পর্যটক নিয়ে নানা বিধি, আনলক ১.০ কোনো স্বস্তি দেয়নি, বললেন শিমলার এক হোটেল-মালিক

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: “আমরা সবাই জানি এবং সবাই শুনেছি করোনাভাইরাসের জেরে যে লকডাউন চলছে তার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে ব্যবসার উপরে। দেশ জুড়ে একই অবস্থা। হোটেল-মালিক হিসাবে আমিও ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। দুর্ভাগ্যের ব্যাপার, আনলক ১.০ আমাদের কাছে কোনো স্বস্তি নিয়ে আসেনি।”

কথাগুলো বলছিলেন শিমলার এক হোটেল ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যবসায়ী ‘দ্য কুইন্ট’কে বলেন, “গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পর থেকেই আমি এই আতিথেয়তার ব্যবসায় জড়িয়ে। শিমলায় পর্যটন বরাবরই বাধাহীন ভাবে চলেছে। এখানে বেড়াতে আসা লোকের কোনো শেষ নেই। গরমের ছুটি অথবা বা সপ্তাহান্তের ছুটি – চলো শিমলা। পর্যটনের একটা নিখুঁত গন্তব্য শিমলা। এমনকি যখন সাঙ্ঘাতিক জল সংকট দেখা দেয়, তখনও পর্যটনের ব্যবসা চলেছে রমরমিয়ে। কোভিড ১৯ আসার আগে পর্যন্ত শিমলার হসপিটালিটি সেক্টরে সর্বনাশা দিন কখনও আসেনি।”

২৪ মার্চ মাঝরাতে লকডাউন চালু হওয়ার পর থেকে তাঁদের হোটেল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বলে জানালেন ওই হোটেল ব্যবসায়ী।

তাঁর কথায়, “৮ জুন থেকে হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলার খবর কোনো স্বস্তি দেয়নি আমাদের। হিমাচল প্রদেশ সরকার শুধুমাত্র স্থানীয়দের জন্য হোটেল খুলতে বলেছেন। বাইরের কোনো পর্যটককে হিমাচলে ঢুকতে দেওয়া হবে না, ফলে হোটেলে জায়গা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই।”

তিনি জানান, হিমাচলের সীমানা সিল করে দেওয়া হয়েছে। এবং রেড জোন থেকে কোনো পর্যটক এলে তাঁকে ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে এবং অরেঞ্জ বা গ্রিন জোন থেকে এলে ৭ দিন হোম কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে। এই কারণে জনগণ ভ্রমণই করতে চাইছেন না। তাই কোনো বুকিং তো দূরের কথা, কোনো খোঁজখবরও হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, এর ওপর আবার হিমাচল সরকার নির্দেশ দিয়েছেন, পর্যটকদের জন্য হোটেল খুলে দেওয়া হলেও তাঁরা ঘরের বাইরে বেরোতে পারবেন না অথবা কোনো সাইটসিয়িং-এও যেতে পারবেন না। ১০ বছরের নীচে কোনো শিশুকে বা ৬৫ বছরের বেশি বয়স্ক কাউকে রাজ্যে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এই নিয়মগুলো অর্থহীন। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের পক্ষে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়।

তাঁর মতে, “এর ওপরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক যে এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) জারি করেছে তার দরুন খরচ অনেক। হোটেলে মাস্ক, গ্লাভ, স্যানিটাইজার, অফুরান বোতলের জল রাখতে হবে এবং লাগেজ ও হোটেলের যে সব জায়গায় সবাই যায় সে জায়গাগুলো বিশেষ ধরনের রাসায়নিক দিয়ে নিয়মিত স্যানিটাইজ করতে হবে। দিনে বহু বার ডিশ ধোয়ার বিশেষ কেমিক্যাল দিলে বাসনপত্র ধুতে হবে এবং সমস্ত কর্মীকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক তথা পিপিই (পার্সোনাল প্রোটেকশন একুইপমেন্ট দিতে হবে। এত খরচ। অথচ আমরা হোটেল পুরো ভরতি করতে পারব না।”

এই পরিস্থিতিতে হিমাচল প্রদেশের ১৮টি হোটেল অ্যাসোসিয়েশন এক যোগে সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে, তাঁরা শেষ-আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের আগে হোটেল খুলতে পারবেন না। তাঁরা এখনও সরকারের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানান সেই হোটেল-মালিক।

তিনি বলেন, “পরিস্থিতির যতক্ষণ না উন্নতি হচ্ছে, ততক্ষণ আতিথেয়তা সেক্টর ধাক্কা খেয়েই যাবে এবং হিমাচল প্রদেশের (এবং সম্ভবত বাকি দেশেও) পর্যটক-গন্তব্যগুলো ভুতুড়ে চেহারা নিয়ে বসে থাকবে। আর আমি এরই মাঝে আমার হোটেলে ছুটে ছুটে যাব। দেখে আসব জল আর বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক আছে কি না।”

Leave a Reply