আমাদের বাছাই

পুজোয় চলুন: গন্তব্য কুমায়ুন

puja-destination-travel-plan-for-kumaon

ভ্রমণ অনলাইনডেস্ক: বেরিয়ে পড়ার ডাক এসে গিয়েছে। আর মাত্র চার মাস, তার পরেই পুজো। পুজো মানেই লম্বা সফরে বেরিয়ে পড়া। এ বার কোথায় যাবেন ভাবছেন? ভ্রমণ অনলাইন আছে না! আপনাদের জন্য সাজিয়ে দিচ্ছে বেড়ানোর ছক, একেবারে সাজিয়েগুছিয়ে। প্রথম পর্বে ছিল গাড়োয়াল। এ বার কুমায়ুন।    

ভ্রমণ-ছক ১:  লোহাঘাট-পিথোরাগড়-মুন্সিয়ারি-চৌকরি-কৌসানি-বিনসর-মুক্তেশ্বর-নৈনিতাল 

প্রথম দিন – বরেলি থেকে চলুন লোহাঘাট (৫৭৭৫ ফুট), ২২০ কিমি।

পথে দেখে নিন – (১) শ্যামলাতাল (৪৯২১ ফুট, স্বামী বিবেকানন্দ ও স্বামী বিরজানন্দের স্মৃতিবিজড়িত, মূল সড়ক থেকে যাতায়াতে অতিরিক্ত ১০ কিমি)। রাত্রিবাস লোহাঘাট।

দ্বিতীয় দিন – আজও থাকুন লোহাবতী নদীর তীরে লোহাঘাটে। প্রাতরাশ করে বেরিয়ে পড়ুন। দেখে নিন – (১) মানেশ্বর মহাদেব মন্দির (মূল সড়কের ধারেই, তবে হেঁটে কিছুটা উপরে উঠতে হবে, মন্দিরপ্রাঙ্গণ থেকে হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গরাজি দৃশ্যমান, কুমায়ুন ভ্রমণে এসে প্রথম এই দৃশ্য দেখা। (২) চম্পাবত – (৫২৯৮ ফুট, চাঁদ রাজাদের রাজধানী, দুর্গ, নাগনাথ মন্দির, লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, রাজা বুন্দা কি কিলার ধ্বংসাবশেষ, বালেশ্বর মহাদেব মন্দির, শহর থেকে কিছুটা দূরে ঘটোৎকচ মন্দির।

লোহাঘাটে ফিরে এসে দুপুরের খাওয়া সেরে চলুন স্বামী বিবেকানন্দ স্মৃতিবিজড়িত মায়াবতী (৬৩৬৪ ফুট, ৯ কিমি)।

তৃতীয় দিন – প্রাতরাশ সেরে পিথোরাগড় রওনা, দূরত্ব ৬০ কিমি। পথে অবশ্যই ঘুরে নিন ওক-পাইনে ছাওয়া অ্যাবট মাউন্ট (লোহাঘাট-পিথোরাগড় রাস্তায় মাড়োরখান থেকে যাতায়াতে অতিরিক্ত ৬ কিমি, ৬৫৬৪ ফুট উচ্চতায় বিস্তীর্ণ ময়দান, নন্দাদেবী, নন্দাখাত, পঞ্চচুল্লি-সহ হিমালয়ের বিভিন্ন শিখর দৃশ্যমান)। পথেই পড়বে গুর্না মাতা মন্দির। বেলা ১২টার মধ্যে পিথোরাগড়। দুপুরে খাওয়াদাওয়া করে বেরিয়ে পড়ুন, ঘুরে নিন রাই গুফা, কামাখ্যা মন্দির, উল্কাদেবী মন্দির, পশুপতিনাথ মন্দির, মস্তমানু মন্দির এবং চন্দক পাহাড় থেকে সূর্যাস্ত। রাত্রিবাস পিথোরাগড় (৫৩৯৬ ফুট)

চতুর্থ দিন – পিথোরাগড় থেকে চলুন মুন্সিয়ারি (৭৫৪৫ ফুট), ১২৮ কিমি। পথ থল হয়ে রামগঙ্গার ধার ধরে তেজাম-বিরথি-কালামুনি টপ হয়ে। পথে দেখে নিন বিরথি ফলস্‌। চাইলে বিরথি ফলসের উপরে উঠতে পারেন। সিঁড়ি আছে। ঘুরে আসতে আধ ঘণ্টা মতো সময় লাগবে। এই পথের সর্বোচ্চ জায়গা কালামুনি টপ (৯৫০০ ফুট, সিংহবাহিনী চতুর্ভুজা কালী মন্দির)। এই পথে এই কালামুনি টপেই প্রথম দেখা পাবেন পঞ্চচুল্লির, যেন হাত বাড়ানো দূরত্বে। এর পর মুন্সিয়ারির পথ একটু নামবে। রাত্রিবাস মুন্সিয়ারি।

পঞ্চম দিন – আজও থাকুন গৌরীগঙ্গার তীরে পঞ্চচুল্লির কোলে মুন্সিয়ারিতে। মুন্সিয়ারিতে দেখে নিন – নন্দাদেবী মন্দির, টেবিটান হেরিটেজ মিউজিয়াম (পাংতের মিউজিয়াম), খালিয়া টপ (৭ কিমি, বেশ কিছুটা হাঁটা), মাদকোট (২১ কিমি, নিসর্গ দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত), দারকোট (৭ কিমি, মাদকোট রোডে, মন্দির ও হস্তশিল্পের জন্য বিখ্যাত) ইত্যাদি। কোথাও না গিয়ে মুন্সিয়ারিতে থেকে পঞ্চচুল্লিতে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখে আর পঞ্চচুল্লির শোভা উপভোগ করেও দিন কাটিয়ে দিতে পারেন।

ষষ্ঠ দিন – চলুন চৌকরি (৬৫৯৪ ফুট), ৯৭ কিমি। বিরথিতে প্রাতরাশ সেরে নিন। দুপুরে খাওয়ার আগে চৌকরি পৌঁছে যান। খেয়েদেয়ে দুপুরে কোটমান্য ঘুরে আসুন, গাড়িতে ৪ কিমি, তার পর পাহাড়ি পথে দেড় কিমি ট্রেক, দেখে নিন কস্তূরী মৃগ ফার্ম। না হলে নন্দাদেবী গ্রুপ আর পঞ্চচুল্লি শিখর দেখতে দেখতে চৌকরির সৌন্দর্য উপভোগ করুন।

সপ্তম দিন – আজও থাকুন চৌকরিতে। ঘুরে আসুন বেরিনাগ, ত্রিপুরাদেবী মন্দির, পাতাল ভুবনেশ্বর আর গঙ্গোলিহাট।

অষ্টম দিন – চলুন কৌসানি (৬২০০ ফুট)। ভোরেই বেরিয়ে পড়ুন। পথে দেখে নিন – (১) বাগেশ্বর, চৌকরি থেকে ৫০ কিমি, গোমতী ও সরযূর সঙ্গমে বাগেশ্বর শিবমন্দির। এখানেই প্রাতরাশ সেরে নিন, খাওয়ার খুব ভালো জায়গা। (২) এর পর চলুন গোয়ালদাম, ৪২ কিমি, ত্রিশূল দেখার জন্য গোয়ালদাম; এখানে দুপুরের লাঞ্চ সেরে নিন। (৩) এখান থেকে কৌসানি রওনা, ৩৭ কিমি, পথে দেখে নিন গোমতীর তীরে বৈজনাথের মন্দিররাজি। সূর্যাস্তের আগে কৌশানি পৌঁছে যান। গান্ধীজির স্মৃতিবিজড়িত অনাশক্তি আশ্রম থেকে সূর্যাস্ত দেখুন। সে এক অপার্থিব দৃশ্য। রাত্রিবাস কৌসানি।

নবম দিন – সূর্যোদয় উপভোগ করুন। প্রাতরাশ সেরে চলুন বিনসর (৭৯১৩ ফুট), ৫১ কিমি। পথে দেখে নিন বিনেশ্বর মহাদেব মন্দির। ১২টার মধ্যে পৌঁছে যান বিনসর। হিমালয়ের প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করুন।

দশম দিন – বিনসর কেএমভিএন থেকে হিমালয়ের শৃঙ্গরাজির কোলে সূর্যোদয় কখনোই মিস করবেন না। সূর্যোদয় দেখেই বেরিয়ে পড়ুন জিরো পয়েন্টের পথে। যাতায়াতে ৪ কিমি হাঁটা। জিরো পয়েন্ট ঘুরে এসে প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন মুক্তেশ্বরের পথে, দূরত্ব ৭৫ কিমি। মুক্তেশ্বরে জিম করবেটের স্মৃতিবিজড়িত পূর্ত বিভাগের বাংলোটি দেখুন। চৌথি কি জালি ভিউ পয়েন্ট থেকে অবশ্যই দেখে নিন সূর্যাস্ত। রাত্রিবাস মুক্তেশ্বর (৭১২২ ফুট)।

একাদশ দিন – সকালে ঘুরে নিন। হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গের শোভা উপভোগ করুন। প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন নৈনিতালের পথে। সাততাল, ভীমতাল আর নৌকুচিয়াতাল ঘুরে নৈনিতাল আসুন। দুপুরের খাওয়া পথে কোথাও সেরে নিন। কোনো জায়গারই দূরত্ব খুব বেশি নয়। মুক্তেশ্বর থেকে ভীমতাল ৩৭ কিমি, সেখান থেকে নৌকুচিয়াতাল ৭ কিমি, সেখান থেকে সাততাল ১৭ কিমি, সাততাল থেকে নৈনিতাল ২২ কিমি। সুতরাং ধীরেসুস্থে ঘুরুন। রাত্রিবাস নৈনিতাল (৬৮৩৭ ফুট)  

দ্বাদশ দিন – আজও থাকুন নৈনিতালে। লোক্যাল সাইটসিয়িং করুন – লেক, নয়নাদেবী মন্দির, কেবল কারে স্নো ভিউ পয়েন্ট, নায়না পিক, লরিয়া কান্তা ইত্যাদি, তাল্লি তাল থেকে মাল্লি তাল হাঁটুন, ভ্রমণ শেষে কেনাকাটি করুন।

ত্রয়োদশ দিন – বাড়ির পথে। ফিরতে পারেন কাঠগোদাম (৩৪ কিমি), লালকুয়াঁ (৬০ কিমি), মোরাদাবাদ (১১৭ কিমি) বা বরেলি (১৪৪ কিমি) দিয়ে।

ভ্রমণ-ছক ২: মায়াবতী-চৌকরি-মুন্সিয়ারি-কৌসানি-বিনসর-মুক্তেশ্বর-নৈনিতাল  

প্রথম দিন – বরেলি থেকে চলুন মায়াবতী, ২৩০ কিমি। সম্ভব হলে পথে দেখে নিন শ্যামলাতাল, চম্পাবত ও মানেশ্বর। রাত্রিবাস মায়াবতী।  

দ্বিতীয় দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন চৌকরি, ১২৫ কিমি। পথে দেখে নিন – অ্যাবট মাউন্ট, গঙ্গোলিহাট, পাতাল ভুবনেশ্বর, ত্রিপুরাদেবী ও বেরিনাগ। পাতাল ভুবনেশ্বর ছাড়া সবই মূল সড়কে। শুধু পাতাল ভুবনেশ্বর যেতে হলে সুনৌলি থেকে যাতায়াতে অতিরিক্ত ১৪ কিমি। রাত্রিবাস চৌকরি।

তৃতীয় দিন – আজও থাকুন চৌকরিতে। সকালে ঘুরে আসুন কোটমান্য, গাড়িতে ৪ কিমি, তার পর পাহাড়ি পথে দেড় কিমি ট্রেক, দেখে নিন কস্তূরী মৃগ ফার্ম। না হলে নন্দাদেবী গ্রুপ আর পঞ্চচুল্লি শিখর দেখতে দেখতে সারা দিন চৌকরির সৌন্দর্য উপভোগ করুন।

চতুর্থ দিন – চলুন মুন্সিয়ারি, ৯৭ কিমি। পথ উপভোগ করতে করতে চলুন। চৌকরি থেকে রাস্তা পুরো নেমে আসবে রামগঙ্গা নদীর ধারে থলে। রামগঙ্গার ধার দিয়ে পথ অনেকটা। তার পর বিরথি থেকে পথ উঠেছে। কালামুনি টপ হয়ে মুন্সিয়ারি। রাত্রিবাস মুন্সিয়ারি।

পঞ্চম দিন – আজও থাকুন মুন্সিয়ারিতে। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ১ পঞ্চম দিন)

ষষ্ঠ দিন – চলুন কৌসানি, ১৮১ কিমি। পথে দেখে নিন বাগেশ্বরে গোমতী ও সরযুর সঙ্গম ও বাগেশ্বর মন্দির। রাত্রিবাস কৌসানি।

সপ্তম দিন – আজও থাকুন কৌসানিতে। কেএমভিএন থেকে সূর্যোদয় আর অনাশক্তি আশ্রম থেকে সূর্যাস্ত দেখুন। ত্রিশূল শৃঙ্গ দর্শন করতে গোয়ালদাম ঘুরে আসুন, ৩৭ কিমি। পথে দেখে অবশ্যই দেখে নিন গোমতীর তীরে বৈজনাথের মন্দিররাজি।

অষ্টম থেকে দ্বাদশ দিনভ্রমণ-ছক ১-এর মতো (নবম থেকে ত্রয়োদশ দিন)।

ভ্রমণ-ছক ৩: লোহাঘাট-ডিডিহাট-মুন্সিয়ারি-পাতাল ভুবনেশ্বর-চৌকরি-কৌশানি-বিনসর-শিতলাখেত-নৈনিতাল  

প্রথম ও দ্বিতীয় দিন  – বরেলি থেকে চলুন লোহাঘাট। দ্বিতীয় দিনেও থাকুন লোহাঘাটে। (দেখুন ভ্রমণ–ছক ১)

তৃতীয় দিন –  সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন ডিডিহাট (৫৬৫৯ ফুট), ১১৪ কিমি। পথে দেখে নিন অ্যাবট মাউন্ট, গুর্না মাতা মন্দির, রাই গুফা (পিথোরাগড়)। রাত্রিবাস ডিডিহাট।

চতুর্থ দিন – আজও থাকুন ডিডিহাটে। হেঁটে উঠুন সিরাকোট পাহাড়ে, দেখুন মলয়নাথ শিব। ঘুরে আসুন ৭ কিমি দূরের নারায়ণ আশ্রম, আরও ৮ কিমি গিয়ে আস্কোট অভয়ারণ্য। ওম পর্বতের মাথায় সূর্যাস্ত দেখুন। পঞ্চচুল্লি সুন্দর দৃশ্যমান ডিডিহাট থেকে।

পঞ্চম দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন মুন্সিয়ারি, ৯১ কিমি। ডিডিহাট থেকে রাস্তা নেমে এসেছে থলে। তার পর রামগঙ্গার ধার ধরে তেজাম, তার পর বিরথি-কালামুনি হয়ে মুন্সিয়ারি। রাত্রিবাস মুন্সিয়ারি।

ষষ্ঠ দিন – আজও থাকুন মুন্সিয়ারিতে। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ১, পঞ্চম দিন)

সপ্তম দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন পাতাল ভুবনেশ্বর (৪৪২৯ ফুট), ১২৭ কিমি। রাস্তা থল থেকে চৌকরির পথে উদিয়ারি বেন্ড থেকে বাঁ দিকে। রাত্রিবাস পাতাল ভুবনেশ্বর।

অষ্টম দিন – সক্কালেই দেখে নিন পাতাল ভুবনেশ্বর গুহা। তার পরেই রওনা হয়ে যান চৌকরি, ৩৭ কিমি। পথে দেখে নিন ত্রিপুরাদেবী মন্দির, বেরিনাগ। সারা দিন চৌকরির শোভা উপভোগ করুন। রাত্রিবাস চৌকরি।

নবম দিন – সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন কৌসানি, ৮৫ কিমি। পথে দেখে নিন বাগেশ্বর, বৈজনাথ। কৌসানির অনাসক্তি আশ্রম থেকে সূর্যাস্ত দেখতে ভুলবেন না। রাত্রিবাস কৌসানি।

দশম দিন – সূর্যোদয় দেখে বেরিয়ে পড়ুন, চলুন বিনসর, ৫১ কিমি। পথে দেখে নিন বিনেশ্বর মহাদেব মন্দির। ১২টার মধ্যে পৌঁছে যান বিনসর। হিমালয়ের প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করুন।

একাদশ দিন – কেএমভিএন থেকে হিমালয়ের শৃঙ্গরাজির কোলে সূর্যোদয় কখনোই মিস করবেন না। সূর্যোদয় দেখেই বেরিয়ে পড়ুন জিরো পয়েন্টের পথে। যাতায়াতে ৪ কিমি হাঁটা। জিরো পয়েন্ট ঘুরে এসে প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন, চলুন শিতলাখেত (৫৯৯৭ ফুট)। তুষারাচ্ছাদিত হিমালয়ের নৈসর্গিক শোভার জন্য বিখ্যাত শিতলাখেত। রাত্রিবাস শিতলাখেত। 

দ্বাদশ দিন – ভোরে বেড়িয়ে আসুন সহায়দেবী মন্দির, ৪ কিমি। অনেকটা পথ চড়াই ভেঙে উপরে উঠতে হবে। ফিরে এসে চলুন নৈনিতাল, ৫৬ কিমি। লোক্যাল সাইটসিয়িং করুন – লেক, নয়নাদেবী মন্দির, কেবল কারে স্নো ভিউ পয়েন্ট, নায়না পিক, লরিয়া কান্তা ইত্যাদি, তাল্লি তাল থেকে মাল্লি তাল হাঁটুন। রাত্রিবাস নৈনিতাল।

ত্রয়োদশ দিন – আজও থাকুন নৈনিতালে। ঘুরে নিন ভীমতাল, নৌকুচিয়াতাল, সাততাল। রাত্রিবাস নৈনিতাল।

চতুর্দশ দিন – বাড়ির পথে। ফিরতে পারেন কাঠগোদাম (৩৪ কিমি), লালকুয়াঁ (৬০ কিমি), মোরাদাবাদ (১১৭ কিমি) বা বরেলি (১৪৪ কিমি) দিয়ে।  

ভ্রমণ-ছক ৪: লোহাঘাট-পিথোরাগড়-মুন্সিয়ারি-চৌকরি-দিনাপানি-রানিখেত-মুক্তেশ্বর

প্রথম থেকে সপ্তম দিন – ভ্রমণ-ছক ১-এর মতো।

অষ্টম দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন দিনাপানি, ১১২ কিমি। মূল সড়ক থেকে ২০ কিমি অতিরিক্ত গিয়ে দেখে নিন জাগেশ্বর ধাম, সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে তৈরি ১০০-এরও বেশি মন্দিরের কমপ্লেক্স। জাগেশ্বর ধাম দেখে দিনাপানি আসার পথে চিতাইয়ে দেখে নিন কুমায়ুনের উপাস্য দেবতা গলু দেবতা মন্দির। দিনাপানিতে উপভোগ করুন তুষারাচ্ছাদিত হিমালয়ের নৈসর্গিক শোভা। রাত্রিবাস দিনাপানি।

নবম দিন – আজও থাকুন দিনাপানিতে। ঘুরে নিন বিনসর (১৮.৫ কিমি), সেখান থেকে আলমোড়া (২৪.৫ কিমি), আলমোড়া থেকে চলে আসুন দিনাপানি (১৮ কিমি)। আলমোড়ায় দেখে নিন স্বামীজির স্মৃতিবিজড়িত শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম। আলমোড়া-দিনাপানি সড়কে দেখে নিন কাসারদেবী মন্দির। মন্দিরপ্রাঙ্গণ থেকে দেখুন হিমালয়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য।

দশম দিন – সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন রানিখেত (৬০০০ ফুট), ৫০ কিমি। পথে দেখে নিন কাতারমলের সূর্য মন্দির, রানিখেতের কাছে কালিকা মন্দির, চার দিকে ওক আর পাইনে ছাওয়া সবুজ তৃণভূমির নাইন হোল গলফ্‌ কোর্স। রানিখেতে দেখে নিন ঝুলা দেবী অর্থাৎ দেবী দুর্গার মন্দির (৭ কিমি), চৌবাটিয়া (আরও ৩ কিমি, সরকারি আপেল বাগিচা ও গবেষণা কেন্দ্র)। তুষারাচ্ছাদিত হিমালয়ের মোহিনী রূপ সুন্দর দৃশ্যমান রানিখেত থেকে। রাত্রিবাস রানিখেত।

একাদশ দিন – চলুন মুক্তেশ্বর, ৮০ কিমি। তুষারাবৃত হিমালয়ের দিগন্তবিস্তৃত শোভা সারা দিন উপভোগ করুন। মুক্তেশ্বরে জিম করবেটের স্মৃতিবিজড়িত পূর্ত বিভাগের বাংলোটি দেখুন। চৌথি কি জালি ভিউ পয়েন্ট থেকে অবশ্যই দেখে নিন সূর্যাস্ত।  রাত্রিবাস মুক্তেশ্বর।

দ্বাদশ দিন – বাড়ির পানে। ফিরুন কাঠগোদাম (৫৬ কিমি), লালকুয়াঁ (৮২ কিমি), মোরাদাবাদ (১৬৭) বা বরেলি (১৬৭ কিমি) হয়ে।

ভ্রমণ ছক ৫: নওকুচিয়াতাল-বিনসর-চৌকরি-মুন্সিয়ারি-কৌশানি-রানিখেত

প্রথম দিন – লালকুয়াঁ/কাঠগোদাম থেকে চলুন নওকুচিয়াতাল (৩৯৯৯ ফুট), দূরত্ব ৫৩ কিমি/২৬ কিমি। আজ সারা দিনটা উত্তরাখণ্ডের বৃহত্তম সরোবর নয়-কোণা নওকুচিয়াতাল, পায়ে পায়ে হাঁটুন, বিশ্রাম করুন, অলস ভাবে কাটান। রাত্রিবাস নওকুচিয়াতাল।

দ্বিতীয় দিন – আজও থাকুন নওকুচিয়াতালে। ঘুরে নিন ভীমতাল (৭ কিমি), সাততাল (ভীমতাল থেকে ১২ কিমি), নৈনিতাল (সাততাল থেকে ২২ কিমি)। ফিরে আসুন নওকুচিয়াতালে, ২৫ কিমি)

তৃতীয় দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন বিনসর, ৯০ কিমি। পথে দেখে নিন আলমোড়ায় শ্রীরামকৃষ্ণ মিশন, কাসারদেবী মন্দির, বিনসরের একটু আগে বিনেশ্বর মহাদেব মন্দির। আলমোড়ায় সেরে নিন মধ্যাহ্নভোজ। বিনসর কেএমভিএন থেকে তুষারাবৃত হিমালয়ের আদিগন্ত রূপে মোহিত হোন। রাত্রিবাস বিনসর।

চতুর্থ দিন – আজও থাকুন বিনসরে। কেএমভিএন থেকে সূর্যোদয় দেখুন, বিনসর অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে ধীরেসুস্থে ২ কিমি হেঁটে চলে যান জিরো পয়েন্টে। নজরমিনার থেকে ৩৪০ কিমি ব্যাপ্ত হিমালয়ের শৃঙ্গরাজি দেখুন। সারা দিনটা উপভোগ করুন বিনসরে।

পঞ্চম দিন – খুব সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন চৌকরি। প্রথমে চলুন জাগেশ্বর ধাম, ৫৩ কিমি। পথে চিতাইয়ে দেখে নিন গলু দেবতার মন্দির। জাগেশ্বর ধাম ঘুরে চলুন চৌকরি, ৯৩ কিমি। রাত্রিবাস চৌকরি।

ষষ্ঠ দিন – আজও থাকুন চৌকরিতে। ঘুরে আসুন বেরিনাগ, ত্রিপুরাদেবী, পাতাল ভুবনেশ্বর ও গঙ্গোলিহাট।

সপ্তম দিন – সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন মুন্সিয়ারি, থল-তেজাম-বিরথি- কালামুনি হয়ে। রাত্রিবাস মুন্সিয়ারি।

অষ্টম দিন – আজও থাকুন মুন্সিয়ারিতে। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ১, পঞ্চম দিন)

নবম ও দশম দিন – সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন কৌসানি। (দেখুন ভ্রমণ ছক ২, ষষ্ঠ ও সপ্তম দিন)

একাদশ দিন – সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, প্রথমেই চলুন সোমেশ্বর, ১৭ কিমি, কোশী নদীর তীরে শিব মন্দির। সোমেশ্বর থেকে চলুন দ্বারাহাট (৫৪১৩ ফুট), ৩৪ কিমি, কাত্যুরি রাজাদের তৈরি ১৩ শতকের মন্দিরগুচ্ছের জন্য বিখ্যাত। দ্বারাহাট থেকে চলে আসুন রানিখেত, ৩৪ কিমি। রাত্রিবাস রানিখেত।

দ্বাদশ দিন – আজও থাকুন রানিখেতে। দেখে নিন কালিকা মন্দির, চার দিকে ওক আর পাইনে ছাওয়া সবুজ তৃণভূমির নাইন হোল গলফ্‌ কোর্স, ঝুলা দেবী অর্থাৎ দেবী দুর্গার মন্দির, চৌবাটিয়া (সরকারি আপেল বাগিচা ও গবেষণা কেন্দ্র)। তুষারাচ্ছাদিত হিমালয়ের মোহিনী রূপ সুন্দর দৃশ্যমান রানিখেত থেকে। রাত্রিবাস রানিখেত।

ত্রয়োদশ দিন – বাড়ির পানে। ফিরুন কাঠগোদাম হয়ে ৭৫ কিমি বা লালকুয়াঁ (১০১ কিমি), মোরাদাবাদ (১৭৩ কিমি) বা বরেলি (১৮৫ কিমি) হয়ে।  

ভ্রমণ ছক ৬: নৈনিতাল-রানিখেত-কৌসানি-আলমোড়া

প্রথম দিন – কাঠগোদাম  থেকে চলুন নৈনিতাল, ৩৪ কিমি। আজ লোক্যাল সাইটসিয়িং করুন – লেক, নয়নাদেবী মন্দির, কেবল কারে স্নো ভিউ পয়েন্ট, নায়না পিক, লরিয়া কান্তা ইত্যাদি, তাল্লিতাল থেকে মাল্লিতাল হাঁটুন। রাত্রিবাস নৈনিতাল।

দ্বিতীয় দিন – আজও থাকুন নৈনিতালে। ঘুরে আসুন সাততাল, ভীমতাল, নওকুচিয়াতালে।

তৃতীয় দিন – চলুন রানিখেত, ৫৬ কিমি। দেখে নিন কালিকা মন্দির, চার দিকে ওক আর পাইনে ছাওয়া সবুজ তৃণভূমির নাইন হোল গলফ্‌ কোর্স, ঝুলা দেবী অর্থাৎ দেবী দুর্গার মন্দির, চৌবাটিয়া (সরকারি আপেল বাগিচা ও গবেষণা কেন্দ্র)। তুষারাচ্ছাদিত হিমালয়ের মোহিনী রূপ সুন্দর দৃশ্যমান রানিখেত থেকে। রাত্রিবাস রানিখেত।

চতুর্থ দিন – আজও থাকুন রানিখেতে। ঘুরে আসুন কর্ণপ্রয়াগগামী সড়কে দ্বারাহাট (৫৪১৩ ফুট), ৩৪ কিমি, কাত্যুরি রাজাদের তৈরি ১৩ শতকের মন্দিরগুচ্ছের জন্য বিখ্যাত। দ্বারাহাট থেকে চলুন আরও ১৫ কিমি দূরে ডুনাগিরি, বাস সড়ক থেকে ৫০০-রও বেশি সিঁড়ি উঠে পাহাড়চুড়োয় দুর্গা তথা বৈষ্ণোদেবী মন্দির।

পঞ্চম দিন – চলুন কৌসানি, ৫৯ কিমি। পথে দেখে নিন সোমেশ্বরের মন্দির। অনাসক্তি আশ্রম থেকে সূর্যাস্ত দেখুন। রাত্রিবাস কৌসানি।

ষষ্ঠ দিন – আজও থাকুন কৌসানিতে। সূর্যোদয় দেখুন। বেরিয়ে পড়ুন। প্রথমেই চলে যান বাগেশ্বর, ৩৮ কিমি। বাগেশ্বর থেকে চলে আসুন গোয়ালদাম, ৪২ কিমি। গোয়ালদাম থেকে চলে আসুন বৈজনাথ, ২৩ কিমি। বৈজনাথ থেকে ফিরুন কৌসানিতে, ১৭ কিমি।

সপ্তম দিন – চলুন আলমোড়া (৫৪০০ ফুট), ৫৩ কিমি। স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত আলমোড়ায় দেখে নিন শ্রীরামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম, গোবিন্দবল্লভ পন্থ স্টেট মিউজিয়াম, ব্রাইট এন্ড কর্নার ভিউ পয়েন্ট থেকে নন্দাদেবী, নন্দাকোট, পঞ্চচুল্লি, ত্রিশূল, চৌখাম্বা ছাড়াও নানা শৈলশিখরে সূর্যাস্তের মোহিনী রূপ, সাড়ে ৩ কিমি দূরে সিমিতোলা পাইন রিজ, আরও দেড় কিমি গিয়ে কালীমঠ ইত্যাদি। রাত্রিবাস আলমোড়া।

অষ্টম দিন – আজও থাকুন আলমোড়ায়। ঘুরে আসুন চিতাই গলু মন্দির (সাড়ে ৮ কিমি), সেখান থেকে চলুন লাখুডিয়ার গুহা মন্দির (৭ কিমি), সেখান থেকে চলুন জাগেশ্বর ধাম (২০ কিমি)। আলমোড়া ফেরার পথে চলুন কাসারদেবী মন্দির (৩৬ কিমি)। সেখান থেকে চলে আসুন আলমোড়ায় (৮ কিমি)।

নবম দিন – বাড়ির পানে। ফিরুন কাঠগোদাম (৮২ কিমি), লালকুয়াঁ (১০৮ কিমি), মোরাদাবাদ (১৮০ কিমি) বা বরেলি (১৯২ কিমি) হয়ে।          

কী ভাবে যাবেন

কলকাতা থেকে বরেলি যাওয়ার সুবিধাজনক ট্রেন

(১) দ্বিসাপ্তাহিক দুর্গিয়ানা এক্সপ্রেস (মঙ্গল, শনি) – কলকাতা স্টেশন ছাড়ে বেলা ১২.১০, বরেলি পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৬.১৭। (২) দ্বিসাপ্তাহিক অকাল তখত্‌ এক্সপ্রেস (বুধ, রবি) – কলকাতা স্টেশন ছাড়ে সকাল ৭.৪০, বরেলি পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৬.১৭। (৩) সাপ্তাহিক হাওড়া-জৈসলমের এক্সপ্রেস (সোম) – হাওড়া ছাড়ে সকাল ৮.১৫, বরেলি পৌঁছোয় পরের দিন ভোর ৪.৩৭। (৪) দ্বিসাপ্তাহিক শিয়ালদা-আনন্দবিহার টার্মিনাল এক্সপ্রেস (বৃহস্পতি, রবি) – শিয়ালদা ছাড়ে রাত ৯.১৫, বরেলি পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৬.১৭। (৫) বাঘ এক্সপ্রেস (রোজ) – হাওড়া থেকে ছাড়ে রাত ৯.৪৫, বরেলি পৌছোয় তৃতীয় দিন ভোর ৫টায়।

কলকাতা থেকে লালকুয়াঁ/কাঠগোদাম

(১) বাঘ এক্সপ্রেস (রোজ) – হাওড়া থেকে ছাড়ে রাত ৯.৪৫, লালকুয়াঁ পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৮.০৫, কাঠগোদাম সকাল ৯.২৫। (২) সাপ্তাহিক হাওড়া-লালকুয়াঁ এক্সপ্রেস (শুক্রবার) – হাওড়া থেকে ছাড়ে সকাল ৮.১৫, লালকুয়াঁ পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৭.২০।

লখনউ/দিল্লি হয়ে কাঠগোদাম

(১) কাঠগোদামের ট্রেন ধরার জন্য হাওড়া থেকে লখনউ যাওয়ার সব চেয়ে সুবিধাজনক ট্রেন হাওড়া-অমৃতসর মেল। হাওড়া থেকে সন্ধে ৭.১০-এ ছেড়ে লখনউ পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩.২৫। সে দিন রাতেই লখনউ থেকে ধরুন লখনউ-কাঠগোদাম এক্সপ্রেস (মঙ্গল, শনি বাদে) – লখনউ থেকে ছাড়ে রাত ১১.২৫, কাঠগোদাম পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৮.৪৫।

(২) কলকাতা থেকে দিল্লি আসার বহু ট্রেন আছে।

দিল্লি থেকে ধরা যেতে পারে – (১) নিউদিল্লি-কাঠগোদাম শতাব্দী – রোজ সকাল ৬টায় নিউদিল্লি ছেড়ে কাঠগোদাম পৌঁছোয় সকাল ১১.৪০। (২) রানিখেত এক্সপ্রেস – রোজ রাত ১০.০৫-এ দিল্লি জংশন ছেড়ে কাঠগোদাম পৌঁছোয় ভোর ৫.০৫।

ভারতের অন্যান্য জায়গা থেকে এলেও দিল্লি হয়ে আসা সুবিধাজনক।

বিমানে যেতে চাইলে কুমায়ুন অঞ্চলের কাছাকাছি পন্থনগর, কাঠগোদাম থেকে ৩১ কিমি। দিল্লি থেকে একাধিক উড়ান আছে। সময়ের জন্য দেখুন makemytrip, goibibo, happyeasygo, yatra, প্রভৃতি ওয়েবসাইট।   

কী ভাবে ফিরবেন

বরেলি হয়ে

(১) অকাল তখত্‌ এক্সপ্রেস মঙ্গল ও শুক্র বিকেল ৪.৩০, কলকাতা পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩.১৫। (২) দুর্গিয়ানা এক্সপ্রেস সোম ও বৃহস্পতি বিকেল ৪.২৮, কলকাতা পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ১১.৩৫। (৩) জম্মু তাওয়াই-শিয়ালদহ হমসফর এক্সপ্রেস বুধবার রাত ৭.৪৪, শিয়ালদহ পৌঁছোয় পরের দিন সন্ধে ৬.০৫। (৪) জৈসলমের হাওড়া সুপারফাস্ট বৃহস্পতি রাত ৭.৫৯, হাওড়া পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৪.৫৫। (৫) নাঙ্গল ড্যাম কলকাতা এক্সপ্রেস শনিবার বিকেল ৪.৩০, কলকাতা পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩.১৫।

মোরাদাবাদ হয়ে

(১) উপাসনা এক্সপ্রেস বুধ ও শনি রাত্রি ২.৫০, হাওড়া পৌঁছোয় পরের দিন ভোর ৩.১৫।(২) হরিদ্বার হাওড়া কুম্ভ এক্সপ্রেস (রবি ও বৃহস্পতি বাদে) রাত্রি ২.৫০, হাওড়া পৌঁছোয় পরের দিন ভোর ৩.২০। (৩) জম্মু তাওয়াই-শিয়ালদহ হমসফর এক্সপ্রেস বুধবার সন্ধে ৬.১৫, শিয়ালদহ পৌঁছোয় পরের দিন সন্ধে ৬.০৫। (৪) জৈসলমের হাওড়া সুপারফাস্ট বৃহস্পতি সন্ধে ৬.১৫, হাওড়া পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৪.৫৫।

লালকুয়াঁ/কাঠগোদাম হয়ে

(১) বাঘ এক্সপ্রেস রোজ কাঠগোদাম থেকে রাত ৯.৪৫, লালকুয়াঁ রাত ১০.৪০, হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন দুপুর ১২.৪০।(২) রানিখেত এক্সপ্রেস রোজ কাঠগোদাম থেকে রাত ৮.৩৫, লালকুয়াঁ রাত ৯.৩৫, দিল্লি জংশন পৌঁছোয় ভোর ৩.৫৫। (৩) কাঠগোদাম নিউদিল্লি শতাব্দী রোজ কাঠগোদাম থেকে বিকেল ৩.৩৫, লালকুয়াঁ বিকেল ৪.২৩, দিল্লি পৌঁছোয় রাত ৯.১০।

দিল্লি থেকে কলকাতা ফেরার অনেক ট্রেন আছে। ভারতের অন্যান্য জায়গায় ফেরা দিল্লি হয়েই সুবিধাজনক।

কী ভাবে ঘুরবেন

কুমায়ুনে একটা জায়গা থেকে আরেকটা জায়গায় বাসে যেতেই পারেন। কিন্তু পাহাড়ি পথে বাসে সময় লাগবে অনেক। বাসের সংখ্যাও কম। সে ক্ষেত্রে গাড়ি ভাড়া করতে পারেন। একটা পয়েন্ট থেকে আরেকটা পয়েন্ট যাওয়ার জন্য গাড়ি পাবেন। যেখানে থাকবেন তাদের বলে রাখলে গাড়ির ব্যবস্থা হয়ে যায়। তবে  পরিকল্পনামাফিক ভ্রমণ চালাতে গেলে পুরো ট্যুরটার জন্য গাড়ি ভাড়া করে নেওয়া ভালো। গাড়ির জন্য যোগাযোগ করতে পারেন –

আসাদ রাজা, নৈনিতাল ফ্ল্যাশব্যাক ট্রাভেলস, ফোন ০৯৮৩৭৬৫৬৯৭৮, ই-মেল [email protected]; ভাণ্ডারী ট্যুরস, ফোন ০৯৪১২৯৯৪০৬৪; সৌমিশ্র মিত্র, প্রচেষ্টা ট্যুরিজম, ফোন ০৭৬০৭৭৫৫৮০০, ই-মেল  [email protected]    

 কোথায় থাকবেন

বেশির ভাগ জায়গায় কুমায়ুন মণ্ডল বিকাশ নিগমের (কেএমভিএন) টুরিস্ট রেস্ট হাউস আছে। অনলাইন বুকিং http://www.kmvn.gov.in/ । এদের আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমেও বুকিং করতে পারেন। কলকাতা অফিস:  ৭/২সি চক্রবেড়িয়া রোড (সাউথ), ভবানীপুর, কলকাতা ৭০০০২৫, ফোন ০৩৩-২৪৮৬৮২৯৫, মোবাইল ০৯৩৩৯৮৭৮৯৯৫, ই-মেল [email protected]

মায়াবতীতে থাকতে চাইলে অদ্বৈত আশ্রমে মেল করুন [email protected] । জুনের প্রথম অর্ধে মেল করুন।

বেশ কয়েকটা ট্রাভেল এজেন্সি কুমায়ুনে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য – সৌমিশ্র মিত্র, প্রচেষ্টা ট্যুরিজম, ফোন ০৭৬০৭৭৫৫৮০০, ই-মেল  [email protected]; আসাদ রাজা, নৈনিতাল ফ্ল্যাশব্যাক ট্রাভেলস, ফোন ০৯৮৩৭৬৫৬৯৭৮, ই-মেল [email protected]

বেসরকারি হোটেলের সন্ধান পেয়ে যাবেন makemytrip, trivago, booking.com, tripadvisor, tripsavvy, yatra.com, goibibo, holidayiq  প্রভৃতি ওয়েবসাইট থেকে।   

মনে রাখবেন

ভ্রমণ-ছক ১-এর ক্ষেত্রে

(১) হাতে কম সময় থাকলে লোহাঘাটে এক দিন থাকুন। বরেলি থেকে লোহাঘাটে আসার দিন পথে সময় বুঝে শ্যামলাতাল, চম্পাবত এবং মানেশ্বরের সবগুলিই বা যে কোনো একটি বা দু’টি জায়গা ঘুরে লোহাঘাটে আসুন। পরের দিন ভোরে মায়াবতী ঘুরে লোহাঘাটে এসে প্রাতরাশ করে বেরিয়ে পড়ুন।

(২) চৌকরি থেকে বেরিনাগ, ত্রিপুরাদেবী মন্দির, পাতাল ভুবনেশ্বর আর গঙ্গোলিহাট ঘুরে আসতে চাইলে ভোর ভোর বেরিয়ে পড়তে হবে।

(৩) হাতে একটু সময় থাকলে কৌসানিতে দু’টো দিন থাকুন। চৌকরি থেকে একটু ধীরেসুস্থে বেরিয়ে পথে বাগেশ্বর দেখে বিকেলের আগে কৌসানি আসুন। কৌসানি থেকে সূর্যাস্ত কিছুতেই মিস করবেন না। পরের দিন গোয়ালদাম ঘুরে আসুন। পথে দেখে নিন বৈজনাথ।

ভ্রমণ-ছক ২-এর ক্ষেত্রে

(১) মাথায় রাখবেন বিকেল ৪টের মধ্যে মায়াবতীতে পৌঁছোনো উচিত। তা হলে জায়গাটা উপভোগ করতে পারবেন। তাই বরেলি থেকে মায়াবতী আসার সময় হয়তো সব জায়গা দেখা সম্ভব হবে না। তবে অন্তত পক্ষে শ্যামলাতাল দেখে নেবেন।

(২) মায়াবতী থেকে চৌকরি আসার পথে সব জায়গা ঘুরে নিন। চাপ নেই। চৌকরি পৌঁছোতে সন্ধে হলেও অসুবিধা নেই। পরের দিন তো চৌকরিতেই থাকা।

(৩) মুন্সিয়ারি যাওয়ার দিন ভোরেই বেরিয়ে পড়ুন চৌকরি থেকে। প্রাতরাশ সেরে নিন থলে।  

(৪) মুন্সিয়ারি থেকে কৌশানি যাওয়ার দু’টো পথ – (১) মুন্সিয়ারি-বিরথি-তেজাম-কাপকোট-বাগেশ্বর-বৈজনাথ-কৌশানি – ১৬৫ কিমি; (২) যে পথে চৌকরি থেকে মুন্সিয়ারি এসেছেন সেই পথেই চৌকরি এসে তার পর বাগেশ্বর, বৈজনাথ হয়ে কৌশানি – ১৮১ কিমি। প্রথম পথে আসতে চাইলে পথের অবস্থা সম্পর্কে তেজামে খোঁজ নিয়ে নেবেন।

ভ্রমণ-ছক ৩-এর ক্ষেত্রে

(১) ভ্রমণের দিন কমাতে হলে লোহাঘটে থাকা ১ দিন করে দিন। আরও কমাতে হলে শিতলাখেতে সহায়দেবী মন্দির না দেখে ভোর ভোর বেরিয়ে পড়ুন। চলে আসুন ভীম তাল (৫৬ কিমি), সেখান থেকে নওকুচিয়াতাল (৭ কিমি), সেখান থেকে সাততাল (১৭ কিমি), সেখান থেকে নৈনিতাল (২২ কিমি)।

(২) পরের দিন প্রায় সারা দিন লোকাল সাইটসিয়িং করে বিকেলে চলুন কাঠগোদাম হাওড়া বা দিল্লির ট্রেন ধরতে।

ভ্রমণ-ছক ৪-এর ক্ষেত্রে

(১) চৌকরি থেকে দিনাপানি ২টি রাস্তা দিয়ে আসা যায় – (১) বাগেশ্বর হয়ে, (২) বেরিনাগ হয়ে। দূরত্ব মোটামুটি একই পড়ে। তবে গাড়ির সারথিকে বলুন জাগেশ্বর ধাম দেখে যাবেন। তা হলে গাড়ি যাবে বেরিনাগ হয়ে। অতিরিক্ত দূরত্ব যেতে হবে ৪০ কিমি।

ভ্রমণ-ছক ৫-এর ক্ষেত্রে

(১) লখনউ হয়ে কাঠগোদাম গেলে দিনের দিন লখনউ না পৌঁছে আগের দিন পৌঁছোনো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক লখনউ শহর ঘুরে নিতে পারেন।

(২) ভ্রমণের দিন-সংখ্যা কমাতে হলে রানিখেতে ১ দিন থাকুন। দ্বিতীয় দিন সকালে মোটামুটি প্রায় বিকেল পর্যন্ত লোকাল সাইটসিয়িং করে বেরিয়ে পড়ুন। কাঠগোদাম (৭৫ কিমি) থেকে ট্রেন ধরুন দিল্লি বা হাওড়ার।   

ভ্রমণ-ছক ৬-এর ক্ষেত্রে

(১) লখনউ হয়ে কাঠগোদাম গেলে দিনের দিন লখনউ না পৌঁছে আগের দিন পৌঁছোনো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক লখনউ শহর ঘুরে নিতে পারেন।      

0 Comments

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*