Browsing Tag:কলকাতা

do-you-want-to-know-details-about-adventure-tourism-then-visit-upcoming-tourism-fair-in-kolkata

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভেতো বাঙালির অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি ঝোঁক বেড়েছে। সেই কবে বিভূতিভূষণ বাঙালির দুর্নাম কাটাতে শংকরের মতো চরিত্র তৈরি করেছিলেন। আফ্রিকার জঙ্গলে গিয়ে ততটা অ্যাডভেঞ্চার না করলেও মাসাইমারায় জঙ্গল সাফারি করার স্বপ্ন কিন্তু বাঙালি দেখছে।

তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে ভারতে পর্যটনশিল্পে ৬ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি হয়েছে। দেশের জিডিপিতে এর অবদান ৯.২ শতাংশ। এই বৃদ্ধিটা অব্যাহত থাকবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের মত। এফআইসিসিআই-ইয়েস ব্যাঙ্কের একটি রিপোর্ট বলছে, প্রতি বছর ৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৯-এ পর্যটনশিল্প ৩৫ লক্ষ কোটি টাকার বাণিজ্য করবে। এর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ আসবে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম থেকে।

পর্যটকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি পর্যটন সংস্থাগুলো ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে নানা অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের আয়োজন করছে, যেমন প্যারাগ্লাইডিং, স্কুবা ড্রাইভিং, মাউন্টেনিয়ারিং, আরও নানা কিছু। এ ছাড়াও অ্যাডভেঞ্চারের জন্য নতুন নতুন স্পট তৈরি হচ্ছে। ফলে আগ্রহ বাড়ছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে।

তাই পর্যটকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে কলকাতার অন্যতম বড় পর্যটন মেলা ‘ট্যুরিজম ফেয়ার’ এ বার তাদের মেলার থিম করেছে ‘অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম’।

কেন অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম’?

কারণটা জানালেন ব্লু আই ইন্ডিয়ার অন্যতম কর্ণধার সুব্রত ভৌমিক -‘‘ঘোরার সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চার থাকলে বেড়ানোটাকে একটু অন্য রকম ভাবে উপভোগ করা যায়, বিশেষত যাঁরা একা বেড়াতে যান। সে কথা মাথায় রেখেই এ বারের মেলায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে’’, জানালেন তিনি।

পুজোর বেড়ানোর প্ল্যানিং শুরু করুন

সাধারণ জুন মাসের শেষের দিক থেকেই পুজোয় বেড়াতে যাওয়ার জন্য টিকিট বুকিং শুরু হয়। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘ট্যুরিজম ফেয়ার’ শুরু হচ্ছে ৭ জুন থেকে। ফলে আপনি হাতে কিছুটা সময় পেয়ে যাবেন বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যানিং শুরু করার জন্য। এই মেলায় সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেমন পর্যটন সংস্থাগুলি আসছে তেমনি থাকছে বিদেশ বেড়াতে যাওয়ার সুলুকসন্ধান।

মেলায় এসে আপনি ঘুরে-বেড়িয়ে যাচাই করে পছন্দের পর্যটনসংস্থা বেছে বুকিংও করে ফেলতে পারবেন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যটন সংস্থাগুলি বুকিং-এর উপর আকর্ষণীও ছাড়ও দিচ্ছে।

মেলা চলবে ৭, ৮ আর ৯ জুন। প্রতি দিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা।

অ্যাডভেঞ্চার ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা

‘ট্যুরিজম ফেয়ার’-এর আয়োজক সংস্থা এ বছর অ্যাভেঞ্চারপ্রেমী পর্যটকদের জন্য আয়োজন করেছে একটি ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতার। অ্যাডভেঞ্চারে গিয়ে যাঁরা তার বিশেষ মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন তাঁরা সেই ছবি পাঠিয়ে দিন সংস্থার ই-মেলে। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের বিস্তারিত নিয়মাবলি পেয়ে যাবেন সংস্থার ফেসবুক পেজ থেকে।

আর্কষণীয় পুরস্কার

এই ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় থাকছে আর্কষণী পরস্কার।

প্রথম পুরস্কার – ৪ রাত্রি, ৫ দিন আন্দামানে থাকা

দ্বিতীয় পুরস্কার – ৩ রাত্রি, ৪ দিন উত্তরাখণ্ডে থাকা

তৃতীয় পুরস্কার – ২ রাত্রি ৩ দিন জয়পুরে থাকা।

এ ছাড়া প্রতিযোগীদের মধ্যে থেকে বাছাই ৫০টি ছবি মেলাপ্রাঙ্গণে প্রদর্শিত হবে।

0 Comments
Share
kashmiri-hotelier-in-ttf-summer-speaks-about-pulwama-incident-and-bengali-tourists

নিজস্ব প্রতিনিধি: “আজ না হয় যেতে পাচ্ছি না কাশ্মীরে, কিন্তু কাল-পরশু তো আছেই। না হয় কয়েক মাস পরে যাব, খোঁজখবর তো নিয়ে রাখি। ট্যুরিস্টরা আসছেন আর এ কথাই বলছেন। বাংলার মানুষদের দেখে আমি অভিভূত” – কথাগুলো মহম্মদ হামজার।

মহম্মদ হামজা কাশ্মীরের পর্যটন সংস্থা স্পেস ট্যুরিজমের ডিরেক্টর তথা সিইও। কলকাতায় এসেছেন পর্যটন মেলা ‘টিটিএফ-সামার’-এ যোগ দিতে। মেলা চলছে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে। রবিবার মেলার শেষ দিন। হামজাকে পেয়ে গেলাম শ্রীনগরের ‘হোটেল দ্য কায়জার’-এর স্টলে।

আরও পড়ুন উত্তরবঙ্গের সাফারি বুকিং করুন এ বার অনলাইনে

কাশ্মীরে পর্যটন ব্যবসার সুবাদে বাঙালি ট্যুরিস্টদের ভালোই চেনেন, ভালোই বোঝেন হামজা। কিন্তু এই প্রথম কলকাতায় আসা তাঁর। তাই পুলওয়ামা হাঙ্গামার পরিপ্রেক্ষিতে কিছুটা চিন্তা ছিল। এই মুহূর্তে বাঙালি কী ভাবছেন কাশ্মীর নিয়ে, তাঁদের কাশ্মীর ভ্রমণে কতটা প্রভাব ফেলেছে পুলওয়ামার ঘটনা – এ সব নিয়ে কিছুটা ভাবিত ছিলেন হামজা। কিন্তু ‘টিটিএফ-সামার’-এ যোগ দিয়ে হামজা বুঝেছেন তাঁর সমস্ত দুশ্চিন্তা অমূলক।

হামজা বললেন, “স্টলে যাঁরাই আসছেন, তাঁরাই বলছেন, এখন না হোক, মাস তিনেকের মধ্যে কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই হবে। বাংলায় এসে আমি অভিভূত। কাশ্মীরের প্রতি যে বাঙালির এত আগ্রহ, তা এখানে না এলে বুঝতে পারতাম না। দু’দিন ধরে স্টলে প্রচুর লোক এসেছেন। তাঁরা কাশ্মীর ভ্রমণ নিয়ে নানা খোঁজখবর করেছেন।”

Mohd. Hamza.
মহম্মদ হামজা। নিজস্ব চিত্র।

হামজা আদতে কারগিলের মানুষ। কারগিলে একটি হোটেল চালান। শ্রীনগরেও হোটেল খুলেছেন। হামজা জানালেন, কারগিলে দ্বিতীয় আরেকটি হোটেল মে মাসে খুলতে চলেছেন। তাঁর প্রধান ক্লায়েন্ট যে বাঙালি ট্যুরিস্ট এবং বাঙালি ট্যুরিস্ট যে কোনো পরিস্থিতিতেই কাশ্মীর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি, তা স্মরণ করিয়ে দিলেন হামজা। কারগিল যুদ্ধে যে সব ভারতীয় সেনা প্রাণ দিয়েছিলেন তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশে প্রতি বছর শহিদ দিবস পালন করেন তিনি।

কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হামজা বলেন, দেশের শত্রুদের উদ্দেশ্য কখনোই সফল হবে না। সকলের কাছে তাঁর একটাই আবেদন, মুষ্টিমেয় কয়েক জনের জন্য যেন গোটা রাজ্যকে আমরা যেন খারাপ চোখে না দেখি।

‘হোটেল দ্য কায়জার’-এর স্টলে দেখা হয়ে গেল উত্তর কলকাতা থেকে আসা প্রদীপ দত্তের সঙ্গে। প্রদীপবাবু মনে করেন, কাশ্মীর ছাড়া ভারতের ভ্রমণ-মানচিত্র অসম্পূর্ণ। কাশ্মীর ভারতের মুকুট। তাই কাশ্মীর না দেখলে ভারত-দর্শন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। প্রদীপবাবুর ধারণা, দু-এক মাস পরে কাশ্মীরের পরিস্থিতি থিতিয়ে যাবে। ইতিমধ্যে লোকসভার ভোটও হয়ে যাবে। তখন কাশ্মীর বেড়াতে যাওয়া যাবে। সে ব্যাপারেই তিনি হোটেল ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে জানার জন্য এই পর্যটন মেলায় এসেছেন।

 

 

0 Comments
Share
kolkata-to-get-6-new-plane-connection-two-new-airports

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: এ বছরই উড়ানে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে ভারতের ছ’টি শহর। বিমান পরিষেবা বাড়বে দুর্গাপুরের কাজি নজরুল বিমানবন্দর থেকেও। পাশাপাশি কলাইকুন্ডা এবং হাসিমারার মতো সামরিক বিমানঘাঁটি থেকেও এ বার অসামরিক বিমান পরিষেবা শুরু হবে। এয়ারপোর্ট অথোরিটি অব ইন্ডিয়ার (এএআই) ‘উড়ান-৩’ প্রকল্পে এই নতুন রুটগুলির ঘোষণা করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, কলকাতা থেকে সরাসরি বিমানে এ বার সংযুক্ত হবে অমৃতসর, গ্বালিয়র, শিলং, গাজিপুর, ঝাড়সুগুদা এবং হাসিমারা। অ্যালায়ান্স এয়ারের সঙ্গে কলকাতা এবং ঝাড়সুগুদার মধ্যে বিমান পরিষেবা দেবে স্পাইস জেট। অন্য দিকে এই স্পাইস জেটই কলকাতার সঙ্গে গ্বালিয়র এবং গাজিপুরকে সংযুক্ত করবে। কলকাতা-অমৃতসর এবং কলকাতা-শিলং রুটে ইন্ডিগোর বিমান চলবে। অন্য দিকে কলকাতা এবং হাসিমারাকে সংযুক্ত হবে জুম এয়ার।

অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে শুধুমাত্র দিল্লির বিমান চলে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ত্রিসাপ্তাহিক হায়দরাবাদ উড়ান শুরু হবে এখান থেকে। পাশাপাশি অন্ডাল থেকে মুম্বই এবং চেন্নাইগামী বিমান চালানোর জন্য স্পাইস জেটকে বরাত দেওয়া হয়েছে।

কলাইকুন্ডা থেকে বিশাখাপত্তনম এবং ভুবিনেশ্বরগামী বিমান চালানোর জন্য বরাত দেওয়া হয়েছে অ্যালায়ান্স এয়ারকে।

এএআইয়ের তরফ থেকে জানানো হয়েছে পরিকাঠামোগত সবকিছু দিক খতিয়ে দেখতে কিছুদিনের মধ্যেই হাসিমারা এবং কলাইকুন্ডার বিমানঘাঁটিতে যাবে তারা। এই বছরের শেষেই এই দুই বিমানঘাঁটি থেকে বিমান পরিষেবা শুরু করে দিতে চায় তারা।

1 Comments
Share
a-trip-yo-subhasgram-and-other-places-related-to-netaji

jahir raihan
জাহির রায়হান

সাবমেরিন। সংজ্ঞা-সহ সাবমেরিনের ব্যাখ্যা বুঝতে বুঝতেই টের পেয়েছিলাম দেশনায়কের কলজের জোর। কতই বা বয়স তখন, মেরে কেটে বারো-তেরো, ষষ্ঠ শ্রেণির হাফপ্যান্ট-পরা ছাত্র। ক্লাসে দুলালবাবু বলে চলেন, “সাবমেরিন একটি জলযান, জলে ডুবে ডুবে যায়, ওপর থেকে কিছুই বোঝা যায় না।” সেই সাবমেরিন চেপে ইংরেজদের চোখে ধুলো দিয়ে দেশান্তরী হন সুভাষ, মাতৃভূমি ভারতবর্ষকে ব্রিটিশ কবল থেকে মুক্ত করতে। মিঠুন-অমিতাভকে সরিয়ে সেই দিনই আমার বল্গা মনের নায়ক হয়ে বসেন সুভাষচন্দ্র। তার পর একটা একটা করে নতুন শ্রেণিতে উর্ত্তীর্ণ হই, আর একটু একটু করে হৃদয়াকাশে উদ্ভাসিত হতে থাকেন সুভাষচন্দ্র বোস। তাঁর ব্যাপকতা এবং দেশপ্রেম ছাড়িয়ে যায় বাকিদের। এর মধ্যেই একদিন শুনলাম, একবার বেলডাঙা এসেছিলেন তিনি। ঘটনা জানামাত্রই গর্বিত হলাম অতীতের সেই আগমনকে স্মরণ করে। শহরের নেতাজি পার্ক ও নেতাজি তরুণতীর্থের যৌথ উদ্যোগে জানুয়ারি মাসের সপ্তাহব্যাপী নেতাজি স্মরণোৎসবের তাৎপর্য ধরা দিল নব রূপে।

আরও পড়ুন পর্যটনের প্রসারে উত্তরবঙ্গে একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস মুখ্যমন্ত্রীর

গোটা শীত জুড়েই বঙ্গের এ-দিক ও-দিক চরকিপাকের সিদ্ধান্ত নিয়েছি গরমের গুঁতো থাকাকালীনই। তাই মিলনদা কোদালিয়া যাওয়ার কথা বললে রাজি হলাম তৎক্ষণাৎ। ২০১৭’র শেষ দিনে যখন সবাই নতুন বছরকে আবাহনের প্রস্তুতিতে মগ্ন, আমি ছুটলাম সুভাষচন্দ্রের পিতৃদেব জানকীনাথের পৈতৃকভিটে দর্শনে। প্রথমে যাব কোদালিয়া, তার পর এলগিন রোডে নেতাজিভবন। সেইমতো কাউকে কিছু না বলে একা একাই বেরোলাম অমৃতপুত্রের সন্ধানে। ভাগীরথী এক্সপ্রেস দেরি করায় সুভাষগ্রাম যাওয়ার ট্রেন পেতে দেরি হল, তবে মধ্যবর্তী সময়টুকুর সদ্ব্যবহার হল ‘জনআহার’-এর চিকেন বিরিয়ানিতে। ৭৮ টাকায় বছরের শেষ লাঞ্চ। সেই ছাত্রাবস্থা থেকেই শিয়ালদহে যাতায়াত আমার। হাতে সময় বা ট্রেনের দেরি থাকলে স্টেশনের ধাপিতে বসে বসে নানা কিসিমের লোকজন ও তাদের কাণ্ডকারখানা নাগাড়ে খেয়াল করা আমার খুব প্রিয় টাইমপাস। একটা করে ট্রেন ঢোকে আর মিছিলের মতো লোক গলগল করে বেরিয়ে হারিয়ে যায় মহানগরীর পথে পথে। এবং আশ্চর্য, নিজেরটা ছাড়া বাকিরা কোথায় কী কাজে যায় তা আমি একেবারেই জানি না।

kodalia house
কোদালিয়ার বাড়ি, সংস্কারের আগে।

গড়িয়ায় বছর তিনেক ছিলাম আমি, তখন নিউ গড়িয়া স্টেশনটাই ছিল না, ছিল না মেট্রো রেলের বাহাদুরিও। বাঘাযতীন ছাড়ালেই তখনও তেপান্তরের মাঠঘাট চোখে পড়ত, অট্টালিকার বাড়বাড়ন্ত ছিল না। আর একটা ব্যাপারে অবাক হতাম, গড়িয়ার দুই দিকের সিগন্যালই সর্বদা হলুদ হয়েই থাকত, ট্রেন এসেই যেত, এসেই যেত। এখনও আমার বিশ্বাস, সোনারপুর থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত ট্রেন ধরতে কেউই সময় দেখে না, জানে স্টেশনে গেলেই কোনো না কোনো লোকাল পেয়ে যাব ঠিক। ডায়মন্ড হারবার লোকাল গড়িয়া ঢুকতেই এ-দিক সে-দিক উঁকিঝুকি মারলাম, কিছুই ঠাহর হল না। মিলনদা বলে দিয়েছিল, সোনারপুরের পরই সুভাষগ্রাম। সেইমতো গুতোঁগুঁতি বাঁচিয়ে নিলাম নামার প্রস্তুতি। এত ভিড়ের মধ্যেও পল্টু ব্যাটার অস্থিরতা টের পাচ্ছি, সে বুঝি সেই সন্ধিক্ষণের নাগাল পেয়ে গিয়েছে, যার কারণে এখানে আসা। রাজপুর-সোনারপুর পৌরসভার অন্তর্গত সুভাষগ্রাম। রিকশায় উঠে দেখি, চালক পা তুলে হ্যান্ডেল পাকড়ে বসে রয়েছে আর রিকশা চলছে আপন গতিতে। সাধারণ রিকশার এই অসাধারণ আচরণ এর আগে দেখি নাই কখনও। হাঁটতেই চাইছিলাম, কিন্তু এক কাকাবাবুর খপ্পরে পড়েই এই রিকশাবিলাস, উনি লম্বা করে জানালেন চল্লিশ মিনিট হাঁটলে তবেই বোসবাড়ি, অগত্যা!

আরও পড়ুন চণ্ডীদাসের প্রেম ও নানুর

নেতাজি সুভাষের সম্মানেই যে চাংড়িপোতা হয়েছে সুভাষগ্রাম, সে কথা না জানালেও চলে। রিকশা চড়ে রবিবারের সুভাষগ্রামের মহল্লা নজরে রাখতে রাখতেই এগিয়ে চলি হরনাথ বসুর বাড়ির দিকে, যাঁর নাতিকে আজও খুঁজে ফেরে বাঙালি, বিশ্বাস করে দেশের এই দুর্দশায় তিনি নিশ্চিত ভাবেই ফিরে আসবেন, মৃ্ত্যু-বিজ্ঞান হেরে যায় বাঙালি আবেগের কাছে, বারবার। তরুণ সংঘের মাঠ পার করে বাবুদাকে পাওয়া গেল। সৌম্যদর্শন ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করতেই দেখিয়ে দিলেন সেই ভিটেটিকে যার মাটি সৃষ্টি করেছিল এক আপসহীন অগ্নিপুত্রের যিনি অত্যাচারীর চোখে চোখ রেখে কথা বলতে জানতেন। হলুদ রঙা দোতলা বাড়ি, বড়ো বারান্দা, বেশ কিছু ছাদের অংশ ভেঙে পড়েছে, ঘরগুলি তালাবন্ধ। খোলা জানলার ফাঁক দিয়ে কিছু আসবাবপত্রও চোখে পড়ে। বাড়ির সামনেও অনেকটা ফাঁকা জায়গা। ক্ষয়ে যাওয়া ইটগুলিকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়, কেমন ছিল বোসেদের ঘরকন্না? দাদুর বাড়ির ঘরময়, বারান্দা জুড়ে, বাগানে, হামাগুড়ি, দৌড়োদৌড়ি করেছে কি ছোট্ট সুভাষ? কটকে পড়াশোনার ফাঁকে, ছুটিছাটাতে বা বার্ষিক পরীক্ষার শেষে কখনও কি এসেছে দাদু-ঠাকুমার কাছে? কেমনধারা ছিল তার আবদার? কী ভাবে সে পেল এত সাহস? এত শৌর্য? এত তাপ? নিরুত্তর চুনসুরকি ধুলো হয়ে ঝরে পড়ে অবিরত, আমি বসে পড়ি বারান্দায়, ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করি সেই কালকে যা এখন মহাকালের কবলে।

netaji bhawan
এলগিন রোডে নেতাজিভবন।

শঙ্কর ঘোষ এ বাড়ির বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক। বংশপরম্পরায় তাঁরা এই কাজ করে আসছেন। তিনিই জানালেন, রাজ্য সরকারের পূর্ত দফতর বাড়িটি অধিগ্রহণ করেছে, সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজও শুরু হবে শীঘ্র। এ তথ্যে নিশ্চিন্ত হয়ে বেরিয়ে এলাম। (এই দু’ বছরে সেই ভবনের সংস্কার হয়েছে।) বাবুদা তখনও ওখানে বসেছিলেন, বললেন এত দূর থেকে এসেছেন বোসেদের পারিবারিক নারায়ণ মন্দির দেখে যান। তাঁর কথামতো ঠাকুরদালান দেখে নিলাম, দুর্গাপুজোও হয় সেখানে, বোস পরিবারের বর্তমান সন্তানসন্ততিরা নাকি এখনও একত্রিত হন পুজোর ক’টা দিন। নির্জন দালানচত্বরটি আমার বেশ লাগল, অনেকক্ষণ বসে রইলাম চুপচাপ, একা একাই। কান পেতে শোনার চেষ্টা করলাম হরনাথ বোস, জানকীনাথ বোস ও তাঁদের পরিবারবর্গের পুজোকালীন হইচই, হাঁকডাক, কলরব যা কালের অভিঘাতে হয়েছে নিরুদ্দেশ। মন্দিরের গেটটিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে হরনাথ লজ, পাশেই কোদালিয়া হরনাথ বীনাপাণি লাইব্রেরি, অগ্রদূত এবং কোদালিয়া ডাকঘর যার সামনে প্রশস্ত খেলার মাঠ। সম্পন্ন গৃহস্থ হরনাথ বোসই ছিলেন এ সবের মালিক। পাড়াটিও বেশ, ছিমছাম, কোলাহলমুক্ত, শরৎচন্দ্রের পল্লিসমাজের কথা মনে পড়ায়।

কবি সুভাষ থেকে নেতাজি ভবন মেট্রো স্টেশন। পুরো পথটিতেই কোদালিয়া আচ্ছন্ন করে রাখল আমায়। তবে শুধু নেতাজির দাদুর বাড়ি নয়, আরও এক বিখ্যাত বাঙালি সলিল চৌধুরীর মাতুতালয়ও নাকি কোদালিয়া। এ দিকে ট্রেনে উঠেই এক সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছি, যাব ‘নেতাজি ভবন’, টিকিট করেছি ‘নেতাজি’-এর। এই লাইনে প্রথম যাত্রা আমার, তাই ‘নেতাজি’ আর ‘নেতাজি ভবন’ গিয়েছে গুলিয়ে। ভাড়ায় পুরো পাঁচ টাকার ব্যবধান, বৈদ্যুতিক দরজা খুললে হয়! যা ভেবেছি তা-ই, যেখানে ভূতের ভয় সেখানেই সন্ধে হয়, দরজার কাছে নীল পোশাকের নিরাপত্তারক্ষী আর প্লাস্টিকের গোল চাকতিটিকে অবলীলায় অস্বীকার করল মেশিন বাবাজি, পর পর দু’ বার, চিচিং ফাঁকও হল না। ভয়ানক অপ্রস্তুত পরিস্থিতি, এমন সময় দেখা দিলেন স্বয়ং নারায়ণ, আমার পিছনের ভদ্রলোকটি চাকতিটি কুড়িয়ে মেশিনের ওপর রাখলেন, হাতে থাকা স্মার্ট কার্ডটি চেপে ধরতেই পাঁচ টাকার সীমান্ত খুলে গেল, উনি শুধু বললেন, চলুন চলুন। আপনাদের অনেক আগেই জানিয়েছি ভগবান আমার বখাটেপনা ভালোওবাসেন, প্রশ্রয়ও দেন, আজ আবার প্রমাণ হল।

নতুন নাম লালা লাজপৎ রায় সরণি হলেও আমার ভোট এলগিন রোডের তরে, কেননা এলগিন রোড উচ্চারিত হলেই সাথে সাথে সেই ইতিহাসও মনে এসে ভিড় করে যা নিয়ে বাঙালির গর্বের শেষ নেই। নেতাজিভবনের বিশালতা ও শৈলীতে গা ছম ছম শুরু হবে প্রবেশমাত্রই। প্রথমেই চোখ পড়বে সেই গাড়িটির দিকে যা দেশের স্বাধীনতায় দিকনির্ণয়ী ভূমিকা নিয়েছিল। ভাইপো শিশিরচন্দ্র বসু এই অডি করে কাকা সুভাষ বোসকে পৌঁছে দিয়েছিলেন গোমো। যা ইতিহাসের পাশাপাশি বাঙালিজীবনেও মহানিস্ক্রমণ বলে খ্যাত। এ ইতিহাস যদি আপনার জানা থাকে, তা হলে গাড়িটির সামনে গিয়ে দাঁড়ান, ষ্টিয়ারিং হাতে শিশিরচন্দ্র আর পেছনের সিটে হেলান দিয়ে বসে রয়েছেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষ – শুধু এই দৃশ্যটুকু কল্পনা করতে পারলেই মেরুদণ্ডের বৈদ্যুতিক শিরশরানি টের পাবেন নিশ্চিত। এ এমন একটা ঘটনা যা ছাপোষা, সাধারণ, ভীরু বাঙালিকেও আস্পর্ধার পাঠ দেয়, তাকেও বিশ্বাস করতে শেখায় হ্যাঁ বাঙালিও পারে।

the car driven by sisir bose
এই গাড়িতে চাপিয়ে নেতাজিকে গোমো পৌঁছে দিয়েছিলেন ভাইপো শিশির।

নেতাজি রিসার্চ ব্যুরোর যত্নে জানকীনাথ, শরৎচন্দ্র ও সুভাষচন্দ্রের ব্যবহৃত ঘর, বিছানা-সহ আসবাবপত্র দেখানোর আন্তরিক ব্যবস্থাপনা আপনাকে মুগ্ধ করবে। এমন কিছু অনন্য অনুভূতি আপনার মনের দখল নেবে যার নাগাল কখনোই কোথাও বেড়াতে বেরিয়েই আপনি পাননি। মার্বেলপাথরে নির্মিত একজোড়া থালা ও বাটি যা দিয়ে এ বাড়িতে সুভাষের শেষ ডিনার সম্পন্ন হয়েছিল তা দেখে আপনার চোখ ভিজে যাওয়া স্বাভাবিক, যদি আপনি ভাবতে পারেন, এই থালায় খেয়েই ঘরের ছেলেটি দেশান্তরী হয়েছিল। জান্তে অজান্তে সুভাষকে তো আমরা ঘরের ছেলে বলেই মনে করি, তাই না? তাঁর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সংরক্ষিত পদচিহ্নে পা দেবেন না যেন, পারলে ওই মহামানবের পদচিহ্নেই প্রণাম করুন, পুণ্যি হবে। কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীন যে ঘরে বসে কাজকর্ম এবং আগত লোকজনের সঙ্গে উনি দেখা করতেন, তার দেওয়াল ছিল ত্রিবর্ণরঞ্জিত, আজও সে ভাবে রাখা রয়েছে। তিন তলায় সাজিয়ে রাখা তাঁর নিজ হস্তে লেখা চিঠিপত্র, বা জামাকাপড়ের সামনে দাঁড়ালেই আপনার লোম খাড়া হয়ে যাবে অজ্ঞাত মগ্নতায়।

একটা মানুষের কর্মকাণ্ডের ব্যাপ্তি কতখানি হলে তাঁকে ‘নেতাজি’ বলে মেনে নেন স্বয়ং রবিঠাকুর, একটিবার ভেবে দেখুন। কতটা আবেদন থাকলে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত রাষ্ট্রনায়েকরা ছুটে আসেন তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে আজও, এখনও, সেটাও ভাবার বিষয়। আজ যখন সর্বত্রই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা তখন তাঁর উদাত্ত আহ্বান, তাঁর বলিষ্ঠ প্রত্যয় ভীষণই জরুরি ছিল। নেতাজিভবনের আনাচেকানাচে ইতস্তত পদচারণা করলে শ্রদ্ধায় আপন হতেই মাথা নত হয়ে আসে। মিউজিয়াম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে। ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসি বাড়ি থেকে, রাস্তা হতে লাগাতার ছবি তুলতে থাকি, তবুও যেন আশ মেটে না। মহানিষ্ক্রমণের ৭৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে গত ২০১৬ সালে, তবুও যেন সব জীবন্ত। সব দেখেও মনের খিদে মেটে না, কিন্তু যেতে তো হবে। মেট্রো ধরে মহাত্মা গান্ধী রোড স্টেশন, ওপরে উঠলেই মহাজাতি সদন। যার নামফলকে লেখা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিকল্পিত মহাজাতি সদনের শিলান্যাস করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পরবর্তীতে যার দ্বরোদঘটন হয় ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের হাত থরে। এটাও শেষ নয়, শিয়ালদহ যাব বলে মহাত্মা গান্ধী রোড-চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ ক্রসিংয়ে গিয়ে দেখি আরও একটা স্মৃতিফলক। সেখানেও জ্বলজ্বল করছে সুভাষচন্দ্রের নাম । সে ফলক জানান দিচ্ছে, Through this historical place Netaji Subhas Chandra Bose continued his ambitious and never ending journey to free our motherland-INDIA । সত্তর বছরেরও বেশি হয়ে গেল মাতৃভূমি স্বাধীন হয়েছে, নেতাজির পথচলা শেষ হয়নি, সুভাষ ঘরে ফেরে নাই, আজও।

ছবি: পিন্টু মণ্ডল ও লেখক

0 Comments
Share
kolkata-tarapith-ac-bus-to-be-started-by-january-end

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: চলতি মাসের শেষে কলকাতা থেকে তারাপীঠ পর্যন্ত এসি বাস চালু করবে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (এসবিএসটিসি)। এমনই ঘোষণা করলেন এসবিএসটিসির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক তমোনাশ ঘোষ।

মঙ্গলবার তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের অফিসে এই বিষয়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায়, তমোনাশবাবু এবং এসবিএসটিসির কর্তারা।

বৈঠক শেষে একগুচ্ছ নতুন বাসরুটের ঘোষণা হয় এসবিএসটিসির তরফ থেকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল তারাপীঠ থেকে কলকাতার মধ্যে এসি বাস চালু করা। তমোনাশবাবু বলেন, এই বাসটি কলকাতা থেকে সকাল সাড়ে সাতটায় ছেড়ে সাড়ে বারোটায় তারাপীঠ পৌঁছোবে আবার তারাপীঠ থেকে দুপুর দুটোর সময় বাসটি ছেড়ে কলকাতা ফিরে আসে সন্ধ্যা ছ’টার মধ্যে। তিনি বলেন, ‘‘এক দিনে তারাপীঠে গিয়ে পুজো দিয়ে আবার ওই বাসে চড়েই যাতে দর্শনার্থীরা ফিরতে পারেন সেই জন্য বাসের এ রকম সূচি ধার্য করা হয়েছে।”

এ ছাড়াও তারাপীঠ থেকে আরও বেশ কিছু বাস রুট চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। দুই ধর্মীয়স্থানের মধ্যে সংযোগস্থাপনের জন্য বেলুড়-তারাপীঠ বাস পরিষেবাও চালু করার কথা বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, এই মাসের শেষের দিকেই তারাপীঠ সফরে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার পরেই এই বাসরুট চালু হয়ে যাবে বলে আশাবাদী এসবিএসটিসি।

0 Comments
Share
victoria-memorial-to-have-physically-challenged-friendly-features

কলকাতা: বিশেষ ভাবে সক্ষমদের কাছে টানার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল কর্তৃপক্ষ। এই মুহূর্তে ভিক্টোরিয়ায় কিছু রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। আগামী বছর এপ্রিলের মধ্যে সেই কাজ শেষ হবে। তার পরেই এই পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কিউরেটর জয়ন্ত সেনগুপ্ত।

জয়ন্তবাবু বলে, সংগ্রহশালায় ৫০টি নিদর্শনের সামনে ব্রেলি ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে দৃষ্টিহীনরা ভালো করেই নিদর্শনগুলির ব্যাপারে বুঝতে পারবেন।

এ ছাড়াও প্রথম তলের সংগ্রহশালায় যাওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে সক্ষম এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য লিফ্‌ট তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ভিক্টোরিয়ার বাগানে পরিচর্চা এবং নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য রাখা দুই ব্যাটারি চালিত গাড়িকে ব্যবহার করা হবে বিশেষ ভাবে সক্ষম এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য।

১৯২১ সালে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল খুলে দেওয়া হলেও তখন বিশেষ ভাবে সক্ষমদের জন্য কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তবে ভিক্টোরিয়ার ‘হেরিটেজ’ তকমাকে অক্ষত রেখেই যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জয়ন্তবাবু।

0 Comments
Share
duga-puja-parikrama-2018-north-kolkata

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: আজ সোমবার মহাষষ্ঠী। তবে পঞ্জিকা মতে গতকালই ষষ্ঠী পড়ে যাওয়ায় পুজোর বোধন হয়ে গিয়েছে। রবিবার রাস্তায় ছিল জনজোয়ার। লোকে ঠাকুর দেখতে নেমে পড়েছে। আজ অবশ্য হিসেবমতো কাজের দিন। তবু মানুষ দিনের কাজের শেষে পথে নেমে পড়বেন। কিন্তু আজ কোথায়? সাহায্য করছে ভ্রমণ অনলাইন। এ দিনের ঠাকুর দেখা না হয় উত্তর কলকাতাতেই হোক। শুরু করুন বাগবাজার দিয়ে।

bagbazar sarbojanin
বাগবাজার সর্বজনীন। ছবি পাপিয়া মিত্র।

বাগবাজার সর্বজনীন

শত বর্ষে প্রতিবারের মতোই বিশাল প্রতিমা। একচালা ঠাকুর, ডাকের সাজ। সামনের মাঠে বিশাল মেলা। গিরিশ মঞ্চের পাশে মাঠের ওপর মণ্ডপ।

কুমোরটুলি সর্বজনীন

বাগবাজার দেখে রবীন্দ্র সরণি ধরে চলে আসুন কুমোরটুলি সর্বজনীনে। ৮৮তম বর্ষে এদের থিম ‘মাটির ফিসফাস’। গঙ্গাপদ্মার মাটি মিশিয়ে প্রতিমা তৈরি হয়েছে। মণ্ডপের ভিতর আর বাইরে মাটি দিয়ে সাজানো হয়েছে। রয়েছে মাটির লরি, মাটি পোড়ানোর লরি। থিম সং করেছেন ও-পার বাংলার শিল্পী ফারজানা অয়াহিদ সায়ান। কুমোরটুলি বাসস্টপ থেকে গঙ্গার দিকে যেতে গলির ভেতর মণ্ডপ।

কুমোরটুলি পার্ক

কুমোরটুলি সর্বজনীন দেখে রবীন্দ্র সরণিতে আসুন। আরও দক্ষিণে যেতে ডান দিকের গলিতে কুমোরটুলি পার্কের মণ্ডপ। ২৬তম বর্ষে এদের থিম ‘স্বপ্নের রাখাল’। হিংসা হানাহানির মাঝে ভালোবাসার কথা বলতে রাখালের বেশে শ্রীকৃষ্ণ। তিনিও আরাধনা করছেন দেবী দুর্গার।

হাটখোলা গোঁসাইপাড়া

৮১তম বর্ষে এদের নিবেদন ‘সময়ের সংযোগ’। সময়ের সঙ্গে ছুটতে ছুটতে একে অপরের কাছে থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এটিই থিমের বিষয়। থিম বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের স্কালপচার, লোহার খাঁচা ইত্যাদি। কুমোরটুলি পার্ক দেখে রবীন্দ্র সরণি ধরে আরও দক্ষিণে এলে পেয়ে যাবেন হাটখোলা গোঁসাইপাড়া।ল্যান্ডমার্ক হিসেবে রয়েছে বি কে পাল অর্থাৎ বটকৃষ্ণ পালের বাড়ি।

ahiritola sarbojanin
আহিরীটোলা সর্বজনীন। ছবি রাজীব বসু।

আহিরীটোলা সর্বজনীন

৭৯তম বর্ষ। মণ্ডপ তৈরি হয়েছে একটা পুরোনো রাজবাড়ির আদলে। থিমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আহিরীটোলা রাজবাড়ির অঞ্জলির প্রস্তুতি’। মণ্ডপকে ‘ন্যাচরাল লুক’ দিতে ব্যবহার করা হয়েছে আসল মার্বেল, ১৫৭ বাতির বেলজিয়াম গ্লাসের ঝাড়, পুরোনো দিনের আলোর স্ট্যান্ড, ছবি, ঝোলানো পাখা, সুইজ বোর্ড, আসবাবও। থিমের সঙ্গে মিলিয়ে সাবেক ঠাকুর। হাটখোলা গোঁসাইপাড়া দেখে রবীন্দ্র সরণি ধরে আরও দক্ষিণে এসে বিকে পাল আভেনিউ ধরে গঙ্গার দিকে গেলে আহিরিটোলার মোড়েই মণ্ডপ।

নিমতলা সর্বজনীন

৫৩তম বছরের পুজো। থিমে তুলে আনা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। নারী ও শিশু পাচারের বিষয়। থিমের ক্যাপশন ‘আমায় কেন আনলি ডেকে মা’?থিমের সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিমা। অসুর বধের দৃশ্য নেই। আহিরীটোলা থেকে আরও দক্ষিণে গিয়ে নিমতলা ঘাট স্ট্রিটের ওপরই মণ্ডপ।

রবীন্দ্র কানন সর্বজনীন

নিমতলা ঘাট স্ট্রিট ধরে যতীন্দ্রমোহন অ্যাভেনিউয়ের দিকে আসুন। ডান দিকে রবীন্দ্র কানন। ৭৮ বছরের এই পুজো। মণ্ডপে উপহার দেওয়া হচ্ছে রাজস্থান। জয়পুরের স্থাপত্যের আদলে। একটি কাল্পনিক মন্দির তৈরি করা হয়েছে। শিল্পীরা এসেছেন কাঁথি থেকে। নিমতলা ঘাট স্ট্রিট আর রবীন্দ্র সরণির ক্রসিং-এই পার্কের মধ্যে মণ্ডপ।

মৈত্রী সংঘ (যতীন মৈত্র পার্ক)

৭৮তম বর্ষের মণ্ডপ সেজেছে প্যাগোডার রূপে। গোটা মণ্ডপ তৈরি হয়েছে টিনের পাত দিয়ে। কারুকার্যও টিনের, সঙ্গে স্টিলের বাটি। প্রতিমা সাবেক চেহারার। রবীন্দ্র কানন দেখে এইটু উত্তরে চলে আসুন। যতীন্দ্রমোহন অ্যাভেনিউয়ের ওপর যতীন মৈত্র পার্কের ভেতর পুজো।

মহম্মদ আলি পার্ক

যতীন্দ্রমোহন অ্যাভেনিউ, সেন্ট্রাল অ্যাভেনিউ বরাবর মহাত্মা গান্ধী রোডের ক্রসিং পেরিয়ে চলে আসুন মহম্মদ আলি পার্কে। বাঁ দিকে পুজোমণ্ডপ। ৫০তম বর্ষে থিম পদ্মাবত। চিতোরগড় দুর্গ। গোটা মণ্ডপ জুড়ে রাজস্থানের পরিবেশ বিরাজ করছে। দেবীর সাজপোশাক রাজস্থানী রাজকন্যা বা রানির মতোই।

কলেজ স্কোয়ার

৭১তম বছরে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে অক্ষরধাম মন্দিরের আদলে। ভেতরে সাবেক দুর্গা। বিশাল চৌকো ঝাড় লণ্ঠন। মণ্ডপের ভেতরে রামের রাবণবধের গোটা কাহিনি। আলোকসজ্জায় রয়েছে অভিনবত্ব। রয়েছে বুলেট ট্রেনও। কলেজ স্ট্রিটের উপরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উলটো দিকে পার্কের ভেতর মণ্ডপ।

কানাইধর লেন অধিবাসীবৃন্দ

৬৮তম বছরে থিম ‘বিশ্বমাঝে রঙিন এ জীবন’। হানাহানি হিংসার মধ্যে এই ক’দিন শান্তি ফিরে পেতে এই থিম-ভাবনা। মণ্ডপের গলির ভেতরটাকে পৃথিবী কল্পনা করে সর্বত্র মা দুর্গার পায়ের ছাপ আঁকা হয়েছে। ভেতরে সুতোর কাজ। কলেজ স্কোয়ারের পেছনে রাজা রামমোহন সরণির কাছে।

santosh mitra square pandal
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার মণ্ডপ। নিজস্ব চিত্র।

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার বা লেবুতলা পার্ক

৮৩ বছরের চমক রুপোর বিশাল রথ। ১০ টন রুপোর ব্যবহার হয়েছে। ৪০ ফুট উঁচু রথ। দর্শকদের কালো চশমা পরে ঠাকুর দর্শনে আসতে বলা হয়েছে। শিয়ালদা অঞ্চলে লেবুতলা পার্কে মণ্ডপ।

শিয়ালদা অ্যাথলেটিক ক্লাব

৭১তম বর্ষে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে গ্রামের আদলে। রয়েছে আদিবাসীদের জীবনের টুকরো ছবি। মণ্ডপময় ধানের খেত, গোয়ালে গরু, ছাগল, পুকুরে মাছ ইত্যাদি দেখানো হয়েছে। প্রতিমা সাবেক। শিয়ালদা স্টেশন বাসস্টপের কাছে গলির ভেতর মাঠের ওপর বিশাল মণ্ডপ।

chaltabagan
চালতাবাগান মণ্ডপ। ছবি রাজীব বসু।

চালতাবাগান

শিয়ালদা অ্যাথলেটিক ক্লাব দেখে উত্তরে চলুন। মানিকতলা মোড় থেকে বাঁ দিকে বিবেকানন্দ রোডে ঢুকুন। আমহার্স্ট স্ট্রিট ও বিবেকানন্দ রোডের ক্রসিং-এ মণ্ডপ। ৭৬তম বছরে মণ্ডপ রয়েছে শান্তিনিকেতনে। উপস্থিত রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। তুলে ধরা হচ্ছে দোল, বাউল উৎসবের মতো শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন উৎসব।

সিমলা ব্যায়াম সমিতি

বিবেকানন্দ রোড ধরে এগিয়ে যান। গিরিশ পার্কের কিছু আগে বাঁ দিকের রাস্তায় মণ্ডপ। ৯৩তম বছরে সিমলা ব্যায়াম সমিতি তৈরি করেছে মার্বেল প্যালেস। ভিতরে রয়েছে রাজমহলের পরিবেশ। রাজকীয় ঝাড় থেকে আসবাব সবই রয়েছে সেখানে। ঠাকুর ঐতিহ্য মেনে সাবেক ধরনের।

বিডন স্ট্রিট সর্বজনীন

সিমলা ব্যায়াম সমিতি দেখে একটু পিছিয়ে এসে বিধান সরণি ধরুন, উত্তরে এগিয়ে চলুন। বিডন স্ট্রিটের মোড়ে এসে বাঁ দিকে চলুন। বিডন স্ট্রিটের উপরেই মণ্ডপ। ৭৮ তম বছরেও ঠাকুরদালানের আদলে মণ্ডপ। একচালার সাবেক প্রতিমা।

হরিঘোষ স্ট্রিট সর্বজনীন

বিডন স্ট্রিট সর্বজনীনের কাছেই হরি ঘোষ স্ট্রিট সর্বজনীন। বিধান সরণিতে হেদুয়া পার্কের উলটো দিকে বিডন স্ট্রিটে ঢুকে ডান হাতের প্রথম গলি হরি ঘোষ স্ট্রিট। একটু এগোলেই মণ্ডপ। ৭৯তম বর্ষে এদের প্রচেষ্টার নাম – ‘মাগো তোমার চরণে দিলাম ফুল, ক্ষমা কর মোর সব ভুল’। কৃত্রিম ফুল পাতা ইত্যাদি দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে।

durga of kashibose lane
কাশীবোস লেনের প্রতিমা। ছবি রাজীব বসু।

কাশীবোস লেন

কাছেই কাশীবোস লেনের পূজা। ৮১তম বর্ষে থিম ‘আমার আলিন্দে’। মণ্ডপ তৈরি হয়েছে একাধিক বারান্দার আদলে। মণ্ডপের সামনেটা ছাদ। ভেতরে বারান্দা। নানান ধরনের হারিয়ে যাওয়া বারান্দার দেখা মিলছে মণ্ডপে। সবটা জুড়েই রয়েছে হারিয়ে যাওয়া নানান জিনিসের উপস্থিতি। প্রতিমা রাজনন্দিনীর বেশে মুক্ত আকাশের নীচে ছাদের ওপর নৃত্যরতা অবস্থায় বিরাজ করছেন।

darjipara
দর্জিপাড়ার প্রতিমা। ছবি রাজীব বসু।

দর্জিপাড়া সর্বজনীন

কাশীবোস লেন দেখে চলে আসুন দর্জিপাড়া সর্বজনীনে। রূপবাণী বাসস্টপের কাছে লক্ষ্মীনারায়ণ চপের দোকানের গায়ে গলির ভেতরে ব্ল্যাকস্কোয়ার পার্কের মাঠে পুজো। ৮১তম বছরে দর্জিপাড়ার থিম দশভূজা। বিশালকার দশ হাত দিয়ে মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে। মণ্ডপের বাইরে হরপার্বতীর মূর্তি। ভেতরে একাধিক দুর্গার রূপ ও পদ্মের ইন্সটলেশন।

hatibagan sarbojanin
হাতিবাগান সর্বজনীন। ছবি রাজীব বসু।

হাতিবাগান সর্বজনীন

চলে আসুন হাতিবাগান মোড়ে, চলুন খান্নার দিকে। পথেই পড়বে হাতিবাগান সর্বজনীন। ৮৪তম বছরে থিম-ভাবনা ‘অন্তর্জাল’। প্রযুক্তি, ইন্টারনেট কী ভাবে সমাজ-মানসকে গ্রাস করছে তা বোঝানো হয়েছে অসংখ্য তারের জাল, স্তম্ভ ইত্যাদি দিয়ে। তারের জাল দিয়েই গোটা মণ্ডপ। থিমের সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিমা। জাল কেটে বেরিয়ে আসার ভঙ্গিতে।

nalin sarkar street durgapuja
নলিন সরকার স্ট্রিট দুর্গাপুজো। ছবি রাজীব বসু।

হাতিবাগান নলিন সরকার স্ট্রিট

খান্নার মোড়ের কাছে নলিন সরকার স্ট্রিটের ৮৬ বছর। এদের পুজোর থিম প্রযুক্তি আর ইন্টারনেট নিয়েই। এই সবের বশে চলে যাচ্ছে মানবজীবন। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে মানুষ। এই সবের ফলাফল কী দাঁড়াচ্ছে তাই রয়েছে গোটা মণ্ডপ জুড়ে। দেবীর রূপ সাবেক।

হাতিবাগান নবীনপল্লি

৮৫তম বছরে থিম ‘পাঠাগার’। ইন্টারনেটের যুগে ব্যস্ততম সময় হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার অভ্যাস, সময়ও নেই বললেই চলে। এই অবস্থায় ই-বুকই সম্বল। নতুন প্রজন্ম তো পাঠাগার ব্যাপারটাই সে ভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। তাই প্রায় ৫০ হাজার বই দিয়ে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। একচালা প্রতিমার চালচিত্রও বইয়ের। হাতিবাগান মোড় থেকে শ্যামবাজারের দিকে যেতে বাঁ হাতে মণ্ডপ।

শিকদারবাগান

১০৬ বছরে থিম সে কালের বাবুদের সংস্কৃতি। মণ্ডপে রয়েছে সে কালের খড়খড়ির জানলা, আলো-বাতি, আবহতে সেই সময়কার গান। পরিবেশে বনেদিয়ানা বিরাজ করছে। মূল মণ্ডপ বনেদিবাড়ির নাটমন্দিরের আদলে। সাবেক প্রতিমা একচালার। টাউন স্কুল বাসস্টপের কাছে গলির মুখে পুজো।

মোহনবাগান বারোয়ারি

১০২ বছরে সাবেক প্রতিমা ও মণ্ডপসজ্জায় সাবেকিয়ানা। অষ্টমীতে কুমারীপুজো। হাতিবাগান থেকে শ্যামবাজার যাওয়ার পথে ডান হাতে গলির ভেতর পুজো।

টালাপল্লি সাধারণ দুর্গোৎসব

৭১ বছরে থিম ‘বাঁচুন ও বাঁচতে দিন’। মণ্ডপ তৈরি হয়েছে প্ল্যাস্টিক ব্যাগ ও বোতল দিয়ে। মণ্ডপের ভেতরে একটি কৃত্রিম পাড়া তৈরি করা হয়েছে সচেতনতা গড়ে তুলতে। সঙ্গে পাটের ব্যবহারও রয়েছে অন্দরসজ্জার কাজে এবং প্রতিমার পোশাক ও অলংকারের কাজে। টালা পোস্ট অফিস বাসস্টপে নেমে বাঁ হাতেই মণ্ডপ ব্রিজের পাশেই।

টালা বারোয়ারি               

এ বছরের থিম ‘মা’। সারা জীবন মা সন্তানের জন্য ব্যয় করেন। সেই মাকে ঘিরে নানান বিষয় তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপে। বলা হয়েছে ‘আমি খানিকটা আমার মতো, বাকিটা আমার মায়ের মতো’। থিমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঠাকুর। টালা পোস্ট অফিস বাসস্টপে নেমে ডান দিকে এই পুজো।

টালা সরকারবাগান সম্মিলিত সংঘ

এ বছরের থিম ‘উৎসর্গ’। মণ্ডপ ত্রিনয়নের আদলে। সফল নারীদের উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে মণ্ডপ। টালা স্টেশনের কাছে মণ্ডপ।

টালা পার্ক প্রত্যয়

এ বছরের থিম ভূগর্ভের জগৎ ‘অতল অনন্ত’। মণ্ডপে ঢোকার সময় ভূমিকল্প অনুভব করবেন দর্শকরা। তার পরই রয়েছে টারবাইনে চড়ে টানেলের ভেতর দিয়ে জলের নীচে পৌঁছোনোর পালা। একটি গুহায় রয়েছেন প্রতিমা। টালা পার্কের কাছে মণ্ডপ।

0 Comments
Share
kolkata-sikkim-flights-before-puja

কলকাতা: মাস ছয়েক হল খুলে গিয়েছে সিকিমের প্রথম বিমানবন্দর। এ বার সেই পেকং বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কলকাতার উড়ান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। বেসরকারি বিমানসংস্থা স্পাইসজেট জানিয়েছে আগামী ৪ অক্টোবর থেকে কলকাতা-পেকং উড়ান চালাবে তারা। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিংকে পাশে বসিয়ে একটি বিবৃতির মধ্যে এই ঘোষণা করে স্পাইসজেট।

প্রতি দিনই কলকাতা এবং পেকং-এর মধ্যে একটি করে উড়ান চালাবে তারা। ১৬ অক্টোবর থেকে পেকং-এর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যাবে গুয়াহাটিও। এই দুটি রুটে ‘বম্বাডিয়ার কিউ-৪০০’ বিমান নামাবে তারা।

আরও পড়ুন পেলিং-সাঙ্গাচোলিং রোপওয়ে, মৈনাম পাহাড়ে স্কাইওয়াক, পর্যটন প্রসারে সিকিমের নানা উদ্যোগ

প্রতি দিন সকাল সাড়ে ন’টায় কলকাতা থেকে পেকং-এর উদ্দেশে উড়বে স্পাইসজেটের ‘এসজি ৩৩২৪’ উড়ানটি। অন্য দিকে গুয়াহাটি থেকে ‘এসজি ৩৩২৫’ উড়ান উড়বে প্রতি দিন সকাল সওয়া এগারোটা থেকে।

দেশের একশোতম বিমানবন্দর হিসেবে গত মার্চে এই বিমানবন্দর খুলে গেলেও যাত্রীবাহী বিমান ওঠানামার অনুমতি মেলে মে মাসে। সিকিমই ভারতের একমাত্র রাজ্য ছিল যেখানে কোনো বিমানবন্দর ছিল না।

0 Comments
Share
know-the-details-about-the-puja-packages-offered-by-west-bengal-tourism-development-corporation

ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: দুর্গাপুজো উপলক্ষে কয়েকটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগম। দেখে নেব সেই প্যাকেজগুলি। 

১) তর্পণ-সহ মহালয়া প্যাকেজ 

৮ অক্টোবর, যাত্রা শুরু সকাল ৮টা, যাত্রা শেষ বিকেল ৩টেয়

বাবুঘাটে তর্পণ দেখিয়ে সেখান থেকে ভেসেলে যাত্রা শুরু হবে। দক্ষিণেশ্বর হয়ে আপনাকে নিয়ে যাওয়া হবে বেলুড় মঠে। কুমোরটুলিতে প্রতিমা তৈরির কাজ দেখিয়ে বাবুঘাট জেটিতেই ফিরিয়ে আনা হবে আপনাকে। গোটা প্যাকেজের খরচ জনপ্রতি ১৬০০ টাকা। প্রাতরাশ এবং দুপুরের নিরামিষ মধ্যাহ্নভোজনের খরচ ধরা আছে।

আরও পড়ুন জঙ্গল, পাহাড় ও কাঞ্চনময় তিনচুলে

২) গঙ্গাবক্ষে শারদোৎসব

সকাল- ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা

বিকেল- ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা

বাবুঘাট জেটি থেকে ভেসেল ছাড়বে। গঙ্গাবক্ষে কলকাতা এবং হাওড়া দেখানো হবে। সেই সঙ্গে ভেসেলের মধ্যেই হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকালের প্যাকেজের জন্য খরচ জনপ্রতি ১৫০০ টাকা। এর মধ্যে ধরা রয়েছে ‘ওয়েলকাম ড্রিঙ্ক’, মুখরোচক খাবার এবং মধ্যাহ্নভোজন। বিকেলের প্যাকেজটির খরচ জনপ্রতি ১৭০০ টাকা। এর মধ্যে ধরা হয়েছে ‘ওয়েলকাম ড্রিঙ্ক’, মুখরোচক খাবার এবং নৈশভোজের খরচও। সকালের প্যাকেজের জন্য বাবুঘাটে পৌঁছোতে হবে সকাল ৯:৩০-এ এবং বিকেলের প্যাকেজের জন্য বাবুঘাট পৌঁছোতে হবে বিকেল সাড়ে পাঁচটায়।

আরও পড়ুন ফের শুরু হলং লজের অনলাইন বুকিং, কিন্তু…

৩) বিসর্জন সফর

২০ এবং ২১ অক্টোবর। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে সাতটা এবং রাত আটটা থেকে সাড়ে ন’টা। 

গঙ্গাবক্ষে সফরে বিসর্জনের আনন্দ উপভোগ করুন। নিউ বাবুঘাট জেটি থেকে ভেসেল ছাড়বে। দেড় ঘণ্টার এই সফরে ওয়েলকাম ড্রিঙ্ক এবং মুখরোচক খাবার-সহ জনপ্রতি খরচ ধরা হয়েছে ৭০০ টাকা। 

প্যাকেজগুলির ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে এবং অনলাইনে বুকিং করতে লগইন করুন- www.wbtdcl.com

 

0 Comments
Share