Category ভ্রমণ কাহিনি

ঘুরতে বেরিয়ে নানা স্মৃতি জমা হয় মনের মধ্যে। সেই সব স্মৃতি হাতড়ে লেখা এই বিভাগের ভ্রমণ কাহিনিগুলি।

রাজভূমি রাজস্থান ২/ সোনার কেল্লার জয়সলমিরে

jaisalmer fort

সঞ্জয় হাজরা আদত নাম জৈসলমের, বাঙালি ডাকে জয়সলমির নামে। জোধপুর থেকে ভোরেই বেরিয়ে পড়লাম জয়সলমিরের উদ্দেশে। আজ পাড়ি দিতে হবে ২৮০ কিলোমিটার। তবে রাজস্থানের পথঘাট অত্যন্ত সুন্দর। সড়কযাত্রায় ধকল কার্যত নেই। ১৭১ কিলোমিটার পথ যাওয়ার পর এল পোখরান – ভারতের…

ফের ডাকল দারিংবাড়ি ২/ তুষারপাতের ভ্রান্ত বিশ্বাস দূর করলাম

শ্রয়ণ সেন “সবাইকে নমস্কার! রান্না ঠিকঠাক ছিল তো?” সবে মাছের ঝোল দিয়ে ভাতটাকে মাখছি, ষাটোর্ধ্ব এক প্রৌঢ়ের আগমন। নিজেই নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন তিনি এখানকার রাঁধুনি। ১৩ জনের ভাত, ডাল, সবজি, দু’টো করে মাছ, সব তিনিই রেঁধেছেন। রাঁধুনি যেচে এসে…

রাজভূমি রাজস্থান ১/ মরুভূমির প্রবেশদ্বার জোধপুরে

সঞ্জয় হাজরা অন্ধকার তখনও কাটেনি। পশ্চিমের সূর্য উঠতে বেশ দেরি করে। ঘড়ির কাঁটায় সকাল প্রায় ছ’টা। পৌঁছে গেলাম জোধপুরে। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতের এক ঐতিহাসিক রাজ্য রাজস্থানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর তথা থর মরুভূমির প্রবেশদ্বার জোধপুর। শেষ হল প্রায়…

ফের ডাকল দারিংবাড়ি ১/ বদলে গিয়েছে কত!

Daringbadi

শ্রয়ণ সেন ‘দার্জলিং অটো স্ট্যান্ড!’ দারিংবাড়ি চৌমাথায় পৌঁছোতেই মনে পড়ে গেল সাত বছর আগের কথা। চৌমাথার এক কোণে একটি অটো স্ট্যান্ড, তার নামই ‘দার্জলিং।’ এ তো একই আধারে দার্জিলিং আর কাশ্মীর। অটো স্ট্যান্ডের সাইনবোর্ডে লেখা দার্জলিং আর লোকের মুখে আদরের…

বিপর্যয় মাথায় নিয়ে পৌঁছোলাম লুংচুর ঠিকানায়

পাপিয়া মিত্র একে একে সকলেই মেজাজ হারাচ্ছে। অনেক আগেই লামাকে বলে দেওয়া হয়েছিল ছোটো গাড়ি নীচে নামিয়ে রাখতে। লামা তা করেনি। মুনথুম হোমস্টের মুখের চারশো মিটার পাথর বিছানো চড়াইপথে ছোটো গাড়ি যাবে না বলে আগের দিন সকালে তা মুল সড়ক…

মেঘভাঙা বৃষ্টি সঙ্গী মুনথুমে

পাপিয়া মিত্র বিজনবাড়ির ব‍্যাম্বু রিসর্টের ৫ নম্বর কটেজের বিছানায় শুয়েই যেন রঙ্গিতকে ছোঁয়া যায়। বরং বলা ভালো এখানে নদী এসে মিশেছে ঘরের দাওয়ায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ মুছে চমকে যেতে হয়েছিল বর্ষার জলে ফুলে ফেঁপে ওঠা রঙ্গিতকে দেখে। আর…

দ্বাদশীর জ্যোৎস্নায় ভেসে যায় বিজনবাড়ি, সঙ্গী রঙ্গিত

পাপিয়া মিত্র ঝিনঝিনে বৃষ্টি মাথায় পাচেং ছাড়লাম। এ বার যাব বিজনবাড়ি। আলুর পরোটা আর ঘরে পাতা টকদই সহযোগে প্রাতরাশ সারলাম। দু’টি রাতদিনের মাঝে কখন যে আমিনার সংসারের একজন হয়ে উঠেছিলাম বুঝতে পারিনি। চিয়াবাড়ির মালিকের গোরু আছে। খেতখামার আর গোরুর দেখভাল…

শ্রাবণ-স্নাত চা বাগিচার সান্নিধ্যে

পাপিয়া মিত্র আবছায়া বাঁশের কুটিরে দীর্ঘ পথের বিশ্রাম। বাইরে শ্রাবণের রিমঝিম সুর। টুকটুক করে ঘরে ঢুকে লাফিয়ে একবারে খাটে। খাট থেকে কোলে। তুলতুলে শরীর নিয়ে কোল ঘেঁষে জায়গা করে নিল। গাল মুখ শুঁকে আরও আদর খাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে বুকের…

সিসামারার পাড়ে, জলদাপাড়াকে চিনলাম অন্য ভাবে

শ্রয়ণ সেন ডাইনিং হল তো না, এ তো ইতিহাসে পড়া সেই প্রস্তরযুগ! টেবিল, চেয়ারগুলো দেখে মনে হচ্ছে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নানা আকারের শিলাখণ্ড। সেখানেই বসে খাওয়াদাওয়া। আদতে টেবিলগুলো শিরীষ গাছের কাণ্ড থেকে তৈরি, আর চেয়ারগুলো বনকাঁঠালের।   খেতে বসে আরও এক…

বিদায় পাহাড়, নেমে এলাম ডুয়ার্সে

শ্রয়ণ সেন ‘চায়ের কাপে তুফান তোলা বাঙালি’ যদি কোনো নামী চায়ের কাফের পাশ দিয়ে যায়, এক বার ঢুঁ মারবেই। আমরাও ব্যতিক্রম নই। ঢুকে পড়েছি মালবাজারের ‘টি মোমেন্টস’ কাফেতে। লাল চা শরীরকে চাঙ্গা করে। পাহাড়ের ঠান্ডা থেকে আচমকা গরমে নেমে কিছুটা…