ভারতীয়দের জন্য উজবেকিস্তান ভ্রমণে বড়ো সুখবর, ভিসা ছাড়াই ৩০ দিন সে দেশে থাকার সুযোগ

ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: ভারতীয় পর্যটকদের জন্য উজবেকিস্তান সফর আরও সহজ হওয়ার পথে। ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের সর্বোচ্চ ৩০ দিন ভিসা ছাড়াই উজবেকিস্তানে থাকার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভ।

তাসখন্দে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রতিনিধিদল পর্যায়ের বৈঠকে এই ঘোষণা করা হয়। দুই দেশের মধ্যে পর্যটন, বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও বাড়ানোই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তবে ঘোষণা সদ্য হওয়ায় নতুন ভিসামুক্ত ব্যবস্থা ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে এবং ভারতীয় নাগরিকদের জন্য প্রবেশের ক্ষেত্রে কী কী শর্ত প্রযোজ্য হবে, তা এখনও সংশ্লিষ্ট উজবেক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই সর্বোচ্চ ৩০ দিন উজবেকিস্তানে থাকতে পারবেন। ফলে শুধু কয়েক দিনের দ্রুত সফরের পরিবর্তে পর্যটকেরা হাতে বেশি সময় নিয়ে দেশটির ঐতিহাসিক শহর, স্থাপত্য, স্থানীয় খাবার ও সংস্কৃতি ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন।

তাসখন্দ থেকে শুরু হতে পারে ভ্রমণ

উজবেকিস্তান ভ্রমণের প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া যায় রাজধানী তাসখন্দকে। আধুনিক নগরজীবনের পাশাপাশি শহরটিতে উজবেক, সোভিয়েত ও ইসলামি ইতিহাসের নানা নিদর্শন রয়েছে।

তাসখন্দের অন্যতম আকর্ষণ মেট্রো। এখানকার বিভিন্ন স্টেশন মোজাইক, ঝাড়বাতি, ভাস্কর্য ও দেয়ালচিত্রে সাজানো। স্থাপত্যপ্রেমীদের জন্য এটি আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে।

রেজিস্তান স্কোয়ার। ছবি উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া।

সমরকন্দের রেজিস্তান স্কোয়ার

উজবেকিস্তানের পর্যটন ছবিতে যে স্থাপনাটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তার মধ্যে সমরকন্দের রেজিস্তান স্কোয়ার অন্যতম। সমরকন্দের ঐতিহাসিক কেন্দ্র ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত।

রেজিস্তানের পাশাপাশি বিবি-খানুম মসজিদ, শাহি-জিন্দা এবং গুর-ই-আমির সমাধিসৌধও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। মধ্য এশিয়ার ইতিহাস ও স্থাপত্যের সঙ্গে পরিচিত হতে সমরকন্দ তাই অবশ্যই তালিকায় রাখা যায়।

বুখারা দুর্গ। ছবি উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া।

বুখারায় ইতিহাসের ছোঁয়া

সিল্ক রোডের প্রাচীন শহরগুলির মধ্যে বুখারার গুরুত্ব বিশেষ। শহরের ঐতিহাসিক এলাকায় এখনও দেখা যায় পুরনো মাদ্রাসা, মসজিদ, বাজার, কাফেলা সরাই এবং ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক গম্বুজ।

যাঁরা নির্দিষ্ট পরিকল্পনার বদলে ধীরে ধীরে শহরের অলিগলি ঘুরে দেখতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য বুখারা হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।

ছবি ‘এক্স’ থেকে নেওয়া।

উজবেক খাবারের স্বাদ

উজবেকিস্তান ভ্রমণে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়াও হতে পারে সফরের অন্যতম আকর্ষণ। জনপ্রিয় খাবার প্লভ দিয়ে শুরু করা যায়। চাল দিয়ে তৈরি এই খাবারটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ ও পদ্ধতিতে রান্না করা হয়।

এ ছাড়া মাংস বা কুমড়োর পুর দেওয়া ভাপে রান্না করা ডাম্পলিং মান্তি এবং কাঠিতে গেঁথে আগুনে ঝলসানো মাংসের শাশলিকও চেখে দেখতে পারেন।

ফারগানা উপত্যকা।

পর্যটনপথের বাইরে ফারগানা

আরও একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা চাইলে যেতে পারেন ফারগানা উপত্যকায়। রিশতান শহর বিখ্যাত তার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের জন্য।

অন্যদিকে মার্গিলানে রয়েছে ইয়োদগোরলিক সিল্ক কারখানা। সেখানে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে রেশম তৈরির প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।

ইয়ার্টে রাত কাটানো। ছবি ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া।

মরুভূমিতে ইয়ার্টে থাকার অভিজ্ঞতা

উজবেকিস্তান সফরে অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ পেতে চাইলে মরুভূমির ইয়ার্ট শিবির বেছে নেওয়া যেতে পারে। ঐতিহ্যবাহী গোলাকার তাঁবুতে রাত কাটানোর পাশাপাশি অনেক শিবিরে স্থানীয় খাবার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মরুভূমিকেন্দ্রিক বিভিন্ন অভিজ্ঞতার ব্যবস্থাও থাকে।

৩০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধায় বদলাতে পারে ভ্রমণের ধরন

ভিসামুক্ত ৩০ দিনের থাকার সুযোগ কার্যকর হলে ভারতীয় পর্যটকদের কাছে উজবেকিস্তান শুধুমাত্র কয়েক দিনের ছুটির গন্তব্য না-ও থাকতে পারে। তাসখন্দ, সমরকন্দ ও বুখারার পাশাপাশি ফারগানা উপত্যকা কিংবা মরুভূমি ঘুরে দেখার জন্য পর্যটকেরা আরও বেশি সময় হাতে পাবেন।

তবে নতুন ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। ভিসামুক্ত প্রবেশের কার্যকর তারিখ, পাসপোর্টের মেয়াদ, সফরের অনুমোদিত উদ্দেশ্য এবং অন্যান্য প্রবেশ সংক্রান্ত নিয়ম উজবেকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নেওয়াই নিরাপদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *