Browsing Tag:kolkata

do-you-want-to-know-details-about-adventure-tourism-then-visit-upcoming-tourism-fair-in-kolkata

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভেতো বাঙালির অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি ঝোঁক বেড়েছে। সেই কবে বিভূতিভূষণ বাঙালির দুর্নাম কাটাতে শংকরের মতো চরিত্র তৈরি করেছিলেন। আফ্রিকার জঙ্গলে গিয়ে ততটা অ্যাডভেঞ্চার না করলেও মাসাইমারায় জঙ্গল সাফারি করার স্বপ্ন কিন্তু বাঙালি দেখছে।

তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে ভারতে পর্যটনশিল্পে ৬ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি হয়েছে। দেশের জিডিপিতে এর অবদান ৯.২ শতাংশ। এই বৃদ্ধিটা অব্যাহত থাকবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের মত। এফআইসিসিআই-ইয়েস ব্যাঙ্কের একটি রিপোর্ট বলছে, প্রতি বছর ৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৯-এ পর্যটনশিল্প ৩৫ লক্ষ কোটি টাকার বাণিজ্য করবে। এর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ আসবে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম থেকে।

পর্যটকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি পর্যটন সংস্থাগুলো ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে নানা অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের আয়োজন করছে, যেমন প্যারাগ্লাইডিং, স্কুবা ড্রাইভিং, মাউন্টেনিয়ারিং, আরও নানা কিছু। এ ছাড়াও অ্যাডভেঞ্চারের জন্য নতুন নতুন স্পট তৈরি হচ্ছে। ফলে আগ্রহ বাড়ছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে।

তাই পর্যটকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে কলকাতার অন্যতম বড় পর্যটন মেলা ‘ট্যুরিজম ফেয়ার’ এ বার তাদের মেলার থিম করেছে ‘অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম’।

কেন অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম’?

কারণটা জানালেন ব্লু আই ইন্ডিয়ার অন্যতম কর্ণধার সুব্রত ভৌমিক -‘‘ঘোরার সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চার থাকলে বেড়ানোটাকে একটু অন্য রকম ভাবে উপভোগ করা যায়, বিশেষত যাঁরা একা বেড়াতে যান। সে কথা মাথায় রেখেই এ বারের মেলায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে’’, জানালেন তিনি।

পুজোর বেড়ানোর প্ল্যানিং শুরু করুন

সাধারণ জুন মাসের শেষের দিক থেকেই পুজোয় বেড়াতে যাওয়ার জন্য টিকিট বুকিং শুরু হয়। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘ট্যুরিজম ফেয়ার’ শুরু হচ্ছে ৭ জুন থেকে। ফলে আপনি হাতে কিছুটা সময় পেয়ে যাবেন বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যানিং শুরু করার জন্য। এই মেলায় সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেমন পর্যটন সংস্থাগুলি আসছে তেমনি থাকছে বিদেশ বেড়াতে যাওয়ার সুলুকসন্ধান।

মেলায় এসে আপনি ঘুরে-বেড়িয়ে যাচাই করে পছন্দের পর্যটনসংস্থা বেছে বুকিংও করে ফেলতে পারবেন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যটন সংস্থাগুলি বুকিং-এর উপর আকর্ষণীও ছাড়ও দিচ্ছে।

মেলা চলবে ৭, ৮ আর ৯ জুন। প্রতি দিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা।

অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা

‘ট্যুরিজম ফেয়ার’-এর আয়োজক সংস্থা এ বছর অ্যাভেঞ্চারপ্রেমী পর্যটকদের জন্য আয়োজন করেছে একটি ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতার। অ্যাডভেঞ্চারে গিয়ে যাঁরা তার বিশেষ মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন তাঁরা সেই ছবি পাঠিয়ে দিন সংস্থার ই-মেলে। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের বিস্তারিত নিয়মাবলি পেয়ে যাবেন সংস্থার ফেসবুক পেজ থেকে।

আর্কষণীয় পুরস্কার

এই ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় থাকছে আর্কষণী পরস্কার।

প্রথম পুরস্কার – ৪ রাত্রি, ৫ দিন আন্দামানে থাকা

দ্বিতীয় পুরস্কার – ৩ রাত্রি, ৪ দিন উত্তরাখণ্ডে থাকা

তৃতীয় পুরস্কার – ২ রাত্রি ৩ দিন জয়পুরে থাকা।

এ ছাড়া প্রতিযোগীদের মধ্যে থেকে বাছাই ৫০টি ছবি মেলাপ্রাঙ্গণে প্রদর্শিত হবে।

0 Comments
Share
kashmiri-hotelier-in-ttf-summer-speaks-about-pulwama-incident-and-bengali-tourists

নিজস্ব প্রতিনিধি: “আজ না হয় যেতে পাচ্ছি না কাশ্মীরে, কিন্তু কাল-পরশু তো আছেই। না হয় কয়েক মাস পরে যাব, খোঁজখবর তো নিয়ে রাখি। ট্যুরিস্টরা আসছেন আর এ কথাই বলছেন। বাংলার মানুষদের দেখে আমি অভিভূত” – কথাগুলো মহম্মদ হামজার।

মহম্মদ হামজা কাশ্মীরের পর্যটন সংস্থা স্পেস ট্যুরিজমের ডিরেক্টর তথা সিইও। কলকাতায় এসেছেন পর্যটন মেলা ‘টিটিএফ-সামার’-এ যোগ দিতে। মেলা চলছে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে। রবিবার মেলার শেষ দিন। হামজাকে পেয়ে গেলাম শ্রীনগরের ‘হোটেল দ্য কায়জার’-এর স্টলে।

আরও পড়ুন উত্তরবঙ্গের সাফারি বুকিং করুন এ বার অনলাইনে

কাশ্মীরে পর্যটন ব্যবসার সুবাদে বাঙালি ট্যুরিস্টদের ভালোই চেনেন, ভালোই বোঝেন হামজা। কিন্তু এই প্রথম কলকাতায় আসা তাঁর। তাই পুলওয়ামা হাঙ্গামার পরিপ্রেক্ষিতে কিছুটা চিন্তা ছিল। এই মুহূর্তে বাঙালি কী ভাবছেন কাশ্মীর নিয়ে, তাঁদের কাশ্মীর ভ্রমণে কতটা প্রভাব ফেলেছে পুলওয়ামার ঘটনা – এ সব নিয়ে কিছুটা ভাবিত ছিলেন হামজা। কিন্তু ‘টিটিএফ-সামার’-এ যোগ দিয়ে হামজা বুঝেছেন তাঁর সমস্ত দুশ্চিন্তা অমূলক।

হামজা বললেন, “স্টলে যাঁরাই আসছেন, তাঁরাই বলছেন, এখন না হোক, মাস তিনেকের মধ্যে কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই হবে। বাংলায় এসে আমি অভিভূত। কাশ্মীরের প্রতি যে বাঙালির এত আগ্রহ, তা এখানে না এলে বুঝতে পারতাম না। দু’দিন ধরে স্টলে প্রচুর লোক এসেছেন। তাঁরা কাশ্মীর ভ্রমণ নিয়ে নানা খোঁজখবর করেছেন।”

Mohd. Hamza.
মহম্মদ হামজা। নিজস্ব চিত্র।

হামজা আদতে কারগিলের মানুষ। কারগিলে একটি হোটেল চালান। শ্রীনগরেও হোটেল খুলেছেন। হামজা জানালেন, কারগিলে দ্বিতীয় আরেকটি হোটেল মে মাসে খুলতে চলেছেন। তাঁর প্রধান ক্লায়েন্ট যে বাঙালি ট্যুরিস্ট এবং বাঙালি ট্যুরিস্ট যে কোনো পরিস্থিতিতেই কাশ্মীর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি, তা স্মরণ করিয়ে দিলেন হামজা। কারগিল যুদ্ধে যে সব ভারতীয় সেনা প্রাণ দিয়েছিলেন তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশে প্রতি বছর শহিদ দিবস পালন করেন তিনি।

কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হামজা বলেন, দেশের শত্রুদের উদ্দেশ্য কখনোই সফল হবে না। সকলের কাছে তাঁর একটাই আবেদন, মুষ্টিমেয় কয়েক জনের জন্য যেন গোটা রাজ্যকে আমরা যেন খারাপ চোখে না দেখি।

‘হোটেল দ্য কায়জার’-এর স্টলে দেখা হয়ে গেল উত্তর কলকাতা থেকে আসা প্রদীপ দত্তের সঙ্গে। প্রদীপবাবু মনে করেন, কাশ্মীর ছাড়া ভারতের ভ্রমণ-মানচিত্র অসম্পূর্ণ। কাশ্মীর ভারতের মুকুট। তাই কাশ্মীর না দেখলে ভারত-দর্শন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। প্রদীপবাবুর ধারণা, দু-এক মাস পরে কাশ্মীরের পরিস্থিতি থিতিয়ে যাবে। ইতিমধ্যে লোকসভার ভোটও হয়ে যাবে। তখন কাশ্মীর বেড়াতে যাওয়া যাবে। সে ব্যাপারেই তিনি হোটেল ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে জানার জন্য এই পর্যটন মেলায় এসেছেন।

 

 

0 Comments
Share
kolkata-to-get-6-new-plane-connection-two-new-airports

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: এ বছরই উড়ানে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে ভারতের ছ’টি শহর। বিমান পরিষেবা বাড়বে দুর্গাপুরের কাজি নজরুল বিমানবন্দর থেকেও। পাশাপাশি কলাইকুন্ডা এবং হাসিমারার মতো সামরিক বিমানঘাঁটি থেকেও এ বার অসামরিক বিমান পরিষেবা শুরু হবে। এয়ারপোর্ট অথোরিটি অব ইন্ডিয়ার (এএআই) ‘উড়ান-৩’ প্রকল্পে এই নতুন রুটগুলির ঘোষণা করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, কলকাতা থেকে সরাসরি বিমানে এ বার সংযুক্ত হবে অমৃতসর, গ্বালিয়র, শিলং, গাজিপুর, ঝাড়সুগুদা এবং হাসিমারা। অ্যালায়ান্স এয়ারের সঙ্গে কলকাতা এবং ঝাড়সুগুদার মধ্যে বিমান পরিষেবা দেবে স্পাইস জেট। অন্য দিকে এই স্পাইস জেটই কলকাতার সঙ্গে গ্বালিয়র এবং গাজিপুরকে সংযুক্ত করবে। কলকাতা-অমৃতসর এবং কলকাতা-শিলং রুটে ইন্ডিগোর বিমান চলবে। অন্য দিকে কলকাতা এবং হাসিমারাকে সংযুক্ত হবে জুম এয়ার।

অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে শুধুমাত্র দিল্লির বিমান চলে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ত্রিসাপ্তাহিক হায়দরাবাদ উড়ান শুরু হবে এখান থেকে। পাশাপাশি অন্ডাল থেকে মুম্বই এবং চেন্নাইগামী বিমান চালানোর জন্য স্পাইস জেটকে বরাত দেওয়া হয়েছে।

কলাইকুন্ডা থেকে বিশাখাপত্তনম এবং ভুবিনেশ্বরগামী বিমান চালানোর জন্য বরাত দেওয়া হয়েছে অ্যালায়ান্স এয়ারকে।

এএআইয়ের তরফ থেকে জানানো হয়েছে পরিকাঠামোগত সবকিছু দিক খতিয়ে দেখতে কিছুদিনের মধ্যেই হাসিমারা এবং কলাইকুন্ডার বিমানঘাঁটিতে যাবে তারা। এই বছরের শেষেই এই দুই বিমানঘাঁটি থেকে বিমান পরিষেবা শুরু করে দিতে চায় তারা।

1 Comments
Share
a-trip-yo-subhasgram-and-other-places-related-to-netaji

jahir raihan
জাহির রায়হান

সাবমেরিন। সংজ্ঞা-সহ সাবমেরিনের ব্যাখ্যা বুঝতে বুঝতেই টের পেয়েছিলাম দেশনায়কের কলজের জোর। কতই বা বয়স তখন, মেরে কেটে বারো-তেরো, ষষ্ঠ শ্রেণির হাফপ্যান্ট-পরা ছাত্র। ক্লাসে দুলালবাবু বলে চলেন, “সাবমেরিন একটি জলযান, জলে ডুবে ডুবে যায়, ওপর থেকে কিছুই বোঝা যায় না।” সেই সাবমেরিন চেপে ইংরেজদের চোখে ধুলো দিয়ে দেশান্তরী হন সুভাষ, মাতৃভূমি ভারতবর্ষকে ব্রিটিশ কবল থেকে মুক্ত করতে। মিঠুন-অমিতাভকে সরিয়ে সেই দিনই আমার বল্গা মনের নায়ক হয়ে বসেন সুভাষচন্দ্র। তার পর একটা একটা করে নতুন শ্রেণিতে উর্ত্তীর্ণ হই, আর একটু একটু করে হৃদয়াকাশে উদ্ভাসিত হতে থাকেন সুভাষচন্দ্র বোস। তাঁর ব্যাপকতা এবং দেশপ্রেম ছাড়িয়ে যায় বাকিদের। এর মধ্যেই একদিন শুনলাম, একবার বেলডাঙা এসেছিলেন তিনি। ঘটনা জানামাত্রই গর্বিত হলাম অতীতের সেই আগমনকে স্মরণ করে। শহরের নেতাজি পার্ক ও নেতাজি তরুণতীর্থের যৌথ উদ্যোগে জানুয়ারি মাসের সপ্তাহব্যাপী নেতাজি স্মরণোৎসবের তাৎপর্য ধরা দিল নব রূপে।

আরও পড়ুন পর্যটনের প্রসারে উত্তরবঙ্গে একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস মুখ্যমন্ত্রীর

গোটা শীত জুড়েই বঙ্গের এ-দিক ও-দিক চরকিপাকের সিদ্ধান্ত নিয়েছি গরমের গুঁতো থাকাকালীনই। তাই মিলনদা কোদালিয়া যাওয়ার কথা বললে রাজি হলাম তৎক্ষণাৎ। ২০১৭’র শেষ দিনে যখন সবাই নতুন বছরকে আবাহনের প্রস্তুতিতে মগ্ন, আমি ছুটলাম সুভাষচন্দ্রের পিতৃদেব জানকীনাথের পৈতৃকভিটে দর্শনে। প্রথমে যাব কোদালিয়া, তার পর এলগিন রোডে নেতাজিভবন। সেইমতো কাউকে কিছু না বলে একা একাই বেরোলাম অমৃতপুত্রের সন্ধানে। ভাগীরথী এক্সপ্রেস দেরি করায় সুভাষগ্রাম যাওয়ার ট্রেন পেতে দেরি হল, তবে মধ্যবর্তী সময়টুকুর সদ্ব্যবহার হল ‘জনআহার’-এর চিকেন বিরিয়ানিতে। ৭৮ টাকায় বছরের শেষ লাঞ্চ। সেই ছাত্রাবস্থা থেকেই শিয়ালদহে যাতায়াত আমার। হাতে সময় বা ট্রেনের দেরি থাকলে স্টেশনের ধাপিতে বসে বসে নানা কিসিমের লোকজন ও তাদের কাণ্ডকারখানা নাগাড়ে খেয়াল করা আমার খুব প্রিয় টাইমপাস। একটা করে ট্রেন ঢোকে আর মিছিলের মতো লোক গলগল করে বেরিয়ে হারিয়ে যায় মহানগরীর পথে পথে। এবং আশ্চর্য, নিজেরটা ছাড়া বাকিরা কোথায় কী কাজে যায় তা আমি একেবারেই জানি না।

kodalia house
কোদালিয়ার বাড়ি, সংস্কারের আগে।

গড়িয়ায় বছর তিনেক ছিলাম আমি, তখন নিউ গড়িয়া স্টেশনটাই ছিল না, ছিল না মেট্রো রেলের বাহাদুরিও। বাঘাযতীন ছাড়ালেই তখনও তেপান্তরের মাঠঘাট চোখে পড়ত, অট্টালিকার বাড়বাড়ন্ত ছিল না। আর একটা ব্যাপারে অবাক হতাম, গড়িয়ার দুই দিকের সিগন্যালই সর্বদা হলুদ হয়েই থাকত, ট্রেন এসেই যেত, এসেই যেত। এখনও আমার বিশ্বাস, সোনারপুর থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত ট্রেন ধরতে কেউই সময় দেখে না, জানে স্টেশনে গেলেই কোনো না কোনো লোকাল পেয়ে যাব ঠিক। ডায়মন্ড হারবার লোকাল গড়িয়া ঢুকতেই এ-দিক সে-দিক উঁকিঝুকি মারলাম, কিছুই ঠাহর হল না। মিলনদা বলে দিয়েছিল, সোনারপুরের পরই সুভাষগ্রাম। সেইমতো গুতোঁগুঁতি বাঁচিয়ে নিলাম নামার প্রস্তুতি। এত ভিড়ের মধ্যেও পল্টু ব্যাটার অস্থিরতা টের পাচ্ছি, সে বুঝি সেই সন্ধিক্ষণের নাগাল পেয়ে গিয়েছে, যার কারণে এখানে আসা। রাজপুর-সোনারপুর পৌরসভার অন্তর্গত সুভাষগ্রাম। রিকশায় উঠে দেখি, চালক পা তুলে হ্যান্ডেল পাকড়ে বসে রয়েছে আর রিকশা চলছে আপন গতিতে। সাধারণ রিকশার এই অসাধারণ আচরণ এর আগে দেখি নাই কখনও। হাঁটতেই চাইছিলাম, কিন্তু এক কাকাবাবুর খপ্পরে পড়েই এই রিকশাবিলাস, উনি লম্বা করে জানালেন চল্লিশ মিনিট হাঁটলে তবেই বোসবাড়ি, অগত্যা!

আরও পড়ুন চণ্ডীদাসের প্রেম ও নানুর

নেতাজি সুভাষের সম্মানেই যে চাংড়িপোতা হয়েছে সুভাষগ্রাম, সে কথা না জানালেও চলে। রিকশা চড়ে রবিবারের সুভাষগ্রামের মহল্লা নজরে রাখতে রাখতেই এগিয়ে চলি হরনাথ বসুর বাড়ির দিকে, যাঁর নাতিকে আজও খুঁজে ফেরে বাঙালি, বিশ্বাস করে দেশের এই দুর্দশায় তিনি নিশ্চিত ভাবেই ফিরে আসবেন, মৃ্ত্যু-বিজ্ঞান হেরে যায় বাঙালি আবেগের কাছে, বারবার। তরুণ সংঘের মাঠ পার করে বাবুদাকে পাওয়া গেল। সৌম্যদর্শন ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করতেই দেখিয়ে দিলেন সেই ভিটেটিকে যার মাটি সৃষ্টি করেছিল এক আপসহীন অগ্নিপুত্রের যিনি অত্যাচারীর চোখে চোখ রেখে কথা বলতে জানতেন। হলুদ রঙা দোতলা বাড়ি, বড়ো বারান্দা, বেশ কিছু ছাদের অংশ ভেঙে পড়েছে, ঘরগুলি তালাবন্ধ। খোলা জানলার ফাঁক দিয়ে কিছু আসবাবপত্রও চোখে পড়ে। বাড়ির সামনেও অনেকটা ফাঁকা জায়গা। ক্ষয়ে যাওয়া ইটগুলিকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়, কেমন ছিল বোসেদের ঘরকন্না? দাদুর বাড়ির ঘরময়, বারান্দা জুড়ে, বাগানে, হামাগুড়ি, দৌড়োদৌড়ি করেছে কি ছোট্ট সুভাষ? কটকে পড়াশোনার ফাঁকে, ছুটিছাটাতে বা বার্ষিক পরীক্ষার শেষে কখনও কি এসেছে দাদু-ঠাকুমার কাছে? কেমনধারা ছিল তার আবদার? কী ভাবে সে পেল এত সাহস? এত শৌর্য? এত তাপ? নিরুত্তর চুনসুরকি ধুলো হয়ে ঝরে পড়ে অবিরত, আমি বসে পড়ি বারান্দায়, ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করি সেই কালকে যা এখন মহাকালের কবলে।

netaji bhawan
এলগিন রোডে নেতাজিভবন।

শঙ্কর ঘোষ এ বাড়ির বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক। বংশপরম্পরায় তাঁরা এই কাজ করে আসছেন। তিনিই জানালেন, রাজ্য সরকারের পূর্ত দফতর বাড়িটি অধিগ্রহণ করেছে, সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজও শুরু হবে শীঘ্র। এ তথ্যে নিশ্চিন্ত হয়ে বেরিয়ে এলাম। (এই দু’ বছরে সেই ভবনের সংস্কার হয়েছে।) বাবুদা তখনও ওখানে বসেছিলেন, বললেন এত দূর থেকে এসেছেন বোসেদের পারিবারিক নারায়ণ মন্দির দেখে যান। তাঁর কথামতো ঠাকুরদালান দেখে নিলাম, দুর্গাপুজোও হয় সেখানে, বোস পরিবারের বর্তমান সন্তানসন্ততিরা নাকি এখনও একত্রিত হন পুজোর ক’টা দিন। নির্জন দালানচত্বরটি আমার বেশ লাগল, অনেকক্ষণ বসে রইলাম চুপচাপ, একা একাই। কান পেতে শোনার চেষ্টা করলাম হরনাথ বোস, জানকীনাথ বোস ও তাঁদের পরিবারবর্গের পুজোকালীন হইচই, হাঁকডাক, কলরব যা কালের অভিঘাতে হয়েছে নিরুদ্দেশ। মন্দিরের গেটটিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে হরনাথ লজ, পাশেই কোদালিয়া হরনাথ বীনাপাণি লাইব্রেরি, অগ্রদূত এবং কোদালিয়া ডাকঘর যার সামনে প্রশস্ত খেলার মাঠ। সম্পন্ন গৃহস্থ হরনাথ বোসই ছিলেন এ সবের মালিক। পাড়াটিও বেশ, ছিমছাম, কোলাহলমুক্ত, শরৎচন্দ্রের পল্লিসমাজের কথা মনে পড়ায়।

কবি সুভাষ থেকে নেতাজি ভবন মেট্রো স্টেশন। পুরো পথটিতেই কোদালিয়া আচ্ছন্ন করে রাখল আমায়। তবে শুধু নেতাজির দাদুর বাড়ি নয়, আরও এক বিখ্যাত বাঙালি সলিল চৌধুরীর মাতুতালয়ও নাকি কোদালিয়া। এ দিকে ট্রেনে উঠেই এক সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছি, যাব ‘নেতাজি ভবন’, টিকিট করেছি ‘নেতাজি’-এর। এই লাইনে প্রথম যাত্রা আমার, তাই ‘নেতাজি’ আর ‘নেতাজি ভবন’ গিয়েছে গুলিয়ে। ভাড়ায় পুরো পাঁচ টাকার ব্যবধান, বৈদ্যুতিক দরজা খুললে হয়! যা ভেবেছি তা-ই, যেখানে ভূতের ভয় সেখানেই সন্ধে হয়, দরজার কাছে নীল পোশাকের নিরাপত্তারক্ষী আর প্লাস্টিকের গোল চাকতিটিকে অবলীলায় অস্বীকার করল মেশিন বাবাজি, পর পর দু’ বার, চিচিং ফাঁকও হল না। ভয়ানক অপ্রস্তুত পরিস্থিতি, এমন সময় দেখা দিলেন স্বয়ং নারায়ণ, আমার পিছনের ভদ্রলোকটি চাকতিটি কুড়িয়ে মেশিনের ওপর রাখলেন, হাতে থাকা স্মার্ট কার্ডটি চেপে ধরতেই পাঁচ টাকার সীমান্ত খুলে গেল, উনি শুধু বললেন, চলুন চলুন। আপনাদের অনেক আগেই জানিয়েছি ভগবান আমার বখাটেপনা ভালোওবাসেন, প্রশ্রয়ও দেন, আজ আবার প্রমাণ হল।

নতুন নাম লালা লাজপৎ রায় সরণি হলেও আমার ভোট এলগিন রোডের তরে, কেননা এলগিন রোড উচ্চারিত হলেই সাথে সাথে সেই ইতিহাসও মনে এসে ভিড় করে যা নিয়ে বাঙালির গর্বের শেষ নেই। নেতাজিভবনের বিশালতা ও শৈলীতে গা ছম ছম শুরু হবে প্রবেশমাত্রই। প্রথমেই চোখ পড়বে সেই গাড়িটির দিকে যা দেশের স্বাধীনতায় দিকনির্ণয়ী ভূমিকা নিয়েছিল। ভাইপো শিশিরচন্দ্র বসু এই অডি করে কাকা সুভাষ বোসকে পৌঁছে দিয়েছিলেন গোমো। যা ইতিহাসের পাশাপাশি বাঙালিজীবনেও মহানিস্ক্রমণ বলে খ্যাত। এ ইতিহাস যদি আপনার জানা থাকে, তা হলে গাড়িটির সামনে গিয়ে দাঁড়ান, ষ্টিয়ারিং হাতে শিশিরচন্দ্র আর পেছনের সিটে হেলান দিয়ে বসে রয়েছেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষ – শুধু এই দৃশ্যটুকু কল্পনা করতে পারলেই মেরুদণ্ডের বৈদ্যুতিক শিরশরানি টের পাবেন নিশ্চিত। এ এমন একটা ঘটনা যা ছাপোষা, সাধারণ, ভীরু বাঙালিকেও আস্পর্ধার পাঠ দেয়, তাকেও বিশ্বাস করতে শেখায় হ্যাঁ বাঙালিও পারে।

the car driven by sisir bose
এই গাড়িতে চাপিয়ে নেতাজিকে গোমো পৌঁছে দিয়েছিলেন ভাইপো শিশির।

নেতাজি রিসার্চ ব্যুরোর যত্নে জানকীনাথ, শরৎচন্দ্র ও সুভাষচন্দ্রের ব্যবহৃত ঘর, বিছানা-সহ আসবাবপত্র দেখানোর আন্তরিক ব্যবস্থাপনা আপনাকে মুগ্ধ করবে। এমন কিছু অনন্য অনুভূতি আপনার মনের দখল নেবে যার নাগাল কখনোই কোথাও বেড়াতে বেরিয়েই আপনি পাননি। মার্বেলপাথরে নির্মিত একজোড়া থালা ও বাটি যা দিয়ে এ বাড়িতে সুভাষের শেষ ডিনার সম্পন্ন হয়েছিল তা দেখে আপনার চোখ ভিজে যাওয়া স্বাভাবিক, যদি আপনি ভাবতে পারেন, এই থালায় খেয়েই ঘরের ছেলেটি দেশান্তরী হয়েছিল। জান্তে অজান্তে সুভাষকে তো আমরা ঘরের ছেলে বলেই মনে করি, তাই না? তাঁর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সংরক্ষিত পদচিহ্নে পা দেবেন না যেন, পারলে ওই মহামানবের পদচিহ্নেই প্রণাম করুন, পুণ্যি হবে। কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীন যে ঘরে বসে কাজকর্ম এবং আগত লোকজনের সঙ্গে উনি দেখা করতেন, তার দেওয়াল ছিল ত্রিবর্ণরঞ্জিত, আজও সে ভাবে রাখা রয়েছে। তিন তলায় সাজিয়ে রাখা তাঁর নিজ হস্তে লেখা চিঠিপত্র, বা জামাকাপড়ের সামনে দাঁড়ালেই আপনার লোম খাড়া হয়ে যাবে অজ্ঞাত মগ্নতায়।

একটা মানুষের কর্মকাণ্ডের ব্যাপ্তি কতখানি হলে তাঁকে ‘নেতাজি’ বলে মেনে নেন স্বয়ং রবিঠাকুর, একটিবার ভেবে দেখুন। কতটা আবেদন থাকলে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত রাষ্ট্রনায়েকরা ছুটে আসেন তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে আজও, এখনও, সেটাও ভাবার বিষয়। আজ যখন সর্বত্রই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা তখন তাঁর উদাত্ত আহ্বান, তাঁর বলিষ্ঠ প্রত্যয় ভীষণই জরুরি ছিল। নেতাজিভবনের আনাচেকানাচে ইতস্তত পদচারণা করলে শ্রদ্ধায় আপন হতেই মাথা নত হয়ে আসে। মিউজিয়াম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে। ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসি বাড়ি থেকে, রাস্তা হতে লাগাতার ছবি তুলতে থাকি, তবুও যেন আশ মেটে না। মহানিষ্ক্রমণের ৭৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে গত ২০১৬ সালে, তবুও যেন সব জীবন্ত। সব দেখেও মনের খিদে মেটে না, কিন্তু যেতে তো হবে। মেট্রো ধরে মহাত্মা গান্ধী রোড স্টেশন, ওপরে উঠলেই মহাজাতি সদন। যার নামফলকে লেখা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিকল্পিত মহাজাতি সদনের শিলান্যাস করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পরবর্তীতে যার দ্বরোদঘটন হয় ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের হাত থরে। এটাও শেষ নয়, শিয়ালদহ যাব বলে মহাত্মা গান্ধী রোড-চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ ক্রসিংয়ে গিয়ে দেখি আরও একটা স্মৃতিফলক। সেখানেও জ্বলজ্বল করছে সুভাষচন্দ্রের নাম । সে ফলক জানান দিচ্ছে, Through this historical place Netaji Subhas Chandra Bose continued his ambitious and never ending journey to free our motherland-INDIA । সত্তর বছরেরও বেশি হয়ে গেল মাতৃভূমি স্বাধীন হয়েছে, নেতাজির পথচলা শেষ হয়নি, সুভাষ ঘরে ফেরে নাই, আজও।

ছবি: পিন্টু মণ্ডল ও লেখক

0 Comments
Share
kolkata-tarapith-ac-bus-to-be-started-by-january-end

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: চলতি মাসের শেষে কলকাতা থেকে তারাপীঠ পর্যন্ত এসি বাস চালু করবে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (এসবিএসটিসি)। এমনই ঘোষণা করলেন এসবিএসটিসির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক তমোনাশ ঘোষ।

মঙ্গলবার তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের অফিসে এই বিষয়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায়, তমোনাশবাবু এবং এসবিএসটিসির কর্তারা।

বৈঠক শেষে একগুচ্ছ নতুন বাসরুটের ঘোষণা হয় এসবিএসটিসির তরফ থেকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল তারাপীঠ থেকে কলকাতার মধ্যে এসি বাস চালু করা। তমোনাশবাবু বলেন, এই বাসটি কলকাতা থেকে সকাল সাড়ে সাতটায় ছেড়ে সাড়ে বারোটায় তারাপীঠ পৌঁছোবে আবার তারাপীঠ থেকে দুপুর দুটোর সময় বাসটি ছেড়ে কলকাতা ফিরে আসে সন্ধ্যা ছ’টার মধ্যে। তিনি বলেন, ‘‘এক দিনে তারাপীঠে গিয়ে পুজো দিয়ে আবার ওই বাসে চড়েই যাতে দর্শনার্থীরা ফিরতে পারেন সেই জন্য বাসের এ রকম সূচি ধার্য করা হয়েছে।”

এ ছাড়াও তারাপীঠ থেকে আরও বেশ কিছু বাস রুট চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। দুই ধর্মীয়স্থানের মধ্যে সংযোগস্থাপনের জন্য বেলুড়-তারাপীঠ বাস পরিষেবাও চালু করার কথা বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, এই মাসের শেষের দিকেই তারাপীঠ সফরে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার পরেই এই বাসরুট চালু হয়ে যাবে বলে আশাবাদী এসবিএসটিসি।

0 Comments
Share
many-winter-attractions-in-kolkata

নিজস্ব প্রতিনিধি: দিন তিনেক পরেই বড়োদিন। তার পরেই বর্ষ বিদায়ের সুর। আসবে নতুন বছর ২০১৯। হিমেল হাওয়ার পরশ নিয়ে সপ্তাহব্যাপী আনন্দে মেতে উঠতে চলেছে মহানগরী। ‘সিটি অব জয়’-এ মানুষকে নানা উপহার দিতে বিনোদন পার্কগুলো সেজে উঠছে নবরূপে। সঙ্গে রয়েছে বহু চমক। কোথাও রয়েছে এসি টয়ট্রেন, কোথাও বা প্যারিসের আদলে তৈরি আইফেল টাওয়ার থেকে নগর দর্শন। আবার কোথাও গোটা পার্কটি সেজে উঠছে রং-বেরঙের চিনা আলোয়। এ ভাবেই দু’টি বছরের সন্ধিক্ষণে তৈরি হয়েছে ইকো ট্যুরিজম পার্ক থেকে কলকাতার জাদুঘর বা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল।

আরও পড়ুন ওড়িশার দারিংবাড়িতে কি সত্যিই বরফ পড়ে?

বিনোদনের বড়ো কেন্দ্র নিউটাউনের ইকো পার্ক। সারা বছরই এখানে লোক সমাগম ঘটে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ইকো পার্ক। বিগত দু’ বছর ধরে ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি ভিড়ের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে ইকো পার্ক। এ বছর এখানে মূল আকর্ষণ হতে চলেছে এসি টয়ট্রেন। হিডকোর চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন বলেন, “এ বার দর্শকদের জন্য অনেক চমক রয়েছে ইকো পার্কে। যেমন এসি ট্রেন, সপ্তম আশ্চর্য, স্কাল্পচার গার্ডেন বা ভাস্কর্য উদ্যান, আইফেল টাওয়ার ইত্যাদি।”

eifel tower in Eco Park
ইকো পার্কে আইফেল টাওয়ার। ছবি সৌজন্যে এসআরএস ফোটোজ ।

উল্লেখ্য, এ বছর প্রথম দর্শকদের জন্য চালু করা হচ্ছে লাক্সারি এসি ট্রেন। এই ট্রেনে থাকছে গদি মোড়া আরামাদায়ক বসার ব্যবস্থা। কাচে ঘেরা পর্দা দেওয়া জানলা। সপ্তম আশ্চর্য আগে থেকেই ছিল, সেটা পুরো খুলে দেওয়া যায়নি। এ বার শীতে তা পুরো খুলে দেওয়া হচ্ছে। আইফেল টাওয়ারটি অভিনব। লিফটে চড়ে উপরে উঠে চার দিক দেখা যাবে। সেখান থেকে দর্শকরা দেখতে পাবেন নবনির্মিত ঝুলন্ত রেস্তোরাঁটিও। আইফেল টাওয়ার খুলে দেওয়া হবে ২৫ ডিসেম্বর। ভাস্কর্য উদ্যানে এ বার নতুন সংযোজন অডিও ভিস্যুয়াল লাইট অ্যান্ড সাউন্ড।

নিকো পার্কে এ বারের আকর্ষণ ফেস্টিভ্যাল অব লাইট। বিশেষ ধরনের ‘ম্যাজিক্যাল পান্ডা লাইট’-এর আয়োজন করেছে একটি চিনা কোম্পানি। নানা দেশে এই আলোর উৎসবের আয়োজন করার পর এ বার আসছে কলকাতায়। আলোর এই খেলা দেখা যাবে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিন পর্যন্ত।

pyramid in Eco park
ইকো পার্কে পিরামিড। ছবি সৌজন্যে এলবিবি।

সায়েন্স সিটিতেও থাকছে বিশেষ আকর্ষণ। অধিকর্তা শুভব্রত চৌধুরী বলেন, “থাকছে থ্রিডি ফিল্ম থিয়েটার। থাকছে ডার্ক রাইড, যেখানে তুলে ধরা হয়েছে মানবজাতির ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস। ডিজিট্যাল প্যানোরামার সাহায্যে দেখানো হবে এভ্যুলিউশনের নানা পর্যায়।”

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের ডিরেক্টর জয়ন্ত সেনগুপ্ত জানান, “আমাদের এ বারে মূল আকর্ষণ পুরো বাগান জুড়ে খ্রিস্টমাস ফেস্টিভ লাইট। এই লাইট থাকবে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঝেমাঝেই লাইভ মিউজিক চলবে।”

আলিপুর চিড়িয়াখানার এ বারের বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে নকটারনাল হাউজ বা রাতচরাদের আবাস। তৈরি হয়েছে হায়নার ঘর। এ ছাড়াও একটি বাঘ আনা হচ্ছে চিড়িয়াখানায়।

0 Comments
Share
victoria-memorial-to-have-physically-challenged-friendly-features

কলকাতা: বিশেষ ভাবে সক্ষমদের কাছে টানার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল কর্তৃপক্ষ। এই মুহূর্তে ভিক্টোরিয়ায় কিছু রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। আগামী বছর এপ্রিলের মধ্যে সেই কাজ শেষ হবে। তার পরেই এই পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কিউরেটর জয়ন্ত সেনগুপ্ত।

জয়ন্তবাবু বলে, সংগ্রহশালায় ৫০টি নিদর্শনের সামনে ব্রেলি ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে দৃষ্টিহীনরা ভালো করেই নিদর্শনগুলির ব্যাপারে বুঝতে পারবেন।

এ ছাড়াও প্রথম তলের সংগ্রহশালায় যাওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে সক্ষম এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য লিফ্‌ট তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ভিক্টোরিয়ার বাগানে পরিচর্চা এবং নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য রাখা দুই ব্যাটারি চালিত গাড়িকে ব্যবহার করা হবে বিশেষ ভাবে সক্ষম এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য।

১৯২১ সালে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল খুলে দেওয়া হলেও তখন বিশেষ ভাবে সক্ষমদের জন্য কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তবে ভিক্টোরিয়ার ‘হেরিটেজ’ তকমাকে অক্ষত রেখেই যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জয়ন্তবাবু।

0 Comments
Share
kolkatas-gandhi-bhavan-to-get-heritage-tag

কলকাতা: স্বাধীনতার প্রাক্কালে এই বাড়িতেই ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। আগামী ২ অক্টোবর, মহাত্মা গান্ধীর জন্ম সার্ধশতবর্ষে হেরিটেজের তকমা পেতে চলেছে এই বাড়িটি।

দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি অবহেলায় থাকার পর অবশেষে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। এই বাড়িটি দেখভাল করেন পূর্ব কলকাতা গান্ধী স্মারক সমিতি (পিকেজিএসএস)। সমিতির যুগ্ম সচিব পাপড়ি সরকার বলেন, “২ অক্টোবর এই বাড়িটিতে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”

গান্ধী যখন এই বাড়িতে আসেন তখন এর নাম ছিল হায়দরি মঞ্জিল। এই বাড়িটি দাউদি বোহরা সম্প্রদায়ের ছিল বলে জানা গিয়েছে,। ২০-এর দশকে গুজরাতের সুরাত থেকে কলকাতায় চলে এসেছিলেন এই সম্প্রদায়ের অসংখ্য মানুষ। মূলত কাজের সন্ধানেই এসেছিলেন তাঁরা। ১৯২৩ সালে এই বাড়িটি কিনে নেয় দাউদিরা।

জানা যায়, ১৯৪৬-এর ভয়াবহ দাঙ্গার পরে এই বাড়ির বাসিন্দারা পালিয়ে অন্যত্র চলে যান। স্বাধীনতা ঠিক আগে আগে এই দাঙ্গার পরিস্থিতি দেখতে কলকাতায় পা রাখেন গান্ধী। পিকেজিএসএসের সভাপতি শঙ্কর সান্যাল বলেন, “৯ আগস্ট ১৯৪৭-এ কলকাতায় পা রাখার পরে তিনি প্রফুল্ল ঘোষের বাড়িতে যান। তত দিন পর্যন্ত কলকাতায় এলে ওই বাড়িতেই উঠতেন তিনি। কিন্তু এর পরে তাঁকে হায়দরি মঞ্জিলে থাকার অনুরোধ করেন সুহরাওয়ার্দি। এই অঞ্চলে দাঙ্গার ছবি ভয়াবহ ছিল। তাই ভাবা হয়েছিল গান্ধীর প্রভাবে সংঘর্ষ থামাবে দাঙ্গাবাজরা।” ১২ আগস্ট থেকে এই বাড়িতে থাকতে শুরু করেন গান্ধী।

তিনি বলেন, “প্রথম প্রথম দাঙ্গা অনেকটা কমলেও, থামেনি। এর পরে ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমরণ অনশনে বসলেন গান্ধী। এর ফলে হিন্দু এবং মুসলিম দাঙ্গাবাজরা তাঁর সামনে আত্মসমর্পণ করলেন। থামল দাঙ্গা।”

এই বাড়িটিকে সংরক্ষণ করার চেষ্টা অনেক দিন আগে থেকেই হচ্ছিল। কিন্তু বেসরকারি মালিকানাধীন থাকায় তা সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। ২০০৭-এ এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় পূর্ত দফতর।

তবে বাড়িটিকে হেরিটেজ তকমা দিয়ে দিলে রাজ্য সরকারই এখন থেকে এটির দেখভাল করবে। ফলে রক্ষণাবেক্ষণের দুশ্চিন্তা থেকে এখন তাঁরা মুক্ত বলে জানিয়েছে পিকেজিএসএস।

0 Comments
Share
kolkata-sikkim-flights-before-puja

কলকাতা: মাস ছয়েক হল খুলে গিয়েছে সিকিমের প্রথম বিমানবন্দর। এ বার সেই পেকং বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কলকাতার উড়ান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। বেসরকারি বিমানসংস্থা স্পাইসজেট জানিয়েছে আগামী ৪ অক্টোবর থেকে কলকাতা-পেকং উড়ান চালাবে তারা। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিংকে পাশে বসিয়ে একটি বিবৃতির মধ্যে এই ঘোষণা করে স্পাইসজেট।

প্রতি দিনই কলকাতা এবং পেকং-এর মধ্যে একটি করে উড়ান চালাবে তারা। ১৬ অক্টোবর থেকে পেকং-এর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যাবে গুয়াহাটিও। এই দুটি রুটে ‘বম্বাডিয়ার কিউ-৪০০’ বিমান নামাবে তারা।

আরও পড়ুন পেলিং-সাঙ্গাচোলিং রোপওয়ে, মৈনাম পাহাড়ে স্কাইওয়াক, পর্যটন প্রসারে সিকিমের নানা উদ্যোগ

প্রতি দিন সকাল সাড়ে ন’টায় কলকাতা থেকে পেকং-এর উদ্দেশে উড়বে স্পাইসজেটের ‘এসজি ৩৩২৪’ উড়ানটি। অন্য দিকে গুয়াহাটি থেকে ‘এসজি ৩৩২৫’ উড়ান উড়বে প্রতি দিন সকাল সওয়া এগারোটা থেকে।

দেশের একশোতম বিমানবন্দর হিসেবে গত মার্চে এই বিমানবন্দর খুলে গেলেও যাত্রীবাহী বিমান ওঠানামার অনুমতি মেলে মে মাসে। সিকিমই ভারতের একমাত্র রাজ্য ছিল যেখানে কোনো বিমানবন্দর ছিল না।

0 Comments
Share
road-tripas-which-you-cant-miss

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: ভ্রমণ মানে শুধু গন্তব্যে পৌঁছোনো নয়। সেই গন্তব্য পৌঁছোতে গেলে যে সড়ক দিয়ে আপনি ভ্রমণ করবেন বা যে ট্রেনে গেলে যে স্টেশন দেখতে দেখতে যাবেন সেগুলোও ভ্রমণের মধ্যেই পড়ে। 

এই প্রতিবেদনে আমরা বাছাই করেছি ভারতের এমন কিছু সড়ক যেখান দিয়ে ভ্রমণ জীবনে একবার অন্তত করতেই হবে। দেখে নেব এমন কিছু সড়ক। আজ প্রথম অংশ। 

১) মানালি থেকে লেহ

manali to leh

বলতে দ্বিধা নেই, এই রাস্তায় একবার ভ্রমণ না করলে, পর্যটক হিসেবে আপনার জীবন পূর্ণ হবে না। হিমাচলের মানালি থেকে কাশ্মীরের লেহ, এই ৪৭৯ কিমি রাস্তার বেশিটাই রুক্ষ। ন্যাড়া পাহাড়ে ঘেরা চারিদিক, নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে বিভিন্ন নদী। বছরে মাত্র পাঁচটা মাস এই রাস্তা খোলা থাকে। মাঝ অক্টোবরেই তুষারপাতের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং এই রাস্তায় যাওয়ার আদর্শ সময় হল জুন-জুলাই। মানালি থেকে লেহ-র মাঝখানে অন্তত দু’বার আপনাকে যাত্রাবিরতি দিতে হবেই।

২) মুম্বই থেকে পুনে

mumbai to pune

মুম্বই থেকে পুনের সংযোগকারী দু’টি রাস্তা রয়েছে। একটি পুরোনো জাতীয় সড়ক এবং অন্যটি এক্সপ্রেসওয়ে। এখানে এক্সপ্রেসওয়ের কথাই বলছি আমরা। পাহাড়ের গা বেয়ে যে ভাবে আট লেনের একটা সড়ক তৈরি হয়েছে, তা ভাষায় বোঝানো যায় না। পাহাড়ের বুক রয়েছে অসংখ্য টানেল। এই এক্সপ্রেসওয়ের দূরত্ব ৯৩ কিমি। রাস্তা ফাঁকা থাকলে গাড়ির গতি কোনো ভাবেই ১১০ কিমির নীচে নামে না। অর্থাৎ, এই রাস্তায় মুম্বই থেকে পুনে যেতে সময় লাগবে বড়োজোর ঘণ্টা দেড়েক। আর সৌন্দর্য! সে-ও এক কথায় অতুলনীয়।

আরও পড়ুন: বর্ষায় পশ্চিমবঙ্গে এক ডজন গন্তব্য

৩) ইস্ট কোস্ট রোডে চেন্নাই থেকে পুদুচেরি

east coast road

প্রথম দু’টো ক্ষেত্রে পাহাড়ের কথা বলা হল, এ বার একটু সমুদ্রের কথায় আশা যাক। সমুদ্রের কার্যত ধার দিয়ে চলেছে এই রাস্তা। চেন্নাই থেকে পুদুচেরি যাওয়ার পথে বাঁ দিকে তাকালেই মাঝেমধ্যেই আপনার চোখে পড়বে বঙ্গোপসাগরের নীল জল আর ডান দিকে তাকালে ইতিউতি উঁকি দেবে পূর্বঘাট পর্বতমালা। চেন্নাই থেকে পুদুচেরি, এই ১৬০ কিমি দূরত্ব যেতে আপনার সময় লাগবে ঘণ্টা তিনেক।

৪) সোমনাথ থেকে দ্বারকা

dwarka to somenath

এ বার চলে আসি পশ্চিম উপকূলের কথায়। এই রাস্তার বৈশিষ্ট্য কিন্তু ইস্ট কোস্ট রোডের মতোই, তফাৎ হল এখানে আরব সাগর। গুজরাতের তীর্থ শহর সোমনাথ থেকে আরও এক তীর্থ শহর দ্বারকা, মাঝখানে গান্ধীর শহর পোরবন্দর। এই ২৩১ কিমি রাস্তায় প্রায় পুরোটাই আরব সাগরের ধার দিয়ে। বিকেল নাগাদ এই পথে যাত্রা করলে নয়নাভিরাম সূর্যাস্তেরও সাক্ষী থাকবেন আপনি।

৫) কলকাতা থেকে পুরী

kolkata to puri road

এই রাস্তায় সমুদ্র, পাহাড়ও নেই, তবে ছয় লেনের এই সড়ক দিয়ে গাড়ি ছোটালে  এক অদ্ভুত আনন্দ পাবেন। প্রথমে কলকাতা থেকে খড়গপুর হয়ে ভুবনেশ্বর পর্যন্ত ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং তার পর ভুবনেশ্বর থেকে পুরী পর্যন্ত ২০৬ নম্বর জাতীয় সড়ক। মোট দূরত্ব আপনার পড়বে ৫০০ কিমি পর্যন্ত। কিন্তু পথের ক্লান্তি আপনি খুব একটা অনুভব করবেন না। আর একটা কথা, দিনের বেলাতেই আপনাকে এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। নৈশভোজ সেরে রাত দশটা নাগাদ কলকাতা থেকে রওনা হন, পরের দিন সকালে প্রাতরাশের আগেই পৌঁছে যান পুরী।

0 Comments
Share
12