হৃষীকেশের গুহায় আশ্রয় নেওয়া বিদেশি পর্যটকদের উদ্ধার করল পুলিশ

  • by

ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: যাঁরা জরুরি পরিষেবায় যুক্ত, তাঁদের ছাড়া বেশির ভাগ ভারতবাসী এখন লকডাউনের জেরে ঘরবন্দি। ঠিক সে রকমই বহু বিদেশি পর্যটক এ দেশে বেড়াতে এসে লকডাউনে আটকা পড়ে গিয়েছেন। তাঁদের অনেককে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা হলেও, অনেকেই এখানেই কোয়ারান্টাইনে রয়েছেন। তাঁদের অনেকেরই পকেটের হাল খারাপ, তবু কিছু করার নেই।

তবে হৃষীকেশে ছ’ জন বিদেশি পর্যটক যা করলেন, তা কল্পনা করতে একটু কষ্ট হয়। টাকা যখন প্রায় শেষ হওয়ার মুখে, তখন তাঁরা কাছাকাছি একটি গুহায় আশ্রয় নেন।

আরও পড়ুন: বাতিল হওয়ার পথে এ বারের পুরীর রথযাত্রা

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পর্যটকদলে ছিলেন চার জন পুরুষ, দু’ জন মহিলা। প্রায় এক মাস তাঁরা হৃষীকেশের কাছে একটি গুহায় ছিলেন। দিন কয়েক আগে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে সেখানকার একটি আশ্রমে কোয়ারান্টাইনে রেখে দিয়েছে।

এই পর্যটকরা এসেছেন নেপাল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ফ্রান্স ও ইতালি থেকে। তাঁরা প্রথমে হৃষীকেশের একটি হোটেলে উঠেছিলেন। যখন বুঝতে পারেন যে হোটেলের বিল মেটানো আর সম্ভব নয়, তখন তাঁরা গুহায় আশ্রয় নেন।

উত্তরাখণ্ড পুলিশের এক কর্মী জানান, ২৪ মার্চ থেকে তাঁরা গুহায় ছিলেন। তাঁদের উদ্ধার করে স্বর্গ আশ্রমে দু’ সপ্তাহের জন্য কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। ভাগ্যক্রমে, এঁদের মধ্যে কোনো রকম শারীরিক অসুস্থতা নেই। জানা গিয়েছে, খাবার জোগাড় করা ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় কাজের জন্য এঁরা কিছু টাকা সরিয়ে রেখেছিলেন।

ইতিমধ্যে করোনাভাইরাস আটকাতে উত্তরাখণ্ড সরকার বিদেশি বা দেশীয়, কোনো পর্যটককেই সে রাজ্যে ঢুকতে দিচ্ছে না। তবে লকডাউনের জন্য আটকে যাওয়া বিদেশি পর্যটকদের সব রকম সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে সরকার।

আধ্যাত্মিক পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে হৃষীকেশ শুধু দেশী পর্যটকই নয়, বিদেশি পর্যটকদের কাছেও খুবই জনপ্রিয়। বিটলস্‌রা এখানে আশ্রম তৈরি করার পর বিদেশিদের কাছে হৃষীকেশ খুব আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে ওঠে।            

Leave a Reply