খুলেছে পুরীর হোটেল, ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকার অনুমতি

  • by

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: রাজ্য সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর সৈকতশহর পুরীর বেশ কিছু হোটেল আবার খুলেছে। তবে এখনও সে ভাবে পর্যটক সমাগম হয়নি। হোটেলমালিকরা আসন্ন রথযাত্রার দিকে চেয়ে আছেন। রাজ্য সরকার যদি রথযাত্রায় অনুমতি দেয়, তা হলে পুরীর হোটেলগুলো তাদের ব্যবসা আবার কিছুটা ফিরে পাবে বলে আশা।    

করোনাভাইরাস জনিত লকডাউনের জেরে প্রায় আড়াই মাস ধরে বন্ধ থাকার পর গত সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে সৈকতশহরে হোটেল খুলেছে। হোটেলের ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। আনুষঙ্গিক সব কিছু নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে। সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে। হোটেল বুকিং শুরু হয়ে গেছে। একজন দু’জন করে পর্যটকও আসতে শুরু করেছেন।   

গত বছর মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ফণী পুরীতে আঘাত হানায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল হোটেল ব্যবসায়। বেশির ভাগ হোটেল মে মাস থেকে অক্টোবর, এই ছ’ মাস বন্ধ ছিল।

“ফণীর আঘাত কাটিয়ে উঠে যখন হোটেল ব্যবসা একটু একটু করে জমতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই চলে এল করোনাভাইরাস অতিমারি। মার্চ মাস থেকে সব হোটেল বন্ধ হয়ে গেল। আমাদের অনুরোধে সরকার হোটেল খোলার অনুমতি দিয়েছে। এখন বেশির ভাগ হোটেলই খুলেছে”, বলছিলেন পুরী হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রামকৃষ্ণ দাস মহাপাত্র।

আরও পড়ুন: সোমবার থেকে খুলছে পশ্চিমবঙ্গ বনোন্নয়ন নিগমের পাঁচটি রিসর্ট

রামকৃষ্ণবাবু জানালেন, নতুন নির্দেশাবলি অনুসারে এক একজন পর্যটক খুব বেশি হলে ৭২ ঘণ্টা পুরীতে থাকতে পারবেন। হোটেলগুলো তাদের মোট ক্ষমতার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত অতিথি রাখতে পারবেন। সমস্ত হোটেলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডাইনিং হলে শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে চলতে হবে। পুরো স্যানিটাইজেশন করে সব হোটেল খোলা হয়েছে।

হোটেলমালিকরা মনে করেন, ৭২ ঘণ্টায় পুরী ভালোই দেখে নেওয়া যায়। কিন্তু এই মুহূর্তে যেটা সব চেয়ে বড়ো সমস্যা সেটা হল, পুরী আসার কোনো সরাসরি ট্রেন নেই। ট্রেনে পুরী আসতে হলে ভুবনেশ্বর বা খুরদা পর্যন্ত আসা যাবে। তার পর সড়কপথে আসতে হবে পুরী। সড়কপথে ভুবনেশ্বর থেকে পুরীর দূরত্ব ৬৯ কিমি। কলকাতা থেকেও গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়া যাবে পুরী, দূরত্ব ৪৯৮ কিমি। তবে যত দিন না সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ শুরু হচ্ছে, তত দিন পর্যটক সমাগম খুব একটা হবে না বলে মনে করেন এক হোটেলমালিক।

তবে পুরীর সব হোটেলমালিকই মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করলে তবেই হোটেলব্যবসা জমবে। তা ছাড়া পুরীর রথযাত্রাও পর্যটক সমাগমের একটা বড়ো মরশুম। সেই রথযাত্রার অনুমতি যদি সরকার দেয়, তা হলে অবস্থার অনেকটাই সুরাহা হবে। আগামী ২৩ জুন রথযাত্রা। সে দিকেই তাকিয়ে আশায় বুক বাঁধছেন পুরীর হোটেলব্যবসায়ীরা।   

Leave a Reply