রথ তৈরি করা শুরু হয়ে গেল পুরীতে, উৎসব বাতিল হলে অন্য ব্যবস্থা

ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ তৈরি করতে অনুমতি দিয়েছে পুরীর জগন্নাথ মন্দির পরিচালন কমিটি। তবে করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে এ বছরের রথযাত্রা উৎসব আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে।

খবরে জানা গিয়েছে, মন্দির পরিচালন কমিটির প্রধান পুরীর রাজা গজপতি দিব্যসিং দেব সাংবাদিকদের জানান, রথ নির্মাণের ব্যাপারটা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে পড়ে না। তাই সমস্ত কোভিড-১৯ জোনে রথ তৈরিতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রহতা খোলায় (পুরীর গ্র্যান্ড রোডে দু’ প্রান্তের খোলা জায়গা) রথ তৈরি করার সময়ে স্বাস্থ্যসুরক্ষার সমস্ত বিধি ও নির্দেশিকা মেনে চলা হচ্ছে বলে জানান গজপতি রাজা।

২৩ জুন রথযাত্রা উৎসব, ওড়িশার সব চেয়ে বড়ো উৎসব। এক সপ্তাহ ধরে এই উৎসব পালিত হয়। আর এই উৎসব দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক ও তীর্থযাত্রী আসেন। এ বছর অবশ্য করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে পুরীর জগন্নাথ মন্দির ২০ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র পুরোহিতরা মন্দিরের ভেতরে নিত্য দিনের আচার অনুষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মন্দির পরিচালন কমিটি ঠিক করে, যদি পুরীতে লকডাউন আরও বাড়ানো হয় এবং রথযাত্রা উৎসব বাতিল করা হয় তা হলে রথ নির্মাণে ব্যবহৃত কাঠের গুঁড়ি খুলে ফেলা হবে এবং সেই কাঠ মন্দিরে মহাপ্রসাদ তৈরির জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা হবে।

আরও পড়ুন: কৈলাস-মানস যাত্রাপথে লিপুলেখ পাস এ বার গাড়িতেই

তৃতীয় দফা লকডাউনের শেষ দিন ১৭ মে-র পরে কমিটি ঠিক করবে রথযাত্রার আয়োজন করা হবে কি না। একই সঙ্গে স্নানযাত্রা (বিগ্রহদের পবিত্র স্নান) নিয়েও সিদ্ধান্ত হবে।

পুরীতে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব বহু প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে। যে ঐতিহাসিক তথ্য রয়েছে তা থেকে জানা যায়, এর আগে রথযাত্রা উৎসব ৩২ বার বাতিল হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কারণ ছিল বহিঃশত্রুর আক্রমণ।

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে জগন্নাথ রূপে বিরাজ করেন শ্রীকৃষ্ণ। সঙ্গে থাকেন তাঁর ভাই-বোন বলরাম ও সুভদ্রা। ভারতের চার ধামের মধ্যে অন্যতম পুরী।

Leave a Reply