Browsing Category:সমুদ্র

a-visit-to-the-land-of-red-crabs-tajpur
avijit chatterjee
অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়

‘পায়ের তলায় সরষে’ – আমি বাধ্য হয়েই ভ্রমণকারী, ভ্রমণ আমার জীবনযাপনেরই অঙ্গ। কিছু দিন এক জায়গায় থিতু হয়ে থাকলেই মন উচাটন হয়, মাথার মধ্যে একটা ক্যারা নড়াচড়া করে।

প্রতি দিন একই মানুষের সঙ্গ, খুব ঘনিষ্ট হলেও, আর উত্তাপ দেয় না! একই রকম মুখ দেখতে দেখতে চোখ খরখরে হয়ে যায়, তখন ইচ্ছে করে কিছু দিনের জন্য অন্য নদীতে ডুব দিয়ে আসি, অন্য হাওয়ায় আচমন করি। মনে হয়, অরণ্যের দিনরাত্রির চরিত্রগুলো বোধহয় আমিই! আচ্ছা ভাবুন তো, নিরিবিলি জঙ্গলে বসে থাকা বা গড়ানো কিংবা পাহাড়, সমুদ্র, নদীতে মিশে যাওয়া – এর আকর্ষণ আপনি অস্বীকার করতে পারেন।

আরও পড়ুন কুমারী সৈকত চাঁদপুরে একটা দিন

পরিচিত পরিবেশ ছাড়িয়ে, দূরে কোথাও নির্জন জায়গায় থাকলে, নিজের সঙ্গে দেখা হয়। মাঝে মাঝে নিজের সাহচর্য্ও তো দরকার! জঙ্গলে, পাহাড়ে, উপরে পরিষ্কার তারাভরা আকাশ, মাঝে মাঝে শোনা যাচ্ছে বাতাসে পাতার শব্দ… আর কোনো মানুষ নেই… নিজের সঙ্গে কথা বলেছেন কখনো! দেখবেন, নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করবেন! অনুভব করবেন, রূপসী বসুন্ধরা, মানুষের বসবাসের পক্ষে চমৎকার এক জায়গা! এ রকম নিস্তব্ধতার মধ্যেই তো টের পাওয়া যায় – মানুষের কণ্ঠস্বরঃ… একটা দু’টো পাখির ডাক, কিংবা বাতাসে, গাছের পাতার শব্দ, কত মধুর।

the lone boat at tajpur
আমিও একাকী।

প্রতি দিন আমরা অনেক স্বপ্ন দেখি, অধিকাংশ স্বপ্নই আর মনে থাকে না। ধূপের গন্ধের মতো মিলিয়ে যায়, কোনো কোনোটি সকালে জেগে ওঠার পরেও কিছুক্ষণ মনে থাকে, আর কিছু স্বপ্ন বেশ স্থায়ী দাগ রেখে যায় স্মৃতিতে। তাজপুর যেন অনেকটা, সে রকমই। তাজপুর আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে আপনার স্বপ্নে – সমুদ্রের ঢেউয়ের দোলা আর ফেনার আস্তরণ সঙ্গে সবুজ ঝাউগাছের গা- ঘেঁষাঘেঁষি বাস, যেন পথিকের ‘দিগন্ত-পথ’, কোথায় শেষ হবে, কেউ জানে না। জানতে চায়-ও না। ভ্রমর যেমন ফুলের সৌন্দর্যের তোয়াক্কা করে না, শুধু মধুর সন্ধানে ফুলের গভীরে ঢুকে যায়, তেমনই আমি এই প্রকৃতির সৌন্দর্যের তোয়াক্কা না করে, প্রকৃতির সৌন্দর্যের অনুভূতির মধ্যে ঢুকে পড়লাম। প্রকৃতি এখানে উদার আর উন্মত্ত। নরম সকাল, পড়ন্ত বিকেল, সাঁঝবেলা কি রাতের বেলায়… সব কিছুই তো আপনার!

এখানে আছে শুধু অন্তহীন ঢেউ ভাঙার শব্দ আর ঢেউ গোনার অবসর, নীলচে সুমুদ্রে কখনো আলো কখনো ছায়া, সফেদ ঢেউয়ের আছড়ে পড়া, সবুজ ঝাউগাছে, আলতো ছোঁয়ায় সেই ঢেউ পা-দুখানি ভিজিয়ে দিয়ে যাবে, বিন্দু বিন্দু জলকণা, স্নেহধারার মতো ঝরে পড়বে আপনার চোখে-মুখে।

sunrise at tajpur
নতুন সূর্য।

ঘুম থেকে উঠে এসে দাঁড়ালাম সমুদ্রের ধারে। শনশন হাওয়ায় ঝাউগাছগুলো পাগলের মতো দুলছে, চোখের সামনে সূর্য পৃথিবীকে চুমু খাচ্ছে, চমৎকার একটি আলো ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে, সেই আলোয় মাখামাখি হয়ে, আকাশ খিলখিল করে হেসে উঠছে। হঠাৎ করে আমার মাথায় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের চরিত্রহীন উপনাস্যের ‘কিরণময়ী ও দিবাকরের’ কথা মনে পড়ে গেল… কিরণময়ী দিবাকরকে চুম্বন করেছিলেন, তার পর খিলখিল করে হেসে উঠেছিলেন। মনে হল আমার চরিত্রহীন আর হয়ে ওঠা হল না। হালকা লালচে সোনালি রং-মাখা আকাশ, যেন পৃথিবীর সেরা সুন্দরী! খিলখিল করে হেসে উঠছে।

নতুন এক ফুসফুস পেলাম, তাজপুরে এসে, মনটা ভরে গেল। বয়সটা বেড়ে গিয়েছে, তা না হলে সারা দিন, নতুন প্রেম করলে যেমন হয়… শুধু কথা বলতাম আর ফটো তুলতাম।

শহর থেকে অল্প দূরে কোলাহলমুক্ত এক নির্জন জায়গা, ‘শব্দের অঙ্গীকার’ না-রাখা এক সমুদ্রতট – এই তাজপুর।

কচি আলো গায়ে মেখে জেগে ওঠা – পৃথিবীটাকে কী মায়াময় মনে হচ্ছে। ঘুম ভাঙা পাখিরা একটু হকচকিয়ে উঠেই, পৃথিবীটাকে দেখতে পেয়ে আনন্দে চিৎকার শুরু করেছে, কোমল ও বিনীত ভাবে সূর্য উঠছে!

casurina jungle, tajpur
ঝাউবনে পাতায় পাতায়।

তাজপুরের ঝাউবনে হাঁটতে হাঁটতে মনে হল এ যেন অভাগীর বুকে সবুজ ভালোবাসার গল্প, এক প্রান্তিক মানুষের আপনজন হয়ে ওঠার কথা, একই আকাশের নীচে, প্রান্তিক মানুষেরা অনেক বড়ো মনের মালিক বলে মনে হয়। প্রান্ত্যজনের বাঁচার হাতিয়ার…ঝাউগাছের ভিতর হাঁটা, আর সমুদ্রের ওপর আদিগন্ত নীল শামিয়ানা। এ যেন ‘অসময়ের পায়ে পায়ে হাঁটা’, শহুরে খোলস ছেড়ে দিয়ে মানবিক মন নিয়ে মিশে যান মানুষের সঙ্গে, দয়িত্বশীল ভবঘুরে ভাব নিয়ে – অনুভবটা অনেকটা এ রকম… ‘একেলা এসেছি এই ভবে, একেলাই চলে যেতে হবে…’।

সমুদ্রের ধারে এলে চোখে পড়ে  আকাশলীনা – কবি জীবনানন্দ দাস বলেছিলেন, ‘সমুদ্র আর আকাশ যেখানে মিশেছে, সেই হল ‘আকাশলীনা’, ইংরেজিতে যাকে বলে স্কাইলাইন’।

কবি সুবোধ সরকারের একটি লেখা পড়েছিলাম,”এখন কলকাতায় আকাশ কিনে নিচ্ছে, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো, পঞ্চাশ-ষাট তলা হাইরাইস বানিয়ে, ভেঙে চুরচুর করে দিচ্ছে আকাশরেখা, আসলে মানুষ ইন্ডাস্ট্রি চায়, চাকরি চায়, দু’বেলা দু’মুঠো পেটে দিতে চায়, আকাশ দিয়ে কি পেট ভরে! তাতে যদি আকাশ হারিয়ে যায়, কোনো ক্ষতি নেই। আমরা যেমন বছরে এক বার দু’ বার পিকনিক করতে জঙ্গলে যাই, কিন্তু জঙ্গল সঙ্গে করে নিয়ে আসি না, তেমনি আমরা আকাশ দেখতে যাব” – তাই পরের প্রজন্মকে আকাশলীনা দেখাতে তাজপুরের সমুদ্রের ধারে ছুটে ছুটে আসতে হবে।

beauty of tajpur beach
সুদূরের ডাক।

খাওয়ার কতগুলি অস্থায়ী আস্তানা সমুদ্রের ধারেই – চলুন না, দিনযাপনের একঘেয়েমি কাটাতে, এক কাপ কফি নিয়ে – না, মত বিনিময় নয়, হৃদয় বিনিময় করি, সেই হৃদয় যা আমরা খইয়ে ফেলতে ফেলতে এখনও দু’ হাতে আঁকড়ে ধরে রেখেছি। জীবন মানে তো হিরের খনি! মনে পড়ে গেল কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দু’টি লাইন, “অবান্তর স্মৃতির ভেতরে আছে, তোমার মুখ..অশ্রু ঝলোমলো..”।

‘২২শে শ্রাবণ’ – প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত একটি বাংলা সিনেমা দেখেছিলাম। ওঁর মুখে একটি সংলাপ ছিল, “জীবনে ভাত ডাল আর বিরিয়ানির ডিফারেন্সটা বোঝা দরকার, প্রথমটা নেসেসিটি,আর পরেরটা লাক্সারি”। ছোটো ছোটো এই বেড়ানোর মুহূর্তগুলোই, সেই নেসেসিটি, তাজপুরের সমুদ্রতট আর লাল কাঁকড়াদের লুকোচুরি, কিংবা মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের অনলস জীবনসংগ্রাম, আপনাকে সেই কথাই মনে করিয়ে দেবে, এটা নেসেসিটি। যদি কেউ অন্যের জিনিস আঁকড়ে থাকে, তা হলে সে একা হয়ে যাবে, কিন্তু যেগুলো নিজের, নিজের ভালোবাসা, নিজের কামনা, নিজের সৃষ্টি আঁকড়ে রাখলে, কোনোদিন একা হতে হবে না।

আরও পড়ুন বিশ্বনাথের বারাণসী, বারাণসীর বিসমিল্লাহ

আকাশ কালো, সাপের ফনার মতো মেঘগুলো সুমুদ্র থেকে উঠে আসছে। সুমিতা চেঁচিয়ে উঠল খানিকটা ভয়েই, সুনামি আসছে! সুনামি আসছে! আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম প্রকৃতির এই উন্মত্ত রূপ – সুমুদ্র ফুঁসছে, সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানি, আর বাজের চমক। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যাওয়া এই রূপ – এ কি মুহূর্তের উপলব্ধি না অনুভূতি? চিমটি কাটলাম। সম্বিত ফিরল ভাস্করের ডাকে – “অভিজিৎ দৌড়াও, বৃষ্টি নেমে গেছে যে”।

cloud on tajpur
ছায়া ঘনাইছে।

জানেন, ‘আপেক্ষিকতার তত্ত্ব’ খুব সহজ করে বোঝাতে আইনস্টাইন নাকি কাউকে বলেছিলেন, “মনে করো, কোনো লোকের একটি পা ফায়ার প্লেসের আগুনে ঠুসে দেওয়া হয়েছে, তা হলে সেই লোকটির কাছে পাঁচ মিনিটই মনে হবে এক ঘণ্টা। আবার কেউ যদি প্রেমিকার পাশে ঘনিষ্ট হয়ে বসে থাকে তা হলে তার এক ঘণ্টাকেই মনে হবে পাঁচ মিনিট” – প্রকৃতির এই রূপ দেখতে দেখতে আমার অনুভুতিটা অনেকটাই প্রেমিকার পাশে বসে থাকার মতো।

মনে হচ্ছিল, এত তাড়াতাড়ি, এত অল্প সময়ে, আমি স্নান করব কী করে, প্রকৃতির এই মুগ্ধতার সাথে।

আচ্ছা, কি মুশকিল! পাঁচ মিনিটে কি মহাভারত শেষ করা যায়?

শহরের কংক্রিটের তৈরি আস্তানাগুলো থেকে বেরিয়ে এসে রোজকার শহুরে মধ্যবিত্ত জীবন থেকে চুরি করে নেওয়া একটা ছোটো ছুটি, মনে থাকবে চিরকাল।

কোথায় থাকবেন 

তাজপুরে থাকার জন্য বহু হোটেল আছে, ঘরে বসে সুমুদ্র দেখা কোনো হোটেল থেকেই সম্ভব নয়, হোটেল ও সুমুদ্রের মধ্যে আপনার বাধা ঝাউগাছের সারি। এদের সন্ধান পেয়ে যাবেন makemytrip, holidayiq, tripadvisor, yatra.com, travelguru প্রভৃতি ওয়েবসাইট থেকে। আমরা ছিলাম মল্লিকা রিসর্টে (৯০০৭৪০১৮৬৮, ০৯৪৩৩০৭৫৪৬৪)।

কী ভাবে যাবেন

কলকাতা থেকে তাজপুর ১৭৩ কিমি, দিঘা যাওয়ার পথে বালিসাই, সেখান থেকে বাঁ দিকের রাস্তা ধরে ৫ কিমি গেলেই তাজপুর। চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা সময় লাগে। কলকাতা-দিঘা বাসের কন্ডাক্টরকে বলে রাখলে বালিসাইয়ে নামিয়ে দেবেন। সেখান থেকে মিলবে টোটো।

কাছাকাছি রেলস্টেশন রামনগর। হোটেলে আগে থেকে বলে রাখলে ওঁরা স্টেশন বা বালিসাই থেকে পিক আপের ব্যবস্থা রাখেন। অন্যথায় স্টেশন থেকে টোটো বা ট্রেকারে করেও চলে আসতে পারেন তাজপুর।

ছবি : লেখক

 

0 Comments
Share
chandpur-beach-in-a-short-weekend-tour
শ্রয়ণ সেন

সে দিন চাঁদের আলো…

কী জানতে চেয়েছিল? সম্ভবত তার আলোর ছটায় সমুদ্রকে কেমন লাগছে সেটাই জানতে চেয়েছিল। বলতে দ্বিধা নেই, সমুদ্রকে এ রকম মায়াবী রূপে আগে কখনও দেখিনি। যে জায়গার নামেই রয়েছে চাঁদ, সেখানে চাঁদ যে এ রকম মায়াবী রাত তৈরি করবে সেটা আন্দাজই করা যায়।

জায়গাটার নাম চাঁদপুর। বছর তিনেক হল পশ্চিমবঙ্গের ভ্রমণ-মানচিত্রে স্থান পেয়েছে নতুন উপকূলীয় এই গন্তব্যটি। দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণির তুলনায় এখনও সে ভাবে এর পরিচিতি বাড়েনি। এখানে থাকার জায়গাও মাত্র একটি, ‘হোটেল মুন’।

পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের সেই আপাত কুমারী সৈকতকে দেখতে সকালেই একটা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছি। হোটেলের ম্যানেজার আগে থেকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে সরাসরি গাড়িতে এলে তাজপুরের রাস্তা ধরতে। তাজপুর পেরিয়ে গেলে সমুদ্রের ধার দিয়ে পিচ রাস্তা ধরে কিলোমিটার তিনেক গেলেই পড়বে চাঁদপুর।

“হাত-পা ধুয়ে আগে আমাদের ছাদটা দেখে আসুন।”

হোটেলে ঢুকতেই এ কথাটি বললেন ম্যানেজার সাহেব। বলা ভালো আগে কখনও কোনো হোটেলে এ রকম শুনিনি, যে ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই পর্যটককে কেউ ছাদে পাঠায়। অবশ্য ছাদে না উঠলে বোঝা যেত না এই চাঁদপুরের আসল সৌন্দর্য। হোটেলের ঘরগুলি সি-ফেসিং নয়। ছাদই এই হোটেলের ইউএসপি। হোটেলের সামনে পিচ রাস্তা, তার ঠিক পরেই সমুদ্র।

সমুদ্রে এখন ভরা জোয়ার। বোঝা গেল এখানে সৈকত বলতে কিছুই নেই। বরং বলা ভালো, ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে সমুদ্র-ভাঙন। সেই ভাঙনকে আটকাতে তিন চারটে স্তরে শালবল্লা আর পাথর দিয়ে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতিকে রোখে কার সাধ্যি। তিনটে স্তরের বাঁধ টপকে জল চলে আসছে একদম প্রথম স্তরে। সেখানে রয়েছে একটি ছিটেবেড়ার ছোটো দোকান। কার্যত সেই দোকানের পেছনেই ধাক্কা মারছে জল।

আরও পড়ুন তারাপীঠকে ‘বুড়ি’ করে

চাঁদপুর সৈকত। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

সমুদ্রের এই ভয়ংকর রূপ দেখতে দেখতে কিছুটা সময় কেটে গেল। মধ্যাহ্নভোজনের ডাক এল নীচে থেকে।

এখানকার খাবারের আলাদা ভাবে তারিফ করতেই হয়। কাঁসার থালা-বাসনে কোনো হোটেলে খাওয়াতে পারে এটা ভাবা যায় না। ঘি সহযোগে ভাত, ডাল, আলুভাজা, আলুপটলের তরকারি, বেগুনভাজা এবং তার সঙ্গে ইয়া বড়ো বড়ো পমফ্রেট। পেট এবং মন দু’টোই ভরে গেল। এ রকম পেট ভরে খাওয়ার পর একটা ভালো ভাতঘুম চাইছিল শরীর।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়েছে। রোদটা একটু কমতেই বেরিয়ে পড়লাম। ভাটার ফলে সমুদ্র এখন বেশ কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছে। দেখা যাচ্ছে বালি। কিন্তু নামার কোনো উপায়ই নেই। সারি সারি শালবল্লা এবং পাথর পেরিয়ে সমুদ্রে নামতে গেলে চোট পেতে বাধ্য। কিন্তু সমুদ্রের ধারে এসে সমুদ্রে নামতে না পারা, এ কখনও হয়! উপায় বলে দিলেন স্থানীয় দোকানি। শংকরপুরে যাওয়ার কথা বললেন আমাদের। এখান থেকে সৈকত সরণি ধরে গেলে মাত্র ২ কিমি।

সমুদ্র-ভাঙন গ্রাস করেছে শংকরপুরকেও। সে এগিয়ে এসে গিলে খেয়েছে ঝাউবনের সারিকে। এখানেও তাকে আটকানোর জন্য তৎপর প্রসাশন। তৈরি করা হয়েছে ওল্ড দিঘার মতো বাঁধ। তবে ভাটা থাকায়, সেই বাঁধ পেরিয়ে সহজেই চলে গেলাম সমুদ্রের সামনে।

এ ভাবেই খেতে দেওয়া হয় হোটেল মুনে। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

উফ কী আরাম! অনেক দিন পর সমুদ্রের জলে পা ভিজিয়ে একটা অনাবিল আনন্দ গ্রাস করল। কিন্তু দিনের আলো যে কমে আসছে, তাই উঠে পড়তে হল।

লোডশেডিং যে এত ভালো লাগতে পারে সে দিন সন্ধ্যায় বুঝলাম। আসলে এখানে সন্ধ্যাটা ঘরে বসে কাটানোর জন্য নয়। যার ছাদ থেকে এত ভালো সমুদ্র দেখা যায়, সেখানে সন্ধ্যাটা ঘরে বসে কাটাব, এ হতেই পারে না। উঠে পড়লাম ছাদে। আর দু-তিন দিন পরেই পূর্ণিমা, তাই আকাশে বেশ বড়ো চাঁদ উঠেছে। একটু পরেই লোডশেডিং, ঝুপ করে অন্ধকার হয়ে গেল চার দিক। জেনারেটরের সৌজন্যে হোটেলের ঘরে আলো জ্বলেছে কিন্তু ছাদ বা আশেপাশের ঘরবাড়ি তো অন্ধকার। এই অন্ধকারকে কাজে লাগিয়েই আরও মায়াবী হয়ে উঠেছে সন্ধ্যাটা।

আরও পড়ুন জলসাঘরের করুণ সুরে নিমতিতা রাজবাড়ি

ফসফরাস থাকার জন্য অন্ধকারেও সমুদ্রের ঢেউ ভালো বোঝা যায়। চাঁদের আলোয় আরও ভালো করে উপভোগ করছি তাকে। জোয়ার আসছে, তাই ক্রমশ এগিয়ে আসছে জল।

হিসেব করতে পারলাম না যে কত দিন পর এ রকম ভাবে আকাশ দেখছি। আসলে বাড়ি-অফিস, অফিস-বাড়ি করতে করতে তো খোলা আকাশটাই আর দেখা হয়ে ওঠে না। সেই সঙ্গে দেখছি তারার সম্ভার। কোনটা সপ্তর্ষি মণ্ডল, কোনটা কালপুরুষ, বোঝার চেষ্টা করছিলাম এবং ছোটোবেলার পড়াশোনা ঝালিয়ে নিচ্ছিলাম।

সমুদ্র এবং মুক্ত আকাশ দেখতে দেখতে কখন যে রাত এগারোটা বেজে গিয়েছে খেয়ালই করিনি। রেস্টুরেন্ট থেকে নৈশভোজের ডাক এসেছে। তাই এই সুন্দর রাতের মায়া কাটিয়ে নেমে পড়লাম।

তাজপুর থেকে চাঁদপুর হয়ে শংকরপুরগামী এই রাস্তা। ছবি: লেখক

পরের দিন সক্কালে ঘুম ভাঙতেই বুঝলাম বাইরে অঝোরে বৃষ্টি।  ছাতা নিয়েই চলে গেলাম ছাদে। তবে ছাতা মাথায় দিতে হল না। ছাদেই, জলের ট্যাঙ্কের নীচে বেশ ভালো বসার জায়গা রয়েছে। সেখানেই বসে রইলাম। বৃষ্টি অবিরাম, কখনও কমছে কখনও বাড়ছে, কখনও পুরো সমুদ্র থেকে ধেয়ে আসছে কালো মেঘ আবার কখনও সেই কালো মেঘকে সরিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করছে এক চিলতে রোদ্দুর।

আরও পড়ুন এক টুকরো ইতিহাস – বাণগড়

তবে বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারলাম না। বাড়ি ফেরার তোড়জোড় শুরু করতে হবে যে। আসলে হাতে সময় অল্প। কোনো রকমে একদিনের ছুটি ম্যানেজ করে চলে এসেছি। বাড়ি ফিরেই আবার কর্মব্যস্ত জীবনে ঢুকে যেতে হবে।

সুযোগ পেলেই আবার চাঁদপুর চলে আসব, হোটেলের কর্মচারীদের এই আশ্বাস দিয়ে কলকাতার উদ্দেশে স্টার্ট দিল আমাদের গাড়ি। দিঘা তো কত বার গিয়েছি। কিন্তু চাঁদপুরের ওই মায়াবী রাত আমার স্মৃতিতে গেঁথে থাকবে অনেক দিন।

কী ভাবে যাবেন?

ট্রেনে গেলে হাওড়া থেকে তাম্রলিপ্ত বা কান্ডারি এক্সপ্রেসে চড়ে নামুন দিঘার আগে রামনগর স্টেশনে। স্টেশন থেকে গাড়ি বা টোটো পাওয়া যায়। আগে থেকে হোটেলকে বলে রাখলে পিকআপের ব্যবস্থাও হয়ে যাবে। রামনগর থেকে চাঁদপুর ৮ কিমি। বাসে গেলে নামুন বালিসাই বাসস্টপে। সেখানে থেকে তাজপুরের রাস্তা দিয়ে তাজপুর হয়ে পৌঁছে যান চাঁদপুর। দূরত্ব ৬ কিমি।

কোথায় থাকবেন?

হোটেল মুন। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

চাঁদপুর থাকার জন্য হোটেল মুন বেশ ভালো। সমুদ্রের ধারে অবস্থিত হলেও হোটেলের ঘর থেকে সমুদ্র দেখা যায় না। তবে ছাদ থেকে সমুদ্র দেখায় কোনো বাধা নেই। সারা দিন কাটিয়ে দিতে পারেন হোটেলের ছাদে। যোগাযোগ ৯৮৩০৪০১৪৬০। এ ছাড়াও চাঁদপুরে থাকার জন্য রয়েছে চাঁদপুর ভিলেজ ইকো রিসর্ট যোগাযোগ ০৮৪২০২৪৩৪৩৩।

0 Comments
Share
stay-at-sagar-darshan-in-somnath-experience-the-arabian-sea

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: সাধারণত মন্দিরের নিজস্ব গেস্ট হাউস বললেই আমরা বুঝি ধর্মশালা টাইপের কিছু। যেখানে ঘর পরিচ্ছন্ন হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার কোনো ব্যাপার থাকবে না। মন্দিরের গেস্ট হাউসের সেই চিরাচরিত ধারণাটাকেই বদলে দিয়েছে সোমনাথের সাগর দর্শন গেস্ট হাউস।

ভারতের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম গুজরাতের সোমনাথ। আরব সাগরের এক্কেবারে ধারে অবস্থিত এই মন্দির আবার বহু ঐতিহাসিক ঘটনারও সাক্ষী। ধর্ম, ইতিহাস, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সব মিলিয়ে এক অনন্য জায়গা সোমনাথ।

আরও পড়ুন ভোপাল থেকে চলুন স্থাপত্য এবং ইতিহাসের শহর ভোজপুরে

এই মন্দিরের ঠিক পাশেই অবস্থিত মন্দির কমিটির গেস্ট হাউস সাগর দর্শন। এই গেস্ট হাউসকে দেখলে এক পলকে আপনার কোনো থ্রি-স্টার হোটেল মনে হতে পারে। হোটেলটির অধিকাংশ ঘরই সমুদ্রমুখী। ব্যালকনিতে বসে আরাম করে আরব সাগরকে প্রত্যক্ষ করা যেতে পারে।

ঘর থেকে সমুদ্র দর্শন। ছবি: ট্রিপআডভাইসর

এই গেস্ট হাউসে এসি দ্বিশয্যা ঘরের ভাড়া ২২৫০ টাকা, স্যুটের ভাড়া ৩০০০ টাকা।

তবে যাঁরা ঘরে বসে সমুদ্র দেখে দেখে সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য এই গেস্ট হাউস এক কথায় অনন্য। আর যাঁরা শুধুমাত্র মন্দিরে পুজো দেওয়ার কারণে সোমনাথে থাকতে চান একটু কম খরচে, তাদের জন্যও গেস্ট হাউস রয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষের। সেগুলি হল লীলাবতী অতিথি ভবন, মহেশ্বরী অতিথি ভবন এবং তন্না অতিথি গৃহ।

সাগর দর্শন-সহ সব গেস্ট হাউসই অনলাইনে বুক করা যায়। বুকিং-এর জন্য লগইন করুন, booking.somnath.org-এই ওয়েবসাইটে।

0 Comments
Share
lakshadweep-to-open-12-islands-for-the-tourists

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: পর্যটনের প্রসারে আরও বারোটা দ্বীপ পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লাক্ষাদ্বীপ প্রশাসন। যে দ্বীপগুলিতে পর্যটকরা যেতে পারবেন তাদের মধ্যে রয়েছে মিনিকয়, বঙ্গারাম, সুহেলি, চেরিয়াম, টিন্নাকারা, কালপেনি, কদমাত, আগাত্তি, চেতলাত এবং বিত্রা। 

লাক্ষাদ্বীপে পর্যটনের প্রসারের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র। সেই পদক্ষেপের হাত ধরেই এই দ্বীপগুলিকে খুলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে কর্মসংস্থানও বাড়বে বলে আশা প্রশাসনের। 

লাক্ষাদ্বীপ পর্যটনের ডিরেক্টর বলরাম মিনা বলেন, “এই বারোটা দ্বীপ পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার ফলে সেখানকার স্থানীয় মানুষের মধ্যে কর্মসংস্থানও বাড়বে।” ইতিমধ্যে এই দ্বীপগুলিতে প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপে বেশ কিছু রিসর্ট তৈরি করা হচ্ছে। কিছু দিনের মধ্যেই সেগুলি খুলে দেওয়া হবে। স্কুবা ডাইভিং-এর মতো জলক্রীড়ারও আয়োজন করা হচ্ছে। তবে দ্বীপগুলি খুলে দেওয়া হলেও, সেখানকার পরিবেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই দিকেও নজর রাখছে প্রশাসন। 

lakshadweep

মীনার মতে, “লাক্ষাদ্বীপের বিভিন্ন দ্বীপে বিভিন্ন রকম বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কোথায় কৃষিকাজ বেশি হয়, কোথাও মৎস্যচাষ বেশি হয়। আবার কোথাও ওষধি গাছ বেশি হয়। পর্যটকদের কাছে এই দ্বীপকে অন্য রকম ভাবে তুলে ধরা হবে।”

 

0 Comments
Share
a-trip-to-tajpur-beach
debasree nandi
দেবশ্রী নন্দী

ঘুরে এলাম তাজপুর। হঠাৎই।

আসলে আমি ও আমার কর্তা দু’জনেই ভ্রমণপিপাসু। বেশি দিন নিজেদের ঘরবন্দি করে রাখতে পারি না। তাই এক শনিবার ঠিক করলাম এক দিনের জন্য ঘুরে আসব। সমুদ্রপাড়ে কোথাও। কিন্তু কোথায়? প্রথমে ভাবলাম দিঘা। পরে ভাবলাম দিঘা তো অনেক বার ঘোরা। অন্য কোথাও গেলে কেমন হয়? তখন হঠাৎ মনে হল তাজপুরের কথা। নাম শুনেছি কিন্তু যাইনি কখনও। ব্যস, বেড়িয়ে পড়লাম গাড়ি নিয়ে।

ভোর ৬টায় যাত্রা শুরু। দ্বিতীয় হুগলি সেতু হয়ে বম্বে রোড ধরলাম। কিন্তু যা! ঝিরঝির করে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল যে! কী মুশকিল। বম্বে রোডে ট্রাফিক বেশ বেশি। তার ওপর বৃষ্টি হওয়ায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়াল। যা-ই হোক, বেশ সাবধানতা অবলম্বন করে আমরা পৌঁছোলাম আজাদ হিন্দ ধাবায়। ওখানে জলখাবার সারলাম। তখন ঝমাঝম বৃষ্টি নেমে গিয়েছে। কী আর করা যাবে। এমনিতেই দেরি হয়ে গিয়েছে। আর দেরি করা ঠিক হবে না। তাই বৃষ্টি মাথায় করেই বেরিয়ে পড়লাম। কোলাঘাটে চা খেয়ে দুপুর দেড়টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম তাজপুর।

বেশ দেরি হয়ে গিয়েছিল। তাই হোটেলে পৌঁছে চটপট জামাকাপড় বদলে দুপুরের খাওয়ার অর্ডার দিয়ে আমরা পৌঁছে গেলাম বিচে। আহা! কী নির্জন আর মনোরম বিচ এই তাজপুর। কত দিন বাদে সমুদ্রে এলাম! মনটা বেশ ভালো লাগল। ঝাউবন এই সৈকতের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আমার মেয়ে আর ধৈর্য রাখতে না পেরে নেমে পড়ল স্নান করতে। আমার কর্তাও নামল আমাকে জিনিসপত্র দেখার দায়িত্ব দিয়ে। সৈকতেই বেশ কয়েকটা ছোটো ছোটো চা আর স্ন্যাক্সের দোকান নজরে পড়ল। ওখানে চা আর ডিমভাজা নিয়ে সমুদ্রের গর্জন শুনতে যে কী ভাল লাগছিল কী বলব।

when rain comesকিন্তু আবার হঠাৎ কোথা থেকে যেন কালো মেঘ জমাট বেঁধে নামিয়ে দিল বৃষ্টি, তার সঙ্গে প্রবল ঝড়। ঝোপড়ি চায়ের দোকানই তখন আমাদের আশ্রয়। সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠল। সমুদ্রে বৃষ্টি দেখার অনুভূতি কিন্তু দারুণ। কলকাতায় তো প্রায়ই বৃষ্টি দেখি কিন্তু সমুদ্র বা পাহাড়ে সম্পূর্ণ অন্য রকম লাগে।

আরও পড়ুন : চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে উঠে আসা দ্বীপে এক রাত 

অপেক্ষা করছিলাম কখন বৃষ্টি থামবে। খিদে পেয়ে গিয়েছিল প্রচণ্ড, কখন যে হোটেলে ফিরতে পারব!। বেশ কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি থামল। হোটেলে ফিরে এলাম। হোটেলের খাওয়া খুব ভালো, সুস্বাদু। ম্যানেজারের আতিথেয়তাও তারিফ করার মতো।

যা-ই হোক, হাতে সময় কম, তাই যতটা পারলাম ঘোরার চেষ্টা করলাম। বিকেলে সমুদ্রতট ধরে সোজা হাঁটলাম। ও-দিকের বিচটা পরিষ্কার। তাই বেশ ভালো লাগল। আস্তে আস্তে সন্ধ্যা হল কিন্তু বৃষ্টির বিরাম নেই। খেপে খেপে পড়েই যাচ্ছিল। একটু কমে আবার একটু বাড়ে। এই ভাবেই চলল বাকি দিনটা। বেশ কিছুক্ষণ সৈকত-ভ্রমণের পর বৃষ্টির ইঙ্গিত অনুভব করে অগত্যা হোটেলমুখো হতেই হল।

পরের দিন সকালে জলখাবার খেয়ে আমরা যাত্রা করলাম বাড়ির দিকে, সঞ্চিত স্মৃতি বুকে নিয়ে।

আরও পড়ুন : পুজোয় অদূর ভ্রমণ / ড্যাঞ্চিবাবুদের পশ্চিমে 

কী ভাবে যাবেন

(১) দিঘাগামী ট্রেনে গেলে নামতে হবে রামনগর স্টেশনে। স্টেশন থেকে তাজপুর সৈকতে যাওয়ার নানা ধরনের যান পাওয়া যায়। হোটেল আগে থেকে সংরক্ষণ করা থাকলে এবং ওদের বলে রাখলে স্টেশন থেকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে।

(২) দিঘাগামী বাসে গেলে কন্ডাক্টরকে বলে রাখলে চাউলখোলার পরে তাজপুর মোড়ে নামিয়ে দেবেন কন্ডাক্টর। ওখান থেকে চার কিমি তাজপুর সৈকত। ভ্যানগাড়ি, ভ্যানো, টোটো ইত্যাদি পাওয়া যায়। তা ছাড়া হোটেলকে বলে রাখলে তারা ব্যবস্থা করে।

(৩) নিজেদের গাড়িতে গেলে জাতীয় সড়ক ৬ ধরে মেচেদা। তার পর বাঁ দিকে হলদিয়াগামী জাতীয় সড়ক ধরে নন্দকুমার। সেখান থেকে ডান দিকে দিঘার রাস্তায়। কাঁথি পেরিয়ে চাউলখোলা ছাড়িয়ে তাজপুর মোড় থেকে বাঁ দিকে।

কোথায় থাকবেন

তাজপুরে থাকার জন্য বেশ কয়েকটা বেসরকারি হোটেল আছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হোটেল তাজ ভিলা (৮০০১৮৭৪৯৪),
হোটেল শ্রেয়সী (৮৩৪৬৯৭৪৩৫, ৯৯৩২৪৭৩৪৩৭), জঙ্গল ক্যাম্প রিসর্ট (০৯৮৩১১৬৭৫৩৭) প্রভৃতি।

0 Comments
Share