বুধবার সকালে কলকাতা পেল ‘বিশ্বের সব চেয়ে কম দূষিত’ শহরের তকমা

ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: লকডাউনের আরও এক সুফল। দূষণমুক্ত পরিবেশ।

কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির পাটুলিতে একটি আবাসনের ছাদে উঠেই চমকে গেলেন অভিধা মিত্র। উত্তরপশ্চিম দিকে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে দ্বিতীয় হুগলি সেতু। বছর বত্রিশের ওই তরুণীর মনে পড়ল, আড়াই দশক আগে নিয়মিত দ্বিতীয় হুগলি সেতু দেখা যেত তাঁর আবাসনের ছাদ থেকে। ফের দেখা দিল বুধবার সকালে।

‘বিশ্বের সব থেকে কম দূষিত শহর’-এর তকমাটি এ বার কলকাতার মুকুটে উঠল। আর সে কারণেই আড়াই দশক পর নিজের আবাসনের ছাদ থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতু দেখতে পেলেন ওই তরুণী। ভাবতে একটু অদ্ভুত লাগে যে এই সেই কলকাতা যে কালীপুজো আর দীপাবলির সময়ে যে বিশ্বের সব চেয়ে দূষিত শহর হওয়ার অন্যতম দাবিদার হয়ে ওঠে দিল্লির পাশাপাশি।

বিশ্বের বিভিন্ন শহরের দূষণের হিসেব দেয় মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় ‘বিশ্বের সব থেকে দূষিত শহর’-এর র‍্যাঙ্কিংয়ে কলকাতার স্থান ছিল এক্কেবারে শেষে। অর্থাৎ কলকাতার দূষণ তখন বিশ্বের সব শহরের দূষণের থেকে কম।

আরও পড়ুন: পিছিয়ে রইল না বিহারও! সীতামাঢ়ির গ্রাম থেকে দেখা গেল মাউন্ট এভারেস্ট

ঠিক ওই মুহূর্তে বাতাসের মান সংক্রান্ত সূচক বা একিউআই ছিল ৪। কলকাতার একিউআই স্বাভাবিক দিনেই থাকে ২০০-এর ওপরে। আর কালীপুজোর সময়ে সেটা বেড়ে সাতশো-আটশোতেও উঠে যায়। সাধারণত, একিউআই ২০০-এর ওপরে উঠে গেলেই সেটা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য হয়।

উল্লেখ্য, লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় কমছে দূষণের মাত্রা। কলকাতাও তার ব্যতিক্রম নয়। একিউআই মোটামুটি ৪০ থেকে ৫০-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তবে এ দিনের ভোরের কালবৈশাখী ও প্রবল বৃষ্টি বাতাসে দূষণের মাত্রা আরও কমিয়ে দেওয়ার পেছনে বড়ো কারণ।

এ দিন সকাল দশটায় একিউআই রেকর্ড করা হয়েছে ৫। আপাতত কয়েক দিন দূষণমুক্ত এই পরিবেশে নিঃশ্বাস নিয়ে নিন।  

Leave a Reply