Categories
তীর্থস্থান

দেশের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ: কোথায় কী ভাবে যাবেন

ভ্রমণ অনলাইনডেস্ক: শিব ভারতের সকলের অতি প্রিয় দেবতা। সারা ভারতে শিব ছড়িয়ে আছেন বিগ্রহ আর লিঙ্গমূর্তিতে। এই সব শিবলিঙ্গের কোনোটি স্থাপিত, কোনোটি স্বয়ম্ভু।  স্বয়ম্ভু শিবলিঙ্গগুলির মধ্যে আচার্য শংকর তাঁর পরিব্রাজক জীবনে যেখানে যেখানে গিয়ে বিশেষ দর্শন ও অনুভূতি লাভ করেছেন, সেগুলিকে তিনি দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ হিসাবে নির্বাচিত করে গিয়েছেন।  এই সব জ্যোতির্লিঙ্গ যে যে মন্দিরে অধিষ্ঠান করছেন সেই মন্দিরগুলি শুধু তীর্থযাত্রীদের কাছেই নয়, পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়।  কোনোটি স্থানমাহাত্ম্যের জন্য, কোনোটি আবার স্থাপত্যকলার জন্য বিখ্যাত। কোথায় এই জ্যোতির্লিঙ্গগুলি, সেখানে কী ভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, তার যাবতীয় তথ্য সাজিয়ে দিল ভ্রমণ অনলাইন।

কাশী বিশ্বনাথ মন্দির

kashi vishwanath
ছবি সৌজন্যে নিউজ স্টেট।

সব দেবতার সেরা কাশীর বিশ্বনাথ। অন্যতম প্রাচীন এই মন্দির বারাণসীতে গঙ্গার পশ্চিম তীরে অবস্থিত। দেশের সব চেয়ে জনপ্রিয় তীর্থস্থান। দশাশ্বমেধ ঘাট থেকে দক্ষিণে এগোতেই ডান হাতি এবং গোধুলিয়া থেকে বাঁ হাতি বিশ্বনাথের গলি।

কী ভাবে যাবেন

দেশের প্রায় সব জায়গার সঙ্গে ট্রেন ও বিমানপথে যুক্ত বারাণসী।

কোথায় থাকবেন

বারাণসীতে থাকার অঢেল জায়গা আছে। আছে উত্তরপ্রদেশ পর্যটনের রাহি ট্যুরিস্ট বাংলো। অনলাইন বুকিং http://uptourism.gov.in । তা ছাড়া অসংখ্য ধর্মশালা, অতিথিশালা, হোটেল রিসর্ট আছে। নেট সার্চ করলেই সন্ধান পাওয়া যায়। ভারত সেবাশ্রম সংঘে থাকতে চাইলে আগাম বুকিং করতে হবে কলকাতা অফিস থেকে (২১১ রাসবিহারী অ্যাভেনিউ, কলকাতা ৭০০০১৯, ফোন ০৩৩২৪৪০৫১৭৮/২৩২৭, ০৩৩২৪৬০১৩৮১)।  

কেদারনাথ

kedarnath temple
ছবি সৌজন্যে চারধাম ট্যুর ডট কম

হিমালয়ের কোলে ১১৭৫৮ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত কেদারনাথ। অত্যন্ত প্রাচীন এই মন্দির। আজকের মন্দির অষ্টম শতকে শংকরাচার্যের তৈরি। মন্দির খোলে অক্ষয় তৃতীয়ার সময় এবং বন্ধ হয় ভাইফোঁটার দিন। শীতের সময় ছয় মাস মন্দির বন্ধ থাকে এবং বিগ্রহ এই সময় উখিমঠে থাকে।

কী ভাবে যাবেন

দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে ট্রেনে হরিদ্বার আসুন। বিমানেও আসতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আসতে হবে দেহরাদুন। হরিদ্বার থেকে বাস বা গাড়ি ভাড়া করে অথবা দেহরাদুন থেকে গাড়ি ভাড়া করে শোনপ্রয়াগ পৌঁছোন, সেখান থেকে শেয়ার গাড়িতে গৌরীকুণ্ড, ৫ কিমি। সেখান থেকে হাঁটা ১৬ কিমি। হাঁটার পথটুকু হেলিকপ্টারে গিয়েও কেদারনাথ দর্শন করা যায়। বিস্তারিত জানতে দেখুন http://www.uttaranchaltourism.in ।  

কোথায় থাকবেন

গৌরীকুণ্ড, লিনচোলি (গৌরীকুণ্ড-কেদারনাথ পথে) এবং কেদারনাথে সরকারি পর্যটন সংস্থা জিএমভিএন-এর থাকার ব্যবস্থা আছে। অনলাইন বুকিং http://gmvnl.in। ভারত সেবাশ্রম সংঘে থাকতে চাইলে আগাম বুকিং করতে হবে কলকাতা অফিস থেকে (২১১ রাসবিহারী অ্যাভেনিউ, কলকাতা ৭০০০১৯, ফোন ০৩৩২৪৪০৫১৭৮/২৩২৭, ০৩৩২৪৬০১৩৮১)। মন্দির কমিটির গেস্ট হাউস আছে। এ ছাড়াও মরশুমে অনেক অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা হয়ে যায়।

মনে রাখবেন

কেদারনাথ যাওয়ার জন্য হরিদ্বার বা শোনপ্রয়াগে উত্তরাখণ্ড পর্যটনের অফিস থেকে বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করাতে হয়।

সোমনাথ

inside somnath temple
মন্দিরের ভেতর। ছবি সৌজন্যে গোআইবিবো।

গুজরাত রাজ্যের সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে প্রভাসক্ষেত্রে অবস্থিত এই সোমনাথ মন্দিরটি ছয় বার ধ্বংস হয়েছে এবং প্রতি বারই ধ্বংসের পরেই নতুন করে তৈরি হয়েছে।

কী ভাবে যাবেন

অমদাবাদ শহর ভারতের প্রায় সব জায়গার সঙ্গে ট্রেন ও বিমানপথে যুক্ত। অমদাবাদ থেকে সোমনাথ এক্সপ্রেসে ভেরাবল আসুন, ৪৩১ কিমি। রাত ১০টায় ছেড়ে সকাল ৬.২০-তে পৌঁছে যায়। ভেরাবল স্টেশন থেকে সোমনাথ, ৮ কিমি। বাস, অটো, গাড়ি পাবেন।

কোথায় থাকবেন

সোমনাথে থাকার সব চেয়ে ভালো ব্যবস্থা শ্রীসোমনাথ ট্রাস্টের অতিথিশালা – লীলাবতী অতিথিভবন, মহেশ্বরী অতিথিভবন ও সাগরদর্শন গেস্ট হাউস। অনলাইন বুকিং https://booking.somnath.org/GuestHouse/ । এ ছাড়া রয়েছে অনেক বেসরকারি হোটেল, নেটে সার্চ করলেই পাওয়া যাবে।

নাগেশ্বর

nageshwar
ছবি সৌজন্যে ত্রিনেত্র।

শিবপুরাণ মতে দারুকাবনে এই নাগেশ্বরের অধিষ্ঠান। বর্তমানের মন্দিরটি তুলনায় খুবই নবীন। জাঁকজমকপূর্ণ এই মন্দির ইতিমধ্যেই দর্শকমন জয় করেছে।

কী ভাবে যাবেন

গুজরাত ভ্রমণের অবশ্য অঙ্গ দ্বারকা দর্শন। দ্বারকা থেকে ওখার পথে ১৭ কিমি যেতে নাগেশ্বর। ওখা থেকে ১৯ কিমি।  ভারতের প্রায় সব জায়গার সঙ্গে ওখা ট্রেন পথে যুক্ত। ওখা থেকে গাড়িতে নাগেশ্বর হয়ে দ্বারকা।  বিমানে অমদাবাদ এসে সেখান থেকে ট্রেনে, বাসে বা গাড়িতে দ্বারকা আসা যায়।  

কোথায় থাকবেন

দ্বারকায় থেকে নাগেশ্বর দেখে নেবেন। দ্বারকা থেকে বেট দ্বারকা দেখতে যাওয়ার জন্য ওখা থেকে বোট ধরতে হয়। বেট দ্বারকা দেখে দ্বারকা ফেরার সময় নাগেশ্বর দেখে নেবেন। দ্বারকায় থাকার জন্য রয়েছে গুজরাত ট্যুরিজমের তোরান ট্যুরিস্ট বাংলো (ফোন ০২৮৯২-২৩৪০১৩), অনলাইন বুকিং http://booking.gujarattourism.com/। এ ছাড়া রয়েছে অনেক বেসরকারি হোটেল, ধর্মশালা, অতিথি ভবন। নেটে সার্চ করলেই পাওয়া যাবে। দ্বারকায় যাবতীয় হোটেলের সন্ধান পেতে দেখুন http://dwarkadishtemple.co.in/

ভীমাশংকর

bhimashankar
ছবি সৌজন্যে টেম্পল পুরোহিত।

কৃষ্ণার শাখানদী ভীমার উৎসমুখে প্রায় ৩৪০০ ফুট উঁচু পাহাড়ে অবস্থিত এই মন্দির। ভিল উপজাতির আদিপুরুষ ভিলের আবিষ্কার এই স্বয়ম্ভু দেবতা। বর্তমান মন্দিরটি ১৮ শতকে নানা ফড়নবিশের গড়া। কালো মর্মরে নাগারা শৈলীর মন্দির, কার্ভিং-এর কাজও সুন্দর। জঙ্গল-পাহাড়ে ঘেরা ভীমাশংকরের পরিবেশ ভারী সুন্দর। ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি হয়েছে ভীমাশংকর।

কী ভাবে যাবেন

পুনে থেকে ৯৫ কিমি দূরে ভীমাশংকর। দেশের প্রায় সব জায়গার সঙ্গে ট্রেন ও বিমানপথে যুক্ত পুনে। এখান থেকে বাস পাওয়া যায় ভীমাশংকর যাওয়ার। গাড়ি ভাড়া করেও আসতে পারেন। মুম্বই থেকে ২১১ কিমি, বাস বা গাড়িতে আসা যায়।

কোথায় থাকবেন

মহারাষ্ট্র পর্যটনের ভীমাশংকর হলিডে রিসর্টে থাকুন। অনলাইন বুকিং maharashtratourism.gov,in । তা ছাড়া রয়েছে ভীমাশংকরের ৯ কিমি আগে হোটেল নটরাজ (০৯৪০৪০৭০৫৭৫, ০৯৯৬০০০০৬৬৩)। তা ছাড়া মুম্বই বা পুনে থেকেও ঘুরে নিতে পারেন ভীমাশংকর। এই দুই জায়গায় থাকার অঢেল জায়গা আছে। নেট সার্চ করে সন্ধান পেয়ে যাবেন।  

গৃষণেশ্বর

grishaneshwar
ছবি সৌজন্যে ট্র্যাওয়েল ডট ইন।

অতীত মন্দির ধ্বংসের পর রানি অহল্যাবাঈ ১৮ শতকে বর্তমান মন্দিরটি গড়ে দেন। ক্রিম রঙের শিখরের মন্দিরে কালো পিঙ্গল বর্ণের জ্যোতির্লিঙ্গ শিব। মন্দির থেকে মাত্র দেড় কিমি দূরে জগদ্বিখ্যাত ইলোরা গুহা।

কী ভাবে যাবেন

আওরঙ্গাবাদ থেকে গৃষণেশ্বর সড়কপথে ৩২ কিমি। বাস, গাড়ি বা অটোয় আসা যায়। কলকাতা থেকে আওরঙ্গাবাদ যাওয়ার সরাসরি কোনো ট্রেন নেই। আওরঙ্গাবাদ যেতে হলে মানমাড় স্টেশনে ট্রেন বদল করতে হবে। দিল্লি, মুম্বই বা চেন্নাই থেকে সরাসরি ট্রেনে আওরঙ্গাবাদ আসা যায়।

কোথায় থাকবেন

ইলোরা গুহা আর গৃষণেশ্বর মন্দির এক সঙ্গে দেখে নেবেন। এর জন্য থাকতে পারেন ইলোরা বা আওরঙ্গাবাদে। দু’ জায়গাতেই বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় অনেক থাকার জায়গা আছে। নেট সার্চ করে সন্ধান পাবেন। আর আওরঙ্গাবাদে রয়েছে মহারাষ্ট্র পর্যটনের রিসর্ট। অনলাইন বুকিং https://www.maharashtratourism.gov.in/

ত্র্যম্বকেশ্বর

trimbakeshwar
ছবি সৌজন্যে ডেকান ক্রনিকল

প্রায় আড়াই হাজার ফুট উচ্চতায় মন্দির-শহর। শিব-বিষ্ণু-ব্রহ্মার সমন্বয়ে চতুর্মুখী দেবতা শিব। ১৭৫০ সালে নবরূপে মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করেন বালাজি বাজীরাও। ১৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৭৮৫-তে।

কী ভাবে যাবেন

নাসিক রোড স্টেশন ভারতের প্রায় সব জায়গার সঙ্গে ট্রেনপথে যুক্ত। সেখান  থেকে ৩৫ কিমি দূরে ত্র্যম্বকেশ্বর। নিয়মিত বাস চলে, গাড়িতেও আসা যায়।

কোথায় থাকবেন

ত্র্যম্বকেশ্বর রয়েছে মহারাষ্ট্র পর্যটনের সংস্ক্রুতি হলিডে রিসর্ট। অনলাইন বুকিং https://www.maharashtratourism.gov.in/।  এ ছাড়া রয়েছে বেশ কিছু বেসরকারি হোটেল। ইচ্ছা করলে নাসিকেও থাকতে পারেন। নেট সার্চ করলে হোটেলের সন্ধান পাবেন।

রামনাথস্বামী

ramnathswamy
ছবি সৌজন্যে এএনআই।

দক্ষিণ-পূর্ব ভারতের শেষ প্রান্তভূমি পক প্রণালীতে শঙ্খরূপী দ্বীপভূমি রামেশ্বরম। সেখানেই অবস্থান রামনাথস্বামীর। সোনার বেদিতে দেবতা। দ্রাবিড়ীয় স্থাপত্যরীতিতে তৈরি মন্দির বিশালতায় অদ্বিতীয়। ভাস্কর্য অতুলনীয়। ১২১২ স্তম্ভের মন্দির ১২ শতকে চোল রাজাদের হাতে শুরু হয়ে শেষ হয় ১৯ শতকে নায়ক রাজাদের হাতে। বিশ্বের বৃহত্তম অলিন্দটি রয়েছে রামেশ্বরম মন্দিরে। পিরামিডধর্মী গোপুরম রয়েছে পুব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণে।

কী ভাবে যাবেন

দেশের যে কোনো প্রান্তের সঙ্গে ট্রেন ও বিমানপথে যুক্ত চেন্নাই। সেখান থেকে ট্রেনে রামেশ্বরম। চেন্নাই থেকে সড়কপথে রামেশ্বরমের দূরত্ব ৬০১ কিমি। বাসে বা গাড়িতেও আসা যায়।

কোথায় থাকবেন

রয়েছে তামিলনাড়ু পর্যটনের হোটেল তামিলনাড়ু। অনলাইন বুকিং http://www.ttdconline.com/। এ ছাড়াও প্রচুর হোটেল আছে রামেশ্বরমে। নেট সার্চ করলে সন্ধান পাওয়া যাবে।

মল্লিকার্জুন স্বামী

mallikarjuna swamy
ছবি সৌজন্যে টেম্পল টাইমিংস।

অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীশৈলমে অবস্থিত। নাল্লামালাই পাহাড়ের মাথায় এই মন্দির। কৃষ্ণা নদীর দক্ষিণ তীরে। দেশের অন্যতম প্রাচীন তীর্থক্ষেত্র।

কী ভাবে যাবেন

মারকাপুর রোড ভারতের প্রায় সব জায়গার সঙ্গে ট্রেনপথে যুক্ত। মারকাপুর রোড থেকে শ্রীশৈলম ৮৪ কিমি, বাস বা গাড়ি পাওয়া যায়। বিমানে বা ট্রেনে হায়দরাবাদ এসে সেখান থেকে শ্রীশৈলম আসা যায়। দূরত্ব ২১৩ কিমি, বাস বা গাড়ি পাওয়া যায়।    

কোথায় থাকবেন

বিলাসবহুল থেকে সাধারণ, অনেক অতিথিশালা আছে মন্দির কমিটির। অনলাইন বুকিং http://www.srisailamonline.com/

বৈদ্যনাথধাম

vaidyanathdhamঝাড়খণ্ড রাজ্যের দেওঘরে অবস্থিত এই মন্দির। এই মন্দিরটি বাবাধাম নামেও পরিচিত। ৭২ ফুট উঁচু মন্দিরে দ্বাদশ বৈদ্যনাথ অধিষ্ঠিত। মন্দির চত্বরে নানা দেবদেবীর আরও ২২টি মন্দির আছে।

কী ভাবে যাবেন

ভারতের যে কোনো জায়গা থেকে ট্রেনে আসতে হলে দেওঘর থেকে ৮ কিমি দূরে জসিদি জংশনে নামতে হবে। সেখান থেকে ট্রেন, গাড়ি বা অটো করে দেওঘর আসা যায়। কাছাকাছি বিমানবন্দর রাঁচি ২৫০ কিমি, পটনা ২৫২ কিমি, কলকাতা ৩২৪ কিমি।

কোথায় থাকবেন

থাকার জন্য রয়েছে অসংখ্য হোটেল, রিসর্ট আর ধর্মশালা। নেটে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন। রয়েছে ঝাড়খণ্ড পর্যটনের হোটেল বৈদ্যনাথ বিহার আর হোটেল নটরাজ বিহার। অনলাইন বুকিং http://jharkhandtourism.gov.in

মহাকালেশ্বর

mahakaleshwar
ছবি সৌজন্যে মিডিয়াম।

মন্দিরটি মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের উজ্জৈন শহরে অবস্থিত। এই মন্দিরে শিবের বিগ্রহ দক্ষিণমুখী বলে একে ‘দক্ষিণামূর্তি’ বলা হয়। শিবরাত্রির দিনে এই মন্দিরের কাছেই বিশাল মেলা বসে এবং সারা রাত ধরে পুজো হয়।

কী ভাবে যাবেন

ভারতের প্রায় সব জায়গা উজ্জৈনের সঙ্গে ট্রেনপথে যুক্ত। অথবা ট্রেন বা বিমানে ইন্দৌরে এসে বাসে বা গাড়িতে উজ্জৈন আসা যায়, দূরত্ব ৬৪ কিমি। মধ্যপ্রদেশ ভ্রমণের সময় উজ্জৈন ঘুরে নেওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন

উজ্জৈনেতে থাকার অনেক ব্যবস্থা রয়েছে, সরকারি এবং বেসরকারি। রয়েছে মধ্যপ্রদেশ পর্যটনের এমপিটি অবন্তিকা ও এমপিটি শিপ্রা রেসিডেন্সি। অনলাইন বুকিং http://www.mpstdc.com এবং http://www.mptourism.com/  বেসরকারি হোটেলের সন্ধান পাবেন নেট থেকে।   

ওঁকারেশ্বর

omkareshwar
ছবি সৌজন্যে ইংলিশ ডট নিউজট্র্যাক লাইভ ডট কম।

নর্মদা ও কাবেরী (দক্ষিণ ভারতের কাবেরী নয়) নদীর মিলনে সৃষ্ট ওঁ-রূপী দ্বীপে ওঁকারেশ্বর মন্দিরতীর্থ। মেনল্যান্ডের সঙ্গে সাসপেনশন ব্রিজে যুক্ত, নৌকাতে নদী পেরোনো যায়। নর্মদা পেরোতেই গলিপথে খানিকটা যেতেই ওঁকার পর্বতের ঢালে মন্দির হয়েছে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম ওঁকারেশ্বর মহাদেবের। মন্দির গড়েন সূর্যবংশীয় রাজা মান্ধাতা, তাই ওঁকারেশ্বরকে ওঁকার মান্ধাতাও বলা হয়।

কী ভাবে যাবেন

কাছের স্টেশন খান্ডোয়া। দেশের প্রায় সব জায়গার সঙ্গে ট্রেনপথে যুক্ত। খান্ডোয়া থেকে বাস বা গাড়িতে ৬০ কিমি দূরের ওঁকারেশ্বর।   

কোথায় থাকবেন

থাকার অনেক ব্যবস্থাই রয়েছে ওঁকারেশ্বরে। মধ্যপ্রদেশ পর্যটনের নর্মদা রিসর্ট। অনলাইন বুকিং http://www.mpstdc.com এবং http://www.mptourism.com/। ওঁকারেশ্বর মন্দির কমিটির শ্রীজি বিশ্রামালয় অনলাইন বুকিং  https://shriomkareshwar.org এ ছাড়াও ওঁকারেশ্বরে বহু ধর্মশালা আছে, বিশদ তথ্য ও অনলাইন বুকিং https://yatradham.org। তা ছাড়া নেট সার্চ করলে বহু বেসরকারি হোটেলের সন্ধান পাওয়া যাবে।

 

Categories
তীর্থস্থান

দর্শন করুন শ্রীকৃষ্ণমন্দির: পশ্চিম ভারত

ভ্রমণ অনলাইনডেস্ক: ভারতের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে আছে প্রচুর শ্রীকৃষ্ণ মন্দির। শুধু তীর্থস্থান বলেই নয়, নানা কারণে ওই সব মন্দিরের নানা গুরুত্ব রয়েছে। ওই সব মন্দিরের বেশ কয়েকটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। বেশ কিছু মন্দির পর্যটকদের মুগ্ধ করে তাদের স্থাপত্যকলায়। মহাভারত আর পুরাণের নানা কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু মন্দিরের সঙ্গে। এই অবশ্যদ্রষ্টব্য শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরগুলিকে পর্বে পর্বে পেশ করছে ভ্রমণ অনলাইন। প্রথম পর্বে ছিল উত্তর ভারত। এই পর্বে পশ্চিম ভারত।    

দ্বারকাধীশ মন্দির, দ্বারকা (গুজরাত)

idol of srikrishna of dwarakadheesh temple
দ্বারকাধীশ মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণ। ছবি সৌজন্যে ব্লেসিংস অন দ্য নেট।

গুজরাতের দ্বারকা শহরে দ্বারকাধীশ মন্দির তথা রণছোড়জির মন্দির, স্টেশন থেকে দু’ কিমি গোমতী-তটে। গ্র্যানাইট ও বেলেপাথরে তৈরি রথের আকারের ৭২টা স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে এই সাততলা মন্দির ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থস্থান। গর্ভমন্দির, বিমানমণ্ডপ ও নাট্যমণ্ডপ তিন ধাপে গড়ে উঠেছে। চুড়োয় স্বর্ণকলস। ১১ শতকের এই মন্দির। কষ্টিপাথরের সাড়ে তিন হাত উঁচু শ্রীকৃষ্ণ রুপোর সিংহাসনে উপবিষ্ট। মন্দিরস্রষ্টা রাজা জগৎ সিং রাঠোরের নামে এই মন্দিরকে জগৎ মন্দিরও বলা হয়।

দর্শনের সময়

সকাল সাড়ে ৬টা থেকে দুপুর ১টা ও বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা।

কী ভাবে যাবেন

অমদাবাদ শহর ভারতের প্রায় সব জায়গার সঙ্গে ট্রেন ও বিমানপথে যুক্ত। অমদাবাদ থেকে দ্বারকা ৪৩৮ কিমি, ট্রেন, বাস আছে। গাড়ি ভাড়া করেও যাওয়া যায়। ট্রেনের বিশদ সময় জানার জন্য দেখে নিন https://erail.in

কোথায় থাকবেন

গুজরাত পর্যটনের তোরান ট্যুরিস্ট বাংলো (ফোন ০২৮৯২-২৩৪০১৩), অনলাইন বুকিং http://booking.gujarattourism.com/ । এ ছাড়া রয়েছে অনেক বেসরকারি হোটেল, ধর্মশালা, অতিথি ভবন। নেটে সার্চ করলেই পাওয়া যাবে। দ্বারকায় যাবতীয় হোটেলের সন্ধান পেতে দেখুন http://dwarkadishtemple.co.in/

আর কী দেখবেন

on the way to bet dwarak
বেট দ্বারকার পথে। ছবি সৌজন্যে দেশ গুজরাত।

গোমতী নদীতে ঘেরা দ্বীপে শ্রীকৃষ্ণ মন্দির; অদূরে গোমতীর সাগরসঙ্গম, ডাইনে সঙ্গমনারায়ণ মন্দির; কাছেই লাইটহাউস; লাইটহাউসের উত্তরে সানসেট পয়েন্ট; অপর পারে পঞ্চনদ তীর্থ; দ্বারকা শহরে ভদ্রকালী মন্দির, ৫১ পীঠের অন্যতম; সাগরবেলায় তারকেশ্বর; জগৎগুরু শংকরাচার্য প্রতিষ্ঠিত সারদা মঠ; ওখার পথে ২ কিমি যেতে ১২ শতকের রুক্মিণী মন্দির।

ঘুরে আসুন বেট দ্বারকা। ৩২ কিমি দূরে ওখা। শহরে ঢোকার আগেই বেট দ্বারকার ফেরিঘাট। স্পিডবোট বা লঞ্চে চলুন বেট দ্বারকা। সারা দিন ঘুরে দেখে নিন এখানকার মন্দিররাজি।

ভালকা তীর্থ ও দেহোৎসর্গ, সোমনাথ (গুজরাত)

bhalka tirtha
ভালুকা তীর্থ।

সোমনাথ শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে এক কিমি দূরে ভালকা তীর্থ। কথিত আছে, এখানেই জঙ্গলে যখন গভীর ধ্যানে মগ্ন শ্রীকৃষ্ণ তখনই হরিণ ভেবে জরা ব্যাধ তাঁকে তিরবিদ্ধ করেন। শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যুতে শেষ হয় দ্বাপর যুগ, শুরু হয় কলি যুগের। এখানকার শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে রয়েছে বংশীবাদনরত শ্রীকৃষ্ণের ত্রিভঙ্গ মূর্তি। রয়েছে ব্যাধের মূর্তিও। কাছেই দেহোৎসর্গ – হিরণ্য, কপিলা এবং সরস্বতীর সঙ্গম। এখানেই শ্রীকৃষ্ণ তাঁর নশ্বর দেহ ছেড়ে তাঁর স্বর্গীয় আবাসে চলে যান।

দর্শনের সময়

সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা

কী ভাবে যাবেন

অমদাবাদ শহর ভারতের প্রায় সব জায়গার সঙ্গে ট্রেন ও বিমানপথে যুক্ত। অমদাবাদ থেকে সোমনাথ এক্সপ্রেসে ভেরাবল আসুন, ৪৩১ কিমি। রাত ১০টায় ছেড়ে সকাল ৬.২০-তে পৌঁছে যায়। ভেরাবল স্টেশন থেকে সোমনাথ, ৮ কিমি। বাস, অটো, গাড়ি পাবেন। ট্রেনের বিশদ সময় জানার জন্য দেখে নিন https://erail.in

কোথায় থাকবেন

sagar darshan atithi gruha
সাগর দর্শন অতিথিগৃহ।

সোমনাথে থাকার সব চেয়ে ভালো ব্যবস্থা শ্রীসোমনাথ ট্রাস্টের অতিথিশালা – লীলাবতী অতিথিভবন, মহেশ্বরী অতিথিভবন ও সাগরদর্শন গেস্ট হাউস। অনলাইন বুকিং https://booking.somnath.org/GuestHouse/ । এ ছাড়া রয়েছে অনেক বেসরকারি হোটেল, নেটে সার্চ করলেই পাওয়া যাবে।

আর কী দেখবেন

সৈকতশহর সোমনাথের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দ্রষ্টব্য সোমনাথ মন্দির, দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম, বিদেশীদের আক্রমণে বার বার ধ্বংস হয়েছে এই মন্দির, বর্তমান মন্দিরটির উদ্বোধন হয় ১৯৫১-য়; মন্দিরে সন্ধ্যায় লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো; কাছেই ১৭৮৩-তে রানি অহল্যাবাঈয়ের গড়া মন্দিরের স্মারক রূপে নতুন করে দ্বিতল মন্দির হয়েছে, নাম পুরাতন মন্দির; হিরণ্য, কপিলা এবং সরস্বতীর সঙ্গম প্রভাসতীর্থ;  প্রভাস পাটন মিউজিয়াম; ১২ শতকের পার্বতী মন্দির; চন্দ্রপ্রভ জৈন মন্দির; ১ কিমি শহরমুখী যেতে দ্বিতীয় গেটে অতীতের সূর্যমন্দির আজ মসজিদে রূপান্তরিত; পরশুরামের তপোভূমি; সোলাঙ্কি কালের সূর্যমন্দির; দেহোৎসর্গে গীতা মন্দির, কাছেই লক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দির, বলরাম মন্দির, নাগস্থান, বল্লভাচার্য তথা মহাপ্রভুজির বৈঠক ইত্যাদি।

শ্রীরণছোড়জি মহারাজ মন্দির, ডাকোর (গুজরাত)

ranchodji temple, dakor
রণছোড়জি মন্দির।

প্রশস্ত অঙ্গনের মাঝে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে তৈরি কারুকার্যশোভিত মন্দিরে দেবতা শ্রীকৃষ্ণ – এখানে রণছোড়জি নামে খ্যাত। কথিত আছে, ভক্ত বদানোর সঙ্গে দেবতা আসেন দ্বারকা থেকে ডাকোরে। আরেকটি কাহিনি অনুসারে, ডাকোরবাসীরা দ্বারকা থেকে চুরি করে আনেন রণছোড়জিকে। স্বর্ণসিংহাসনে শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম দণ্ডায়মান কষ্টিপাথরের বিগ্রহ।

দর্শনের সময়

সকাল ৬.৪৫ থেকে সাড়ে ৮টা, ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা, সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা, বিকেল ৪.১০ থেকে ৪.৫৫, ৫,২৫ থেকে ৬টা এবং সন্ধে ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা।

কী ভাবে যাবেন

ডাকোরের সব চেয়ে কাছের স্টেশন আনন্দ, দূরত্ব ২৭ কিমি। ভারতের প্রায় সব বড়ো জায়গার সঙ্গে আনন্দ রেলপথে যুক্ত। আনন্দ থেকে ট্রেনে, বাসে বা গাড়িতে আসা যায় ডাকোর। আনন্দ-গোধরা রেলপথে ডাকোর স্টেশন। বিমানে অমদাবাদ এসে সেখান থেকে বাসে বা গাড়িতে ডাকোর আসা যায়, দূরত্ব ৮৫ কিমি। নাদিয়াদ থেকে ডাকোর ৪১ কিমি, বডোদরা (বরোদা) থেকে ডাকোর ৬২ কিমি। নাদিয়াদ ও বডোদরা দু’টি জায়গাই রেলপথে ভারতের প্রায় সব বড়ো জায়গার সঙ্গে যুক্ত। এখান থেকে বাস বা গাড়িতে আসা যায় ডাকোর। ট্রেনের বিশদ সময় জানার জন্য দেখে নিন https://erail.in

কোথায় থাকবেন

ডাকোরে থাকার জন্য প্রচুর ধর্মশালা, অতিথিভবন আছে। অনলাইন বুকিং https://yatradham.org/ । তবে অমদাবাদ বা বডোদরায় থেকে ঘুরে নেওয়া যায় ডাকোর। অমদাবাদে থাকার জন্য গুজরাত পর্যটনের তোরান গান্ধী আশ্রম। অনলাইন বুকিং https://www.gujarattourism.com । তা ছাড়া অমদাবাদ ও বডোদরায় রয়েছ প্রচুর বেসরকারি হোটেল, সন্ধান পাবেন বেসরকারি হোটেলের ওয়েবসাইটগুলি থেকে।

আর কী দেখবেন

ডাকোরে রণছোড়জি মহারাজ মন্দির ছাড়াও দেখুন কুলেশ্বরী মাতা মন্দির, গোমতী তলাও, শ্রী স্বামীনারায়ণ মন্দির, গলতেশ্বর মহাদেব মন্দির (ডাকোরের কাছে সর্নাল গ্রামে)। ২৭ কিমি দূরে আনন্দের প্রসিদ্ধি ভারত-বিখ্যাত দুগ্ধ প্রকল্প আমূলের জন্য। নাদিয়াদে দেখে নিতে পারেন শ্রী সন্ত্রাম মন্দির।

শ্রীনাথজি মন্দির, নাথদ্বার (রাজস্থান)

shrinathji mandir
শ্রীনাথজি মন্দির।

ভারতের দ্বিতীয় সম্পদশালী মন্দির নাথদ্বার। সুন্দর ছবিতে অলংকৃত মন্দিরে কষ্টিপাথরের শ্রীনাথজি অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ। কথিত আছে, আওরঙ্গজেবের রোষানল থেকে বাঁচাতে মথুরা থেকে মেবারে সরিয়ে আনা হচ্ছিল দেববিগ্রহ। চলার পথে শিহরে রথের চাকা বসে যেতে দৈবজ্ঞরা বিধান দিলেন এখানেই অধিষ্ঠিত হতে চান দেবতা। ১৬৬৯-এ দেবতার প্রতিষ্ঠা। তবে বিগ্রহটি ১২ শতকের তেলুগু ব্রাহ্মণ শ্রীবল্লভাচার্যের প্রতিষ্ঠিত।

দর্শনের সময়

সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৬টা, সাড়ে ৭টা থেকে ৮টা, সাড়ে ৯টা থেকে ৯.৪৫, সাড়ে ১১টা থেকে ১২.০৫, বিকেল ৩.৪৫ থেকে ৪টে, ৪.৪৫ থেকে ৫টা এবং সাড়ে ৮টা থেকে ৯.১৫। 

কী ভাবে যাবেন

উদয়পুর থেকে ৪৭ কিমি দূরে নাথদ্বার। ভারতের বিভিন্ন জায়গার সঙ্গে রেল ও বিমানপথে যুক্ত উদয়পুর। ভারতের যে কোনো জায়গা থেকে দিল্লি এসে সেখান থেকে উদয়পুর আসা বেশি সুবিধাজনক। দিল্লি থেকে দুটি দৈনিক ট্রেন আছে। এ ছাড়াও সাপ্তাহিক, ত্রিসাপ্তাহিক ট্রেন আছে। ট্রেনের বিশদ সময় জানার জন্য দেখে নিন https://erail.inউদয়পুর থেকে বাসে বা গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন নাথদ্বার।

কোথায় থাকবেন

নাথদ্বারে থাকার জন্য মন্দির কর্তৃপক্ষের বেশ কিছু কটেজ ও ধর্মশালা আছে। অনলাইন বুকিং https://www.nathdwaratemple.org । বেশ কিছু বেসরকারি হোটেল আছে, নেট সার্চ করলে যার সন্ধান পেয়ে যাবেন।

তবে নাথদ্বারে না থেকে উদয়পুরে থেকে উদয়পুর ভ্রমণের সঙ্গে নাথদ্বার জুড়ে নেওয়া ভালো। উদয়পুরে থাকার জন্য রয়েছে রাজস্থান পর্যটনের হোটেল কাজরী ও হোটেল আনন্দভবন। অনলাইন বুকিং http://rtdc.tourism.rajasthan.gov.in । এ ছাড়াও উদয়পুর শহরে বিলাসবহুল হোটেল থেকে শুরু করে নানা মানের হোটেল আছে, নেট সার্চ করলে যার সন্ধান পেয়ে যাবেন।

আর কী দেখবেন

lake pichola
পিছোলা লেক।

উদয়পুর ভ্রমণের সঙ্গে নাথদ্বার জুড়ে নেওয়া ভালো। উদয়পুরে দেখবেন পিছোলা লেকের পুব পাড়ে সিটি প্যালেস, পিছোলা লেক, ক্রিস্টাল গ্যালারি, ভিনটেজ কার প্রদর্শনী, জগদীশ মন্দির, পিছোলা লেকে জগনিবাস প্রাসাদ, জগমন্দির, সজ্জননিবাস বাগ তথা গুলাব বাগ, পিছোলা লেকের উত্তরে ফতেহ সাগর, ফতেহ সাগরের তীরে সঞ্জয় পার্ক ও আরাবল্লী ভাটিকা, নেহরু পার্ক, মোতি মাগরি পাহাড়ে প্রতাপ স্মারক, ফতেহ সাগরের পুবে বাঁধের নীচে সহেলিয়োঁ কি বাড়ি, শহর থেকে ৫ কিমি পশ্চিমে সজ্জনগড় তথা মনসুন প্যালেস, শহর থেকে ৬ কিমি উত্তর-পশ্চিমে শিল্পীগ্রাম, ৩ কিমি পুবে শিশোদিয়া রাজাদের অতীত রাজধানী পাহাড়ে ঘেরা ‘আহার’ ইত্যাদি।

এ ছাড়াও উদয়পুর থেকে ২২ কিমি উত্তর-পুবে তথা নাথদ্বার থেকে ২৫ কিমি দূরে একলিঙ্গজির মন্দির, উত্তর-পুবে আরও ২ কিমি যেতে মেবারের অতীত রাজধানী নাগদা; নাথদ্বার থেকে ১৬ কিমি পশ্চিমে আর উদয়পুর থেকে ৪০ কিমি দূরে রাণা প্রতাপ ও চেতকের স্মৃতিবিজড়িত হলদিঘাটি; নাথদ্বার থেকে ১৭ কিমি উত্তর-পুবে বাগিচা, ছত্তিশ আর শ্রীকৃষ্ণমন্দির নিয়ে কাঁকরোলি, কাছেই রাজসমন্দ লেক।        

গোবিন্দদেবজি মন্দির, জয়পুর (রাজস্থান)

shri govinddevji
শ্রীগোবিন্দদেবজি।

জয়পুর সিটি প্যালেসে বাদলমহল ও চন্দ্রমহলের মাঝে, চন্দ্রমহলের উত্তরে অবস্থিত এই গোবিন্দদেবজি মন্দির। কারুকার্যমণ্ডিত, সোনায় অলংকৃত সিলিংয়ের মন্দির অপূর্ব শ্রীমণ্ডিত কষ্টিপাথরের দণ্ডায়মান বিগ্রহ। কথিত আছে, জয়পুরের মহারাজ দ্বিতীয় সোয়াই জয় সিংহকে স্বপ্নে দেখা দেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ধ্বংসলীলার হাত থেকে রাজ্য বাঁচাতে তাঁর প্রাসাদে গোবিন্দদেবজিকে এনে প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেন। মহারাজ ১৮ শতকের একেবারে প্রথম ভাগে বৃন্দাবন থেকে গোবিন্দদেবজিকে এনে এখানে প্রতিষ্ঠা করেন।    

দর্শনের সময়

ভোর ৪.৪৫ থেকে ৫.১৫, সকাল ৭.৪৫ থেকে ৯টা, সাড়ে ৯টা থেকে ১০.১৫, ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা, বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টা, সাড়ে ৬টা থেকে ৭.৪৫ ও রাত ৮.৪৫ থেকে ৯.১৫।

কী ভাবে যাবেন

ভারতের প্রায় সব শহরের সঙ্গে জয়পুর ট্রেন ও বিমানপথে যুক্ত। ট্রেনের বিশদ সময় জানার জন্য দেখে নিন https://erail.in । জয়পুরে যেখানেই থাকুন, অটো বা গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছে যেতে পারেন গোবিন্দদেবজি মন্দিরে।   

কোথায় থাকবেন

জয়পুরে থাকার জন্য রয়েছে রাজস্থান পর্যটনের হোটেল গঙ্গৌর, হোটেল জয়পুর, হোটেল খাসা খোটি, হোটেল স্বাগতম এবং হোটেল তীজ। অনলাইন বুকিং http://rtdc.tourism.rajasthan.gov.in । এ ছাড়াও জয়পুর শহরে বিলাসবহুল হোটেল থেকে শুরু করে নানা মানের হোটেল আছে, নেট সার্চ করলে যার সন্ধান পেয়ে যাবেন।

আর কী দেখবেন

amer fort
অম্বর দুর্গ। ছবি সৌজন্যে সোয়ান ট্যুরস।

জয়পুরে দেখে নিন সিটি প্যালেস, যন্তরমন্তর, হাওয়ামহল, অ্যালবার্ট হল, জাদুঘর, চিড়িয়াখানা, মোতিডুংরি পাহাড় ঢালে বিড়লা মন্দির, মানসাগর সরোবরে জলমহল, জলমহলের বিপরীতে পথ উঠেছে জয়গড়ের, নাহারগড়, শিশোদিয়া রানি কি বাগ, জয়পুরের বাঙালি স্থপতি বিদ্যাধর ভট্টাচার্যের স্মারক বিদ্যাধরজি কি বাগ ইত্যাদি; শহরের ১০ কিমি দক্ষিণ-পুবে গলতা ও পাহাড়শিরে সূর্য মন্দির, জয়পুর-আগরা সড়কে বালাজি; শহর থেকে ১১ কিমি উত্তর-পুবে পাহাড়শিরে অম্বর প্রাসাদ বা দুর্গ, প্রাসাদ চত্বরেই বাংলার দেবী যশোরেশ্বরী মায়ের মন্দির, অম্বরের পথেই গৈতর বা মহারাজদের সমাধিভূমি; শহর থেকে ১৬ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে সঙ্গানের (১৫০০ খ্রিস্টাব্দের জৈন মন্দির ও প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ); শহর থেকে ২৮ কিমি দূরে রামগড় লেক ইত্যাদি।

Categories
আমাদের বাছাই দূরের ভ্রমণ

শীতে চলুন ৪/ রন-ভূমি হয়ে উপকূল গুজরাত

তের ভ্রমণ ৩-এ ভ্রমণ অনলাইন গুজরাত ভ্রমণের একটি ছক দিয়েছিল। এই কিস্তিতে পাঠকদের জন্য রইল আরও দু’টি ভ্রমণ পরিকল্পনা।

১) কচ্ছভূমি

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন – রাত্রিবাস অমদাবাদ।

ভ্রমণ শুরু করুন অমদাবাদ থেকে। হাওড়া-অমদাবাদ এক্সপ্রেস প্রতি দিন রাত ১১:৫৫-য় হাওড়া ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় তৃতীয় দিন দুপুর ১.২৫-এ। হাওড়া-ওখা এক্সপ্রেস প্রতি মঙ্গল, শুক্র এবং শনিবার হাওড়া থেকে রাত ১০:৫০-এ ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৯টায়। শালিমার-ভুজ এক্সপ্রেস প্রতি শনিবার রাত ৮:২০-এ ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় সোমবার সকাল ৯.২০ মিনিটে। সাঁতরাগাছি-পোরবন্দর কবিগুরু এক্সপ্রেস প্রতি রবিবার রাত ৯:২৫-এ ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় মঙ্গলবার সকাল ১০.৫০-এ। হাওড়া-গান্ধীধাম গর্ভ এক্সপ্রেস প্রতি সোমবার রাত ১১টায় ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় বুধবার সকাল ১০.৫০-এ।

ahmedabad, world heritage city
বিশ্ব ঐতিহ্যের তকমা পাওয়া অমদাবাদ শহর।

দিল্লি থেকে সব চেয়ে ভালো ট্রেন অমদাবাদ রাজধানী। প্রতি দিন নিউদিল্লি স্টেশন থেকে রাত ৭.৫৫-য় ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৯.৪০-এ। আশ্রম এক্সপ্রেস প্রতি দিন দিল্লি থেকে বিকেল ৩.২০-তে ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৭.৪০-এ। এ ছাড়াও ত্রিসাপ্তাহিক, সাপ্তাহিক ট্রেন আছে দিল্লি থেকে অমদাবাদ যাওয়ার জন্য।

মুম্বই থেকে ছ’ থেকে ন’ ঘণ্টার মধ্যে অমদাবাদ পৌঁছোনোর জন্য দিনেরাতে অনেক ট্রেন আছে। এমন ট্রেন বাছুন যাতে সকালে অমদাবাদ পৌঁছে যেতে পারেন। তা হলে সেই দিনটা অমদাবাদ ঘোরাঘুরির জন্য রাখতে পারেন।

ট্রেনের সময় বিস্তারিত জানার জন্য দেখে নিন erail.in         

ভারতের যে কোনো জায়গা থেকে বিমানে পৌঁছোতে পারেন অমদাবাদ।

অমদাবাদে কী দেখবেন – পড়ুন শীতে চলুন/৩: হেরিটেজ গুজরাত

চতুর্থ দিন – রাত্রিবাস ধ্রানগাধরা।

wild ass at little rann
ক্ষুদ্র রনে বন্য গাধা। ছবি সৌজন্যে ট্রিপস্যাভি।

ক্ষুদ্র রনের জন্য বিখ্যাত ধ্রানগাধরা। রাত্রিবাস করুন দেবজিভাই ধামেচার ইকো ক্যাম্পে। দেবজিভাইয়ের উদ্যোগে বিকেলে একটা সাফারি করুন বন্য গাধার অরণ্যে।

অমদাবাদ থেকে ধ্রানগাধরা ১২৪ কিমি। আমদাবাদ থেকে ধ্রানগাধরা যেতে পারেন ট্রেনে, বাসে বা গাড়িতে। তবে ট্রেনের সময়ের সঙ্গে আপনার সময় মিলতে নাও পারে।

পঞ্চম দিনসকালেও একটা সাফারি করুন দেবজিভাইয়ের উদ্যোগে। দুপুরে রওনা হন ভাচাউয়ের উদ্দেশে। দূরত্ব ১৩৫ কিমি। রাত্রিবাস ভাচাউ।

ধ্রানগাধরা থেকে ভাচাউ  ট্রেনে, বাসে বা গাড়িতে আসতে পারেন। তবে ট্রেনের সময় দেখে নেবেন আপনার ভ্রমণসূচির সঙ্গে খাপ খায় কিনা।

ষষ্ঠ দিন – রাত্রিবাস ভাচাউ।

castle wall, dholavira
প্রাসাদ প্রাচীর, ধোলাভিরা। ছবি সৌজন্যে টপইয়াপ্স।

ভাচাউ থেকে ঘুরে আসুন হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন ধোলাভিরা। যাতায়াত ৩০০ কিমি।

সপ্তম দিন – রাত্রিবাস মাণ্ডবী।

mandvi beach
মান্ডবী সৈকত। ছবি সৌজন্যে ট্রোভার।

ভাচাউ থেকে মাণ্ডবী দূরত্ব ১৩০ কিমি। কচ্ছ উপসাগরের তটে মাণ্ডবী। সৈকতশহর মাণ্ডবীতে দেখুন বিজয়বিলাস প্যালেস, নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত।

অষ্টম দিন – রাত্রিবাস ভুজ।  

মাণ্ডবী থেকে আসুন ভুজ। কিন্তু ঘুরপথে। প্রথমে যান ভারতের শেষ প্রান্ত কোটেশ্বর, (কোটিলিঙ্গেশ্বরের মন্দির) নারায়ণ সরোবরদূরত্ব ১৪১ কিমি। নারায়ণ সরোবরে কিছুক্ষণ কাটিয়ে চলুন লাখপত (দুর্গনগরী, গুরু নানকের স্মৃতিধন্য)। দুরত্ব ৩৩ কিমি। লাখপাত থেকে আসুন মাতা নো মাঢ়। দূরত্ব ৪১ কিমি। দর্শন করুন মা আশাপুরাকে। এখান থেকে চলে আসুন ভুজ। মাণ্ডবী থেকে মোট দূরত্ব ৩১২ কিমি।

koteshvar
কোটেশ্বর।

নবম দিন – রাত্রিবাস ভুজ।

ভুজে দেখে নিন আলামপন্না দুর্গে রাও লাক্ষা প্রাসাদ, মহারাও প্রাসাদ আয়না মহল, হামিরসর লেকের পুবে শারদ বাগ প্যালেস, প্রাগ মহল প্রাসাদ, লেকের দক্ষিণ পুবে কচ্ছ মিউজিয়াম ইত্যাদি

kala dungar
কালা দুঙ্গার। ছবি সৌজন্যে হিল টেম্পলস।

দশম দিনভুজ থেকে চলুন সাদা রন দেখতে। জায়গার নাম ধোরদোদূরত্ব ৮০ কিমি। ধোরধো থেকে যেতে পারেন কচ্ছের সর্বোচ্চ পর্বত কালো দুঙ্গার দেখতে। দূরত্ব ৪৮ কিমি। উচ্চতা ৪৬২ মিটার। সন্ধ্যায় ফিরে আসুন ভুজ। মোট দূরত্ব হবে ২১৭ কিমি। রাত্রিবাস ভুজ।

একাদশ দিন – ঘরে ফেরা।

ভুজ থেকে সরাসরি কলকাতা ফিরতে পারেন। ভুজ-শালিমার এক্সপ্রেস প্রতি মঙ্গলবার দুপুর ২.২০ মিনিটে ভুজ থেকে ছেড়ে শালিমার পৌঁছোয় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায়। গান্ধীধাম থেকেও ফেরার ট্রেন ধরতে পারেন। গর্ভ এক্সপ্রেস প্রতি শনিবার বিকেল ৫:৪০-এ ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় সোমবার দুপুর ১:০৫-এ। ভুজ থেকে গান্ধীধাম ৫৯ কিমি।

ভুজ থেকে আমদাবাদ ফিরে সেখান থেকেও হাওড়ার ট্রেন ধরতে পারেন। দূরত্ব ৩৩৩ কিমি। সে ক্ষেত্রে এক রাত আমদাবাদে থেকে পরের দিন ট্রেন ধরুন।

ভুজ থেকে সরাসরি মুম্বই ফেরার দৈনিক ট্রেন আছে। ভুজ থেকে দিল্লি ফেরার ট্রেন বরেলি এক্সপ্রেস, সপ্তাহে চার দিন। না হলে অমদাবাদ হয়ে দিল্লি ফিরুন।

বিমানেও অমদাবাদ থেকে দেশের যে কোনো জায়গায় ফিরতে পারেন।

কী ভাবে ঘুরবেন

(১) অমদাবাদের স্থানীয় দ্রষ্টব্য এবং লোথাল ও নল সরোবর (যদি সময় করে উঠতে পারেন) গাড়ি ভাড়া করে নিন। রাজ্য পর্যটন সারা দিনের ট্যুরে অমদাবাদ ঘোরায় কিনা খোঁজ করে নিন  ০৭৯-২৬৫৭৮০৪৪/২৬৫৭৮০৪৬/২৬৫৮৯১৭২।

(২) ভাচাউ থেকে ধোলাভিরা চলুন গাড়ি ভাড়া করে।

road to dholavira
ধোলাভিরার রাস্তা। ছবি সৌজন্যে মিডিয়াম.কম।

৩) ভাচাউ থেকে দু’ দিনের জন্য গাড়ি নিয়ে মাণ্ডবীতে রাত কাটিয়ে পরের দিন কোটেশ্বর-লাখপত-মাতা নো মাঢ় ঘুরে ভুজে এসে গাড়ি ছেড়ে দিন।

(৪) ভুজে ঘুরুন স্থানীয় যানবাহনে। ধোরদো, কালো দুঙ্গার যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করে নিন।

কোথায় থাকবেন

একমাত্র অমদাবাদ ছাড়া কোথাওই গুজরাত পর্যটনের কোনো হোটেল নেই। অমদাবাদে গান্ধী আশ্রমের উলটো দিকে রয়েছে গুজরাত পর্যটনের হোটেল তোরণ গান্ধী আশ্রম। অনলাইনে বুক করার জন্য লগইন করুন www.gujarattourism.com । এ ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি হোটেল এবং রিসোর্ট। হোটেল বুকিং-এর একাধিক ওয়েবসাইট থেকে তা বুক করতে পারেন। শুধু ধ্রানগাধরায় থাকার চেষ্টা করবেন দেবজিভাই ধামেচার ইকো ক্যাম্পে। বিভিন্ন রকম কটেজ আছে এখানে। ধ্রানগাধরায় সাফারির ব্যবস্থা করে দেবেন দেবজিভাই নিজে। যোগাযোগ ৯৮২৫৫৪৮০৯০। ওয়েবসাইট www.littlerann.com

২) উপকূল গুজরাত

এই ভ্রমণটি রাজকোট থেকে শুরু করুন।

কলকাতা থেকে রাজকোটের জন্য রয়েছে সাঁতরাগাছি-পোরবন্দর সাপ্তাহিক কবিগুরু এক্সপ্রেস, প্রতি রবিবার রাত ৯:২৫-এ ছেড়ে রাজকোট পৌঁছোয় মঙ্গলবার বিকেল ৩:২৮-এ। রয়েছে হাওড়া-ওখা এক্সপ্রেস। প্রতি মঙ্গল, শুক্র এবং শনিবার হাওড়া থেকে রাত ১০:৫০-এ ছেড়ে রাজকোট পৌঁছোয় তৃতীয় দিন দুপুর ১.২৬ মিনিটে।

দিল্লি থেকেও দৈনিক ট্রেন নেই। সাপ্তাহিক, দ্বি-সাপ্তাহিক ট্রেন, ২৪ ঘণ্টা মতো সময় লাগে। দুপুরের মধ্যে রাজকোটে পৌঁছোনো যায়, এমন ট্রেন বেছে নিন।

মুম্বই থেকে আসার দু’টি ভালো ট্রেন। সাউ জনতা এক্সপ্রেস মুম্বই সেন্ট্রাল থেকে রোজ বিকেল ৫.১০-এ ছেড়ে পরের দিন সকাল ৬.৪৫-এ রাজকোটে পৌঁছোয়। সৌরাষ্ট্র মেল ছাড়ে মুম্বই সেন্ট্রাল থেকে রোজ রাত ৯.৩৫-এ, রাজকোটে পৌঁছোয় সকাল ১০.১০-এ।

ramkrishna mission ashram, rajkot
রাজকোটে রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম। ছবি সৌজন্যে আরকেএমরাজকোট.অর্গ।

প্রথম দিন – রাত্রিবাস রাজকোট।

জাদেজা রাজপুতদের গড়া রাজকোটে দেখে নিন জুবিলি গার্ডেন, ওয়াটসন মিউজিয়াম, গান্ধীজির বাড়ি (ছেলেবেলা কেটেছিল), রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম (বেলুড় মঠের রেপ্লিকা), লালপরী লেক, আজি বাঁধ (ভাবনগরের পথে ৮ কিমি) ইত্যাদি।

দ্বিতীয় দিন – সকালের দিকটা রাজকোটে কাটিয়ে বিকেল ৩.১০-এর অমদাবাদ-সোমনাথ এক্সপ্রেস ধরে ৫.৩৬ মিনিটে পৌঁছে যান জুনাগড়। রাজকোট থেকে বাস আধ ঘণ্টা অন্তর, ১০২ কিমি রাস্তা, ঘণ্টা তিনেক লাগে। গাড়ি ভাড়া করেও আসতে পারেন। রাত্রিবাস জুনাগড়

তৃতীয় দিন – রাত্রিবাস জুনাগড়

জুনাগড়ে দেখে নিন

উপারকোট পাহাড়ে জুনাগড় ফোর্ট। দুর্গে দেখুন বেশ কিছু বৌদ্ধ গুম্ফা, নওগড় ভাভ ও আধি চাধি ভাভ (স্টেপ ওয়েল), বিশাল কামান নিলাম তোপ, জামি মসজিদ, অশোকের সময়ের গুহা

girnar hills
গিরনার পাহাড়। ছবি সৌজন্যে গোসাহিন.কম।

গিরনার পাহাড়ে ওঠার পথে দেখুন অশোকের শিলালিপি

তা ছাড়া দেখে নিন বাজেশ্বরী মন্দির, দামোদর কুণ্ড, উনিশ শতকের নবাবি প্রাসাদ রংমহল, জুনাগড় নবাবদের রাজপ্রাসাদ মহাবত মকবরা, নবাবদের গড়া মনোরম উদ্যান শখের বাগ ও চিড়িয়াখানা (রাজকোট রোডে সাড়ে তিন কিমি দূরে) ইত্যাদি।

চতুর্থ দিন – রাত্রিবাস সাসন গির।

জুনাগড় থেকে প্রায় ৬০ কিমি দূরের গির আসার জন্য বাস রয়েছে। গাড়ি ভাড়া করে আসতে পারেন। শেয়ার ট্যাক্সিও মেলে।

gir forest
গিরে সিংহ দর্শন। ছবি সৌজন্যে দ্যআর্থসাফারি.কম।

গিরে বন দফতরের ব্যবস্থাপনায় সাফারি করুন। ঘুরে আসুন ১৩ কিমি দূরের দেবালিয়া সাফারি পার্কও।

পঞ্চম দিন – সকালে আর একটা সাফারি করে চলুন দিউ। রাত্রিবাস দিউ

ষষ্ঠ দিন – রাত্রিবাস দিউ

সাসন গির থেকে সকাল ১০.৪৭-এর প্যাসেঞ্জার ট্রেন বিকেল ৩টেয় পৌঁছে দেয় দিউ থেকে আট কিমি দূরে দেলওয়াদা। স্টেশন থেকে দিউ যাওয়ার হরেক ব্যবস্থা। বাস বা গাড়ি ভাড়া করেও দিউ আসতে পারেন, দূরত্ব ৯০ কিমির মতো।

nagoa each, diu
নাগোয়া সৈকত, দিউ। ছবি সৌজন্যে কম্পাসটুরিজম.কম।

তিন দিকে আরব সাগর আর উত্তর দিকে ব্যাকওয়াটারে ঘেরা দ্বীপভূমি দিউ। দিউয়ের মূল আকর্ষণ এর প্রকৃতি। দেখে নিন পরিখা ঘেরা দুর্গ ও তার ভিতরের কারাগার ও মিউজিয়াম। দুর্গের উপর থেকে সাগর ও দিউ শহরকে দেখুন। মোটরবোটে চলুন পানিকোটা সমুদ্রদুর্গ। ঘুরে আসুন নাগোয়া বিচ, জলন্ধর বিচ (লাগোয়া পাহাড় চুড়োয় মন্দির), চক্রতীর্থ বিচ, আমেদপুর মান্ডভি বিচ। দেখে নিন শহিদস্মারক মারওয়ার, সেন্ট টমাস, সেন্ট পলস এবং সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চ। শহর থেকে ৪ কিমি দূরে গঙ্গেশ্বর শিব। জোয়ারের জল পা ধুয়ে দিয়ে যায় শিবের।

সপ্তম দিন – রাত্রিবাস সোমনাথ।

সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন দিউ থেকে। বাস চলে, তবে বেশ ভিড় হয়। গাড়ি ভাড়া করে সোমনাথ পৌঁছে যান প্রাতঃরাশের আগে। দূরত্ব ৮৫ কিমি। 

somnath temple
সোমনাথ মন্দির। ছবি সৌজন্যে টেম্পলডায়েরি.কম।

সোমনাথে দেখে নিন-

সোমেশ্বর মহাদেব মন্দির, জ্যোতির্লিঙ্গ। রাত ৮টায় মন্দির প্রাঙ্গণে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শোবল্লভঘাট থেকে সূর্যাস্ত। অহল্যাবাঈয়ের গড়া পুরোনো সোমনাথ মন্দির। প্রভাস পাটন মিউজিয়াম (বুধ ও ছুটির দিন বন্ধ)। পরশুরামের তপোভূমি। সরস্বতী, কপিলা ও হিরণ্য নদীর ত্রিবেণী সঙ্গম বা প্রভাস তীর্থ ভালুকা তীর্থ, কথিত যেখানে ব্যাধের তীরে বিদ্ধ হয়েছিলেন কৃষ্ণ।

kirti mandir, porbandar
কীর্তি মন্দির, পোরবন্দর। ছবি সৌজন্যে ইউটিউব।

অষ্টম দিন – গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে সোমনাথ থেকে পোরবন্দর হয়ে চলুন দ্বারকা। দূরত্ব ২৩০ কিমি। রাত্রিবাস দ্বারকা

পথে দেখে নিন পোরবন্দরে গান্ধীজির জন্মভিটে ‘কীর্তিমন্দির’, সুদামা প্রাসাদ, চোরবাদ সাগরবেলা

নবম দিন  – রাত্রিবাস দ্বারকা।

দ্বারকায় দেখে নিন – 

dwarkadheesh temple, dwarka
দ্বারকাধীশ মন্দির, দ্বারকা। ছবি সৌজন্যে গুজরাটএক্সপার্ট.কম।

দ্বারকার মূল আকর্ষণ গোমতী তটে দ্বারকাধীশ রণছোড়জির মন্দির, গোমতী নদীতে ঘেরা দ্বীপে কৃষ্ণ মন্দির, রণছোড়জির মন্দিরের দক্ষিণ দ্বার দিয়ে বেরিয়ে ৫৬ ধাপ নেমে গোমতী দেবীর মন্দির, গোমতী-নারায়ণ সঙ্গমে সঙ্গমনারায়ণ মন্দির, লাইট হাউস, পঞ্চপাণ্ডবের নামে মিষ্টি জলের পাঁচটি কুয়া তথা পঞ্চনদ তীর্থ, সামান্য দক্ষিণে লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, ভদ্রকালী মন্দির, মীরাবাঈ মন্দির, তারকেশ্বর সাগরবেলা ও শংকরাচার্যের সারদা মঠ।

দশম দিন – সক্কালেই চলুন বেট দ্বারকা। গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়ুন। পথে দেখে নিন দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম নাগেশ্বর, গোপী তালাও, রুক্মিণীদেবীর মন্দির। দেখে পৌঁছে যান ৩২ কিমি দূরে ওখা, সেখান থেকে নৌযাত্রায় বেট দ্বারকা। ওখা শহরে ঢোকার মুখে বেট দ্বারকার ফেরিঘাট।  

ferry to bet dwarka
বেট দ্বারকার পথে। ছবি সৌজন্যে ইন্ডিয়ামাইক.কম।

বেট দ্বারকা ঘুরে এসে ওখা থেকে পৌনে ৩টের ভাবনগর প্যাসেঞ্জার ধরে ৬.২৬-এ পৌঁছে যান জামনগর। ওই ট্রেন ধরতে না পারলে রাত্রি ৮.০৫-এর ওখা-সোমনাথ এক্সপ্রেস ধরে রাত্রি ১০.৩২-এ পৌঁছে যান জামনগর। ওখা থেকে বাস ও গাড়ি ভাড়া করেও আসতে পারেন জামনগর, দূরত্ব ১৫০ কিমি। রাত্রিবাস জামনগর।

একাদশ দিন ও দ্বাদশ দিন – রাত্রিবাস জামনগর।

শীতকালে জামনগরের প্রশস্তি তার পরিযায়ী পাখির জন্য। তাই দু’টো পুরো দিন রাখা হয়েছে জামনগরের জন্য।

জামনগরে প্রথম দিন দেখে নিন – 

লাখোটা লেকের মাঝে লাখোটা প্রাসাদ ও মিউজিয়াম। পাথরের সেতুতে পারাপার। লেকের এক পাশে মাছভবন প্রাসাদ, লেক লাগোয়া ড. অম্বেডকর উদ্যান। চণ্ডীবাজারে আদিনাথ ও শান্তিনাথের মন্দির। স্বামীনারায়ণ মন্দির

১৫ কিমি দূরে খিজারিয়া বার্ড স্যাংচুয়ারি ও ২৮ কিমি দূরের বালাছড়ি সমুদ্র সৈকত

দ্বিতীয় দিনে চলুন – 

narara marine national park
নারারা মেরিন ন্যাশনাল পার্ক। ছবি সৌজন্যে ইউটিউব।

৫৫ কিমি দূরে দ্বারকার পথে নারারা মেরিন ন্যাশনাল পার্ক।

ত্রয়োদশ দিন – ঘরে ফেরা

জামনগর থেকে সরাসরি হাওড়া আসার ট্রেন প্রতি বুধ, বৃহস্পতি ও রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ। দিল্লি আসার ট্রেন মঙ্গল ও শনিবার। মুম্বই আসার গোটা তিনেক দৈনিক ট্রেন আছে।

মনে রাখবেন

(১) হাওড়া বা দিল্লি থেকে রাজকোট বা রাজকোট থেকে হাওড়া/দিল্লি রোজ ট্রেন নেই। সুতরাং ট্রেনের দিন অনুযায়ী যাওয়া-আসার দিন ঠিক করে নিলে ভ্রমণের মেয়াদ কমতে-বাড়তে পারে। সেই ভাবে বিভিন্ন জায়গায় থাকার মেয়াদ একটু এ-দিক ও-দিক করে নিতে হতে পারে। ট্রেনের সময় জানার জন্য দেখে নিন erail.in ।

(২) গিরে পৌঁছে যদি সে দিন বিকেলেই সাফারি করেন, তা হলে পরের দিন সকালে চলুন দেবালিয়া সাফারি পার্ক। সুনিশ্চিত ভাবে সিংহ দেখানোর ব্যবস্থা। গির অরণ্যে সাফারির সময় সকাল ৬টা থেকে ৯টা, সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা এবং বিকেল ৩টে থেকে সন্ধে ৬টা। দেবালিয়া সাফারি পার্ক খোলা সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা, বিকেল ৩টে থেকে ৫টা। বুধবার বন্ধ। অনলাইনে সাফারি বুক করুন www,girlion.in। সাফারি শুরু হওয়ার আধ ঘণ্টা আগে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে যেতে হয়।

আরও পড়ুন শীতে চলুন /২ : থর ঘুরে আরাবল্লি হয়ে জঙ্গলের রাজস্থানে

(৩) গিরনার পাহাড়ে ৯৯০০ সিঁড়ি ভেঙে বা পালকি করে বা ঘোড়ায় চেপে যদি উঠতে চান তা হলে আরও একটা দিন জুনাগড়ে থাকতে হবে। জৈনদের তীর্থস্থান গিরনারের মাথায় রয়েছে নেমিনাথ ও মল্লিনাথের মন্দির। তা ছাড়া আরও নানা মন্দির।

(৪) বিভিন্ন জায়গায় মন্দির, মিউজিয়াম, প্রাসাদ ইত্যাদি খোলার সময় আগাম জেনে নিন। তবে সোমনাথে মন্দির সকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত খোলা।

(৫) সোমনাথে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো অবশ্যই দেখবেন।

(৬) দ্বারকায় রণছোড়জির মন্দির খোলা সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা। মাঝে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বন্ধ।

আরও পড়ুন শীতে চলুন/১: গড়-জঙ্গল-হাভেলির রাজস্থান

(৭) নারারা মেরিন ন্যাশনাল পার্ক দেখার জন্য অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে Conservator of Forest, Marine National Park, Ganjiwada Nagar, Nagnath Gate, Van Shankul, Jamnagar থেকে। যোগাযোগ ০২৮৮-২৬৭৯৩৫৫/২৬৭৯৩৫৭। পার্কের গেটেই পার্ক অনুমোদিত গাইড পাওয়া যায়। অবশ্যই সঙ্গে নেবেন। যে হোটেলে থাকবেন সেখানে জেনে নেবেন ভাটা কখন শুরু হবে। ভাটা শুরু হওয়ার দু’ থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই পার্কে পৌঁছোনো চাই।

কী ভাবে ভ্রমণ করবেন

(১) এই সূচি যে হেতু রাজকোটে শুরু হয়ে জামনগরে শেষ, তাই রাজকোট থেকে একটা গাড়ি ভাড়া করে জামনগরে ছেড়ে দিতে পারেন। তবে পয়েন্ট টু পয়েন্ট গাড়িও করতে পারেন। গুজরাতে বাস পরিষেবা ভালো। বাসে বা পয়েন্ট টু পয়েন্ট গাড়িতে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গেলে স্থানীয় দ্রষ্টব্য স্থানীয় যান ভাড়া করে দেখে নিন।

(২) গিরে সকালে সাফারি করলে সাসন গির স্টেশন থেকে সকালের ট্রেন ধরা মুশকিল। সে ক্ষেত্রে বাস বা গাড়ি ভাড়া করে আসুন দিউ।

কোথায় থাকবেন

(১) গুজরাতের অধিকাংশ জায়গাতেই রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগমের হোটেল নেই। এই ভ্রমণসূচিতে শুধুমাত্র দ্বারকা এবং জুনাগড়েই যথাক্রমে পর্যটন উন্নয়ন নিগমের টুরিস্ট বাংলো এবং হোটেল গিরনার রয়েছে। অনলাইনের বুক করার জন্য লগইন করুন  www.gujarattourism.com তবে বাকি সব শহরেই বেসরকারি হোটেল এবং বিচ রিসোর্ট আছে। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে এই সব হোটেলের সন্ধান পেয়ে যাবেন।

sinh sadan forest lodge
সিংহ সদন ফরেস্ট লজ। ছবি সৌজন্যে সিমপ্লিঅফবিট.কম।

(২) গিরে যদি সরকারি ব্যবস্থাপনায় সিংহসদন ফরেস্ট লজে থাকতে চান তা হলে যোগাযোগ — Deputy Conservator of Forest, Wild Life Section, Sasangir, Dist – Junagadh 362135. ph 02877-285541/285540 । গিরে অনেক বেসরকারি হোটেলও আছে।

(৩) দিউয়ের হোটেল ও তার বুকিং সম্পর্কে বিশদে জানার জন্য দেখুন www.diutourism.com

sagar darshan guesthouse
সাগর দর্শন অতিথিগৃহ, সমনাতজ। ছবি সৌজন্যে সোমনাথ.ওর্গ।

(৪) সোমনাথে শ্রী সোমনাথ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় লীলাবতী অতিথি ভবন, মাহেশ্বরী অতিথি ভবন, সাগর দর্শন গেস্ট হাউস এবং তন্না অতিথিগ্রুহতে থাকার সুবন্দোবস্ত আছে। অনলাইন বুকিং www.somnath.org

Categories
অন্য রাজ্য সমুদ্র

সোমনাথে থাকুন সাগর দর্শনে, প্রত্যক্ষ করুন আরব সাগরকে

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: সাধারণত মন্দিরের নিজস্ব গেস্ট হাউস বললেই আমরা বুঝি ধর্মশালা টাইপের কিছু। যেখানে ঘর পরিচ্ছন্ন হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার কোনো ব্যাপার থাকবে না। মন্দিরের গেস্ট হাউসের সেই চিরাচরিত ধারণাটাকেই বদলে দিয়েছে সোমনাথের সাগর দর্শন গেস্ট হাউস।

ভারতের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম গুজরাতের সোমনাথ। আরব সাগরের এক্কেবারে ধারে অবস্থিত এই মন্দির আবার বহু ঐতিহাসিক ঘটনারও সাক্ষী। ধর্ম, ইতিহাস, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সব মিলিয়ে এক অনন্য জায়গা সোমনাথ।

আরও পড়ুন ভোপাল থেকে চলুন স্থাপত্য এবং ইতিহাসের শহর ভোজপুরে

এই মন্দিরের ঠিক পাশেই অবস্থিত মন্দির কমিটির গেস্ট হাউস সাগর দর্শন। এই গেস্ট হাউসকে দেখলে এক পলকে আপনার কোনো থ্রি-স্টার হোটেল মনে হতে পারে। হোটেলটির অধিকাংশ ঘরই সমুদ্রমুখী। ব্যালকনিতে বসে আরাম করে আরব সাগরকে প্রত্যক্ষ করা যেতে পারে।

ঘর থেকে সমুদ্র দর্শন। ছবি: ট্রিপআডভাইসর

এই গেস্ট হাউসে এসি দ্বিশয্যা ঘরের ভাড়া ২২৫০ টাকা, স্যুটের ভাড়া ৩০০০ টাকা।

তবে যাঁরা ঘরে বসে সমুদ্র দেখে দেখে সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য এই গেস্ট হাউস এক কথায় অনন্য। আর যাঁরা শুধুমাত্র মন্দিরে পুজো দেওয়ার কারণে সোমনাথে থাকতে চান একটু কম খরচে, তাদের জন্যও গেস্ট হাউস রয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষের। সেগুলি হল লীলাবতী অতিথি ভবন, মহেশ্বরী অতিথি ভবন এবং তন্না অতিথি গৃহ।

সাগর দর্শন-সহ সব গেস্ট হাউসই অনলাইনে বুক করা যায়। বুকিং-এর জন্য লগইন করুন, booking.somnath.org-এই ওয়েবসাইটে।

Categories
আমাদের বাছাই

ভারতের যে সড়কগুলিতে ভ্রমণ আপনাকে একবার করতেই হবে

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: ভ্রমণ মানে শুধু গন্তব্যে পৌঁছোনো নয়। সেই গন্তব্য পৌঁছোতে গেলে যে সড়ক দিয়ে আপনি ভ্রমণ করবেন বা যে ট্রেনে গেলে যে স্টেশন দেখতে দেখতে যাবেন সেগুলোও ভ্রমণের মধ্যেই পড়ে। 

এই প্রতিবেদনে আমরা বাছাই করেছি ভারতের এমন কিছু সড়ক যেখান দিয়ে ভ্রমণ জীবনে একবার অন্তত করতেই হবে। দেখে নেব এমন কিছু সড়ক। আজ প্রথম অংশ। 

১) মানালি থেকে লেহ

manali to leh

বলতে দ্বিধা নেই, এই রাস্তায় একবার ভ্রমণ না করলে, পর্যটক হিসেবে আপনার জীবন পূর্ণ হবে না। হিমাচলের মানালি থেকে কাশ্মীরের লেহ, এই ৪৭৯ কিমি রাস্তার বেশিটাই রুক্ষ। ন্যাড়া পাহাড়ে ঘেরা চারিদিক, নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে বিভিন্ন নদী। বছরে মাত্র পাঁচটা মাস এই রাস্তা খোলা থাকে। মাঝ অক্টোবরেই তুষারপাতের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং এই রাস্তায় যাওয়ার আদর্শ সময় হল জুন-জুলাই। মানালি থেকে লেহ-র মাঝখানে অন্তত দু’বার আপনাকে যাত্রাবিরতি দিতে হবেই।

২) মুম্বই থেকে পুনে

mumbai to pune

মুম্বই থেকে পুনের সংযোগকারী দু’টি রাস্তা রয়েছে। একটি পুরোনো জাতীয় সড়ক এবং অন্যটি এক্সপ্রেসওয়ে। এখানে এক্সপ্রেসওয়ের কথাই বলছি আমরা। পাহাড়ের গা বেয়ে যে ভাবে আট লেনের একটা সড়ক তৈরি হয়েছে, তা ভাষায় বোঝানো যায় না। পাহাড়ের বুক রয়েছে অসংখ্য টানেল। এই এক্সপ্রেসওয়ের দূরত্ব ৯৩ কিমি। রাস্তা ফাঁকা থাকলে গাড়ির গতি কোনো ভাবেই ১১০ কিমির নীচে নামে না। অর্থাৎ, এই রাস্তায় মুম্বই থেকে পুনে যেতে সময় লাগবে বড়োজোর ঘণ্টা দেড়েক। আর সৌন্দর্য! সে-ও এক কথায় অতুলনীয়।

আরও পড়ুন: বর্ষায় পশ্চিমবঙ্গে এক ডজন গন্তব্য

৩) ইস্ট কোস্ট রোডে চেন্নাই থেকে পুদুচেরি

east coast road

প্রথম দু’টো ক্ষেত্রে পাহাড়ের কথা বলা হল, এ বার একটু সমুদ্রের কথায় আশা যাক। সমুদ্রের কার্যত ধার দিয়ে চলেছে এই রাস্তা। চেন্নাই থেকে পুদুচেরি যাওয়ার পথে বাঁ দিকে তাকালেই মাঝেমধ্যেই আপনার চোখে পড়বে বঙ্গোপসাগরের নীল জল আর ডান দিকে তাকালে ইতিউতি উঁকি দেবে পূর্বঘাট পর্বতমালা। চেন্নাই থেকে পুদুচেরি, এই ১৬০ কিমি দূরত্ব যেতে আপনার সময় লাগবে ঘণ্টা তিনেক।

৪) সোমনাথ থেকে দ্বারকা

dwarka to somenath

এ বার চলে আসি পশ্চিম উপকূলের কথায়। এই রাস্তার বৈশিষ্ট্য কিন্তু ইস্ট কোস্ট রোডের মতোই, তফাৎ হল এখানে আরব সাগর। গুজরাতের তীর্থ শহর সোমনাথ থেকে আরও এক তীর্থ শহর দ্বারকা, মাঝখানে গান্ধীর শহর পোরবন্দর। এই ২৩১ কিমি রাস্তায় প্রায় পুরোটাই আরব সাগরের ধার দিয়ে। বিকেল নাগাদ এই পথে যাত্রা করলে নয়নাভিরাম সূর্যাস্তেরও সাক্ষী থাকবেন আপনি।

৫) কলকাতা থেকে পুরী

kolkata to puri road

এই রাস্তায় সমুদ্র, পাহাড়ও নেই, তবে ছয় লেনের এই সড়ক দিয়ে গাড়ি ছোটালে  এক অদ্ভুত আনন্দ পাবেন। প্রথমে কলকাতা থেকে খড়গপুর হয়ে ভুবনেশ্বর পর্যন্ত ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং তার পর ভুবনেশ্বর থেকে পুরী পর্যন্ত ২০৬ নম্বর জাতীয় সড়ক। মোট দূরত্ব আপনার পড়বে ৫০০ কিমি পর্যন্ত। কিন্তু পথের ক্লান্তি আপনি খুব একটা অনুভব করবেন না। আর একটা কথা, দিনের বেলাতেই আপনাকে এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। নৈশভোজ সেরে রাত দশটা নাগাদ কলকাতা থেকে রওনা হন, পরের দিন সকালে প্রাতরাশের আগেই পৌঁছে যান পুরী।