ভ্রামণিকদের ভিন্ন স্বাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কাজ করছে ট্র্যাভেলিজ্‌ম

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: বাঙালি অথচ ভ্রমণ-পাগল নয়, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বলতে কোথাও একটু গর্বও হয় যে গোটা দেশের ভ্রমণশিল্পটা কার্যত বাঙালিদের ওপরেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাই করোনাকালে দেশের বাকি রাজ্যের পর্যটনশিল্প যখন ধুঁকতে বসেছে, তখন বাংলার পর্যটন বসে থাকেনি, কড়াকড়ি লকডাউনের সময়টুকু ছাড়া।

ভ্রমণ মানুষের মনকে উদার করে। ভ্রমণের মধ্যে দিয়েই আমাদের এক ধরনের শিক্ষালাভও হয়। অন্যান্য অঞ্চলের, অন্যান্য ভাষাভাষীর, অন্যান্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে মিশতে পারি আমরা। সংক্ষিপ্ত ভাবে বলতে গেলে ভ্রমণই মানুষ চেনায়।

দার্জিলিঙের কাছে রঙ্গিতের ধারে বিজনবাড়ির রিসর্ট।

কিন্তু সবার পক্ষে সব সময়ে ভ্রমণে বেরোনো সম্ভব হয় না, ষোলো আনা ইচ্ছে থাকলেও। আর্থিক সমস্যা যেমন থাকতে পারে, তেমনই থাকতে পারে সঠিক ভাবে পরিকল্পনা না করে উঠতে পারা। আবার অনেকেরই চিন্তা থাকতে পারে নিরাপত্তা নিয়ে।

কিন্তু ভ্রমণ বিশেষজ্ঞ শ্রয়ণ সেন মনে করেন, ভ্রমণের মতো সুন্দর অভিজ্ঞতাটা থেকে কোনো মানুষেরই বঞ্চিত হওয়ার উচিত নয়। তাই সাধারণ মানুষকে ভ্রমণের নতুন স্বাদ দিতে, একটি ভ্রমণ সংস্থা চালু করেছেন তিনি – ‘TRAVELISM- Travel is our Religion।’ এই প্রসঙ্গে শ্রয়ণ বলেন, “কারণ আমরা মনে করি, ভ্রমণও একটা ধর্ম।”

পূর্ব বর্ধমানের সিঙ্গি গ্রামের একটি হোমস্টে থেকে।

Travelism কিন্তু বাঁধা গতের ট্র্যাভেল এজেন্সি নয়। সংস্থার সাফ কথা, “অত দিন, অত রাতের প্যাকেজভিত্তিক ভ্রমণ করানোর পরিকল্পনা আপাতত আমাদের নেই। আমরা ভ্রমণপিপাসুদের ভ্রমণের ভিন্ন স্বাদ দিতে চাই। আমরা সন্ধান দিতে চাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সুন্দর সুন্দর স্থানের, নানা ‘অফবিট ডেস্টিনেশন’-এর, যেখানে রাত্রিবাস করে এক ভিন্ন স্বাদ পাবেন ভ্রামণিকরা।”

পর্যটক তথা টুরিস্ট নয়, মানুষ যাতে ভ্রামণিক তথা ট্র্যাভেলার হয়ে ওঠেন, সেটাই ট্র্যাভেলিজ্‌মের লক্ষ্য। আরও একটি উদ্দেশ্য রয়েছে তাদের। একা মহিলা (Solo Woman Traveller) ভ্রামণিকদের ক্ষেত্রে কিছু বাধাবিপত্তি থাকে। বিশেষ করে, নিরাপত্তার ব্যাপারটা বড়ো সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। সংস্থাটির উদ্দেশ্য এমন কিছু স্থানের সন্ধান দেওয়া যেখানে এই ধরনের ভ্রামণিকরা নির্ভাবনায় যেতে পারেন এবং অন্য ধরনের অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকতে পারেন।

কেরলের ভারকালায় একটি রিসর্ট থেকে সমুদ্রদর্শন।

এতে অবশ্য কোনো বাড়তি অর্থ ব্যয় করার ব্যাপার নেই, এমনই দাবি করছে ট্র্যাভেলিজ্‌ম। শুধুমাত্র ট্র্যাভেলিজ্‌মের অতিথি হিসেবে ভ্রামণিকরা সেই সব স্থানে যাবেন আর সেই কারণে ওই সব স্থানে রাত্রিবাসের অভিজ্ঞতাটা অত্যন্ত মধুর হওয়ারও গ্যারান্টি দিচ্ছে তারা।

পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পাহাড় এবং ডুয়ার্সের বিভিন্ন অফবিট স্থানের সন্ধান দেওয়ার পাশাপাশি কেরল, কর্নাটক এবং তামিলনাড়ুর দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছে ট্র্যাভেলিজ্‌ম। এই প্রসঙ্গেই শ্রয়ণ বলেন, “কাশ্মীর, হিমাচল বা উত্তরাখণ্ডকে আমরা যত ভালো করে চিনি, কেরল, তামিলনাড়ু, কর্নাটককে অত ভালো করে অনেকেই চিনি না। ভ্রামণিকরা দক্ষিণ কেরল ভ্রমণ করে ফিরে আসেন, অথচ উত্তর কেরলও ভ্রমণ-বৈচিত্র্যে অনন্য। একই ভাবে কর্নাটকেও বাঙালি ভ্রামণিকদের বিশেষ পা পড়ে না। আমাদের উদ্দেশ্য শুধু উত্তর ভারতই নয়, মানুষ দক্ষিণ ভারতকেও সমান ভাবে চিনুক।”

কেরলের মুন্নারের একটি হোটেল থেকে আশেপাশের দৃশ্যপট।

করোনার দাপট কমলে মহারাষ্ট্র পর্যটনের দিকেও বিশেষ ভাবে নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শ্রয়ণ। এর পাশাপাশি অবশ্য হিমাচল প্রদেশ বা উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন জায়গার সন্ধান দেওয়ার প্রয়াস জারি থাকবে ট্র্যাভেলিজ্‌মের।

একটি বিশেষ মোটো নিয়ে ট্রাভেলিজ্‌ম কাজ করছে। এই ব্যাপারে ভ্রামণিকদের উদ্দেশে শ্রয়ণ বলেন, “বেড়াবেন আপনি, ভ্রমণের পরিকল্পনাও করবেন আপনি, টাকাও দেবেন আপনিই। আমরা শুধু রয়েছি আপনাকে আপনার পরিকল্পনায় একটু সাহায্য করে দেওয়ার জন্য। আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে যাতে সহজে পৌঁছোতে পারেন, সে দিকেই খেয়াল রাখব আমরা। কারণ, আমরা একই ধর্মে আবদ্ধ – TRAVELISM।”

দার্জিলিং পাহাড়ের সিটং থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা।

ট্র্যাভেলিজ্‌মের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এই নম্বরে – ৮২৭৬০০৮১৮৯ অথবা ৯৯০৩৭৬৩২৯৬। লাইক করতে পারেন তাদের ফেসবুক পেজটি https://www.facebook.com/travelshrayan।

আরও পড়তে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published.