আমাদের বাছাই

শীতে চলুন /৩ : হেরিটেজ গুজরাত

winter-destinations-part-3-heritage-gujarat

গুজরাত বেড়ানোর আদর্শ সময় শীতকাল – নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত। গুজরাতের জন্য তিনটি ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করেছে  ভ্রমণ অনলাইন। আজ প্রথমটি, হেরিটেজ গুজরাত। 

বডোদরা (বরোদা)-অমদাবাদ-মহেসানা-মাউন্ট আবু

প্রথম ও দ্বিতীয় দিন – রাত্রিবাস বডোদরা।

sursagar lake, vadodara
সুরসাগর লেক, বডোদরা।

হাওড়া-অমদাবাদ এক্সপ্রেস হাওড়া ছাড়ে রাত ১১.৫৫-য় বডোদরা পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ১০.৫৬ মিনিটে। এ ছাড়া রয়েছে হাওড়া-পোরবন্দর-ওখা ত্রিসাপ্তাহিক এক্সপ্রেস। হাওড়া ছাড়ে মঙ্গল, শুক্র ও শনিবার রাত ১০.৫০-এ, বডোদরা পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৬.৫৩ মিনিটে। সাপ্তাহিক শালিমার-ভুজ এক্সপ্রেস। প্রতি শনিবার রাত ৮.২০-এ শালিমার ছেড়ে বডোদরা পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৬.৫০ মিনিটে। সাপ্তাহিক পোরবন্দর কবিগুরু এক্সপ্রেস প্রতি রবিবার রাত ৯.২৫-এ সাঁতরাগাছি ছেড়ে বডোদরা পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৮.২৫-এ। সাপ্তাহিক গর্ভ এক্সপ্রেস প্রতি সোমবার রাত ১১টায় হাওড়া ছেড়ে বডোদরা পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৮.৪০-এ।

দিল্লি থেকে বডোদরা আসার অনেক ট্রেন আছে। তারই মধ্যে হজরত নিজামুদ্দিন থেকে বিকেল ৪.৫০-এর আগস্ট ক্রান্তি রাজধানী, নিউদিল্লি থেকে বিকেল ৪.২৫-এর মুম্বই রাজধানী এবং ৪.৪৫-এর পশ্চিম এক্সপ্রেস বডোদরা পৌঁছে দেয় সকালের মধ্যে।

আরও পড়ুন শীতে চলুন/১: গড়-জঙ্গল-হাভেলির রাজস্থান

মুম্বই থেকে বডোদরা পাঁচ-ছ’ ঘণ্টার ট্রেন জার্নি। সব চেয়ে ভালো ট্রেন মুম্বই সেন্ট্রাল থেকে সকাল ৬.২৫-এর শতাব্দী এক্সপ্রেস। বডোদরা পৌঁছোয় সকাল ১১টায়। ভারতের অন্য জায়গা থেকে এলে মুম্বই বা দিল্লি হয়ে বডোদরা আসা ভালো।

 ভারতের প্রায় সব বড়ো শহরের সঙ্গে বডোদরা বিমানপথে যুক্ত। 

shri aurovanda niwas, vadodara
শ্রীঅরবিন্দ নিবাস, বডোদরা।

শ্রীঅরবিন্দের স্মৃতি বিজড়িত বডোদরা পৌঁছে প্রথম দিন দেখে নিন সুরসাগর লেক, লেকের পাড়ে ন্যায় মন্দির, তিলক রোডে সওয়াজি বাগ, শ্রীঅরবিন্দ নিবাস, স্টেশন থেকে তিন কিমি দূরে ই এম ই স্টিল টেম্পল, নন্দলাল বসুর দেওয়াল-অঙ্কন সমৃদ্ধ কীর্তি মন্দির, বরোদা মিউজিয়াম অ্যান্ড আর্ট গ্যালারি, শ্রী সওয়াজি সরোবর ইত্যাদি।

দ্বিতীয় দিন চলুন চম্পানের-পাওয়াগড়-জম্বুঘোড়া।

jama masjid, champaner
জামা মসজিদ, চম্পানের।

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত চম্পানের-পাওয়াগড় প্রত্নতাত্ত্বিক পার্ক ১৫২৩-এ সুলতান বাগেড়ার তৈরি জামা মসজিদ শৈল্পিক উৎকর্ষে অনবদ্য। দেখে নিন কেভাদা মসজিদ, লীলা গুম্বজ কি মসজিদ, নাগিনা মসজিদ ও সেনোট্যাফ। পাহাড়ের নীচে রাজপুত-কীর্তি সাত মাইল প্রাসাদ। মাচি থেকে দেড় কিমি হেঁটে বা ৭০০ মিটার দীর্ঘ রোপওয়ে চড়ে পৌঁছে যান ৮২০ মিটার উঁচু পাওয়াগড়ের পাহাড়চুড়োয়। সোলাঙ্কিদের দুর্গ ও প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ দেখুন। ২২৫ সিঁড়ি উঠে পাওয়াগড় শিখরে দেখুন মহাকালিকা মন্দির। আছে লাকুলিসা মন্দির, এক গুচ্ছ জৈন মন্দির, দুধিয়া তালাও, ছাঁছিয়া তালাও, ত্রিতলিকা চম্পাবতী মহলচম্পানের-পাওয়াগড় দেখে চলুন ২০ কিমি দূরের জম্বুঘোড়া অভয়ারণ্য। সবুজ জঙ্গল-পাহাড়-জলাশয়ে মোড়া প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র।

তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম দিন ও ষষ্ঠ দিন – রাত্রিবাস অমদাবাদ

বডোদরা  থেকে অমদাবাদ  আসার জন্য সারা দিন অনেক ট্রেন রয়েছে। সকালের দিকে যে কোনো ট্রেন ধরে ঘণ্টা দুয়েকে চলে আসুন অমদাবাদ। বাসও চলে মুহুর্মুহু। আর যদি গাড়ি ভাড়া করে আসেন তা হলে বডোদরা থেকে ৮৯ কিমি দূরের ডাকোর দেখে সেখান থেকে ৯২ কিমি দূরের অমদাবাদ পৌঁছোন। ডাকোরে দেখুন রণছোড়জি তথা শ্রীকৃষ্ণের মন্দির

kankaria lake, ahmedabad
কাঁকারিয়া লেক, অমদাবাদ।

সবরমতীর ধারে অমদাবাদ। এখানে দ্রষ্টব্য অনেক। প্রায় তিনটে দিন লেগে যায় অমদাবাদ দেখতে। শুরু করুন রিভার ফ্রন্ট দিয়ে। চলুন লাল দরোজার কাছে সিদি সৈয়দ জালি মসজিদ। এর পর ভদ্রা ফোর্ট ও ভদ্রকালী মন্দির দেখুন। তার পর চলুন সরখেজ রোজায় সুলতান মামুদ বেগারার সমাধি দেখতে। দেখুন রানি সিপ্রির মসজিদ, স্বামীনারায়ণ মন্দির, জামা মসজিদ, তিন দরওয়াজা। দেখুন এক গুচ্ছ মিউজিয়াম — ক্যালিকো মিউজিয়াম অব টেক্সটাইলস, বেচার ইউটেনসিল মিউজিয়াম, কাইট মিউজিয়াম দেখে নিন সর্দার পটেল মিউজিয়াম। বিনোদনের হরেক ব্যবস্থা সহ কাঁকারিয়া হ্রদ। হ্রদের পাড়ে বাল বাটিকা।

দেখুন গান্ধীজির গড়া সবরমতী আশ্রম। এলিস ব্রিজে সবরমতী পেরিয়ে শহর থেকে ৭ কিমি উত্তরে সবরমতীর ধারে আশ্রম। এলিস ব্রিজে সবরমতী পেরোনোর আগে দেখুন ভিক্টোরিয়া গার্ডেন

adalaj vav
আদালজ ভাভ।

রয়েছে আরও দ্রষ্টব্য — শাহ আলমের রৌজা (শহর থেকে ৩ কিমি দক্ষিণ পুবে), রানি রূপমতী মসজিদ (মির্জাপুরে), মসজিদ-ই-নাগিরা (মানেকচকে), দরিয়া খাঁয়ের সমাধি (গুজরাতের সর্বোচ্চ গম্বুজ), আদালজ ভাভ তথা স্টেপওয়েল (১৯ কিমি), অক্ষরধাম মন্দির (২৩ কিমি দূরে গান্ধীনগরে) ইত্যাদি।

অমদাবাদ অবস্থানকালে এক দিন ঘুরে আসুন লোথাল ও নল সরোবর – অমদাবাদ থেকে ৭৫ কিমি, ট্রেনে তিন ঘণ্টার পথ লোথাল। বাসও চলে। তবে সময় বাঁচাতে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়াই ভালো। সিন্ধু সভ্যতার সমসাময়িক সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে লোথালে। বলা হয়, হরপ্পা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ৫০০ বছরে পরেও লোথাল সভ্যতা টিকে ছিল। পরবর্তী কালে বন্যায় ধ্বংস হয় এই সভ্যতা। লোথাল দেখে চলুন ৪০ কিমি দূরের নল সরোবর পাখিরালয়। দেশ-বিদেশ থেকে আসা পাখিরা শীতে আস্তানা গাড়ে নল সরোবরের বেট থেকে বেটে। বেট অর্থে দ্বীপ। নল সরোবর দেখে ফিরে আসুন ৬৬ কিমি দূরের অমদাবাদে।

nal sarovar
নল সরোবর

সপ্তম দিন – রাত্রিবাস মহেসানা

অমদাবাদ থেকে সকালের ট্রেন বা বাস ধরে ৭০ কিমি দূরের মহেসানা আসুন। ঘণ্টা দুয়েক সময় লাগবে। মহেসানা থেকে গাড়ি ভাড়া করে প্রথমে চলুন বহুচরাজি৩৯ কিমি দূরে বহুচরাজিতে দেখে নিন দেবী বহুচরাজি তথা সাত বাহনে মা দুর্গাকে। এখান থেকে চলুন ১৬ কিমি দূরে মধেরা। দেখুন আট শতকে তৈরি শিল্পসুষমা মণ্ডিত ভাস্কর্যে অনবদ্য সূর্য মন্দির। এখান থেকে চলুন ৩৩ কিমি দূরের সোলাঙ্কি রাজাদের রাজধানী পাটন। দেখে নিন ১০৫০ সালে তৈরি গুজরাতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্টেপওয়েল রানি কি ভাভ। ফিরে আসুন মহেসানায়।

ambaji temple
অম্বাজি মন্দির।

অষ্টম দিন ও নবম দিন – রাত্রিবাস মাউন্ট আবু

অষ্টম দিন একটা গাড়ি ভাড়া করে সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন মহেসানা থেকে। চলুন ১২৩ কিমি দূরে অম্বাজি। অম্বাজি দর্শন এগিয়ে চলুন ৫২ কিমি দূরে রাজস্থানের মাউন্ট আবু। মহেসানা থেকে অম্বাজি যাওয়ার পথে দেখে নিতে পারেন তরঙ্গ পাহাড়ে ৫টি দিগম্বর ও ৫টি শ্বেতাম্বর জৈন মন্দির

(মাউন্ট আবু কী ভাবে ঘুরবেন, দেখে নিন শীতে চলুন /২ : থর ঘুরে আরাবল্লি হয়ে জঙ্গলের রাজস্থানে)

দশম দিন – ঘরে ফেরা।

আবু রোড কলকাতা ফেরার একমাত্র ট্রেন সাপ্তাহিক কলকাতা এক্সপ্রেস। তাই জয়পুর বা দিল্লি হয়ে ফেরাই সুবিধাজনক। মুম্বই বা অমদাবাদের সঙ্গেও সরাসরি দৈনিক ট্রেন সংযোগ রয়েছে।

কোথায় থাকবেন

একমাত্র অমদাবাদ ও মাউন্ট আবু ছাড়া কোথাওই গুজরাত পর্যটনের কোনো হোটেল নেই। অমদাবাদে গান্ধী আশ্রমের উলটো দিকে রয়েছে গুজরাত পর্যটনের হোটেল তোরণ গান্ধী আশ্রম। অনলাইনে বুক করার জন্য লগইন করুন booking.gujarattourism.com। এ ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি হোটেল এবং রিসোর্ট। হোটেল বুকিং-এর একাধিক ওয়েবসাইট থেকে তা বুক করতে পারেন। মাউন্ট আবুতে রাজস্থান পর্যটনের হোটেল আছে। অনলাইন বুকিং https://rtdc.tourism.rajasthan.gov.in/

sabarmati gandhi ashram
সবরমতী গান্ধী আশ্রম।
কী ভাবে ঘুরবেন

(১) বডোদরা  থেকে ৪৫ কিমি দূরে চম্পানের, আরও ৪ কিমি দূরে পাওয়াগড়। বডোদরা থেকে নিয়মিত বাস পাওয়া যায় চম্পানের-পাওয়াগড় পথে হিল স্টেশন মাচি পর্যন্ত। গাড়ি ভাড়া করেও আসতে পারেন। গাড়ি ভাড়া করে এলে জম্বুঘোড়া অভয়ারণ্য ঘুরে নেওয়া সুবিধার।

(২) অমদাবাদে স্থানীয় গাড়ি ভাড়া করে ঘুরুন।

মনে রাখবেন

(১) নল সরোবর দেখার জন্য অনুমতি সংগ্রহ করবেন conservator of forests, sector 16, gandhinagar, ph. 02715-245037

(২) লোথালে প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের সংগ্রহশালা খোলা থাকে ছুটির দিন ছাড়া সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

(৩) যদি মাউন্ট আবু আগে দেখা থাকে তা হলে সরাসরি আবু রোড থেকে ঘরে ফেরার ট্রেন ধরুন।

(৪) ট্রেনের বিস্তারিত সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in 

(৫) বেসরকারি হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট www.goibibo.com , www.makemytrip.com , www.trivago.in ,  www.yatra.com , www.hotelscombined.com ,  www.tripadvisor.in , www.holidayiq.com ইত্যাদি। 

 

 

0 Comments
Share

Bhramon

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*