অন্য রাজ্য ইতিহাস/স্থাপত্য

চলুন ঘুরে আসা যাক ভরতপুরের রাজাদের গ্রীষ্মাবাস ডীগে

Deeg Palace

ভ্রমণঅনলাইনডেস্ক: একস ময় ভরতপুরের জাঠ রাজাদের গ্রীষ্মাবাস ছিল ডীগ। বৃহদাকার এক প্রাসাদ তথা দুর্গ, সুন্দর বাগান, অসংখ্য ফোয়ারা এই জায়গাটি সত্যিই আপনার মন কাড়তে বাধ্য। এই প্রাসাদ এক সময় মোগলদের হাতে চলে যায়। তবে স্থানীয় রাজারা মরণপণ যুদ্ধ করে তাঁদের সাম্রাজ্য নিজেদের দখলে ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু পরবর্তী কালে ডীগ আবার তার স্বাধীনতা হারায় এবং তা ইংরেজদের হাতে চলে যায়। পরে উনিশ শতকে আবার স্বাধীনতা ফিরে পায় ডীগ। তা হলে এক বার ঢুঁ মারাই যায় ডীগে।

কখন যাবেন

ডীগ যাওয়ার আদর্শ সময় হল হরিয়ালি তীজ, দীপাবলি, গঙ্গৌর এবং অন্য কোনো রাজস্থানী উৎসবে। এই সময় সুন্দর করে সেজে ওঠে ডীগ শহরটি।

কী ভাবে যাবেন

কলকাতা, দিল্লি ও মুম্বইয়ের সঙ্গে ভরতপুর ট্রেনপথে যুক্ত। ভারতের অন্য কোনো জায়গা থেকে আসতে চাইলে দিল্লি আসুন। সেখান থেকে ভরতপুর আসার অসংখ্য ট্রেন আছে। ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচির জন্য দেখে নিন erail.in। ভরতপুর থেকে ডীগ সড়কপথে ৩৮ কিমি, গাড়ি ভাড়া করে বা লোকাল বাসে চলে আসতে পারেন। যদি ফ্লাইটে আসতে চান তবে আগ্রা বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকে গাড়িতে ডীগ চলে আসুন, দূরত্ব ৯৩ কিমি। আর যদি সড়ক পথে আসতে চান তবে আলোয়ার-ভরতপুর ও বিকানের-আগ্রা রোড ধরে ডীগে পৌঁছোতে হবে।

কোথায় থাকবেন

ডীগে থাকার দরকার পড়ে না। ভরতপুরে থেকে ডীগ ঘুরে নিন। ভরতপুরে থাকার জন্য রয়েছ্রে রাজস্থান পর্যটনের হোটেল ভরতপুর ফরেস্ট লজ এবং হোটেল সারস। অনলাইন বুকিং http://rtdc.tourism.rajasthan.gov.in/। এ ছাড়াও প্রচুর বেসরকারি হোটেল আছে। নেট সার্চ করলে পেয়ে যাবেন। 

কী দেখবেন ডীগে

সুরজমল ফোর্ট বা ডীগ ফোর্ট বা ডীগ প্যালেস

deeg palace
ডীগ প্রাসাদ। ছবি সৌজন্যে লাকি ভ্যাগাবন্ড ডট কম।

আঠারো শতকে জাঠ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বদন সিং এই দুর্গ তৈরি করেছিলেন। পরে রাজা সুরজমল এটি সংস্কার করেন। ভরতপুরের রাজাদের কাছে ডীগ ছিল গ্রীষ্মের আবাস কারণ এই অঞ্চলের মনোরম আবহাওয়া।  বর্গক্ষেত্রাকার দুর্গের এক একটি পাশ ২৭৪ মিটার।এই দুর্গ পরিখা দিয়ে ঘেরা। দুর্গের দেওয়ালের উচ্চতা ২০ মিটার এবং প্রবেশদ্বারটি উত্তরমুখী।  প্রবেশদ্বারটিও আকর্ষণীয়। দুর্গের আশেপাশে পাহাড়ের মাথায় বসানো রয়েছে কামান। দুর্গটি অবশ্য অনেকটাই বিধ্বস্ত।

আরও পড়ুন স্বল্পচেনা উত্তরবঙ্গ: ভুটান পাহাড়ের পাদদেশে চামুর্চি

এই দুর্গ তথা প্রাসাদের যে জিনিসটি মোহিত করে তা হল অসংখ্য ফোয়ারা। পাঁচশোরও বেশি ফোয়ারা আছে। আগেকার দিনে বিশেষ কোনো ঝরনার জল চামড়ার বালতির মধ্যে করে, গরুর গাড়িতে নিয়ে আসা হত। তার পর সেই জল একটি ট্যাঙ্কে ভরা হত এবং যখন সেই ট্যাঙ্কের জল উপচে পড়ত, তখনই কোনো কর্মচারী জলকপাটগুলি খুলে দিত এবং তখনই জল ফোয়ারার মতো পড়ত। আর আছে দুই সরোবর – রূপ সাগর ও গোপাল সাগর। 

প্রাসাদ এলাকার অন্দর

ডীগ প্যালেসে ৬টি ভবন – গোপাল ভবন, কিষান ভবন, সুরজ ভবন, নন্দ ভবন, কেশব ভবন, হরদেব ভবন।  এর মধ্যে গোপাল ভবনই ছিল রাজাদের থাকার জায়গা ১৯৭০ পর্যন্ত। তার পরিচয় এখনও পাওয়া। এর ব্যাঙ্কোয়েট হলটি অনবদ্য। আছে বেঙ্গল চেম্বার, চেজরুম, কুইনস চেম্বার ইত্যাদি। ধনুকাকৃতি খিলান, ভাস্কর্যময় স্তম্ভ, লেকমুখী ঝুল বারান্দা গোপাল ভবনের বৈশিষ্ট্য। 

গোপাল ভবনের পুবে পাথরে গড়া সুরজ ভবন। তার উলটো দিকে রূপ সাগরমুখী গ্রীষ্মাবাস বরাদরি তথা গার্ডেন প্যাভেলিয়ন কেশব ভবন।  রূপ সাগরের শিশ মহল, পুরানা মহল-সহ বাকি ভবনগুলিও অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করায়। শ্বেতমর্মরের হিন্দোলা প্রাসাদ, নুরজাহানের শ্বেতমর্মরের ঝুলা আজ ডীগের আকর্ষণ।

ডীগের আশেপাশে 

ভরতপুর

keoladeo national park
কেওলাদেও ন্যাশনাল পার্কে। ছবি সৌজন্যে ট্র্যাওয়েল ডট ইন।

ভরতপুরে থেকে ডীগ দেখবেন, আর ভরতপুর দেখবেন না, তা তো হতে পারে না।  পাখিরালয়ের জন্য বিখ্যাত হলেও ভরতপুরেরও রয়েছে অনেক ইতিহাস। জাঠনেতা সুরজমল রুপারেল ও বাণগঙ্গা নদীর তীরে ভরতপুর শহর গড়েন। ১৭৩৩-এ তৈরি হয় দুর্গ। মোগল ধাঁচে গড়া কঠিন, নিরেট আর দুর্ভেদ্য বলে দুর্গের নাম হয়েছিল লৌহগড়।  দুর্গের প্রাচীর আজ লুপ্ত, কারুকাজও লোপ পেয়েছে।  তব্য দর্শনীয় এই দুর্গ।  রয়েছে তিনটি প্রাসাদ, তার মধ্যে কামরা প্রাসাদে মিউজিয়াম, লছমনজি কা মন্দির, গঙ্গা মন্দির। শহহর থেকে দেড় কিমি দূরে গোলবাগ প্রাসাদ।  এর ওপর পাখিরালয় তথা কেওলাদেও ঘানা পক্ষীআলয় তো আছেই। এই পক্ষীআলয় দেখার ভালো সময় আগস্ট থেকে মার্চ। তারই মধ্যে অক্টোবর থেকে মার্চই সব চেয়ে ভালো সময়।  

অলওয়র

ডীগ থেকে ৭৫ কিমি আর ভরতপুর থেকে ১১৩ কিমি দূরে অলওয়র। এখানে দেখে নিন সিটি প্যালেস তথা মিউজিয়াম, বালা কিলা বা অলওয়র দুর্গ, মুসি মহারানি কি ছত্রি, করণীমাতা মন্দির, পুরজন বিহার, বিনয় বিলাস প্রাসাদ (১০ কিমি, বিজয়সাগরের পাড়ে), জয়সমন্দ লেক (৬ কিমি) এবং শিলিশেড় লেক ও প্রাসাদ (১৭ কিমি)।

মথুরা

ভরতপুর থেকে ৪০ কিমি দূরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মভূমি মথুরা এবং রাধাকৃষ্ণের লীলাভূমি মথুরা লাগোয়া বৃন্দাবন ঘুরে নিতে পারেন।  

Leave a Comment

Your email address will not be published.

You may also like