রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনের পাঁচ ঐতিহ্যবাহী ভবনের দরজা এবার খুলতে চলেছে পর্যটকদের জন্য। উদয়ন, কোণার্ক, শ্যামলী, পুনশ্চ এবং উদীচী—রবীন্দ্রভবন চত্বরের এই পাঁচ ‘হেরিটেজ’ বাড়ির ভিতরে ঢুকে ইতিহাসকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ মিলতে পারে দুর্গাপুজোর পরেই। যদিও চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা করেনি বিশ্বভারতী।
২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছিল শান্তিনিকেতন। তার পর পর্যটন আকর্ষণ আরও বাড়াতে ইতিমধ্যেই সপ্তাহে ছয় দিন ‘হেরিটেজ ওয়াক’ চালু হয়েছে। এবার রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালার পাশাপাশি কবিগুরুর ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী বাড়িগুলির ভিতরেও প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ জানিয়েছেন, বাড়িগুলির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে কড়া সুরক্ষাবিধি মেনেই দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। কারণ, এই পাঁচ ভবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, শিল্প ও সৃষ্টিশীল জীবনের বহু স্মৃতি। শুধু কবিগুরু নন, তাঁর পরিবার এবং মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, লালবাহাদুর শাস্ত্রী, সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ, মাদার টেরেজা ও চার্লস ফ্রিয়ার অ্যান্ড্রুজের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বেরও স্মৃতি রয়েছে এই প্রাঙ্গণে।
উদয়ন ভবনের নকশায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। প্রায় ৫০ কক্ষের এই ভবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কবিগুরুর জীবনের শেষ পর্বের স্মৃতিও। ১৯৪১ সালের ২৫ জুলাই অসুস্থ রবীন্দ্রনাথ এখান থেকেই শেষবারের মতো কলকাতার উদ্দেশে রওনা হন।
কোণার্কে বসত গান-কবিতার আসর। ১৯২৬ সালে এই প্রাঙ্গণেই রবীন্দ্রনাথের পরিচালনায় প্রথম ‘নটীর পূজা’ মঞ্চস্থ হয়েছিল। শ্যামলী মাটি দিয়ে তৈরি অভিনব স্থাপত্যের নিদর্শন। সুরেন্দ্রনাথ করের নকশায় রামকিঙ্কর বেইজ ও নন্দলাল বসুর শিল্পভাবনায় তৈরি এই বাড়ি গরমে তুলনামূলক ঠান্ডা রাখার বিশেষ নির্মাণকৌশলের জন্যও উল্লেখযোগ্য। পুনশ্চ ও উদীচী-র সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে কবিগুরুর জীবনের নানা স্মৃতি।
ঐতিহ্য রক্ষা এবং পর্যটকদের আগ্রহ—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই এই পাঁচ ভবন খোলার প্রস্তুতি চলছে। ফলে পুজোর মরসুমে শান্তিনিকেতনে পর্যটকদের জন্য এই উদ্যোগ নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।




