সীতাহরণ, লঙ্কাকাণ্ড, রামসেতু আর রাম-রাবণের যুদ্ধ—রামায়ণের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকা ‘লঙ্কা’কে ঘিরে আজও নানা বিশ্বাস ও লোককথা প্রচলিত। সেই রামায়ণ-সংক্রান্ত স্থানগুলির পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার সুযোগ নিয়ে আসছে IRCTC Tourism-এর শ্রীলঙ্কা রামায়ণ যাত্রা।
১০ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হবে ৫ রাত ৬ দিনের এই সফর। বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে কলম্বো গিয়ে শুরু হবে যাত্রা। ১০ ডিসেম্বর সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বেঙ্গালুরু থেকে উড়ে ১১টা ২৫ মিনিটে কলম্বো পৌঁছনোর কথা। ফেরার বিমান ১৬ ডিসেম্বর রাত ১টা ৫ মিনিটে কলম্বো ছেড়ে ভোর ২টা ৩০ মিনিটে বেঙ্গালুরু পৌঁছবে।
প্রথম দিন: মানাভারি ও মুনেশ্বরম
কলম্বো পৌঁছে মধ্যাহ্নভোজের পর যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হবে মানাভারি ও মুনেশ্বরম মন্দিরে। রামায়ণ-সংক্রান্ত প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, রাবণবধের পর রাম মানাভারিতে শিবের আরাধনা করেছিলেন। এই ধরনের পৌরাণিক যোগসূত্রগুলি অবশ্য ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত ঘটনা নয়, প্রচলিত বিশ্বাস হিসেবেই দেখা হয়।
এর পর ডাম্বুলায় গিয়ে হোটেলে রাত কাটানোর ব্যবস্থা থাকবে।
দ্বিতীয় দিন: ডাম্বুলা থেকে ত্রিনকোমালি
সকালে রঙ্গিরি ডাম্বুলা গুহামন্দির দর্শন। এটি শ্রীলঙ্কার গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ তীর্থক্ষেত্র এবং ১৯৯১ সাল থেকে UNESCO World Heritage Site।
এর পর ত্রিনকোমালিতে তিরুকোণেশ্বরম মন্দির এবং শ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ পেরুমল মন্দির দর্শন করে ফের ডাম্বুলায় ফিরে রাত কাটাবেন পর্যটকেরা। তিরুকোণেশ্বরমকে ঘিরেও রাবণ ও রামের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা পৌরাণিক কাহিনি প্রচলিত রয়েছে।
তৃতীয় দিন: ডাম্বুলা থেকে ক্যান্ডি
তৃতীয় দিনে গন্তব্য ক্যান্ডি। সেখানে চা-বাগান ও পাহাড়ি পরিবেশের পাশাপাশি থাকবে জেম ফ্যাক্টরি ও বাটিক কারখানা দেখার সুযোগ।
সফরসূচিতে রয়েছে টেম্পল অব দ্য সেক্রেড টুথ রেলিক—বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই তীর্থস্থানে বুদ্ধের দাঁতের ধাতবাংশ সংরক্ষিত রয়েছে বলে বিশ্বাস। সন্ধ্যায় ক্যান্ডিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাও থাকছে। রাতের থাকার ব্যবস্থা ক্যান্ডিতেই।
চতুর্থ দিন: নুয়ারা এলিয়ায় রামায়ণ-পর্ব
চতুর্থ দিনে ক্যান্ডি থেকে যাত্রা নুয়ারা এলিয়ার দিকে। এখানেই রামায়ণের অশোকবাটিকা ছিল বলে প্রচলিত বিশ্বাস। সেই সূত্রে সফরসূচিতে রয়েছে সীতা আম্মান মন্দির, রামবোডার হনুমান মন্দির এবং অশোক বাটিকা।
রামায়ণ-সংক্রান্ত স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রাবণ সীতাকে এই অঞ্চলে বন্দি করে রেখেছিলেন। হনুমানের পায়ের ছাপ নিয়েও স্থানীয় লোকবিশ্বাস রয়েছে। এসব স্থানকে প্যাকেজে ধর্মীয় ও পৌরাণিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই দেখানো হচ্ছে।
পঞ্চম দিন: পিন্নাওয়ালা হয়ে কলম্বো
পঞ্চম দিনে নুয়ারা এলিয়া থেকে কলম্বোর পথে পিন্নাওয়ালা এলিফ্যান্ট অরফানেজ দেখার সুযোগ থাকবে। এর পর কলম্বোর পথে রয়েছে কেলানিয়া বৌদ্ধ মন্দির এবং পঞ্চমুখ অঞ্জনেয়ার মন্দির।
রাতে কলম্বোতেই থাকার ব্যবস্থা।
ষষ্ঠ দিন: কলম্বো থেকে বেঙ্গালুরু
শেষ দিনে সকালে হোটেল ছাড়ার পর যাত্রীরা নিজেদের মতো করে কিছুটা সময় কাটানো ও কেনাকাটার সুযোগ পাবেন। রাতে বিমানবন্দরে পৌঁছতে হবে। এরপর ১৬ ডিসেম্বর রাত ১টা ৫ মিনিটের বিমানে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে রওনা।
কত খরচ?
IRCTC-র প্রকাশিত প্যাকেজ-তথ্য অনুযায়ী খরচ—
- ডাবল অকুপেন্সি: মাথাপিছু ৬৫,৭০০ টাকা
- ট্রিপল অকুপেন্সি: মাথাপিছু ৬৫,২৫০ টাকা
- সিঙ্গল অকুপেন্সি: ৮৬,২০০ টাকা
- ৫–১১ বছর বয়সি শিশু, বেড-সহ: ৫১,৫০০ টাকা
- ২–১১ বছর বয়সি শিশু, বেড ছাড়া: ৪৭,৫০০ টাকা।
অর্থাৎ, রামায়ণ-সংক্রান্ত প্রচলিত কাহিনির স্থান, শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধ ঐতিহ্য এবং পাহাড়-চা-বাগানের সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে একই সফরে একাধিক অভিজ্ঞতা পাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে এই IRCTC প্যাকেজ।




