Browsing Category:তীর্থস্থান

meditation-cave-at-kedarnath-is-open-to-all-rented-by-gmvn

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: সপ্তম তথা শেষ দফার ভোটের প্রচার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চলে গেলেন কেদারনাথে, গুহায় কাটিয়ে এলেন ১৭ ঘণ্টা, করলেন ধ্যান। চাইলে আপনিও মোদীর মতো কেদারনাথের গুহায় ধ্যানে বসতে পারেন। সব ব্যবস্থা রেখেছে গাড়োয়াল মণ্ডল বিকাশ নিগম (জিএমভিএন)। শুধু একটাই শর্ত, শারীরিক ভাবে সক্ষম হতে হবে আপনাকে।

গত বছরেই উত্তরাখণ্ড সরকারের উদ্যোগে এই গুহা খোলা হয়। ‘রুদ্র ধ্যান গুহা’র দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে জিএমভিএন। কেদারনাথ মন্দিরের বাঁ দিকে পাহাড়ি পথে ১ কিমি গেলে ওই গুহা। ওই গুহায় থাকার মতো প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা আছে। গুহা থেকেই দেখা যায় কেদারনাথ ও ভৈরবনাথ মন্দির।

গুহায় যে সব সুবিধা রয়েছে

পানীয় জল।

বিদ্যুৎ, চার্জিং-এর ব্যবস্থা।

একটি শয্যা।

বেড টি, ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ইভিনিং টি আর ডিনার।

২৪ ঘণ্টা অ্যাটেনড্যান্ট, তাঁকে ডাকার জন্য বেলের ব্যবস্থা।

জরুরি প্রয়োজনে ফেসিলিটি ম্যানেজারকে ডাকার জন্য টেলিফোন।

তবে এই গুহায় থাকতে হলে কিছু শর্ত পালন করতে হবে

অত্যন্ত তিন দিনের জন্য গুহা বুক করতে হবে।

যে দিন থেকে বুকিং তার দু’ দিন আগে জিএমভিএন গুপ্তকাশীতে রিপোর্ট করতে হবে।  

দুটো মেডিক্যাল টেস্ট দিতে হবে, একটি গুপ্তকাশীতে এবং আরও একটি কেদারনাথে। যদি দেখা যায় আপনি শারীরিক ও মানসিক ভাবে সক্ষম তখনই আপনাকে ওই গুহায় থাকার অনুমতি দেওয়া হবে।

গুহায় একজনেরই থাকার ব্যবস্থা আছে।

কেদারনাথ ধ্যান গুহায় থাকার খরচ প্রতিদিন ৯৯০ টাকা। বুকিং অনলাইনে জিএমভিএন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। বিস্তারিত জানতে এখানে দেখুন।    

  ছবি সৌজন্যে জিএমভিএন

0 Comments
Share
a-visit-to-chinnamasta-mandir-at-rajrappa
writwik das
ঋত্বিক দাস

অরণ্যসুন্দরী ঝাড়খণ্ডের কোনায় কোনায় অপরূপ প্রাকৃতিক শোভা। প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য্যের পাশাপাশি দেবতাদেরও প্রিয় স্থান এই আদিবাসী অধ্যুষিত রাজ্যটি। দিকে দিকে নানা মন্দির ও তাকে ঘিরে থাকা নানান লোককাহিনি এবং তার সঙ্গে জুড়ে আছে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। তাই তো পর্যটন শিল্পের বিকাশে দুয়োরানি হলেও কত শত প্রকৃতি-পুজারির চিত্তহরণ করে চলেছে এই রাজ্যটি।

এ বার আমার গন্তব্য ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাজধানী রাঁচি থেকে মাত্র ৬৮ কিলোমিটার দুরে অন্যতম সিদ্ধপীঠ রাজরাপ্পা। এখানে দেবী মহামায়া ছিন্নমস্তা রূপে বিরাজিতা। ভারতবর্ষে মাত্র যে কয়েকটি ছিন্নমস্তা দেবীর মন্দির আছে তার মধ্যে রাজরাপ্পা প্রধান সিদ্ধপীঠ হিসেবে খ্যাত।

দশমহাবিদ্যার অন্যতম রূপ ছিন্নমস্তা বা ছিন্নমস্তিকা। একদা দক্ষের যজ্ঞ উপলক্ষ্যে সতীর পিতৃগৃহে যাওয়ায় বাধা দিলে শিবের ওপর প্রচণ্ড রেগে দেবী দশটি রুদ্ররূপ ধারণ করে মহাদেবকে ভয় দেখান। মায়ের সেই দশটি রূপের অর্থাৎ দশ মহাবিদ্যার তৃতীয় রূপ হলেন মা ছিন্নমস্তা।

আরও পড়ুন জৌলুসের অন্তরালে বিশ্বাসঘাতকতা : দেশের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের সাক্ষী গ্বালিয়র

দেখতে ভয়ংকরী হলেও মায়ের সব চেয়ে দয়াময়ী রূপ ছিন্নমস্তা। একদা ডাকিনী ও যোগিনী-সহ এক সরোবরে স্নানরত ছিলেন দেবী। সেই সময় ডাকিনী ও যোগিনীর বড্ড খিদে পায়। খিদের যন্ত্রণায় তারা কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। এই অবস্থায় কোথাও খাবার না পেয়ে মাতৃহৃদয় বড়োই ব্যথিত হয়। তখন উপায় না দেখে মা নিজেরই নখ দিয়ে গলা চিরে নিজের মুণ্ডু বাম হস্তে ধারণ করেন। গলা দিয়ে তিনটি রক্তধারার একটি ডাকিনী, একটি যোগিনী এবং আর একটি মায়ের নিজ মুখমণ্ডলে প্রবেশ করে। মায়ের গলায় নরমুণ্ড শোভিত। কাম ও রতির ওপর দণ্ডায়মানা এই রূপে ভয়ের পরিবর্তে সন্তানবৎসল মাতৃরূপটিই প্রকাশিত হয়। মা এখানে দয়াময়ী। কামলালসাকে সংযম করেন দেবী।

হিন্দুধর্ম ছাড়াও তিব্বতীয় বৌদ্ধধর্মে দেবী ছিন্নমস্তা পূজিতা। মূলত উত্তর ভারত ও নেপালে ছিন্নমস্তার কয়েকটি মন্দির থাকলেও মায়ের মূল সিদ্ধপীঠ রাঁচি জেলার রাজরাপ্পায় অবস্থিত।

রাজরাপ্পা নামটির সঙ্গেও এটি সুন্দর কাহিনি জুড়ে রয়েছে। প্রাচীনকালে এখানকার এক জনপ্রিয় রাজা ছিলেন ‘রাজা’, তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল ‘রুম্পা’। পরবর্তীকালে রাজা ও রুম্পার নামে জায়গার নাম হয় রাজরাপ্পা। রাঁচি, রামগড় ও হাজারিবাগের পুরো পথটাই বসন্তে পলাশ ফুলে সেজে ওঠে। তখন প্রকৃতি আরও মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। জলবায়ুও সাস্থ্যকর।

এক দিকে দামোদর, আর এক দিকে বইছে ভৈরবী নদী, স্থানীয়রা বলেন ভেরা। দুইয়ের সঙ্গমস্থলে এক অনুচ্চ টিলার টঙে মায়ের মন্দির। মায়ের পূজার প্রধান অর্ঘ্য নারকেল, প্যাঁড়া, চিঁড়ে, নকুলদানা জবার মালা ইত্যাদি। যে কোনো শাক্তপীঠ বা সিদ্ধপীঠের মতো এখানেও বলিপ্রথা প্রচলিত। মানসপূরণে ভক্তরা ছাগবলি দিয়ে থাকেন।

এই অঞ্চলটি ভৌগোলিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে একটি অনুচ্চ পাহাড় থেকে পুরো ভৈরবী নদী দামোদর নদের বুকে আছড়ে পড়ছে। ভৈরবী নদীকে নারী আর দামোদর নদকে পুরুষ মনে করলে নদ ও নদী অথবা নারী-পুরুষের সেই চির সঙ্গম হচ্ছে এই স্থানটিতে। টিলায় ঘেরা দামোদরকে কী অপরূপ লাগে। সেই রূপ একবার যে দেখেছে সে জন্ম জন্মান্তরেও তা ভুলবে না। পুরো পরিবেশটাই নয়নাভিরাম। মূল মন্দির ছাড়াও মহাদেবের মন্দির, দক্ষিণাকালী মন্দির ও কিছু দূরে অষ্টমাতৃকা মন্দির। মায়ের ভৈরবরূপী শিবলিঙ্গটি বেশ উঁচু।

পূজা দেওয়ার জন্য মন্দিরচত্বরের সামনে পেছনে রয়েছে পূজাসামগ্রীর অসংখ্য  দোকান। পছন্দমতো পূজার অর্ঘ্য নিয়ে মায়ের চরণে পূজা নিবেদন করে চলে আসুন দামোদরের কাছে। অনেক নৌকা এখানে অপেক্ষা করে আছে আপনাকে নিয়ে ভেসে পড়ার জন্য। তার মধ্যে যে কোনো একটিতে কুড়ি-তিরিশ টাকার বিনিময়ে ভেসেই পড়ুন দামোদরের বুকে। মার্বেল রকের মতো দু’পাশে পাথরের পাহাড়, তার মাঝখান দিয়ে ভাসতে ভাসতে পৌঁছে যান জলপ্রপাতের কাছে। কয়েক মিনিট ঠান্ডা আবহে আর ঝরনার গর্জন শুনতে শুনতে হারিয়ে যান মন-কেমনের রাজ্যে। চাইলে নৌকো করে আরও কিছুটা ঘুরেফিরে আসুন। ফেরার পথে নিস্তব্ধ জঙ্গলে প্রকৃতিকে সঙ্গী করে দর্শন করে নিন অষ্টমাতৃকা মন্দির। এখানে অরণ্যের শীতল ছায়ায় কিছুক্ষণ বিশ্রামও করে নিতে পারেন। আহারের জন্য অনেক দোকান আছে মন্দির চত্বরের বাইরে। সেখান থেকে আহারপর্ব সেরে ফেলুন। চাইলে রাজরাপ্পায় রাতও কাটাতে পারেন।  

ফেরার পথেও রামগড়ে পুরোনো শিবমন্দিরের সামনে নেমে পড়ুন। ইটের মন্দিরটির অবস্থা আজ জীর্ণ। বহু ইতিহাসের পথ পেরোনো মন্দিরটি বেশ বড়ো এবং দেখলেই বোঝা যায় এক সময় মন্দিরটির গায়ে অনেক কারুকার্য ছিল। এখন সে সব ক্ষয়প্রাপ্ত। বেশ ক’টা বড়ো বড়ো সিঁড়ি ভেঙে মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে হয়। পুরাতত্ত্বের জীবন্ত দলিল দর্শন সেরে একটা অটো ধরে চলে আসুন রামগড় বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে বরকাকানা, রাঁচি বা হাজারিবাগ হয়ে ঘরে ফিরুন। স্মারক হিসেবে রাজরাপ্পা থেকে বড়ো বড়ো প্যাঁড়াসন্দেশ নিয়েও আসতে পারেন।

কী ভাবে যাবেন

যে কোনো জায়গা থেকে ট্রেনে বরকাকানা বা রাঁচি আসুন। ট্রেনের সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in। বরকাকানা জংশন স্টেশন থেকে ম্যাজিক ভ্যান বা অটোয় চেপে চলে আসুন মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরের রামগড় শহরে। রামগড় থেকে ৩২ কিলোমিটার রাজরাপ্পা, দিনভর বাস, ট্রেকার চলে। রাঁচি থেকে রামগড় ৩৭ কিলোমিটার, হাজারিবাগ থেকে রামগড় ৪৮ কিলোমিটার। দু’ জায়গা থেকেই বাস পাওয়া যায়। তা না হলে রাঁচি বা হাজারিবাগ থেকে গাড়ি ভাড়া করে চলে আসতে পারেন। কলকাতার এসপ্ল্যানেড থেকে রাতের বাস ধরে ভোরে নেমে পড়তে পারেন রাঁচিতে।  

কোথায় থাকবেন

সাধারণত রাঁচি বা হাজারিবাগ বেড়াতে এসে ঘুরে যাওয়া যায় রাজরাপ্পা। তবু রাজরাপ্পায় থাকার ইচ্ছে হলে থাকতে পারেন ঝাড়খণ্ড ট্যুরিজমের ‘দেবলোক’-এ। ফোন ৮২৪০৩০৯৩২৮, অনলাইন বুকিং http://jharkhandtourism.gov.in

ছবি: লেখক

0 Comments
Share
in-and-around-tarapith

papiya mitra
পাপিয়া মিত্র

তারাপীঠ অনেকেই যান। আর পাঁচ জনের মতো আমরা যখন রামপুরহাট স্টেশনে নামলাম তখন চাঁদিফাটা ঝলসানি বুঝিয়ে দিচ্ছিল তীর্থস্থানের কী মহিমা। স্টেশনের ট্রেকার-অটো আর টোটোর ধাক্কা সামলিয়ে দু’টি পরিবারের সঙ্গে একটি বড়ো গাড়িতে পৌঁছোলাম তারাপীঠ মন্দিরের গলির মুখে।

মায়ের মন্দিরের কয়েক পা আগে আমাদের ঠিক করা হোটেল ‘মায়ের দান’ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। ভদ্র-নম্র যুবক হোটেল ম্যানেজার সুব্রত মণ্ডল আমাদের জন্য নির্ধারিত ঘরে পৌঁছে দিয়ে এলেন। আহা কোথায় এলাম। মনে মনে ধন্যবাদ জানালাম আমাদের কলকাতার বন্ধুকে এমন ঘর পাইয়ে দেওয়ার জন্য। বারান্দার দরজা খুলতেই জীবিত কুণ্ড আর তার গা ঘেঁষে মায়ের মন্দির। সন্ধ্যারতি শুনতে পাব এই ভেবেই মনটা খুশিতে ভরে উঠল। তবে সন্ধের অপেক্ষা করতে হল না। বিকেলেই মন্দিরে গিয়ে জায়গা নিয়ে বসে পড়লাম। কী অপূর্ব পরিবেশ। আন্দাজ করতে অসুবিধে হল না ভোরে ঘুম ভাঙবে মায়ের আরতির ছন্দে।

temple of tarama
তারামায়ের মন্দির।

সন্ধ্যারতি দেখে পূর্ব পরিচিত পলাশবাবুর দোকানে আড্ডায় বসলাম। পলাশবরণ চট্টোপাধ্যায়। সকলেই চেনে পলাশদার দোকান। তার আগে এক চক্র ঘুরে নিয়েছি মন্দির প্রাঙ্গণ। তারামায়ের ভৈরব চন্দ্রচূড় শিবের মন্দির দর্শন করে এসেছি। নানা কথায় উঠে এল মায়ের বিশ্রামকক্ষের কথা। শুনছিলাম ভাদ্র, কার্তিক ও পৌষ অমাবস্যায় বিশেষ পুজো হয়। এখানে মেলা বসে। আর আশ্বিন মাসের শুক্লা চতুর্দশীতে মূল মন্দির থেকে মাকে বের করে এনে রাখা হয় বিরামঘরে। নাটমন্দিরের ডান দিকে একটু উঁচুতে সেটি। সকলেই যাতে দর্শন পায়। তিন-চার দিনের একটা ছোট্ট ছুটি মায়ের কাছে কাটাব বলে এসেছি। তারাপীঠ ঘিরে ছড়িয়ে আছে নানা দর্শনীয় স্থান। দোকানে বসে চপমুড়ি খাচ্ছিল শানু। অটোচালক। মিষ্টি, ভদ্র ছেলেটি যোগ দিল আমাদের সঙ্গে। ও-ই বলে দিল কোথায় কোথায় যাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন জলসাঘরের করুণ সুরে নিমতিতা রাজবাড়ি

 

পরের দিন শানুর অটো চলল বীরচক্রপুরের একচক্রগ্রামে। এখানে ‘নিতাইবাড়ি’ ঘিরে আরও মন্দির গড়ে উঠেছে। প্রথমে গেলাম বাঁকারায়ের অন্তর্ধানস্থল ‘জানুকুণ্ড’ বা ‘হাঁটুগাড়া’ আশ্রম। প্রভু নিত্যানন্দ স্নানের জন্য মায়ের ইচ্ছে পুরণের জন্য সব তীর্থ থেকে জল এনে এই কুণ্ডের সৃষ্টি করেন। কথিত এই কুণ্ডে সপ্তসাগর ও সপ্তনদী বিদ্যমান। কয়েক পা দূরে, ন’চূড়ার মন্দিরে শ্রীগুরু শ্রীগৌর ও শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর মন্দির। মন্দির ঘিরে গড়ে উঠেছে আশ্রম। এখান থেকে গন্তব্য হল পঞ্চপাণ্ডবতলা। পাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাসের স্থান। আছে মাতাকুন্তী সহ পাঁচপুত্র ও ব্যাসদেবের মূর্তি ও শ্রীকৃষ্ণের মন্দির, যা ছোটো বৃন্দাবন নামে পরিচিত। রামনবমী ও দোলে মহা উৎসব পালিত হয়। তারাপীঠ থেকে সাঁইথিয়ামুখী ১০ কিলোমিটার দূরত্বে বলরামের অবতাররূপী নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর জন্মস্থান গর্ভাবাস নামে প্রসিদ্ধ বৈষ্ণবতীর্থ বীরচন্দ্রপুর। এখানে আছে নিতাইয়ের আসল জন্মস্থান সূতিকামন্দির, ষষ্ঠীতলা, বিশ্বরূপতলা, সন্ন্যাসীতলা ও মালাতলা। শ্রীক্ষেত্রের দেবতা জগন্নাথদেবের মন্দির। কিছু দূরে ইস্কনের সুদৃশ্য মন্দির। সেখানকার সাফাইকর্মী বেণু পাল মন্দিরের নিয়মকানুন জানিয়ে দিলেন। আগে থেকে জানিয়ে দিলে তিনশো টাকায় থাকার সুযোগ মেলে। অর্থের বিনিময়ে ভোগ (৫০), রাতের খাবার (৪০) ও জলখাবার (৩০) পাওয়া যায়। ছায়াঘেরা শান্ত পরিবেশ সহজেই মন কেড়ে নিল।

sutika mandir
বীরচন্দ্রপুরের সূতিকা মন্দির।

শুনেছি সাধক বামাক্ষ্যামার জন্মস্থান এখানেই। তাই এ বার আটলার পথ ধরা। তারাপীঠ থেকে সোজা পথ ধরলে মাত্র ৪ কিলোমিটার। মসৃণ রাস্তার দু’ধারে গাছ লাগানোর ব্যবস্থা। শানু তার বাবার মুখের শোনা কথা বলতে লাগল। আগে এই রাস্তা ছিল একবারে মাটির। আর বর্ষাকালে অবস্থা আরও খারাপ। তবুও মানুষের ভিড় লেগেই থাকত। পায়ে হেঁটে মানুষের যাতায়াত ছিল। রাস্তা দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল। ২৬ কাটা জমিতে গড়ে উঠেছে বামাক্ষ্যাপার মন্দির ও কালীমায়ের মন্দির। এখানেই তাঁর জন্মভিটের মূল চালাটি রেখে নির্মাণ হয়েছে মন্দির। ফিরে এসে তারামায়ের নাটমন্দিরে বিশ্রাম। আমাদের পূজারি পলাশদার কাছে আবদার ছিল মায়ের অন্নভোগ খাওয়ার। মায়ের আশিসে তা মিলেও গেল। নাটমন্দিরে বসিয়ে নিজের হাতে পরিবেশন করে তবে তিনি গেলেন বিশ্রামে। আমাদের জানা ছিল না, এই ভোগ কিনতেও পাওয়া যায়। আর আমিষ ভোগ খেতে গেলে আগে থেকে জানাতে হয়। টিকিট করতে হয়। তবে সবটাই মায়ের কৃপা। কী ছিল না সেই ভোগে। পোলাও, আলুভাজা, সিমভাজা, বেগুনভাজা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির তরকারি, ভেটকিমাছের ঝাল, টমেটোর চাটনি ও পায়েস।

দুপুরে হোটেলে বিশ্রাম নিয়ে এলাম মায়ের আরতি দেখতে। আগে যখন এসেছিলাম তখনকার থেকে এখন ব্যবস্থা অনেক সুশৃঙ্খল। প্রত্যেক ভক্ত যাতে আরতি দেখতে পান তার খেয়াল রাখছে মন্দির নিরাপত্তা কর্মীরা। এ দিকে বাইরেও জায়েন্ট স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে মন্দিরের ভিতরের অংশ। আরতি শেষে পলাশদার দোকানে এ বার আড্ডা তেলেভাজা মুড়ি নিয়ে। আমাদের পরের দিনের সূচি ঠিক হল ভদ্রপুরে আকালীপুরের গুহ্যকালী, নলহাটেশ্বরী, মুলুটিগ্রামের মৌলাক্ষীমায়ের কাছে যাওয়ার।

gujhjhyakali of akalipur
আকালীপুরের গুহ্যকালী।

বাবু দাস আমাদের চার চাকার সারথি। ভোরের হাওয়ায় আমরা আকালীপুরের দিকে রওনা দিলাম। তারাপীঠ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটারের পথ ভদ্রপুর। রাজা নন্দকুমারের জন্মস্থান। ভদ্রপুর বাসস্ট্যাণ্ডের ডান দিকে আকালীপুরের দেবী আকালীর মন্দির। আটকোণা গর্ভগৃহে মহারাজ নন্দকুমারের স্বপ্নে পাওয়া দেবী কালীর মূর্তিতে বৈচিত্র্য আছে। এখানে দেবী সর্পাসনা, সর্পাভরনা, বরাভয়দায়িনী দ্বিভূজা। শ্মশানবাসিনী শ্রীশ্রীগুহ্যকালীকার মূর্তি কষ্টিপাথরের। মন্দিরটি নির্মাণের সময় উত্তর দিকের দেওয়ালটি বিদীর্ণ হয়। আজও সেই ফাটল সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। আটকোণা মন্দিরের চূড়াতেও উত্থিত ফণাযুক্ত সর্পালংকৃত। ব্রাহ্মণী নদীর তীরে শ্মশান ঘেঁষে এই মন্দির। ওয়ারেন হেস্টিংসের অসাধুতার প্রতিবাদ করায় মন্দিরটির অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফাঁসি হয় নন্দকুমারের। কথিত, মগধরাজ জরাসন্ধের পূজিত দেবীকে ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলায় আনেন উত্তর ভারত থেকে। প্রাথমিক সখ্যতার সুবাদে সেই মূর্তি পান নন্দকুমার।

আরও পড়ুন এক টুকরো ইতিহাস – বাণগড়

এখান থেকে ১২ কিলোমিটার পথে নলহাটেশ্বরী। এই অঞ্চল থেকে ১৪ কিলোমিটার রামপুরহাট ও ১০ কিলোমিটার তারাপীঠ। অনুচ্চ টিলার ঢালে দেবীপার্বতী বা নলহাটেশ্বরী মন্দিরের জন্য নলহাটি বিখ্যাত। বিষ্ণুচক্রে খণ্ডিত দেবীর কন্ঠহাড় এখানে পড়ায় তাই পীঠে পরিণত হয়েছে। দ্বিমতে নলক বা নলা বা নুলো অর্থাৎ কনুইয়ের হাড় পড়ে এখানে। ভোর ৪টেয় তাকে তেল-হলুদ মাখিয়ে স্নান করানো হয়। এবং তা স্পর্শ করা যায় তখন। চারচালা মন্দিরে লাল কাপড়ে আচ্ছাদিত সিঁদুর মাখানো পাথরে রুপোর চোখ-নাক-মুখ বসিয়ে দেবীরূপে পূজিত হন। শোনা যায়, ২৫২ বঙ্গাব্দে স্বপ্নাদেশে কামদেবের আবিষ্কার। মন্দির গড়েন নাটোরের রানি ভবানী। মন্দিরের ডান দিকে আছে বিঘ্ননাশক গণেশমন্দির ও সিঁড়িপথে আছেন দেবীর ভৈরব যোগেশ্বরের মন্দির। মন্দিরের পিছনে টিলারের আকারে বর্গিযুদ্ধে শহিদ পীর কেবলা আনাশাহী মাজার শরিফ। শান্ত-স্নিগ্ধ ছায়াঘেরা পরিবেশ। দুপুরের আহারের জন্য রামপুরহাটে ফিরে এলাম।

temple ma moulakhhi
মা মৌলাক্ষীর মন্দির।

ঝাড়খণ্ডের মুলোটি গ্রামে মা মৌলাক্ষীর মন্দির। রামপুরহাট-দুমকা বাসে ১২ কিলোমিটার গিয়ে সুঁড়িচুয়ার মোড় থেকে বাঁ দিকে আরও ৪ কিলোমিটার পথ। আমরা চলেছি গাড়িতে। খর রোদে আর অসাধারণ নৈঃশব্দতা চিরে বাবু দাসের গাড়ি ছুটছিল। জনমানবহীন পরিবেশে ভয় যে একবারে পাইনি তা নয়। তবুও দেখে আসি মৌলাক্ষী মাকে। বাংলা-বিহার সীমান্তে শক্তি-সাধকদের তন্ত্রভূমি দুমকার গুপ্তকালী মুলোটি বা মালুটি বা মল্লহাটি গ্রাম। এখানে দেবীর মন্দির ছাড়াও চোখশান্তি করা টেরাকোটার কাজ করা ৭২টি শিবমন্দির আছে। ছিল ১০৮টি। অবক্ষয়ের পথে যা অবশিষ্ট। প্রতি মন্দিরে শিবলিঙ্গ বর্তমান। এক একটি মন্দিরে টেরাকোটার কাজ দিয়ে পৌরাণিক আখ্যান চিত্রিত।

মৌলাক্ষী মন্দিরে যখন পৌঁছোলাম তখন মধ্যদুপুর পার হয়ে গিয়েছে। আশপাশে ছিলেন পুরোহিত। আমাদের ঘোরাঘুরি দেখে এগিয়ে এলেন। বললেন কিছু কথাও মন্দির নিয়ে। রাজা রাক্ষসচন্দ্র রায় প্রতিষ্ঠিত এই মন্দির। এই মায়ের কাছে এসে প্রথম সাধনা করেন বামাক্ষ্যাপা। পরে তারাপীঠে যান ও মন্দিরের কাছে বিস্তৃত শ্মশানই সাধনক্ষেত্র রূপে বিখ্যাত হয়ে ওঠে। আগেই লিখেছি আশ্বিন মাসের শুক্লা চতুর্দশীতে মূল মন্দির থেকে মাকে বের করে এনে রাখা হয় বিরামঘরে। তখন তারামায়ের মুখ এই মৌলাক্ষী মায়ের মন্দিরের দিকে ফেরানো থাকে। জানা গেল, ইনি বড়মা। তারামা ছোট। এখানে আগে পুজো-বলিদান শুরু হলে তার পরে শুরু হয় তারাপীঠের পুজো। দ্বারকা নদের এ-পার ও-পার।

কী ভাবে যাবেন

হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে রামপুরহাট। সেখান থেকে অটোয় তারাপীঠ। তারাপীঠ রোড স্টেশনে নেমেও যেতে পারেন। তবে সব ট্রেন তারাপীঠ রোডে থামে না। ট্রেনের সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in

সড়কপথে কলকাতা থেকে দূরত্ব ২২৩ কিমি, পথ জাতীয় সড়ক ১৯ (পূর্বতন জাতীয় সড়ক ২, দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে) হয়ে বর্ধমান, তার পর জাতীয় সড়ক ১১৪ বরাবর গুসকরা, শান্তিনিকেতন, সাঁইথিয়া হয়ে তারাপীঠ।

কোথায় থাকবেন

তারাপীঠে থাকার জন্য প্রচুর বেসরকারি হোটেল ও লজ আছে। আগাম সংরক্ষণের দরকার হয় না। তবু যদি চান খোঁজ পাবেন makemytrip, goibibo, trivago, cleartrip ইত্যাদি ওয়েবসাইট থেকে।

ছবি : লেখক

0 Comments
Share
weekend-tour-to-vutaburi-and-ghagharburi

writwik das
ঋত্বিক দাস

প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের জয়জয়কার আজ সর্বত্র৷ তবুও আজও কোথাও যেন ধর্মীয় বিশ্বাসই মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম সহায়ক৷ এমনই এক প্রত্যন্ত গ্রাম আজও বেঁচে আছে এই লৌকিক বিশ্বাসকে আশ্রয় করে৷ আর যাকে ঘিরে এই বেঁচে থাকা তিনি হলেন লৌকিক দেবী ভূতাবুড়ি৷

আসানসোল শিল্পশহরের বার্নপুর থেকে বাসে হীরাপুর ধর্মতলা নেমে কিছু দক্ষিণে গেলে পড়বে শ্যামডিহ গ্রাম৷ প্রত্যন্ত এক গ্রাম৷ বলতে গেলে আধুনিক সুযোগসুবিধা থেকে প্রায় বঞ্চিত৷ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা সবই এই গ্রামের মা ভূতাবুড়িকে ঘিরেই আবর্তিত হয়৷ এই ভূতাবুড়ি চণ্ডীর রূপ হিসেবে পূজিত হলেও মুলত তিনি লোকদেবী৷ দামোদর নদীর তীরে পশ্চিম বর্ধমানের সীমান্তে দেবীর থান৷ অনাবিল সুন্দর প্রকৃতি, নিস্তব্ধ এলাকা, পাশেই দামোদর নদ, ও পারেই বাঁকুড়ার গ্রাম, আরও দক্ষিণে হাতছানি দিচ্ছে বাঁকুড়ার বিহারীনাথ পাহাড়৷ চারিপাশে শুধু প্রকৃতি আর প্রকৃতি৷

আরও পড়ুন সুন্দরবন ছাড়াও ঘরের কাছে রয়েছে আরও এক ম্যানগ্রোভ অরণ্য, এই সপ্তাহান্তে চলুন…

এমন নির্জন স্থানে দামোদরের তীরে লাল পাথরের এক বেদিতে ভূতাবুড়ি মাতার থান৷ কোনো মূর্তি নেই দেবীর৷ বেশ ক’টি পাথরের ঘোটকই দেবীর প্রতিভু৷ পাশেই বাঘরায়ের থান৷ ইনি মূলত ভূতাবুড়ির ভৈরব বলেই পরিচিত৷ মন্দিরের পাশে এক কূপে দামোদর থেকে জল এসে ভরে থাকে। এই জল পানও করা যায়৷

ভূতাবুড়ি মন্দিরের পাশে দামোদর। ও পারে আবছা বিহারীনাথ পাহাড়।

‘ভুত’ শব্দের অর্থ প্রেতাত্মা আর তারই স্ত্রীলিঙ্ঙ্গ ‘ভূতা’৷ অর্থাৎ ভূতাবুড়ি প্রকৃতপক্ষে জনসমাজে অপদেবী হিসেবেই পরিচিত৷ অতীতে এই আসানসোল অঞ্চলে যখন শিল্প গড়ে ওঠেনি, আজকের আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি, তখন এই অঞ্চলের মানুষের কৃষিকাজই ছিল মূল ভরসা৷ চিকিৎসা ও শিক্ষার উন্নতির ছোঁয়াও তখন এখানে পড়েনি৷ উপরন্তু দামোদরের অভিশাপে ফি বছর ভেসে যেত গ্রাম। তখনও দামোদরের বুকে বাঁধ তৈরি হয়নি৷ এমন অবস্থায় দুঃখকষ্ট, রোগশোকের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য জন্ম হয় দেবী ভূতাবুড়ির৷

ভূতাবুড়ি মন্দিরের প্রবেশফটক।

এই দেবী ভূতাবুড়িকে নিয়ে নানা কাহিনি প্রচলিত৷ এই দেবীরা সাত ভাইবোন – ছয় বোন ও এক ভাই৷ সব চেয়ে বড় বোন হল আসানসোলের কালীপাহাড়ির কাছে দেবী ঘাঘরবুড়ি। এই দেবীর কথা নিয়ে পরেই আলোচনা করছি৷ আর বাকি পাঁচ বোন হলেন দেবী নুনীবুড়ি, ঘোষবুড়ি, ধেনুয়াবুড়ি, কেন্দুয়াবুড়ি ও পিয়ালশালবুড়ি আর শান্তিনাথ হলেন এই সাত বোনের একমাত্র ভাই৷ দেবীর পূজার কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্র নেই। শুধুই ভক্তি আর ভূতাবুড়ি ও বাকি ছয় ভাইবোনের নাম উচ্চারণ করেই পূজারি দেবীর পূজা সুসম্পন্ন করেন৷

মা ভূতাবুড়ি।

বর্তমানে গোবিন্দ রায় মন্দিরে পূজার দায়িত্বে আছেন৷ কথা হচ্ছিল তাঁর সঙ্গেই। তিনিই আমাদের জানালেন আরও কথা৷ পয়লা মাঘ জাঁকজমক করে দেবীর পূজার্চনা হয়৷ তখন দামোদরের তীর লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে৷ পূজা উপলক্ষ করে গ্রামে মেলাও বসে৷ এ ছাড়াও প্রত্যেক শনিবার দেবীর জোরদার পুজো হয়৷ পুজো চলাকালীন অনেক সময়েই পূজারির ওপর ‘মায়ের ভর হয়’। তখন মানুষের বিভিন্ন সমস্যার উপায় তিনি বাতলে দেন। এর পর পুজায় নিবেদন করা কাঁচা দুধ খেয়ে পূজারির ভর কাটে৷ পূজার ভোগ উপকরণের মধ্যে ফল ও নানা মিষ্টি থাকলেও ভূতাবুড়ির পছন্দের খাবার হল মুড়ি ও বিভিন্ন কলাই, ছোলা, বাদাম ইত্যাদি মুচমুচে করে ভাজা৷ পূজার সময় বিভিন্ন বাড়ি থেকে দেবীকে গামলায় এই কলাইভাজা ও মুড়ি ভোগ দেওয়া হয়৷ গোবিন্দবাবু আরও জানান, আগে ফি বছর দেবীকে উৎসবের সময় খিচুড়িভোগ দিয়ে সেই ভোগ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হত। কিন্তু পরবর্তীকালে মাতালের উৎপাত হেতু সেই রীতি বর্তমানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ লোককথা ও প্রকৃতি সব মিলিয়ে ভূতাবুড়ির থান চির আকর্ষণীয়৷

ঘাঘরবুড়ির বিগ্রহ।

ভূতাবুড়ির মতোই তাঁর বড়ো বোন দেবী ঘাঘরবুড়িও আসানসোল অঞ্চলের আরেক জনপ্রিয় দেবী৷ অতীতে কালিপা্হাড়ি অঞ্চলের নুনিয়া নদীর ধারে তিনটে শিলাকে দেবী চণ্ডীর প্রতিভূ মনে করে মানুষের পূজার্চনা চলতে থাকে৷ এই কাণ্ড দেখে গ্রামের জায়গিরদাররা সেই স্থানে একটি মন্দির বানানোর সিদ্ধান্ত নেন৷ গড়ে ওঠে মন্দির৷ অনেকে মনে করেন, দেবীকে ঘাঘরা পরানোর জন্য নাম হয় দেবী ঘাঘরবুড়ি৷ পয়লা মাঘ ও শ্যামাপুজার রাতে বড়ো করে উৎসব হয়৷ এ ছাড়াও প্রতি শনি ও মঙ্গলবার মন্দিরে ভক্তদের ভিড় হয়৷ মন্দিরচত্বর জমজমাট৷ পূজার উপকরণের দোকান, জলখাবারের দোকান, দুপুরের ভাত খাওয়ার হোটেল – সব মিলিয়ে মন্দিরচত্বরে সব সময়েই যেন চলছে ছোটো মেলা৷ এই মন্দিরচত্বরে সুকুমারের দোকানের খাঁটি দুধের গরমাগরম চা মুখে লেগে থাকবে৷ মাটির বড়ো মালসায় খাঁটি দুধ জাল দিয়ে অনবরত তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু চা৷

নুনিয়া নদী।

পাশেই নুনিয়া নদী৷ ছোটোনাগপুর মালভূমির পাথুরে নদীর পাড়ে বসে থাকতে ভালো লাগে৷ তবে নদীর জলে না নামাই ভালো৷ বেশ জমজমাট মন্দিরচত্বর৷ কল্যাণেশ্বরী, মাইথন ভ্রমণের সঙ্গে দেবী ঘাঘরবুড়ির মন্দির দর্শনও সেরে নিলে মন্দ হয় না৷

কী ভাবে যাবেন

হাওড়া থেকে ট্রেনে আসানসোল। বা ট্রেনে আসানসোল হয়ে বার্নপুর। আসানসোল বা বার্নপুর থেকে বাসে হীরাপুরের ধর্মতলা। সেখান থেকে দক্ষিণমুখী পথ ধরে হাঁটলে পড়বে শ্যামডিহ গ্রাম। এই গ্রামের ভেতরেই দামোদরের ধারে মা ভূতাবুড়ির থান৷ তবে ভালো হয় আসানসোল বা বার্নপুর থেকে টোটো বা অটো ভাড়া করে যাওয়া। শ্যামডিহ গ্রামের পথে হেঁটে চলা মুশকিল৷

আর ঘাঘরবুড়ি যাওয়ার জন্য ট্রেনে আসানসোল বা কালীপাহাড়ি চলুন। সেখান থেকে বাসে ঘাঘরবুড়ি স্টপে নেমে সামান্য হাঁটা৷ এ ক্ষেত্রেও আসানসোল স্টেশন থেকে টোটো বা অটো বুক করে সরাসরি মন্দিরচত্বরে চলে আসা যায়৷

ট্রেনের সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in

আর কলকাতা থেকে সরাসরি গাড়িতে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে আসানসোল হয়ে চলে যেতে পারেন ভূতাবুড়ি। দিল্লিগামী জাতীয় সড়কের ধারেই ঘাঘরবুড়ি।

কোথায় থাকবেন 

ভূতাবুড়ির আশেপাশে থাকার জায়গা বলতে মাইথন বা আসানসোলে কোনো। হোটেলের খোঁজ পাবেন makemytrip, goibibo, trivago, cleartrip, holidayiq  ইত্যাদি ওয়েবসাইট থেকে। আর ঘাঘরবুড়ি মন্দিরের সামনে একটি গেস্ট হাউস আছে৷ আগাম বুকিং-এর দরকার হয় না।

মনে রাখবেন

কল্যাণেশ্বরী-মাইথন ভ্রমণের সঙ্গে ঘুরে নিতে পারেন ভূতাবুড়ি ও ঘাঘরবুড়ি।

ছবি: লেখক

0 Comments
Share