পূর্ব উপকূলের অল্প-চেনা সৈকত: সূর্যলঙ্কা

ভারতের পশ্চিম উপকূল যতটা পর্যটকদের কাছে পরিচিত, পূর্ব উপকূল ততটা নয়। আরব সাগরের উপকূলে কেরল থেকে গুজরাত পর্যন্ত রয়েছে অসংখ্য সৈকত, যার মধ্যে বেশ কিছুর ভালো নামডাক আছে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরের কূলে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার কিছু এবং অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর হাতে গোনা দু’-একটি সৈকত ছাড়া বাকিগুলিতে পর্যটকদের পা তেমন পড়ে না। সে রকমই একটি সৈকত অন্ধ্রপ্রদেশের সূর্যলঙ্কা সৈকত।

তবে ব্যস্ত শহর বাপাতলার খুব কাছে হওয়ায় স্থানীয় মানুষজনের কাছে সূর্যলঙ্কা ভালো সপ্তাহান্তিক গন্তব্য। কিন্তু এই সুন্দর সৈকতটি স্থানীয়দের কাছে যতটাই পরিচিত, ঠিক ততটাই অপরিচিত রাজ্যের বাইরের পর্যটকদের কাছে। অথচ সৌন্দর্যে কোনো খামতি নেই সূর্যলঙ্কার।

অন্ধ্রের সৈকত বলতেই আমাদের বিশাখাপত্তনমের (ভাইজাগ) সৈকতগুলির কথা মনে পড়ে। কিন্তু এই সব জনপ্রিয় সৈকতের থেকে কোনো অংশে কম নয় সূর্যলঙ্কা। এর আরও প্লাস পয়েন্ট আছে – সপ্তাহান্ত ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিকে একরকম ফাঁকাই থাকে এই সৈকত। নানা রকম স্পোর্টস অ্যাডভেঞ্চারেরও ব্যবস্থা আছে সূর্যলঙ্কায়।

দু’টো দিন কাটিয়ে যান এই সৈকতে। দীর্ঘ সোনালি সৈকত ধরে হাঁটাহাঁটি করুন। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত, দু’টোই উপভোগ করুন। বঙ্গোপসাগরের স্বচ্ছ নীল জলে স্নান করুন। শীতকালে এলে দর্শন পাবেন ডলফিনের। অন্ধ্রের বিশাখাপত্তনম-বিজয়ওয়াড়া বেড়াতে এলে দু’টো দিন সূর্যলঙ্কায় অবশ্যই কাটিয়ে যাবেন।   

হারিতা বিচ রিসর্ট, সূর্যলঙ্কা।

কোথায় থাকবেন

সূর্যলঙ্কা সৈকতে থাকার জন্য রয়েছে এপিটিডিসি-এর (অন্ধ্র প্রদেশ ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন) হারিতা বিচ রিসর্ট। অনলাইন বুকিং https://tourism.ap.gov.in/home

কী ভাবে যাবেন

(১) বিমানে যেতে হলে হায়দরাবাদে নামতে হবে। সেখান থেকে ট্রেনে বাপাতলা। সেখান থেকে সূর্যলঙ্কা সৈকত সড়কপথে ৯ কিমি। স্টেশন থেকে গাড়ি পেয়ে যাবেন। হায়দরাবাদ থেকে সড়কপথে সূর্যলঙ্কা সৈকত ৩৬২ কিমি।

(২) ভারতের যে কোনো প্রান্ত থেকে ট্রেনে বাপাতলা বা গুন্টুর এসে সেখান থেকে সড়কপথে সূর্যলঙ্কা সৈকত আসা যায়। গুন্টুর থেকে সূর্যলঙ্কা সৈকত ৬৫ কিমি। গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন।

(৩) কলকাতা থেকে যেতে হলে হাওড়া স্টেশন থেকে সকালের ফলকনুমা এক্সপ্রেস ধরে গুন্টুর যাওয়াই ভালো। ফলকনুমা সকাল ৮.৩৫ মিনিটে হাওড়া ছেড়ে গুন্টুর পৌঁছোয় পরের দিন ভোর ৪.৫৫ মিনিটে। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন ৬৫ কিমি দূরের সূর্যলঙ্কা সৈকতে।

হাওড়া থেকে সরাসরি বাপাতলাও আসা যায়। রাত্রি ১১টার যশবন্তপুর এক্সপ্রেস ধরে অথবা রাত্রি ১১.৫৫ মিনিটের চেন্নাই মেল ধরে। যশবন্তপুর এক্সপ্রেস বাপাতলা পৌঁছোয় পরের দিন সন্ধে ৭.১৩ মিনিটে এবং চেন্নাই মেল পৌঁছোয় রাত ৯.০৪ মিনিটে। এই দু’টি ট্রেনে একটাই অসুবিধা। সূর্যলঙ্কা পৌঁছোতে বেশ রাত হয়ে যায়।

মনে রাখবেন

অন্ধ্রের বিশাখাপত্তনম-বিজয়ওয়াড়া বেড়াতে এলে আপনার ভ্রমণসূচিতে দু’টো দিন অবশ্যই রেখে দিন সূর্যলঙ্কার জন্য। বিজয়ওয়াড়া থেকে ৯৪ কিমি সূর্যলঙ্কা, সরাসরি গাড়ি ভাড়া করে চলে আসতে পারেন। আর বিশাখাপত্তনম থেকে ট্রেনে চলে আসুন বাপাতলা। ট্রেন বিশেষে সময় লাগে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা। ট্রেনের বিস্তারিত সময় জানার জন্য দেখুন https://erail.in/

আরও পড়তে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published.