চেনা বৃত্তের বাইরে: কাশীরাম দাসের সিঙ্গি গ্রাম

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া…” – সত্যি, ঘরের কাছে এমন কত আরশিনগর থাকে, যা আমাদের ভ্রমণ মানচিত্রে ব্রাত্যই থেকে যায়।

কিন্তু এখন? এই লকডাউনের আনলকে? ঘরবন্দি শরীর আর মন, দু’টোই একটু হাঁফ ছাড়তে চাইছে। আর বেড়ানোর জায়গাগুলোর ঝাঁপও একটু একটু করে খুলছে। কিন্তু দূরের ভ্রমণে বেরিয়ে পড়া এখন মাথায় না আনাই ভালো। কারণ এখনও সব কিছু স্বাভাবিক নয়। কিন্তু কাছেপিঠে তো যাওয়াই যায়, দু’-তিন দিনের ভ্রমণে। আর এই সময়েই ঘরের কাছের আরশিনগরগুলো আমাদের গন্তব্য হতে পারে।

ঘরবন্দি শরীর-মনের তালা খোলার চাবিকাঠির সন্ধান দিচ্ছে ভ্রমণঅনলাইন। চলুন যাওয়া যাক পূর্ব বর্ধমান জেলায় সিঙ্গি গ্রামে।    

সত্যি বলতে কী, ভ্রমণ-মানচিত্রে খুব একটা পরিচিত নয় এই সিঙ্গি গ্রাম। তবে বাংলায় মহাভারত রচয়িতা কাশীরাম দাসের জন্য এই গ্রামের খ্যাতি যথেষ্ট। এই গ্রামেই তাঁর জন্ম, রয়েছে তাঁর বসতবাটীও। যদিও তার ভগ্ন দশা।

দু’-চারটে দিন অনায়াসে কাটিয়ে দেওয়া যায় এই গ্রামে, হয় নিতান্ত অলস বিশ্রামে কিংবা আশেপাশের অসংখ্য তথাকথিত ‘ট্যুরিস্ট স্পট’ ঘুরে।

কেন যাবেন এই গণ্ডগ্রামে

এখানকার শান্তিনিকেতন হোম স্টের কর্ণধার সম্রাট ব্যানার্জিকে যদি এই প্রশ্ন করেন, তাঁর জবাব: 

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে, বা বন্ধুদের সঙ্গে অলস বিশ্রাম যাপন করতে অথবা নিজের কাছে একলা হতে; ফুসফুস ভরে বিশুদ্ধ অক্সিজেন নিতে; মুখরোচক অথচ ১০০% বিষমুক্ত খাবারের স্বাদ নিতে; আর বর্ষার তো একটা অন্য রূপ আছেই, তা দু’ চোখ ভরে দেখতে।

জগদানন্দপুরে রাধাগোবিন্দ জিউয়ের মন্দির।

কখন যাবেন

সিঙ্গি গ্রামে যাওয়ার সব চেয়ে ভালো সময় কোনটা?

সম্রাটবাবু কথায়: “সারা বছরই আসা যায় সিঙ্গিতে। এপ্রিল থেকে জুনের মাঝামাঝি গ্রীষ্ম, সেই সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত বেশ গরম পড়লেও বিকেলের পর থেকে অনেকটা কমে যায় তাপমাত্রা। বিশেষ করে যে দিন সন্ধ্যায় ঝড়বৃষ্টি হয়, সে দিন রাতে ভালো রকম শীত বোধ হয়।

জুনের শেষ থেকে আগস্টের শেষ ভরা বর্ষা। গ্রাম বাংলার সবুজ রূপ দেখার সেরা সময়।

অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এখানে শীতের শুরু। চলে কমবেশি মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত। ডিসেম্বর/জানুয়ারি মাসে রাতের দিকে তাপমাত্রা মাঝে মাঝেই ৬ ডিগ্রির নীচে নেমে যায়।”

অজয়ের তীরে কুমুদ্রঞ্জনের ভিটেবাড়ি।

কী ভাবে উপভোগ করবেন

গ্রামের পথে হাঁটুন; পরিষ্কার রাতের আকাশে চন্দ্রোদয় আর ধানখেতের মধ্যে সূর্যাস্তের সাক্ষী থাকুন; ইচ্ছে হলে শান্তিনিকেতন বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে তেল, ঘি তৈরি করতে কিংবা বাগানের কাজে হাত লাগান; ১০০% বিষমুক্ত, সুস্বাদু বাঙালি খাবারের স্বাদ নিন; পছন্দের বই আর গরম চায়ের কাপ হাতে নিয়ে শান্তিনিকেতন হোমস্টের ওপেন টেরেস অথবা বাগানে বসে/শুয়ে শুধুমাত্র ছুটি কাটান।

পাখি দেখায় আগ্রহ থাকলে ক্যামেরা আর বাইনোকুলার নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। সারা বছরই এখানে শামুকখোল (এশিয়ান ওপেন বিলেড স্টর্ক), মানিকজোড় (উলি নেকেড স্টর্ক), কাস্তেচড়া (ব্ল্যাক হেডেড আইবিস), বাঁশপাতি (গ্রিন বি ইটার) ছাড়াও তিন রকম মাছরাঙার দেখা পাওয়া যায়। ফিঙে, মৌটুসী, বুলবুলি, প্যাঁচা, খঞ্জন, ছাতারে আছেই।

ঘোরাঘুরি

(১) কাশীরাম দাসের বসতবাটী – সিঙ্গি গ্রামেই। বাড়ির ভগ্ন দশা হলেও এখানে একটি ছোট্ট পাতালঘর আছে। শোনা যায়, কবি এখানে তাঁর পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রায়ই আত্মগোপন করতেন।

ক্ষেত্রপাল ঠাকুরের থান।

(২) ক্ষেত্রপাল ঠাকুরের থান – সিঙ্গি গ্রামেই। কোনো বিগ্রহ নেই। অতি প্রাচীন একটি বটগাছকে পূজা করা হয়। গ্রামের প্রান্তিক দেবতা।

(৩) শ্রীবাটী গ্রাম – সিঙ্গি থেকে ২ কিমি, এখানকার তিনটি অসাধারণ টেরাকোটার কারুকার্যসমৃদ্ধ মন্দির আপনার অপেক্ষায় আছে।

(৪) ক্ষীরগ্রাম – সিঙ্গি থেকে ১৮ কিমি, যোগাদ্যা সতীপীঠের জন্য বিখ্যাত, যে গ্রামকে স্মরণীয় করে রেখেছেন ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর ‘যোগাদ্যা বন্দনা’য়। গ্রামে ঢুকতেই হাজার বিঘের ক্ষীরদিঘি, যেখানে পড়েছিল সতীর ডান পায়ের আঙুল। রয়েছে যোগাদ্যার মন্দির, অনুচ্চ টিলার টঙে দেবীর ভৈরব ক্ষীরকণ্ঠ শিবের মন্দির।

(৫) মুশারু-সহ চার গ্রাম – সিঙ্গি থেকে ২৬ কিমি, ক্ষীরগ্রাম থেকে ১২ কিমি। চলুন ঝাংলাই কেউটে সাপের গ্রাম মুশারু, ছোট পোষলা, বড়ো পোষলা এবং পলসোনায়। নিজের চোখে দেখবেন বিষধর সাপের সঙ্গে ওই চার গ্রামের বাসিন্দাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।

(৬) ওরগ্রাম – সিঙ্গি থেকে ৫১ কিমি, মুশারু থেকে ৩০ কিমি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে তৈরি এক গোপন বিমানবন্দর দেখতে হলে চলুন ওরগ্রামের জঙ্গলে। রয়েছে কফি গাছের জঙ্গল।     

(৭) জগদানন্দপুর – সিঙ্গি থেকে ১২ কিমি, পুরাতত্ত্বে আগ্রহ থাকলে জগদানন্দপুরের রাধাগোবিন্দ জিউর মন্দির দেখতেই হবে, অসাধারণ সুন্দর পাথরের মন্দির। ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তৈরি, ৮২ ফুট উঁচু দ্বিতল পঞ্চচূড়া মন্দির।

নতুনগ্রামের প্যাঁচা শিল্প।

(৮) নতুনগ্রাম – সিঙ্গি থেকে ১৫ কিমি, জগদানন্দপুর থেকে ৬ কিমি। কাঠের প্যাঁচা শিল্পীদের গ্রাম, দেখে আসুন কী ভাবে অত্যন্ত স্বল্প সময়ে তৈরি হয়ে যাচ্ছে এই অনবদ্য হস্তশিল্প।

(৯) দাঁইহাট – সিঙ্গি থেকে ১৪ কিমি, জগদানন্দপুর থেকে ৫ কিমি। ২৮০ বছরের পুরোনো, ‘মরাঠা দস্যু’ ভাস্কর পণ্ডিতের দুর্গাবাড়ি। প্রায় ধ্বংস হওয়ার মুখে এই ঐতিহাসিক স্থান।

(১০) কাটোয়া – দাঁইহাট থেকে ১০ কিমি, সিঙ্গি থেকে ১৯ কিমি, ঐতিহাসিক শহর। নিমাইয়ের দীক্ষাস্থল গৌরাঙ্গবাড়িতে দেখে নিন নিমাইয়ের মস্তক মুণ্ডনের স্থান, পাশেই সন্ন্যাসগ্রহণ ও শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যগিরি তথা শ্রীচৈতন্য নামগ্রহণের স্থান, কেশব ভারতীর সমাধি, মব্দিরে গৌর-নিতাইয়ের বিগ্রহ। কাটোয়ায় আরও দেখুন জগাই-মাধাইয়ের অন্যতম মাধাইয়ের নামে মাধাইতলা; বাগানপাড়ায় ৩০০ বছরের শাহি মসজিদ, সাহেববাগানে উইলিয়াম কেরির দ্বিতীয় পুত্র জুনিয়ার উইলিয়ামের সমাধি। কাছেই ভাগীরথী ও অজয়ের সঙ্গম।

শ্রীবাটীর তিন মন্দির।

(১১) কেতুগ্রাম – সিঙ্গি থেকে ৩৪ কিমি, কাটোয়া থেকে ১৬ কিমি। বহুলা সতীপীঠ, দেবীর বাম বাহু পড়েছিল এখানে।

(১২) নিরোল – সিঙ্গি থেকে ৪২ কিমি, কেতুগ্রাম থেকে ৮ কিমি। ঈশানী নদীর পাড়ে অট্টহাস সতীপীঠ। দেবীর ওষ্ঠ তথা ঠোঁট পড়ে এখানে। সেই থেকে নাম ওষ্ঠহাস, সেখান থেকে অট্টহাস। এক নিরালা তপোবন, দেবীর কোনো মূর্তি নেই, ঘটে পুজো। রয়েছেন দেবীর ভৈরব বিশ্বেশ্বর শিব, পঞ্চমুণ্ডির আসনে রটন্তী কালী।  

(১৩) উদ্ধারণপুর – সিঙ্গি থেকে ৪৬ কিমি, কাটোয়া থেকে ২৩ কিমি, কেতুগ্রাম থেকে ১২ কিমি। সাধক সাহিত্যিক অবধূত যে স্থানকে অমর করে রেখেছেন তাঁর ‘উদ্ধারণপুরের ঘাট’-এ, সেই উদ্ধারণপুর ভাগীরথীর পশ্চিম পাড়ে। বাঁধানো ঘাটের পাশেই নৈহাটির রাজার দেওয়ান দিবাকর দত্ত, পরবর্তী কালে নিতাইয়ের প্রিয় শিষ্য উদ্ধারণ দত্ত প্রতিষ্ঠিত গৌরাঙ্গ মন্দির, তাঁর সমাধিমন্দির এবং বিখ্যাত মহাশ্মশান।

(১৪) নূতনহাট – সিঙ্গি থেকে ৩৫ কিমি। দেখে নিন হুসেনশাহি মসজিদের ধ্বংসাবশেষ, মসজিদের গায়ে পোড়ামাটির কাজ; ‘বিক্রমাদিত্যের ডাঙা’ যেখান থেকে মিলেছে শুঙ্গ, কুষাণ ও গুপ্ত সংস্কৃতির নানা নিদর্শন।

ওরগ্রামের জঙ্গল।

(১৫) কোগ্রাম – সিঙ্গি থেকে ৩৮ কিমি, নূতনহাট থেকে ৩ কিমি। ‘ভাঙন ধরা অজয় নদীর বাঁকে’ কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিকের ভিটে। চৈতন্যমঙ্গলের কবি লোচনদাসের শ্রীপাট ছিল এই কোগ্রামেই। এখানে রয়েছে লোচনদাসের সমাধিমন্দির।  আর এই হল মঙ্গলকাব্যের উজানিনগর, এখানেই ছিল ভ্রমরার দহ যেখানে নোঙর করা থাকত ধনপতি-শ্রীমন্তদের বাণিজ্যডিঙা। অজয় ও কুনুর নদীর সঙ্গমস্থলে এক ত্রিভুজাকৃতি ভূখণ্ড। কাছেই উজানি সতীপীঠ, দেবী সর্বমঙ্গলার মন্দির।  

(১৬) চুপির চর – সিঙ্গি থেকে ২৫ কিমি। পরিযায়ী পাখিদের দেখতে চাইলে চলুন শীতকালে।  

কী ভাবে যাবেন

কলকাতা থেকে সিঙ্গি পৌঁছোনোর অনেক উপায় আছে।

ট্রেনপথে – হাওড়া বা শিয়ালদা স্টেশন থেকে কাটোয়া লাইনের যে কোনো ট্রেন ধরে কাটোয়ার তিনটে স্টেশন আগে পাটুলি স্টেশনে (শুধুমাত্র লোকাল ট্রেন থামে, মেল/এক্সপ্রেসে এলে কাটোয়া জংশনে নামতে হয়) নেমে শেয়ারে ম্যাজিক/অটো/টোটোয় চড়ে আসতে পারেন, ভাড়া: জনপ্রতি ১৫/২০ টাকা। হাওড়া থেকে লোকাল ট্রেনে পাটুলি স্টেশন পৌঁছোতে সময় লাগে পৌনে তিন ঘন্টা।

শিয়ালদা থেকে কাটোয়া লাইনের ট্রেনের সংখ্যা কম, তুলনায় হাওড়া থেকে অনেক বেশি।

বর্তমানে করোনার কারণে যাবতীয় লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ।

আরও পড়ুন: চেনা বৃত্তের বাইরে: গঙ্গাপারের গড়মুক্তেশ্বর

সড়কপথে – গাড়িতে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে মেমারি, সেখান থেকে সাতগাছিয়া, মন্তেশ্বর, মালডাঙা, মেঝিরি, সিঙ্গির মোড় হয়ে সিঙ্গি। কলকাতার এসপ্ল্যানেড থেকে এ পথে দূরত্ব ১৩৬ কিমির মতো। সময় লাগে মোটামুটি ৩ ঘন্টা।

এ ছাড়া ডানকুনি থেকে পুরোনো দিল্লি রোড ধরে মগরা হয়ে কালনা, নবদ্বীপ, পারুলিয়া ছুঁয়ে (এসপ্ল্যানেড থেকে মোটামুটি ১৪৭ কিমি) অথবা দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বর্ধমান শহর, সেখান থেকে বলগোনা, কৈচর, কৈথন, সিঙ্গির মোড় ছুঁয়েও (এসপ্ল্যানেড থেকে মোটামুটি ১৫৮ কিমি) সিঙ্গি আসা যায়।

শান্তিনিকেতন হোম স্টে।

থাকা-খাওয়া

রয়েছে শান্তিনিকেতন হোমস্টে। যোগাযোগ: ৭০৪৪৭৯১৪৩৬/৭২৭৮১৮২৯০৯

‘শান্তিনিকেতন’ সিঙ্গি গ্রামের একটি (হোমস্টে)। গ্রামের কিছু পরিশ্রমী মানুষের সহযোগিতায় বাইরে থেকে গ্রামে বেড়াতে আসা মানুষদের থাকা, খাওয়ার ব্যবস্থা এবং গ্রামের পরিবেশ চেনানোর কাজ করে শান্তিনিকেতন পরিবার ।

বাড়িতে আছে বিভিন্ন ধরনের ফল, সবজি এবং বিভিন্ন গাছে ছাওয়া দু’টি ছোটো বাগান। আছে খুব ছোট্ট একটি বাঁধানো পুকুর, যেখানে ছোটো মাছ চাষ করা হয়।

অতিথিদের থাকার জন্য মোট ছ’টি ঘর আছে। দোতলায় দু’টি, ত্রিতলে তিনটি এবং একতলায় বাড়ির ভিতরের বাগান সংলগ্ন একটি ঘর আছে। প্রতিটি ঘরেই রয়েছে অ্যাটাচড্‌ বাথরুম। দোতলা ও তিনতলার ঘর দ্বিশয্যা। তবে অতিরিক্ত চার্জের বিনিময়ে অতিরিক্ত বিছানা করে তৃতীয় অতিথির থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।   

শুধুমাত্র তিনতলার তিনটি ঘরই বাতানুকূল।

হোম স্টের বাগান।

শান্তিনিকেতনে টেলিভিশন নেই। প্রতি ঘরে কিছু বই (বিভিন্ন ধরনের, মূলত বাংলা) আছে।

অতিথির সঙ্গে আসা গাড়ির চালকবন্ধুদের থাকার জন্য বাড়ির একতলায় আলাদা ঘর আছে।

শান্তিনিকেতন একটি গ্রাম্য হোমস্টে। এখানে কোনো রেস্টুরেন্ট নেই। বাড়ির নিজস্ব রান্নাঘরে অতিথির জন্য খাবার তৈরি করা হয়। রান্নাঘরে মূলত রাসায়নিক সারমুক্ত টাটকা শাকসবজি, ঘরে তৈরি তেল, ঘি, দই এবং বিভিন্ন মশলা ব্যবহার করা হয়।  

শান্তিনিকেতন হোমস্টে সংক্রান্ত কিছু জ্ঞাতব্য তথ্য

(১) বর্তমান পরিস্থিতিতে বাড়িতে নতুন অতিথি আসার সময় তাঁর মেডিকেল হিস্ট্রি জেনে নেওয়া হয়।

(২) বাড়ির প্রত্যেক ঘর এবং সিঁড়ি, ছাদ ইত্যাদি কমন এরিয়া প্রতি দিন সকালে স্যানিটাইজ করা হয়। অতিথির ঘর প্রতি দিন সকালে আর বিকেলে মোছা হয়।

(৩) অতিথির চেক আউটের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঘর সম্পূর্ণ স্যানিটাইজ করে যাবতীয় চাদর, বালিশের ওয়াড়, তোয়ালে ইত্যাদি বদলে দেওয়া হয়।

হোম স্টের তিন তলার টেরেস।

(৪) প্রতি ঘরে টুথপেস্ট, ছোটো সাবান, শ্যাম্পুর ছোটো প্যাকেট, তোয়ালে রাখা থাকে।

(৫) অতিথিকে নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারের মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে আসতে হবে।

(৬) আপাতত তিন তলার ঘরের বুকিং দেওয়া হচ্ছে।

(৭) প্রত্যেক অতিথিকে নিজের কাছে সচিত্র পরিচয়পত্র (আসল) রাখতে হবে এবং এখানে আসার পর পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে।

(৮) সিঙ্গি এবং আশেপাশের গ্রাম ঘুরে বেড়ানোর জন্যে টোটো এবং বিভিন্ন ধরনের গাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়।

Leave a Reply