লকডাউনে গঙ্গা দূষণহীন, কলকাতায় ফিরেছে বিলুপ্তপ্রায় ডলফিন

dolphin in kolkata

ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: বিশ্ব জুড়ে লকডাউনের জেরে পরিবেশ এখন দূষণমুক্ত। পরিবেশ দূষিত করার সব চেয়ে বড়ো এজেন্ট মানুষ এখন ঘরবন্দি। তাই প্রাণীজগতের অন্য সদস্যদের এখন অবাধ বিচরণের পালা। তাই সর্বত্রই তারা বেরিয়ে পড়ছে – কোড়িকোড় থেকে চণ্ডীগড়, মুম্বই থেকে কলকাতা। হ্যাঁ, কলকাতাও।

দৈর্ঘ্যে এরা মিটার দেড়েক। স্ত্রী প্রজাতিরা পুরুষের চেয়ে আকারে বড়ো। ওজন প্রায় ১৫০ কেজি। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, কর্নফুলি, ঘর্ঘরা নদীতে এদের বাস। কলকাতার ঘাটগুলোয় এক সময় এদের প্রচুর দেখা যেত। এখন এদের সংখ্যা হাতে গোনা। তাই ‘বিলুপ্তপ্রায়’ তকমাটিও জুটেছে এদের কপালে।

সেই ডলফিন বা গঙ্গা শুশুক ফের দেখা গিয়েছে কলকাতার ঘাটগুলোয়। গত কয়েক দিনে বাবুঘাট, প্রিন্সেপ ঘাট-সহ বিভিন্ন ঘাটেই দেখা গিয়েছে তাদের। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, লকডাউনের জেরে দূষণের মাত্রা কমে যাওয়ায় ফের ফিরে এসেছে এই ডলফিনরা।

শুশুক বা গাঙ্গেয় ডলফিনদের বিলুপ্তির অন্যতম প্রধান কারণ গঙ্গায় দূষণ। তরল ও কঠিন বর্জ্য তো বটেই, শব্দদূষণের মাত্রাও এতটাই সাংঘাতিক যে ডলফিনরা আর নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলতে পারে না। গাঙ্গেয় ডলফিনদের বলা হয় ব্লাইন্ড ডলফিন। এরা মূলত আলট্রাসনিক সাউন্ডের সাহায্যে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে চলে।

আরও পড়ুন: কেদার-বদরী মন্দিরের আনুষ্ঠানিক দ্বারোন্মোচন মে মাসের মাঝামাঝি

মাছের ঝাঁকের শব্দ শুনে এরা বুঝতে পারে ঠিক কোন জায়গায় রয়েছে তাদের শিকার। নিজেদের মধ্যে কথা বলার জন্যও শব্দতরঙ্গের একটা নির্দিষ্ট মাত্রা আছে ডলফিনদের সংসারে। সেই মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে শব্দদূষণের তাণ্ডব।

কিন্তু একমাস ধরে চলা লকডাউনে জলদূষণ যেমন কমেছে, তেমন কমেছে শব্দদূষণ। তাই গাঙ্গেয় ডলফিনদের এখন পৌষ মাস।

এই গঙ্গা শুশুকদের আসল নাম সাউথ এশিয়ান রিভার ডলফিন। এরা পৃথিবীর একমাত্র ডলফিন, যারা মিষ্টি জলে বাঁচে। কলকাতায় ফের এদের দেখা মেলায় উচ্ছ্বসিত পরিবেশবিদরা। কিছু দিন আগেই বাবুঘাটে শুশুক দেখেছেন পরিবেশবিদ বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে তিনি বলেন, “লকডাউনের জেরে গঙ্গার জলের মান অনেক উন্নত হয়েছে। ঠিক সেই কারণেই শুশুকরা আবার ফিরে এসেছে।

লকডাউনে পৃথিবী যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে বারে বারে তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। দূষণ কমছে, জীবজন্তুরা নিজেদের মতো রাস্তায় বেরিয়ে আসছে, হরিদ্বারে গঙ্গার জল পান করার মতো হয়ে যাচ্ছে। ঠিক সেই ভাবেই কলকাতায় এ বার দেখা গেল শুশুক।

Leave a Reply