আলিপুরদুয়ার: প্রায় দু’বছর আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের হৃদয়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হলং বনবাংলো। সেই দুঃখের স্মৃতি কাটিয়ে এবার সুখবর দিল বনদপ্তর। সব কিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যেই নতুন রূপে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে উত্তরবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় এই বনবাংলো।
বৃহস্পতিবার নির্মীয়মাণ হলং বনবাংলো পরিদর্শনে যান রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ। পরে মাদারিহাট এনআইসিতে বনদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে একটি সমন্বয় বৈঠকও করেন তিনি।
বৈঠকের পর বনমন্ত্রী জানান, “হলং বনবাংলোকে আগের ঐতিহ্যবাহী চেহারাতেই ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। আমরা চাই আগামী ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যেই নির্মাণ শেষ করে পর্যটকদের জন্য বাংলোটি খুলে দিতে। পাশাপাশি বনাঞ্চলে প্রবেশের টিকিট থেকে সাফারি বুকিং— সব কিছুই ধাপে ধাপে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গের এই অঞ্চলে চা শিল্প ও পর্যটনই অর্থনীতির প্রধান ভরকেন্দ্র। তাই পর্যটনকে আরও শক্তিশালী করে জেলার উন্নয়ন ঘটাতে চায় সরকার।
আগের মতোই চেহারা, তবে থাকবে আধুনিক নিরাপত্তা
পূর্ত দপ্তরের নির্মাণ বিভাগ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নতুন হলং বনবাংলোর কাজ চালাচ্ছে। তিনতলা এই বাংলো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা।
যদিও মূল কাঠামো হবে কংক্রিটের, বাইরে ও ভিতরে এমনভাবে শাল, সেগুন ও পাইন কাঠের আবরণ দেওয়া হবে যাতে দেখতে একেবারে আগের কাঠের বাংলোর মতোই লাগে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিতরের অংশে শাল কাঠের ফ্রেমের উপর পাইন কাঠের আবরণ এবং বাইরের অংশে শাল কাঠের কাঠামোর উপর সেগুন কাঠের আবরণ ব্যবহার করা হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, নতুন বাংলোয় আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ও অগ্নি-প্রতিরোধ ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
আগুনে পুড়ে গিয়েছিল উত্তরবঙ্গের ‘কোহিনূর’
২০২৪ সালের ১৮ জুন রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায় হলং বনবাংলো। তদন্তে জানা যায়, বাংলোর তৃতীয় তলার একটি ঘরে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা কাঠের বাংলো জুড়ে।
১৯৬৭ সালে নির্মিত এই বাংলো উত্তরবঙ্গের পর্যটনের অন্যতম প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল। জলদাপাড়ার জঙ্গলের মাঝখানে অবস্থিত এই বনবাংলো থেকে গন্ডার, হাতি, বাইসন-সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ পেতেন পর্যটকেরা। সেই কারণেই একে অনেকেই রাজ্য পর্যটনের ‘কোহিনূর’ বলে অভিহিত করেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছিল, নতুন বাংলোটি যেন পুরনো আদলেই তৈরি করা হয়। অবশেষে সেই দাবিকেই মর্যাদা দিয়ে উত্তরবঙ্গের আবেগঘন এই ঐতিহ্যকে নতুন করে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।




