হিমাচল খুলে গেলেও, আপাতত স্পিতির দরজা বন্ধই থাকছে পর্যটকদের জন্য

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: পর্যটকদের জন্য হিমাচলের দরজা খুলে গেলেও, আপাতত স্পিতি তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকবে। স্পিতি ট্যুরিজম সোসাইটি ঠিক করেছে, রাজ্যের পর্যটন সম্পর্কিত কোনো কাজকর্মে তারা থাকবে না।

রাজ্যের মধ্যে ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের উপর থেকে সমস্ত রকম নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পিতির পর্যটন সংগঠন। বুধবার হিমাচল প্রদেশ সরকার সিদ্ধান্ত করেছে, এখন থেকে তাদের প্রবেশ করতে গেলে কোনো ই-পাস লাগবে না বা কোনো কোভিড নেগেটিভ রিপোর্টেরও প্রয়োজন নেই।

করোনাভাইরাস অতিমারির প্রভাব হিমাচলের লাহুল-স্পিতি এখনও পর্যন্ত খুব বেশি পড়েনি। ওই অঞ্চলের পঞ্চায়েত, মহিলা মণ্ডল ও যুবক মণ্ডল নানা রকম নিষেধাজ্ঞা জারি করায় করোনা-পরিস্থিতির কোনো বাড়াবাড়ি হয়নি। এতদঞ্চলের পর্যটন শিল্প গত মার্চ থেকেই পর্যটন সম্পর্কিত সমস্ত কাজকারবার বন্ধ করে দেয়।

চন্দ্রতাল
চন্দ্রতাল

লকডাউন জারি করা এবং তা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এখানকার মানুষজন এত কড়া ছিলেন যে, স্থানীয় বিধায়ক এবং রাজ্যের উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রী ড. রামলাল মরকন্ডাকে স্পিতি অঞ্চলে ধুঁকতে দেওয়া হয়নি।

স্পিতি ট্যুরিজম সোসাইটির সভাপতি জেরিং শাক্য বলেছেন, রাজ্যের ভিতরে এবং বাইরে একটা বার্তা পাঠানোর জন্যই পর্যটন সম্পর্কিত সমস্ত কাজকারবার এ বছর বন্ধ রাখার ব্যাপারে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

তিনি জানান, এ বছরের মতো সমস্ত হোটেল, হোম-স্টে এবং পর্যটনের সমস্ত কাজ বন্ধ থাকছে।

স্পিতির অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার জ্ঞান সাগর নেগিকে পাঠানো এক চিঠিতে স্পিতি ট্যুরিজম সোসাইটি বলেছে, “স্পিতির মতো অত্যুচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে করোনা মহামারির কী প্রভাব পড়তে পারে সে সব বুঝেই এই সিদ্ধান্ত করা হয়েছে। এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থা খুবই কড়া ধাতের, শীতের কামড় অনেক সময়েই সহ্যসীমার বাইরে চলে যায়, এই অঞ্চলের পরিকাঠামো অনুন্নত আর চিকিৎসা পরিষেবাও খুব সীমাবদ্ধ। চিকিৎসাব্যবস্থা যেটুকু আছে, সেটুকুও কাজে লাগে অ্যাকিউট মাউন্টেন সিকনেস-এর (এএমএস) চিকিৎসায়।”

ধাঙ্খারের রাস্তা
ধাঙ্খারের রাস্তা

হিমাচল প্রদেশের উত্তরপূর্ব প্রান্তে অবস্থিত স্পিতি উপত্যকা সারা দেশ থেকেই পর্যটকদের আকর্ষণ করে। হিমালয়ে ১৩-১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত স্পিতি উপত্যকার খ্যাতি তার অপরূপ নৈসর্গিক শোভা, মনাস্টেরি, লেক আর গ্লেসিয়ারের জন্য।

তাবোর হাজার বছরের পুরোনো গুম্ফা, স্পিতি নদীর পাড়ে ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় কাজা শহর, স্পিতির অতীত রাজধানী ধ্রাংখার, কাজা থেকে ১২ কিমি দূরে সাড়ে ১৩ হাজার ফুট উচ্চতায় মৌচাকের মতো ঝুলে থাকা কী মনাস্টেরি, কী থেকে ৮ কিমি দূরে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত (১৩৮০০ ফুট) গ্রাম কিব্বের, ধ্রাংখার থেকে ৫ কিমি দূরে পিন ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক (১১৮০০ ফুট থেকে ২১৭৫০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ব্যাপ্ত), প্রায় ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় কুনজুম পাস, ১৪১০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ২.৫ কিমি পরিধির নীলাভ জলের চন্দ্রতাল লেক – স্পিতির এই সব আকর্ষণ আপাতত পর্যটকদের দৃষ্টির আড়ালেই থাকবে।

স্পিতি ট্যুরিজম সোসাইটি অবশ্য স্বীকার করেছে, তাদের অঞ্চলে পর্যটন বন্ধ থাকলে উপত্যকার অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে, কারণ এই অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত পর্যটনের উপরেই নির্ভরশীল। কিন্তু করোনা মহামারি আটকাতে এ ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *