Category ভ্রমণকথা

দ্বাদশীর জ্যোৎস্নায় ভেসে যায় বিজনবাড়ি, সঙ্গী রঙ্গিত

পাপিয়া মিত্র ঝিনঝিনে বৃষ্টি মাথায় পাচেং ছাড়লাম। এ বার যাব বিজনবাড়ি। আলুর পরোটা আর ঘরে পাতা টকদই সহযোগে প্রাতরাশ সারলাম। দু’টি রাতদিনের মাঝে কখন যে আমিনার সংসারের একজন হয়ে উঠেছিলাম বুঝতে পারিনি। চিয়াবাড়ির মালিকের গোরু আছে। খেতখামার আর গোরুর দেখভাল…

শ্রাবণ-স্নাত চা বাগিচার সান্নিধ্যে

পাপিয়া মিত্র আবছায়া বাঁশের কুটিরে দীর্ঘ পথের বিশ্রাম। বাইরে শ্রাবণের রিমঝিম সুর। টুকটুক করে ঘরে ঢুকে লাফিয়ে একবারে খাটে। খাট থেকে কোলে। তুলতুলে শরীর নিয়ে কোল ঘেঁষে জায়গা করে নিল। গাল মুখ শুঁকে আরও আদর খাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে বুকের…

সিসামারার পাড়ে, জলদাপাড়াকে চিনলাম অন্য ভাবে

শ্রয়ণ সেন ডাইনিং হল তো না, এ তো ইতিহাসে পড়া সেই প্রস্তরযুগ! টেবিল, চেয়ারগুলো দেখে মনে হচ্ছে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নানা আকারের শিলাখণ্ড। সেখানেই বসে খাওয়াদাওয়া। আদতে টেবিলগুলো শিরীষ গাছের কাণ্ড থেকে তৈরি, আর চেয়ারগুলো বনকাঁঠালের।   খেতে বসে আরও এক…

বিদায় পাহাড়, নেমে এলাম ডুয়ার্সে

শ্রয়ণ সেন ‘চায়ের কাপে তুফান তোলা বাঙালি’ যদি কোনো নামী চায়ের কাফের পাশ দিয়ে যায়, এক বার ঢুঁ মারবেই। আমরাও ব্যতিক্রম নই। ঢুকে পড়েছি মালবাজারের ‘টি মোমেন্টস’ কাফেতে। লাল চা শরীরকে চাঙ্গা করে। পাহাড়ের ঠান্ডা থেকে আচমকা গরমে নেমে কিছুটা…

মেঘভাঙা বৃষ্টি, দুর্যোগ সঙ্গে নিয়ে এলাম লুংচু

শ্রয়ণ সেন মাত্র ৪৭ কিলোমিটার রাস্তা। সাধারণত পাড়ি দিতে সময় লাগে বড়োজোর ঘণ্টা আড়াই। কিন্তু আমাদের সেটাই লাগল সাড়ে চার ঘণ্টা। আজ সকালে মুনথুম থেকে এখানে আসার জন্য যখন বেরিয়েছিলাম তখন ঘড়িতে সাড়ে দশটা। আর এখানে এসে পৌঁছোলাম যখন, ঘড়ি…

বৃষ্টিস্নাত মুনথুমের সবুজ-সান্নিধ্যে

শ্রয়ণ সেন পাহাড়ের ঢালে ধাপে ধাপে কয়েকটি বাঁশের কটেজ। সব থেকে ওপরের কটেজটি রাস্তা থেকে কিছুটা নেমেই। আর সব থেকে নীচের কটেজে যেতে হলে এই বর্ষায় আপনাকে কিছুটা পরিশ্রম করতে হবে। হাঁটুর জোর অত্যন্ত জরুরি। আর বর্ষাকাল বলে সিঁড়িও কিছুটা…

এলাম কালিম্পং পাহাড়ে, পৌঁছোলাম মুনথুম

শ্রয়ণ সেন বর্ষায় পাহাড়কে অন্য রকম ভাবে চেনার জন্য এই সফর করছি আমরা। বেছে নিয়েছি এমন কিছু জায়গা যা বাধা গতের টুরিস্ট সার্কেলের বাইরে। এমনই দু’টো জায়গায় থাকার পালা শেষ হয়ে গেল। এ বার রওনা নতুন একটা জায়গার উদ্দেশে। আজ…

করোনা-কালে হরিদ্বার পূর্ণকুম্ভে/শেষ পর্ব: বিদায় ব্রহ্মকুণ্ড, বিদায় হর কি পৌড়ী

অশোককুমার কুণ্ডু এমন সুযোগ কদাচ মেলে। সুবর্ণ সুযোগ। হ্যাঁ, একজন জৈন দিগম্বর দাঁড়িয়ে আছেন। আমজনতার স্নান দেখছেন। উদাস দৃষ্টি। জনস্রোত আর গঙ্গার স্রোত মিশে বয়ে চলেছে ব্রহ্মকুণ্ড থেকে অরূপকুণ্ডে। এই জৈন দিগম্বর মুনিজি মাস্কহীন, মুখ উন্মুক্ত। দক্ষিণ হস্তে ছোট্ট একটি…

নদী আপন বেগে… বিজনবাড়িতে

শ্রয়ণ সেন  কটেজের অবস্থান দেখেই পথের সমস্ত ক্লান্তি, সমস্ত রাগ এক লহমায় দূর হয়ে গেল। খরস্রোতা ছোটা রঙ্গিত নদী কটেজের গা ঘেঁষে বয়ে যাচ্ছে। বিছানায় একটু গা এলিয়ে দিলেই মনে হচ্ছে নদী আমাকেও ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই হল বিজনবাড়ি। এই…

করোনা-কালে হরিদ্বার পূর্ণকুম্ভে/৯: ব্রহ্মকুণ্ডের ব্রিজে দাঁড়িয়ে এক দিগম্বর জৈন মুনি

অশোককুমার কুণ্ডু আমারই দুর্ভাগ্য। বরফানি কুম্ভ, হরির দুয়ারে পূর্ণকুম্ভ, মায়াপুরীর পূর্ণকুম্ভ আমার মনে যে দগদগে ঘা দিয়েছিল, তা আজও মনে পড়ে যায়। বেদনা হয় বই-কি! ১৯৯৮ সালে বিংশ শতাব্দীর শেষ পূর্ণকুম্ভে অধ্যাত্মবাদীদের রক্তাক্ত লড়াই। তার স্মৃতি এখনও টাটকা। ২০১০ সালে,…