পুজোয় চারচাকায় মানস, পথেই জমে উঠুক উত্তর-পূর্বের রোড ট্রিপ

পুজোর ছুটিতে ট্রেন বা বিমানের বদলে গাড়িতে অসমের মানস জাতীয় উদ্যান। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি হয়ে অরণ্য, সাফারি ও প্রকৃতির মাঝে কয়েক দিনের ভ্রমণ।

পুজোর ছুটিতে এবার যদি গন্তব্য হয় অসম, তা হলে সফরের আনন্দটাও শুরু হোক গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই। চারচাকার স্টিয়ারিং হাতে নিয়ে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ পেরিয়ে মানস জাতীয় উদ্যান—পথে থামা, স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়া আর বদলে যাওয়া ভূদৃশ্য দেখাই হয়ে উঠতে পারে ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।

কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির দূরত্ব প্রায় ৬০০ কিলোমিটার। একটানা না গিয়ে কৃষ্ণনগর, মালদহ বা রায়গঞ্জে বিরতি নেওয়া যায়। পথে কৃষ্ণনগরের সরপুরিয়া কিংবা মালদহের আমসত্ত্বও হয়ে উঠতে পারে সফরের বাড়তি পাওনা। শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়িতে এক রাত কাটিয়ে পরদিন মানসের পথে রওনা হওয়া সুবিধাজনক।

আলিপুরদুয়ার, বঙ্গাইগাঁও ও বরপেটা রোড পেরিয়ে মানস জাতীয় উদ্যানে পৌঁছতে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার পথ। প্রায় ৯০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই বিশ্ব ঐতিহ্যক্ষেত্রে রয়েছে নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও পাখি। একশৃঙ্গ গন্ডার, হাতি, বুনো মোষ, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, চিতাবাঘ, হগ ডিয়ার-সহ একাধিক প্রাণীর দেখা মিলতে পারে।

মানসে গিয়ে জঙ্গল সাফারি অবশ্যই তালিকায় রাখুন। নিজস্ব গাড়ি নিয়ে গেলেও অরণ্যে সাফারির জন্য নির্দিষ্ট জিপসি ব্যবহার করতে হয়। বাঁশবারী, ভূঞাপারা ও পানবারী—এই তিন প্রবেশপথ থেকে সাফারি হয়। বাঁশবারীতে হাতির পিঠে জঙ্গল দেখার সুযোগও রয়েছে। পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা জরুরি।

তবে মানস শুধু বন্যপ্রাণ দেখার জায়গা নয়। অরণ্যের কাছাকাছি থেকে দু’টি রাত কাটানো, বেঁকি নদীতে নৌবিহার কিংবা সবুজে ঘেরা পরিবেশে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে পুজোর ছুটিতে চারচাকার এই সফর হয়ে উঠতে পারে প্রকৃতির সঙ্গে কয়েক দিনের নিবিড় সখ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *