঁছে যান খজুরাহো। রাত্রিবাস খজুরাহো।      

পঞ্চম দিন – আজও থাকুন খজুরাহোয়। 

খজুরাহোয় কী দেখবেন (দেখুন ভ্রমণছক ১)

ষষ্ঠ দিন – খজুরাহো থেকে সক্কাল সক্কাল বেরিয়ে পড়ুন, গাড়ি ভাড়া করে চলুন মিউজিয়াম নগরী ওরছা, ১৭২ কিমি। দুপুর ১২.৩৫-এর খজুরাহো-ঝাঁসি প্যাসেঞ্জার ট্রেনেও আসতে পারেন। ওরছা পৌঁছোয় বিকেল ৫টায়। খজুরাহো থেকে বাসেও আসতে পারেন ওরছা। রাত্রিবাস ওরছা।

সপ্তম দিন – আজও থাকুন ওরছায়।

ওরছায় দেখুন –

বেতোয়া নদীতে ঘেরা দ্বীপে বুন্দেলাদের এক সময়ের রাজধানী ওরছা। ১৭ শতকে বীর সিংদেওর গড়া বহুমুখী খিলানযুক্ত সেতু পেরিয়ে প্রাসাদ কমপ্লেক্স ওরছায়। দেখে নিন রাজামহল প্রাসাদ। মোঘলসম্রাট জাহাঙ্গিরের আমলে ওরছার রমরমা। দেখে নিন জাফরির সুষমামণ্ডিত অনুপম হর্ম্য জাহাঙ্গির মহল (এখানে আজ প্রত্নতত্ত্ব দফতরের মিউজিয়াম)। মান্ডুতে যেমন কান পাতলেই শোনা যায় রূপমতী-বাজবাহাদুরের প্রেমকাহিনি, তেমনই ওরছার বাতাসে ভাসে রাজা ইন্দ্রমণি ও রাজ দরবারের নর্তকী রাই পরভিনের প্রেমগাথা। দেখে নিন ইন্দ্রমণির গড়া রাই পরভিন মহল। রাজামহল ও জাহাঙ্গির মহলের মাঝে ১৮ শতকের শিশমহল। দেখে নিন রানি-কা-মহলও। শিশমহল থেকে ১ কিমি দূরে রামরাজা মন্দির। রামরাজার ডাইনে খাড়া সিঁড়ি বেয়ে বিগ্রহহীন ভাস্কর্যমণ্ডিত দুর্গাকার চতুর্ভুজ মন্দির। রামরাজা মন্দিরের পাশ দিয়ে মিনিট পনেরোর পথ মাড়িয়ে গ্রামের শেষে অনুচ্চ টিলায় ১৭ শতকের দুর্গাকার লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, ওরছা শৈলীতে ফ্রেস্কো চিত্র ও সিলিং-এর চিত্র অনবদ্য। রামরাজা মন্দিরের বিপরীতে মোঘলি গার্ডেন ফুলবাগ। সেটি পেরিয়ে হরদৌল কা বৈঠক তথা প্রাসাদ। বেতোয়া নদীর তীরে কাঞ্চনঘাটে বুন্দেল রাজাদের রয়্যাল ছত্তিশ (১৪টি)। স্বাধীনতা সংগ্রামী চন্দ্রশেখর আজাদের ওরছায় আত্মগোপনের স্মারক রূপে তৈরি শহিদ স্মারক দেখতে ভুলবেন না।

অষ্টম দিন – সক্কালেই গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়ুন শিবপুরীর উদ্দেশে। প্রথমে চলুন ঝাঁসি। খুব লড়ি মর্দানী উও তো ঝাঁসিওয়ালি রানি থি – দেখে নিন রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের স্মৃতি বিজড়িত ঝাঁসির দুর্গ। ঝাঁসি থেকে চলুন ডাটিয়া, ২৪ কিমি,  দেখে নিন জাহাঙ্গির মহল, গোবিন্দ মন্দির প্রাসাদ, সরোবর, গামা পালোয়ানের প্রাসাদ, কর্ণ সাগরের পাড়ে নানান মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ ও ছত্তিশ। ডাটিয়া থেকে চলুন শিবপুরী, ১০৫ কিমি। রাত্রিবাস শিবপুরী।

নবম দিন – আজও থাকুন শিবপুরীতে। শহর থেকে ৭ কিমি দূরে মাধব জাতীয় উদ্যান। পারলে সকালে ও বিকেলে, দু’ দফায় সাফারি করুন। বন্যজন্তু দেখার জন্য বেশ কয়েকটি অবজারভেশন টাওয়ার আছে। এর মধ্যে অন্যতম জর্জ কাসল্‌। উদ্যানের মাঝে সখ্যাসাগর লেকের পাড়ে সূর্যাস্ত রমণীয়। রয়েছে মাধব সাগর লেক। বাস স্ট্যান্ড থেকে ২ কিমি দূরে ভিক্টোরিয়ান বাতিতে আলোকিত, নানা ফুলে শোভিত মোঘল গার্ডেনের ধাঁচে গড়া বাগিচায় সিন্ধিয়া রাজদের ছত্তিশ আরও এক দ্রষ্টব্য। আর আছে মুখোমুখি রাধা-কৃষ্ণ ও শ্রীরাম মন্দির। দেখে নিন ১৯৫৭-য় তৈরি ছবুত্র তথা সিপাহি বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক তাঁতিয়া টোপীর ফাঁসিস্থলে তৈরি স্মারক। আরও এক দ্রষ্টব্য সিন্ধিয়া পরিবারের গ্রীষ্মাবাস মাধববিলাস প্রাসাদ। ওই প্রাসাদ মহল নামে খ্যাত। দেখে নিতে পারেন শিবপুরী থেকে ২৮ কিমি দূরে সুলতানগড় ওয়াটারফল, অন্য দিকে ৩৫ কিমি পাওয়া ওয়াটারফল।

দশম দিন – সকালে বেরিয়ে পড়ুন, চলুন ১১৬ কিমি দূরের গ্বালিয়র, যাকে আমরা গোয়ালিয়র বলি। আধ ঘণ্টা অন্তর বাস ছাড়ে শিবপুরী থেকে, তিন ঘণ্টার পথ। ট্রেনও আছে। সকাল ৮.১০-এর কোটা-ভিন্দ প্যাসেঞ্জার গোয়ালিয়র পৌঁছে দেয় বেলা ১২টায়। তবে ট্রেনের স্বল্পতার জন্য বাসে আসাই সুবিধাজনক। তা ছাড়া গাড়ি ভাড়া করে তো আসাই যায়। রাত্রিবাস গ্বালিয়র।

একাদশ দিন – আজও থাকুন গ্বালিয়রে।

গ্বালিয়রে দেখুন –  

(১) গ্বালিয়র ফোর্ট – বাবর বলেছিলেন ভারতের দুর্গগুলোর মধ্যে মুক্তো, ৫২৫ খ্রিস্টাব্দে গোপাচল পাহাড়ের উপর তৈরি। দক্ষিণ-পশ্চিম বা উত্তর-পুবে দুটি পথে দুর্গে প্রবেশ –  দক্ষিণ-পশ্চিমের পথে ৭-১৫ শতকের মধ্যে পাহাড় কেটে তৈরি ২২ জৈন তীর্থঙ্করের মূর্তি, রঙবেরঙের দেওয়ালচিত্র, ৬টি শিলালিপির সঙ্গে মহাদেবের পিতামাতার মূর্তি, পদ্মের উপর দণ্ডায়মান আদিনাথ ও উপবিষ্ট নেমিনাথের মূর্তি; উত্তর-পূর্বে প্রত্নতাত্ত্বিক মিউজিয়াম হয়ে ১ কিমি দীর্ঘ বন্ধুর পথ উঠেছে দুর্গের। ৫টি গেট বা মহল পেরিয়ে দুর্গ – আলমগীর গেট, বাদলগড় তথা হিন্দোল গেট, বানসুর বা আরচেরি গেট (আজ লুপ্ত), গণেশ গেট (এখানে রয়েছে চতুর্ভুজ বিষ্ণু মন্দির) ও হস্তী গেট। দক্ষিণ-পশ্চিম বা উত্তর-পূর্ব, যে কোনো গেট দিয়ে দুর্গে ঢুকুন। উত্তর-পূর্ব বা গ্বালিয়র গেট দিয়ে ঢুকলেই বেলেপাথরের গুজরী মহল (রাজ্য প্রত্নতাত্ত্বিক মিউজিয়াম), গুর্জর বংশীয় প্রিয়তমা মহিষী মৃগনয়নীর জন্য ১৫১০-এ মান সিং-এর তৈরি। হস্তী গেট পেরোতেই মান সিং প্যালেস (নিজেরই তৈরি), লাগোয়া বিক্রমাদিত্য প্যালেস, অদূরে করণ মন্দির, মানমন্দিরে প্রতি সন্ধ্যায় লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো, বিপরীতে ৮০ পিলারের জহর কুণ্ড বা বাউড়ি, মানমন্দিরের পিছনে জাহাঙ্গির মহল ও শাহজাহান মহল, অদূরেই শাশ (শাশুড়ি) আর বহুঁ (বউ) পৃথক পৃথক মন্দির (মন্দির সংলগ্ন চাতাল থেকে শহর দৃশ্যমান), দুর্গের পশ্চিমে প্রাচীনতম (৮ শতকে তৈরি) তেলী-কা-মন্দির; বিপরীতে ষষ্ঠ শিখগুরু হরগোবিন্দর দু’ মাস বন্দিবাসের স্মারক রূপে গড়া গুরদ্বার দাতা বন্দি ছোড়। গুরদ্বারের পশ্চিমে সুরজ কুণ্ড। পশ্চিমে সিন্ধিয়া স্কুল। আর রয়েছে সাধু গ্বালিপার মূর্তি, মসজিদ, ম্যাগাজিন, একখাম্বা তাল, রানি তাল, ছেদি তাল আরও কত কী!

এ ছাড়া দেখুন জয়বিলাস প্যালেস, তানসেনের সমাধি, ফকির মহম্মদ ঘাউসের মকবরা, কোনার্কের আদলে তৈরি সূর্য মন্দির, কিংবদন্তি শাস্ত্রীয় সংগীতকার উস্তাদ হাফিজ আলি খাঁ-এর বাসভবনে তৈরি সরোদ ঘর, রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের সমাধি, তিঘারা ড্যাম (১৭ কিমি), পদাবলি (৩৭ কিমি দূরে প্রচুর প্রাচীন মন্দির সহ দুর্গ)।

দ্বাদশ দিন – চলুন ঘরপানে। গ্বালিয়র ভারতের সব শহরের ট্রেনপথে যুক্ত। হাওড়া আসার ট্রেন সপ্তাহে চার দিন – চম্বল এক্সপ্রেস সোম, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি গ্বালিয়র থেকে ছাড়ে সকাল ৭.১৫-য়, হাওড়া পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৬.৫০ মিনিটে। ট্রেনের স্বল্পতার জন্য গ্বালিয়র থেকে আগরা (ট্রেনে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টার পথ) বা দিল্লি এসে (ট্রেনে ঘণ্টা পাঁচেকের পথ) সেখান থেকে হাওড়া ফেরা যায়।

কোথায় থাকবেন

(১) মধ্যপ্রদেশ পর্যটনের থাকার ব্যবস্থা – খাজুরাহোয় এমপিটি ঝঙ্কার, এমপিটি পায়েল; বান্ধবগড়ের টালা গেটে দ্য হোয়াইট টাইগার ফরেস্ট লজ; কানহার মুক্কি গেটে এমপিটি সাফারি লজ, সরহি গেটের কাছে বাঘিরা জঙ্গল রিসর্ট, কিসলি গেটের একটু আগে মোচায় বাঘিরা জঙ্গল রিসর্ট, কানহার মুক্কি গেট থেকে ১৮ কিমি দূরে গাওয়া কানহা রিসর্ট; পেঞ্চের তুরিয়া গেটে কিপলিং কোর্ট, কর্মঝিরি গেটের কাছে পেঞ্চ ট্রি লজ; জবলপুরে এমপিটি কালচুরি রেসিডেন্সি, এমপিটি মার্বেল রকস্‌ (ভেরাঘাট); পাঁচমাড়িতে এমপিটি রক এন্ড ম্যানর, এমপিটি গ্লেন ভিউ, এমপিটি চম্পক বাংলো, এমপিটি অমলতাস, এমপিটি ক্লব ভিউ, এমপিটি দেবদারু বাংলো, হিলপট বাংলো, এমপিটি কর্নিকর বাংলো, এমপিটি সাতপুরা রিট্রিট, পঞ্চবটী হোটেল, এমপিটি হাইল্যান্ডস; ওরছায় এমপিটি বেতোয়া রিট্রিট, এমপিটি শিশ মহল; গ্বালিয়রে এমপিটি তানসেন রেসিডেন্সি। অনলাইন বুকিং www.mptourism.com

(২) মহারাষ্ট্র পর্যটনের থাকার ব্যবস্থা – তাডোবায় জঙ্গল রিসর্ট, নাগপুরে ট্যুরিস্ট রিসর্ট অনলাইন বুকিং https://mtdchotels.com

(৩) উত্তর প্রদেশ পর্যটনের থাকার ব্যবস্থা – ইলাহাবাদ তথা প্রয়াগরাজে রাহি ইলাওয়ার্ত; বারাণসীতে রাহি ট্যুরিস্ট বাংলো।  

এ ছাড়াও বারাণসীতে অজস্র ধর্মশালা রয়েছে – বীরেশ্বর পাঁড়ে ধর্মশালা (২৪৫৫২২৭), হরসুন্দরী (২৪৫২৪৪৬), শেঠ আনন্দরাম জয়পুরিয়া (২৪১২৬৭৪), রামকৃষ্ণ মিশন গেস্ট হাউস (৯৭৯৩২০৫৫৫১), ভারত সেবাশ্রম সংঘ (০৫৪২ ২২২ ১৬৩৯)

সব জায়গাতেই বেসরকারি হোটেল ও রিসর্ট আছে। সন্ধান পাবেন www.booking.com , www.makemytrip.com , www.yatra.com , www.trivago.in , www.airbnb.co.in , www.tripsavvy.com ইত্যাদি ওয়েবসাইট থেকে।

মনে রাখবেন

১। ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচির জন্য দেখে নিন erail.in      

২। ভ্রমণছক ১ থেকে ইলাহাবাদ বাদ দিলে সরাসরি সাতনা আসুন। হাওড়া থেকে মুম্বই মেল (ভায়া ইলাহাবাদ) ছাড়ে রাত ৯.৫৫ মিনিটে। সাতনা পৌঁছোয় পরের দিন দুপুর ২.৫০ মিনিটে। শিপ্রা এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে ছাড়ে সোম, বৃহস্পতি ও শনি, বিকেল ৫.৪৫ মিনিটে। সাতনা পৌঁছোয় পরের দিন সকাল সোয়া ১১টায়। দিল্লি ও মুম্বই থেকে বেশ কিছু ট্রেন আছে যাতে এলে সকাল বা বেলার দিকে সাতনা পৌঁছোনো যায়। সাতনা থেকে বাসে বা গাড়িতে চলুন খজুরাহো, ১১৭ কিমি। বিকেলের দিকে খজুরাহো এসে পৌঁছোলে, পরের দুটো দিন খজুরাহোয় থাকুন। সে ক্ষেত্রে ভ্রমণ এক দিন কমে যাবে।

৩। সাত সকালে অটো, জিপ, ট্যাক্সি, রিকশা বা টাঙা চেপে ঘুরে নিন খজুরাহোর পুব ও দক্ষিণের মন্দিরগুলো। তার পর দুপুরের খাওয়া সেরে পায়ে পায়ে দেখে নিন পশ্চিমের মন্দিররাজি। এক দিনের বৈকালিক সফরে পশ্চিম দেখা সম্পূর্ণ না হলে পরের দিন আবার বৈকালিক সফর করুন। সে দিন সক্কালেই গাড়ি ভাড়া করে চলুন পান্না জাতীয় উদ্যান। খজুরাহো ফিরে অটো বা জিপ ভাড়া করে ঘুরে আসুন ৫ কিমি উত্তরে ১৯ শতকের পাহাড়ি দুর্গ তথা রাজনগর প্রাসাদ এবং আরও ১৯ কিমি উত্তরে রাজা ওয়াটারফলস্‌।

৪। বর্ষায় বন্ধ থাকার পর কেন নদীর পুব পাড়ে পান্না জাতীয় উদ্যান ১৫ অক্টোবর খোলে। প্রবেশদ্বারে টিকিট মেলে। নিজেদের ব্যবস্থায় গাড়ি ভাড়া করতে হয়। প্রবেশ ফি ও গাইড চার্জ আলাদা। অগ্রিম টিকিটের জন্য https://forest.mponline.gov.in/

৫। বান্ধবগড় জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে বিশদ জানতে হলে দেখুন https://www.bandhavgarh-national-park.com/

৬। কানহা জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে বিশদ জানতে হলে দেখুন http://www.kanhanationalpark.com/

৭। পেঞ্চ জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে বিশদ জানতে হলে দেখুন  www.penchtiger.co.in

৮। তাডোবা জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে বিশদ জানতে হলে দেখুন   www.tadobanationalpark.in

৯। মাধব জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে বিশদ জানতে হলে দেখুন  http://natureconservation.in

১০। পাঁচমাড়িতে স্থানীয় গাড়ি ভাড়া করে ঘুরবেন। কিছু জায়গা দেখার জন্য টিকিট কাটতে হয়। সাতপুরা জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে বিশদ জানতে হলে দেখুন  www.satpura-national-park.com

১১। নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছেই সাফারি বুক করে নেবেন। সাধারণত সক্কাল থেকে বেলা পর্যন্ত, আবার বিকেলের দিকে সাফারি হয়। একাধিক সাফারি করলে এক এক সময় এক একটা জোনে সাফারি করবেন।

১২। যেখানে থাকবেন সেখানেই পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার জন্য গাড়ির খোঁজ করে নেবেন।  

১৩। বান্ধবগড়ে সাধারণত জঙ্গল সাফারিতে ফোর্ট দেখানো হয় না। যেখানে থাকবেন সেখানকার ম্যানেজারকে বলে ফোর্ট দেখার জন্য জিপ বুক করতে হবে।

১৪। ভ্রমণছক ১-এ জবলপুর বাদ দিলে দু’ দিন কমে যাবে। সে ক্ষেত্রে কানহা থেকে দশম দিনে চলে আসুন পাঁচমাড়ি, দূরত্ব ৩১২ কিমি।

১৫। ভ্রমণছক ১-এ কানহা বাদ দিলে দু’ দিন কমে যাবে। সে ক্ষেত্রে বান্ধবগড় থেকে অষ্টম দিনে চলে আসুন জবলপুর, দূরত্ব ১৬৫ কিমি।

১৬। বারাণসী থেকে খাজুরাহোর ট্রেন সোম, বুধ ও শনি ছাড়ে। সুতরাং ভ্রমণছক ৩-এ সেই ব্যাপারটা মাথায় রেখে বারাণসী যাওয়ার টিকিট কাটবেন।

১৭। ভ্রমণছক ৩-এ সারনাথ দেখার জন্য অন্তত একটি বেলা হাতে রাখবেন।

১৮। বারাণসীতে প্যাঁড়া, মালাই, রাবড়ি, লস্যি-সহ বিভিন্ন খাদ্যের স্বাদ নিতে ভুলবেন না।

১৯। গ্বালিয়র ঘোরার জন্য ট্যাক্সিই উপযুক্ত বাহন, বিশেষ করে দুর্গ পরিক্রমায়। টাঙা/অটো/রিকশা দুর্গ চড়তে অক্ষম, নামিয়ে দেয় দুর্গের পাদদেশে।

২০। গ্বালিয়র ফোর্ট বন্ধ থাকে সোমবার।         

0 Comments
Share
puja-destination-travel-plan-for-rajasthan

ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: মোটামুটি অক্টোবরের দ্বিতীয় অর্ধ থেকে রাজস্থানের আবহাওয়া নরম হতে শুরু করে। গরম কমে যায়। বরং কোথাও কোথাও বাতাসে ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব অনুভূত হয়। এই সময়ে যাওয়াই যায় রাজস্থান ভ্রমণে। তাই ভ্রমণ অনলাইন এই পর্বে সাজিয়ে দিচ্ছে রাজস্থান বেড়ানোর পরিকল্পনা। আগের দুটি পর্বে ছিল গাড়োয়ালকুমায়ুন

ভ্রমণ ছক ১:  আগরা-ভরতপুর-দৌসা-জয়পুর-সরিস্কা-অলওয়র

প্রথম ও দ্বিতীয় দিন –  যেখান থেকেই যান আগরায় দু’টো দিন পুরো থাকুন।  

প্রথম দিন  দেখুন তাজমহল, আগরা ফোর্ট, ইতমাদ-উদ-দৌল্লা, রামবাগ, চিনি কা রৌজা, দয়ালবাগ। দ্বিতীয় দিন সকালেই চলুন ফতেপুর সিকরি (৩৫ কিমি), সেখান থেকে ফিরে দেখে নিন সিকান্দ্রা।

কলকাতা থেকে আগরা যাওয়ার ভালো ট্রেন দুটো – (১) জোধপুর এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে রাত ১১.৩৫-এ ছেড়ে আগরা ফোর্ট পৌঁছোয় পরের দিন রাত পৌনে ৮টায়; (২) অজমের এক্সপ্রেস শিয়ালদহ থেকে রাত ১০.৫৫-য় ছেড়ে আগরা ফোর্ট পৌঁছোয় পরের দিন সন্ধে ৬.৩৫ মিনিটে। এ ছাড়া উদ্যান আভা তুফান এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে সকাল ৯.৩৫-এ ছেড়ে আগরা ক্যান্টনমেন্ট পৌঁছোয় পরের দিন দুপুর ২.৫৫-য়। এ ছাড়া বেশ কিছু সাপ্তাহিক ট্রেন আছে। এগুলির বেশির ভাগই সন্ধে থেকে রাতের দিকে আগরা পৌঁছোয়।

ট্রেনে বা বিমানে দিল্লি হয়েও আসতে পারেন। দিল্লি থেকে ট্রেন বিশেষে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টার যাত্রা আগরা। সক্কালেই দিল্লি থেকে আগরা পৌঁছোনোর বেশ কিছু ট্রেন আছে। দেশের সব বড়ো শহরের সঙ্গেই আগরা ট্রেনপথে যুক্ত।    

তৃতীয় দিন ও চতুর্থ দিন – রাত্রিবাস ভরতপুর। প্রথম দিন দেখে নিন লোহাগড় দুর্গ ও কেওলাদেও ঘানা জাতীয় উদ্যান। দ্বিতীয় দিন চলুন ৩৪ কিমি দূরের দীগ। দেখে নিন দীগ দুর্গ, সুরজমল প্রাসাদ বা গোপাল ভবন, সূর্য ভবন, গার্ডেন প্যাভিলিয়ন কেশব ভবন, রূপসাগরের শিশ মহল, পুরানা মহল, শ্বেতপাথরের হিন্দোলা প্রাসাদ ইত্যাদি।

আগরা থেকে ভরতপুর ট্রেনে যাওয়াই সুবিধাজনক। ভোর থেকে ট্রেন। বেশির ভাগ ট্রেন মেলে আগরা ফোর্ট থেকে। ঈদগা আর ক্যান্টনমেন্ট থেকেও ট্রেন পাওয়া যায়। ঘণ্টা খানেক সময় লাগে। সড়কপথে আগরা থেকে ভরতপুর ৫৫ কিমি, বাস চলে নিয়মিত। গাড়ি ভাড়া করেও আসতে পারেন। ভরতপুর থেকে দীগ নিয়মিত বাস চলে, গাড়িও পাবেন।

পঞ্চম দিন – রাত্রিবাস দৌসা। দৌসা থেকে সকালে চলে যান ১৩ কিমি দূরের ভান্ডারেজ। দেখে নিন প্রাসাদ আর রাজস্থানের সব চেয়ে আকর্ষণীয় স্টেপ-ওয়েল ভান্ডারেজ বাউড়ি। দৌসা ফিরে দুপুরের আহার সেরে চলুন ৩০ কিমি দূরে ভানগড় দুর্গ। ‘হানাবাড়ি’ বলে খ্যাত ভানগড় দুর্গে সন্ধে নামলে থাকা যায় না।

ভরতপুর থেকে সকাল ৬.০৮-এ আগরা ফোর্ট-অজমের ইন্টারসিটি ধরে দু’ ঘন্টায় চলে আসুন দৌসা। দৌসা থেকে গাড়ি ভাড়া করে প্রথমে চলে যান ভান্ডারেজ বাউড়ি। তার পর দৌসা ফিরে দুপুরের আহার করে গাড়ি ভাড়া করে চলে যান ভানগড় দুর্গ। শেয়ার জিপ বা বাসে গেলে ভানগড় দুর্গের কিছু আগে গোলা কা বাস পর্যন্ত যেতে হবে। তার পর হাঁটা।   

ষষ্ঠ ও সপ্তম দিন – রাত্রিবাস জয়পুর। জয়পুরে দেখে নিন হাওয়া মহল, বিড়লা মন্দির, মোতি ডুংরি, অ্যালবার্ট হল মিউজিয়াম, নাহাড়গড় দুর্গ, জলমহল, জয়গড় দুর্গ, সিসোদিয়া রানি কি বাগ, বিদ্যাধরজি কি বাগ, যন্তর মন্তর, সিটি প্যালেস, অম্বর দুর্গ ও প্রাসাদ (১১ কিমি), গলতা ও সূর্য মন্দির (১০ কিমি পুবে, হেঁটে পাহাড়ে চড়া) ও সঙ্গানের (১৬ কিমি দক্ষিণ পশ্চিমে, ১৫০০ খ্রিস্টাব্দের জৈন মন্দির ও প্রাসাদ)।

দৌসা থেকে জয়পুর ট্রেনে আসাই সুবিধাজনক। সক্কাল থেকে ট্রেন আছে, ঘণ্টা দেড়েক সময় লাগে। বাসে বা গাড়িতেও আসা যায়। আগরা-জয়পুর জাতীয় সড়কের ওপর অবস্থিত দৌসা। দৌসা থেকে জয়পুর সড়কপথে ৫৮ কিমি।

অষ্টম দিন – রাত্রিবাস সরিস্কা।

সক্কাল সক্কাল জয়পুর থেকে বেরিয়ে বাসে বা গাড়িতে চলুন সরিস্কা, দূরত্ব ১১৩ কিমি। বিকেলে ও পরের দিন সকালে দু’টো সাফারি করার চেষ্টা করুন।

নবম দিন ও দশম দিন – রাত্রিবাস অলওয়র।

নবম দিন সকালে সরিস্কায় একটা সাফারি করে রওনা হয়ে যান অলওয়র। বাসে বা গাড়িতে চলে আসুন ৩৭ কিমি পথ। গাড়িতে এলে পথে দেখে নিন শিলিশেড় লেক ও প্রাসাদ।

অলওয়রে দেখে নিন সিটি প্যালেস তথা মিউজিয়াম, বালা কিলা বা অলওয়র দুর্গ, মুসি মহারানি কি ছত্রি, করণীমাতা মন্দির, পুরজন বিহার, বিনয় বিলাস প্রাসাদ (১০ কিমি, বিজয়সাগরের পাড়ে), জয়সমন্দ লেক (৬ কিমি) এবং শিলিশেড় লেক ও প্রাসাদ (যদি সরিস্কা থেকে আসার পথে দেখা না হয়ে থাকে)।

একাদশ দিন – দিল্লি হয়ে ফিরুন ঘরপানে। অলওয়র থেকে দিল্লি ১৬০ কিমি, মুহুর্মুহু বাস আছে। সকাল থেকে পর পর ট্রেন রয়েছে আলোয়ার-দিল্লি, সাড়ে তিন ঘণ্টা মতো সময় লাগে।

ভ্রমণ ছক ২:  জয়পুর-ফতেপুর-বিকানের-অজমের

প্রথম ও দ্বিতীয় দিন – যেখান থেকেই যান জয়পুরে অন্তত পুরো দু’টো দিন থাকুন। জয়পুরে কী দেখবেন তা জানতে আগের ভ্রমণসূচির ষষ্ঠ ও সপ্তম দিন দেখে দিন।

ভারতের সব বড়ো শহরের সঙ্গে জয়পুর ট্রেন ও বিমানপথে সংযুক্ত। কলকাতা থেকে জয়পুর যাওয়ার ভালো ট্রেন দু’টো – হাওড়া থেকে জোধপুর এক্সপ্রেস ও শিয়ালদহ থেকে অজমের এক্সপ্রেস। জোধপুর এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে রাত ১১.৩৫-এ ছেড়ে জয়পুর পৌঁছোয় পরের দিন রাত ১২.৩৫-এ। অজমের এক্সপ্রেস  শিয়ালদহ থেকে রাত ১০.৫৫-য় ছেড়ে জয়পুর পৌঁছোয় পরের দিন রাত ১১.৫৫-য়। এ ছাড়া দু’টি সাপ্তাহিক ট্রেন আছে। দিল্লি থেকে জয়পুর সাড়ে ৪ ঘণ্টা থেকে ৬ ঘণ্টার জার্নি, অসংখ্য ট্রেন।  

তৃতীয়, চতুর্থ দিন ও পঞ্চম দিন – রাত্রিবাস ফতেপুর। জয়পুর থেকে ফতেপুর আসুন বাসে, ১৬৬ কিমি, ঘনঘন বাস আছে। গাড়িতেও আসতে পারেন। সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ুন।

শেখাবতী অঞ্চলের মধ্যমণি ফতেপুর। রাও শেখা থেকে নাম শেখাবতী। শেখা তথা মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের বাস এই অঞ্চলে। তাদেরই অর্থে এখানকার ৩৬০টি গ্রাম জুড়ে গড়ে উঠেছে ফ্রেস্কো চিত্রে নানা আখ্যানে সুশোভিত নানা বাড়ি বা হাভেলি।

যে দিন জয়পুর থেকে পৌঁছোবেন সে দিন ফতেপুরে দেখে নিন গোয়েঙ্কা, ডেবরা, সিংহানিয়া, সারাওগি, পোদ্দার, জালান ইত্যাদিদের হাভেলি।

পরের দিন একটা গাড়ি ভাড়া করে ভোরেই বেরিয়ে পড়ুন। চলুন লছমনগড় (২২ কিমি), সেখান থেকে শিকার (৩৩ কিমি), সেখান থেকে নওয়লগড় (৩৪ কিমি), নওয়লগড় থেকে ঝুনঝুনু (৪০ কিমি), ঝুনঝুনু থেকে মান্ডোয়া (৩২ কিমি) ও মান্ডোয়া থেকে ফিরুন ফতেপুর (২১ কিমি)। দেখে নিন নানা হাভেলি, মন্দির ও গড়।

পঞ্চম দিন গাড়ি ভাড়া করে চলুন স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিধন্য খেতড়ি (১০৪ কিমি)। সক্কাল সক্কাল বেরিয়ে পড়ুন। সারা দিন ঘুরে দেখে নিন আরাবল্লি পাহাড়ের কোলে খেতড়ির রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম, রঘুনাথ মন্দির, ভোপালগড় দুর্গ, অজিত সাগর, বাগোর দুর্গ, সুখ মহল। রাতে ফিরে আসুন ফতেপুর।

ষষ্ঠ ও সপ্তম দিন – রাত্রিবাস বিকানের। সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন ফতেপুর থেকে বাসে বা গাড়িতে, ১৭২ কিমি।

বিকানেরে দেখে নিন জুনাগড় দুর্গ, গঙ্গা গোল্ডেন জুবিলি মিউজিয়াম, লালগড় প্রাসাদ, ভাণ্ডেশ্বর ও ষণ্ডেশ্বর জৈন মন্দির কমপ্লেক্স (৫ কিমি), দেবী কুণ্ড সাগর (৮ কিমি), ক্যামেল ব্রিডিং ফার্ম (৮ কিমি), গজনের স্যাংচুয়ারি ও প্রাসাদ (বিকানের-জৈসলমের পথে ৩১ কিমি) এবং দেশনোকে করণীমাতা মন্দির (বিকানের-অজমের পথে ৩২ কিমি)

অষ্টম ও নবম দিন – রাত্রিবাস অজমের।

বিকানের থেকে ২৫০ কিমি অজমের। বাসেই আসা প্রশস্ত। গাড়িতেও আসা যায়। গাড়িতে এলে পথে দেশনোকে করণীমাতা মন্দির দেখে নিতে পারেন। অজমের পৌঁছে প্রথম দিন দরগা শরিফ দেখে নিন।

পরের দিন দেখে নিন আড়াই-দিন-কা-ঝোপড়া, তারাগড় পাহাড়ে আকবর কা দৌলতখানা, দিগম্বর জৈন মন্দির সোনিজি কা নাসিয়া, আকবরের প্রাসাদে সরকারি মিউজিয়াম, দু’টি কৃত্রিম হ্রদ আনা সাগর ও ফয় সাগর  এবং আনা সাগরের পাড়ে জাহাঙ্গিরের গড়া দৌলত বাগ বাগিচা। চলুন ১৫ কিমি দূরে পুষ্করতীর্থে। হ্রদ ও অসংখ্য মন্দির নিয়ে মরুভূমির বুকে এক টুকরো পুষ্কর।

দশম দিন – ঘরপানে ফেরা। কলকাতায় ফিরলে দুপুর ১২.৫০-এ শিয়ালদহ এক্সপ্রেস ধরুন। দিল্লি হয়েও ফিরতে পারেন। বহু ট্রেন আছে। সময় লাগে ট্রেন বিশেষে সাড়ে ৬ ঘণ্টা থেকে ৯ ঘণ্টা।

ভ্রমণ ছক ৩:  বিকানের-জৈসলমের-বাড়মের-জোধপুর

প্রথম দিন – রাত্রিবাস বিকানের। যেখান থেকেই আসুন, চেষ্টা করুন সকালেই বিকানের পৌঁছোতে।

কলকাতা থেকে বিকানের যাওয়ার সরাসরি দৈনিক ট্রেন জোধপুর এক্সপ্রেস। হাওড়া থেকে রাত ১১.৩৫-এ ছেড়ে বিকানের পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল পৌনে ৯টায়। এ ছাড়াও দু’টি সাপ্তাহিক ট্রেন আছে – হাওড়া থেকে জৈসলমের এক্সপ্রেস (পৌঁছোয় সন্ধ্যায়) এবং কলকাতা স্টেশন থেকে প্রতাপ এক্সপ্রেস (পৌঁছোয় ভোরে)। মুম্বই বা চেন্নাই থেকে ট্রেনও এলে বিকেলে বিকানের পৌঁছোয়। দেশের যে কোনো জায়গা থেকে দিল্লি এসে সেখান থেকেও ট্রেনে বিকানের আসা যায়। দিল্লি-বিকানের সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস দিল্লি সরাই রোহিলা থেকে রাত ১১.৩৫-এ ছেড়ে বিকানের পৌঁছোয় সকাল ৭টায় এবং ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস সকাল ৮.৪০-এ সরাই রোহিলা থেকে ছেড়ে বিকানের পৌঁছোয় বিকেল ৪.৩৫-এ। 

দেশের যে কোনো বড়ো শহর থেকে বিমানে জয়পুর এসে সেখান থেকে ট্রেনে বিকানের আসা যায়। সময় লাগে ট্রেন বিশেষে সাড়ে ৬ ঘণ্টা থেকে সাড়ে ৯ ঘণ্টা। ট্রেনে দিনের যে কোনো সময়ে বিকানের পৌঁছোনো যায়।  সড়কপথে বাস বা গাড়ি ভাড়া করেও আসা যায়, দূরত্ব ৩৪২ কিমি। 

দ্বিতীয় দিন – সারা দিন বিকানের ঘুরে রাতে বাস ধরুন জৈসলমের যাওয়ার জন্য।
বিকানেরে দ্রষ্টব্য – দেখে নিন ভ্রমণ ছক ২-এর ষষ্ঠ ও সপ্তম দিন।

তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম দিন –  রাত্রিবাস জৈসলমের।

বিকানের থেকে জৈসলমের ৩৩০ কিমি। বাসে ঘণ্টা আটেক সময় লাগে। ভোরেই পৌঁছে যান জৈসলমের।

জৈসলমের অবস্থানকালে গাড়ি ভাড়া করে নিন। প্রথম দিন দেখে নিন সোনার কেল্লা, রাজ কা মহল, নাথমলজি কি হাভেলি, পাটোয়া কি হাভেলি, সেলিম সিংজি কি হাভেলি আর গদিসর লেক।

দ্বিতীয় দিন সকালে দেখে নিন ভাটি রাজাদের ছত্তীশ বড়াবাগ, ভাটি রাজাদের পূর্বতন রাজধানী লোধুর্বা ও মরুভূমির বুকে মরুদ্যান অমরসাগর। জৈসলমেরে ফিরে দুপুরের খাওয়া সেরে চলুন রাজকীয় বাগিচা মূলসাগর, মিউজিয়াম নগরী কুলধ্রা হয়ে স্যাম স্যান্ড ডিউনস (জৈসলমের থেকে ৪২ কিমি পশ্চিমে)। মরুভূমির বুকে রমণীয় সূর্যাস্ত দেখুন।

ভ্রমণের পঞ্চম দিনে অর্থাৎ জৈসলমের থাকার তৃতীয় দিন সকালে চলুন ১৭ কিমি দূরের উড ফসিল পার্কে, ১৮ কোটি বছরের ১৮টি জুরাসিক বৃক্ষের ফসিল। দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর খুরির পথে চলুন  ডের্জার্ট ন্যাশনাল পার্কে (জৈসলমের থেকে ৯ কিমি), উটের গাড়িতে সাফারি করুন। সেখান থেকে চলুন খুরিতে (আরও ৩১ কিমি)। সূর্যাস্ত দেখে রাজস্থানের সংগীত-নৃত্য উপভোগ করে জৈসলমের ফিরুন।

ষষ্ঠ দিন – রাত্রিবাস বাড়মের।

জৈসলমের থেকে ১৩৫ কিমি দূরের বাড়মের বাসে ঘণ্টা চারেকের পথ। সকালেই বেরিয়ে পড়ুন। গাড়ি ভাড়া করেও আসতে পারেন।

বাড়মেরে দেখুন পাহাড়ের শিরে শ্বেতপাথরের অষ্টভুজা দুর্গা, ৩৮ কিমি দূরে পাকিস্তান সীমান্তের পথে হাজার বছরের মন্দির স্থাপত্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কিরাডু এবং শহর থেকে সাত কিমি দূরে মহাবাড় বালিয়াড়ি থেকে অপরূপ সূর্যাস্ত।

সপ্তম ও অষ্টম দিন – জোধপুর।

সপ্তম দিন সকালেই রওনা হন জোধপুর, দূরত্ব ২০০ কিমি। বাসে চলে আসুন। ট্রেনও পাবেন। ভোর সাড়ে চারটে থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গোটা ছয়েক ট্রেন পাবেন। ট্রেন বিশেষে সময় লাগে সাড়ে ৩ ঘণ্টা থেকে ৫ ঘণ্টা। তবে চেষ্টা করুন ভোর সাড়ে ৪টের ডিএমইউ বা সকাল পৌনে ৭টার এক্সপ্রেস ধরতে। তা হলে হয় ৯.০৫ অথবা ১০.১০-এর মধ্যে পৌঁছে যাবেন জোধপুর।  

জোধপুরে একটা গাড়ি ভাড়া করে নিন। প্রথম দিন পৌঁছে দেখে নিন মেহরনগড় ফোর্ট ও দুর্গের পাদদেশে জশবন্ত সিংহের স্মারকসৌধ তথা ছত্তিশ জশবন্ত থাডা। বিকেলে চলুন ১০ কিমি পশ্চিমে কৈলানা হ্রদ, দেখুন সূর্যাস্ত। মন ভরে যাবে।

জোধপুর অবস্থানকালে দ্বিতীয় দিন সকালে দেখে নিন উমেদ ভবন প্যালেস, কাছেই মহারাজার রেলওয়ে ক্যারেজ, সদর গভর্নমেন্ট মিউজিয়াম। দুপুরে চলুন শহর থেকে ৮ কিমি উত্তরে ৬-১৪ শতকের পরিহারদের রাজধানী মান্ডোর। দেখে নিন মান্ডোরের এক কিমি আগে বালসমন্দ হ্রদ।

নবম দিন – আজই ঘরে ফেরার দিন। তার আগে সকালে চলুন ৬৬ কিমি উত্তরে থর মরুভূমির বুকে ওশিয়া। ৮-১১ শতকে পরিহারদের তৈরি হিন্দু ও জৈন মন্দিরগুলির ভাস্কর্য দেখার মতো। জোধপুর থেকে ট্রেনে দেড় ঘণ্টার পথ ওশিয়া। বাসে বা গাড়ি ভাড়া করেও আসা যায়।   কলকাতা, দিল্লি ও মুম্বইয়ের যাত্রীরা রাতে ঘরে ফেরার ট্রেন পাবেন। জোধপুর-হাওড়া এক্সপ্রেস জোধপুর ছাড়ে রাত ৮.১৫ মিনিটে, হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন ভোর সোয়া ৪টেয়। অন্য জায়গার যাত্রীরা দিল্লি হয়ে ফিরুন।

ভ্রমণ ছক ৪: জয়পুর-মাউন্ট আবু-উদয়পুর-চিতৌরগড়-বুঁদি-রনথম্ভৌর-আগরা

প্রথম ও দ্বিতীয় দিন – জয়পুর (দেখুন ভ্রমণ ছক ২, প্রথম ও দ্বিতীয় দিন)

তৃতীয় ও চতুর্থ দিন – মাউন্ট আবু। জয়পুর থেকে ট্রেনে চলুন।  

৩৯৯৯ ফুট উঁচু মাউন্ট আবুর কাছের রেলস্টেশন আবু রোড, দূরত্ব ২৯ কিমি। জয়পুর থেকে ভোর ৪.২৫-এর যোগ এক্সপ্রেস আবু রোড পৌঁছে দেয় সকাল ১১.৪০-এ। আরও ট্রেন আছে, তবে সময়ের দিক থেকে এটিই সব চেয়ে সুবিধার। আবু রোড স্টেশন থেকে বাস বা গাড়ি ভাড়া করে মাউন্ট আবু পৌঁছে প্রথম দিন দেখে নিন সানসেট পয়েন্ট থেকে আরাবল্লির কোলে মনোরম সূর্যাস্ত। হনিমুন পয়েন্ট থেকেও সূর্যাস্ত দেখতে পারেন। কাছেই নক্কি লেক।

মাউন্ট আবু অবস্থানের দ্বিতীয় দিনে প্রথমে চলুন শহর থেকে ১৫ কিমি উত্তর-পূর্বে আরাবল্লির সর্বোচ্চ শিখর গুরুশিখর (৫৮১৩ ফুট), রয়েছে ব্রহ্মা-বিষ্ণু–মহেশ্বরের মন্দির, পাহাড়ের মাথায় দত্তাত্রেয় মুনির পায়ের ছাপ। এর পর দেখে নিন চৌহান রাজাদের তৈরি অচলগড়, গড় থেকে নীচে অচলেশ্বর শিবের মন্দির। এর পর চলে আসুন শ্বেতপাথরের জৈন মন্দিররাজি দিলওয়ারা, কারুকার্য, অলংকরণ ও ভাস্কর্যে অনন্য। শহরের কাছাকাছি এসে দেখে নিন অর্বুদাদেবী তথা অধরাদেবী তথা দুর্গার মন্দির। দেখে নিন নক্কি লেকের কাছে টোড রক। আগের দিন হনিমুন পয়েন্ট না যাওয়া হয়ে থাকলে চলুন সেখানে।

পঞ্চম থেকে অষ্টম দিন – উদয়পুর।

সকালেই বেরিয়ে পড়ুন মাউন্ট আবু থেকে, চলুন উদয়পুর, ১৬৪ কিমি। বাসে ঘণ্টা চারেক সময় লাগে। সকালের বাস ধরে এলে দুপুরের মধ্যে পৌঁছে যাবেন উদয়পুর। গাড়ি ভাড়া করেও আসতে পারেন।

উদয়পুরে প্রথম দিন দেখে নিন লেক পিছোলার পাড়ে সিটি প্যালেস।

উদয়পুর অবস্থানকালে দ্বিতীয় দিন একটা গাড়ি ভাড়া করে উদয়পুর দেখে নিন। দেখে নিন ক্রিস্টাল গ্যালারি, মহারানাদের ভিন্টেজ গাড়ির প্রদর্শনী, সিটি প্যালেসের উত্তরে জগদীশ মন্দির, পিছলি গ্রামে লেক পিছোলা ও লেকের মাঝে জগনিবাস প্রাসাদ, লেকের দক্ষিণ পাহাড়ে জগমন্দির, লেকের পিছনে সজ্জননিবাস বাগ, লেকের উত্তরে ফতেহ সাগর, ফতেহ সাগরের পূবে বাঁধের নীচে সহেলিয়োঁ–কি-বাড়ি, ফতেহ সাগরে রমণীয় দ্বীপ-উদ্যান নেহরু পার্ক, বিপরীতে মোতি মাগরি পাহাড়ে প্রতাপ স্মারক, শহর থেকে ৫ কিমি পশ্চিমে সজ্জনগড় তথা মনসুন প্যালেস, ৬ কিমি উত্তর-পশ্চিমে উদয়পুরের নবতম আকর্ষণ শিল্পীগ্রাম এবং শহর থেকে ৩ কিমি পুবে শিশোদিয়া রাজাদের অতীতের রাজধানী পাহাড়ে ঘেরা আহার।

তৃতীয় দিন তথা ভ্রমণের সপ্তম দিন একটা গাড়ি ভাড়া করে সারা দিনের জন্য বেরিয়ে পড়ুন শহর থেকে উত্তরে। চলুন রাজসমন্দ-কাঁকরোলি-নাথদ্বার-দেবীগড়-একলিঙ্গজি-নাগদা। প্রথমে চলুন ৬৩ কিমি দূরে রাজসমন্দ লেক এবং কাঁকরোলি। দেখুন মহারানা রাজ সিংহের তৈরি ৭.৭ বর্গ কিমি আয়তন বিশিষ্ট লেক, লেকের পাড়ে শিলালিপি, শ্বেতপাথরের ন’টি মণ্ডপ তথা নওচৌকি, বাগিচা, শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকাধীশ মন্দির ইত্যাদি। এ বার উদয়পুরের দিকে ১৮ কিমি এসে বৈষ্ণবতীর্থ নাথদ্বার, দেখুন শ্রীকৃষ্ণের মন্দির। নাথদ্বার থেকে উদয়পুরের দিকে প্রায় ২১ কিমি এগিয়ে এলে দেবীগড়, ১৮ শতকের ফোর্ট প্যালেস। আরও ৭-৮ কিমি এসে একলিঙ্গজি, ৭৩৪ খ্রিস্টাব্দে তৈরি পিরামিড ধাঁচের মন্দির কমপ্লেক্স। উদয়পুরের দিকে একলিঙ্গজির একেবারে গায়েই নাগদা, রাওয়াল নাগাদিত্যের ১১ শতকের রাজধানী, প্রাচীন নগরী। ফিরে আসুন উদয়পুরে।

উদয়পুরে অবস্থানকালে শেষ দিন চলুন রনকপুর-কুম্ভলগড়-হলদিঘাটি। সক্কালেই গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়ুন। প্রথম গন্তব্য ৯৩ কিমি দূরের রনকপুর। ২৯টি জৈন মন্দিরের কমপ্লেক্স, দিলওয়ারাতুল্য। এখান থেকে চলুন ৩৩ কিমি দূরে আরাবল্লি পাহাড়ের ঢালে ৩৫৬৬ ফুট উঁচুতে কুম্ভলগড় দুর্গ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাচীরে ঘেরা দুর্গ, রানা কুম্ভের তৈরি। দুর্গের নানা মহলে ফ্রেস্কো চিত্র। বহু মন্দির। র‍্যামপার্ট থেকে মাড়োয়ারের সমতল ও আরাবল্লির জঙ্গল-পাহাড় সুন্দর দৃশ্যমান। চার কিমি দূরে কুম্ভলগড় স্যাংচুয়ারি। এ বার উদয়পুর ফেরার পথে চলুন হলদিঘাটি, আকবরের বাহিনীর সঙ্গে রানা প্রতাপের সেই যুদ্ধস্থল, যেখানে প্রাণ দিয়েছিল প্রতাপের প্রিয় ঘোড়া চেতক, কুম্ভলগড় থেকে ৫০ কিমি। হলদিঘাটি দর্শন শেষে ফিরে আসুন ৪০ কিমি দূরের উদয়পুর।

নবম দিন – রাত্রিবাস চিতৌড়গড়।

উদয়পুর থেকে ট্রেনে সাড়ে তিন ঘণ্টার পথ, বাসেও একই সময় লাগে। উদয়পুর-চিতৌড়গড় বাস চলে মুহুর্মুহু। এক দিন থেকে দেখে নিন রানি পদ্মিনী, জহরব্রত, মীরাবাঈ, রানা কুম্ভের স্মৃতিবিজড়িত চিতৌড়গড়।

দশম ও একাদশ দিন – রাত্রিবাস কোটা।

ট্রেন আছে বটে, তবে চিতৌড়গড় থেকে কোটা বাসে আসাই ভালো। ভোর থেকেই বাস রয়েছে। বাসের সময় লাগে সাড়ে চার ঘণ্টা থেকে ছ’ ঘণ্টা।

কোটায় দেখে নিন চম্বল নদীর পাড়ে রাও মাধো সিংজির গড়া দুর্গ। দেখে নিন বিভিন্ন মহল। দুর্গের ডাইনে মহারাজা মাধো সিং মিউজিয়াম। দেখুন ১৮ শতকের ভীম মহল, শহরের উত্তরে উমেদ ভ্রমণ প্রাসাদ, দুর্গের পিছনে চম্বলের ওপর কোটা ব্যারেজ, কিশোর সাগর, দ্বীপ মহল, ব্রিজরাজ ভবন প্রাসাদ ও জওহর বিলাস গার্ডেন। সন্ধ্যায় চম্বল উদ্যান অবশ্য দ্রষ্টব্য।

বুঁদির কেল্লার কথা নিশ্চয়ই মনে আছে, রবীন্দ্রনাথ যাকে স্মরণীয় করে গেছেন। সেই বুঁদির কেল্লা কোটা থেকে সাড়ে ৩৮ কিমি। আধ ঘণ্টা অন্তর বাস আছে। গাড়ি ভাড়া করেও যেতে পারেন বুঁদি। দ্বিতীয় দিনে চলুন বুঁদি। বাসে করে এলে অটো বা টাঙা ভাড়া করে দেখে নিন ১৩৫৪-য় রাজস্থান শৈলীতে তৈরি বুঁদির কেল্লা তথা তারাগড় ফোর্ট, শহরের প্রান্তে রানিজি কি বাউড়ি, কেল্লা থেকে ৫ কিমি উত্তর-পশ্চিমে ফুল সাগর প্রাসাদ, চোগান গেটে নগর সাগর কুণ্ড, ক্ষার বাগে রাজ পরিবারের ছত্তিশ, জৈৎ সাগর লেক, লেকের উত্তর পাড়ে সুখ নিবাস। বুঁদি থেকে ফিরুন কোটায়। 

দ্বাদশ দিন –  রাত্রিবাস রনথম্ভৌর/সোয়াই মাধোপুর।

কোটা থেকে রনথম্ভৌর ১৪৪ কিমি, বাসে তিন থেকে চার ঘণ্টার পথ। কিংবা বাসে বা ট্রেনে সোয়াই মাধোপুর এসে মিনিবাস বা গাড়িতে ১৪ কিমি দূরের রনথম্ভৌরে আসা যায়। সব চেয়ে ভালো হয় ট্রেনে এলে। প্রচুর ট্রেন আছে। তবে সব চেয়ে সুবিধাজনক ভোর ৫.২০-এর আগস্ট ক্রান্তি এক্সপ্রেস, ৫.৫৫-এর নিজামুদ্দিন শতাব্দী, ৭.১৫-এর যমুনা ব্রিজ আগরা প্যাসেঞ্জার অথবা  কিংবা ৭.৪০-এর দাওদাই এক্সপ্রেস। খুব বেশি হলে ঘণ্টা দুয়েক লাগে ট্রেনে। তবে সোয়া ৭টার প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি একেবারে রনথম্ভৌর পৌঁছে দেয় কিছু কম তিন ঘণ্টা সময়ে।

দু’টো সাফারি করার চেষ্টা করুন। প্রথমটা যে দিন পৌঁছোবেন সে দিন বিকেলে, দ্বিতীয়টি পরের দিন সকালে। সাফারি করা ছাড়া আর দেখুন পাহাড়ের ওপর কেল্লা। পরের দিন সকালে সাফারি করে এসে কেল্লা দেখুন।  রাতের ট্রেন ধরে রওনা হয়ে যান আগরা।

ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ দিন – রাত্রিবাস আগরা।

ত্রয়োদশ দিন রনথম্ভৌর ঘুরে রাত ১১টার (রনথম্ভৌর থেকে) হলদিঘাটি প্যাসেঞ্জার ট্রেন ধরে পরের দিন সকাল ৬টায় পৌঁছে যান আগরা ফোর্ট স্টেশনে। আগরা কী ভাবে ঘুরবেন, দেখুন ভ্রমণ ছক ১, প্রথম ও দ্বিতীয় দিন   

পঞ্চদশ দিন – ঘরের পথে রওনা।

দেশের যে কোনো শহরের সঙ্গে ট্রেন পথে আগরার যোগাযোগ রয়েছে। না হলে দিল্লি হয়ে ঘরে ফিরুন। হাওড়া আসার ভালো ট্রেন হাওড়া-জোধপুর, আগরা ফোর্ট থেকে ছাড়ে সকাল ৫.৫৫ মিনিটে। তবে ভ্রমণের চতুর্দশ দিনে সময়টা একটু হিসেব করে নিলে ওই দিনই সন্ধে ৬.৫০-এ আগরা ফোর্ট অজমের-শিয়ালদহ এক্সপ্রেস ধরা যায়।

ভ্রমণ ছক ৫: জয়পুর-অজমের-জোধপুর-জৈসলমের-বাড়মের-মাউন্ট আবু-উদয়পুর-চিতৌড়গড়-বুঁদি-রনথম্ভৌর

প্রথম ও দ্বিতীয় দিন – জয়পুর (ভ্রমণ ছক ১, প্রথম ও দ্বিতীয় দিন)

তৃতীয় দিন – খুব ভোরে বেরিয়ে পড়ুন, পুষ্কর হয়ে চলুন জোধপুর, ৩৩৬ কিমি। রাত্রিবাস জোধপুর।   

চতুর্থ দিন – রাত্রিবাস জোধপুর। এ দিন দেখে নিন মেহরনগড় ফোর্ট ও দুর্গের পাদদেশে জশবন্ত সিংহের স্মারকসৌধ তথা ছত্তিশ জশবন্ত থাডা, উমেদ ভবন প্যালেস, কাছেই মহারাজার রেলওয়ে ক্যারেজ, সদর গভর্নমেন্ট মিউজিয়াম। বিকেলে চলুন ১০ কিমি পশ্চিমে কৈলানা হ্রদ, দেখুন সূর্যাস্ত। মন ভরে যাবে।

পঞ্চম দিন – জোধপুর থেকে ভোর ভোর বেরিয়ে পড়ুন। আজকের গন্তব্য জৈসলমের, পথে দেখতে দেখতে চলা। প্রথমে ১৫ কিমি উত্তরে বালসমন্দ হ্রদ। তার পর আরও ৩ কিমি গিয়ে ৬-১৪ শতকের পরিহারদের রাজধানী মান্ডোর। মান্ডোর দেখে চলুন ওশিয়া, ৫৩ কিমি, ৮-১১ শতকে পরিহারদের তৈরি হিন্দু ও জৈন মন্দিরগুলির ভাস্কর্য দেখার মতো। ওশিয়া থেকে পরবর্তী গন্তব্য ফালোদি, ৭৯ কিমি, দুর্গ, মন্দির, জাফরি কাটা নানা হাভেলি। এখান থেকে ৭ কিমি দূরে খিচেন, অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাইবেরিয়া থেকে উড়ে আসা হাজারো সারসের আবাসভূমি। ফিরে আসুন ফালোদি। চলুন ‘সোনার কেল্লা’ খ্যাত রামদেওরা, ৫০ কিমি, দেখে নিন ষোড়শ শতকের তনোয়ার রাজপুত সাধু বাবা রামদেবের মন্দির। পরমাণু পরীক্ষার জন্য খ্যাত পোখরন হয়ে সোজা পৌঁছে যান জৈসলমের, ১১৮ কিমি। পৌঁছোতে রাত হবে, অসুবিধা নেই। রাত্রিবাস জৈসলমের।          

ষষ্ঠ ও সপ্তম দিন – রাত্রিবাস জৈসলমের।

জৈসলমেরে প্রথম দিন সকালে দেখে নিন সোনার কেল্লা, রাজ কা মহল, নাথমলজি কি হাভেলি, পাটোয়া কি হাভেলি, সেলিম সিংজি কি হাভেলি, গদিসর লেক। দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর খুরির পথে চলুন ডের্জার্ট ন্যাশনাল পার্কে (জৈসলমের থেকে ৯ কিমি), উটের গাড়িতে সাফারি করুন। সেখান থেকে চলুন খুরিতে (আরও ৩১ কিমি)। সূর্যাস্ত দেখে রাজস্থানের সংগীত-নৃত্য উপভোগ করে জৈসলমের ফিরুন। 

দ্বিতীয় দিন সকালে দেখে নিন ভাটি রাজাদের ছত্তীশ বড়াবাগ, ভাটি রাজাদের পূর্বতন রাজধানী লোধুর্বা ও মরুভূমির বুকে মরুদ্যান অমরসাগর। জৈসলমেরে ফিরে দুপুরের খাওয়া সেরে চলুন রাজকীয় বাগিচা মূলসাগর, মিউজিয়াম নগরী কুলধ্রা হয়ে স্যাম স্যান্ড ডিউনস (জৈসলমের থেকে ৪২ কিমি পশ্চিমে)। মরুভূমির বুকে রমণীয় সূর্যাস্ত দেখুন।

অষ্টম দিন – চলুন বাড়মের, ১৫৬ কিমি। পথে দেখে নিন জৈসলমের থেকে ১৭ কিমি দূরের উড ফসিল পার্কে, ১৮ কোটি বছরের ১৮টি জুরাসিক বৃক্ষের ফসিল। বাড়মেরে দেখুন পাহাড়ের শিরে শ্বেতপাথরের অষ্টভুজা দুর্গা, ৩৮ কিমি দূরে পাকিস্তান সীমান্তের পথে হাজার বছরের মন্দির স্থাপত্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কিরাডু এবং শহর থেকে সাত কিমি দূরে মহাবাড় বালিয়াড়ি থেকে অপরূপ সূর্যাস্ত। রাত্রিবাস বাড়মের।  

নবম ও দশম দিন – রাত্রিবাস মাউন্ট আবু।

নবম দিনে সকাল সকাল বাড়মের থেকে বেরিয়ে পড়ুন, চলুন মাউন্ট আবু, ২৮৭ কিমি। ওই দিন মাউন্ট আবু পৌঁছে দেখে নিন সানসেট পয়েন্ট থেকে আরাবল্লির কোলে মনোরম সূর্যাস্ত। হনিমুন পয়েন্ট থেকেও সূর্যাস্ত দেখতে পারেন। কাছেই নক্কি লেক।

মাউন্ট আবু অবস্থানের দ্বিতীয় দিনে প্রথমে চলুন শহর থেকে ১৫ কিমি উত্তর-পূর্বে আরাবল্লির সর্বোচ্চ শিখর গুরুশিখর (৫৮১৩ ফুট), রয়েছে ব্রহ্মা-বিষ্ণু–মহেশ্বরের মন্দির, পাহাড়ের মাথায় দত্তাত্রেয় মুনির পায়ের ছাপ। এর পর দেখে নিন চৌহান রাজাদের তৈরি অচলগড়, গড় থেকে নীচে অচলেশ্বর শিবের মন্দির। এর পর চলে আসুন শ্বেতপাথরের জৈন মন্দিররাজি দিলওয়ারা, কারুকার্য, অলংকরণ ও ভাস্কর্যে অনন্য। শহরের কাছাকাছি এসে দেখে নিন অর্বুদাদেবী তথা অধরাদেবী তথা দুর্গার মন্দির। দেখে নিন নক্কি লেকের কাছে টোড রক। আগের দিন হনিমুন পয়েন্ট না যাওয়া হয়ে থাকলে চলুন সেখানে।

একাদশ, দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ দিন – রাত্রিবাস উদয়পুর। 

একাদশ দিনে মাউন্ট আবু থেকে উদয়পুর সরাসরি (১৬৪ কিমি) না গিয়ে ঘুরে চলুন। প্রথমে চলুন রনকপুর, ১৬২ কিমি। ২৯টি জৈন মন্দিরের কমপ্লেক্স, দিলওয়ারাতুল্য। এখান থেকে চলুন ৩৩ কিমি দূরে আরাবল্লি পাহাড়ের ঢালে ৩৫৬৬ ফুট উঁচুতে কুম্ভলগড় দুর্গ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাচীরে ঘেরা দুর্গ, রানা কুম্ভের তৈরি। দুর্গের নানা মহলে ফ্রেস্কো চিত্র। বহু মন্দির। র‍্যামপার্ট থেকে মাড়োয়ারের সমতল ও আরাবল্লির জঙ্গল-পাহাড় সুন্দর দৃশ্যমান। চার কিমি দূরে কুম্ভলগড় স্যাংচুয়ারি। কুম্ভলগড় দেখে উদয়পুর পৌঁছোতে পৌঁছোতে (৮৫ কিমি) সন্ধে।

উদয়পুর অবস্থানের দ্বিতীয় দিনে সকালে চলুন ‘রাজস্থানের খাজুরাহো’ জগত-এ, দূরত্ব ৩৫ কিমি, দেখুন আশ্চর্য ভাস্কর্যের অম্বিকামাতা মন্দির। উদয়পুর ফিরে এসে সিটি ট্যুর করুন।

উদয়পুরের দ্রষ্টব্য –

সিটি প্যালেস, ক্রিস্টাল গ্যালারি, মহারানাদের ভিন্টেজ গাড়ির প্রদর্শনী, সিটি প্যালেসের উত্তরে জগদীশ মন্দির, লেক পিছোলার মাঝে জগনিবাস প্রাসাদ, লেকের দক্ষিণ পাহাড়ে জগমন্দির, লেকের পিছনে সজ্জননিবাস বাগ, লেকের উত্তরে ফতেহ সাগর, ফতেহ সাগরের পূবে বাঁধের নীচে সহেলিয়োঁ–কি-বাড়ি, ফতেহ সাগরে রমণীয় দ্বীপ-উদ্যান নেহরু পার্ক, বিপরীতে মোতি মাগরি পাহাড়ে প্রতাপ স্মারক, শহর থেকে ৫ কিমি পশ্চিমে সজ্জনগড় তথা মনসুন প্যালেস, ৬ কিমি উত্তর-পশ্চিমে উদয়পুরের নবতম আকর্ষণ শিল্পীগ্রাম এবং শহর থেকে ৩ কিমি পুবে শিশোদিয়া রাজাদের অতীতের রাজধানী পাহাড়ে ঘেরা আহার।

দ্বিতীয় দিন যতটা সম্ভব দেখুন, বাকিটা তোলা থাক পরের দিনের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য।

উদয়পুর অবস্থানের তৃতীয় দিনে অর্থাৎ ভ্রমণের ত্রয়োদশ দিনে সকালেই বেরিয়ে পড়ুন। প্রথমে চলুন একলিঙ্গজি, ২০ কিমি, ৭৩৪ খ্রিস্টাব্দে তৈরি ১০৮ শ্বেতপাথরের মন্দির কমপ্লেক্স, নানান দেবতা। সেখান থেকে চলুন নাথদ্বার, ৩০ কিমি, ভারতের দ্বিতীয় সম্পদশালী মন্দির, বিগ্রহ শ্রীকৃষ্ণ। সেখান থেকে চলুন রানা প্রতাপ আর তাঁর প্রিয় ঘোড়া চেতকের স্মৃতিবিজড়িত হলদিঘাটি, ১৬ কিমি। উদয়পুর ফিরে (৪৬ কিমি) সিটি ট্যুরের বাকিটা সম্পূর্ণ করুন।

চতুর্দশ দিন – ভোরেই বেরিয়ে পড়ুন, প্রথমে চলুন চিতৌরগড়, ১১৯ কিমি। এর পর চলুন মেনাল, ৮৩ কিমি, ১২ শতকের শিবমন্দির আর জলপ্রপাতের জন্য প্রসিদ্ধ। সেখান থেকে চলুন বুঁদি, ৭৪ কিমি। রাত্রিবাস বুঁদি।

পঞ্চদশ দিন – সকালবেলায় বুঁদির কেল্লা দেখে চলুন সোয়াই মাধোপুর/রনথম্ভৌর, ১৪৪ কিমি। রাত্রিবাস সোয়াই মাধোপুর/রনথম্ভৌর।       

ষোড়শ দিন – সকালে রনথম্ভৌর ন্যাশনাল পার্কে সাফারি করে পাহাড়ের ওপর কেল্লা দেখুন। রাতে সোয়াই মাধোপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে দিল্লি আসুন। সেখান থেকে ঘরপানে।

সোয়াই মাধোপুর থেকে দিল্লি যাওয়ার এক গুচ্ছ ট্রেন আছে।     

কোথায় থাকবেন

সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি হোটেল। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তাদের সন্ধান পেয়ে যাবেন। অজমের, অলওয়র, ভরতপুর, বিকানের, চিতৌরগড়, জয়পুর, জৈসলমের, জোধপুর, কোটা, মাউন্ট আবু, সরিস্কা, সোয়াই মাধোপুর, উদয়পুরে পাবেন রাজস্থান পর্যটনের হোটেল। শিলিশেড়েও রাজস্থান পর্যটনের হোটেল আছে। অলওয়রে না থেকে, এখানেও থাকতে পারেন। আগরায় বেসরকারি হোটেল ছাড়াও পাবেন উত্তরপ্রদেশ পর্যটনের হোটেল।

কী ভাবে ঘুরবেন

রাজস্থানে রাস্তার অবস্থা খুব ভালো। বাস পরিবহণ ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালো। তবে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার সময় পথে কিছু দেখার থাকলে পয়েন্ট টু পয়েন্ট গাড়ি ভাড়া করে নেওয়া ভালো। আর বিভিন্ন শহরের দ্রষ্টব্য দেখার জন্য স্থানীয় গাড়ি বুক করে নেবেন। তবে জয়পুর শহরের দ্রষ্টব্যস্থানগুলি রাজস্থান পর্যটনের বাসে দেখতে পারেন। আগাম সিট পর্যটনের ওয়েবসাইট থেকে বুক করে নিতে পারেন।

ভ্রমণ ছক ৫-এর জন্য জয়পুর থেকে গাড়ি ভাড়া করে নেবেন। সেই গাড়িতে ঘুরে সোয়াই মাধোপুরে ছেড়ে দেবেন।  

প্রয়োজনীয় তথ্য

(১) ট্রেনের সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in

(২) অনলাইন হোটেল বুকিং করার জন্য রাজস্থান পর্যটনের ওয়েবসাইট https://rtdc.tourism.rajasthan.gov.in/

(৩) অনলাইনে বুকিং-এর জন্য উত্তরপ্রদেশ পর্যটনের ওয়েবসাইট https://uptourism.gov.in/

(৪) বেসরকারি হোটেলের জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট www.trivago.in/, www.tripadvisor.in, www.booking.com, www.tripsavvy.com/, www.makemytrip.com, www.yatra.com, www.holidayiq.com

(৫) অনলাইনে বাস বুকিং করার জন্য রাজস্থান পরিবহণ নিগমের ওয়েবসাইট https://rsrtconline.rajasthan.gov.in

(৬) অনলাইন বেসরকারি বাস বুকিং-এর জন্য দেখুন https://www.redbus.in, https://www.goibibo.com, https://bus.makemytrip.com/ ইত্যাদি ওয়েবসাইট।

(৭) রাজস্থান পর্যটনের কলকাতা অফিস – কমার্স হাউস, ২ গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ, কলকাতা ৭০০০১৩, যোগাযোগ – ০৩৩ ২২১৩ ২৭৪০

(৮) জৈসলমেরে সোনার কেল্লা দেখার জন্য গাইডের সাহায্য নিন।

(৯) ডের্জার্ট ন্যাশনাল পার্কে সাফারি করার জন্য প্রয়োজনীয় ফি দিয়ে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। জৈসলমেরে যে হোটেলে উঠবেন তারা বলে দেবে কোথায় এই অনুমতিপত্র মেলে।

(১০) মাউন্ট আবুতে রাজ্য পরিবহণের সারা দিনের কন্ডাক্টেড ট্যুরে দ্রষ্টব্যগুলো দেখে নিতে পারেন। সরকারি বাসস্ট্যান্ড থেকেই বাস মেলে।

(১১) উদয়পুরের সিটি প্যালেস দেখার জন্য গাইডের সাহায্য নেওয়া ভালো। ঘণ্টা তিনেক সময় লাগে।

(১২) রাজ্য পর্যটনের ব্যবস্থাপনায় কন্ডাক্টেড ট্যুরে চিতৌড়গড় দেখানোর ব্যবস্থা আছে। তবে মাঝে মাঝে এটি বন্ধ হয়ে যায়। চিতৌড়গড়ে যে হোটেলে উঠবেন সেখানে খোঁজ করে নেবেন। অন্যথায় গাড়ি ভাড়া করে নিন।

(১৩) ভ্রমণ ছক -১ অনুযায়ী তুফান এক্সপ্রেসে আগরা এলে আগরায় আরও এক দিন থাকার প্রয়োজন হতে পারে। কারণ ট্রেন যদি রাইট টাইমে পৌঁছোয়ও (যার সম্ভাবনা খুবই কম), হোটেলে ওঠার পর শহরের দু-একটি দ্রষ্টব্য ছাড়া কিছুই দেখা সম্ভব হবে না।

(১৪) ভ্রমণ ছক ৪-এ চিতৌড়গড় থেকে রাত্রি ১২.০৫-এর কোটা প্যাসেঞ্জার ধরলে ভোর ৫টায় কোটা পৌঁছোনো যায়। সে ক্ষেত্রে নবম দিন উদয়পুর থেকে চিতৌড়গড় এসে চিতৌড়গড় ঘুরে সে দিনই রাতে কোটা প্যাসেঞ্জার ধরা যায়। দশম দিনে কোটা-বুঁদি দেখে একাদশ দিন সকালেই সোয়াই মাধোপুর গেলে ভ্রমণ এক দিন কমিয়ে দেওয়া যায়।

(১৫) ভ্রমণ ছক ৪-এ কোটা থেকে ভোরের ট্রেন ধরতে পারলে ওই দিনই প্রথমে রনথম্ভৌর ফোর্ট দেখে নিতে পারেন। তার পর বিকেলে একটা সাফারি করুন। পরের দিন সকালে আরও একটা সাফারি করুন।

(১৬) রনথম্ভৌরে যে হোটেলে থাকবেন, সেখানে সাফারির ব্যাপারে খোঁজখবর করে নিন।

(১৭) ভ্রমণ ছক ৪-এ আগরা আগে ঘোরা থাকলে রনথম্ভৌর থেকে আগরা হয়ে সরাসরি ঘরে ফিরে যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভ্রমণ দু’টো দিন কমে যেতে পারে।

0 Comments
Share
puja-destination-travel-plan-for-kumaon

ভ্রমণ অনলাইনডেস্ক: বেরিয়ে পড়ার ডাক এসে গিয়েছে। আর মাত্র চার মাস, তার পরেই পুজো। পুজো মানেই লম্বা সফরে বেরিয়ে পড়া। এ বার কোথায় যাবেন ভাবছেন? ভ্রমণ অনলাইন আছে না! আপনাদের জন্য সাজিয়ে দিচ্ছে বেড়ানোর ছক, একেবারে সাজিয়েগুছিয়ে। প্রথম পর্বে ছিল গাড়োয়াল। এ বার কুমায়ুন।    

ভ্রমণ-ছক ১:  লোহাঘাট-পিথোরাগড়-মুন্সিয়ারি-চৌকরি-কৌসানি-বিনসর-মুক্তেশ্বর-নৈনিতাল 

প্রথম দিন – বরেলি থেকে চলুন লোহাঘাট (৫৭৭৫ ফুট), ২২০ কিমি।

পথে দেখে নিন – (১) শ্যামলাতাল (৪৯২১ ফুট, স্বামী বিবেকানন্দ ও স্বামী বিরজানন্দের স্মৃতিবিজড়িত, মূল সড়ক থেকে যাতায়াতে অতিরিক্ত ১০ কিমি)। রাত্রিবাস লোহাঘাট।

দ্বিতীয় দিন – আজও থাকুন লোহাবতী নদীর তীরে লোহাঘাটে। প্রাতরাশ করে বেরিয়ে পড়ুন। দেখে নিন – (১) মানেশ্বর মহাদেব মন্দির (মূল সড়কের ধারেই, তবে হেঁটে কিছুটা উপরে উঠতে হবে, মন্দিরপ্রাঙ্গণ থেকে হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গরাজি দৃশ্যমান, কুমায়ুন ভ্রমণে এসে প্রথম এই দৃশ্য দেখা। (২) চম্পাবত – (৫২৯৮ ফুট, চাঁদ রাজাদের রাজধানী, দুর্গ, নাগনাথ মন্দির, লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, রাজা বুন্দা কি কিলার ধ্বংসাবশেষ, বালেশ্বর মহাদেব মন্দির, শহর থেকে কিছুটা দূরে ঘটোৎকচ মন্দির।

লোহাঘাটে ফিরে এসে দুপুরের খাওয়া সেরে চলুন স্বামী বিবেকানন্দ স্মৃতিবিজড়িত মায়াবতী (৬৩৬৪ ফুট, ৯ কিমি)।

তৃতীয় দিন – প্রাতরাশ সেরে পিথোরাগড় রওনা, দূরত্ব ৬০ কিমি। পথে অবশ্যই ঘুরে নিন ওক-পাইনে ছাওয়া অ্যাবট মাউন্ট (লোহাঘাট-পিথোরাগড় রাস্তায় মাড়োরখান থেকে যাতায়াতে অতিরিক্ত ৬ কিমি, ৬৫৬৪ ফুট উচ্চতায় বিস্তীর্ণ ময়দান, নন্দাদেবী, নন্দাখাত, পঞ্চচুল্লি-সহ হিমালয়ের বিভিন্ন শিখর দৃশ্যমান)। পথেই পড়বে গুর্না মাতা মন্দির। বেলা ১২টার মধ্যে পিথোরাগড়। দুপুরে খাওয়াদাওয়া করে বেরিয়ে পড়ুন, ঘুরে নিন রাই গুফা, কামাখ্যা মন্দির, উল্কাদেবী মন্দির, পশুপতিনাথ মন্দির, মস্তমানু মন্দির এবং চন্দক পাহাড় থেকে সূর্যাস্ত। রাত্রিবাস পিথোরাগড় (৫৩৯৬ ফুট)

চতুর্থ দিন – পিথোরাগড় থেকে চলুন মুন্সিয়ারি (৭৫৪৫ ফুট), ১২৮ কিমি। পথ থল হয়ে রামগঙ্গার ধার ধরে তেজাম-বিরথি-কালামুনি টপ হয়ে। পথে দেখে নিন বিরথি ফলস্‌। চাইলে বিরথি ফলসের উপরে উঠতে পারেন। সিঁড়ি আছে। ঘুরে আসতে আধ ঘণ্টা মতো সময় লাগবে। এই পথের সর্বোচ্চ জায়গা কালামুনি টপ (৯৫০০ ফুট, সিংহবাহিনী চতুর্ভুজা কালী মন্দির)। এই পথে এই কালামুনি টপেই প্রথম দেখা পাবেন পঞ্চচুল্লির, যেন হাত বাড়ানো দূরত্বে। এর পর মুন্সিয়ারির পথ একটু নামবে। রাত্রিবাস মুন্সিয়ারি।

পঞ্চম দিন – আজও থাকুন গৌরীগঙ্গার তীরে পঞ্চচুল্লির কোলে মুন্সিয়ারিতে। মুন্সিয়ারিতে দেখে নিন – নন্দাদেবী মন্দির, টেবিটান হেরিটেজ মিউজিয়াম (পাংতের মিউজিয়াম), খালিয়া টপ (৭ কিমি, বেশ কিছুটা হাঁটা), মাদকোট (২১ কিমি, নিসর্গ দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত), দারকোট (৭ কিমি, মাদকোট রোডে, মন্দির ও হস্তশিল্পের জন্য বিখ্যাত) ইত্যাদি। কোথাও না গিয়ে মুন্সিয়ারিতে থেকে পঞ্চচুল্লিতে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখে আর পঞ্চচুল্লির শোভা উপভোগ করেও দিন কাটিয়ে দিতে পারেন।

ষষ্ঠ দিন – চলুন চৌকরি (৬৫৯৪ ফুট), ৯৭ কিমি। বিরথিতে প্রাতরাশ সেরে নিন। দুপুরে খাওয়ার আগে চৌকরি পৌঁছে যান। খেয়েদেয়ে দুপুরে কোটমান্য ঘুরে আসুন, গাড়িতে ৪ কিমি, তার পর পাহাড়ি পথে দেড় কিমি ট্রেক, দেখে নিন কস্তূরী মৃগ ফার্ম। না হলে নন্দাদেবী গ্রুপ আর পঞ্চচুল্লি শিখর দেখতে দেখতে চৌকরির সৌন্দর্য উপভোগ করুন।

সপ্তম দিন – আজও থাকুন চৌকরিতে। ঘুরে আসুন বেরিনাগ, ত্রিপুরাদেবী মন্দির, পাতাল ভুবনেশ্বর আর গঙ্গোলিহাট।

অষ্টম দিন – চলুন কৌসানি (৬২০০ ফুট)। ভোরেই বেরিয়ে পড়ুন। পথে দেখে নিন – (১) বাগেশ্বর, চৌকরি থেকে ৫০ কিমি, গোমতী ও সরযূর সঙ্গমে বাগেশ্বর শিবমন্দির। এখানেই প্রাতরাশ সেরে নিন, খাওয়ার খুব ভালো জায়গা। (২) এর পর চলুন গোয়ালদাম, ৪২ কিমি, ত্রিশূল দেখার জন্য গোয়ালদাম; এখানে দুপুরের লাঞ্চ সেরে নিন। (৩) এখান থেকে কৌসানি রওনা, ৩৭ কিমি, পথে দেখে নিন গোমতীর তীরে বৈজনাথের মন্দিররাজি। সূর্যাস্তের আগে কৌশানি পৌঁছে যান। গান্ধীজির স্মৃতিবিজড়িত অনাশক্তি আশ্রম থেকে সূর্যাস্ত দেখুন। সে এক অপার্থিব দৃশ্য। রাত্রিবাস কৌসানি।

নবম দিন – সূর্যোদয় উপভোগ করুন। প্রাতরাশ সেরে চলুন বিনসর (৭৯১৩ ফুট), ৫১ কিমি। পথে দেখে নিন বিনেশ্বর মহাদেব মন্দির। ১২টার মধ্যে পৌঁছে যান বিনসর। হিমালয়ের প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করুন।

দশম দিন – বিনসর কেএমভিএন থেকে হিমালয়ের শৃঙ্গরাজির কোলে সূর্যোদয় কখনোই মিস করবেন না। সূর্যোদয় দেখেই বেরিয়ে পড়ুন জিরো পয়েন্টের পথে। যাতায়াতে ৪ কিমি হাঁটা। জিরো পয়েন্ট ঘুরে এসে প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন মুক্তেশ্বরের পথে, দূরত্ব ৭৫ কিমি। মুক্তেশ্বরে জিম করবেটের স্মৃতিবিজড়িত পূর্ত বিভাগের বাংলোটি দেখুন। চৌথি কি জালি ভিউ পয়েন্ট থেকে অবশ্যই দেখে নিন সূর্যাস্ত। রাত্রিবাস মুক্তেশ্বর (৭১২২ ফুট)।

একাদশ দিন – সকালে ঘুরে নিন। হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গের শোভা উপভোগ করুন। প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন নৈনিতালের পথে। সাততাল, ভীমতাল আর নৌকুচিয়াতাল ঘুরে নৈনিতাল আসুন। দুপুরের খাওয়া পথে কোথাও সেরে নিন। কোনো জায়গারই দূরত্ব খুব বেশি নয়। মুক্তেশ্বর থেকে ভীমতাল ৩৭ কিমি, সেখান থেকে নৌকুচিয়াতাল ৭ কিমি, সেখান থেকে সাততাল ১৭ কিমি, সাততাল থেকে নৈনিতাল ২২ কিমি। সুতরাং ধীরেসুস্থে ঘুরুন। রাত্রিবাস নৈনিতাল (৬৮৩৭ ফুট)  

দ্বাদশ দিন – আজও থাকুন নৈনিতালে। লোক্যাল সাইটসিয়িং করুন – লেক, নয়নাদেবী মন্দির, কেবল কারে স্নো ভিউ পয়েন্ট, নায়না পিক, লরিয়া কান্তা ইত্যাদি, তাল্লি তাল থেকে মাল্লি তাল হাঁটুন, ভ্রমণ শেষে কেনাকাটি করুন।

ত্রয়োদশ দিন – বাড়ির পথে। ফিরতে পারেন কাঠগোদাম (৩৪ কিমি), লালকুয়াঁ (৬০ কিমি), মোরাদাবাদ (১১৭ কিমি) বা বরেলি (১৪৪ কিমি) দিয়ে।

ভ্রমণ-ছক ২: মায়াবতী-চৌকরি-মুন্সিয়ারি-কৌসানি-বিনসর-মুক্তেশ্বর-নৈনিতাল  

প্রথম দিন – বরেলি থেকে চলুন মায়াবতী, ২৩০ কিমি। সম্ভব হলে পথে দেখে নিন শ্যামলাতাল, চম্পাবত ও মানেশ্বর। রাত্রিবাস মায়াবতী।  

দ্বিতীয় দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন চৌকরি, ১২৫ কিমি। পথে দেখে নিন – অ্যাবট মাউন্ট, গঙ্গোলিহাট, পাতাল ভুবনেশ্বর, ত্রিপুরাদেবী ও বেরিনাগ। পাতাল ভুবনেশ্বর ছাড়া সবই মূল সড়কে। শুধু পাতাল ভুবনেশ্বর যেতে হলে সুনৌলি থেকে যাতায়াতে অতিরিক্ত ১৪ কিমি। রাত্রিবাস চৌকরি।

তৃতীয় দিন – আজও থাকুন চৌকরিতে। সকালে ঘুরে আসুন কোটমান্য, গাড়িতে ৪ কিমি, তার পর পাহাড়ি পথে দেড় কিমি ট্রেক, দেখে নিন কস্তূরী মৃগ ফার্ম। না হলে নন্দাদেবী গ্রুপ আর পঞ্চচুল্লি শিখর দেখতে দেখতে সারা দিন চৌকরির সৌন্দর্য উপভোগ করুন।

চতুর্থ দিন – চলুন মুন্সিয়ারি, ৯৭ কিমি। পথ উপভোগ করতে করতে চলুন। চৌকরি থেকে রাস্তা পুরো নেমে আসবে রামগঙ্গা নদীর ধারে থলে। রামগঙ্গার ধার দিয়ে পথ অনেকটা। তার পর বিরথি থেকে পথ উঠেছে। কালামুনি টপ হয়ে মুন্সিয়ারি। রাত্রিবাস মুন্সিয়ারি।

পঞ্চম দিন – আজও থাকুন মুন্সিয়ারিতে। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ১ পঞ্চম দিন)

ষষ্ঠ দিন – চলুন কৌসানি, ১৮১ কিমি। পথে দেখে নিন বাগেশ্বরে গোমতী ও সরযুর সঙ্গম ও বাগেশ্বর মন্দির। রাত্রিবাস কৌসানি।

সপ্তম দিন – আজও থাকুন কৌসানিতে। কেএমভিএন থেকে সূর্যোদয় আর অনাশক্তি আশ্রম থেকে সূর্যাস্ত দেখুন। ত্রিশূল শৃঙ্গ দর্শন করতে গোয়ালদাম ঘুরে আসুন, ৩৭ কিমি। পথে দেখে অবশ্যই দেখে নিন গোমতীর তীরে বৈজনাথের মন্দিররাজি।

অষ্টম থেকে দ্বাদশ দিনভ্রমণ-ছক ১-এর মতো (নবম থেকে ত্রয়োদশ দিন)।

ভ্রমণ-ছক ৩: লোহাঘাট-ডিডিহাট-মুন্সিয়ারি-পাতাল ভুবনেশ্বর-চৌকরি-কৌশানি-বিনসর-শিতলাখেত-নৈনিতাল  

প্রথম ও দ্বিতীয় দিন  – বরেলি থেকে চলুন লোহাঘাট। দ্বিতীয় দিনেও থাকুন লোহাঘাটে। (দেখুন ভ্রমণ–ছক ১)

তৃতীয় দিন –  সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন ডিডিহাট (৫৬৫৯ ফুট), ১১৪ কিমি। পথে দেখে নিন অ্যাবট মাউন্ট, গুর্না মাতা মন্দির, রাই গুফা (পিথোরাগড়)। রাত্রিবাস ডিডিহাট।

চতুর্থ দিন – আজও থাকুন ডিডিহাটে। হেঁটে উঠুন সিরাকোট পাহাড়ে, দেখুন মলয়নাথ শিব। ঘুরে আসুন ৭ কিমি দূরের নারায়ণ আশ্রম, আরও ৮ কিমি গিয়ে আস্কোট অভয়ারণ্য। ওম পর্বতের মাথায় সূর্যাস্ত দেখুন। পঞ্চচুল্লি সুন্দর দৃশ্যমান ডিডিহাট থেকে।

পঞ্চম দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন মুন্সিয়ারি, ৯১ কিমি। ডিডিহাট থেকে রাস্তা নেমে এসেছে থলে। তার পর রামগঙ্গার ধার ধরে তেজাম, তার পর বিরথি-কালামুনি হয়ে মুন্সিয়ারি। রাত্রিবাস মুন্সিয়ারি।

ষষ্ঠ দিন – আজও থাকুন মুন্সিয়ারিতে। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ১, পঞ্চম দিন)

সপ্তম দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন পাতাল ভুবনেশ্বর (৪৪২৯ ফুট), ১২৭ কিমি। রাস্তা থল থেকে চৌকরির পথে উদিয়ারি বেন্ড থেকে বাঁ দিকে। রাত্রিবাস পাতাল ভুবনেশ্বর।

অষ্টম দিন – সক্কালেই দেখে নিন পাতাল ভুবনেশ্বর গুহা। তার পরেই রওনা হয়ে যান চৌকরি, ৩৭ কিমি। পথে দেখে নিন ত্রিপুরাদেবী মন্দির, বেরিনাগ। সারা দিন চৌকরির শোভা উপভোগ করুন। রাত্রিবাস চৌকরি।

নবম দিন – সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন কৌসানি, ৮৫ কিমি। পথে দেখে নিন বাগেশ্বর, বৈজনাথ। কৌসানির অনাসক্তি আশ্রম থেকে সূর্যাস্ত দেখতে ভুলবেন না। রাত্রিবাস কৌসানি।

দশম দিন – সূর্যোদয় দেখে বেরিয়ে পড়ুন, চলুন বিনসর, ৫১ কিমি। পথে দেখে নিন বিনেশ্বর মহাদেব মন্দির। ১২টার মধ্যে পৌঁছে যান বিনসর। হিমালয়ের প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করুন।

একাদশ দিন – কেএমভিএন থেকে হিমালয়ের শৃঙ্গরাজির কোলে সূর্যোদয় কখনোই মিস করবেন না। সূর্যোদয় দেখেই বেরিয়ে পড়ুন জিরো পয়েন্টের পথে। যাতায়াতে ৪ কিমি হাঁটা। জিরো পয়েন্ট ঘুরে এসে প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন, চলুন শিতলাখেত (৫৯৯৭ ফুট)। তুষারাচ্ছাদিত হিমালয়ের নৈসর্গিক শোভার জন্য বিখ্যাত শিতলাখেত। রাত্রিবাস শিতলাখেত। 

দ্বাদশ দিন – ভোরে বেড়িয়ে আসুন সহায়দেবী মন্দির, ৪ কিমি। অনেকটা পথ চড়াই ভেঙে উপরে উঠতে হবে। ফিরে এসে চলুন নৈনিতাল, ৫৬ কিমি। লোক্যাল সাইটসিয়িং করুন – লেক, নয়নাদেবী মন্দির, কেবল কারে স্নো ভিউ পয়েন্ট, নায়না পিক, লরিয়া কান্তা ইত্যাদি, তাল্লি তাল থেকে মাল্লি তাল হাঁটুন। রাত্রিবাস নৈনিতাল।

ত্রয়োদশ দিন – আজও থাকুন নৈনিতালে। ঘুরে নিন ভীমতাল, নৌকুচিয়াতাল, সাততাল। রাত্রিবাস নৈনিতাল।

চতুর্দশ দিন – বাড়ির পথে। ফিরতে পারেন কাঠগোদাম (৩৪ কিমি), লালকুয়াঁ (৬০ কিমি), মোরাদাবাদ (১১৭ কিমি) বা বরেলি (১৪৪ কিমি) দিয়ে।  

ভ্রমণ-ছক ৪: লোহাঘাট-পিথোরাগড়-মুন্সিয়ারি-চৌকরি-দিনাপানি-রানিখেত-মুক্তেশ্বর

প্রথম থেকে সপ্তম দিন – ভ্রমণ-ছক ১-এর মতো।

অষ্টম দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন দিনাপানি, ১১২ কিমি। মূল সড়ক থেকে ২০ কিমি অতিরিক্ত গিয়ে দেখে নিন জাগেশ্বর ধাম, সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে তৈরি ১০০-এরও বেশি মন্দিরের কমপ্লেক্স। জাগেশ্বর ধাম দেখে দিনাপানি আসার পথে চিতাইয়ে দেখে নিন কুমায়ুনের উপাস্য দেবতা গলু দেবতা মন্দির। দিনাপানিতে উপভোগ করুন তুষারাচ্ছাদিত হিমালয়ের নৈসর্গিক শোভা। রাত্রিবাস দিনাপানি।

নবম দিন – আজও থাকুন দিনাপানিতে। ঘুরে নিন বিনসর (১৮.৫ কিমি), সেখান থেকে আলমোড়া (২৪.৫ কিমি), আলমোড়া থেকে চলে আসুন দিনাপানি (১৮ কিমি)। আলমোড়ায় দেখে নিন স্বামীজির স্মৃতিবিজড়িত শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম। আলমোড়া-দিনাপানি সড়কে দেখে নিন কাসারদেবী মন্দির। মন্দিরপ্রাঙ্গণ থেকে দেখুন হিমালয়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য।

দশম দিন – সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন রানিখেত (৬০০০ ফুট), ৫০ কিমি। পথে দেখে নিন কাতারমলের সূর্য মন্দির, রানিখেতের কাছে কালিকা মন্দির, চার দিকে ওক আর পাইনে ছাওয়া সবুজ তৃণভূমির নাইন হোল গলফ্‌ কোর্স। রানিখেতে দেখে নিন ঝুলা দেবী অর্থাৎ দেবী দুর্গার মন্দির (৭ কিমি), চৌবাটিয়া (আরও ৩ কিমি, সরকারি আপেল বাগিচা ও গবেষণা কেন্দ্র)। তুষারাচ্ছাদিত হিমালয়ের মোহিনী রূপ সুন্দর দৃশ্যমান রানিখেত থেকে। রাত্রিবাস রানিখেত।

একাদশ দিন – চলুন মুক্তেশ্বর, ৮০ কিমি। তুষারাবৃত হিমালয়ের দিগন্তবিস্তৃত শোভা সারা দিন উপভোগ করুন। মুক্তেশ্বরে জিম করবেটের স্মৃতিবিজড়িত পূর্ত বিভাগের বাংলোটি দেখুন। চৌথি কি জালি ভিউ পয়েন্ট থেকে অবশ্যই দেখে নিন সূর্যাস্ত।  রাত্রিবাস মুক্তেশ্বর।

দ্বাদশ দিন – বাড়ির পানে। ফিরুন কাঠগোদাম (৫৬ কিমি), লালকুয়াঁ (৮২ কিমি), মোরাদাবাদ (১৬৭) বা বরেলি (১৬৭ কিমি) হয়ে।

ভ্রমণ ছক ৫: নওকুচিয়াতাল-বিনসর-চৌকরি-মুন্সিয়ারি-কৌশানি-রানিখেত

প্রথম দিন – লালকুয়াঁ/কাঠগোদাম থেকে চলুন নওকুচিয়াতাল (৩৯৯৯ ফুট), দূরত্ব ৫৩ কিমি/২৬ কিমি। আজ সারা দিনটা উত্তরাখণ্ডের বৃহত্তম সরোবর নয়-কোণা নওকুচিয়াতাল, পায়ে পায়ে হাঁটুন, বিশ্রাম করুন, অলস ভাবে কাটান। রাত্রিবাস নওকুচিয়াতাল।

দ্বিতীয় দিন – আজও থাকুন নওকুচিয়াতালে। ঘুরে নিন ভীমতাল (৭ কিমি), সাততাল (ভীমতাল থেকে ১২ কিমি), নৈনিতাল (সাততাল থেকে ২২ কিমি)। ফিরে আসুন নওকুচিয়াতালে, ২৫ কিমি)

তৃতীয় দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন বিনসর, ৯০ কিমি। পথে দেখে নিন আলমোড়ায় শ্রীরামকৃষ্ণ মিশন, কাসারদেবী মন্দির, বিনসরের একটু আগে বিনেশ্বর মহাদেব মন্দির। আলমোড়ায় সেরে নিন মধ্যাহ্নভোজ। বিনসর কেএমভিএন থেকে তুষারাবৃত হিমালয়ের আদিগন্ত রূপে মোহিত হোন। রাত্রিবাস বিনসর।

চতুর্থ দিন – আজও থাকুন বিনসরে। কেএমভিএন থেকে সূর্যোদয় দেখুন, বিনসর অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে ধীরেসুস্থে ২ কিমি হেঁটে চলে যান জিরো পয়েন্টে। নজরমিনার থেকে ৩৪০ কিমি ব্যাপ্ত হিমালয়ের শৃঙ্গরাজি দেখুন। সারা দিনটা উপভোগ করুন বিনসরে।

পঞ্চম দিন – খুব সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন চৌকরি। প্রথমে চলুন জাগেশ্বর ধাম, ৫৩ কিমি। পথে চিতাইয়ে দেখে নিন গলু দেবতার মন্দির। জাগেশ্বর ধাম ঘুরে চলুন চৌকরি, ৯৩ কিমি। রাত্রিবাস চৌকরি।

ষষ্ঠ দিন – আজও থাকুন চৌকরিতে। ঘুরে আসুন বেরিনাগ, ত্রিপুরাদেবী, পাতাল ভুবনেশ্বর ও গঙ্গোলিহাট।

সপ্তম দিন – সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন মুন্সিয়ারি, থল-তেজাম-বিরথি- কালামুনি হয়ে। রাত্রিবাস মুন্সিয়ারি।

অষ্টম দিন – আজও থাকুন মুন্সিয়ারিতে। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ১, পঞ্চম দিন)

নবম ও দশম দিন – সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন কৌসানি। (দেখুন ভ্রমণ ছক ২, ষষ্ঠ ও সপ্তম দিন)

একাদশ দিন – সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, প্রথমেই চলুন সোমেশ্বর, ১৭ কিমি, কোশী নদীর তীরে শিব মন্দির। সোমেশ্বর থেকে চলুন দ্বারাহাট (৫৪১৩ ফুট), ৩৪ কিমি, কাত্যুরি রাজাদের তৈরি ১৩ শতকের মন্দিরগুচ্ছের জন্য বিখ্যাত। দ্বারাহাট থেকে চলে আসুন রানিখেত, ৩৪ কিমি। রাত্রিবাস রানিখেত।

দ্বাদশ দিন – আজও থাকুন রানিখেতে। দেখে নিন কালিকা মন্দির, চার দিকে ওক আর পাইনে ছাওয়া সবুজ তৃণভূমির নাইন হোল গলফ্‌ কোর্স, ঝুলা দেবী অর্থাৎ দেবী দুর্গার মন্দির, চৌবাটিয়া (সরকারি আপেল বাগিচা ও গবেষণা কেন্দ্র)। তুষারাচ্ছাদিত হিমালয়ের মোহিনী রূপ সুন্দর দৃশ্যমান রানিখেত থেকে। রাত্রিবাস রানিখেত।

ত্রয়োদশ দিন – বাড়ির পানে। ফিরুন কাঠগোদাম হয়ে ৭৫ কিমি বা লালকুয়াঁ (১০১ কিমি), মোরাদাবাদ (১৭৩ কিমি) বা বরেলি (১৮৫ কিমি) হয়ে।  

ভ্রমণ ছক ৬: নৈনিতাল-রানিখেত-কৌসানি-আলমোড়া

প্রথম দিন – কাঠগোদাম  থেকে চলুন নৈনিতাল, ৩৪ কিমি। আজ লোক্যাল সাইটসিয়িং করুন – লেক, নয়নাদেবী মন্দির, কেবল কারে স্নো ভিউ পয়েন্ট, নায়না পিক, লরিয়া কান্তা ইত্যাদি, তাল্লিতাল থেকে মাল্লিতাল হাঁটুন। রাত্রিবাস নৈনিতাল।

দ্বিতীয় দিন – আজও থাকুন নৈনিতালে। ঘুরে আসুন সাততাল, ভীমতাল, নওকুচিয়াতালে।

তৃতীয় দিন – চলুন রানিখেত, ৫৬ কিমি। দেখে নিন কালিকা মন্দির, চার দিকে ওক আর পাইনে ছাওয়া সবুজ তৃণভূমির নাইন হোল গলফ্‌ কোর্স, ঝুলা দেবী অর্থাৎ দেবী দুর্গার মন্দির, চৌবাটিয়া (সরকারি আপেল বাগিচা ও গবেষণা কেন্দ্র)। তুষারাচ্ছাদিত হিমালয়ের মোহিনী রূপ সুন্দর দৃশ্যমান রানিখেত থেকে। রাত্রিবাস রানিখেত।

চতুর্থ দিন – আজও থাকুন রানিখেতে। ঘুরে আসুন কর্ণপ্রয়াগগামী সড়কে দ্বারাহাট (৫৪১৩ ফুট), ৩৪ কিমি, কাত্যুরি রাজাদের তৈরি ১৩ শতকের মন্দিরগুচ্ছের জন্য বিখ্যাত। দ্বারাহাট থেকে চলুন আরও ১৫ কিমি দূরে ডুনাগিরি, বাস সড়ক থেকে ৫০০-রও বেশি সিঁড়ি উঠে পাহাড়চুড়োয় দুর্গা তথা বৈষ্ণোদেবী মন্দির।

পঞ্চম দিন – চলুন কৌসানি, ৫৯ কিমি। পথে দেখে নিন সোমেশ্বরের মন্দির। অনাসক্তি আশ্রম থেকে সূর্যাস্ত দেখুন। রাত্রিবাস কৌসানি।

ষষ্ঠ দিন – আজও থাকুন কৌসানিতে। সূর্যোদয় দেখুন। বেরিয়ে পড়ুন। প্রথমেই চলে যান বাগেশ্বর, ৩৮ কিমি। বাগেশ্বর থেকে চলে আসুন গোয়ালদাম, ৪২ কিমি। গোয়ালদাম থেকে চলে আসুন বৈজনাথ, ২৩ কিমি। বৈজনাথ থেকে ফিরুন কৌসানিতে, ১৭ কিমি।

সপ্তম দিন – চলুন আলমোড়া (৫৪০০ ফুট), ৫৩ কিমি। স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত আলমোড়ায় দেখে নিন শ্রীরামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম, গোবিন্দবল্লভ পন্থ স্টেট মিউজিয়াম, ব্রাইট এন্ড কর্নার ভিউ পয়েন্ট থেকে নন্দাদেবী, নন্দাকোট, পঞ্চচুল্লি, ত্রিশূল, চৌখাম্বা ছাড়াও নানা শৈলশিখরে সূর্যাস্তের মোহিনী রূপ, সাড়ে ৩ কিমি দূরে সিমিতোলা পাইন রিজ, আরও দেড় কিমি গিয়ে কালীমঠ ইত্যাদি। রাত্রিবাস আলমোড়া।

অষ্টম দিন – আজও থাকুন আলমোড়ায়। ঘুরে আসুন চিতাই গলু মন্দির (সাড়ে ৮ কিমি), সেখান থেকে চলুন লাখুডিয়ার গুহা মন্দির (৭ কিমি), সেখান থেকে চলুন জাগেশ্বর ধাম (২০ কিমি)। আলমোড়া ফেরার পথে চলুন কাসারদেবী মন্দির (৩৬ কিমি)। সেখান থেকে চলে আসুন আলমোড়ায় (৮ কিমি)।

নবম দিন – বাড়ির পানে। ফিরুন কাঠগোদাম (৮২ কিমি), লালকুয়াঁ (১০৮ কিমি), মোরাদাবাদ (১৮০ কিমি) বা বরেলি (১৯২ কিমি) হয়ে।          

কী ভাবে যাবেন

কলকাতা থেকে বরেলি যাওয়ার সুবিধাজনক ট্রেন

(১) দ্বিসাপ্তাহিক দুর্গিয়ানা এক্সপ্রেস (মঙ্গল, শনি) – কলকাতা স্টেশন ছাড়ে বেলা ১২.১০, বরেলি পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৬.১৭। (২) দ্বিসাপ্তাহিক অকাল তখত্‌ এক্সপ্রেস (বুধ, রবি) – কলকাতা স্টেশন ছাড়ে সকাল ৭.৪০, বরেলি পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৬.১৭। (৩) সাপ্তাহিক হাওড়া-জৈসলমের এক্সপ্রেস (সোম) – হাওড়া ছাড়ে সকাল ৮.১৫, বরেলি পৌঁছোয় পরের দিন ভোর ৪.৩৭। (৪) দ্বিসাপ্তাহিক শিয়ালদা-আনন্দবিহার টার্মিনাল এক্সপ্রেস (বৃহস্পতি, রবি) – শিয়ালদা ছাড়ে রাত ৯.১৫, বরেলি পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৬.১৭। (৫) বাঘ এক্সপ্রেস (রোজ) – হাওড়া থেকে ছাড়ে রাত ৯.৪৫, বরেলি পৌছোয় তৃতীয় দিন ভোর ৫টায়।

কলকাতা থেকে লালকুয়াঁ/কাঠগোদাম

(১) বাঘ এক্সপ্রেস (রোজ) – হাওড়া থেকে ছাড়ে রাত ৯.৪৫, লালকুয়াঁ পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৮.০৫, কাঠগোদাম সকাল ৯.২৫। (২) সাপ্তাহিক হাওড়া-লালকুয়াঁ এক্সপ্রেস (শুক্রবার) – হাওড়া থেকে ছাড়ে সকাল ৮.১৫, লালকুয়াঁ পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৭.২০।

লখনউ/দিল্লি হয়ে কাঠগোদাম

(১) কাঠগোদামের ট্রেন ধরার জন্য হাওড়া থেকে লখনউ যাওয়ার সব চেয়ে সুবিধাজনক ট্রেন হাওড়া-অমৃতসর মেল। হাওড়া থেকে সন্ধে ৭.১০-এ ছেড়ে লখনউ পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩.২৫। সে দিন রাতেই লখনউ থেকে ধরুন লখনউ-কাঠগোদাম এক্সপ্রেস (মঙ্গল, শনি বাদে) – লখনউ থেকে ছাড়ে রাত ১১.২৫, কাঠগোদাম পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৮.৪৫।

(২) কলকাতা থেকে দিল্লি আসার বহু ট্রেন আছে।

দিল্লি থেকে ধরা যেতে পারে – (১) নিউদিল্লি-কাঠগোদাম শতাব্দী – রোজ সকাল ৬টায় নিউদিল্লি ছেড়ে কাঠগোদাম পৌঁছোয় সকাল ১১.৪০। (২) রানিখেত এক্সপ্রেস – রোজ রাত ১০.০৫-এ দিল্লি জংশন ছেড়ে কাঠগোদাম পৌঁছোয় ভোর ৫.০৫।

ভারতের অন্যান্য জায়গা থেকে এলেও দিল্লি হয়ে আসা সুবিধাজনক।

বিমানে যেতে চাইলে কুমায়ুন অঞ্চলের কাছাকাছি পন্থনগর, কাঠগোদাম থেকে ৩১ কিমি। দিল্লি থেকে একাধিক উড়ান আছে। সময়ের জন্য দেখুন makemytrip, goibibo, happyeasygo, yatra, প্রভৃতি ওয়েবসাইট।   

কী ভাবে ফিরবেন

বরেলি হয়ে

(১) অকাল তখত্‌ এক্সপ্রেস মঙ্গল ও শুক্র বিকেল ৪.৩০, কলকাতা পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩.১৫। (২) দুর্গিয়ানা এক্সপ্রেস সোম ও বৃহস্পতি বিকেল ৪.২৮, কলকাতা পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ১১.৩৫। (৩) জম্মু তাওয়াই-শিয়ালদহ হমসফর এক্সপ্রেস বুধবার রাত ৭.৪৪, শিয়ালদহ পৌঁছোয় পরের দিন সন্ধে ৬.০৫। (৪) জৈসলমের হাওড়া সুপারফাস্ট বৃহস্পতি রাত ৭.৫৯, হাওড়া পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৪.৫৫। (৫) নাঙ্গল ড্যাম কলকাতা এক্সপ্রেস শনিবার বিকেল ৪.৩০, কলকাতা পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩.১৫।

মোরাদাবাদ হয়ে

(১) উপাসনা এক্সপ্রেস বুধ ও শনি রাত্রি ২.৫০, হাওড়া পৌঁছোয় পরের দিন ভোর ৩.১৫।(২) হরিদ্বার হাওড়া কুম্ভ এক্সপ্রেস (রবি ও বৃহস্পতি বাদে) রাত্রি ২.৫০, হাওড়া পৌঁছোয় পরের দিন ভোর ৩.২০। (৩) জম্মু তাওয়াই-শিয়ালদহ হমসফর এক্সপ্রেস বুধবার সন্ধে ৬.১৫, শিয়ালদহ পৌঁছোয় পরের দিন সন্ধে ৬.০৫। (৪) জৈসলমের হাওড়া সুপারফাস্ট বৃহস্পতি সন্ধে ৬.১৫, হাওড়া পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৪.৫৫।

লালকুয়াঁ/কাঠগোদাম হয়ে

(১) বাঘ এক্সপ্রেস রোজ কাঠগোদাম থেকে রাত ৯.৪৫, লালকুয়াঁ রাত ১০.৪০, হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন দুপুর ১২.৪০।(২) রানিখেত এক্সপ্রেস রোজ কাঠগোদাম থেকে রাত ৮.৩৫, লালকুয়াঁ রাত ৯.৩৫, দিল্লি জংশন পৌঁছোয় ভোর ৩.৫৫। (৩) কাঠগোদাম নিউদিল্লি শতাব্দী রোজ কাঠগোদাম থেকে বিকেল ৩.৩৫, লালকুয়াঁ বিকেল ৪.২৩, দিল্লি পৌঁছোয় রাত ৯.১০।

দিল্লি থেকে কলকাতা ফেরার অনেক ট্রেন আছে। ভারতের অন্যান্য জায়গায় ফেরা দিল্লি হয়েই সুবিধাজনক।

কী ভাবে ঘুরবেন

কুমায়ুনে একটা জায়গা থেকে আরেকটা জায়গায় বাসে যেতেই পারেন। কিন্তু পাহাড়ি পথে বাসে সময় লাগবে অনেক। বাসের সংখ্যাও কম। সে ক্ষেত্রে গাড়ি ভাড়া করতে পারেন। একটা পয়েন্ট থেকে আরেকটা পয়েন্ট যাওয়ার জন্য গাড়ি পাবেন। যেখানে থাকবেন তাদের বলে রাখলে গাড়ির ব্যবস্থা হয়ে যায়। তবে  পরিকল্পনামাফিক ভ্রমণ চালাতে গেলে পুরো ট্যুরটার জন্য গাড়ি ভাড়া করে নেওয়া ভালো। গাড়ির জন্য যোগাযোগ করতে পারেন –

আসাদ রাজা, নৈনিতাল ফ্ল্যাশব্যাক ট্রাভেলস, ফোন ০৯৮৩৭৬৫৬৯৭৮, ই-মেল [email protected]; ভাণ্ডারী ট্যুরস, ফোন ০৯৪১২৯৯৪০৬৪; সৌমিশ্র মিত্র, প্রচেষ্টা ট্যুরিজম, ফোন ০৭৬০৭৭৫৫৮০০, ই-মেল  [email protected]    

 কোথায় থাকবেন

বেশির ভাগ জায়গায় কুমায়ুন মণ্ডল বিকাশ নিগমের (কেএমভিএন) টুরিস্ট রেস্ট হাউস আছে। অনলাইন বুকিং http://www.kmvn.gov.in/ । এদের আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমেও বুকিং করতে পারেন। কলকাতা অফিস:  ৭/২সি চক্রবেড়িয়া রোড (সাউথ), ভবানীপুর, কলকাতা ৭০০০২৫, ফোন ০৩৩-২৪৮৬৮২৯৫, মোবাইল ০৯৩৩৯৮৭৮৯৯৫, ই-মেল [email protected]

মায়াবতীতে থাকতে চাইলে অদ্বৈত আশ্রমে মেল করুন [email protected] । জুনের প্রথম অর্ধে মেল করুন।

বেশ কয়েকটা ট্রাভেল এজেন্সি কুমায়ুনে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য – সৌমিশ্র মিত্র, প্রচেষ্টা ট্যুরিজম, ফোন ০৭৬০৭৭৫৫৮০০, ই-মেল  [email protected]; আসাদ রাজা, নৈনিতাল ফ্ল্যাশব্যাক ট্রাভেলস, ফোন ০৯৮৩৭৬৫৬৯৭৮, ই-মেল [email protected]

বেসরকারি হোটেলের সন্ধান পেয়ে যাবেন makemytrip, trivago, booking.com, tripadvisor, tripsavvy, yatra.com, goibibo, holidayiq  প্রভৃতি ওয়েবসাইট থেকে।   

মনে রাখবেন

ভ্রমণ-ছক ১-এর ক্ষেত্রে

(১) হাতে কম সময় থাকলে লোহাঘাটে এক দিন থাকুন। বরেলি থেকে লোহাঘাটে আসার দিন পথে সময় বুঝে শ্যামলাতাল, চম্পাবত এবং মানেশ্বরের সবগুলিই বা যে কোনো একটি বা দু’টি জায়গা ঘুরে লোহাঘাটে আসুন। পরের দিন ভোরে মায়াবতী ঘুরে লোহাঘাটে এসে প্রাতরাশ করে বেরিয়ে পড়ুন।

(২) চৌকরি থেকে বেরিনাগ, ত্রিপুরাদেবী মন্দির, পাতাল ভুবনেশ্বর আর গঙ্গোলিহাট ঘুরে আসতে চাইলে ভোর ভোর বেরিয়ে পড়তে হবে।

(৩) হাতে একটু সময় থাকলে কৌসানিতে দু’টো দিন থাকুন। চৌকরি থেকে একটু ধীরেসুস্থে বেরিয়ে পথে বাগেশ্বর দেখে বিকেলের আগে কৌসানি আসুন। কৌসানি থেকে সূর্যাস্ত কিছুতেই মিস করবেন না। পরের দিন গোয়ালদাম ঘুরে আসুন। পথে দেখে নিন বৈজনাথ।

ভ্রমণ-ছক ২-এর ক্ষেত্রে

(১) মাথায় রাখবেন বিকেল ৪টের মধ্যে মায়াবতীতে পৌঁছোনো উচিত। তা হলে জায়গাটা উপভোগ করতে পারবেন। তাই বরেলি থেকে মায়াবতী আসার সময় হয়তো সব জায়গা দেখা সম্ভব হবে না। তবে অন্তত পক্ষে শ্যামলাতাল দেখে নেবেন।

(২) মায়াবতী থেকে চৌকরি আসার পথে সব জায়গা ঘুরে নিন। চাপ নেই। চৌকরি পৌঁছোতে সন্ধে হলেও অসুবিধা নেই। পরের দিন তো চৌকরিতেই থাকা।

(৩) মুন্সিয়ারি যাওয়ার দিন ভোরেই বেরিয়ে পড়ুন চৌকরি থেকে। প্রাতরাশ সেরে নিন থলে।  

(৪) মুন্সিয়ারি থেকে কৌশানি যাওয়ার দু’টো পথ – (১) মুন্সিয়ারি-বিরথি-তেজাম-কাপকোট-বাগেশ্বর-বৈজনাথ-কৌশানি – ১৬৫ কিমি; (২) যে পথে চৌকরি থেকে মুন্সিয়ারি এসেছেন সেই পথেই চৌকরি এসে তার পর বাগেশ্বর, বৈজনাথ হয়ে কৌশানি – ১৮১ কিমি। প্রথম পথে আসতে চাইলে পথের অবস্থা সম্পর্কে তেজামে খোঁজ নিয়ে নেবেন।

ভ্রমণ-ছক ৩-এর ক্ষেত্রে

(১) ভ্রমণের দিন কমাতে হলে লোহাঘটে থাকা ১ দিন করে দিন। আরও কমাতে হলে শিতলাখেতে সহায়দেবী মন্দির না দেখে ভোর ভোর বেরিয়ে পড়ুন। চলে আসুন ভীম তাল (৫৬ কিমি), সেখান থেকে নওকুচিয়াতাল (৭ কিমি), সেখান থেকে সাততাল (১৭ কিমি), সেখান থেকে নৈনিতাল (২২ কিমি)।

(২) পরের দিন প্রায় সারা দিন লোকাল সাইটসিয়িং করে বিকেলে চলুন কাঠগোদাম হাওড়া বা দিল্লির ট্রেন ধরতে।

ভ্রমণ-ছক ৪-এর ক্ষেত্রে

(১) চৌকরি থেকে দিনাপানি ২টি রাস্তা দিয়ে আসা যায় – (১) বাগেশ্বর হয়ে, (২) বেরিনাগ হয়ে। দূরত্ব মোটামুটি একই পড়ে। তবে গাড়ির সারথিকে বলুন জাগেশ্বর ধাম দেখে যাবেন। তা হলে গাড়ি যাবে বেরিনাগ হয়ে। অতিরিক্ত দূরত্ব যেতে হবে ৪০ কিমি।

ভ্রমণ-ছক ৫-এর ক্ষেত্রে

(১) লখনউ হয়ে কাঠগোদাম গেলে দিনের দিন লখনউ না পৌঁছে আগের দিন পৌঁছোনো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক লখনউ শহর ঘুরে নিতে পারেন।

(২) ভ্রমণের দিন-সংখ্যা কমাতে হলে রানিখেতে ১ দিন থাকুন। দ্বিতীয় দিন সকালে মোটামুটি প্রায় বিকেল পর্যন্ত লোকাল সাইটসিয়িং করে বেরিয়ে পড়ুন। কাঠগোদাম (৭৫ কিমি) থেকে ট্রেন ধরুন দিল্লি বা হাওড়ার।   

ভ্রমণ-ছক ৬-এর ক্ষেত্রে

(১) লখনউ হয়ে কাঠগোদাম গেলে দিনের দিন লখনউ না পৌঁছে আগের দিন পৌঁছোনো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক লখনউ শহর ঘুরে নিতে পারেন।      

0 Comments
Share
puja-destinations-visit-to-garhwal

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: পুজোর ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য ট্রেনে আসন সংরক্ষণ শুরু হতে চলেছে তিন-চার দিনের মধ্যেই। আর যদি বিমানে যেতে চান, যত আগে টিকিট কাটবেন, ততই ভাড়া কম হবে। যা-ই হোক, পুজোর ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যানে সাহায্য করতে ভ্রমণ অনলাইন আপনাদের জন্য সাজিয়ে দিচ্ছে ভ্রমণ-ছক। প্রথম পর্বে গাড়োয়াল।

ভ্রমণ-ছক ১: হরিদ্বার-হৃষীকেশ-কার্তিকস্বামী-উখিমঠ-কল্পেশ্বর-বদরীনাথ-কর্ণপ্রয়াগ-খিরসু-ল্যান্সডাউন

প্রথম দিন – আজ থাকুন হরিদ্বারে। দেখুন গঙ্গারতি।

দ্বিতীয় দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন হৃষীকেশ, ৩৮ কিমি। হৃষীকেশে দেখে নিন লছমনঝোলা, ঝোলাপুলে গঙ্গা পেরিয়ে কৈলাসানন্দ মিশন আশ্রম, কালীকমলীর সমাধি মন্দির, রামেশ্বর মন্দির, লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, গীতা ভবন, স্বর্গাশ্রম। সন্ধ্যায় চলুন রাম ও লছমনঝোলার মাঝে গঙ্গার ত্রিবেণী (গঙ্গা-সরস্বতী-চন্দ্রভাগা) ঘাটে। দেখুন গঙ্গারতি। রাত্রিবাস হৃষীকেশ।  

তৃতীয় দিন – আজকের গন্তব্য কনকচোরি, দূরত্ব ১৯৯ কিমি। তাই ভোরেই বেরিয়ে পড়ুন। রাত্রিবাস কনকচোরি।

চতুর্থ দিন – রাত থাকতেই হাঁটা শুরু করুন। ৩ কিমি হেঁটে সূর্যোদয়ের আগে পৌঁছে যান কার্তিকস্বামী মন্দিরে (৩০৪৮ মি)। দেখুন সূর্যোদয়, দেখুন বন্দরপুঁছ, কেদারনাথ ডোম, মেরু ও সুমেরু, চৌখাম্বা, নীলকণ্ঠ, দ্রোনাগিরি, নন্দাঘুন্টি, ত্রিশূল ও নন্দাদেবী-সহ হিমালয়ের নানা শৃঙ্গ। কনকচোরি ফিরে প্রাতরাশ সেরে চলুন উখিমঠ, দূরত্ব ৫০ কিমি। উষা ও শ্রীকৃষ্ণের পৌত্র অনিরুদ্ধের বিবাহস্থল এই উখিমঠে রয়েছে ওঙ্কারেশ্বর শিবের মন্দির, কেদার ও মদমহেশ্বরের শীতকালীন আবাস। দেখে নিন ওঙ্কারেশ্বর-সহ এক গুচ্ছ মন্দির। রাত্রিবাস উখিমঠ।

পঞ্চম দিন – সকালে বেরিয়ে পড়ুন, চলুন সারি (১২ কিমি), সেখান থেকে ২ কিমি হেঁটে পৌঁছে যান দেওরিয়া তালে (২৪৩৮ মি)। দেখুন চৌখাম্বা, কেদারনাথ-সহ হিমালয়ের নানা শৃঙ্গ। তালের জলে চৌখাম্বার প্রতিবিম্ব দেখুন। দেওরিয়া তাল ঘুরে চলুন বানিয়াকুণ্ড, ২২ কিমি। রাত্রিবাস বানিয়াকুণ্ড।

ষষ্ঠ দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন চামোলি-পিপলকোটি-হেলাং-উর্গম পেরিয়ে দেবগ্রাম। রাত্রিবাস দেবগ্রাম।

সপ্তম দিন- সকালেই বেরিয়ে পড়ুন। হাফ কিমি হেঁটে পৌঁছে যান পঞ্চকেদারের অন্যতম কল্পেশ্বর (২২০০ মি)। দর্শন করে চলুন বদরীনাথের পথে, দূরত্ব ৭০ কিমি। পথে দেখে নিন উর্গমের কাছে ধ্যানবদরী, হেলাং-এর কাছে বৃদ্ধবদরী এবং জোশীমঠ। রাত্রিবাস বদরীনাথ (৩১৫৫ মি)।

অষ্টম দিন – আজ থাকুন ঋষিগঙ্গা ও অলকানন্দার সঙ্গমে বদরীনাথে।

বদরীনাথে দেখে নিন 

নীলকণ্ঠে সূর্যোদয়, দোকানপাটের মধ্যে দিয়ে নেমে ঝোলাপুলে অলকানন্দা পেরিয়ে বদরীনাথের মন্দির, সন্ধ্যায় দেখুন আরতি, চলুন মানা গ্রাম (তিব্বতের পথে শেষ বসতি, ৩ কিমি)। দেখে নিন ব্যাস গুহা, গণেশ গুহা, অলকানন্দা ও সরস্বতীর সঙ্গম কেশবপ্রয়াগ, সরস্বতীর ওপরে পাথরের ভীম পুল (এখান থেকে ৫ কিমি হেঁটে বসুধারা ফলস্‌, ১২২ মিটার উঁচু), চরণপাদুকা (জিএমভিএন ট্যুরিস্ট লজ থেকে ৩ কিমি হাঁটা, খুব চড়াই নয়। জনশ্রুতি, পাথরে বিষ্ণুর পায়ের চিহ্ন)।

নবম দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন অলকানন্দা ও কর্ণগঙ্গার সঙ্গমে কর্ণপ্রয়াগ, ১২৪ কিমি। পথে পাণ্ডুকেশ্বরে (বদরী থেকে ২৩ কিমি) দেখে নিন যোগধ্যানবদরী। কর্ণপ্রয়াগে বিনায়ক শিলা, উমা, কর্ণ মন্দির-সহ অনেক মন্দির। রাত্রিবাস কর্ণপ্রয়াগ।

দশম দিন- সকালেই বেরিয়ে পড়ুন। প্রথমে রানিখেতের পথে ১৮ কিমি দূরে আদিবদরী দেখে এসে কর্ণপ্রয়াগে ফিরুন, সেখান থেকে চলুন খিরসু, দূরত্ব ৮১ কিমি। রাত্রিবাস খিরসু (১৭০০ মি)।

একাদশ দিন – আজও থাকুন খিরসুতে, উপভোগ করুন হিমালয়ের সৌন্দর্য। দিগন্তবিস্তৃত শৃঙ্গরাজি দৃশ্যমান।  

দ্বাদশ দিন – সকালেই চলুন ল্যান্সডাউন (১৭১৬ মি), ৯১ কিমি। টিপ-এন-টপ পয়েন্ট থেকে দেখুন অসংখ্য গিরিশিরা। রমণীয় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। আরও দেখুন দরওয়ান সিং মিউজিয়াম, ভুল্লা তাল, সেন্ট মেরি চার্চ, সেন্ট জন চার্চ, কালেশ্বর শিব মন্দির, শাকম্ভরী মন্দির, সেনাবাহিনীর দুর্গামন্দির, ভীম পকোড়া, হাওয়া ঘর ইত্যাদি।

ত্রয়োদশ দিন – চলুন কোটদ্বার, ৩৯ কিমি। সেখান থেকে ঘরে আসুন কন্বাশ্রম (শকুন্তলার পালক পিতা কণ্ব মুনির আশ্রম), ১৫ কিমি। ফিরে আসুন কোটদ্বারে, রাতে ট্রেন ধরুন দিল্লির।

চতুর্দশ দিন – দিল্লি থেকে ফিরুন ঘরপানে।

ভ্রমণ-ছক ২: হরিদ্বার-দেহরাদুন-ডাকপাথার-চক্রাতা-বারকোট-উত্তরকাশী-হরসিল-গঙ্গোত্রী

প্রথম দিন – আজ থাকুন হরিদ্বারে। দেখুন গঙ্গারতি।

দ্বিতীয় দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন। চলুন যমুনার ধারে ডাকপাথারে, ৯৭ কিমি। রাত্রিবাস ডাকপাথার।

তৃতীয় দিন – ডাকপাথার থেকে প্রথমে চলুন হিমাচলের পাওনটা সাহেব — গুরু গোবিন্দ সিং-এর স্মৃতিবিজড়িত, ২৫ কিমি। এর পর আরও ৬ কিমি গিয়ে নাহান – শিবালিকের কোলে সুন্দর পাহাড়ি শহর। সব শেষে আরও ৪৫ কিমি গিয়ে রেণুকাজি, হিমাচলের বৃহত্তম লেক, পাহাড়ে ঘেরা। পরশুরামের মায়ের নামে লেক, রয়েছে পরশুরাম লেকও। তার পাড়ে পরশুরাম মন্দির। আরও নানা মন্দির। ফিরুন গিরি নদীর পাড় ধরে পাওনটা হয়ে ডাকপাথারে, ৭২ কিমি। পথে পড়বে যমুনার ওপর আসান ব্যারেজ, ডাকপাথারের ১১ কিমি আগে। রাত্রিবাস ডাকপাথার।

চতুর্থ দিন – ভোরেই চলুন শৈলশহর চক্রাতা (২১৫৩ মিটার), দূরত্ব ৫১ কিমি। ডাকপাথার থেকে ৭ কিমি গেলেই পড়বে কালসি। এখানে দেখে নিন ১৮৬০ সালে আবিষ্কৃত সম্রাট অশোকের শিলালিপি। এখান থেকেই গাড়ি উঠতে শুরু করে পাহাড়ে, পৌঁছে যায় সেনাশহর চক্রাতায়। তুষারাবৃত বন্দরপুঞ্ছ শৃঙ্গ দৃশ্যমান। রাত্রিবাস চক্রাতা।

পঞ্চম দিন – আজও থাকুন চক্রাতায়।

চক্রাতায় দেখে নিন

চিন্তাহরণ মহাদেব (চক্রাতা বাজার থেকে কিছুটা নেমে), খারাম্বা চুড়ো (৩০৮৪ মি, ৩ কিমি), চিলমিরি সানসেট পয়েন্ট (৫ কিমি), থানাডাণ্ডা (চিরিমিরি থেকে ১ কিমি চড়াই উঠে), রামতাল গার্ডেন (৮ কিমি), চানি চুরানি (১৮ কিমি, সুন্দর নৈসর্গিক দৃশ্য), কানাসার (বিশাল বিশাল কাণ্ডওয়ালা বহু প্রাচীন দেবদারুর জঙ্গল ও কানাসার দেবতার মন্দির, ২৬ কিমি), দেওবন  (তুষারমৌলী হিমালয়ের দৃশ্য, ১০ কিমি, শেষ ২ কিমি হাঁটা)।

(চক্রাতায় পৌঁছে প্রথম দিন স্থানীয় দ্রষ্টব্য দেখে নিন। পরের দিন সকালে ঘুরে আসুন কানাসার ও দেওবন। চক্রাতা ফিরে দুপুরে খেয়ে চলুন রামতাল গার্ডেন ও চানি চুরানি।)

ষষ্ঠ দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন বারকোট, ৮৫ কিলোমিটার। পথে দেখে নিন টাইগার ফলস্‌ (চক্রাতা থেকে ১৯ কিমি), লাখামণ্ডল (চক্রাতা থেকে ৬৬ কিমি, নানা দেবতার মন্দিররাজি। পাহাড়ের গায়ে বিশাল কিছু গহ্বর। জনশ্রুতি, পঞ্চপাণ্ডবদের পুড়িয়ে মারার জন্য এখানেই তৈরি হয়েছিল লাক্ষার জতুগৃহ। নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে বার্নি নদী)। যমুনা তীরবর্তী বারকোটে রাত্রিবাস। দেখুন তুষারাবৃত বান্দরপুঞ্ছ।

সপ্তম দিন – সকালেই চলুন হরসিল (২৬২০ মিটার, ১৫২ কিমি)। পথে দেখে নিন গাংনানির উষ্ণ প্রস্রবণ। পথে পড়ে রইল উত্তরকাশী, ফেরার পথে দর্শন হবে। রাত্রিবাস হরসিল।

অষ্টম দিন – ভাগীরথী উপত্যকায় পাইন ও দেওদারে ছাওয়া অনুপম সৌন্দর্যের পাহাড়ি জনপদ হরসিল। চলুন ৩ কিমি দূরে ধারালি। ভাগীরথী পেরিয়ে ১ কিমি চড়াই ভেঙে মুখবা গ্রাম, গঙ্গোত্রী মন্দিরের বিগ্রহ মা গঙ্গার শীতকালীন আবাস। মুখবা গ্রাম থেকে দেখুন সুদর্শন, শিবলিঙ্গ, ভাগীরথী-সহ হিমালয়ের বিভিন্ন তুষারশৃঙ্গ। ধারালি থেকে ৩ কিমি চড়াই ভেঙে উঠতে পারেন সাততাল (কুমায়ুনের সাততালের সঙ্গে গোলাবেন না), বিভিন্ন উচ্চতায় সাতটি লেক, যার অনেকগুলিই আজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে যা আছে, সেটাই উপভোগ করার মতো। রাত্রিবাস হরসিল।

নবম দিন – আজও থাকুন হরসিলে। সকালেই চলুন গঙ্গোত্রী (৩০৪২ মি), ২৫ কিমি। উপভোগ করুন গঙ্গোত্রীর নিসর্গ। মন্দির বন্ধ হলে ফিরে আসুন হরসিলে।

দশম দিন – ফেরার পথে সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন উত্তরকাশী (১১৮০ মি), ৭৫ কিমি। উত্তরকাশী পৌঁছেই দেখে আসুন নচিকেতা তাল (২৪৫৩ মিটার, ৩২ কিমি)। চৌরঙ্গি খাল পর্যন্ত গাড়িতে গিয়ে ৩ কিমি ট্রেক জঙ্গলের মধ্য দিয়ে। উদ্দালক মুনির ছেলে নচিকেতার নামে এই লেক। কাছেই নাগদেবতা মন্দির। রাত্রিবাস উত্তরকাশী।

একাদশ দিন – উত্তরকাশীতে সক্কাল সক্কাল বিশ্বনাথ ও অন্যান্য মন্দির দর্শন করে এবং কেদারঘাটে ভাগীরথীর জল মাথায় নিয়ে রওনা হয়ে যান ধারে দেহরাদুন, ১৪৪ কিমি। রাত্রিবাস দেহরাদুন।  

দ্বাদশ দিন- বাড়ির পথে রওনা হওয়ার আগে দেহরাদুনে দেখে নিতে পারেন তপকেশ্বর মহাদেব, সহস্রধারা ও রবার্স কেভ।        

ভ্রমণ-ছক ৩: হরিদ্বার-দেহরাদুন-ডাকপাথার-চক্রাতা-মুসোরি-ধনোলটি

প্রথম দিন থেকে পঞ্চম দিন –  ভ্রমণ-ছক ২-এর মতো।

ষষ্ঠ দিন – আজও থাকুন চক্রাতায়। ঘুরে আসুন টাইগার ফলস্‌ (চক্রাতা থেকে ১৯ কিমি), লাখামণ্ডল (চক্রাতা থেকে ৬৬ কিমি, নানা দেবতার মন্দিররাজি। পাহাড়ের গায়ে বিশাল কিছু গহ্বর। জনশ্রুতি, পঞ্চপাণ্ডবদের পুড়িয়ে মারার জন্য এখানেই তৈরি হয়েছিল লাক্ষার জতুগৃহ। নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে বার্নি নদী)।

সপ্তম দিন – চলুন মসুরি, ৮০ কিমি। পথে দেখে নিন কেম্পটি ফলস। রাত্রিবাস মসুরি (২০০৬ মি)।

অষ্টম দিন – আজও থাকুন মসুরিতে। হাঁটাহাঁটি করুন ম্যালে। দেখে নিন ক্যামেলস ব্যাক রোডে দুর্গামন্দির, ভাট্টা ফলস, নাগ দেবতা মন্দির, গান হিল পয়েন্ট, মোসি ফলস, ফ্ল্যাগ হিল, লাল টিব্বা (২৬১০ মি), মালসি ডিয়ার পার্ক। গান হিল বেড়িয়ে নিন রোপওয়ে চেপে। রাত্রিবাস মসুরি।

নবম দিন – মসুরি থেকে ধনোলটি (২২৮৬ মি)। দূরত্ব ৩২ কিমি। রাস্তার বাঁ দিক বরাবর গাড়োয়াল হিমালয়ের বিশাল রেঞ্জ চোখে পড়ে। সকাল সকাল চলে আসুন, যাতে সারা দিন ধরে ধনোলটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। বিকেল হওয়ার আগে চলুন ধনোলটি ভিউ পয়েন্ট। দেড় কিমি ট্রেক। উপরে উঠে বিস্তীর্ণ বুগিয়াল। নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত। রাত্রিবাস ধনোলটি।

দশম দিন – ভোরেই চলুন ৩০৪৯ মিটার উচ্চতায় সুরখণ্ডাদেবীর (দুর্গা) মন্দির। চাম্বার পথে ৫ কিমি গিয়ে ২ কিমি চড়াই ভাঙা। হিমালয়ের দৃশ্য ভোলার নয়। দুপুরের আগে ধনোলটি ফিরে চলুন হরিদ্বার, ১১২ কিমি।

একাদশ দিন – বাড়ির পথে।

ভ্রমণ-ছক ৪: দেহরাদুন-মসুরি-ধনোলটি-শ্রীনগর-খিরসু-পৌড়ী-ল্যান্সডাউন

প্রথম দিন- দেহরাদুন থেকে চলুন মসুরি (২০০৬ মিটার), দূরত্ব ৪০ কিমি। পথে দেখে নিন মালসি ডিয়ার পার্ক। রাত্রিবাস মুসোরি।

দ্বিতীয় দিন – আজও থাকুন মসুরিতে। হাঁটাহাঁটি করুন ম্যালে। দেখে নিন ক্যামেলস ব্যাক রোডে দুর্গামন্দির, ভাট্টা ফলস, নাগ দেবতা মন্দির, গান হিল পয়েন্ট, মোসি ফলস, ফ্লাগ হিল, লাল টিব্বা (২৬১০ মি)। গান হিল বেড়িয়ে নিন রোপওয়ে চেপে। ঘুরে আসুন কেম্পটি ফলস্‌ (১৫ কিমি)।

তৃতীয় দিন – মসুরি থেকে চলুন ধনোলটি (২২৮৬ মি)। দূরত্ব ৩২ কিমি। রাস্তার বাঁ দিক বরাবর গাড়োয়াল হিমালয়ের বিশাল রেঞ্জ চোখে পড়ে। সকাল সকাল চলে আসুন, যাতে সারা দিন ধরে ধনোলটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। বিকেল হওয়ার আগে চলুন ধনোলটি ভিউ পয়েন্ট। দেড় কিমি ট্রেক। উপরে উঠে বিস্তীর্ণ বুগিয়াল। নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত। রাত্রিবাস ধনোলটি।

চতুর্থ দিন – ভোরেই চলুন ৩০৪৯ মিটার উচ্চতায় সুরখণ্ডাদেবীর (দুর্গা) মন্দির। চাম্বার পথে ৫ কিমি গিয়ে ২ কিমি চড়াই ভাঙা। হিমালয়ের দৃশ্য ভোলার নয়। সুরখণ্ডাদেবী দেখে চলুন চাম্বা, ৩০ কিমি। রাত্রিবাস চাম্বা।  

পঞ্চম দিন – চলুন অলকানন্দা তীরে শ্রীনগর (৫৬০ মি, কাশ্মীরের নয়), ৯৫ কিমি। এখানে দেখে নিন কমলেশ্বর মহাদেব মন্দির (জনশ্রুতি, এই মন্দিরেই রাম হাজার পদ্মের অর্ঘ্য দেন দেবতা শিবকে। এখানেই নাকি একটা চোখ কম পড়াতে রাম নিজের চোখ উৎসর্গ করতে চান। সেই থেকে রামকে বলা হয় কমল নয়ন), আদি শংকরাচার্য প্রতিষ্ঠিত কিকিলেশ্বর মহাদেব মন্দির, কেশোরাই মঠ, ৩ কিমি দূরে বাবা গোরখনাথ গুহার উলটো দিকে শংকর মঠ, ১৭ কিমি দূরে পৌড়ী-গাড়োয়াল রাজ্যের রাজধানী দেবলগড় (এখানে গাড়োয়ালি স্থাপত্যের নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে গৌরী দেবী মন্দির, মা রাজেশ্বরী মন্দির ইত্যাদি। রাত্রিবাস শ্রীনগর।

ষষ্ঠ দিন – শ্রীনগর থেকে চলুন খিরসু, ৩৫ কিমি। হিমালয়ের দিগন্তবিস্তৃত শিখররাজির (তিনশোরও বেশি) জন্য খ্যাতি খিরসুর (১৭০০ মি)। রাত্রিবাস খিরসু।

সপ্তম দিন – খিরসু থেকে চলুন পৌড়ী (১৯ কিমি, ১৮১৪ মি)। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তে ত্রিশূল, হাতি পর্বত, নীলকণ্ঠ, কেদারনাথ, চৌখাম্বা, ভৃগুপন্থ, গঙ্গোত্রী গ্রুপ, বন্দরপুঞ্ছ ছাড়াও তুষারে মোড়া হিমালয়ের শিখররাজির শোভা দেখুন। দেখুন বাসস্ট্যান্ডে লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, ২ কিমি দূরে ঘন জঙ্গলে কান্ডোলিয়া শিবমন্দির, ৩ কিমি পাহাড় চড়ে ৮ শতকের কঙ্কালেশ্বর শিব মন্দির। রাত্রিবাস পৌড়ী।

অষ্টম দিন – চলুন ল্যান্সডাউন (১৭১৬ মি), ৮৬ কিমি। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ১, দ্বাদশ দিন)। রাত্রিবাস ল্যান্সডাউন।

নবম দিন –  ল্যান্সডাউন থেকে নাজিবাবাদ (৬৩ কিমি) বা হরিদ্বার (১০৬ কিমি) এসে সেখান থেকে ফেরার ট্রেন ধরতে পারেন। পথে সম্ভব হলে দেখে নিন কোটদ্বার থেকে ১৫ কিমি দূরে কণ্বাশ্রম (শকুন্তলার পালক পিতা কণ্ব মুনির আশ্রম) ।

ভ্রমণ-ছক ৫:  উত্তরকাশী- হরসিল- গঙ্গোত্রী-শ্রীনগর-জোশীমঠ-বদরীনাথ-আউলি-রুদ্রপ্রয়াগ

প্রথম দিন – হরিদ্বার থেকে চলুন উত্তরকাশী। দূরত্ব ১৮৫ কিমি। রাত্রিবাস উত্তরকাশী (১১৫৮ মি)।

দ্বিতীয় দিন – সকালে উত্তরকাশীর বিশ্বনাথ ও অন্যান্য মন্দির দেখে এবং ভাগীরথীর ধারে কেদারঘাট ঘুরে চলুন ভাগীরথী উপত্যকায় পাইন ও দেওদারে ছাওয়া অনুপম সৌন্দর্যের পাহাড়ি জনপদ হরসিল (২৬২০ মি), দূরত্ব ৭৫ কিমি। পথে দেখে নিন গাংনানির উষ্ণপ্রস্রবণ। রাত্রিবাস হরসিল।

তৃতীয় দিন – চলুন গঙ্গোত্রী (৩০৪২ মি), ২৫ কিমি। উপভোগ করুন গঙ্গোত্রীর নিসর্গ। রাত্রিবাস গঙ্গোত্রী।

চতুর্থ দিন  – চলুন অলকানন্দা তীরে শ্রীনগর (৫৭৯ মি), ২২১ কিমি। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ৪, পঞ্চম দিন)। রাত্রিবাস শ্রীনগর।

পঞ্চম দিন – শ্রীনগর থেকে চলুন জোশীমঠ (১৮৭৫ মি), ১২৩ কিমি। দেখে নিন বাসস্ট্যান্ডের ১ কিমি নীচে নৃসিংহ মন্দির, বাসস্ট্যান্ডের উপরে শংকরাচার্য প্রতিষ্ঠিত জ্যোতির্মঠ। রাত্রিবাস জোশীমঠ।

ষষ্ঠ দিন – ভোরেই চলুন বদরীনাথ (৩১৫৫ মি), দূরত্ব ৪৬ কিমি। পথে পড়বে বিষ্ণুপ্রয়াগ, অলকানন্দা ও ধৌলিগঙ্গার সঙ্গম। শ্বেতশুভ্র নীলকণ্ঠ (৬৫৯৬ মি) মুকুট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বদরীনাথের শিরে। রাত্রিবাস বদরীনাথ। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ১, অষ্টম দিন যতটা সম্ভব ঘুরুন)

সপ্তম দিন – বদরীনাথ থেকে আউলি (২৫১৯ মি), দূরত্ব ৫৬ কিমি। পুরোটা গাড়িতে যেতে পারেন, আবার জোশীমঠ থেকে কেবল কারেও ঘুরে আসতে পারেন। আউলিতে দেখুন দিগন্তবিস্তৃত হিমালয়ের শৃঙ্গরাজি। শৃঙ্গরাজির মাথায় সূর্যাস্ত অতুলনীয়।

(কেবল কারেই চলুন। প্রথমে চলুন ১০ নম্বর টাওয়ার স্টেশনে, কেবল কার এতটাই আসে। এখানে নেমে গড়সন বুগিয়াল দেখে ফেরার পথে ৮ নম্বর টাওয়ার স্টেশনে নেমে সেখান থেকে চেয়ার কারে আউলি চলে আসুন। জোশীমঠে কেবল কার স্টেশনে টিকিট কাটার সময় আপনার প্ল্যান জানিয়ে দিলে সেইমতো ব্যবস্থা হয়ে যাবে। টিকিটে যাতায়াতের ভাড়া ধরা। ফেরার দিন জানিয়ে দেবেন। সঙ্গে গাড়ি থাকলে জোশীমঠে এক দিন রেখে দেবেন।)

অষ্টম দিন – আজও থাকুন আউলিতে, উপভোগ করুন এর সৌন্দর্য, বিশ্রাম নিন।

নবম দিন – আউলি থেকে চলুন রুদ্রপ্রয়াগ (৬১০মি), অলকানন্দা-মন্দাকিনী সঙ্গম, ১২৪ কিমি। পথে দেখুন নন্দপ্রয়াগ (অলকানন্দা ও নন্দাকিনীর সঙ্গম) এবং কর্ণপ্রয়াগ (অলকানন্দা ও পিন্ডারগঙ্গা তথা কর্ণগঙ্গার সঙ্গম)। বিকেলে ঘুরে নিন সঙ্গমের কাছে রুদ্রনাথ শিবমন্দির, জগদম্বা মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির। রাত্রিবাস রুদ্রপ্রয়াগ।

দশম দিন– রুদ্রপ্রয়াগ থেকে হরিদ্বার, ১৬৪ কিমি। পথে দেখে নিন দেবপ্রয়াগ, অলকানন্দা ও ভাগীরথীর সঙ্গম। এখানেই অলকানন্দার যাত্রা শেষ। গঙ্গার পথ চলা শুরু। রাত্রিবাস হরিদ্বার।

একাদশ দিন – আজও থাকুন হরিদ্বারে।

হরিদ্বারে দ্রষ্টব্য

গঙ্গারতি, মনসা পাহাড়, চণ্ডী পাহাড়, কনখল ইত্যাদি। মনসা পাহাড়, চণ্ডী পাহাড় যাওয়ার জন্য রোপওয়ে-ও আছে। যতটা সম্ভব ঘুরে নিন।

দ্বাদশ দিন – বাড়ির পথে।

ভ্রমণ-ছক ৬: প্রথাগত চারধাম যাত্রা

প্রথম দিন – হরিদ্বার থেকে জানকীচটি, ২২১ কিমি। রাত্রিবাস জানকীচটি।

দ্বিতীয় দিন – যমুনোত্রী (৩২৯১ মি) ঘুরে আসা। যাতায়াতে ১০ কিমি মতো হাঁটা। রাত্রিবাস জানকীচটি।

তৃতীয় দিন – সক্কালে যাত্রা করুন গঙ্গোত্রীর উদ্দেশে, ২২০ কিমি। রাত্রিবাস গঙ্গোত্রী।

চতুর্থ দিন – আজও থাকুন গঙ্গোত্রীতে (৩০৪২ মি)। উপভোগ করুন ভাগীরথী ও কেদারগঙ্গার সঙ্গমে গঙ্গোত্রীর সৌন্দর্য।

পঞ্চম দিন – গঙ্গোত্রী থেকে উত্তরকাশী, ৯৫ কিমি। ঘোরাঘুরি। রাত্রিবাস উত্তরকাশী। বিশ্বনাথ ও অন্যান্য মন্দির দর্শন করুন এবং কেদারঘাটে ভাগীরথীর জল মাথায় নিন।

ষষ্ঠ দিন – চলুন গুপ্তকাশী, ১৯৪ কিমি। দেখে নিন বাসপথের কিছুটা উপরে কেদারের মন্দিরের আদলে তৈরি শিবমন্দির। রাত্রিবাস গুপ্তকাশী।

সপ্তম দিন – ভোরে বেরিয়ে গুপ্তকাশী থেকে শোনপ্রয়াগ (৩০ কিমি) পৌঁছে হাঁটা শুরু। ১০ কিমি হেঁটে রাত্রিবাস ভীমবলী (৮৭৩০ ফুট)। অথবা আরও ৬ কিমি এগিয়ে লিনচোলিতেও (১০৩৩০ ফুট) থাকতে পারেন।

অষ্টম দিন – ভীমবলী হলে ১০ কিমি হেঁটে অথবা লিনচোলি হলে ৪ কিমি হেঁটে কেদারনাথ (১১৭৫৫ ফুট)। রাত্রিবাস কেদারনাথ।

নবম দিন – কেদার থেকে হেঁটে শোনপ্রয়াগ আসুন (২০ কিমি), চলুন উখিমঠ (১৩১১ মি), ৪৪ কিমি। মন্দির দর্শন। রাত্রিবাস উখিমঠ।

দশম দিন – উখিমঠ থেকে চলুন জোশীমঠ, ১২৯ কিমি। রাত্রিবাস জোশীমঠ। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ৫, পঞ্চম দিন)।

একাদশ দিন – চলুন বদরীনাথ। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ৫, ষষ্ঠ দিন)।

দ্বাদশ দিন – বদরীনাথ থেকে পৌঁছে যান হরিদ্বার, ৩১৬ কিমি। রাত্রিবাস হরিদ্বার।

ত্রয়োদশ দিন – ঘরের পানে।

কী ভাবে যাবেন ও ফিরবেন

হাওড়া থেকে হরিদ্বার হয়ে দেহরাদুন যাওয়ার সব থেকে ভালো ট্রেন উপাসনা এক্সপ্রেস। প্রতি মঙ্গল এবং শুক্রবার দুপুর ১টায় হাওড়া ছেড়ে হরিদ্বার পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩.৫০ মিনিটে, দেহরাদুন পৌঁছোয় সন্ধ্যা ৬.০৫-এ। রয়েছে দুন এক্সপ্রেস, প্রতিদিন রাত ৮.২৫ মিনিটে হাওড়া থেকে ছেড়ে হরিদ্বার পৌঁছোয় তৃতীয় দিন ভোর ৪.৫৫ মিনিটে, দেহরাদুন পৌঁছোয় সকাল ৭.৩৫-এ। হাওড়া থেকে হরিদ্বার যাওয়ার জন্য রয়েছে কুম্ভ এক্সপ্রেস। মঙ্গল এবং শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহে পাঁচ দিন দুপুর একটায় হাওড়া থেকে ছেড়ে হরিদ্বার পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৪:৫৫।

দিল্লি হয়েও যেতে পারেন। হাওড়া থেকে রাজধানী বা দুরন্ত ধরে বা শিয়ালদহ থেকে রাজধানী বা দুরন্ত ধরে দ্বিতীয় দিন দিল্লি আসুন। দিল্লি থেকে হরিদ্বার ১৮০ কিমি। গাড়িতে আসতে পারেন, মুহুর্মুহু বাসও পাবেন।

মোরাদাবাদ বা নজীবাবাদ হয়েও যেতে পারেন হরিদ্বার। হাওড়া/শিয়ালদহ/কলকাতা স্টেশন থেকে রয়েছে এক গুচ্ছ ট্রেন। তবে সব চেয়ে ভালো ট্রেন দ্বিসাপ্তাহিক দুর্গিয়ানা এক্সপ্রেস। কলকাতা স্টেশন থেকে মঙ্গল ও শনিবার বেলা ১২.১০-এ ছেড়ে মোরাদাবাদ পৌঁছোয় সকাল ৭.৫০ মিনিটে। মোরাদাবাদ থেকে হরিদ্বার ১৫০ কিমি, গাড়ি বা বাসে পৌঁছে যাওয়া যায়। দ্বিসাপ্তাহিক অকাল তখত্‌ এক্সপ্রেস কলকাতা স্টেশন থেকে বুধ ও রবিবার সকাল ৭-৪০-এ ছেড়ে নজীবাবাদ পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৯.৩৮ মিনিটে। নজীবাবাদ থেকে হরিদ্বার ৪৬ কিমি, গাড়ি বা বাসে পৌঁছে যাওয়া যায়।          

দিল্লি থেকে দেহরাদুন আসার ট্রেন আছে পাঁচটা। এ ছাড়াও দেশের সব বড়ো শহরের সঙ্গেই ট্রেন যোগাযোগ আছে দেহরাদুনের। ট্রেনের অভাবে দিল্লি হয়ে দেহরাদুন আসাই ভালো।

বিমানেও দিল্লি এসে দেহরাদুন যেতে পারেন। ট্রেনে, বাসে বা গাড়িতে। সড়ক পথে দিল্লি থেকে দেহরাদুন ২৫১ কিমি।

নজীবাবাদ থেকে হাওড়া ফেরার জন্য রয়েছে দুন এক্সপ্রেস। রাত ১১:৪৫-এ ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৭টায়। রয়েছে অমৃতসর-হাওড়া মেল, রোজ রাত ২.৪৯-এ, হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল সাড়ে ৭টায়। রয়েছে অকাল তখত্‌ এক্সপ্রেস। প্রতি মঙ্গল এবং শুক্রবার দুপুর ১২.৫৯-এ ছেড়ে কলকাতা স্টেশন পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩:১৫-এ। এ ছাড়া আছে ডাউন জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেস। প্রতিদিন সকাল ৮টায় ছেড়ে কলকাতা স্টেশন পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩:৪৫-এ। অমৃতসর-হাওড়া এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত ২.২৮-এ ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন বিকেল পৌনে ৩.৫০ মিনিটে।

হরিদ্বার থেকে ফেরার ট্রেন। উপাসনা এক্সপ্রেস প্রতি বুধ এবং শনিবার রাত ১১:৫০-এ ছেড়ে, হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন ভোর ৩:২০-এ। বাকি পাঁচদিন একই সময় রয়েছে কুম্ভ এক্সপ্রেস। দুন এক্সপ্রেস রোজ রাত্রি ১০.২০-এ ছেড়ে তৃতীয় দিন সকাল ৭টায় হাওড়া। এ ছাড়াও দিল্লি হয়ে ফিরতে পারেন।

সারা দিনে হরিদ্বার থেকে দিল্লি আসার অনেক ট্রেন আছে। ট্রেনের মান অনুযায়ী সময় লাগে সাড়ে চার ঘণ্টা থেকে বারো ঘণ্টা। দেশের অন্য শহরের সঙ্গে হরিদ্বারের ট্রেন যোগাযোগ থাকলেও তা খুব সীমিত। তাই সে ক্ষেত্রে দিল্লি হয়ে যাতায়াত করাই ভালো।

ট্রেনের বিস্তারিত সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in ।

কী ভাবে ঘুরবেন

সব জায়গায় বাস পরিষেবা পাবেন। কিন্তু পাহাড়ি জায়গা, বাসের সংখ্যা কম। তার ওপর স্থানীয় মানুষের ভরসা বাসই। তাই মালপত্র নিয়ে বাসে যাওয়া কষ্টকর। শেয়ার গাড়িও মেলে কোনো কোনো জায়গায়, তবে সব জায়গায় নয়। তবে ভ্রমণের সময়সূচি অক্ষুণ্ণ রাখতে, একটু আরামে ঘুরতে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়াই ভালো। সে ক্ষেত্রে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করে সেখানে পৌঁছে স্থানীয় যান বা হেঁটে ঘোরা যেতে পারে। ভ্রমণ-ছক ৩ ও ৪-এর ক্ষেত্রে এটা করা যেতেই পারে। আর বাকি চারটি ছকের ক্ষেত্রে দেহরাদুন বা হরিদ্বার থেকে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়া ভালো। হরিদ্বারে স্টেশনের কাছেই ট্যাক্সি ইউনিয়নের স্ট্যান্ড।

কোথায় থাকবেন

চক্রাতা ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে গাড়োয়াল মণ্ডল বিকাশ নিগমের (জিএমভিএন) বিশ্রামাবাস। অনলাইন বুকিং gmvnl.in । তবে অনলাইনে বুক করার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন পর্যটকরা। সে ক্ষেত্রে জিএমভিএনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। জিএমভিএনের কলকাতা অফিসের ঠিকানা- রুম নং- ২২৪, মার্শাল হাউস, ৩৩/১ এসএফ, নেতাজি সুভাষ রোড। ফোন- ২২৬১০৫৫৪।

চক্রাতায় থাকার জন্য অনেক বেসরকারি হোটেল রয়েছে, কিন্তু সব থেকে ভালো জায়গা হোটেল স্নো-ভিউ। যোগাযোগ- ৯৪১১৩৬৩২৩১, ৯৪১০৮২৩২০৭। ওয়েবসাইট www.chakratasnowview.co  ইমেল- [email protected]

কনকচৌরিতে থাকতে পারেন মায়াদীপ হলিডে হোমে। অনলাইন বুকিং www.euttaranchal.com/hotels/

কল্পেশ্বরের জন্য থাকতে পারেন দেবগ্রামের পথিক লজে, যোগাযোগ – ৯৭৫৮৭০০২৬৩।

অন্য বেসরকারি হোটেলের সন্ধান পাবেন makemytrip, goibibo, trivago, cleartrip, holidayiq  ইত্যাদি ওয়েবসাইট থেকে।

গাড়োয়ালের বিভিন্ন জায়গায় থাকা ও গাড়ির জন্য যোগাযোগ করতে পারেন: সৌমিশ্র মিত্র, প্রচেষ্টা ট্যুরিজম, ফোন ০৭৬০৭৭৫৫৮০০, ই-মেল [email protected]

মনে রাখবেন

(১) চক্রাতায় অনেক জায়গা আছে, যেখানে জিপই ভরসা।

(২) কেদারযাত্রীদের শোনপ্রয়াগ থেকে কেদারযাত্রার ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।

(৩) ভীমপুল থেকে যদি বসুধারা ফলস্‌ যেতে চান, তা হলে একটা দিন বেশি থাকতে হবে বদরীনাথে। এমনিতেই হাতে সময় থাকলে বদরীনাথে থাকাটা দু’ দিন করলে ভালো।

(৪) ইচ্ছা করলে হরিদ্বারে একাধিক দিন থাকতে পারেন। গঙ্গার ধারে যদি থাকার জায়গা পান, তা হলে তার চেয়ে মনোরম আর কিছু হয় না।

0 Comments
Share
weekend-trip-to-bichitrapur

ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: দোল-হোলি এ বার সপ্তাহের শেষে। সব মিলিয়ে চার দিন ছুটি – ২১ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ (বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার)। হঠাৎ মনে হয়েছে কোথাও গেলে হয়? কিন্তু হাতে তো আরও মাত্র একটা সপ্তাহ। এখন কোন ট্রেনেই বা আসন পাবেন? কাছেপিঠে এমন একটা জায়গা বেছে নিলে হয় না, যেখানে যাওয়ার জন্য ট্রেনে আগাম সংরক্ষণের দরকার নেই? এমনই একটা জায়গা ওড়িশার বিচিত্রপুর। বৃহস্পতিবার ভোরেই বেরিয়ে পড়ুন, রবিবার রাতে ফিরে আসুন। তিনটে দিন উপভোগ করে আসুন বিচিত্রপুরের প্রকৃতি।  

Boating at Bichitrapur
বিচিত্রপুরে নৌকাবিহার।

কেন যাবেন বিচিত্রপুর

প্রকৃতির উপহার বিচিত্রপুর। বঙ্গোপসাগরের উপকূলে, যেখানে সুবর্ণরেখা নদী পড়েছে সাগরে, সেখানেই বিচিত্রপুর – ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের জন্য এর খ্যাতি। তা ছাড়া সমুদ্রসৈকত, ক্যাজুরিনার জঙ্গল, লাল কাঁকড়ার অভিসার তো আছেই। নৌকা চড়ে ঘুরুন ম্যানগ্রোভের জঙ্গলে। নৌকা চলে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত, ওড়িশা ইকোট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনায়। নৌকার টিকিট পাওয়া যায় বিচিত্রপুরেই। নিরালা, নিরিবিলি বিচিত্রপুরে প্রকৃতির মাঝে থেকে উপভোগ করুন পূর্ণিমার রাত। কাছেপিঠে বেশ কিছু ঘোরার জায়গাও আছে। খড়িবিলে ওই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য বোঝার জন্য রয়েছে ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার।     

আশেপাশের আরও দ্রষ্টব্য

১। তালসারি সৈকত – ১০ কিমি

২। চন্দনেশ্বর মন্দির – ৭ কিমি, তালসারির পথেই।

udaipur beach
উদয়পুর সৈকত।

৩। উদয়পুর সৈকত – ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ সীমানায়।

৪। ভূষণ্ডেশ্বর মন্দির – উপমহাদেশের সব চেয়ে বড়ো শিবলিঙ্গ, ১২ কিমি।

এ ছাড়া দিঘা, শংকরপুর, তাজপুর, মন্দারমণি তো আছেই। বিচিত্রপুর থেকে সব চেয়ে দূরের জায়গা মন্দারমণি, ৪২ কিমি।

কোথায় থাকবেন

ওড়িশা ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের ইকোট্যুরিজমের এসি কটেজ। দু’ জনের থাকার খরচ ৩৮৯৪ টাকা (কর-সহ সব কিছু নিয়ে। এর মধ্যে দু’জনের প্রাতরাশ, মধ্যাহ্নভোজ এবং রাতের খাবারের খরচ ধরা আছে। মোহনায় এক বার নৌকাবিহারের খরচও ধরা আছে।) অনলাইন বুকিং https://www.ecotourodisha.com/

কী ভাবে যাবেন

১। হাওড়া থেকে সকাল ৬টায় ধৌলি এক্সপ্রেস ধরুন, জলেশ্বর পৌঁছে দেবে সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে। সেখান থেকে বিচিত্রপুর ৪০ কিমি, গাড়িতে।

২। কলকাতা/হাওড়া থেকে বাসে বা ট্রেনে দিঘা চলুন। সেখান থেকে ভ্যান রিকশা, অটো বা গাড়িতে চলুন বিচিত্রপুর, ১৫ কিমি।

ecotourism cottage
ইকোট্যুরিজমের কটেজ।

কী ভাবে ফিরবেন

১। জলেশ্বরে ডাউন ধৌলি এক্সপ্রেস আসে বিকেল ৪.৫৭ মিনিটে, হাওড়া পৌঁছে দেয় রাত ৮.১৫ মিনিটে।

২। দিঘা হয়ে বাসে বা ট্রেনেও ফিরতে পারেন।

কী ভাবে ঘুরবেন

কাছেপিঠের জায়গাগুলো ভ্যানরিকশায় ঘুরে নিতে পারেন। শংকরপুর, তাজপুর, মন্দারমণি এলে গাড়ি ভাড়া করে নেবেন।      

মনে রাখবেন

১। দোলের দিন সকালের দিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও ভাড়া গাড়ি বা ট্যাক্সি পেতে অসুবিধা হয় না।

২। তবু যদি মনে করেন দোলের দিন নিজের জায়গায় কাটিয়ে পরের দিন যাবেন, সে ক্ষেত্রে বিচিত্রপুরে থাকার মেয়াদ ৩ রাত থেকে কমিয়ে ২ রাত করে নিতে পারেন।

0 Comments
Share
a-trip-yo-subhasgram-and-other-places-related-to-netaji

jahir raihan
জাহির রায়হান

সাবমেরিন। সংজ্ঞা-সহ সাবমেরিনের ব্যাখ্যা বুঝতে বুঝতেই টের পেয়েছিলাম দেশনায়কের কলজের জোর। কতই বা বয়স তখন, মেরে কেটে বারো-তেরো, ষষ্ঠ শ্রেণির হাফপ্যান্ট-পরা ছাত্র। ক্লাসে দুলালবাবু বলে চলেন, “সাবমেরিন একটি জলযান, জলে ডুবে ডুবে যায়, ওপর থেকে কিছুই বোঝা যায় না।” সেই সাবমেরিন চেপে ইংরেজদের চোখে ধুলো দিয়ে দেশান্তরী হন সুভাষ, মাতৃভূমি ভারতবর্ষকে ব্রিটিশ কবল থেকে মুক্ত করতে। মিঠুন-অমিতাভকে সরিয়ে সেই দিনই আমার বল্গা মনের নায়ক হয়ে বসেন সুভাষচন্দ্র। তার পর একটা একটা করে নতুন শ্রেণিতে উর্ত্তীর্ণ হই, আর একটু একটু করে হৃদয়াকাশে উদ্ভাসিত হতে থাকেন সুভাষচন্দ্র বোস। তাঁর ব্যাপকতা এবং দেশপ্রেম ছাড়িয়ে যায় বাকিদের। এর মধ্যেই একদিন শুনলাম, একবার বেলডাঙা এসেছিলেন তিনি। ঘটনা জানামাত্রই গর্বিত হলাম অতীতের সেই আগমনকে স্মরণ করে। শহরের নেতাজি পার্ক ও নেতাজি তরুণতীর্থের যৌথ উদ্যোগে জানুয়ারি মাসের সপ্তাহব্যাপী নেতাজি স্মরণোৎসবের তাৎপর্য ধরা দিল নব রূপে।

আরও পড়ুন পর্যটনের প্রসারে উত্তরবঙ্গে একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস মুখ্যমন্ত্রীর

গোটা শীত জুড়েই বঙ্গের এ-দিক ও-দিক চরকিপাকের সিদ্ধান্ত নিয়েছি গরমের গুঁতো থাকাকালীনই। তাই মিলনদা কোদালিয়া যাওয়ার কথা বললে রাজি হলাম তৎক্ষণাৎ। ২০১৭’র শেষ দিনে যখন সবাই নতুন বছরকে আবাহনের প্রস্তুতিতে মগ্ন, আমি ছুটলাম সুভাষচন্দ্রের পিতৃদেব জানকীনাথের পৈতৃকভিটে দর্শনে। প্রথমে যাব কোদালিয়া, তার পর এলগিন রোডে নেতাজিভবন। সেইমতো কাউকে কিছু না বলে একা একাই বেরোলাম অমৃতপুত্রের সন্ধানে। ভাগীরথী এক্সপ্রেস দেরি করায় সুভাষগ্রাম যাওয়ার ট্রেন পেতে দেরি হল, তবে মধ্যবর্তী সময়টুকুর সদ্ব্যবহার হল ‘জনআহার’-এর চিকেন বিরিয়ানিতে। ৭৮ টাকায় বছরের শেষ লাঞ্চ। সেই ছাত্রাবস্থা থেকেই শিয়ালদহে যাতায়াত আমার। হাতে সময় বা ট্রেনের দেরি থাকলে স্টেশনের ধাপিতে বসে বসে নানা কিসিমের লোকজন ও তাদের কাণ্ডকারখানা নাগাড়ে খেয়াল করা আমার খুব প্রিয় টাইমপাস। একটা করে ট্রেন ঢোকে আর মিছিলের মতো লোক গলগল করে বেরিয়ে হারিয়ে যায় মহানগরীর পথে পথে। এবং আশ্চর্য, নিজেরটা ছাড়া বাকিরা কোথায় কী কাজে যায় তা আমি একেবারেই জানি না।

kodalia house
কোদালিয়ার বাড়ি, সংস্কারের আগে।

গড়িয়ায় বছর তিনেক ছিলাম আমি, তখন নিউ গড়িয়া স্টেশনটাই ছিল না, ছিল না মেট্রো রেলের বাহাদুরিও। বাঘাযতীন ছাড়ালেই তখনও তেপান্তরের মাঠঘাট চোখে পড়ত, অট্টালিকার বাড়বাড়ন্ত ছিল না। আর একটা ব্যাপারে অবাক হতাম, গড়িয়ার দুই দিকের সিগন্যালই সর্বদা হলুদ হয়েই থাকত, ট্রেন এসেই যেত, এসেই যেত। এখনও আমার বিশ্বাস, সোনারপুর থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত ট্রেন ধরতে কেউই সময় দেখে না, জানে স্টেশনে গেলেই কোনো না কোনো লোকাল পেয়ে যাব ঠিক। ডায়মন্ড হারবার লোকাল গড়িয়া ঢুকতেই এ-দিক সে-দিক উঁকিঝুকি মারলাম, কিছুই ঠাহর হল না। মিলনদা বলে দিয়েছিল, সোনারপুরের পরই সুভাষগ্রাম। সেইমতো গুতোঁগুঁতি বাঁচিয়ে নিলাম নামার প্রস্তুতি। এত ভিড়ের মধ্যেও পল্টু ব্যাটার অস্থিরতা টের পাচ্ছি, সে বুঝি সেই সন্ধিক্ষণের নাগাল পেয়ে গিয়েছে, যার কারণে এখানে আসা। রাজপুর-সোনারপুর পৌরসভার অন্তর্গত সুভাষগ্রাম। রিকশায় উঠে দেখি, চালক পা তুলে হ্যান্ডেল পাকড়ে বসে রয়েছে আর রিকশা চলছে আপন গতিতে। সাধারণ রিকশার এই অসাধারণ আচরণ এর আগে দেখি নাই কখনও। হাঁটতেই চাইছিলাম, কিন্তু এক কাকাবাবুর খপ্পরে পড়েই এই রিকশাবিলাস, উনি লম্বা করে জানালেন চল্লিশ মিনিট হাঁটলে তবেই বোসবাড়ি, অগত্যা!

আরও পড়ুন চণ্ডীদাসের প্রেম ও নানুর

নেতাজি সুভাষের সম্মানেই যে চাংড়িপোতা হয়েছে সুভাষগ্রাম, সে কথা না জানালেও চলে। রিকশা চড়ে রবিবারের সুভাষগ্রামের মহল্লা নজরে রাখতে রাখতেই এগিয়ে চলি হরনাথ বসুর বাড়ির দিকে, যাঁর নাতিকে আজও খুঁজে ফেরে বাঙালি, বিশ্বাস করে দেশের এই দুর্দশায় তিনি নিশ্চিত ভাবেই ফিরে আসবেন, মৃ্ত্যু-বিজ্ঞান হেরে যায় বাঙালি আবেগের কাছে, বারবার। তরুণ সংঘের মাঠ পার করে বাবুদাকে পাওয়া গেল। সৌম্যদর্শন ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করতেই দেখিয়ে দিলেন সেই ভিটেটিকে যার মাটি সৃষ্টি করেছিল এক আপসহীন অগ্নিপুত্রের যিনি অত্যাচারীর চোখে চোখ রেখে কথা বলতে জানতেন। হলুদ রঙা দোতলা বাড়ি, বড়ো বারান্দা, বেশ কিছু ছাদের অংশ ভেঙে পড়েছে, ঘরগুলি তালাবন্ধ। খোলা জানলার ফাঁক দিয়ে কিছু আসবাবপত্রও চোখে পড়ে। বাড়ির সামনেও অনেকটা ফাঁকা জায়গা। ক্ষয়ে যাওয়া ইটগুলিকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়, কেমন ছিল বোসেদের ঘরকন্না? দাদুর বাড়ির ঘরময়, বারান্দা জুড়ে, বাগানে, হামাগুড়ি, দৌড়োদৌড়ি করেছে কি ছোট্ট সুভাষ? কটকে পড়াশোনার ফাঁকে, ছুটিছাটাতে বা বার্ষিক পরীক্ষার শেষে কখনও কি এসেছে দাদু-ঠাকুমার কাছে? কেমনধারা ছিল তার আবদার? কী ভাবে সে পেল এত সাহস? এত শৌর্য? এত তাপ? নিরুত্তর চুনসুরকি ধুলো হয়ে ঝরে পড়ে অবিরত, আমি বসে পড়ি বারান্দায়, ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করি সেই কালকে যা এখন মহাকালের কবলে।

netaji bhawan
এলগিন রোডে নেতাজিভবন।

শঙ্কর ঘোষ এ বাড়ির বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক। বংশপরম্পরায় তাঁরা এই কাজ করে আসছেন। তিনিই জানালেন, রাজ্য সরকারের পূর্ত দফতর বাড়িটি অধিগ্রহণ করেছে, সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজও শুরু হবে শীঘ্র। এ তথ্যে নিশ্চিন্ত হয়ে বেরিয়ে এলাম। (এই দু’ বছরে সেই ভবনের সংস্কার হয়েছে।) বাবুদা তখনও ওখানে বসেছিলেন, বললেন এত দূর থেকে এসেছেন বোসেদের পারিবারিক নারায়ণ মন্দির দেখে যান। তাঁর কথামতো ঠাকুরদালান দেখে নিলাম, দুর্গাপুজোও হয় সেখানে, বোস পরিবারের বর্তমান সন্তানসন্ততিরা নাকি এখনও একত্রিত হন পুজোর ক’টা দিন। নির্জন দালানচত্বরটি আমার বেশ লাগল, অনেকক্ষণ বসে রইলাম চুপচাপ, একা একাই। কান পেতে শোনার চেষ্টা করলাম হরনাথ বোস, জানকীনাথ বোস ও তাঁদের পরিবারবর্গের পুজোকালীন হইচই, হাঁকডাক, কলরব যা কালের অভিঘাতে হয়েছে নিরুদ্দেশ। মন্দিরের গেটটিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে হরনাথ লজ, পাশেই কোদালিয়া হরনাথ বীনাপাণি লাইব্রেরি, অগ্রদূত এবং কোদালিয়া ডাকঘর যার সামনে প্রশস্ত খেলার মাঠ। সম্পন্ন গৃহস্থ হরনাথ বোসই ছিলেন এ সবের মালিক। পাড়াটিও বেশ, ছিমছাম, কোলাহলমুক্ত, শরৎচন্দ্রের পল্লিসমাজের কথা মনে পড়ায়।

কবি সুভাষ থেকে নেতাজি ভবন মেট্রো স্টেশন। পুরো পথটিতেই কোদালিয়া আচ্ছন্ন করে রাখল আমায়। তবে শুধু নেতাজির দাদুর বাড়ি নয়, আরও এক বিখ্যাত বাঙালি সলিল চৌধুরীর মাতুতালয়ও নাকি কোদালিয়া। এ দিকে ট্রেনে উঠেই এক সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছি, যাব ‘নেতাজি ভবন’, টিকিট করেছি ‘নেতাজি’-এর। এই লাইনে প্রথম যাত্রা আমার, তাই ‘নেতাজি’ আর ‘নেতাজি ভবন’ গিয়েছে গুলিয়ে। ভাড়ায় পুরো পাঁচ টাকার ব্যবধান, বৈদ্যুতিক দরজা খুললে হয়! যা ভেবেছি তা-ই, যেখানে ভূতের ভয় সেখানেই সন্ধে হয়, দরজার কাছে নীল পোশাকের নিরাপত্তারক্ষী আর প্লাস্টিকের গোল চাকতিটিকে অবলীলায় অস্বীকার করল মেশিন বাবাজি, পর পর দু’ বার, চিচিং ফাঁকও হল না। ভয়ানক অপ্রস্তুত পরিস্থিতি, এমন সময় দেখা দিলেন স্বয়ং নারায়ণ, আমার পিছনের ভদ্রলোকটি চাকতিটি কুড়িয়ে মেশিনের ওপর রাখলেন, হাতে থাকা স্মার্ট কার্ডটি চেপে ধরতেই পাঁচ টাকার সীমান্ত খুলে গেল, উনি শুধু বললেন, চলুন চলুন। আপনাদের অনেক আগেই জানিয়েছি ভগবান আমার বখাটেপনা ভালোওবাসেন, প্রশ্রয়ও দেন, আজ আবার প্রমাণ হল।

নতুন নাম লালা লাজপৎ রায় সরণি হলেও আমার ভোট এলগিন রোডের তরে, কেননা এলগিন রোড উচ্চারিত হলেই সাথে সাথে সেই ইতিহাসও মনে এসে ভিড় করে যা নিয়ে বাঙালির গর্বের শেষ নেই। নেতাজিভবনের বিশালতা ও শৈলীতে গা ছম ছম শুরু হবে প্রবেশমাত্রই। প্রথমেই চোখ পড়বে সেই গাড়িটির দিকে যা দেশের স্বাধীনতায় দিকনির্ণয়ী ভূমিকা নিয়েছিল। ভাইপো শিশিরচন্দ্র বসু এই অডি করে কাকা সুভাষ বোসকে পৌঁছে দিয়েছিলেন গোমো। যা ইতিহাসের পাশাপাশি বাঙালিজীবনেও মহানিস্ক্রমণ বলে খ্যাত। এ ইতিহাস যদি আপনার জানা থাকে, তা হলে গাড়িটির সামনে গিয়ে দাঁড়ান, ষ্টিয়ারিং হাতে শিশিরচন্দ্র আর পেছনের সিটে হেলান দিয়ে বসে রয়েছেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষ – শুধু এই দৃশ্যটুকু কল্পনা করতে পারলেই মেরুদণ্ডের বৈদ্যুতিক শিরশরানি টের পাবেন নিশ্চিত। এ এমন একটা ঘটনা যা ছাপোষা, সাধারণ, ভীরু বাঙালিকেও আস্পর্ধার পাঠ দেয়, তাকেও বিশ্বাস করতে শেখায় হ্যাঁ বাঙালিও পারে।

the car driven by sisir bose
এই গাড়িতে চাপিয়ে নেতাজিকে গোমো পৌঁছে দিয়েছিলেন ভাইপো শিশির।

নেতাজি রিসার্চ ব্যুরোর যত্নে জানকীনাথ, শরৎচন্দ্র ও সুভাষচন্দ্রের ব্যবহৃত ঘর, বিছানা-সহ আসবাবপত্র দেখানোর আন্তরিক ব্যবস্থাপনা আপনাকে মুগ্ধ করবে। এমন কিছু অনন্য অনুভূতি আপনার মনের দখল নেবে যার নাগাল কখনোই কোথাও বেড়াতে বেরিয়েই আপনি পাননি। মার্বেলপাথরে নির্মিত একজোড়া থালা ও বাটি যা দিয়ে এ বাড়িতে সুভাষের শেষ ডিনার সম্পন্ন হয়েছিল তা দেখে আপনার চোখ ভিজে যাওয়া স্বাভাবিক, যদি আপনি ভাবতে পারেন, এই থালায় খেয়েই ঘরের ছেলেটি দেশান্তরী হয়েছিল। জান্তে অজান্তে সুভাষকে তো আমরা ঘরের ছেলে বলেই মনে করি, তাই না? তাঁর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সংরক্ষিত পদচিহ্নে পা দেবেন না যেন, পারলে ওই মহামানবের পদচিহ্নেই প্রণাম করুন, পুণ্যি হবে। কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীন যে ঘরে বসে কাজকর্ম এবং আগত লোকজনের সঙ্গে উনি দেখা করতেন, তার দেওয়াল ছিল ত্রিবর্ণরঞ্জিত, আজও সে ভাবে রাখা রয়েছে। তিন তলায় সাজিয়ে রাখা তাঁর নিজ হস্তে লেখা চিঠিপত্র, বা জামাকাপড়ের সামনে দাঁড়ালেই আপনার লোম খাড়া হয়ে যাবে অজ্ঞাত মগ্নতায়।

একটা মানুষের কর্মকাণ্ডের ব্যাপ্তি কতখানি হলে তাঁকে ‘নেতাজি’ বলে মেনে নেন স্বয়ং রবিঠাকুর, একটিবার ভেবে দেখুন। কতটা আবেদন থাকলে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত রাষ্ট্রনায়েকরা ছুটে আসেন তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে আজও, এখনও, সেটাও ভাবার বিষয়। আজ যখন সর্বত্রই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা তখন তাঁর উদাত্ত আহ্বান, তাঁর বলিষ্ঠ প্রত্যয় ভীষণই জরুরি ছিল। নেতাজিভবনের আনাচেকানাচে ইতস্তত পদচারণা করলে শ্রদ্ধায় আপন হতেই মাথা নত হয়ে আসে। মিউজিয়াম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে। ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসি বাড়ি থেকে, রাস্তা হতে লাগাতার ছবি তুলতে থাকি, তবুও যেন আশ মেটে না। মহানিষ্ক্রমণের ৭৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে গত ২০১৬ সালে, তবুও যেন সব জীবন্ত। সব দেখেও মনের খিদে মেটে না, কিন্তু যেতে তো হবে। মেট্রো ধরে মহাত্মা গান্ধী রোড স্টেশন, ওপরে উঠলেই মহাজাতি সদন। যার নামফলকে লেখা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিকল্পিত মহাজাতি সদনের শিলান্যাস করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পরবর্তীতে যার দ্বরোদঘটন হয় ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের হাত থরে। এটাও শেষ নয়, শিয়ালদহ যাব বলে মহাত্মা গান্ধী রোড-চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ ক্রসিংয়ে গিয়ে দেখি আরও একটা স্মৃতিফলক। সেখানেও জ্বলজ্বল করছে সুভাষচন্দ্রের নাম । সে ফলক জানান দিচ্ছে, Through this historical place Netaji Subhas Chandra Bose continued his ambitious and never ending journey to free our motherland-INDIA । সত্তর বছরেরও বেশি হয়ে গেল মাতৃভূমি স্বাধীন হয়েছে, নেতাজির পথচলা শেষ হয়নি, সুভাষ ঘরে ফেরে নাই, আজও।

ছবি: পিন্টু মণ্ডল ও লেখক

0 Comments
Share
a-visit-to-nanur-of-poet-chandidas

writwik das
ঋত্বিক দাস

বাংলা সাহিত্যে একাধিক চণ্ডীদাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এই একাধিক চণ্ডীদাস নিয়ে আধুনিক পণ্ডিতরা দ্বিধাবিভক্ত। কেউ কেউ বলেন এক চণ্ডীদাস বৈষ্ণবপদাবলির রচয়িতা। আর অন্য চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা। এঁদের এক জন বাঁকুড়ার ছাতনার অধিবাসী ছিলেন, আরেক জন বীরভূমের নানুরের। অনেকে আবার বলেন, এই দুই চণ্ডীদাসই এক। বিতর্ক থাক, চণ্ডীদাস সম্পর্কে যে কাহিনি সব চেয়ে বেশি প্রচারিত, সেই কাহিনিই আজ শোনাই, সেই সঙ্গে তাঁর নানুরের কিছু কথা৷

১৩৭০ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন নানোর এবং অধুনা নানুরে চণ্ডীদাসের জন্ম৷ তাঁদের পদবি ছিল ‘বাড়ুজ্জে’ বা ‘বন্দোপাধ্যায়’৷ এই জন্য তাঁকে বড়ু চণ্ডীদাস বলেও ডাকা হয়৷ তাঁর পরিবার খুব দরিদ্র ছিল৷ দারিদ্রের ভারে এক সময় তাঁরা নানুরের ভিটেমাটি ছেড়ে দিয়ে অধুনা বাঁকুড়া জেলার ছাতনা গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে পণ্ডিতগিরি করে কিছু অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে দিন অতিবাহিত করতে লাগলেন৷ তাঁর প্রথম স্ত্রীর নাম ছিল পদ্মজা৷ অভাবের জ্বালায় একদিন পদ্মজা তাঁকে ছেড়ে চলে যান কীর্নাহারের বাপের বাড়িতে৷

basulidevi temple
বাসুলীদেবীর মন্দির।

নিঃসঙ্গ অবস্থায় চণ্ডীদাসও ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন৷ ঘুরে বেড়িয়ে নিজে কবিতা লিখে সেগুলো বিদ্বজনদের শুনিয়ে বেড়াতে থাকেন৷ সারা দিনে যেটুকু হাতে আসে সেইটুকু দিয়ে রাতেরবেলায় একটি মাটির হাঁড়িতে অন্ন ফুটিয়ে আধাপেটা খেয়ে দিন কাটাতে থাকলেন৷ এ ভাবে ঘুরতে ঘুরতে তিনি একদিন চললেন রাজদরবারের পথে৷ রাজা তখন সভায় বসে মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যাস্ত৷ তাঁর কানে এল সুন্দর কণ্ঠে ঝুমুর গানের আওয়াজ৷ রাজা আলোচনায় আর মন লাগাতে পারলেন না৷ কোথা দিয়ে আসছে এত সুরেলা কণ্ঠ, এত সুন্দর ঝুমুরগান কেই-বা গাইছে৷ ভাবতে ভাবতে এক ভিখারিকে তাঁর দরবারের দিকে এগিয়ে আসতে দেখলেন৷ রাজদরবার পাহারায় নিয়োজিত সৈন্যরা সেই ভিখারীকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দিলে স্বয়ং রাজা সৈন্যদের থামিয়ে ভিখারি চণ্ডীদাসকে ভেতরে আসার অনুমতি দিলেন এবং সেই সঙ্গে আবদার করলেন, আরও ঝুমুরগান শুনিয়ে তাঁর মন তৃপ্ত করতে হবে৷ এমন অবস্থায় চণ্ডীদাস ঝোলা থেকে তাঁর লেখা পদ্য ও ঝুমুরগানের একখানি সংকলন বার করে বেশ ক’টি গান রাজামশাইকে শোনালেন৷ রাজামশাই যারপরনাই তৃপ্ত চণ্ডীদাসের গানে৷ তাঁর অবস্থার খবর নিয়ে পুরস্কারস্বরূপ রাজা তাঁকে বাসুলীদেবীর মন্দিরের পুরোহিতপদে নিযুক্ত করলেন এবং মন্দিরসংলগ্ন একটি ঘরে থাকার অধিকার দিলেন৷ চণ্ডীদাস জীবনধারণের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে শ্রীকৃষ্ণর পদ রচনায় ব্রতী হলেন এবং বাসুলীদেবীর পূজা করতে লাগলেন৷

দেবী বাসুলী বীণারঞ্জিত সরস্বতীদেবী, যদিও তাঁকে দুর্গাদেবী মনে করে শাক্ত রূপে পূজা করা হয়৷ এই দেবীর পূজা করতে করতে চণ্ডীদাস দেবীর ভক্তিপ্রেমে বাঁধা পড়লেন৷ বাসুলীদেবীর উপাসনাই তাঁর জীবনের মুল অঙ্গ হয়ে উঠল৷ দেবীর পূজা করার পাশাপাশি শ্রীকৃষ্ণের ভক্তিরস মাঝেমধ্যে সৃষ্টি করে মুখে আওড়াতে লাগলেন, সঙ্গে সঙ্গে সেই পদগুলি লিখে ফেলতে থাকলেন৷

এমন চলতে চলতে একদিন তাঁর মনে এক দোটানার উদ্ভব হল – যে অঙ্গ দিয়ে শাক্তের উপাসনা করে চলেছেন সেই অঙ্গ দিয়ে কী করে শ্রীকৃষ্ণের পদ রচনা করবেন৷ দিশেহারা তিনি৷ এমন অবস্থায় এক অমাবস্যার রাতে বাসুলীদেবী তাঁকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে পদ রচনার আদেশ দিলেন৷ দেবীর আদেশ পেয়ে চণ্ডীদাস প্রদীপের টিমটিমে আলোয় বসে মহানন্দে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পদ রচনা করতে লাগলেন৷

teracotta work in nanur temples.
নানুরে মন্দিরের গায়ে টেরাকোটার কাজ।

এমন ভাবে দিন কাটতে কাটতে চণ্ডীদাসের জীবনে আবার পরিবর্তন এল৷ বাসুলীদেবীর মন্দিরে একদিন আগমণ ঘটল এক পরমা সুন্দরী যুবতীর৷ অপূর্ব মুখশ্রী তাঁর৷ তিনি রজকিনি রামী৷ পিতৃমাতৃহারা রামী মন্দিরে দেবদাসীর কাজ করতে এলেন৷ মন্দিরের কাজ গুছিয়ে করেন রামী৷ ঠাকুরের কাপড় ধোয়া থেকে ঝাঁট দেওয়া, সবেতেই নিখুঁত৷ একদিন ভোগ বিতরণের সময় রামীর সঙ্গে চণ্ডীদাসের মুখোমুখি সাক্ষাৎ ঘটে৷ প্রথম দর্শনেই রামীর রূপে মুগ্ধ হয়ে যান চণ্ডীদাস, তাঁর মনের প্রেমসাগর যেন উত্তাল হয়ে ওঠে৷

স্ত্রী পদ্মজাকে হারিয়ে একাকী জীবন৷ পদ্মজাকে সে ভাবে সুখ দিতে পারেননি৷ অনেক দিন নারীর শরীরসুখ থেকেও বঞ্চিত৷ এমন অবস্থায় রামীর মুখ চণ্ডীদাসকে মাতোয়ারা করে তোলে৷ আহা্ কী সৌন্দর্য্য রামীর! হিরের দ্যুতির মতো মুখের ঔজ্জ্বল্য৷ বিদ্যুতের ঝলকানির মতো বাহুযুগল, তন্বী শরীর – সব মিলিয়ে চণ্ডীদাসের দু’ নয়নে শুধুই রামীর উপস্থিতি৷ কখনও বা বাসুলীদেবীর সঙ্গে রামীকে গুলিয়ে ফেলছেন আবার কখনও শ্রীরাধিকার সঙ্গে৷ “ইস্ একবার এসে যদি রামী তাঁর কাছে বসে বুকে তাঁর সুন্দর হাতখানি ছোঁয়াতেন”, “যদি কখনও রামীর শরীর স্পর্শ করার মতো সুখ কপালে জুটত”৷ রাতের একাকী বিছানায় শুধুই এমন ভাবনা তাঁর৷

“ব্রহ্মাণ্ড ব্যাপিয়া আছয়ে যে জন, কেহ না জানয়ে তারে।
প্রেমের আরতি যে জন জানয়ে সেই সে চিনিতে পারে।।”

basulidevi
বাসুলীদেবী।

এ ভাবে এক দিন উঠোন নিকোনোর সময় সুপুরুষ রামীর পথ আগলে দাঁড়ান চণ্ডীদাস এবং রামীকে প্রেম নিবেদন করেন৷ রামী কিঞ্চিৎ লজ্জিত। চণ্ডীদাস তাঁকে আলিঙ্গন করতে অগ্রসর হলেন৷ রামী তখন চণ্ডীদাসকে মনেমনে গ্রহণ করে প্রস্তাব দিলেন – ঠাকুর, তুমি তোমার সব কাম-বাসনা, সর্বশরীর এবং পুরো সম্মতিতে আমাকে গ্রহণ করো, তা হলেই আমি তোমার হতে পারব৷

চণ্ডীদাস এ বার খুশিতে পাগলপারা হয়ে বললেন, আজ থেকে আমার শরীর, এই বাসুলীদেবীর মন্দিরের দায়িত্ব সব তোমার৷ তুমি শুধু আমার৷ তুমি এই একাকী উত্তপ্ত মন ও শরীরকে শান্ত করো৷ চণ্ডীদাসের প্রেম গ্রহণ করলেন রামী৷ সঙ্গে ভয় পেলেন, যদি পাড়ার লোক তাঁদের প্রেমে বাধা দেয়৷ রামী বললেন, “না ঠাকুর, আমাকে ছাড়ো এতে তোমার বিপদ”৷ “আসুক বিপদ, শুধু তুমি আমাকে ভালোবাসো আমি সব সময় তোমার”- চণ্ডীদাসের জবাব৷ “তবে তা-ই হোক, আজ থেকে আর কোনো লোকলজ্জাকে ভয় নয়” – স্পষ্ট উক্তি রামীর৷

“মরম না জানে, মরম বাথানে, এমন আছয়ে যারা।
কাজ নাই সখি, তাদের কথায়, বাহিরে রহুন তারা।
আমার বাহির দুয়ারে কপাট লেগেছে – ভিতর দুয়ার খোলা।”

প্রেমের টানে পদাবলি রচনায় যাতে বাধার সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারে সংযত চণ্ডীদাস৷ রামী, বাসুলীদেবী ও কৃষ্ণের পদ – এই তিনটি বিষয় আবর্তিত হতে লাগল চণ্ডীদাসের জীবন৷

বাসুলীদেবীর প্রতি ভক্তি ও রামীর প্রতি প্রেমসুখ, দুয়ে মিলে পরমসুখে এ বার জোর কদমে শ্রীকৃষ্ণ পদাবলি লিখতে লাগলেন চণ্ডীদাস৷ কখনও ভাবের ঘোরে নিজেদের প্রেমকাহিনি স্থান পেল পদাবলির কাব্যে৷ এ ভাবে একদিন সৃষ্টি হল বাংলার প্রথম সাহিত্য শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের৷

আজ যেখানে মাটির ঢিবি অতীতে সেখানে সাঁঝের বেলায় চণ্ডীদাস  ও রামী কীর্তনের আসর বসাতেন যাতে গ্রামের মানুষ তাদের দু’জনের সম্পর্ককে গুরুশিষ্যার মতো করেই দেখেন৷ তাঁদের কীর্তন শুনতে জড়ো হতেন গ্রামের প্রায় সকলেই৷

চণ্ডীদাস ও রামীর মৃত্যু নিয়ে প্রচলিত কাহিনির কথায় আসি। সেই সময় বাংলার পাঠান সুলতান কিরগিজ খাঁ জোর করে বিয়ে করলেন এক হিন্দু কন্যাকে৷ সেই সুলতানের পত্নীও প্রায়ই আসতেন চণ্ডীদাসের কীর্তন শুনতে৷ ধীরে ধীরে সুলতানের সেই স্ত্রীও চণ্ডীদাসের প্রেমে পড়লেন৷ সুলতান তাঁর স্ত্রীর কাছে সব ব্যাপার জানতে চাইলেন৷ চণ্ডীদাসের প্রেমে পড়ার কথা সুলতানের স্ত্রী নিজমুখে স্বীকার করে নিলে কিরগিজ এক সন্ধেবেলা নিজ স্ত্রীকে বাসগৃহে আটকে রেখে চণ্ডীদাসের কীর্তনের আসরে আচমকা গোলাবর্ষণ করেন৷ ঘটনাস্থলেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যান চণ্ডীদাস, রামী-সহ বেশ ক’জন গ্রামবাসী৷ ধ্বংস হয় বাসুলীদেবীর মন্দির৷

that mound in nanur
সেই ঢিবি।

তবে চণ্ডীদাসের মৃত্যু নিয়ে আরেকটি মত প্রচলিত৷ চণ্ডীদাস ও রামির প্রেমকাহিনি গ্রামবাসীরা জানতে পেরে রেগে ফুঁসে ওঠে এক রাতে দু’জনকেই বেধড়ক পিটিয়ে মেরে ফেলে৷ পরে তাঁদের দুজনের মৃতদেহের ওপর মাটি জড়ো করে ঢিবি বানিয়ে দেয়৷

এই সব কাহিনি কতটা বিশ্বাসযোগ্য, সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। বিশেষ করে, চণ্ডীদাসের সময় গোলা, বিশ্বাস করা যায় না।

১৭-১৮ শতক নাগাদ এই অঞ্চলের তিলি সম্প্রদায়ের মানুষ মাটি খুঁড়ে বাসুলীদেবীর মূর্তি পুনরুদ্ধার করেন এবং মাটির ঢিবির পাশেই মন্দিরগুলি নির্মাণ করেন৷ পরবর্তীকালে ১৯৪৫ সাল নাগাদ সরকারি ভাবে খনন চালিয়ে অতীত পুনরুদ্ধার করা হয়৷ বর্তমানে বাসুলীদেবীর মন্দির-সহ আরও ১৪টি শিবমন্দির রয়েছে মন্দিরচত্বরে৷ সব ক’টাই চারচালাবিশিষ্ট৷ এর মধ্যে দু’টি শিবমন্দিরে টেরাকোটার সুন্দর কাজ লক্ষ করা যায়৷ মন্দিরদু’টির দেওয়ালে টেরাকোটার কাজে রাধাকৃষ্ণের লীলাকেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে৷

এ ছাড়া মন্দিরচত্বরের দু’ পাশে চারটি করে শিবমন্দিরে পঙ্খের অতি সুন্দর কারুকাজ দৃশ্যমান৷ বাকি শিবমন্দিরগুলি সাধারণ ইটে তৈরি এবং চারচালা চূড়াবিশিষ্ট৷

narayan mandir,nanur
নারায়ণ মন্দির।

বাসুলীদেবীর মন্দিরের ডান দিকে চারচালার সমতল ছাদবিশিষ্ট মন্দিরটিতে নারায়ণের পূজা হয়৷ আর সামনের ঘরটিতে বিভিন্ন মৃন্ময়ী দেবদেবীর পূজা হয়৷

বাসুলিদেবীর মন্দির সমতল চারচালাবিশিষ্ট, ইটের তৈরি, মন্দিরের মাথায় একটি চূড়া৷ মন্দিরের গর্ভগৃহে চণ্ডীদাস পূজিত দেবীমূর্তি৷ কালো কষ্টিপাথরের দেবীমূর্তি বীণারঞ্জিত হলেও মুলত শাক্তমতে তাঁর পূজা হয়৷ আশ্বিন মাসে শারদোৎসবের সময় পাঁচ দিন ধরে দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়৷ সেই সময় মোষবলিও হয়৷

এই মন্দিরচত্বর থেকে সামান্য দূরে থানার পাশে যে পুকুরটি আছে সেখানেই রামী কাপড় কাচতে যেতেন৷ এখনও পুকুরধারে রক্ষাকালী মন্দিরের এক দিকে রামীর কাপড় কাচার পাটাটি সংরক্ষিত আছে৷

washing stone of Rami
রামীর কাপড় কাচার পাটা।

নানুরে বাসস্ট্যান্ডের মোড়ে রয়েছে চণ্ডীদাস ও রামীর বড়ো মূর্তি৷ এ ছাড়া নানুরের কাঁথার কাজের খ্যাতি উল্লেখযোগ্য৷ নানুর সফরে সেখানকার মিষ্টির স্বাদ নিতে ভুলবেন না৷

কী ভাবে যাবেন

রেলপথে হাওড়া/শিয়ালদা-রামপুরহাট লাইনে বোলপুর-শান্তিনিকেতন পৌছে সেখান থেকে বাসে বা গাড়ি ভাড়া করে যেতে পারেন নানুর, মাত্র ২১ কিলোমিটা৷ বোলপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে মুহুর্মুহু বাস যাচ্ছে নানুর গ্রাম হয়ে৷ কলকাতা থেকে সড়কপথ দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বর্ধমান, সেখান থেকে মঙ্গলকোট-নতুনহাট হয়ে নানুর।

কোথায় থাকবেন

নানুরে থাকার তেমন জায়গা নেই৷ শান্তিনিকেতন বেড়াতে গিয়ে ঘুরে নিন নানুর। শান্তিনিকেতনে নানা বাজেটের হোটেল আছে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের রয়েছে শান্তিনিকেতন ট্যুরিস্ট লজ ও রাঙাবিতান ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স। দু’টোরই অনলাইন বুকিং www.wbtdcl.com। বেসরকারি হোটেলের সন্ধান পাওয়া যাবে goibibo, makemytrip, trivago, booking.com, tripadvisor, yatra.com, cleartrip প্রভৃতি ওয়েবসাইট থেকে।

ছবি: লেখক

 

 

 

 

 

 

0 Comments
Share
winter-destinations-part-four-from-rann-of-kutch-to-coastal-gujarat

তের ভ্রমণ ৩-এ ভ্রমণ অনলাইন গুজরাত ভ্রমণের একটি ছক দিয়েছিল। এই কিস্তিতে পাঠকদের জন্য রইল আরও দু’টি ভ্রমণ পরিকল্পনা।

১) কচ্ছভূমি

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন – রাত্রিবাস অমদাবাদ।

ভ্রমণ শুরু করুন অমদাবাদ থেকে। হাওড়া-অমদাবাদ এক্সপ্রেস প্রতি দিন রাত ১১:৫৫-য় হাওড়া ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় তৃতীয় দিন দুপুর ১.২৫-এ। হাওড়া-ওখা এক্সপ্রেস প্রতি মঙ্গল, শুক্র এবং শনিবার হাওড়া থেকে রাত ১০:৫০-এ ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৯টায়। শালিমার-ভুজ এক্সপ্রেস প্রতি শনিবার রাত ৮:২০-এ ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় সোমবার সকাল ৯.২০ মিনিটে। সাঁতরাগাছি-পোরবন্দর কবিগুরু এক্সপ্রেস প্রতি রবিবার রাত ৯:২৫-এ ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় মঙ্গলবার সকাল ১০.৫০-এ। হাওড়া-গান্ধীধাম গর্ভ এক্সপ্রেস প্রতি সোমবার রাত ১১টায় ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় বুধবার সকাল ১০.৫০-এ।

ahmedabad, world heritage city
বিশ্ব ঐতিহ্যের তকমা পাওয়া অমদাবাদ শহর।

দিল্লি থেকে সব চেয়ে ভালো ট্রেন অমদাবাদ রাজধানী। প্রতি দিন নিউদিল্লি স্টেশন থেকে রাত ৭.৫৫-য় ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৯.৪০-এ। আশ্রম এক্সপ্রেস প্রতি দিন দিল্লি থেকে বিকেল ৩.২০-তে ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৭.৪০-এ। এ ছাড়াও ত্রিসাপ্তাহিক, সাপ্তাহিক ট্রেন আছে দিল্লি থেকে অমদাবাদ যাওয়ার জন্য।

মুম্বই থেকে ছ’ থেকে ন’ ঘণ্টার মধ্যে অমদাবাদ পৌঁছোনোর জন্য দিনেরাতে অনেক ট্রেন আছে। এমন ট্রেন বাছুন যাতে সকালে অমদাবাদ পৌঁছে যেতে পারেন। তা হলে সেই দিনটা অমদাবাদ ঘোরাঘুরির জন্য রাখতে পারেন।

ট্রেনের সময় বিস্তারিত জানার জন্য দেখে নিন erail.in         

ভারতের যে কোনো জায়গা থেকে বিমানে পৌঁছোতে পারেন অমদাবাদ।

অমদাবাদে কী দেখবেন – পড়ুন শীতে চলুন/৩: হেরিটেজ গুজরাত

চতুর্থ দিন – রাত্রিবাস ধ্রানগাধরা।

wild ass at little rann
ক্ষুদ্র রনে বন্য গাধা। ছবি সৌজন্যে ট্রিপস্যাভি।

ক্ষুদ্র রনের জন্য বিখ্যাত ধ্রানগাধরা। রাত্রিবাস করুন দেবজিভাই ধামেচার ইকো ক্যাম্পে। দেবজিভাইয়ের উদ্যোগে বিকেলে একটা সাফারি করুন বন্য গাধার অরণ্যে।

অমদাবাদ থেকে ধ্রানগাধরা ১২৪ কিমি। আমদাবাদ থেকে ধ্রানগাধরা যেতে পারেন ট্রেনে, বাসে বা গাড়িতে। তবে ট্রেনের সময়ের সঙ্গে আপনার সময় মিলতে নাও পারে।

পঞ্চম দিনসকালেও একটা সাফারি করুন দেবজিভাইয়ের উদ্যোগে। দুপুরে রওনা হন ভাচাউয়ের উদ্দেশে। দূরত্ব ১৩৫ কিমি। রাত্রিবাস ভাচাউ।

ধ্রানগাধরা থেকে ভাচাউ  ট্রেনে, বাসে বা গাড়িতে আসতে পারেন। তবে ট্রেনের সময় দেখে নেবেন আপনার ভ্রমণসূচির সঙ্গে খাপ খায় কিনা।

ষষ্ঠ দিন – রাত্রিবাস ভাচাউ।

castle wall, dholavira
প্রাসাদ প্রাচীর, ধোলাভিরা। ছবি সৌজন্যে টপইয়াপ্স।

ভাচাউ থেকে ঘুরে আসুন হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন ধোলাভিরা। যাতায়াত ৩০০ কিমি।

সপ্তম দিন – রাত্রিবাস মাণ্ডবী।

mandvi beach
মান্ডবী সৈকত। ছবি সৌজন্যে ট্রোভার।

ভাচাউ থেকে মাণ্ডবী দূরত্ব ১৩০ কিমি। কচ্ছ উপসাগরের তটে মাণ্ডবী। সৈকতশহর মাণ্ডবীতে দেখুন বিজয়বিলাস প্যালেস, নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত।

অষ্টম দিন – রাত্রিবাস ভুজ।  

মাণ্ডবী থেকে আসুন ভুজ। কিন্তু ঘুরপথে। প্রথমে যান ভারতের শেষ প্রান্ত কোটেশ্বর, (কোটিলিঙ্গেশ্বরের মন্দির) নারায়ণ সরোবরদূরত্ব ১৪১ কিমি। নারায়ণ সরোবরে কিছুক্ষণ কাটিয়ে চলুন লাখপত (দুর্গনগরী, গুরু নানকের স্মৃতিধন্য)। দুরত্ব ৩৩ কিমি। লাখপাত থেকে আসুন মাতা নো মাঢ়। দূরত্ব ৪১ কিমি। দর্শন করুন মা আশাপুরাকে। এখান থেকে চলে আসুন ভুজ। মাণ্ডবী থেকে মোট দূরত্ব ৩১২ কিমি।

koteshvar
কোটেশ্বর।

নবম দিন – রাত্রিবাস ভুজ।

ভুজে দেখে নিন আলামপন্না দুর্গে রাও লাক্ষা প্রাসাদ, মহারাও প্রাসাদ আয়না মহল, হামিরসর লেকের পুবে শারদ বাগ প্যালেস, প্রাগ মহল প্রাসাদ, লেকের দক্ষিণ পুবে কচ্ছ মিউজিয়াম ইত্যাদি

kala dungar
কালা দুঙ্গার। ছবি সৌজন্যে হিল টেম্পলস।

দশম দিনভুজ থেকে চলুন সাদা রন দেখতে। জায়গার নাম ধোরদোদূরত্ব ৮০ কিমি। ধোরধো থেকে যেতে পারেন কচ্ছের সর্বোচ্চ পর্বত কালো দুঙ্গার দেখতে। দূরত্ব ৪৮ কিমি। উচ্চতা ৪৬২ মিটার। সন্ধ্যায় ফিরে আসুন ভুজ। মোট দূরত্ব হবে ২১৭ কিমি। রাত্রিবাস ভুজ।

একাদশ দিন – ঘরে ফেরা।

ভুজ থেকে সরাসরি কলকাতা ফিরতে পারেন। ভুজ-শালিমার এক্সপ্রেস প্রতি মঙ্গলবার দুপুর ২.২০ মিনিটে ভুজ থেকে ছেড়ে শালিমার পৌঁছোয় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায়। গান্ধীধাম থেকেও ফেরার ট্রেন ধরতে পারেন। গর্ভ এক্সপ্রেস প্রতি শনিবার বিকেল ৫:৪০-এ ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় সোমবার দুপুর ১:০৫-এ। ভুজ থেকে গান্ধীধাম ৫৯ কিমি।

ভুজ থেকে আমদাবাদ ফিরে সেখান থেকেও হাওড়ার ট্রেন ধরতে পারেন। দূরত্ব ৩৩৩ কিমি। সে ক্ষেত্রে এক রাত আমদাবাদে থেকে পরের দিন ট্রেন ধরুন।

ভুজ থেকে সরাসরি মুম্বই ফেরার দৈনিক ট্রেন আছে। ভুজ থেকে দিল্লি ফেরার ট্রেন বরেলি এক্সপ্রেস, সপ্তাহে চার দিন। না হলে অমদাবাদ হয়ে দিল্লি ফিরুন।

বিমানেও অমদাবাদ থেকে দেশের যে কোনো জায়গায় ফিরতে পারেন।

কী ভাবে ঘুরবেন

(১) অমদাবাদের স্থানীয় দ্রষ্টব্য এবং লোথাল ও নল সরোবর (যদি সময় করে উঠতে পারেন) গাড়ি ভাড়া করে নিন। রাজ্য পর্যটন সারা দিনের ট্যুরে অমদাবাদ ঘোরায় কিনা খোঁজ করে নিন  ০৭৯-২৬৫৭৮০৪৪/২৬৫৭৮০৪৬/২৬৫৮৯১৭২।

(২) ভাচাউ থেকে ধোলাভিরা চলুন গাড়ি ভাড়া করে।

road to dholavira
ধোলাভিরার রাস্তা। ছবি সৌজন্যে মিডিয়াম.কম।

৩) ভাচাউ থেকে দু’ দিনের জন্য গাড়ি নিয়ে মাণ্ডবীতে রাত কাটিয়ে পরের দিন কোটেশ্বর-লাখপত-মাতা নো মাঢ় ঘুরে ভুজে এসে গাড়ি ছেড়ে দিন।

(৪) ভুজে ঘুরুন স্থানীয় যানবাহনে। ধোরদো, কালো দুঙ্গার যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করে নিন।

কোথায় থাকবেন

একমাত্র অমদাবাদ ছাড়া কোথাওই গুজরাত পর্যটনের কোনো হোটেল নেই। অমদাবাদে গান্ধী আশ্রমের উলটো দিকে রয়েছে গুজরাত পর্যটনের হোটেল তোরণ গান্ধী আশ্রম। অনলাইনে বুক করার জন্য লগইন করুন www.gujarattourism.com । এ ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি হোটেল এবং রিসোর্ট। হোটেল বুকিং-এর একাধিক ওয়েবসাইট থেকে তা বুক করতে পারেন। শুধু ধ্রানগাধরায় থাকার চেষ্টা করবেন দেবজিভাই ধামেচার ইকো ক্যাম্পে। বিভিন্ন রকম কটেজ আছে এখানে। ধ্রানগাধরায় সাফারির ব্যবস্থা করে দেবেন দেবজিভাই নিজে। যোগাযোগ ৯৮২৫৫৪৮০৯০। ওয়েবসাইট www.littlerann.com

২) উপকূল গুজরাত

এই ভ্রমণটি রাজকোট থেকে শুরু করুন।

কলকাতা থেকে রাজকোটের জন্য রয়েছে সাঁতরাগাছি-পোরবন্দর সাপ্তাহিক কবিগুরু এক্সপ্রেস, প্রতি রবিবার রাত ৯:২৫-এ ছেড়ে রাজকোট পৌঁছোয় মঙ্গলবার বিকেল ৩:২৮-এ। রয়েছে হাওড়া-ওখা এক্সপ্রেস। প্রতি মঙ্গল, শুক্র এবং শনিবার হাওড়া থেকে রাত ১০:৫০-এ ছেড়ে রাজকোট পৌঁছোয় তৃতীয় দিন দুপুর ১.২৬ মিনিটে।

দিল্লি থেকেও দৈনিক ট্রেন নেই। সাপ্তাহিক, দ্বি-সাপ্তাহিক ট্রেন, ২৪ ঘণ্টা মতো সময় লাগে। দুপুরের মধ্যে রাজকোটে পৌঁছোনো যায়, এমন ট্রেন বেছে নিন।

মুম্বই থেকে আসার দু’টি ভালো ট্রেন। সাউ জনতা এক্সপ্রেস মুম্বই সেন্ট্রাল থেকে রোজ বিকেল ৫.১০-এ ছেড়ে পরের দিন সকাল ৬.৪৫-এ রাজকোটে পৌঁছোয়। সৌরাষ্ট্র মেল ছাড়ে মুম্বই সেন্ট্রাল থেকে রোজ রাত ৯.৩৫-এ, রাজকোটে পৌঁছোয় সকাল ১০.১০-এ।

ramkrishna mission ashram, rajkot
রাজকোটে রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম। ছবি সৌজন্যে আরকেএমরাজকোট.অর্গ।

প্রথম দিন – রাত্রিবাস রাজকোট।

জাদেজা রাজপুতদের গড়া রাজকোটে দেখে নিন জুবিলি গার্ডেন, ওয়াটসন মিউজিয়াম, গান্ধীজির বাড়ি (ছেলেবেলা কেটেছিল), রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম (বেলুড় মঠের রেপ্লিকা), লালপরী লেক, আজি বাঁধ (ভাবনগরের পথে ৮ কিমি) ইত্যাদি।

দ্বিতীয় দিন – সকালের দিকটা রাজকোটে কাটিয়ে বিকেল ৩.১০-এর অমদাবাদ-সোমনাথ এক্সপ্রেস ধরে ৫.৩৬ মিনিটে পৌঁছে যান জুনাগড়। রাজকোট থেকে বাস আধ ঘণ্টা অন্তর, ১০২ কিমি রাস্তা, ঘণ্টা তিনেক লাগে। গাড়ি ভাড়া করেও আসতে পারেন। রাত্রিবাস জুনাগড়

তৃতীয় দিন – রাত্রিবাস জুনাগড়

জুনাগড়ে দেখে নিন

উপারকোট পাহাড়ে জুনাগড় ফোর্ট। দুর্গে দেখুন বেশ কিছু বৌদ্ধ গুম্ফা, নওগড় ভাভ ও আধি চাধি ভাভ (স্টেপ ওয়েল), বিশাল কামান নিলাম তোপ, জামি মসজিদ, অশোকের সময়ের গুহা

girnar hills
গিরনার পাহাড়। ছবি সৌজন্যে গোসাহিন.কম।

গিরনার পাহাড়ে ওঠার পথে দেখুন অশোকের শিলালিপি

তা ছাড়া দেখে নিন বাজেশ্বরী মন্দির, দামোদর কুণ্ড, উনিশ শতকের নবাবি প্রাসাদ রংমহল, জুনাগড় নবাবদের রাজপ্রাসাদ মহাবত মকবরা, নবাবদের গড়া মনোরম উদ্যান শখের বাগ ও চিড়িয়াখানা (রাজকোট রোডে সাড়ে তিন কিমি দূরে) ইত্যাদি।

চতুর্থ দিন – রাত্রিবাস সাসন গির।

জুনাগড় থেকে প্রায় ৬০ কিমি দূরের গির আসার জন্য বাস রয়েছে। গাড়ি ভাড়া করে আসতে পারেন। শেয়ার ট্যাক্সিও মেলে।

gir forest
গিরে সিংহ দর্শন। ছবি সৌজন্যে দ্যআর্থসাফারি.কম।

গিরে বন দফতরের ব্যবস্থাপনায় সাফারি করুন। ঘুরে আসুন ১৩ কিমি দূরের দেবালিয়া সাফারি পার্কও।

পঞ্চম দিন – সকালে আর একটা সাফারি করে চলুন দিউ। রাত্রিবাস দিউ

ষষ্ঠ দিন – রাত্রিবাস দিউ

সাসন গির থেকে সকাল ১০.৪৭-এর প্যাসেঞ্জার ট্রেন বিকেল ৩টেয় পৌঁছে দেয় দিউ থেকে আট কিমি দূরে দেলওয়াদা। স্টেশন থেকে দিউ যাওয়ার হরেক ব্যবস্থা। বাস বা গাড়ি ভাড়া করেও দিউ আসতে পারেন, দূরত্ব ৯০ কিমির মতো।

nagoa each, diu
নাগোয়া সৈকত, দিউ। ছবি সৌজন্যে কম্পাসটুরিজম.কম।

তিন দিকে আরব সাগর আর উত্তর দিকে ব্যাকওয়াটারে ঘেরা দ্বীপভূমি দিউ। দিউয়ের মূল আকর্ষণ এর প্রকৃতি। দেখে নিন পরিখা ঘেরা দুর্গ ও তার ভিতরের কারাগার ও মিউজিয়াম। দুর্গের উপর থেকে সাগর ও দিউ শহরকে দেখুন। মোটরবোটে চলুন পানিকোটা সমুদ্রদুর্গ। ঘুরে আসুন নাগোয়া বিচ, জলন্ধর বিচ (লাগোয়া পাহাড় চুড়োয় মন্দির), চক্রতীর্থ বিচ, আমেদপুর মান্ডভি বিচ। দেখে নিন শহিদস্মারক মারওয়ার, সেন্ট টমাস, সেন্ট পলস এবং সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চ। শহর থেকে ৪ কিমি দূরে গঙ্গেশ্বর শিব। জোয়ারের জল পা ধুয়ে দিয়ে যায় শিবের।

সপ্তম দিন – রাত্রিবাস সোমনাথ।

সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন দিউ থেকে। বাস চলে, তবে বেশ ভিড় হয়। গাড়ি ভাড়া করে সোমনাথ পৌঁছে যান প্রাতঃরাশের আগে। দূরত্ব ৮৫ কিমি। 

somnath temple
সোমনাথ মন্দির। ছবি সৌজন্যে টেম্পলডায়েরি.কম।

সোমনাথে দেখে নিন-

সোমেশ্বর মহাদেব মন্দির, জ্যোতির্লিঙ্গ। রাত ৮টায় মন্দির প্রাঙ্গণে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শোবল্লভঘাট থেকে সূর্যাস্ত। অহল্যাবাঈয়ের গড়া পুরোনো সোমনাথ মন্দির। প্রভাস পাটন মিউজিয়াম (বুধ ও ছুটির দিন বন্ধ)। পরশুরামের তপোভূমি। সরস্বতী, কপিলা ও হিরণ্য নদীর ত্রিবেণী সঙ্গম বা প্রভাস তীর্থ ভালুকা তীর্থ, কথিত যেখানে ব্যাধের তীরে বিদ্ধ হয়েছিলেন কৃষ্ণ।

kirti mandir, porbandar
কীর্তি মন্দির, পোরবন্দর। ছবি সৌজন্যে ইউটিউব।

অষ্টম দিন – গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে সোমনাথ থেকে পোরবন্দর হয়ে চলুন দ্বারকা। দূরত্ব ২৩০ কিমি। রাত্রিবাস দ্বারকা

পথে দেখে নিন পোরবন্দরে গান্ধীজির জন্মভিটে ‘কীর্তিমন্দির’, সুদামা প্রাসাদ, চোরবাদ সাগরবেলা

নবম দিন  – রাত্রিবাস দ্বারকা।

দ্বারকায় দেখে নিন – 

dwarkadheesh temple, dwarka
দ্বারকাধীশ মন্দির, দ্বারকা। ছবি সৌজন্যে গুজরাটএক্সপার্ট.কম।

দ্বারকার মূল আকর্ষণ গোমতী তটে দ্বারকাধীশ রণছোড়জির মন্দির, গোমতী নদীতে ঘেরা দ্বীপে কৃষ্ণ মন্দির, রণছোড়জির মন্দিরের দক্ষিণ দ্বার দিয়ে বেরিয়ে ৫৬ ধাপ নেমে গোমতী দেবীর মন্দির, গোমতী-নারায়ণ সঙ্গমে সঙ্গমনারায়ণ মন্দির, লাইট হাউস, পঞ্চপাণ্ডবের নামে মিষ্টি জলের পাঁচটি কুয়া তথা পঞ্চনদ তীর্থ, সামান্য দক্ষিণে লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, ভদ্রকালী মন্দির, মীরাবাঈ মন্দির, তারকেশ্বর সাগরবেলা ও শংকরাচার্যের সারদা মঠ।

দশম দিন – সক্কালেই চলুন বেট দ্বারকা। গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়ুন। পথে দেখে নিন দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম নাগেশ্বর, গোপী তালাও, রুক্মিণীদেবীর মন্দির। দেখে পৌঁছে যান ৩২ কিমি দূরে ওখা, সেখান থেকে নৌযাত্রায় বেট দ্বারকা। ওখা শহরে ঢোকার মুখে বেট দ্বারকার ফেরিঘাট।  

ferry to bet dwarka
বেট দ্বারকার পথে। ছবি সৌজন্যে ইন্ডিয়ামাইক.কম।

বেট দ্বারকা ঘুরে এসে ওখা থেকে পৌনে ৩টের ভাবনগর প্যাসেঞ্জার ধরে ৬.২৬-এ পৌঁছে যান জামনগর। ওই ট্রেন ধরতে না পারলে রাত্রি ৮.০৫-এর ওখা-সোমনাথ এক্সপ্রেস ধরে রাত্রি ১০.৩২-এ পৌঁছে যান জামনগর। ওখা থেকে বাস ও গাড়ি ভাড়া করেও আসতে পারেন জামনগর, দূরত্ব ১৫০ কিমি। রাত্রিবাস জামনগর।

একাদশ দিন ও দ্বাদশ দিন – রাত্রিবাস জামনগর।

শীতকালে জামনগরের প্রশস্তি তার পরিযায়ী পাখির জন্য। তাই দু’টো পুরো দিন রাখা হয়েছে জামনগরের জন্য।

জামনগরে প্রথম দিন দেখে নিন – 

লাখোটা লেকের মাঝে লাখোটা প্রাসাদ ও মিউজিয়াম। পাথরের সেতুতে পারাপার। লেকের এক পাশে মাছভবন প্রাসাদ, লেক লাগোয়া ড. অম্বেডকর উদ্যান। চণ্ডীবাজারে আদিনাথ ও শান্তিনাথের মন্দির। স্বামীনারায়ণ মন্দির

১৫ কিমি দূরে খিজারিয়া বার্ড স্যাংচুয়ারি ও ২৮ কিমি দূরের বালাছড়ি সমুদ্র সৈকত

দ্বিতীয় দিনে চলুন – 

narara marine national park
নারারা মেরিন ন্যাশনাল পার্ক। ছবি সৌজন্যে ইউটিউব।

৫৫ কিমি দূরে দ্বারকার পথে নারারা মেরিন ন্যাশনাল পার্ক।

ত্রয়োদশ দিন – ঘরে ফেরা

জামনগর থেকে সরাসরি হাওড়া আসার ট্রেন প্রতি বুধ, বৃহস্পতি ও রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ। দিল্লি আসার ট্রেন মঙ্গল ও শনিবার। মুম্বই আসার গোটা তিনেক দৈনিক ট্রেন আছে।

মনে রাখবেন

(১) হাওড়া বা দিল্লি থেকে রাজকোট বা রাজকোট থেকে হাওড়া/দিল্লি রোজ ট্রেন নেই। সুতরাং ট্রেনের দিন অনুযায়ী যাওয়া-আসার দিন ঠিক করে নিলে ভ্রমণের মেয়াদ কমতে-বাড়তে পারে। সেই ভাবে বিভিন্ন জায়গায় থাকার মেয়াদ একটু এ-দিক ও-দিক করে নিতে হতে পারে। ট্রেনের সময় জানার জন্য দেখে নিন erail.in ।

(২) গিরে পৌঁছে যদি সে দিন বিকেলেই সাফারি করেন, তা হলে পরের দিন সকালে চলুন দেবালিয়া সাফারি পার্ক। সুনিশ্চিত ভাবে সিংহ দেখানোর ব্যবস্থা। গির অরণ্যে সাফারির সময় সকাল ৬টা থেকে ৯টা, সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা এবং বিকেল ৩টে থেকে সন্ধে ৬টা। দেবালিয়া সাফারি পার্ক খোলা সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা, বিকেল ৩টে থেকে ৫টা। বুধবার বন্ধ। অনলাইনে সাফারি বুক করুন www,girlion.in। সাফারি শুরু হওয়ার আধ ঘণ্টা আগে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে যেতে হয়।

আরও পড়ুন শীতে চলুন /২ : থর ঘুরে আরাবল্লি হয়ে জঙ্গলের রাজস্থানে

(৩) গিরনার পাহাড়ে ৯৯০০ সিঁড়ি ভেঙে বা পালকি করে বা ঘোড়ায় চেপে যদি উঠতে চান তা হলে আরও একটা দিন জুনাগড়ে থাকতে হবে। জৈনদের তীর্থস্থান গিরনারের মাথায় রয়েছে নেমিনাথ ও মল্লিনাথের মন্দির। তা ছাড়া আরও নানা মন্দির।

(৪) বিভিন্ন জায়গায় মন্দির, মিউজিয়াম, প্রাসাদ ইত্যাদি খোলার সময় আগাম জেনে নিন। তবে সোমনাথে মন্দির সকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত খোলা।

(৫) সোমনাথে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো অবশ্যই দেখবেন।

(৬) দ্বারকায় রণছোড়জির মন্দির খোলা সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা। মাঝে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বন্ধ।

আরও পড়ুন শীতে চলুন/১: গড়-জঙ্গল-হাভেলির রাজস্থান

(৭) নারারা মেরিন ন্যাশনাল পার্ক দেখার জন্য অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে Conservator of Forest, Marine National Park, Ganjiwada Nagar, Nagnath Gate, Van Shankul, Jamnagar থেকে। যোগাযোগ ০২৮৮-২৬৭৯৩৫৫/২৬৭৯৩৫৭। পার্কের গেটেই পার্ক অনুমোদিত গাইড পাওয়া যায়। অবশ্যই সঙ্গে নেবেন। যে হোটেলে থাকবেন সেখানে জেনে নেবেন ভাটা কখন শুরু হবে। ভাটা শুরু হওয়ার দু’ থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই পার্কে পৌঁছোনো চাই।

কী ভাবে ভ্রমণ করবেন

(১) এই সূচি যে হেতু রাজকোটে শুরু হয়ে জামনগরে শেষ, তাই রাজকোট থেকে একটা গাড়ি ভাড়া করে জামনগরে ছেড়ে দিতে পারেন। তবে পয়েন্ট টু পয়েন্ট গাড়িও করতে পারেন। গুজরাতে বাস পরিষেবা ভালো। বাসে বা পয়েন্ট টু পয়েন্ট গাড়িতে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গেলে স্থানীয় দ্রষ্টব্য স্থানীয় যান ভাড়া করে দেখে নিন।

(২) গিরে সকালে সাফারি করলে সাসন গির স্টেশন থেকে সকালের ট্রেন ধরা মুশকিল। সে ক্ষেত্রে বাস বা গাড়ি ভাড়া করে আসুন দিউ।

কোথায় থাকবেন

(১) গুজরাতের অধিকাংশ জায়গাতেই রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগমের হোটেল নেই। এই ভ্রমণসূচিতে শুধুমাত্র দ্বারকা এবং জুনাগড়েই যথাক্রমে পর্যটন উন্নয়ন নিগমের টুরিস্ট বাংলো এবং হোটেল গিরনার রয়েছে। অনলাইনের বুক করার জন্য লগইন করুন  www.gujarattourism.com তবে বাকি সব শহরেই বেসরকারি হোটেল এবং বিচ রিসোর্ট আছে। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে এই সব হোটেলের সন্ধান পেয়ে যাবেন।

sinh sadan forest lodge
সিংহ সদন ফরেস্ট লজ। ছবি সৌজন্যে সিমপ্লিঅফবিট.কম।

(২) গিরে যদি সরকারি ব্যবস্থাপনায় সিংহসদন ফরেস্ট লজে থাকতে চান তা হলে যোগাযোগ — Deputy Conservator of Forest, Wild Life Section, Sasangir, Dist – Junagadh 362135. ph 02877-285541/285540 । গিরে অনেক বেসরকারি হোটেলও আছে।

(৩) দিউয়ের হোটেল ও তার বুকিং সম্পর্কে বিশদে জানার জন্য দেখুন www.diutourism.com

sagar darshan guesthouse
সাগর দর্শন অতিথিগৃহ, সমনাতজ। ছবি সৌজন্যে সোমনাথ.ওর্গ।

(৪) সোমনাথে শ্রী সোমনাথ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় লীলাবতী অতিথি ভবন, মাহেশ্বরী অতিথি ভবন, সাগর দর্শন গেস্ট হাউস এবং তন্না অতিথিগ্রুহতে থাকার সুবন্দোবস্ত আছে। অনলাইন বুকিং www.somnath.org

0 Comments
Share
a-weekend-visit-to-acchipur

ঋত্বিক দাস

১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দের কোনো এক দিন৷ বজবজ থেকে কয়েক কিলোমিটার দক্ষিণে গঙ্গার ঘাটে নোঙর করল এক বিশাল বাণিজ্যতরী৷ সে দিন সেই আগন্তুক বাণিজ্যতরীটি দেখে তৎকালীন জমিদারমশাই তৎক্ষণাৎ তরীটি আটক করার নির্দেশ দিলেন৷ বাণিজ্যতরী থেকে নেমে এলেন ছোটো ছোটো চোখবিশিষ্ট এক ব্যক্তি। জমিদারের নায়েব তাঁর কাছে জানতে, তাঁদের জমিদারিতে এ ভাবে পা রাখার উদ্দেশ্য কী। প্রত্যুত্তরে মানুষটির কাছ থেকে জবাব এল, “আমি মি: টং আছিও, তোমাদের জন্য চা নিয়ে এসেছি।” জমিদারবাহিনী তো শুনে থ। এই ‘চা’ আবার কী বস্তু৷ তখন টং আছিও সেই মুহূর্তে জাহাজের কর্মীদের সাহায্যে সবাইকে চা বানিয়ে খাওয়ালেন৷ খেয়ে সবাই বুঝলেন কী অদ্ভুত পানীয়! খাওয়ামাত্র শরীর চাঙ্গা।

এমন অদ্ভুত বস্তুর মাধ্যমে টং আছিও সবার মন জিতে নিলেন আর ভারতের মাটিতে আরম্ভ হল চা-পানের অধ্যায়৷শুধু সে দিন ভারতীয় জমিদাররাই নন, তৎকালীন গভর্ণর লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংসের মুখেও এই চা নামক বস্তুটির স্বাদ পৌঁছে গেল৷ টং আছিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ হল হেস্টিংস সাহেবের। আছিও সাহেব ভারতের মাটিতে চিনিকল বসানোর বাসনা ব্যক্ত করলেন তাঁর কাছে৷ আছিও সাহেবকে চিনিকল তৈরি করার জন্য বজবজের কাছে গঙ্গার ধারে বার্ষিক ৪৫ টাকার বিনিময়ে ৬৫০ একর জমি প্রদান করা হল৷ এর পর টং আছিও আবার দেশে ফিরে কয়েকশো চিনা কর্মচারী-সহ চা তৈরির মেসিন নিয়ে আসেন এবং গঙ্গার ধারের সেই জমিতে চিনিকল বসিয়ে চিনি উৎপাদন শুরু করেন৷ এ ভাবে শুরু হয়েছিল ভারতে প্রথম চিনি উৎপাদন। এর আগে ভারতীয়রা চিনি সম্পর্কে অবগত ছিল না৷ এ ছাড়া আছিও সাহেব ভারতীয় চাষিদের দিয়ে নীলচাষও করাতেন৷

grave of tong achhio
টং আছিও সাহেবের সমাধি, অছিপুর।

যখন এই সব ঘটনা ঘটছে তখন কলকাতার শহরে গাড়ি বলতে ছিল ইংরেজ সাহেব আর বিত্তবান বাবুদের ব্যবহার করার জন্য জুড়িগাড়ি, যাতে চড়া ছিল সাধারণ মানুষের স্বপ্নাতীত৷ টং আছিও সাধারণ মনুষের যাতায়াত অতি স্বল্প খরচে সুগম করতে আর্ কিছু মানুষের রুচিরোজগারের ব্যবস্থা করতে কলকাতার রাস্তায় প্রথম টানা-রিকশার প্রবর্তন করেন৷ আছিও সাহেবের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল কলকাতার রাস্তায় টানা-রিকশার পথচলা ৷

টং আছিও ভারতে দ্বিতীয় বারের জন্য এসে আর ফিরে যাননি৷ আছিও সাহেব সারা জীবন অবিবাহিত ছিলেন৷ তাঁর দেখাশোনা করতেন টেলিবিবি নামে এক মুসলিম মহিলা৷ শেষ জীবনেও তিনি আছিও সাহেবের সেবা করে গিয়েছেন৷ মৃত্যুর পর আছিও সাহেবকে গঙ্গার পারে তাঁর চিনিকলের কাছে সমাধিস্থ করা৷ কয়েক বছর বাদে টেলিবিবিও দেহ রাখেন৷ আছিও সাহেবের সঙ্গে দেশ থেকে এসে তাঁর কর্মচারী ও সঙ্গীরাও ভারতের মাটিতে পাকাপাকি ভাবে বসবাস শুরু করেন৷ তবে চিনা সাহেবের মৃত্যুর পর চিনিকল বন্ধ হয়ে যায়। কলের সব কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা রুচি রোজগরের টানে বজবজের ধারের সেই জায়গা ছেড়ে কলকাতার কিছু জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন৷ এর মধ্যে নাম করতে হয় অধুনা ট্যাংরা অঞ্চলের চিনাপাড়া৷ এখানে চিনা সম্প্রদায়ের মূল রুজি রেস্তোরাঁ ব্যবসা৷

chinese god khodakhudi
চিনা দেবতা পাকুমপাহ তথা খোদাখুদি, অছিপুর।

চিনা সাহেব টং আছিওর পদার্পণের সূত্রে বজবজের কাছে গঙ্গার ধারের সেই জায়গা আজ অছিপুর নামে পরিচিত। সেই অছিপুরেই পা রাখলাম একদিন। প্রথমেই গেলাম চিনেম্যানতলায়। যে জায়গায় আছিও ও তাঁর সঙ্গীরা ভারতের মাটিতে প্রথম পা রাখেন বর্তমানে সেই স্থানটিই চিনেম্যানতলা নামে পরিচিত৷ কেউ কেউ আবার স্থানটিকে চিনেকুঠিতলা বলেও ডেকে থাকেন৷ নামে ‘চিনে’ থাকলেও বর্তমানে এখানে কোনো চিনার বাস নেই। তবে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির ১২ থেকে ২৪ তারিখ চিনা নববর্ষ উপলক্ষ্যে এখানে জাঁকালো উৎসব হয়। সেই সময়ে দেশের নানা প্রান্ত, এমনকি বিদেশ থেকেও চিনারা এখানে আসেন৷ চিনেম্যানতলার প্রধান দ্রষ্টব্য ‘পাকুমপাহ’র মন্দির। সেই মন্দিরের বিগ্রহ দু’টিকে স্থানীয় মানুষ খোদা-খুদি নামে ডাকেন৷ এই মন্দিরটি আছিও সাহেব নির্মাণ করান৷

আছিও সাহেবের সময় এই জায়গা সুন্দরবন অঞ্চলের মধ্যেই ছিল। তাই স্বাভাবিক ভাবেই এখানে প্রচুর বাঘের উপদ্রব ছিল৷ বাঘদেবতাকে তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে আছিও সাহেব দক্ষিণ রায়ের মন্দির স্থাপন করেন৷ মন্দিরটি আকারে ছোটো চতুষ্কোণ-বিশিষ্ট। ভেতর কোনো মূর্তি নেই। ঘটকেই দেবতা মনে করে পুজো করা হয়৷ পরবর্তী কালে আছিও সাহেব দক্ষিণ রায়ের মন্দিরের সম্মুখ ভাগে চৈনিক দেবদেবী ‘পাকুমপাহ’ (খোদাখুদি)-র মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন৷ স্থানীয় মানুষজন বলেন, আগে এই দেবদেবীর মূর্তি সোনার ছিল। মৃত্যুর আগে আছিও সাহেব এক স্বপ্নাদেশ পান। সেই স্বপ্নাদেশ পেয়ে সোনার মূর্তি সমুদ্রে নিক্ষেপ করে চন্দন কাঠের মূর্তি মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন৷ মন্দিরের গর্ভগৃহ আয়তনে ছোটো হলেও খুব যত্নে সাজানো৷ মূল মন্দিরের সামনে প্রার্থনাকক্ষ। সেখানে লম্বা একটি টেবিলে সারি সারি মোমবাতি ও ধুপকাঠি জ্বালানোর ব্যাবস্থা, যেগুলি ফেব্রুয়ারি মাসে  চিনা নববর্ষের সময় সুশোভিত হয়ে ওঠে৷ মন্দিরের ডান দিকে বিশ্রামকক্ষ। সেখানে এক পাশের দেওয়ালে মন্দির সংস্কারে সাহায্যদাতাদের চিনা হরফে শ্বেতপাথরের ওপর লেখা৷ মন্দিরের বাঁ দিকের কোণে চিনাদের আরেক দেবতা কনফুসিয়াসের মন্দিরকক্ষ৷ এই কক্ষের সামনে আজও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে আছিও সাহেবের বাণিজ্যতরীর একটি অংশ৷ পুরো মন্দিরচত্বর পাঁচিল দিয়ে ঘেরা৷ মূল দরজাটি বেশ সুন্দর৷ সামনে বড়ো মাঠের মতো ফাঁকা জায়গা। মাঠের পাঁচিলের আরেক পাশে ছিল আছিও সাহেবের চিনির কল, যা আজ সম্পূর্ণ অবলুপ্ত৷ সেই জায়গায় গড়ে উঠেছে ঘনবসতি৷ আর মন্দিরের পেছনে যে পুকুরপাড়, সেখানেই ছিল আছিও সাহেবের নীলচাষের খেত৷ পুরো মন্দিরচত্বর গাছগাছালিতে ছাওয়া, সুন্দর পরিবেশ৷ স্নিগ্ধতা, শান্তি এখানে পরম প্রাপ্তি৷

confusious in temple
মন্দিরকক্ষে কনফুসিয়াস, অছিপুর।

মন্দিরের মুল গেট দিয়ে বেরিয়ে ডান হাতে কিছুটা পথ গিয়ে গঙ্গা৷ গঙ্গা এখানে বেশ চওড়া, অপর পারে উলুবেড়িয়া৷ এই গঙ্গার পাড় ধরে বাঁ দিকে কিছুটা গেলে রয়েছে আছিও সাহেবের সমাধি৷ সমাধিস্থলটি নির্জন। জোয়ারের সময়ে গঙ্গার জলের ছলাৎ ছলাত শব্দে মনটা ভরে ওঠে৷ জীবনের সমস্ত কষ্ট-বেদনা, না-পাওয়া, সব মিটিয়ে এক অনাবিল আনন্দে যেন পরিপূর্ণ পরিপুর্ন করে দেয় এই স্থান৷ সমাধিবেদিটি সুন্দর করে বাঁধানো, লাল রঙের। এখানে গঙ্গার সেই সুন্দর ধ্বনি শুনতে শুনতে চিরনিদ্রায় রয়েছেন আছিও সাহেব৷

আছিও সাহেবের সমাধি ছেড়ে দক্ষিণমুখী আরও পনেরো মিনিট হাঁটার পর বাঁ হাতে পড়ল নবাবি আমলে নির্মিত এবং বর্তমান আমলে ধ্বংসপ্রাপ্ত বারুদকল৷ না, না পারলে হাঁটবেন না। অছিপুর বেড়াতে এসে রিকশা চেপে ঘুরে যাবেন এই বারুদকলটি৷ তবে গঙ্গার পাড় বরাবর বেশ কিছুটা সময় ধরে হেঁটে মনকে তৃপ্ত করে নেওয়া যায়৷ এই হল আজকের অছিপুর৷

ফেরার পথে চড়িয়াল মোড় থেকে অটো বা ম্যজিক গাড়িতে করে বাওয়ালি ট্রেকার স্ট্যান্ডে নেমে বাঁ হাতি পথে মিনিট পাঁচেক পথ হেঁটে ঘুরে নিতে পারেন বাওয়ালি রাজবাড়ি৷

কী ভাবে যাবেন

শিয়ালদহ থেকে বজবজ লোকালে বজবজ স্টেশন। সেখান থেকে অছিপুরের অটোতে বড়োবটতলা নেমে বাঁহাতি রাস্তায় হেঁটে ১০ মিনিট বা রিকশায় ৫ মিনিটে পৌঁছে যান চিনেম্যানতলা৷ আর ধর্মতলা থেকে ৭৭ নং বাসে চড়ে সরাসরি পৌঁছে জেট পারেন অছিপুর বড়োবটতলা৷

ছবি: লেখক

0 Comments
Share