Browsing Category:ইতিহাস/স্থাপত্য

sirpur-of-chattisgarh

ভ্রমণ অনলাইনডেস্ক: একটা সময় ছিল, যখন মাওবাদী সমস্যায় জর্জরিত ছিল ছত্তীসগঢ়। কিন্তু সে সব এখন কার্যত অতীত। মাওবাদীদের রমরমা অনেকটাই কমে গিয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন মানচিত্রে ছত্তীসগঢ়কে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর সে রাজ্যের সরকার। পর্যটকদের কাছে নতুন নতুন জায়গা তুলে ধরছে ছত্তীসগঢ় পর্যটন।

না, জায়গাগুলো নতুন নয়। বরং ঐতিহাসিক ভাবে এদের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু বছর তিন-চার হল পর্যটকদের কাছে ক্রমশ পরিচয় পাচ্ছে সে জায়গাগুলি। এমনই একটি জায়গা হল সিরপুর।

ছত্তীসগঢ়ে বেড়ানোর জায়গা বলতে আমরা অনেকেই বুঝি জগদলপুর, চিত্রকূট, গাংরেল ইত্যাদি, কিন্তু মহানদীর পাড়ে সিরপুর সত্যিই এক অনন্য জায়গা।

বৌদ্ধ, জৈন এবং হিন্দু ধর্মচর্চার অন্যতম পীঠস্থান ছিল সিরপুর। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত এখানে বৌদ্ধ মনাস্টেরি, জৈন এবং হিন্দু মন্দির গড়ে উঠেছিল। সাম্প্রতিক কালে খননকাজের মধ্যে দিয়ে সেগুলিকে আবার উদ্ধার করা হয়েছে। খননের পরে বেরিয়ে এসেছে ১২টি বৌদ্ধ বিহার, একটি জৈন বিহার, বুদ্ধ এবং মহাবীরের মূর্তি, ২২টি শিব মন্দির এবং ৫টি বিষ্ণু মন্দির। ভূপর্যটক হুয়েন সাং এসেছিলেন এখানে। এই সব সৌধ নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘সিরপুর গ্রুপ অফ টেম্পল্‌স।’ এ ছাড়াও সিরপুরের অন্যতম আকর্ষণ লক্ষ্মণ মন্দির এবং গন্ধেশ্বর মন্দির।

sirpur chattisgarh
মহানদী। সিরপুর।

তবে শুধুমাত্র মহানদীর ধারে হাওয়া খেলে এবং সৌধ দেখে সময় কাটালেই তো চলবে না। সাইটসিয়িং-ও তো করতে হবে। সেই সুযোগও রয়েছে আপনার কাছে। সিরপুর থেকে ৭৫ কিমি দূরেই পাহাড়ের কোলে অবস্থিত বর্নপাড়া অভয়ারণ্য। বাইসন, সম্বর, চিতল, নীলগাই, বুনো শুয়োরের দেখা মিলবে এখানে।

আরও পড়ুন সবুজ প্রকৃতি আর জলাধার নিয়ে গাংরেল

কী ভাবে যাবেন

ছত্তীসগঢ়ের রাজধানী রায়পুর থেকে ৭৮ কিমি দূরে সিরপুর। কলকাতা থেকে রায়পুর যাওয়ার একগাদা ট্রেন রয়েছে। তবে শালিমার-লোকমান্য তিলক এক্সপ্রেস গেলে দ্বিতীয় দিন সকাল সকাল রায়পুর পৌঁছোনো যাবে। সে ক্ষেত্রে বেলা দশটার মধ্যেই সিরপুর পৌঁছে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন?

হুয়েং সাং টুরিস্ট রিসর্টের ঘর

সিরপুরে থাকার সব থেকে ভালো ব্যবস্থা ছত্তীসগঢ় পর্যটনের হুয়েন সাং টুরিস্ট রিসর্টে। এসি দ্বিশয্যা ঘর ২০০০ টাকা। অনলাইনে বুক করার জন্য লগইন করুন visitcg.in-এ।

0 Comments
Share
a-visit-nimtita-rajbari
জাহির রায়হান

বিশ্বম্ভর রায় মানতেই নারাজ যে তাঁর সোনালি সময় অতীত, জমিদারি অস্তাচলের পথে, এখন জলসাঘরের রোশনাই ফিরিয়ে আনা না-মুমকিন। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খেয়ালি গঙ্গার নিরন্তর জলপ্রবাহের সাথে ভেসে গিয়েছে তাঁর জৌলুস, তাঁর কৌলীন্য। শতজীর্ণ, ধ্বংস-উন্মুখ রাজবাড়ির করুণ চাউনি বুকের ভেতর মরমের ঢেউ তোলে, বেদনা অব্যক্ত অনুভূত হয় শরীরের হাজারো শিরা-উপশিরায়, আনাচে-কানাচে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, এক সময়ের গৌরব চোখের সামনে ক্ষয়ে ক্ষয়ে ঝরে পড়ছে বর্তমানের করাল বাস্তবতায়। তন্ময়ের ডাকে সম্বিৎ ফেরে সহসা, কানে ভেসে আসে হিন্দি গানের সুর, চকিতে মনে পড়ে আমরা এসেছি বনভোজনে সদল, মনে পড়ে নিমতিতা রাজবাড়ির কথা, যার সামনে ভাবলেশহীন দাঁড়িয়ে আছি বেশ কিছুক্ষণ।

প্রায় প্রতি বছরই কলেজ-পিকনিকের দিনক্ষণ স্থির করা নিয়ে আমাদের নিজেদের মধ্যে লড়াই বাঁধে। বিগত তিন বছর আমরা এর একটা সমাধানসূত্র বের করেছি, এখন জানুয়ারি মাসের ১২ তারিখ আমাদের কলেজ-পিকনিকের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। এখন লড়াইটা হয় মূলত পিকনিকের স্থান নির্বাচন ঘিরে। এ বছরও হয়েছে, কেউ বলে দিঘা তো কেউ বলে মন্দারমণি। কখনও আলোচনায় আসে মুকুটমণিপুর, কখনও আবার লালবাগ। এমনই অনেক জায়গা, এমনকি কলেজের বড়ো ছাদ পেরিয়ে শেষমেশ ঠিক হয় নিমতিতা। নিমতিতার কথা শুনেই পল্টু নেচে ওঠে, কারণ সে ইতিমধ্যেই নিমতিতা রাজবাড়ির ইতিহাসের গন্ধে মশগুল, আত্মমগ্ন।

আরও পড়ুন তালের রসগোল্লার স্বাদ নিতে চলুন বাঁকুড়ার সিমলাপাল

কোথাও যাওয়ার থাকলে, বিশেষত অনেকের সাথে, আমার ভেতরে একটা অস্থিরতা কাজ করে অহেতুক। মনে হয় এই বুঝি সকলে চলে গেল। তাড়াহুড়ো করে বের হই বাড়ি থেকে এবং গিয়ে দেখি আসেইনি তখনও কেউ। অগত্যা পায়চারি আর নিন্দেমন্দ করে সময় অতিবাহিত করি। এ বারেও তার অন্যথা হল না। কলেজ পৌঁছে দেখি গেটের সামনে ঢাউস একটা বাস দাঁড়িয়ে রয়েছে, আর আমার মতোই দু’ একজন দুর্বল চিত্তের খাপছাড়া লোক ছাড়া কেউ কোত্থাও নেই। অনেকটা সময় পার করে একে একে বাবুরা আসেন, বাস ছাড়ে নির্ধারিত সময়ের দু’ ঘন্টা পর। গাড়িতেই থাকে প্রাতরাশ সেরে নেওয়ার ব্যবস্থা। ফলে কলা আর ডিমসেদ্ধ খেতে খেতেই যাত্রা শুরু হয় আমাদের। এই একটা দিন আমরা খুব মজা করি সহকর্মীদের সাথে, বাসের মধ্যেই শুরু হয় একে অপরের লেগ পুলিং, আর চলতে থাকে নাগাড়ে হইহুল্লোড়।

লেখালেখি শুরু করার পর, যে কোনো স্থানেই কাজে-অকাজে যাওয়ার সময় আমার পথিক সত্তাও সক্রিয় হয়ে ওঠে ইদানীং। বাইরে থেকে বোঝার উপায় না থাকলেও ভেতর ভেতর লুকিয়ে থাকা পর্যটক-মন তার কাজ করে চলে নিয়ত। বাস ট্রেনের জানলার বাইরে সে যেমন ছুটন্ত ঘরবাড়ি, গাছপালা এমনকি দোকানের সাইনবোর্ড খেয়াল করে, তেমনি ঠিক সেই মুহূর্তে তার আশেপাশে থাকা মানুষজনের হাসি ও কথাবলার ধরন, আলোচনার বিষয়বস্তুও শোনে মন দিয়ে। লিখতে বসে দেখেছি সেই দেখা ও শোনা বেশ কাজে দেয়।

আরও পড়ুন পুজোর আগেই কলকাতা-সিকিম বিমান, কবে থেকে?

চুপচাপ বসেই ছিলাম সামনের দিকে, পিছন থেকে আওয়াজ এল, জাহির রায়হান আবার ভদ্রলোক হল কবে থেকে? আমার সাঙ্গোপাঙ্গরা বরাবরই পিছন দিকের যাত্রী, আওয়াজটা তাদের মধ্যেই কেউ দিল। সুজিতদার গলাও পেলাম, জাহির ভদ্রলোক? ও হল একটা গ্রেডলেস ছোটোলোক! জানি এগুলো উত্তরোত্তর বাড়বে যতক্ষণ না তাদের সাথে যোগ দিই, অগত্যা।

এগারো বছর হয়ে গেল আমার চাকুরিজীবনের। অনেক ছাত্র-ছাত্রী বেরিয়ে গেল পড়া শেষ করে। আমরাও যুবক থেকে ক্রমশ মধ্য বয়সের দিকে শুরু করেছি যাত্রা, বেশ কিছু নতুন সহকর্মীও যোগ দিয়েছে এবং বলতে দ্বিধা নেই আমাদের নিজেদের মধ্যকার সম্পর্কে কোনো মলিনতা নেই, স্টাফরুমের পরিবেশ দারুণ স্বাস্থ্যকর, বন্ধুত্বপূর্ণ। এ দিকে বহরমপুর শহর ছেড়ে আমাদের বাস উঠে পড়েছে রামেন্দ্রসুন্দর সেতুর ওপরে। নীচে বাহিত হচ্ছে ভাগীরথী উত্তর থেকে দক্ষিণের পানে। এই নদী পেরোলেই রাঢ়বঙ্গের শুরু। নিমতিতাও গঙ্গা নদীর পশ্চিম পাড়ে, যেটা আজ আমাদের গন্তব্য।

rajbari nearly destroyed
রাজবাড়ি আজ ধ্বংসের মুখে।

কথা ছিল নিমতিতাস্থিত এক বৃহৎ কৃষি খামারেই হবে আমাদের বাৎসরিক আনন্দভোজন। সেখান থেকে আমরা আশপাশটা ঘুরে ফিরে দেখে নেব। কিন্তু নিমতিতা পৌঁছে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয়ে গেল অচানক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাবুবাড়ির সামনেই প্রশস্ত চত্বরে হবে রান্নাবান্না, যেখান থেকে চওড়া গঙ্গা-পদ্মা-ভাগীরথীর জলরাশি হাতছানি দিয়ে ডাকে সবর্দা। রেললাইন পেরিয়ে নিমতিতা রেলস্টেশনকে বাম হাতে রেখে, অকুস্থলে গিয়ে দেখা গেল, শুধু আমরাই নই, আরও দু’ একটি দল জুটেছে বাবুবাড়ির সামনে, একই উদ্দেশ্যে। প্রসঙ্গত জানাই নিমতিতা রাজবাড়িকেই এলাকাবাসী ডাকে ‘বাবুবাড়ি’ নামে, যে ডাকে মিশে আছে নিমতিতা জমিদারির ইতিহাস।

আরও পড়ুন ওখরে-হিলে-ভার্সে, যেন মেঘ-বালিকার গল্প

দূরে চিকচিক করছে রূপোলি গঙ্গা, জানুয়ারি মাসের কনকনে ঠান্ডা যেন উঠে আসছে ওই নদীর বুক থেকে। আর নিমতিতা রাজবাড়ি কঙ্কালসার দেহে বুক চিতিয়ে লড়ে যাচ্ছে এখনও টিকে থাকার তাগিদে। আজ থেকে প্রায় ১৫০ বছর আগে, গৌরসুন্দর চৌধুরী ও দ্বারকানাথ চৌধুরীর উদ্যোগে নির্মিত হয় নিমতিতা জমিদারবাড়ি। নিমতিতা ও সংলগ্ন এলাকায় চৌধুরীদের জমিদারি শুরু হয় ১৮৮৫ সাল নাগাদ। ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্যে চৌধুরী পরিবারের উদ্যম ও উদ্যোগে গড়ে ওঠে ইতালিয়ান ধাঁচের এই স্থাপত্য কীর্তি। বাড়িটি পাঁচটি উঠোন এবং প্রায় দেড়শো ঘর বিশিষ্ট। আয়তন ও বিশালতায় এ একেবারে রাজবাড়ি সমতুল্য। এক সময় আলো, উৎসব ও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র হিসেবেও এই জমিদরবাড়ির সুনাম ছিল। মুর্শিদাবাদ জেলার সব চেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ শারদ উৎসব অনুষ্ঠিত হত এই বাড়িতেই। জমিদারবাড়ির গৃহদেবতা ছিলেন গোবিন্দজি। বসন্তের দোলপূর্ণিমায় রাজবাড়ি থাকত সরগরম, উৎসবমুখর ।

দ্বারকানাথের পুত্র মহেন্দ্রনারায়ণ প্রতিষ্ঠা করলেন হিন্দু থিয়েটার রঙ্গমঞ্চ এই বাড়িতেই। নাট্যাচার্য শিশির কুমার ভাদুড়ির উপস্থিতিতে মঞ্চস্থ হল ‘আলমগীর’ নাটকটি, ঔরঙ্গজেবের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন স্বয়ং মহেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী। পরের দিন ওই একই নাটকে মোঘলসম্রাট ঔরঙ্গজেবের ভূমিকায় মঞ্চে এলেন শিশির ভাদুড়ি মহাশয়। নবনির্মিত এই রঙ্গালয়ে ‘আলমগীর’ ছাড়াও ‘শংকরাচার্য’, ‘মেবার পতন’, ‘সাজাহান’, ‘রামানুজ’, ‘রঘুবীর’, ‘প্রতাপাদিত্য’ প্রভৃতি নাটক অভিনীত হয় সাফল্যের সঙ্গে। ১৯৪৪ সালে, এক ভয়াল বন্যায় ভেঙে পড়ে রঙ্গালয়টি। ভাঙনের সেই শুরু, যা আজও চলছে সমানে।

সত্যজিৎ রায়ের ‘জলসাঘর’ সিনেমার মাধ্যমেই নিমতিতা রাজবাড়ি প্রচারের আলো পেল নতুন করে। যে ছবির সংগীত  পরিচালক ছিলেন ওস্তাদ বিলায়েৎ খান সাহেব। শুধু তা-ই নয় প্রখ্যাত সানাই বাদক বিসমিল্লাহ খান ও হিন্দুস্থানী ধ্রুপদী সংগীতশিল্পী বেগম আখতার সশরীরে অভিনয় করলেন ‘জলসাঘর’ সিনেমায়। নিমতিতা রাজবাড়ির আলোচনায় যোগ হল এক নব অধ্যায়। সত্যজিৎ রায় পরবর্তীতে ‘দেবী’ (১৯৬৯) এবং ‘সমাপ্তি’ (১৯৬০) সিনেমার শুটিংও করেন এখানেই। ‘জলসাঘর’, ‘দেবী’ ও ‘সমাপ্তি’র দৃশ্যকল্পে তাই আজও জীবিত নিমতিতা রাজবাড়ির ইতিকথা।

আরও পড়ুন শীতে চলুন ৪/ রন-ভূমি হয়ে উপকূল গুজরাত

চৌধুরী বংশের বর্তমান প্রজন্ম কলকাতার নাগরিক। শারদ উৎসবের সময় আসেন নিমতিতায়। বাপ-ঠাকুর্দার প্রচলন করা দুর্গোৎসব তাঁরা এখনও করেন নিষ্ঠাভরে। নির্মিত হয় একচালার প্রতিমা আগের মতোই, একই বংশের প্রতিমা শিল্পীর দ্বারা। রাজবাড়ির ঠাকুরদালানে দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে এখনও জড়ো হন নিমতিতাবাসী। সংলগ্ন অঞ্চলে বারোয়ারি পুজোর রমরমা যতই বাড়ুক আজও বাবুবাড়ির প্রতিমাদর্শন না করলে এলাকাবাসীর মন ভরে না।

তবে সেটুকুই আশার আলো, বাকিটা নিরবচ্ছিন্ন অন্ধকার। বিবর্ণ, ভগ্নপ্রায় রাজবাড়ি সব হারিয়ে জীর্ণ, বিদীর্ণ। সাপখোপ আর পোকামাকড়ের নিরুপদ্রব আস্তানা। ছবি বিশ্বাস অভিনীত জলসাঘরের বিশ্বম্ভর রায়ের চরিত্রটির মতোই অসহায়। পুত্র শোকে যন্ত্রণাবিদ্ধ পড়তি জমিদার বিশ্বম্ভর রায় ঘোড়া ছুটিয়ে চললেন গঙ্গা নদীর দিকে, কিছুটা যাওয়ার পর পড়ে গেলেন সেই নদীর তীরে যে গ্রাস করছে তাঁর একমা্ত্র সন্তানকে, বিশ্বম্ভর রায় আর উঠতে পারেননি সে দিন, শেষ হয়ে গেল ‘জলসাঘর’। নিমতিতা রাজবাড়িও ছুটছে কালের পিঠে সওয়ার হয়ে সেই মৃত্যুমুখের দিকে, নদীও এগিয়ে আসছে ধীরে ধীরে গ্রাস করতে নিমতিতা জমিদারির ইতিহাস, সজ্ঞানে, নির্ভুল নিশানায়।

তন্ময় জিজ্ঞেস করলো, দাদা, কী হল? উত্তরে, নিজেই শুনতে পেলাম নিজের গভীর দীর্ঘশ্বাসের নৈর্ব্যক্তিক আর্তনাদ।

কী ভাবে যাবেন

হাওড়া/শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে নিমতিতা ২৭৯ কিলোমিটার। সব চেয়ে সুবিধাজনক ট্রেন হাওড়া-কাটিহার এক্সপ্রেস। রাত ৯.২৫ মিনিটে ছেড়ে নিমতিতা পৌঁছে দেয় ভোর পাঁচটা নাগাদ। আরও ট্রেন আছে। ট্রেনগুলি সবই ফারাক্কা যায়। বহরমপুরে থাকতে হলে সেখানে যাওয়ার আরও ট্রেন আছে, সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in

কলকাতা থেকে সড়কপথে নানা ভাবে যাওয়া যায়। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে কৃষ্ণনগর-বহরমপুর হয়ে। অথবা দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে পানাগড়, সেখান থেকে পানাগড়-মোরগ্রাম জাতীয় সড়ক ধরে মোরগ্রাম, সেখান থেকে নিমতিতা। এই পথে দূরত্ব ২৬৯ কিমি। আর একটি রাস্তা দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বর্ধমান, তার পর ভাতার-খরগ্রাম-মোরগ্রাম হয়ে। এই পথে দূরত্ব ২৭৪ কিমি।

কোথায় থাকবেন

থাকতে হলে বহরমপুর বা ফারাক্কায় থেকে নিমতিতা ঘুরে নিতে পারেন। ৭৮ মিনি দূরে বহরমপুরে আছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের টুরিস্ট লজ। অনলাইনে বুকিং: www.wbtdcl.com । এ ছাড়াও বেশ কিছু বেসরকারি হোটেল-লজ আছে। সন্ধান পেয়ে যাবেন makemytrip, goibibo, trivago, cleartrip, holidayiq  ইত্যাদি ওয়েবসাইট থেকে। থাকতে পারেন ১৮ কিমি দূরে ফারাক্কাতেও। ফারাক্কা লজ (যোগাযোগ ০৯৯৩৩৩৯৯৯৮৬), হোটেল প্যারামাউন্ট ইন (যোগাযোগ ০৮৯২৬৮১৮৯০৭) উল্লেখযোগ্য।

ছবি: লেখক

0 Comments
Share
bangarh-a-leaf-from-the-pages-of-history
শৌনক গুপ্ত

 দুই বাংলার কাঁটাতার গলে অশ্রুধারার মতো নেমে এসেছে তিনটে নদী – টাঙ্গন, পুনর্ভবা আর আত্রেয়ী। বুনিয়াদপুর থেকে জাতীয় সড়ক ধরে বালুরঘাটের দিকে গেলে এরা তিনজনই একে একে এসে ধরা দেয়। ইতিহাসের চোরাস্রোতে তলিয়ে যাওয়া কত গল্প বলে। গঙ্গারামপুর থেকে শিববাটির রাস্তাটা উত্তরে পুনর্ভবার গা ঘেঁষে চলে গিয়েছে সীমান্তের দিকে। সেই পথে কিছু দূর এগোতেই আর্কিওলজিকাল সার্ভের নীল সাইনবোর্ড জানিয়ে দিল আমরা বাণগড়ে পৌঁছে গিয়েছি। বাণগড় – দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শনক্ষেত্র।

একটা প্রাচীন বটগাছ পেরোতেই অনেকটা এলাকা জুড়ে ধু-ধু প্রান্তর। কিছু বিক্ষিপ্ত প্রাচীর ক্ষেত্রটার সীমা নির্দেশ করছে। সেই ধার বরাবর পরিখার অস্তিত্ব স্পষ্ট বোঝা যায়। মাঠে নানা আকারের ঢিপি। তারই কয়েকটাতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পুরাতাত্ত্বিক খননের কাজ হয়েছে। জেগে উঠেছে পোড়ামাটির ইটের তৈরি সব জ্যামিতিক কাঠামো। মৌর্য থেকে তুর্কি পর্যন্ত কমবেশি দেড় হাজার বছর সময়কালের মধ্যে পাঁচটা শাসনযুগের সাক্ষ্য এরা বহন করছে। গুপ্তযুগে বৃহত্তর পৌণ্ড্রবর্ধন ভুক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ শাসনবিভাগ বা ‘বিষয়’ ছিল ‘কোটিবর্ষ’। পূর্ববর্তী মৌর্য শাসনকালে এই কোটিবর্ষের নাম ছিল ‘দেবীকোট’ বা ‘দেবকোট’। ঐতিহাসিক মতে, বাণগড় ছিল কোটিবর্ষের রাজধানী আর বাণগড়ের এই প্রাচীরঘেরা ক্ষেত্রটাই প্রাচীন দেবীকোট বা কোটিবর্ষের অন্যতম প্রধান শাসনকেন্দ্র।

four pillers in bangarh
‘পাথরের কলাগাছ’।

বাণগড় অঞ্চল হয়ত আরও অনেক বড়ো, তবে এই স্থানেই তার মূল ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। খননের সময় দুর্গ-সদৃশ এই এলাকায় শহরকেন্দ্রিক জীবনধারার নানা ছবি ধরা পড়েছে। মাটির কেল্লা সময়ের অগ্রগতির সঙ্গে ক্রমে ইটের গড় হয়ে শক্তিবৃদ্ধি করেছে। শস্যাগার, পয়ঃপ্রণালী, জল সরবরাহের ব্যবস্থা রীতিমতো আধুনিকতার চিহ্ন বহন করে। তবে এর সবই হল খনন করা ঢিপিগুলো থেকে পাওয়া নিদর্শন। আরও অনেক ঢিপি একেবারে অবিকৃত অবস্থায় রয়ে গিয়েছে। সেগুলোর মাথায় পোড়ামাটির আভাস স্পষ্টই জানান দিচ্ছে তারা আরও অজানা ইতিহাস প্রসব করতে প্রস্তুত। ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ায় তুর্কি যোদ্ধা বখতিয়ার খলজি সেন বংশের রাজাদের পরাজিত করে বাংলায় মুসলমান শাসনের পত্তন করেন। তখনও এখানে বসতি ছিল। বখতিয়ার পরে এই অঞ্চলের কাছাকাছিই গুপ্তঘাতকের হাতে নিহত হন এবং পুনর্ভবার তীরে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।

ঐতিহাসিক তথ্যের স্বল্পতার কারণে বাণগড়কে জড়িয়ে নানা পৌরাণিক গল্প আর লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া কিছু মিথ তৈরি হয়েছে। শোনা যায়, এখানে নাকি বাণরাজার রাজত্ব ছিল। রাজার নামেই তাঁর রাজ্য। শ্রীকৃষ্ণের প্রপৌত্র অনিরুদ্ধ রাজার কন্যা ঊষাকে বাণগড় থেকেই হরণ করেছিলেন। স্থানীয় একটা রাস্তার নামও নাকি ঊষাহরণ রোড। ‘পাথরের কলাগাছ’–এর গল্প শুনে উৎসাহিত হয়ে চলে গিয়েছিলাম পাশের আদিবাসী গ্রামে। পাথর বটে, রীতিমতো গ্র্যানাইটের, তবে কলাগাছ নয়। এরা আসলে চারটে স্তম্ভ। সম্ভবত কোনো প্রাচীন বিষ্ণুমন্দিরের অবশেষ। 

bangarh, not a reserved area
বাণগড় অসংরক্ষিত।মাঠে ঐতিহাসিক নিদর্শনের পাশেই চাষ হচ্ছে, ছাগল চরছে।

‘সংরক্ষিত এলাকা’ বাণগড় বিস্ময়কর ভাবে অসংরক্ষিত। এখানে মানুষ আর ইতিহাসের অবাধ সহাবস্থান। মাঠে ঐতিহাসিক নিদর্শনের পাশেই চাষ হচ্ছে, ছাগল চরছে। আদিবাসী গ্রামের অনেক বাড়ির দেওয়ালেই দেখলাম বাণগড়ের থেকে খুলে নিয়ে যাওয়া ইট। দিনকয়েক আগে সোনার মোহরসহ এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছিল। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, সেই মোহরও নাকি এখান থেকেই পাওয়া। মাঠের কিছু জায়গা বেদখল হয়ে গেলে তার তলায় লুকিয়ে থাকা ইতিহাস হয়তো আর কখনোই জানা যাবে না। আর একে সুরক্ষিত না রাখতে পারলে বিজ্ঞানভিত্তিক খননের আগেই অনেক অজানা ইতিহাস হাতে হাতে পাচার হয়ে যাবে। তবে সুরক্ষার এই গুরুত্বকে সরিয়ে দিলে মনে হয়, এটাই বাস্তব। সমস্ত শাসনদম্ভের হয়তো এই শেষ পরিণতি। তাই যে দুর্ভেদ্য দুর্গে এক সময় অস্ত্র আর চাবুকের শব্দ শোনা যেত, আজ তার ভাঙাচোরা বুক চিরে চলে গরিবের লাঙল, গোরু তার খাদ্যাবশেষের চিহ্ন রেখে দেয়। ঢিপির ঢাল ধরে কোদাল হাতে চলা কৃষক-দলকে দেখে আবারও কবির লেখা মনে পড়ে যায় – “শত শত সাম্রাজ্যের ভগ্নশেষ পরে, ওরা কাজ করে”।

ছবি: লেখক  

    

0 Comments
Share
visit-bhojpur-from-bhopal-to-experience-one-of-the-tallest-shivalingas-of-the-country

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: ভোপাল থেকে মাত্র ২৮ কিমি দূরে বেতোয়া নদীর ধারে অবস্থিত ইতিহাস এবং স্থাপত্যের শহর ভোজপুর। 

গুহা এবং মন্দিরের জন্য খ্যাত এই শহরের গোড়াপত্তন একাদশ শতকে পারমার বংশের রাজা ভোজের হাত ধরে। গুহাচিত্র, মন্দিরের পাশাপাশি বেতোয়া নদীর ওপরে দু’টি প্রকাণ্ড বাঁধও এই শহরের আকর্ষণ। রাজা ভোজের আমল থেকেই এই বাঁধগুলি রয়েছে। 

আরও পড়ুন শহুরে কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে এই বর্ষায় চলুন মধ্যপ্রদেশের পারসিলিতে

ভোজপুরের মূল আকর্ষণ ভোজেশ্বর মন্দির। ভারতের অন্যতম বৃহত্তম শিবলিঙ্গ রয়েছে এই মন্দিরে। ইলোরার কৈলাশ মন্দিরের মতো এই মন্দিরও মাত্র একটি পাথর কেটে তৈরি হয়েছে। মন্দিরের দেওয়ালে রয়েছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক চিত্র। তবে সেই চিত্রের কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। 

ভোজেশ্বর মন্দিরের ঠিক উলটো দিকেই রয়েছে একটি গুহা। বর্তমানে সেটি পার্বতী গুহা হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়াও পাথর খোদাই করে আঁকা বিভিন্ন চিত্রেরও সন্ধান পাওয়া যায় এই শহরে। 

ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাজপ্রাসাদও ভোজপুরের অন্যতম আকর্ষণ। 

0 Comments
Share
mahaballipuram-the-city-of-monuments

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: ঐতিহাসিক স্থাপত্যের নিরিখে তামিলনাড়ুর মহাবলিপুরমকে ভারতের অন্যতম পীঠস্থান বলা যেতেই পারে। পল্লবদের রাজত্বকালে মহাবলিপুরমের সমৃদ্ধি। মন্দির, গুহার নিদর্শনে এক অনন্য জায়গা এই সমুদ্রশহর।

ছবিতে দেখে নেব মহাবলিপুরমের স্থাপত্যের নিদর্শন –

 

shore temple mahabalipuram
শোর টেম্পল।

 

pancha rathas mahabalipuram
পঞ্চ রথ মন্দির
krishna's butterball mahabalipuram
কৃষ্ণর মাখনবল
arjun's penace, mahaballipuram
অর্জুনের অনুতাপ
mahabalipuram tiger cave
টাইগার কেভ
0 Comments
Share
a-visit-to-halebidu-and-belur
avijit kumar chatterjee
অভিজিৎ কুমার চ্যাটার্জি

কর্নাটক রাজ্যের হাসন জেলায় অবস্থিত হালেবিদু (অতীতের নাম দ্বারসমুদ্র)। দ্বাদশ শতাব্দীতে হোয়সলা সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল এই হালেবিদু।

চোদ্দোশো শতাব্দীর প্রথম দিকে, এই শহরে, দু’বার মুসলিম আগ্রাসন হয় – মহম্মদ বিন তুঘলক ও মালিক কাফুর এই শহরে ব্যাপক লুঠপাঠ চালান। ধ্বংস হয় দ্বারসমুদ্র। হোয়সালা রাজারা তাঁদের রাজধানী সরিয়ে নিয়ে যান বেলুরে। সেই থেকে দ্বারসমুদ্র শহরের নামকরণ হয় হালেবিদু, অর্থাৎ পুরোনো রাজধানী। তার পর থেকে এই শহর কালের স্মৃতিতে হারিয়ে যায়। বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায়, আর ঘুরে দাড়াঁতে পারেনি। চলেছি সেই হালেবিদু। হোয়সলা স্থাপত্যের অন্যতম সেরা নিদর্শন হোয়সলেশ্বর মন্দির দেখতে।

আর পড়ুন: এক টুকরো হাম্পি : দেখুন জেনানা এনক্লোজার

হালেবিদুতে হোয়সলেশ্বর মন্দির মূলত শিব মন্দির। হোয়সালা সাম্রাজ্যের সর্ববৃহৎ মন্দির, উৎকৃষ্টের সেরা উদাহরণ। বারোশো শতাব্দীতে হোয়সলা রাজা বিষ্ণুবর্ধন গড়ে তোলেন এই মন্দির। এই মন্দির দু’টি মন্দিরে ভাগ করা – একটি মন্দির রাজার জন্য (হোয়সলেশ্বর, এটি দক্ষিণ দিকে) আর অপরটি রানির জন্য (সান্তালেশ্বর, এটি উত্তর দিকে। রাজা বিষ্ণুবর্ধনের রানি ছিলেন সান্তালাদেবী। তাঁর নাম থেকেই এই মন্দিরের নামকরণ হয়েছে সান্তালেশ্বর।

entrance of Hoysaleshwara temple
হোয়সলেশ্বর মন্দিরের প্রবেশদ্বার।

এই দু’টি মন্দির, একে ওপরের মুখোমুখি, সোপস্টোন দিয়ে নির্মিত। এর জন্যই হয়তো মন্দিরগাত্রে এত সূক্ষ্ম কাজ ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। মন্দিরের বাইরের গাত্রের পাথরের কাজ আপনাকে আবেশমুগ্ধ করে তুলবে। মন্দিরের জগতির ঠিক নীচে, যেটিকে মন্দিরের বেসমেন্ট বলা হয়, তাতে ভূমির সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে সুনির্দিষ্ট ভাবে পাথরের কাজ রয়েছে, উচ্চতা ৮ ফুট। একদম শেষে ভূমি বরাবর রয়েছে পাথরের হাতির সারি – শক্তি ও দৃঢ়তার প্রতীক; ঠিক তার ওপরের সারিতে সিংহ – সাহসিকতার প্রতীক; তার ওপরের সারিতে ফুলের নকশা – সৌন্দর্য্যের প্রতীক; তার পর ঘোড়া – গতির প্রতীক; তার ওপরে আবার হিন্দু পুরাণমতে ফুলের নকশা, তার ওপরে পুরাণমতে অসুর ‘মাখরা’ এবং পাথরের শেষ সারিতে রয়েছে হাঁস। এই সারিগুলির দৈর্ঘ্য ২০০ মিটার। সারা মন্দিরগাত্রে ৩৫০০০ পাথরের মূর্তি ছড়িয়ে আছে। একটার সঙ্গে আর একটার কোনো মিল নেই! গণেশের নৃত্যমূর্তি, মন্দিরে প্রবেশের মুখে দ্বারপাল, নটরাজ মূর্তি, রাবণের কৈলাস পর্বত উত্তোলন, শিব-পার্বতীর যুগলমূর্তি, কৃষ্ণর এক আঙুলে গোবর্ধন পর্বত উত্তোলন, নরসিংহ মূর্তি .. আরও কত কী!

artworks on the hoysaleshwar temple
হোয়সলেশ্বর মন্দিরগাত্রে কারুকাজ।

মন্দিরের অভ্যন্তরে পিলার, দেওয়াল ও ছাদের কারুকার্য আপনাকে বাকরুদ্ধ করে তুলবে, যদিও কিছু পিলারে পাথরের কারুকার্য মুসলিম আগ্রাসনে ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। রাজার মন্দির ও রানির মন্দিরকে যোগ করেছে একটি অলিন্দ। মন্দিরে প্রবেশের মুখে রয়েছে এক পাথরে তৈরি (মনোলিথিক) নন্দীমূর্তি। রঁদ্যা, রামকিঙ্করের পূর্বসূরী ওই সব কালজয়ী শিল্পীরা, ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছিলেন যেন। এক বুক মুগ্ধতা নিয়ে হয়তো আপনি বলে উঠবেন ..

‘হে আমার শীর্ণ জীর্ণ মুহ্যমান শিল্পের সম্রাট ../একটু পাথর দাও আর এক বুক খোলা মাঠ।/রক্তে নাচে ছেনি,/বাতাসে উড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে ../যুবতীর বেপরোয়া বেণী’।

বেলুর

হালেবিদু থেকে এলাম বেলুর, অতীতের বেলাপুরে। বেলুরের খ্যাতি তার চেন্নাকেশব মন্দিরের জন্য -‘চেন্না’ শব্দের অর্থ সুন্দর ও ‘কেশব’ অর্থাৎ ভগবান বিষ্ণু। মূলত ভগবান বিষ্ণুর মন্দির (বিষ্ণুর ২৪তম অবতার ‘বিজয়নারায়ণ’ – দক্ষিণ ভারতে ভগবান বিষ্ণু এই নামেই পূজিত হন)। রাজা বিষ্ণুবর্ধন দ্বাদশ শতকের গোড়ায় এই মন্দির নির্মাণ শুরু করলেও শেষ করেন তাঁর নাতি। এই মন্দির নির্মাণ করতে ১০৩ বছর লেগেছিল।

কালাকাড়ের যুদ্ধে চোল রাজাদের হারানোর স্মৃতিতে এই মন্দির গড়ে তোলেন হোয়সলা-রাজ। আবার অনেক ঐতিহাসিকে মনে করেন, রাজা বিষ্ণুবর্ধন বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণ করলে এই মন্দির গড়ে তোলার কাজে হাত দেন।

কালো পাথরের দণ্ডায়মান বিষ্ণুমূর্তি আর তাঁর সারা শরীর জুড়ে গয়নার অলংকরণ .. ‘পাথর না সত্যি’ .. আপনার মনে ভ্রম সৃষ্টি হবে! তাই তো ‘চেন্নাকেশব’ .. ‘handsome Lord Vishnu’।

artworks on chennakeshava temple of belur
চেন্নাকেশব মন্দিরগাত্রে কারুকাজ।

মন্দিরে প্রবেশের দু’টি গোপুরম। ভেতরে রয়েছে পাথরের এক সুবিশাল চাতাল, মধ্যস্থলে রয়েছে মূল মন্দির। মন্দিরের বাইরের গাত্রে পাথরের মূর্তিরা যেন জীবন্ত ছবি! বেদ, উপনিষদ থেকে শুরু করে পুরাণের বিভিন্ন ঘটনা পাথর দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে! মন্দির চত্বরে রয়েছে গরুড়-স্তম্ভ। মন্দিরে সাতটি সিঁড়ি ভেঙে প্রথমে রয়েছে জগতি, তার পর রয়েছে মূল অধিষ্ঠান। মূল মন্দিরের প্রবেশপথ তিনটি। সমগ্র মন্দিরটি সোপস্টোন দিয়ে তৈরি। বর্তমানে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া প্রতি দশ বছর অন্তর পুরো মন্দিরগাত্র কেমিক্যাল ও মোম পালিশ করে থাকে। প্রবেশমুখে রয়েছেপাথরের মূর্তি, রাজা সিংহের সঙ্গে যুদ্ধরত। মন্দিরের প্রতিটি ইঞ্চি পাথরের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কারুকার্য্যে সাজানো – শিল্প ও শিল্পীর এক অনির্বচনীয় সৃষ্টি এই মন্দির। সারা মন্দির চত্বরে ৪০টি পিলার আছে, প্রতিটি পিলারের ব্র্যাকেটে রয়েছে নৃত্যরতা মূর্তি – নাম ‘মদনিকা’ (সংখ্যায় ৪০টি)। এগুলির শরীরের বিভঙ্গে কোনোটির সাথে কোনোটির মিল নেই – এক বিস্ময়কর সৃষ্টি! শিল্পসত্তার এক চরম রূপ! মন্দির অভ্যন্তরে রয়েছে রানি সান্তালাদেবীর নৃত্যরত মূর্তি। এটিই হোয়সলা সাম্রাজ্যের একমাত্র মন্দির যেখানে এখনও নিয়মিত সকাল-বিকাল পূজা হয়ে থাকে। ৮৮৭ বছর ধরে এই পূজা চলে আসছে বলে জনমত।

মন্দিরের খোলা চত্বরে, একটি পাথরের ব্লকের উপর, ৪২ ফুট লম্বা একটি স্তম্ভ দাঁড়িয়ে আছে, কোনো রকম বেস ফাউন্ডেশন ছাড়াই! মাধ্যাকর্ষণ সূত্রের এক বিস্ময়কর উদাহরণ!

কী ভাবে যাবেন

ভারতের বেশির ভাগ শহরের সঙ্গে ট্রেন ও বিমানপথে যুক্ত বেঙ্গালুরু। সেখান থেকে (যশবন্তপুর কিংবা বেঙ্গালুরু সিটি, সরকারি নাম ক্রান্তিবীর সাঙ্গোলি রায়ন্না বেঙ্গালুরু স্টেশন) ট্রেনে হাসন তিন-চার ঘণ্টা সময় লাগে। ট্রেনের সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in । হাসন থেকে বেলুর ৩৮ কিমি, হালেবিদু ৩০ কিমি। হালেবিদু-বেলুর ১৬ কিমি। হাসন স্টেশন থেকে গাড়ি ভাড়া করে নিন।

বেঙ্গালুরু থেকে সরাসরি সড়কপথেও আসতে পারেন। বেঙ্গালুরু থেকে হাসন হয়ে বেলুর ২২২ কিমি। কর্নাটক রাজ্য পরিবহনের বাস সারা দিন মেলে। রাতেও পাওয়া যায়। বেঙ্গালুরু থেকে চিকমাগালুর ও হোরেনাডুগামী বাস হাসন, বেলুর হয়ে যায়। বেঙ্গালুরু থেকে হাসন হয়ে হালেবিদু ২১০ কিমি। হালেবিদু যেতে হলে হাসন বা বেলুর থেকে যেতে হবে। বাসে আগাম আসন সংরক্ষণের জন্য লগ ইন করুন https://www.ksrtc.in

বেঙ্গালুরু থেকে সরাসরি গাড়ি ভাড়া করেও আসতে পারেন।

chennakeshava temple
চেন্নাকেশব মন্দির।

কোথায় থাকবেন

বেলুরে চেন্নাকেশব মন্দিরের খুবই কাছেই (৭০০ মি) থাকার জন্য রয়েছে কর্নাটক পর্যটনের হোটেল ময়ূর বেলাপুরী। আর হালেবিদুতে হোয়সলেশ্বর মন্দিরের সামনেই রয়েছে কর্নাটক পর্যটনের হোটেল ময়ূর শান্তালা। অনলাইন বুকিং kstdc.co । রয়েছে বেশ কিছু বেসরকারি হোটেল। খোঁজ পাবেন makemytrip, goibibo, trivago, cleartrip ইত্যাদি ওয়েবসাইট থেকে।

বেলুরে থেকে হালেবিদু বা হালেবিদুতে থেকে বেলুর ঘুরে নিতে পারেন।  বেঙ্গালুরু থেকে চিকমাগালুর যাওয়ার পথে আগে হালেবিদু, তারপর বেলুর।

কিছু জরুরি তথ্য

হোয়সলেশ্বর মন্দির ও চেন্নাকেশব মন্দির খোলা থাকে সকাল ৯টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত। গাইড নিলে সুবিধা হয়, চার্জ ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা।

উৎসাহী পর্যটকেরা বেঙ্গালুরু থেকে গাড়ির জন্য যোগাযোগ করতে পারেন, সনৎ- ০৯৯১৬৫৯৯৮২৮, ০৯১৭৮৯২১২৯১৬৬ বা পুরুষোত্তম – ০৯৭৪২৯৯১৯১৯

ছবি: লেখক

0 Comments
Share
let-us-visit-to-jamgram-rajbari
writwik das
ঋত্বিক দাস

ভ্রমণের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই৷ পাহাড়, নদী, স্থাপত্য – এ সবের টানেই হাজার জীবনযুদ্ধের মাঝে পাওয়া ক্ষণিকের ছুটিগুলোতে এ-দিক সে-দিক বেরিয়ে পড়ার মধ্যে এক অনাবিল আনন্দ৷

এমনই আনন্দ পাওয়ার লোভে এক রবিবারের সকালে আমরা তিন বন্ধু চেপে বসলাম বর্ধমান মেন লাইনের লোকাল ট্রেনে৷ গন্তব্য ছিল পান্ডুয়া স্টেশন নেমে সেখান থেকে জামগ্রাম রাজবাড়ি৷ জামগ্রাম রাজবাড়ি আদপে নন্দী বংশের জমিদারবাড়ি৷

আরও পড়ুন: বনজ্যোৎস্নায় সবুজ অন্ধকারে : বেথুয়াডহরী

পান্ডুয়া স্টেশনের টিকিট কাউন্টার লাগোয়া অটোস্ট্যান্ড থেকে জামগ্রাম যাওয়ার অটোতে আমরা তিন বন্ধু চড়ে বসলাম৷ রবিবারের ভিড় বাজার ছাড়িয়ে অটো গ্রাম্যপথ ধরল৷ আহাঃ কী শোভা সেই পথের৷ পথের দু’ধারে শুধুই দিগন্তবিস্তৃত খেত, সদ্য লাগানো ধানের চারা সবুজ ভেলভেটের মতো দিগন্তভূমি জুড়ে রয়েছে৷ তার মাঝ দিয়ে কালো পিচের রাস্তা, সে কী অপরূপ দৃশ্য! সেই নয়নমুগ্ধকর দৃশ্য পেরিয়ে আমরা পৌঁছোলাম নন্দী জমিদারবাড়ির সামনে৷ প্রথমেই চোখে পড়ল সুবিশাল কৃষ্ণ মন্দির৷ তার ডানপাশেই রাজবাড়ি প্রবেশের দরজা৷

krishna temple, nandibari
কৃষ্ণ মন্দির।

বাইরে থেকে রাজবাড়ির বিশালত্ব সহজে অনুমান করা যায় না৷ প্রায় ১৩ বিঘা জমির ওপর দাঁড়িয়ে জামগ্রামের নন্দীবাড়ি৷ রাজবাড়ির সামনে পরিচয় হল নন্দী বংশের প্রবীণ সদস্য সতিপতী নন্দী মহাশয়ের সঙ্গে৷ বর্তমানে ৮১ বছর পার করেছেন৷ তাঁর মুখ থেকেই জানা গেল, অতীতে ব্রিটিশ শাসনকালে অধুনা হালিশহরের কেওটা গ্রামে নন্দীবংশের আদিবাস ছিল৷ ব্রিটিশদের অত্যাচারে তাঁরা কেওটাগ্রাম ছেড়ে চলে এসে পান্ডুয়ার জামগ্রামে বসতি গড়েন৷পরে তাঁদেরই একটা অংশ অধুনা কালনা মহকুমার বৈদ্যপুর অঞ্চলে বসতি গড়েন৷সুপুরি, বিভিন্ন প্রকার মশলা ও নুনের ব্যবসা, এই ছিল নন্দীদের প্রধান জীবিকা৷ বর্ধমানের কালনা, কলকাতার বড়বাজার অঞ্চলের পোস্তা, বেলেঘাটার খালপোল অঞ্চলে নন্দীদের ব্যবসার গদি ছিল৷

শোনা যায় এক বার বড়লার্ট ওয়ারেন হেস্টিংসের অনেক টাকার দরকার হয়৷ তখন বড়লার্ট তৎকালীন নন্দীদের কাছে অনেক টাকা দাবি করেন৷ আবার সেই সময় বাংলার রানি ভবানীর সঙ্গে বৃটিশদের অশান্তি লাগে৷ এর শোধ নিতে বড়লার্ট হেস্টিংস মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রানি ভবাণীর তিনটি মহল (কালনা, বৈদ্যপুর ও জামগ্রাম) নন্দীদের দিতে চান। নন্দীরা প্রথমে অসম্মত হলেও পরে ব্রিটিশদের শর্ত মানতে বাধ্য হন৷ তখনকার দিনে ব্রিটিশদের কোনো অনুষ্ঠান হলে বাংলার মধ্যে একমাত্র বর্ধমান রাজা ও নন্দীরা নিমন্ত্রিত হতেন ৷

a part of jamgram rajbari
রাজবাড়ির একাংশ।

জামগ্রামের নন্দীপাড়ার গোটা অঞ্চলটিতেই নন্দীদের বাস৷ কোনো অচেনা মানুষ একা একা রাজবাড়িতে ঢুকে পড়লে আর দরজা চিনে বাইরে বেরোতে পারবে না যতক্ষণ না তাঁকে বাড়ির কেউ এসে বেরোনোর পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন৷ বাড়ির ভেতর বিভিন্ন মহল৷ এক একটা মহলে অতীত থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের আসবাবপত্র, বাসন, মূল্যবান কাগজপত্র সংরক্ষিত৷

thakurdalan, rajbari
ঠাকুরদালান।

জামগ্রাম নন্দীবাড়ি দুর্গাপুজো দেখার মতো। আজও দুর্গাপুজোর সব রকম ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন এই নন্দী পরিবার। দুর্গাপুজো শুরু হয় রথের সময় কাঠামোপুজো করে, খড়ের ওপর মাটি লেপে৷ পুজোর দিনগুলোতে বাইরে থেকে সব আত্মীয়স্বজন এসে মিলিত হন৷ তার মধ্যে প্রায় সবাই নন্দী৷ এই সময়ে বাইরের কোনো মানুষের সঙ্গে নন্দী বংশের ছেলেমেয়েদের বন্ধুত্ব করার দরকার হয় না৷ জ্ঞাতি ভাইবোনেরাই সবাই বন্ধুর মতো মজা করে গোটা অঞ্চল মাতিয়ে রাখে৷ বাংলা তথা ভারতের আর কোথাও এত বড়ো যৌথ পরিবার ক’টা আছে হাত গুনে বলা যায়৷ বিদেশিদের চোখেও তাই জামগ্রাম রাজবাড়ির আলাদা কদর রয়েছে৷

artworks on the piller
পিলারের কারুকাজ।

পুজোর চার দিন এই গ্রামে কোনো মাইক বাজে না৷ তখন শুধুই ঢাকের বোল শোনা যায়৷ সব মিলিয়ে আজও নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে অক্ষুন্ন রেখেছে এই পরিবার৷

কী ভাবে যাবেন

হাওড়া থেকে বর্ধমান মেন লাইনের লোকালে চড়ে পান্ডুয়া স্টেশনে নেমে, সেখান থেকে জামগ্রাম যাওয়ার অটোতে উঠে রাজবাড়ির সামনে নামতে হবে৷

কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়েও যাওয়া যায়। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে সিঙ্গুর গিয়ে ডান দিক ঘুরে দিল্লি রোড- জিটি রোড ধরে পান্ডুয়া পৌঁছে জামগ্রাম চলুন। কিংবা দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে গুড়াপ গিয়ে ডান দিক ঘুরে পান্ডুয়া পৌঁছে জামগ্রাম চলুন।

 

0 Comments
Share
glimpse-of-hampi-a-visit-to-jenana-enclosure
avijit kumar chatterjee
অভিজিৎ কুমার চ্যাটার্জি

হাম্পির স্থাপত্যগুলি ধর্মনিরপেক্ষ ও ইন্দো ইসলামিক স্থাপত্যের প্রকৃষ্ট উদাহরণ, যেমন, ‘কুইন্স বাথ’, ‘আস্তাবল’ ইত্যাদি। এগুলি প্রমাণ করে হাম্পি, সর্ব ধর্মীয় ও সর্ব জাতিগত সমাজ হিসাবেই প্রতিষ্টিত ছিল।

১৫৬৫ সালের তালিকোটার যুদ্ধে হাম্পি ব্যাপক ভাবে ধ্বংস হয়। বিজয়নগর রাজ্যের ধ্বংসের পূর্বে হাম্পি যে চরম বৈভব ও বিলাসিতার এক উৎকর্ষে পৌঁছেছিল, তার সাক্ষ্য আজ বহন করে চলেছে ধ্বংসপ্রাপ্ত সৌধগুলি।

১৮০০ সালে ভারতের প্রথম সার্ভেয়ার জেনারেল কর্নেল ‘কলিন ম্যাকেঞ্জি’ লোকচক্ষুর আড়াল থেকে বহির্বিশ্বের কাছে তুলে ধরেন হাম্পির এই ধ্বংসাবশেষ।

আরও পড়ুন পুজোর ভ্রমণ-ছক/খবর অনলাইনের বাছাই: কর্নাটক

জেনানা এনক্লোজারের সব চেয়ে সুন্দর বাড়ি ‘পদ্ম মহল’ বা ‘লোটাস মহল’। দোতলাটি মনে হয় পরে তৈরি, কারণ সিঁড়িগুলি ভীষণ সরু ও স্থাপত্য শৈলীর সঙ্গে ঠিক মিশ খায় না! এটির চারপাশ খোলা, অনেকগুলি স্তম্ভ উপরের তলাকে ধরে রেখেছে। দোতলার জানলাগুলিতে কাঠের খড়খড়ি লাগানো, যা বিজয়নগরের আর অন্য কোনো স্থাপত্যে দেখা যায় না। হিন্দু-মুসলিম স্থাপত্যের এক অদ্ভুত মিশেল ঘটেছে এই বাড়িতে। ভাবতে অবাক লাগে, যখন বিজয়নগর আগুনে পুড়ছে, সেই সময়ে এই মহলটি কী করে, আগুনের গ্রাস থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারল!

আর এর ঠিক পেছনেই আছে ‘হাতিশালা’। লম্বা এই বাড়িতে এগারোটা ঘর আছে, ওপরে ছাদে গম্বুজ। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী একে হাতিশালা বলা হলেও এখানে কোনো লোহার আংটা বা রড দেখা যায় না! মনে প্রশ্ন জাগে, হাতিশালা রাজপ্রাসাদ সংলগ্ন এলাকায় না থেকে জেনানা মহলের এত কাছে কেন থাকবে? তা ছাড়া হাতিশালার তুলনায় বাড়িটি বেশি সুন্দর!

তথাকথিত হাতিশালার কাছে দক্ষিণমুখী একটি গথিক ধরনের একটা ভাঙা বাড়ি দেখা যায়। সামনে খিলান দেওয়া বারান্দা। এই বাড়িটিকে অনেকে ‘সংগীত মহল’ও বলে থাকেন। এর প্রবেশদ্বারটি দক্ষিণমুখী এবং একটিই। ছাদ পড়ে যাওয়ায় এর ওপরে কী ছিল বোঝার উপায় নেই। অতীতে রাজ পরিবারের জেনানাদের জন্য মহিলা ও পুরুষ, দু’ রকম রক্ষীই থাকত। তাই জেনানা মহলের মধ্যে বাড়িটি মহিলা রক্ষীদের এবং এই বাড়িটিকে পুরুষ রক্ষীদের ঘর বলে মেনে নেওয়া অনেক যুক্তিসঙ্গত। অনেকে এটি ধর্মশালা বা জেনানা মহলের পুরুষ রক্ষীদের ঘরও বলেছেন। তবে এটাকে সংগীত মহল হিসাবে মেনে নেওয়া যায় না! কারণ এই ধরনের প্রমোদ অনুষ্ঠান ‘পদ্ম মহল’-এই হত।

queen's bath, hampi
রানির স্নানাগার।

পাথরের দরওয়াজা ছেড়ে দক্ষিণের দিকে কাঁচা রাস্তা ধরে এগোলে এসে পড়বেন হাম্পির প্রধান রাস্তায়। ঠিক এখানেই আপনি দেখতে পাবেন ‘কুইন্স বাথ’, রাজকীয় পরিবারের মহিলাদের জলকেলি করার প্রমোদ ভবন।

‘রানির স্নানাগার’ বা ‘কুইন্স বাথ’ ইন্দো-সেরাসেনিক রীতিতে তৈরি একটি বাড়ি এবং প্রাসাদ সংলগ্ন এলাকার মধ্যে অবস্থিত। এটির চার পাশে একটি পরিখার চিহ্ন আছে, যদিও এতে জল এখন আর নেই। বাড়িটির মাঝখানে একটি ছোটো পুকুর বা সাঁতার কাটার জায়গা বা চার পাশে ঝুলবারান্দা দিয়ে ঘেরা। দেওয়ালে বা খিলানে যে কারুকার্যগুলো দেখা যায়, সেগুলি লোটাস মহলেও দেখা যায়। সুতরাং মনে হয় এ দু’টি একই সময়ে তৈরি। একটা তথ্য খুব একটা পরিষ্কার নয় যে, জেনানা মহল থেকে স্নানাগারের দূরত্ব প্রায় আধ মাইল, লোকালয় পূর্ণ এলাকার মধ্যে দিয়ে রানি কি এতদূর স্নান করতে আসতেন? তাই জায়গাটিকে স্নানাগার না বলে প্রমোদ ভবন বলা অনেক বেশি সঠিক হবে।

রানির স্নানাগার থেকে উত্তর পশ্চিম দিকে হাম্পির রাস্তায় কিছু দূর এগোলে একটি বড়ো আটকোনা বাড়ি দেখা যায়। রানির স্নানাগারের মতো এটিও ইন্দো-সেরাসেনিক রীতিতে তৈরি এবং একই সময়ে তৈরি বলে মনে করা হয়। বিভিন্ন দিকে খিলানের মধ্যে দিয়ে ভিতরে যাওয়ার প্রবেশপথ আছে। এর মাঝখানে একটি ফোয়ারা বসানো আছে ও সামনে একটি বড়ো পাথর থেকে কাটা খোলা নালির মতো আছে। মনে করা হয়, উৎসবের সময় গরিব-দুঃখীদের জন্য পানীয় ধরে রাখা হত।

হাম্পি একটা শিলালিপি, যেখানে লেখা আছে এক সময়ের বা মধ্য যুগের সবচেযে বড়ো আধুনিক শহরের কথা। দুর্গ, নানা মন্দির ও নানা রাজকীয় ভবনের সমাহার এখানে। তুঙ্গভদ্রার তীরে হাম্পি তার প্রাচুর্য্যকে ধরে রেখেছিল প্রায় তিনশো বছর!

inside lotus mahal
লোটাস মহলের ভিতরে।

কী ভাবে যাবেন

হাওড়া থেকে সরাসরি হাম্পি যেতে হলে চলুন অমরাবতী এক্সপ্রেসে। সপ্তাহে পাঁচ দিন চলে। সময় জানার জন্য দেখে নিন erail.in । হসপেট নামতে হবে। হসপেট থেকে ১২ কিমি, গাড়ি, বাস সব পাবেন। বেঙ্গালুরু থেকে সড়ক পথে হাম্পি ৩৪৩ কিমি, সময় লাগে ৬-৭ ঘন্টা, রাস্তা খুব ভালো। ভারতের যে কোনো বড়ো শহরের সঙ্গে বেঙ্গালুরু রেল ও বিমানপথে যুক্ত।

কোথায় থাকবেন

হাম্পিতে বিদেশিদের বেশ ভিড়। মূলত তাঁরা হাম্পি বাজার এলাকাতেই থাকেন। হাম্পি বাজার এলাকায় মধ্য বাজেটের বেশ কিছু হোটেল ও গেস্ট হাউস আছে, যদিও তাদের গুণগত মানে তারতম্য আছে! এই জায়গাগুলির সন্ধান পাবেন হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে।

হাম্পিতে থাকার দু’টি সেরা জায়গা হল – ১) কর্নাটক পর্যটনের ‘ময়ূর ভুবনেশ্বরী’, বুকিং-এর জন্য লগ ইন করুন kstdc.co; ২) ব্যাক্তিগত মালিকাধীন ‘হোটেল ক্লার্কস ইন’, বুকিং-এর জন্য লগ ইন করুন clarksinn.in । এই দু’টি হোটেল থেকে হাম্পির সৌধগুলি সবই ২-৩ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে।

 

0 Comments
Share
a-trip-to-burhanpur-the-city-of-shahi-hammam-of-mumtazmahal
avijit kumar chatterjee
অভিজিৎ কুমার চ্যাটার্জি

‘হাম্মাম’ আরবি শব্দ। ‘হাম্মাম’ থেকে ‘হাম্মামখানা’ শব্দটি এসেছে, যার অর্থ ‘স্নানাগার’ অর্থাৎ ‘গোসলখানা’। তবে সর্বসাধারণের নয়, রাজকীয় গোসলখানা। হাম্মামখানা আদতে সুইমিং পুলের মতো একটি চৌবাচ্চা। মাটি থেকে কিছুটা উঁচুতে তৈরি করা হত। পোড়ামাটির নল দিয়ে গরম ও ঠান্ডা জল চৌবাচ্চায় সরবরাহের ব্যবস্থা থাকত। হাম্মামখানার পাশেই থাকত পোশাক পালটানোর ঘর, থাকত বিশ্রামকক্ষ, আরও অনেক কক্ষ। এ ভাবেই হাম্মাম হয়ে উঠেছিল একটি জটিল স্থাপত্য।

তবে মুঘল আমলে ‘হাম্মামখানা’ শুধু গোসলখানাই ছিল না, সম্রাটের বিশেষ সভাকক্ষ হিসাবেও ব্যবহৃত হত। গোপন বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন হলে সম্রাট তা আম-খাসের বদলে হাম্মামখানাতে করতেন। এখানে প্রবেশ ছিল সংরক্ষিত। অল্প আলোয় উজ্জ্বল হয়ে ওঠার জন্য হাম্মামখানায় মসৃণ টাইলস ব্যাপক ব্যবহার করা হত, প্রয়োজনে আলো-আঁধারির ব্যবস্থাও ছিল।

তা সেই ‘হাম্মামখানা’ দেখতে চলে এলাম বুরহানপুরে।

তাপ্তি নদীর পশ্চিম পাড়ে ফারুকি সাম্রাজ্যের আমলে তৈরি সাততলা ‘শাহি কেল্লা’। ফারুকি সুলতান দ্বিতীয় আদিল খান (১৪৫৭-১৫০৩ খ্রিস্টাব্দ) এই কেল্লা তৈরি করেন। কেল্লায় প্রবেশের আটটি গেট ছিল, চার পাশ ঘিরে ছিল অভিজাত ও বণিকদের বাড়ি, সামনেই ছিল এক চক।

১৬০১ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবরের আমলে সমগ্র বুরহানপুর মুঘল আধিপত্য স্বীকার করে নিলে মুঘলসম্রাট ও শাহজাদাদের আবাসস্থল হয়ে ওঠে শাহি কেল্লা। সম্রাট শাহজাহানের বড়ো প্রিয় ছিল এই কেল্লা। জীবনের সুখ-দুঃখের অনেকটা সময় তিনি এখানে অতিবাহিত করেছিলেন। ১৬১৭ খ্রিস্টাব্দে বুরহানপুরেই তাঁর প্রথম কন্যা সন্তান, রওশনআরার জন্ম হয়, তখন তিনি যুবরাজ খুররম! তাঁর আমল থেকেই বুরহানপুর তৎকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর হয়ে উঠতে থাকে, তাঁর আমলেই ‘শাহি কেল্লায়’ গড়ে ওঠে সম্রাজ্ঞী মমতাজমহলের জন্য হাম্মাম।

artistic work in shahi hammam
শাহি হাম্মামের কারুকাজ।

সেই শাহি কেল্লার বেশিটাই আজ ধ্বংস, কিন্তু সম্রাজ্ঞী মমতাজ ব্যবহৃত ‘হাম্মাম’ বা রাজকীয় স্নানাগার ও তাঁর দেওয়াল ও ছাদের কারুকার্য আজও প্রমাণ করে চলেছে ফেলে আসা ইতিহাসের বৈভব। মুঘল ও পারস্য স্থাপত্যরীতির এক অনবদ্য নিদর্শন শাহি কেল্লা বা বাদশাহি কেল্লার ‘জেনানা হাম্মাম’। এখানকার ছাদের ফ্রেস্কো, পরচিনকারী শিল্প ও মোটিফের কারুকার্য ও আর তার সঙ্গে রঙের ব্যবহার, যেন পাথর ও রঙের বন্দিশ! শৌখিন সম্রাট শাহজাহান তাঁর বেগম মমতাজের জন্য গড়ে তোলেন এই বাদশাহী হাম্মাম, বাদশাহী আমেজ ও মেজাজের এক চরম কোলাজ!

হাম্মামের বাইরে বড়ো পাত্রে জল গরম করা হত, নালির মধ্যে দিয়ে আসত সেই গরম জল আর অন্য নালি দিয়ে আসত ঠান্ডা জল। হাম্মামের জলে গোলাপের পাপড়ি ও সুগন্ধী মেশানো থাকত, শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট থাকত আর একটি গোলাপের পাপড়ি আকারের হাম্মাম। সারা হাম্মাম জুড়ে জ্বলত শুধুই প্রদীপ। শিখার আলো ছাদের সিলিংয়ের কারুকার্যে প্রতিফলিত হয়ে সৃষ্টি হত স্বর্গের আলোকবর্তিকা। দেওয়ালে ও ছাদে লাগানো থাকত হিরে। আলোর দুত্যি ছড়িয়ে পড়ত সারা হাম্মামে, সৃষ্টি হত অনন্ত জীবনের হাসনুহানা-দিন।

মর্মর সৃষ্টির এই ফোটাঝরার কাব্য, বিরহী ভাবনার এক মুক্ত প্রকাশ, যা তাজমহলেও অনুভূত হয়। মার্বেলের মেঝে, মাঝখানে ফোয়ারা, মাথার ওপরে গম্বুজে মৌচাকের নকশা ফিকে হয়ে গেলেও রঙ মুছে যায়নি এখনও। দেওয়ালের পাথরে মাছের আঁশের নকশা খোদাই করা, তার ওপর জল পড়লে মনে হয় মাছ সাঁতার কাটছে। দেওয়াল বেয়ে নেমে আসত ঝরনার মতো ঠান্ডা ও গরম জল, হাম্মামের মধ্যবর্তী পুলটির গভীরতা এক দশমিক আট মিটার। এখানেই মমতাজমহল নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন পরিচারিকাদের সঙ্গে জলকেলিতে। তাই তো অনেকে বলে ‘শাহি হাম্মাম’।

মুঘল স্থাপত্যভাবনায় হাম্মামখানা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। তাঁদের সময়ে ‘আবদারখানা’ বলে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ ছিল। তাদের কাজই ছিল খাবারের জল বা গোসলের জলকে ঠান্ডা করা বা গরম করা, জলের সুস্থ সরবরাহের দ্বায়িত্বও ছিল তাদের।

১৬৫৯ খ্রিস্টাব্দে পেশায় চিকিৎসক ও দার্শনিক ফরাসি পর্যটক বের্নিয়ে ভারতে এসেছিলেন। তাঁর ভ্রমণকাহিনিতে মুঘল সম্রাটদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা, দরবারের জাঁকজমক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি লিখেছিলেন, “হাম্মামখানার আয়তন আম-খাসের মতো বিশাল নয়, তবে ঘরটি বেশ বড়ো, হলরুমের মতন এবং চমৎকার ভাবে রঙিন চিত্র ও নকশায় সুশোভিত, দেখতে অতি সুন্দর ও মনোরম। চার-পাঁচ ফুট উঁচু ভিতের ওপর তৈরি বড়ো প্লাটফর্মের মতন।”

work on ceiling
সিলিং-এ কারুকাজ।

শাহজাহান সম্রাট হওয়ার মাত্র তিন বছরের মধ্যে ১৬৩১ খ্রিস্টাব্দে বুরহানপুরের শাহি কেল্লাতেই চতুর্দশ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু হয় বেগম মমতাজমহলের। মমতাজমহলের দেহ তাজমহলে শায়িত করার পূর্বে বুরহানপুরের ‘আহুখানা’তে ছ’ মাস শায়িত ছিল! সেই ‘আহুখানা’রও আজ ভগ্নদশা।

১৬৩১ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বর মাসে বুরহানপুর থেকে তাঁর দেহ কফিন বাক্সে নিয়ে আসা হয় আগ্রায়, শায়িত করা হয় অসমাপ্ত তাজমহলে, যা সম্পূর্ণ হয়েছিল ১৬৫৩ খ্রিস্টাব্দে।

সারা হাম্মাম জুড়ে পরচিনকারী শিল্পের (মূল্যবান বা দুর্লভ পাথর মার্বেলের ওপর বিভিন্ন অবয়ব বা নকসা ফুটিয়ে তোলার শিল্পকে ভারতীয় ভাষায় বলা হয় ‘পরচিনকারী’ আর যাঁরা এই কাজ করেন তাঁদের বলা হয় ‘পরচীনকার’) নমুনা তাজমহলেও দৃশ্যমান। হয়তো সেই কারণেই স্থানীয় গাইডরা বলেন, তাজমহলের গর্ভধারিনী বুরহানপুরের এই হাম্মাম! যদিও এই তথ্য ইতিহাস-সমর্থিত নয়, তবুও বুরহানপুরের শাহি কেল্লার পরচিনকারী শিল্পের সঙ্গে তাজমহলের গায়ে অংকিত পরচিনকারদের শিল্পকর্মের সাদৃশ্যের দাবিটিকে ফুৎকারে উড়িয়েও দেওয়া যায় না!

বুরহানপুরের শাহি কেল্লার জেনানা হাম্মাম আগামী পর্যটকদের কাছে জিজ্ঞাসার রসদ হয়ে তোলা থাক না!

কী ভাবে যাবেন

হাওড়া থেকে সরাসরি ট্রেন হাওড়া-মুম্বই মেল ভায়া ইলাহাবাদ। রাত ১০টায় ছেড়ে পরের দিন রাত ২টোয় পৌঁছোয় বুরহানপুর। মুম্বই থেকে সরাসরি বুরহানপুর আসার অনেক ট্রেন, আট থেকে বারো ঘণ্টা সময় লাগে। দিল্লি থেকেও বেশ কিছু ট্রেন আছে, সময় লাগে ১৪ থেকে ২০ ঘণ্টা। হাওড়া থেকে বুরহানপুর যাওয়ার আরেকটি উপায় ট্রেনে ভুসওয়াল যাওয়া। বেশ কিছু ট্রেন আছে, সময় লাগে ২৩ থেকে ৩০ ঘণ্টা। ভুসওয়াল থেকে বুরহানপুর ট্রেনে ৩৮ মিনিট থেকে সোয়া ঘণ্টার পথ। সড়কপথে ৭১ কিমি, গাড়ি ভাড়া করে যেতে পারেন। ট্রেনের সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in

এ ছাড়া দেশের প্রায় সব জায়গার সঙ্গে ইন্দোর ট্রেন ও বিমানপথে যুক্ত। ইন্দোর থেকে বুরহানপুর ১৮০ কিমি, বাসে বা গাড়ি ভাড়া করে চলুন।

কোথায় থাকবেন

থাকার জন্য মধ্যপ্রদেশ ট্যুরিজমের ‘তাপ্তি রিট্রিট’ হল সেরা ঠিকানা। যোগাযোগ: ২৩০এ এজেসি বোস রোড, রুম ৭, ষষ্ঠ তল, চিত্রকূট বিল্ডিং, কলকাতা ৭০০০২০, ফোন ০৩৩-২২৮৭৫৮৫৫। অনলাইন বুকিং www.mpstdc.com

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বুরহানপুর ভ্রমণে গাইডের ভূমিকা ভীষণই প্রয়োজন। যোগাযোগ করতে পারেন ঘনশ্যাম মালব্য (ফোন: ৮৮২৭২৮২৯৬৯)।

ছবি: লেখক

0 Comments
Share