পশ্চিমঘাট পর্বতের কোলে আটটি অখ্যাত অভয়ারণ্য

  • by
Karnataka wildlife cover

আমরা জানি পাহাড়, সমুদ্র সৈকত এবং জঙ্গলঘেরা কর্নাটক একটি সুন্দর রাজ্য। এই রাজ্যের পরতে পরতে চমক। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হাম্পি ছাড়াও আরও অনেক কিছু রয়েছে কর্নাটকে যা পর্যটকদের মুগ্ধ করতে বাধ্য।

কিন্তু জানেন কি পশ্চিমঘাট পর্বতমালার কোলে চিরহরিত অরণ্যের কথা? ঘন সবুজ এই জঙ্গলে বিভিন্ন প্রাণী ছাড়াও ব্যাঘ্র প্রকল্পও রয়েছে। এছাড়া প্রাকৃতিক সম্পদে এই জঙ্গল গুলি ভরপুর। এছাড়া কর্নাটকে মশলা চাষের ব্যাপারে আমরা সকলেই জানি। তবে এত বড় রাজ্যে আমাদের না ঘোরা অনেক জায়গাই রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমঘাট পর্বতমালার কোলে রয়েছে গভীর অরণ্য। চলুন দেখে আসি কী কী জঙ্গল রয়েছে সেখানে।

ভদ্র ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি

চিকমাগালুর ও সিমোগার মাঝে, পশ্চিমঘাট পর্বতমালার মাঝে ভদ্র ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি ৪৯২ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। চিকমাগালুর জেলা থেকে ৩৮ কিলোমিটার দূরে ভদ্র নদীর নামানুসারে এই অরণ্যের নাম। এই বন হল পাখী প্রেমীদের স্বর্গরাজ্য। প্রায় আড়াইশ প্রজাতির পাখি এখানে আছে। এছাড়া বাঘ, লেপার্ড এবং মালাবার কাঠবিড়ালির দেখাও মিলতে পারে।

দূরত্ব: শিমোগা থেকে ১০৩ কিলোমিটার দূরে, বেঙ্গালুরু থেকে ২৮৫ কিলোমিটার

কখন যাবেন: অক্টোবর থেকে মার্চ – এর মধ্যে

কীভাবে যাবেন

নিকটতম বিমানবন্দর:  ম্যাঙালোর(১৬৩ কিমি)

নিকটতম রেলস্টেশন: কাদুর(৪০ কিমি)

এছাড়া ভদ্রভাতি এবং এছাড়া তারিকেরে এবং বিরুর থেকে বাসে আপনি আসতে পারেন এখানে।

ব্রহ্মগিরি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি

ব্রহ্মগিরি শৃঙ্গের টঙে অবস্থিত এই অরণ্য কেরালা রাজ্যের ওয়ানাদ এবং কর্নাটক রাজ্যের কুর্গের মাঝে অবস্থিত। এই জঙ্গলে আপনি দেখতে পাবেন ম্যাকাও, হাতি, চিতল হরিণ, নীলগিরি হনুমান ইত্যাদি। এছাড়া এই অঞ্চলের অন্য আকর্ষণ হল থিরুন্নেলাই মন্দির, পক্ষীপাথলম এবং ইরুপ্পু জলপ্রপাত। এছাড়া আপনি যদি অ্যাডভেঞ্চার ভালবাসেন তবে করতে পারেন ট্রেকিংও।

দূরত্ব: কুর্গ থেকে ৬০ কিলোমিটার এবং বেঙ্গালুরু থেকে ২৭০ কিলোমিটার

কখন যাবেন? অক্টোবর এবং মে মাস টেক করার জন্য আদর্শ সময়।

কীভাবে যাবেন?

নিকটতম বিমানবন্দর হল মায়সুরু (১১৩ কিমি) এবং নিকটতম রেলস্টেশনও হল মায়সুরু (১১০ কিমি)

এছাড়া কেএসআরটিসি বাসে বেঙ্গালুরু থেকে গোনিক্কোপ্পাল এবং শ্রীমঙ্গলা পর্যন্ত আসতে হবে সেখান থেকে ১০ কিলোমিটার ট্রেক করে পৌঁছতে হবে জঙ্গলে। এছাড়া কেরালা থেকে

এসআরটিসি বাসে আপনি আসতে পারেন এখানে ।

ক্যভারি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি

প্রায় ১০২ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই জঙ্গলটি মায়সুরু, বেঙ্গালুরু এবং মান্ডায়া জেলার কিছু অংশ জুড়ে অবস্থিত। এই জঙ্গল সেগুন ইত্যাদি গাছে ভরা। পাখীপ্রেমীদের জন্য এই জঙ্গল স্বর্গরাজ্য। এছাড়া চিতল হরিণ, সম্বর হরিণ, বুনো কুকুরের পাশাপাশি দুই শিং বিশিষ্ট কৃষ্ণসার হরিণ দেখা যায়।

দূরত্ব:  বেঙ্গালুরু থেকে ৯০ কিলোমিটার

কখন যাবেন: আগস্ট থেকে ফেব্রুয়ারি

কীভাবে যাবেন: নিকটতম বিমানবন্দর বেঙ্গালুরু এবং নিকটতম রেলস্টেশন হল রামনগর

এছাড়া বেঙ্গালুরু থেকে গাড়িতে  হারোহালি, কনকাপুরা এবং সাথানুর হয়ে যেতে পারেন মুথাথি । এছাড়া এম.এম পাহাড়ে পৌঁছাতে পারেন মাদ্দুর, মালাভাল্লি এবং কোল্লিগাল হয়ে।

Image result for dandeli wildlife sanctuary

দানদেলি ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি

উত্তর কর্নাটকে ৮৭৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই জঙ্গলটি। কালী নদী ছাড়াও

এই জঙ্গলে বাঘ, নানা রকম পাখী এবং কুমির দেখা যায়। এছাড়া নানারকম অ্যাডভেঞ্চারের ব্যাবস্থাও এখানে আছে যেমন কালী নদীতে রিভার রাফটিং, জঙ্গলের পাহাড়ি রাস্তায় বাইকিং ইত্যাদি। এছাড়া বিভিন্ন প্রাণী যেমন বিভিন্ন ধরনের হরিণ, ভারতীয় প্যাঙ্গোলিন ইত্যাদি দেখা যায়।

দূরত্ব: বেঙ্গালুরু থেকে ৪৮০ কিলোমিটার

কখন যাবেন: মার্চ থেকে অক্টোবর

কীভাবে যাবেন: নিকটতম বিমানবন্দর হুবলি(৭৫ কিমি) এবং নিকটতম রেলস্টেশন আলনাভর (৩২ কিমি) এবং লন্ডা (৪৮ কিমি)

এছাড়া যেহেতু ধারওয়ার এই জঙ্গলের নিকটতম শহর, তাই এই জঙ্গল বেঙ্গালুরু, বেলগাঁও, হুবলি এবং কারওয়ার থেকে গাড়িতে এই জঙ্গলে আসা যায়।

শারাভাথি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি

শিমোগা জেলায় শারাভাথি নদীর ধারে অবস্থিত এই জঙ্গলটি ৪৩১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। গভীর চিরহরিত বৃক্ষের এই জঙ্গলে জঙ্গল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তায় আছে লায়ন টেইলড ম্যাকাও। এছাড়া লেপার্ড, হনুমান, জংলি কুকুর, শিয়াল, ইত্যাদি প্রাণীর দেখা মিলতে পারে। এছাড়া শারাভাথি নদীর ব্যাকওয়াটারে আছে বিভিন্ন জলক্রীড়ার সুযোগ।

দূরত্ব: বেঙ্গালুরু থেকে ৩৩১ কিলোমিটার

কখন যাবেন: যদিও সারা বছরই এই জঙ্গল ঘোরার পক্ষে অনুকূল, তবে নভেম্বর থেকে মে মাসে এই জঙ্গলে গেলে বেশি ভালো লাগবে।

নিকটতম বিমানবন্দর: হুবলি(১৬৫ কিমি)

নিকটতম রেলস্টেশন: শিমোগা

এছাড়া এনএইচ ৫০ এবং এনএইচ ২০৬ রাস্তা দিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে শিমোগা আসতে পারবেন টুমকুর এবং আরাসিকেরে হয়ে।

মুকাম্বিকা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি

শারাভাথি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি সংলগ্ন এলাকায় উদুপি জেলায় ২৪৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে মুকাম্বিকা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি। চিরহরিত বৃক্ষে ঘেরা এই অরণ্যটিও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এই জঙ্গলের সান্নিধ্যে মুকাম্বিকা মন্দিরও পর্যটকদের আরেক আকর্ষণ।

দূরত্ব: শিমোগা থেকে ১৩০ কিলোমিটার

কখন যাবেন: নভেম্বর থেকে এপ্রিল

কীভাবে যাবেন: নিকটতম রেলস্টেশন হল মুকাম্বিকা (২৮ কিমি) এবং নিকটতম বিমানবন্দর হল ম্যাঙালোর

এছাড়া কুণ্ডাপুর এবং বিন্দুর থেকে রাস্তা দিয়ে এই জঙ্গল যুক্ত।

pushpagiri wildlife sanctuary

পুষ্পগিরি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি

বেঙ্গালুরু থেকে ২৮৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জঙ্গলটি ১৯৮৭ সালে তৈরি হয়েছিলো। নানা প্রজাতির পাখী এই জঙ্গলে দেখা যায়। খাঁড়াই রাস্তা এবং জলপ্রপাত এবং নিয়ে এই জঙ্গলটি প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ। এছাড়া এই জঙ্গলে আপনি দেখতে পাবেন উরন্ত কাঠবিড়ালি, চিতল হরিণ, হাতি ইত্যাদি নানা রকম প্রাণী। এই জঙ্গলটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে মনোনীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

দূরত্ব: বেঙ্গালুরু থেকে ২৮৭ কিলোমিটার

কখন যাবেন: নভেম্বর থেকে মার্চ

কীভাবে যাবেন: নিকটতম রেলস্টেশন হল মায়সুরু (১৪৬ কিমি) এবং নিকটতম বিমানবন্দর হল ম্যাঙালোর (১৩৫ কিমি)

বেঙ্গালুরু থেকে পুষ্পগিরি জঙ্গল আসতে সাড়ে চার ঘন্টা লাগে। এনএইচ ৪২ এবং এসএইচ ৮ রাস্তা দিয়ে আপনি আসতে পারেন এখানে। এছাড়া বিকল্প পথে এনএইচ ২৭৫ ধরে আপনি পৌঁছে যাবেন এই জঙ্গলে।

 Talakaveri wildlife sanctuary

তালাকাবেরী ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি

দক্ষিণ কর্নাটকে কোদাগু জেলায় এই জঙ্গলটি ১০৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। কাবেরী নদীর নামানুসারে এই জঙ্গলের নামকরণ হয়েছে। অন্যান্য জঙ্গলের চেয়ে এই জঙ্গল দৈর্ঘ্যে একটু ছোট। এই জঙ্গলের কিছু অংশে কফি ও এলাচ চাষ হয়ে থাকে। এছাড়া গভীর চিরহরিত অরণ্যে গন্ধগোকুল, শিয়াল, লেপার্ড, বাঘ ইত্যাদি প্রাণীর দেখা মিলতে পারে। এছাড়া দেখা মিলতে পারে কিং কোবরা, পাইথনের মত সাপের।

দূরত্ব:  বেঙ্গালুরু থেকে ৩০০ কিলোমিটার

কখন যাবেন: নভেম্বর থেকে এপ্রিল

কীভাবে যাবেন: নিকটতম বিমানবন্দর হল ম্যাঙালোর এবং নিকটতম রেলস্টেশন হল হাস্সান, থালাস্সেরি, কান্নুর এবং কাসারগোদ।

এছাড়া গাড়িতে বেঙ্গালুরু থেকে মায়সুরু, মাদিকেরী, কুশালানগর, ভাগামান্ডালা হয়ে পৌঁছে যাবেন তালাকাবেরী। এছাড়া ম্যাঙালোর থেকে তালাকাবেরী পৌঁছে যাবেন পুট্টুর, সুল্লিয়া, কুশালানগর ও ভাগামান্ডালা হয়ে।

আরও পড়ুন 

চলুন বেরিয়ে পড়ি: কর্নাটক ১

চলুন বেরিয়ে পড়ি: কর্নাটক ২

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।