পাহাড়ের কোলে জলাধার, জঙ্গলে কৃষ্ণসার—কোথায় দু’দিনের শান্তির এই অফবিট ঠিকানা?

পাহাড়ঘেরা জলাধারের ধারে নিরিবিলি সময় কাটানো, প্রকৃতির মাঝে থাকা, পাখি দেখা থেকে কৃষ্ণসার মৃগ দর্শন—ওড়িশার ভঞ্জনগর হতে পারে দু’দিনের অন্যরকম ছুটির ঠিকানা।

ছুটিতে বেড়াতে গেলেই একের পর এক পর্যটনস্থল ঘুরে দেখতে হবে, এমন নয়। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি কাটাতে অনেকেই চান দু’দিন শুধু প্রকৃতির কাছে থাকতে। পাহাড়ের কোলে বসে জল দেখা, স্থানীয় খাবার খাওয়া, পাখির ডাক শোনা কিংবা জঙ্গলের পথে হাঁটা—এমন শান্তির ঠিকানাই খুঁজলে ওড়িশার গঞ্জাম জেলার ভঞ্জনগর নজরে রাখতে পারেন।

ভঞ্জনগরের অন্যতম আকর্ষণ বঞ্জনগর ড্যাম ও জলাধার। পাহাড়ঘেরা এই জলাধারের পরিবেশ বিশেষ করে শীতকালে মন টানে। জলাধারের ধারে রয়েছে সরকারি বঞ্জনগর ড্যাম নেচার ক্যাম্প, যেখানে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ রয়েছে। ওড়িশা পর্যটনের সরকারি তালিকাতেও বঞ্জনগর ড্যাম নেচার ক্যাম্প রয়েছে।

সকাল-সন্ধ্যায় জলাধারের পাড়ে হাঁটা, পাখি দেখা কিংবা নিঃশব্দে পাহাড়-জলের দৃশ্য উপভোগ—ছোট ছুটির জন্য জায়গাটি বেশ উপযোগী। শীতের মরসুমে জলাধার ঘিরে পিকনিকের ভিড়ও দেখা যায়।

শুধু জলাধার নয়

ভঞ্জনগর থেকে আশপাশের আরও কয়েকটি জায়গা ঘুরে নেওয়া যায়। রয়েছে বিজু পট্টনায়ক পার্ক, প্ল্যান্ট রিসার্চ সেন্টার এবং বেলেশ্বর মন্দির। প্রকৃতিপ্রেমীরা চাইলে স্থানীয় জঙ্গল ও আশপাশের এলাকায় সময় কাটাতে পারেন।

আর একটু বন্য প্রকৃতির স্বাদ পেতে চাইলে যেতে পারেন ভেটনাই-বালিপদর অঞ্চলে। এই তৃণভূমি কৃষ্ণসার মৃগের জন্য পরিচিত। ওড়িশা ইকোট্যুরিজমের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, গঞ্জামের এই অঞ্চলে কৃষ্ণসারের বড় দল দেখা যায়।

অ্যাডভেঞ্চারের নেশা থাকলে ভঞ্জনগর থেকে জঙ্গল সাফারির ব্যবস্থাও রয়েছে। সরকারি ইকোট্যুরিজমের তালিকায় ভঞ্জনগরকে কেন্দ্র করে Eastern Ghats Nature Trail Safari-র উল্লেখ রয়েছে।

কোথায় থাকবেন?

প্রকৃতির মধ্যে থাকার জন্য সরকারি নেচার ক্যাম্পই হতে পারে আকর্ষণের অন্যতম অংশ। Bhanjanagar Dam Nature Camp-এর পাশাপাশি গঞ্জাম অঞ্চলে Chermaria Nature Camp এবং Saluapali Blackbuck Nature Camp-ও রয়েছে।

তাই দু’দিনের সফরে জলাধারের ধারে থাকা, সকালে প্রকৃতির মধ্যে হাঁটা এবং পরের দিন কৃষ্ণসার দর্শন—এমন একটি স্বচ্ছন্দ পরিকল্পনা করা যায়।

কীভাবে যাবেন?

ট্রেনে: কলকাতা থেকে প্রথমে ব্রহ্মপুর (Berhampur) যেতে পারেন। সেখান থেকে সড়কপথে ভঞ্জনগর। বিকল্প হিসেবে বালুগাঁও স্টেশনে নেমেও সড়কপথে ভঞ্জনগর যাওয়া যায়।

সড়কপথে: কলকাতা থেকে খড়্গপুর, বালেশ্বর, ভদ্রক, কটক ও খুরদা হয়ে ভঞ্জনগরের দিকে যেতে হয়। দীর্ঘ যাত্রা হওয়ায় পথে ভদ্রক বা কটকে রাত কাটিয়ে পরের দিন এগোনো যায়। সময় হাতে থাকলে বালেশ্বর হয়ে যাওয়ার পথে চাঁদিপুর ঘুরে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

অর্থাৎ, বড় শহরের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে শুধু পাহাড়, জল, জঙ্গল আর বন্যপ্রকৃতির সঙ্গ চাইলে ভঞ্জনগর হতে পারে দু’দিনের ছুটির এক অন্যরকম ঠিকানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *