ভ্রমণের খবর

পর্যটনের মানচিত্রে বিষ্ণুপুরকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এসে গেল ‘হ্যামক’

hammock-arrives-in-bishnupur-to-enhance-the-tourism-of-the-district
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: ‘হ্যামক’। সহজ সরল ভাবে বললে কাপড়ের দোলনা। এই হ্যামকের অর্থ মাছের জাল। সাপ, কীটপতঙ্গ বা অন্য ক্ষতিকর প্রাণী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হ্যামকের ব্যবহার শুরু হয়। বিভিন্ন অভিযানে তাঁবুর বিকল্প হিসেবে বিশ্রাম ও রাত্রিযাপনের জন্য হ্যামকের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে পর্যটকদের কাছে। বিষ্ণুপুরে পর্যটন শিল্পের বিকাশে এ বার যোগ দিল এই ‘হ্যামক’। স্বাধীনতা দিবসের সকালে সাধারণ মানুষকে অভিনব মুহূর্ত উপহার দিল বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসন।

বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসক মানস মণ্ডলের কথায়, “এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। যুব সমাজ এখন সারাক্ষণ কম্পিউটার গেম এবং মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। তাদের বাবা মায়ের কর্মব্যস্ততায় শৈশব থেকে শিশুরা কার্যত বঞ্চিত। এই জীবন থেকে কয়েক দণ্ড মুক্তি দেওয়ার জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য।”

এই দোলনায় দুলতে দুলতে উপভোগ করা যাবে লোকসংস্কৃতি, আদিবাসী নাচ, গান। এরই সঙ্গে আঞ্চলিক খাবারদাবার মিলবে। সব মিলিয়ে ভ্রমণপিপাসু বাঙালির মনের আর পেটের খোরাক অনেকটাই মিটবে এখানে এলে।

হ্যামক নিয়ে বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি। নিজস্ব চিত্র

স্বাধীনতা দিবসের সকালে এই অভিনব জিনিসের সাক্ষী থাকতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ‘হ্যামক’-এ হাজির হয়েছিলেন। নিজেদের মতো কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে খুশি এখানে আসা অসংখ্য সাধারণ মানুষ। মহকুমা প্রশাসনের এই উদ্যোগে পর্যটকদের পাশাপাশি খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ধরনের উদ্যোগের ফলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নতি হবে বলে অনেকে মনে করছেন। পাশাপাশি জেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে এই ‘হ্যামক’-এর পরিচিতিও বাড়বে। প্রথম দিন কন্যা রাজন্যাকে নিয়ে ‘হ্যামক’-এ এসে খুশি অমৃতা কুণ্ডু। অমৃতাদেবীর কথায়, “খুব ভালো লাগছে। বিষ্ণুপুরে এই ধরনের উদ্যোগ এই প্রথম।”

তবে ‘হ্যামক’-এ আসতে হলে বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসনের কিছু নিয়ম অবশ্যই জেনে নিতে হবে। এখানে কিন্ত মোবাইল ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ। তা হলে কি ছবি তোলা হবে না? তার বিকল্প ব্যবস্থাও করেছে প্রশাসন। স্থানীয় অভিজ্ঞ ফটোগ্রাফার এখানে উপস্থিত থাকবেন। তিনিই আধ ঘণ্টার মধ্যে ছবি তুলে প্রিন্ট করে হাতে তুলে দেবেন।

পাশাপাশি এখানে রনপা চড়ে জঙ্গল ঘোরার সুযোগ যেমন থাকছে তেমনি আদিবাসীদের নিজস্ব ঘরানার পোশাক পরে ছবি তোলার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে। আদিবাসীদের পোশাকে মহকুমা আধিকারিকদের ছবি এখন সোশ্যাল সাইটে ভাইরাল। তবে আপাতত ‘হ্যামক’-এর প্রাথমিক মহড়া শুরু হল। পুজোর পরে এটি পুরোপুরি ভাবে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

0 Comments
Share

Bhramon

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*