পুজোয় ক’টা দিন নিরিবিলিতে কাটাতে চান? গন্তব্য হোক দরিয়াপুরের মৃন্ময়ী কুটির

দরিয়াপুর, পূর্ব মেদিনীপুর: পুজোর কড়া নাড়ছে। আর মাত্র কয়েক দিন পরেই মহালয়া। এখন অবশ্য মহালয়ার আগে থেকেই পুজো পুজো ভাবটা শুরু হয়ে যায়। আর পুজো মানেই তো বেড়ানো। ভ্রমণপ্রিয় বাঙালি এই পুজোটার জন্যই অপেক্ষা করে বসে থাকেন, বেড়াতে যাওয়ার জন্য।

কিন্তু অনেক ভ্রমণপ্রিয় মানুষ এমন আছেন, যাঁরা আগে থেকে কিছু পরিকল্পনা করে উঠতে পারেন না। অথচ, শেষ মুহূর্তে যখন ভ্রমণের ইচ্ছে হয়, তখন বেশির ভাগ জায়গাই পুরো বুক হয়ে যায়। তখন হাপিত্যেশ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।

তবে এর মধ্যেও কিছু জায়গা এমন থাকে, যেখানে শেষ মুহূর্তেও বুকিং পাওয়া যায়। তেমনই একটি জায়গা হল পূর্ব মেদিনীপুরের দরিয়াপুরের মৃন্ময়ী কুটির ভিলেজ রিসর্ট। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা কপালকুণ্ডলা গল্পের ভাবধারা সমৃদ্ধ এই রিসর্ট, তাই চারপাশে ষোলো আনা বাঙালিয়ানার ছাপ স্পষ্ট।

অনেক দিন পর সবুজ প্রকৃতি ও নিস্তব্দ্ধতার সাথে নিরিবিলিতে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। সঙ্গে আছে মেঠো রাস্তা ও সবুজ ধানক্ষেত। অনেকটা জায়গা নিয়ে সাজানো গোছানো রিসর্ট। এক দিকে আছে নারকেল ও অন্যান্য গাছে ঘেরা বড়ো পুকুর।

বিশাল বাগানে ঘুরে বেড়াতে খুব ভালো লাগবে। বাগানে আছে অনেক বসার জায়গা, বাচ্চাদের খেলার জায়গা, ফল ও ফুলের গাছ এবং রংবাহারি পাতাবাহার। সব মিলিয়ে প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যাওয়ার এক অপূর্ব আয়োজন। নিঃস্তব্ধ সন্ধেবেলায় যখন চারপাশে আলো জ্বলে, সঙ্গে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক, তখন সব মিলিয়ে এক মনোরম গ্রামীণ পরিবেশ তৈরি হয় যা আপনার মনকে মোহময় করে তুলবে।

এখানে রয়েছে এসি এবং নন-এসি দুই ধরনের ঘরই। দু’টি তিন-শয্যা এবং দু’টি দুই-শয্যা ঘর রয়েছে। নিজের পছন্দমতো খাবারের প্যাকেজও বাছাই করে নিতে পারবেন আপনারা।

গ্রাম্য পর্যটন বা Village Tourism এখন নতুন একটা ধারা। এই পর্যটনের মধ্যেই পড়ে ‘Village Trail’ অর্থাৎ গ্রামের পথ ধরে হেঁটে যাওয়া। বাঁধা গতের কোনো পর্যটন সার্কিট নয়, এখানে উদ্দেশ্য থাকে গ্রাম্য জীবনযাপনের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। রিসর্ট থেকে বেরিয়ে গ্রাম্য জীবনযাপন দেখতে দেখতে হেঁটে আসুন পেটুয়াঘাট মৎস্যবন্দর থেকে। এ ছাড়াও, আপনি যেতে পারেন দরিয়াপুর লাইটহাউসেও। লাইটহাউসটি রিসর্টের একেবারে বিপরীতে অবস্থিত, প্রবেশদক্ষিণা ১০টাকা। বিকেল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত লাইটহাউসের একদম ওপরে ওঠা যায়।

পাশাপাশি একটা টোটো বা অটো নিয়ে আপনি ঘুরে আসতে পারেন বাঁকিপুট এবং বগুড়ান সমুদ্রসৈকতও।

কী ভাবে যাবেন?

হাওড়া থেকে ট্রেনে কাঁথি। সেখান থেকে মৃন্ময়ী কুটিরে পৌঁছোনোর জন্য আপনি অটো পেয়ে যাবেন। তবে রিসর্টে আগে থেকে বলে রাখলে পিকআপের জন্য গাড়ির বন্দোবস্ত হয়ে যাবে। তবে একদম শেষ মুহূর্তে এখন হয়তো ট্রেনে টিকিট পাবেন না। সে ক্ষেত্রে কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়ে যাওয়াই সব থেকে উপযুক্ত ব্যবস্থা।

বুকিং-এর জন্য যোগাযোগ

মৃন্ময়ী কুটিরে থাকতে হলে যোগাযোগ করুন Travelism-এর সঙ্গে। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করতে পারেন এই নম্বরে: ৮২৭৬০০৮১৮৯ অথবা ৯৯০৩৭৬৩২৯৬।

আরও পড়তে পারেন

পুজোয় অদূরে ৫ / দেওঘর-মধুপুর-গিরিডি

পুজোয় অদূরে ৪ / শিমুলতলা

পুজোয় অদূরে ৩ / রাঁচি-নেতারহাট-বেতলা

পুজোয় অদূরে ২ / রাঁচি-ম্যাকলাস্কিগঞ্জ

পুজোয় অদূরে ১ / ঘাটশিলা

চোখধাঁধানো স্থাপত্যের প্রাসাদ: উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ, আগরতলা

আরও পড়তে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published.