লাদাখ মানেই শুধু লেহ নয়। নুব্রা উপত্যকা থেকে কার্গিল—প্রতিটি প্রান্তেই রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। কিন্তু দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে লাদাখের এই এলাকাগুলিতে পৌঁছনো এখনও যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ। এবার সেই ছবিই বদলাতে চলেছে। থোইস ও কার্গিল বিমানবন্দরকে অসামরিক বিমান পরিষেবার আওতায় আনার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে লাদাখের একাধিক পর্যটনকেন্দ্রে সড়কপথের পাশাপাশি আকাশপথেও পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নুব্রা উপত্যকার থোইস বিমানবন্দরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রানওয়ে সংস্কারের কাজ চলছে। নতুন টার্মিনাল পুরোপুরি তৈরি হওয়ার আগে পুরনো চার্টার টার্মিনাল সংস্কার করে সেখান থেকেই অসামরিক বিমান পরিষেবা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে থোইস থেকে নাগরিক বিমান চলাচল শুরু করা।
কার্গিল বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে অবশ্য এখনও প্রস্তুতি পর্ব চলছে। বিমানবন্দরটি নিয়মিত যাত্রীবাহী বিমান চালানোর উপযুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখতে ভারতীয় বায়ুসেনা, এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া এবং অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের যৌথ দল পরিদর্শন করবে। পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
এই দুই বিমানবন্দর চালু হলে পর্যটকদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে সময় বাঁচানো। বর্তমানে লেহ থেকে নুব্রা যেতে দীর্ঘ পাহাড়ি রাস্তা পেরোতে হয়। খারদুং লা পেরিয়ে পৌঁছতে সময়ও লাগে বেশ কয়েক ঘণ্টা। আকাশপথ চালু হলে সেই দীর্ঘ যাত্রার বিকল্প তৈরি হবে।
একই ভাবে কার্গিল, দ্রাস এবং আশপাশের এলাকাতেও পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হতে পারে। ফলে লেহ-কেন্দ্রিক পর্যটনের পাশাপাশি লাদাখের অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত এলাকাগুলিতেও পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সীমান্তবর্তী ও কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়ায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বজায় রেখেই বিমান পরিষেবা চালু করতে হবে। ফলে থোইসের প্রস্তুতি এবং কার্গিলের পরিকাঠামো যাচাই—দুই দিকেই নজর পর্যটন মহলের।




