পাহাড়-সমুদ্র নয়, এ বার একদিনের সফরে বাংলার এই ৫ ঠিকানা—নদী, ইতিহাস আর মন্দিরের টান

দীর্ঘ ছুটি নেই? তাতেও বেড়ানো আটকে থাকবে না। কলকাতার আশপাশেই রয়েছে চন্দননগর, ব্যারাকপুর, খড়দহ, বুরুল ও সবুজ দ্বীপের মতো বেশ কিছু অন্যরকম গন্তব্য।

দূরে যাওয়ার জন্য সব সময় লম্বা ছুটির প্রয়োজন হয় না। কলকাতা থেকে অল্প সময়ের পথেই এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে একই সফরে মিলতে পারে নদীর হাওয়া, সবুজের শান্তি, ঔপনিবেশিক ইতিহাস কিংবা বাংলার প্রাচীন মন্দির। তাই হাতে এক দিন সময় থাকলে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়া যায় শহরের আশপাশেই।

চন্দননগর—গঙ্গার ধারে ইতিহাসের শহর

ফরাসি উপনিবেশের স্মৃতি, গঙ্গার পাড় আর পুরনো স্থাপত্য—সব মিলিয়ে চন্দননগর এখনও স্বতন্ত্র। শহরের অন্যতম আকর্ষণ দুপ্লে প্রাসাদ, বর্তমানে যেখানে রয়েছে ইনস্টিটিউট দ্য শাঁদর্নগরের সংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার। ১৮১২ সালে ফরাসি প্রশাসকদের জন্য নির্মিত এই ভবনটি বর্তমানে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থাপনা।

চন্দননগর স্টেশনে নেমে স্থানীয় পরিবহণে শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গা ঘোরা যায়। গঙ্গার ধারের স্ট্র্যান্ডও এই সফরের অন্যতম আকর্ষণ।

ব্যারাকপুর—এক সফরে ইতিহাসের একাধিক অধ্যায়

ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য ব্যারাকপুর বেশ অন্যরকম। মঙ্গল পাণ্ডে পার্ক, গান্ধী মিউজিয়াম, গান্ধী ঘাট এবং জওহর কুঞ্জ—একই এলাকায় ঘোরার মতো একাধিক জায়গা রয়েছে।

১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সঙ্গে মঙ্গল পাণ্ডের নাম জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর স্মৃতিকে ঘিরেই তৈরি মঙ্গল পাণ্ডে পার্ক। অন্য দিকে, গান্ধী মিউজিয়ামে রয়েছে মহাত্মা গান্ধী ও স্বাধীনতা আন্দোলন সম্পর্কিত নানা সংগ্রহ।

শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে ব্যারাকপুর পৌঁছে স্থানীয় অটো বা বাসে দর্শনীয় জায়গাগুলিতে যাওয়া যায়।

খড়দহ—একসঙ্গে ২৬ শিবমন্দির

খুব কাছেই অথচ ইতিহাসের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ—খড়দহের ২৬টি শিবমন্দির তারই উদাহরণ। প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই মন্দিরসমষ্টি সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভের তালিকায় রয়েছে।

অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতকের সন্ধিক্ষণে স্থানীয় জমিদার পরিবারের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই মন্দিরগুলি বাংলার প্রাচীন স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। কাছেই রয়েছে রাধাশ্যামসুন্দর জিউ মন্দিরও। বৈষ্ণব ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিত্যানন্দের পুত্র বীরভদ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।

শিয়ালদহ-নৈহাটি মূল লাইনের ট্রেনে খড়দহ পৌঁছে স্থানীয় পরিবহণে এই অঞ্চল ঘোরা যায়।

বুরুল—শহরের কোলাহল ছেড়ে নদীর ধারে

ইতিহাসের পাশাপাশি যদি চাই শান্ত পরিবেশ, তা হলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বুরুল হতে পারে অন্যরকম পছন্দ। গঙ্গার ধারে গ্রামবাংলার পরিবেশ, সবুজ আর নিরিবিলি আবহ—শহরের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার জন্য জায়গাটি আকর্ষণীয়।

শিয়ালদহ থেকে বজবজগামী লোকাল ধরে বুরুলের দিকে যাওয়া যায়। স্থানীয় অটো বা টোটো করে নদীর পাড়ের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছনো সম্ভব।

সবুজ দ্বীপ—নদীর মাঝে সবুজের ঠিকানা

আর একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা চাইলে নজরে রাখা যায় হুগলি নদীর সবুজ দ্বীপকে। নামের মতোই সবুজে ঘেরা এই দ্বীপে নদী ও প্রকৃতির আবহই মূল আকর্ষণ। শহুরে কোলাহল থেকে দূরে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে জায়গাটি হতে পারে দিনের সফরের বিকল্প।

এখানে যাওয়ার পথে ট্রেন, স্থানীয় যান এবং নৌপথ—তিন ধরনের যাতায়াতের অভিজ্ঞতাই মিলতে পারে। তবে যাওয়ার আগে ফেরিঘাট ও নৌপরিষেবার সময়সূচি জেনে নেওয়া ভাল।

দূরে নয়, বেড়ানোর জন্য ভাবুন কাছাকাছিকেও

দীর্ঘ ছুটি না থাকলেও বেড়ানোর সুযোগ কমে যায় না। ইতিহাস দেখতে চাইলে ব্যারাকপুর বা চন্দননগর, প্রাচীন মন্দিরের টানে খড়দহ, আর একটু নিরিবিলি পরিবেশ চাইলে বুরুল বা সবুজ দ্বীপ—পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেওয়া যায় কলকাতার আশপাশের এই গন্তব্যগুলির মধ্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *