Browsing Tag:উত্তরকাশী

a-visit-to-garhwal-part-5-to-jankichatti-via-barkot
tanmoy bhattacharya
তন্ময় ভট্টাচার্য

উত্তরকাশী থেকে বেরিয়ে একটু দ্রুত এগোতে লাগলাম। কিন্তু ধরাসু বেন্ডে এসে আবার দাঁড়িয়ে পড়তে হল। সামনে গাড়ির লাইন জানান দিল ধস নেমেছে। তবে খুব বড়োসড়ো নয়। ঘন্টা খানেকের অপেক্ষা। ধস পরিষ্কার হতে আবার যাত্রা। গাড়ি ধরাসু বেন্ড পেরিয়ে এ বার নতুন রাস্তা নিল। ফেলে আসা টিহরীর দিকে না গিয়ে ডান দিকে ঘুরে চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে গাড়ি চলতে লাগল। সাধারণ পার্বত্য পথ। বিশেষ কিছু দেখার নেই। পথে শিবের মন্দির, গুম্ফা পেলাম। ব্যাস, আর কিছু বলার নেই। ঘণ্টা দুয়েক চলার পর পেয়ে গেলাম বারকোট বেন্ড। বারকোট শহর আমাদের সামনে আসবে যখন আমরা মুসৌরির দিকে যাব। কিন্তু আমাদের যাত্রা ডান দিকের পথে, গন্তব্য যমুনোত্রী। তাই ফেরার পথে বারকোট শহরকে পাব।

আরও পড়ুন গাড়োয়ালের অলিগলিতে / প্রথম পর্ব : ধনৌলটি ছুঁয়ে নিউ টিহরী

এই বেন্ডে আমাদের আজকের ঠিকানা হোটেল আদিত্য প্যালেস। প্যালেস শুনে চমকে যাবেন না। ভাড়া মাত্র ৭০০ টাকা। দোতলা আবাস। তবে ওপরের ঘরগুলো বেশ সুন্দর। নীচের গুলো একটু ছোটো। দরাদরি করে ৫০০ করা হল। দূর থেকে আসা তীর্থযাত্রীরা বারকোটে এক রাত থেকে পরের দিন ভোরে উঠে জানকীচট্টি যান। সেখান থেকে ট্রেক করে যমুনোত্রী মন্দিরে পূজা দিয়ে আবার রাতের আগেই বারকোটে ফিরে আসেন। এর ফলে জানকীচট্টির হিমশীতল পরিবেশ থেকে বাঁচা যায়।  এখানে এই বারকোটে একটু দূরে যমুনার পারে তাঁবুতে থাকাই যেত। সেখান থেকে যমুনোত্রী হিমবাহের পাহাড়ের দেখা মেলে। কিন্তু পকেট অনুমতি দেয়নি।

আরও পড়ুন গাড়োয়ালের অলিগলিতে / দ্বিতীয় পর্ব : টিহরী থেকে উত্তরকাশী হয়ে হরসিল

এই বারকোটেই আমাদের আধার কার্ড দেখিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হল। তবে দুপুরের খাওয়ার পরে। ছবিও তুলে রেখে দিল। একটি অনুমতিপত্র জাতীয় কাগজ প্রত্যেকের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হল। যদিও সেই কাগজ কোথাও কাজে লাগেনি। তবে দেখানোর দরকার পড়লে বা বিপদে কাজে লাগে। এখানে ঠান্ডা অনেক কম। উচ্চতাও অনেক কমে গিয়েছে। কাল প্রায় ৩০০০ ফুট গাড়িতে উঠব, তার পর হাঁটা। তবে দুপুরের বৃষ্টি আমাদের পিছু ছাড়েননি। বৃষ্টি হয়ে একটু ঠান্ডা বাড়িয়ে দিল। না হলে গায়ে গরমজামা ছাড়াই চলছিল।

shani tample
শনি মন্দির, জানকীচটি।

পরের দিন ভোর ৫টাতেই বেরিয়ে পড়লাম। একটু এগিয়ে দু’টো বাঁক নিতেই চমক। যমুনোত্রী হিমবাহের সঙ্গে আরও নাম-না-জানা দু-এক জন হাজির রূপের ডালি নিয়ে। এ যেন শেষ না হওয়া রূপকথা। ঘণ্টা তিন গাড়িতে থাকার পর আবার ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে পৌঁছে গেলাম হনুমানচট্টি। এখানেও অনেকে থাকেন। এখান থেকেই হেঁটে যান। জিএমভিএনের টুরিস্ট বাংলো এখানেও আছে। তবে আমরা শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যাব। একটু চা খেয়ে পুলিশের তল্লাশি পেরিয়ে আমরা এসে গেলাম জানকীচট্টি। এটা যমুনোত্রীর বেস ক্যাম্প। এখানেও আমাদের জিএমভিএন টুরিস্ট বাংলোয় বুকিং। ম্যানেজার নেই। একজন কেয়ারটেকার। একটু বয়স্ক। আমাদের ন’টা ঘর দেখাতে দেখাতে হাঁপিয়ে উঠলেন। তায় আমাদের দু’টো ঘর পছন্দ না হওয়ায় ইকো থেকে ডিলাক্স রুমে পরিবর্তন করে নিলাম। বাকি ঘরগুলি ১২টার মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে বলে আশ্বাস ছিল। কিন্তু ঠিক হতে হতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল।

manasa temple
মনসা মন্দির।

এই প্রথম আমাদের ঘর থেকেই দেখা দিলেন যমুনোত্রী হিমবাহ, একধারে কুলকুল করে বয়ে চলেছে যমুনা নদী। স্বর্গীয় অনুভুতি, কিন্তু ঘর অপরিচ্ছন্ন। তবে খাবারদাবার ভালোই। যাঁদের যমুনোত্রী যাওয়ার, তাঁরা চটপট আলুর পরোটা খেয়ে ঘোড়ার দরদস্তুর করে বেরিয়ে পড়ল। তাঁরা সংখ্যায় সাত। ঘোড়াপ্রতি যাওয়া-আসা নিয়ে ১০০০ টাকা। ডুলি চেপে যাওয়ার ইচ্ছা হয়েছিল আমার স্ত্রীর। কিন্তু তারা ৮০০০ টাকা চেয়ে বসায় তিনি রণে ভঙ্গ দেন। স্বাভাবিক ভাবেই মনটা খারাপ। আমরা জনা ছয়েক টিফিন করে বেরিয়ে পড়লাম জানকীচট্টি ঘুরে দেখতে। মন্দিরের দূরত্ব ৫ কিমি। কিন্তু রাস্তা খাড়াই। তাই ও দিকে না গিয়ে টুরিস্ট বাংলোর দায়িত্বে থাকা ভদ্রলোকের কথামতো চললাম সরস্বতী ও শিবমন্দির দেখতে। চড়াই এড়িয়ে যেতে গেলে অনেকটা ঘুরে যেতে হয়। তাই চড়াই পথই ধরলাম। আর কষ্ট করলাম বলে কেষ্টও মিলল, পথের সৌন্দর্য। প্রায় দু’ কিমি হেঁটে মন্দিরে পৌঁছোলাম। মা যমুনা কার্তিক পূর্ণিমার পরেই নেমে আসেন এই মন্দিরে। মন্দিরে একটি উষ্ণ প্রস্রবণ আছে। অনেকেই সেখানে প্রসাদ ফেলে ফুটিয়ে নেন। বোতলে করে জল নিয়ে আসেনয়। তার পর মন্দিরে পূজা দেন। মায়ের শীতকালীন আবাসে আমরা অবশ্য সাধারণ ভাবেই সরস্বতী মায়ের ও শিবের পূজা দিলাম। যমুনার ঠান্ডা জলের ছিটে আর গুরুগম্ভীর মন্ত্রোচ্চারণ পরিবেশটা বেশ প্রাণময় করে তুলল। এই মন্দিরের ঠিক মাথায় যমুনোত্রী হিমবাহ। আর পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে যমুনা নদী। হু হু করে বইছে ঠান্ডা হাওয়া।

snow covered mountain from janakichati
তুষারাবৃত পর্বত, জানকীচটি থেকে।

এর পর আমরা চললাম গাড়োয়ালী গ্রাম দেখতে। গ্রামের ভেতর দিয়ে রাস্তা। অনেকটা হেঁটে পৌঁছে গেলাম শনি-নাগদেবতা মন্দিরে। মূল মন্দিরটি চারশো বছরের পুরনো। পাথর ও কাঠ দিয়ে তৈরি। সংকীর্ণ সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। ভেতরে আলো খুব কম। মন্দিরের নীচে রামলীলার আয়োজন হচ্ছে। একটু দূরেই নতুন মন্দির তৈরি হয়েছে। ভেতরে ঢোকার জায়গা দেখতে পেলাম না। বাইরে থেকে প্রণাম সারলাম। শুনলাম শনিদেবতা এখন বদরী মহারাজের ওখানে গেছেন। নাগদেবতা আছেন। মন্দিরের পেছনেই তুষারশুভ্র পর্বতের উপস্থিতি। দর্শন শেষে ফিরে এলাম। কষ্ট কম হল, রাস্তা উৎরাই বলে। নীচে একটা ঝুলন্ত সেতু, যমুনা পেরোনোর ব্যবস্থা। এখান থেকেই শুর যমুনা-দূষণের।

আরও পড়ুন গাড়োয়ালের অলিগলিতে / তৃতীয় পর্ব : গঙ্গোত্রীতে এক রাত

ক্লান্ত পদযুগলকে টেনে নিয়ে বাংলোয় ফিরে দেখি ঘর বসবাসযোগ্য হতে দেরি আছে। অগত্যা সামনের উঠোনে বসেই হিমবাহ দর্শন। এত কাছ থেকে হিমবাহ অনেকেই দেখেননি। এখন একটু ঠান্ডা কম, তাই পাহাড়ের গায়ের বরফ গলে যাচ্ছে। যাঁরা যমুনোত্রী মন্দির দর্শনে গিয়েছিলেন তাঁরাও ধীরে ধীরে ঘোড়ায় চেপে ফিরে এলেন। ততক্ষণে আমাদের দুপুরের খাওয়া সারা।

আরও পড়ুন গাড়োয়ালের অলিগলিতে / চতুর্থ পর্ব : বারসুতে রাত কাটিয়ে বারকোটের পথে

সব ঘর পরিষ্কার হতে হতে বিকেল হয়ে গেল। বিকেলে সবাই যে যার ঘরে ব্যাগ রেখে একটি ঘরে মেয়েরা ও একটি ঘরে ছেলেরা জমায়েত হল। গল্প, তাস সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা। আমি এক বার ওই ঠান্ডায় বাইরে এসেছিলাম। চাঁদের আলোয় হিমবাহের অপার সৌন্দর্যের রূপ আমার সামনে ধরা দিয়েছিল। যমুনার কুলকুল শব্দ এখন যেন গর্জন। শুনলাম কয়েক মাস আগে মেঘফাটা বৃষ্টি ও সঙ্গে হড়কা বানের কবলে পড়েছিল এই অঞ্চল। এই বাংলো বরাতজোরে বেঁচে গিয়েছে। হারিয়ে গিয়েছে সামনের একটি হোটেল। আজও পারদ শূন্যের নীচে। তাই বেশি দেরি না করে শুয়ে পড়াই মঙ্গল। কাল ফিরব মুসৌরি। অনেক পথ। (চলবে)

ছবি লেখক

0 Comments
Share
a-visit-to-garhwal-part-4-on-the-way-to-barkot
tanmoy bhattacharya
তন্ময় ভট্টাচার্য

ইচ্ছা ছিল বা বলা যায় প্রায় নিশ্চিত ছিলাম বরফ পড়বে, কিন্তু বিধি বাম। গঙ্গোত্রীতেও তুষারপাত হল না। তবে সুগতদা চিন্তিত ছিলেন যে বরফ পড়লে ঠান্ডায় আমাদের আরও কষ্ট হবে। সঙ্গে প্রাকৃতিক যে দৃশ্য আমরা দু’ চোখ ভরে গিলছি, কিছুই পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমার খুব ইচ্ছা ছিল অন্তত তুষারপাতের অভিজ্ঞতাটা হয়ে যাক। কিন্তু হল না। ব্যাজার মুখে গাড়িতে চড়লাম। একই রাস্তায় নেমে আসতে হবে ভাটোয়ারি পেরিয়ে গাংনানি অবধি। গানানির একটু আগে ডান দিকে রাস্তা উঠে যাবে। সেখান থেকে ১০ কিলোমিটার মতো গেলেই বারসু গ্রাম। বারসু গ্রাম হল দায়রা বা দরিয়া বুগিয়ালের বেস ক্যাম্প। এখানে সবাই ট্রেক করতেই আসে। কিন্তু আমাদের দলে সেই লোক হাতে গোনা চার-পাঁচ। তাই ট্রেক নয়, আমরা যাচ্ছি সৌন্দর্য আস্বাদন করতে।

আরও পড়ুন গাড়োয়ালের অলিগলিতে / প্রথম পর্ব : ধনৌলটি ছুঁয়ে নিউ টিহরী

গাংনানির পর বারসুর রাস্তা ধরতেই চোখের সামনে হই হই করে চলে এল একের পর এক সাদা শৃঙ্গ। কেউ কেউ নাম করা যেমন কেদার, কেউ বা অনামী। সদ্য গতকাল রাতে বরফ পড়ে সাদা হয়ে সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। আমাদের গাড়ির গতিও তাই রুদ্ধ হয়ে গেল। আজ মোট যাওয়ার ছিল ৪০ কিমি মতো। তার শেষ ১০ কিমি পথে চলল আমাদের ছবি তোলার ধুম। তাই সেই পথ পাড়ি দিতে সময় লেগে গেল প্রায় এক ঘণ্টা। লাগবেই না কেন। এক এক বাঁকে এক এক শুভ্র হিমশীতল চূড়া আমাদের অভ্যর্থনা করছে যে। না নেমে উপায় কী? আমাদের গাড়ি হিমাচল থেকে আনানো হয়েছিল। স্থানীয় নন। তবে চালক আমাদের খুবই পরিচিত – যোগরাজ ভাই। গাড়ি দাঁড় করিয়ে ছবি তোলাতে তিনি তো অখুশি ননই, বরং যেখানে যেমন খুশি দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে আমাদের সাহায্য করেছেন। হয়তো দ্রষ্টব্য স্থান আমাদের খুঁজে নিতে হয়েছে, কিন্তু কোনও সময় তাড়াহুড়ো করেননি। ফলে ক্যামেরা ভরে ভরে ছবি এসেছে বাড়িতে।

barsu
বারসু।

আমরা পৌঁছোলাম জিএমভিএন-এর টুরিস্ট বাংলোয়। এই প্রথম গাড়ি একদম বাংলোর সামনে আমাদের পৌঁছে দিতে পারল। অন্যগুলির মতো এরও ঘর থেকে কোনো প্রাকৃতিক দৃশ্য সে ভাবে নেই। তবে ঘর পরিষ্কার যতই পুরোনো হোক। রান্নাও ভালো। বিপদ হতে পারত। অন্য সব টুরিস্ট বাংলোর মতো এখানে আমাদের আগমনের অগ্রিম খবর কর্তৃপক্ষ এঁদের পাঠায়নি। ফলে আমাদের আগে কোনো ট্রেকার দল এসে গেলে আমাদের ঘর তাদের হয়ে যেত। এখানে মূল আবাসে ৭টি ঘর ও সুন্দর তাঁবুসদৃশ দু’টি ঘর নেওয়া হয়েছে। তাঁবুগুলি থেকে সরাসরি বরফচূড়া দেখা যায়।

আসার পথে ভাটোয়ারির আগে পেটভরে প্রাতরাশ সেরে নিয়েছিলাম। আমাদের লক্ষ্য দু’টো – যেখানে যা খাবার পাওয়া যাবে, পেট ভরে খেয়ে নাও, আর যেখানে প্রথম তুষারশৃঙ্গ দেখা যাবে, ছবি তুলে চোখ ভরে দেখে নাও। দু’ ক্ষেত্রেই পরে আর নাও পেতে পারো। আজ সেই মন্ত্র কাজে দিল। এদের দুপুরের খাবার পরিবেশনে একটু দেরি হল। ১৯ জনের দল যে এখানে আসবে তার জন্য তারা প্রস্তুত ছিল না। তবে মানুষজন খুব ভালো। যথাসাধ্য সাহায্য করা এদের ধর্ম। সুন্দর প্রকৃতির মানুষ সুন্দর।

আরও পড়ুন গাড়োয়ালের অলিগলিতে / দ্বিতীয় পর্ব : টিহরী থেকে উত্তরকাশী হয়ে হরসিল

আশেপাশে জঙ্গল আছে। একটু দূরে উঁচুতে ভোলানাথের মন্দির। দলের কয়েক জন সেখান থেকে ঘুরেও এলেন। আমরা দোতলার ছাদে দাঁড়িয়ে দূরের পাহাড় দেখতে লাগলাম আর রোদ গায়ে লাগাতে লাগলাম। এখানে তাপমাত্রা দশের আশেপাশে থাকলেও গঙ্গোত্রী হরসিলের পরে এখানে সে ভাবে আর ঠান্ডা লাগছিল না। ফলে লেপের তলায় ঢুকতে সবার আপত্তি। বিকেলে চায়ের আসরে শুনলাম এখানে অনেক ছায়াছবির শুটিং হয়েছে। তবে বেশির ভাগ নেপালি ছবি। নেপালি ছবিতে জায়গাটা নেপাল বলে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্যান্টিনের ইনচার্জ আমাদের এ সব গল্প শোনাচ্ছিলেন। এখন অবধি যেখানে যেখানে গিয়েছি, মনে হয় সর্বত্রই শুটিং করা যায়। কেন এখনও হলিউড এখানে পদার্পণ করেনি সেটাই বিস্ময়ের।

বিকেলে আকাশ মেঘাছন্ন হয়ে পড়ল। ঠান্ডাও শূন্যের দিকে যেতে লাগল রাত বাড়তেই। তবে কি বরফ পরবে? এর মধ্যে শুনতে পেলাম সব থেকে দুঃখের খবর। আমাদের দলের এক সদস্যের পরিচিত কয়েক জন আজ গঙ্গোত্রী গিয়েছেন। গিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু থাকতে পারেননি। কারণ? তুষারপাত। আমরা গঙ্গোত্রী থেকে বেরোনোর কয়েক ঘণ্টা পরেই শুরু হয়েছে তুষারপাত। সেনাবাহিনী সব গাড়ি কম করে দশ কিমি নীচে নামিয়ে দিয়েছেন। হায় কপাল। কয়েক ঘণ্টার তফাতে আমি জীবনের প্রথম তুষারপাত মিস করলাম। ভাগ্যে ছিল না, বা অন্য ভাবে ভাগ্য ভালো ছিল। কারণ বরফে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের নামা মুশকিল হয়ে যেত, থাকা মুশকিল হত। এর পর দুঃখী মন নিয়েই রাতের নিদ্রা।

another view frombarsu
বারসু থেকে আরও।

সকালে মন ভালো হয়ে গেল। কালকের বরফঢাকা পাহাড়গুলোর মাথায় চেপেছে আরও বরফ, আর ন্যাড়া পাহাড়গুলো রাতের বরফপাতে একদম সাদা। যেন আইসক্রিম। খুশির শেষ নেই। ক্যামেরা বার করে ছবি তুলতে তুলতে বুঝতে পারলাম এদের দূরত্ব খুব বেশি নয়। এমনকি বরফ শেষ যেখানে পড়েছে তার থেকে এই বাড়ির দূরত্ব সামান্যই। অর্থাৎ সেই হরসিলের মতো আবার কাছে এসেও এল না।

আরও পড়ুন গাড়োয়ালের অলিগলিতে / তৃতীয় পর্ব : গঙ্গোত্রীতে এক রাত

আমরা বেড়িয়ে পড়লাম সকাল সকাল। আজ উত্তরকাশী হয়ে বারকোট যাব। উত্তরকাশীতে খানিকক্ষণ কাটাব, তা ছাড়া আজকের রাস্তাও অনেকটা। তাই ৭টায় বেরিয়ে পড়া ছাড়া উপায় ছিল না। তখন সবে পাহাড়ের মাথায় ধীরে ধীরে সূর্যের আলো এসে পৌঁছেছে। বরফঢাকা পাহাড়গুলি যেন ঝলসে উঠছে। ঘোড়ায় চড়ে দিনের কাজে বেরিয়ে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। কালকে রাতে পরিচিত হওয়া এক বাঙালি ভদ্রলোক তাঁর গাইড নিয়ে দরিয়া বুগিয়াল চলে গেলেন। আমরা গাংনানি হয়ে উত্তরকাশী নেমে আসতে লাগলাম।

উত্তরকাশীতে আবার

একই রাস্তায় ফিরতে হবে বলে উত্তরকাশীর বিশ্বনাথ দর্শন আমরা ফেরার পথে করব বলে ঠিক করে রেখেছিলাম। সেইমতো ৯টা নাগাদ এখানে পৌঁছে মন্দির দর্শনে গেলাম। মন্দিরে শিব ও শক্তি। আগে শক্তির পূজা করে চলে গেলাম শিবের মন্দিরে, পাশাপাশি। বলা হয় গঙ্গার ধারা যেখানে উত্তরবাহিনী, অর্থাৎ সাধারণ নদীর তুলনায় একটু অন্যমুখী, সেই সব পীঠস্থান কাশী নামে পরিচিত। যেমন বারাণসী, উত্তরকাশী, গুপ্তকাশী প্রভৃতি। প্রচুর সন্ন্যাসী এই উত্তরকাশীতে তপশ্চর্যা করেন। এখানে ভাগীরথী তেজি কিন্তু জলের ধারা এখন সরু। মন্দিরে আমাদের পূজা ভালো ভাবেই সম্পন্ন হল। মনে শান্তি এল। শিবের দর্শন না পাওয়া পর্যন্ত আমার মন খুঁতখুঁত করছিল। এখানে এসে যেন প্রায় সম্পূর্ণ। এর পর বাকি শুধু যমুনোত্রী। এখানে প্রাতরাশ সেরে শহর ঘুরে দেখতে লাগলাম। সব রকম আধুনিক সুবিধাযুক্ত এই পাহাড়ি শহর।গাড়ি এক প্রস্থ সারাই হয়ে এল। আমরা উঠে বসলাম, ধারাসু বেন্ড হয়ে চললাম বারকোটের পথে। (চলবে)

ছবি লেখক

 

0 Comments
Share
a-visit-to-garhwal-part-2-from-new-tehri-to-harsil-via-uttarkashi
tanmoy bhattacharya
তন্ময় ভট্টাচার্য
এ কঁহা আ গয়ে হম

ভোর ভোর বেরিয়ে পড়লাম। চিনিয়ালসর, ধরাসু বেন্ড হয়ে উত্তরকাশীর ‘হোটেল গঙ্গাশ্রয়’ আজ আমাদের গন্তব্য। কিন্তু গাড়ি গতি তুলবে কী করে? চিনিয়ালসরের রাস্তা ধরতেই তো স্বর্গে প্রবেশ। ধীরে ধীরে সূর্যদেবতার উদয়, ডান দিকে নীচে দিগন্তবিস্তৃত জলরাশি, দূরে গাড়োয়াল মণ্ডলের ভাসমান কটেজ। পাহাড়েঘেরা ভাগীরথীর পাখির চোখে দৃশ্যায়ন। পুব আকাশ রক্তিম। বাঁকে বাঁকে শিহরন। বার বার গাড়ি থামিয়ে ছবি তোলা আর চোখের আরাম। এ দিকে দেরি হয়ে গেলে উত্তরকাশীতে আমাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে সমস্যা হতে পারে। তাই একটা তাড়া ছিলই। না হলে এখানেই তো থেকে যাওয়া যায়। এ ভাবেই ধীরে ধীরে পৌঁছে গেলাম ধরাসু বেন্ড। এখানে রাস্তা দু’ ভাগ – একটা গিয়েছে বারকোট হয়ে যমুনেত্রী বা দেহরাদুন আর অন্যটি উত্তরকাশী হয়ে হরসিল এবং গঙ্গোত্রী। আমরা দ্বিতীয়টি তথা ডান দিকে উত্তরকাশীর রাস্তা ধরলাম। তার আগে সেরে নিলাম প্রাতরাশ।

আরও পড়ুন গাড়োয়ালের অলিগলিতে / প্রথম পর্ব : ধনৌলটি ছুঁয়ে নিউ টিহরী

bandarpuch from dharasu bend
ধরাসু বেন্ড থেকে বান্দরপুঁছ।

গাড়ি চলতে শুরু করতেই আবার থামাতে হল। ধরা দিলেন মাউন্ট বান্দরপুঁছ। একটা বাঁক পেরোতেই। বাঁদরের লেজের মতো বলে এঁর নাম বান্দরপুঁছ। তিনটি শিখর নিয়ে দাঁড়িয়ে। ইলেকট্রিক তারের বাধা টপকে মনের মতো ছবি হয়ত তোলা গেল না, কিন্তু চোখের আরাম ষোলো আনা। আবার গাড়ি এগিয়ে চলল। ঘণ্টা চারেক পরে উত্তরকাশী শহরে প্রবেশ। প্রথম এলাম কৈলাস আশ্রমে। এখানে পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান ছিল আমাদের। সাধুসন্তদের ‘ভাণ্ডারা’ প্রদান। কয়েক ঘণ্টার অনুষ্ঠান সমাধা করে অনেকে আশ্রমেই মধ্যাহ্নভোজ সেরে নিলেন। আশ্রমের পাশেই বয়ে চলেছে ভাগীরথী। গঙ্গাদর্শন করে পৌঁছে গেলাম প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে আমাদের আজকের আস্তানা ‘হোটেল গঙ্গাশ্রয়’-এ। ঘরপ্রতি ভাড়া ১২০০। হোটেলটি একদম নদীর ধারেই। নদী কিছুটা নিচু দিয়ে প্রবাহিত। ঘরের পাশে লনে দাঁড়ালেই দেখা যায় এঁকে বেঁকে নদী এসেই আবার পাহাড়ের বাঁকে মিলিয়ে গেল। কয়েক ধরনের মাছরাঙার দেখা পেলাম।

khedi falls
খেড়ি ঝরনা।

একটু বিশ্রাম নিয়েই চলে গেলাম কাছেই মনুষ্যসৃষ্ট খেড়ি ফলস দেখতে। এটা একটি উপ-জলধারা, যা ভাগীরথীতে এসে মিশেছে। জলপ্রপাতের পাশে তৈরি হয়েছে রামধনু। শেষ বিকেলে এখানে পৌঁছোনোর মজাই আলাদা। ফিরে এসে নামলাম নদীর বুকে। জল ভালো ঠান্ডা। একে তো বরফগলা, তায় এখানে তাপমাত্রা নামতে শুরু করেছে। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই ঠান্ডার দাপট। তাড়াতাড়ি রাতের আহার শেষ করেই সারা দিনের ক্লান্তি দূরে করতে বিছানায় আশ্রয় নিলাম। তবে তার আগে এক প্রস্থ গানের লড়াই খেলে নিতে অসুবিধা হল না। এই স্বর্গীয় ভুমিতে মন আনন্দে গুন গুন করে উঠবেই “এ কঁহা আ গয়ে হম, তেরে সাথ…।” কাল আমাদের স্বপ্নের গন্তব্য হরসিল।

river bhagirathi from uttarkashi hotel
উত্তরকাশী হোটেল থেকে ভাগীরথী।

উত্তরকাশীর ‘হোটেল গঙ্গাশ্রয়’ নিঃসন্দেহে ভালো। শহর থেকে একটু দূরে, কিন্তু নিরিবিলি। তবে খাবারের দাম নিয়ে দরাদরি আবশ্যক। না হলে বেশি দামে কম খাবার। এ ছাড়া এখানে একটা অঙ্কগত সমস্যা দেখছি – সরকারি বেসরকারি সর্বত্রই। হিসেবে ভুল করা – মোট ক’টা রুটি খেলাম, খাবারের বিল কম-বেশি করে ফেলা ইত্যাদি। তাই নজর রাখতে হচ্ছে।

হরসিলের পথে

কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করেই সক্কাল সক্কাল শয্যা ছাড়তে হল।৬টাতেই রওনা দিলাম হরসিলের পথে – রাজ কাপুরের স্বপ্নের হরসিল। উচ্চতা প্রায় ৮০০০ ফিট। এখানে আমাদের থাকার জায়গা জিএমভিএন-এর লজে।

গাড়ি চলছে, পাশে পাশে ভাগীরথীও। আগের দিন দেখা খেড়ি ফলসের একটু আগে উত্তরাখণ্ড পুলিশ প্রতিটি গাড়ির তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে। খেড়ি ফলস ছাড়িয়ে মানেরি বাঁধ পেরিয়ে চলতে লাগলাম। মানেরি বাঁধও সুন্দর, প্রায় টিহরীর দোসর। সাধারণের প্রবেশ নিষেধ। তবে আমাদের গ্রুপ ক্যাপ্টেনের ম্যানেজ করার একটা ‘স্কিলে’ আছে। তাতেই ভেতরে ঢোকার অনুমতি পেলাম, তবে ছবি তোলা নৈব নৈব চ। ভাটোয়ারিতে গাড়ির চাকা ঠিক করানো হল। এর পরে আর গাড়ির সারাই বা তেল ভরার আর কোনো দোকান পাওয়া যাবে না।

on way to harsil
হরসিলের পথে।

এই পথ যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে অপেক্ষা করে আছে। তাই প্রায়ই বাঁকে বাঁকে গাড়ি থামিয়ে ছবি তোলা আর সেই সৌন্দর্যের স্বাদ নেওয়া চলছে। তার ওপর বড়ো গাড়ি, গতি তুলনায় কম। তাই মাত্র ৬৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হরসিল পৌঁছোতেও কম করে চার ঘণ্টা লেগে গেল।

‘পাহাড়ি’ উইলসনের রাজ্যে

ভাগীরথী একটু ডান দিকে মোচড় নিয়ে এগিয়ে গিয়ে এই ভাবে একটা সুন্দর উপত্যকা বানিয়ে ফেলবে তা কল্পনা করতে পারিনি। সেনাবাহিনীর ক্যাম্প পেরিয়ে, ছোটো একটা নদীর ওপর দিয়ে এগিয়ে হরসিল গ্রামে প্রবেশ করা পর্যন্ত চারিদিকে বরফপড়া পাহাড়ের চূড়া দেখা যাচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু ভাগীরথী দেখতে আমাদের হরসিল জিএমভিএন-এর লজ অবধি যেতেই হত। মালপত্র বয়ে আনার জন্য কুলির ব্যবস্থা করে, ঘরের দাবি পেশ করে, আমাদের ঘরে মালপত্র ঢুকিয়ে ছুটলাম লজের লনে। সেখানে চমক। ঘরে বসে সব পাওয়া যাবে না। সামনের দিকের ঘরগুলি বা ওপরের ঘরগুলি থেকে কিছু দৃশ্য পাওয়া গেলেও বেশির ভাগ ঘরেই দৃশ্য নেই। তবে লনে কাচ দিয়ে ঘেরা কয়েকটি ঘর। সেখানে বসে আড্ডা ও ভাগীরথী দর্শন। সাথী হিমালয়ের কিছু বরফাবৃত চূড়া – বান্দরপুঞ্চ, শিবলিং, সুদর্শন – আরও কত! সব নাম কি ছাই জানি?

চূড়াগুলোতে একটু যেন কম কম বরফ। গলে গিয়েছে হয় তো। কিন্তু প্রকৃতিদেবী একটু বেলা বাড়তেই মেঘ এনে সেই খামতি মিটিয়ে দিতে লাগলেন। আমরা দূর থেকে সেই হোয়াইট ওয়াশ দেখতে লাগলাম। অনেকখানি জায়গা জুড়ে ভাগীরথী এঁকে বেঁকে, লজের সীমা চুম্বন করে, দূরের পাহাড়ে মিলিয়ে যাচ্ছে। স্রোত ভয়ানক বেশি, তবে জল কম। নদীর ধারে অসংখ্য নুড়িপাথর আর অগুনতি পাখির সমাহার। লালঝুঁটি থেকে সাধারণ বুনো পায়রা, উপস্থিত সবাই। কারণ? নদীর ধারে ভেসে আসা আপেল। এখানে আপেলের চাষ হয়। আর এ বছর আপেলের ফলন বেশ ভালো। লজের নিজস্ব গাছে আপেল পেড়ে খেতে আপত্তি নেই, কিন্তু গ্রামের মানুষের ফল পাড়া যায় না। বাজারে আপেলের দাম ২০ টাকা প্রতি কেজি। কল্পনা করা যায়?

bhagirathi at harsil
হরসিলে ভাগীরথী।

হরসিল বলিউডখ্যাত। গল্প শুনেছি রাজ কাপুর সাহেব হরসিলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বানিয়েছিলেন ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’র মতো সিনেমা। এর বেশির ভাগ শুটিং এখানেই। মন্দাকিনীর নামে একটা ঝরনাও আছে, কিন্তু খুঁজে পেতে একটু কষ্ট। রাজ কাপুর কেন মুগ্ধ হয়েছিলেন তা এসেই বুঝতে পারছি। চারিদিকে বরফসাদা পাহাড়ের মাঝে এঁকে বেঁকে চলে যাওয়া ভাগীরথী তৈরি করেছে এক মনোরম উপত্যকা, এই এত্ত উঁচুতে। আর সেই উপত্যকায় সার দিয়ে দাঁড়িয়ে আপেলগাছ।

এই হরসিলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘পাহাড়ি’ উইলসনের নাম। পুরো নাম, ফ্রেডরিক ই উইলসন। অ্যাডভেঞ্চার-প্রিয় উইলসন ১৮৫৭-এর সিপাহী বিদ্রোহের সময় ব্রিটিশ আর্মি ছেড়ে পালিয়ে এসে টিহরী মহারাজের আশ্রয় চান। কিন্তু ব্রিটিশবন্ধু মহারাজ তাঁকে আশ্রয় না দেওয়ায় তিনি পালিয়ে আসেন হিমালয়ের এই দুর্গম জায়গায়, লুকিয়ে থাকেন এই হরসিলে। বিয়ে করেন গুলাবি নামে এক পাহাড়ি-দুহিতাকে। তার পর পাহাড়ি মানুষদের আপেলের চাষের উপায় বাতলে ও গাছের গুঁড়ির ব্যবসা করে ধীরে ধীরে নিজেই হয়ে যান ‘রাজা’। লোকমুখে আজও তাঁর কাহিনি ঘোরে।

নদীতে নামা যেত। তবে সাহস হল না, একে নদী খরস্রোতা, তার ওপর আমার ‘ব্যালেন্স’ খুব একটা ভালো না। তবে চোখ ভরে দেখলাম প্রকৃতি। বেলা বাড়তেই হু হু করে হাওয়ার দাপট। মেঘে ভরে গেল আকাশ। মাঝারি বৃষ্টি শুরু হল। আশা জাগল যদি বরফ পড়ে। এখানে প্রকৃতি এখন এ রকমই। সকালে পরিষ্কার, বেলা বাড়তে থাকলে মেঘ এসে হাজির হবে। তার পর বৃষ্টি হয়ে আবার রাতের দিকে পরিষ্কার। স্থানীয়রা বললেন, আজ একটু বেশি সময় বৃষ্টি হল। আশেপাশের সবুজ পাহাড় স্নান করে আরও সুন্দর হল।

a view from harsil
হরসিল থেকে।

আর চোখের সামনে দেখতে পেলাম সামনের উচ্চ শৃঙ্গগুলি আরও সাদা। অনেক নীচে পর্যন্ত বরফ পড়েছে। চাঁদ উঠল। তবে মাথার ওপরে। লজের আলোয় আলাদা করে খুব বেশি না হলেও সামান্য সামান্য দেখা যেতে লাগল। কলকাতার সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা আসার আগে আমাকে বলে দিয়েছিল যে এই সময় পশ্চিমী ঝঞ্জার কারণে হরসিল বা গঙ্গোত্রীর মতো উঁচু জায়গায় বৃষ্টি তো পড়বেই, বরফও পড়তে পারে। তাই আশায় বুক বাঁধলেও শেষমেশ হতাশই হলাম। রাতের ঠান্ডা ভয়ংকর। শূন্যের কাছাকাছি। বাঁচোয়া যে রুমহিটার চলছিল, বিদ্যুতেরও সমস্যা হয়নি।

আমার হরসিলে দু’ রাত থাকার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনায় এক রাত। ঠান্ডায় কষ্ট করে এক রাত কাটিয়ে দেওয়া যায় শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দৃশ্যের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এখানে প্রকৃতি যেন একটু বেশি সুন্দর সাজে। বৃষ্টি না হলে হয়তো গ্রাম ঘুরে দেখতাম। তবে পরের দিন সকালে উঠে বেরিয়ে পড়ার তাড়ার মধ্যেও সকালের পরিষ্কার আকাশে আরও কয়েক বার উপত্যকার সৌন্দর্য অবলোকন করতে ভুলিনি। আবার কবে আসব কে জানে আমার এই স্বপ্নপুরীতে। (চলবে)

ছবি: লেখক

0 Comments
Share