পুরীর সৈকত।

পুরীর সৈকতে বিচ-শ্যাক তৈরি করা হচ্ছে না, জানিয়ে দিল ওড়িশা সরকার

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: পুরীর সৈকতে গোয়ার মতো বিচ-শ্যাক তৈরি করার পরিকল্পনা বাতিল করে দিল ওড়িশা সরকার। সরকার এই সিদ্ধান্ত্ নেওয়ার পরে বিভিন্ন মহল থেকে প্রবল আপত্তি ওঠে। গোবর্ধন পীঠের বর্তমান শংকরাচার্য স্বামী নিশ্চলানন্দ সরস্বতীও এ ব্যাপারে তাঁদের তীব্র বিরোধিতা ব্যক্ত করেছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার।

সৈকত-ঝোপড়ি তথা বিচ-শ্যাক তৈরি করার পরিকল্পনা বাতিল করার কথা ঘোষণা করেছেন পুরীর জেলাশাসক ও কালেক্টর সমর্থ বর্মা। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার এই প্রকল্প আপাতত কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্য সরকার ও ওড়িশা পর্যটন উন্নয়ন কর্পোরেশনের (ওটিডিসি) যৌথ উদ্যোগে  পুরী ও গোপালপুরে পাঁচটি সৈকত-ঝোপড়ি তথা বিচ-শ্যাক তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

সমর্থ বর্মা বলেন, “পুরী একটি হেরিটেজ শহর। এর একটা আধ্যাত্মিক গুরুত্ব আছে। আমরা সে ভাবেই এই শহরের উন্নয়নের চেষ্টা করব।” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকার এমন কিছু করবে না যাতে পুরীর ঐতিহ্য নষ্ট হয়।

স্বামী নিশ্চলানন্দ সরস্বতী ও ৫০টি সংগঠন পুরীর সৈকতে বিচ-শ্যাক প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রবল আপত্তি জানান। তাঁদের বক্তব্য, ওই শ্যাকগুলিতে মদ সরবরাহ করা হবে।

পুরীর সৈকত।

শংকরাচার্য চান, পুরীর সৈকতে ভজন-কীর্তন হোক

গোবর্ধন পীঠের শংকরাচার্য বৃহস্পতিবার বলেন, পুরীর শ্রীজগন্নাথ ধাম আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় আত্মানুসন্ধানের স্থল। কোনো ভাবেই পুরীর সৈকতে মদ বা অন্য কোনো নেশার দ্রব্য পান করতে দেওয়া যায় না।” বরং এর পরিবর্তে পুরীর ৩ কিমি দীর্ঘ সৈকতে ভজন-কীর্তন এবং আরতি অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য তিনি রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন বলে জানান।

বেশ কয়েক জন মহিলা সমাজকর্মীও বিচ শ্যাক প্রকল্পের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের মতে, এই প্রকল্প কার্যকর হলে মেয়েরা নানা ধরনের অপরাধের শিকার হবে।

এ সব আপত্তির পর শুক্রবার রাজ্য সরকার তাদের প্রকল্প বাতিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।   

আরও পড়ুন: আগস্টেই হিরাকুদে শুরু হচ্ছে নৌভ্রমণ, রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ পাবেন পর্যটকরা

আরও পড়তে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published.