Category ভ্রমণ কাহিনি

ঘুরতে বেরিয়ে নানা স্মৃতি জমা হয় মনের মধ্যে। সেই সব স্মৃতি হাতড়ে লেখা এই বিভাগের ভ্রমণ কাহিনিগুলি।

ওখরে-হিলে-ভার্সে, যেন মেঘ-বালিকার গল্প

Trek route to Varsey

ছোট্টবেলা থেকে মা-বাবার সঙ্গে কোলে চেপে, হাত ধরে, প্রচুর ভ্ৰমণ করেছি। যাওয়ার আগে তোড়জোড়, প্যাকিং করা থেকেই মনটা ঘুরতে শুরু করে দেয়। অনিন্দ্যকাকুরা, মানসকাকুরা আর আমরা সাত জন য্খন একেএকে সকলে শিয়ালদহ স্টেশনে এসে পোঁছোলাম মনটা আমার এ বার ভাসতে…

এক টুকরো ইতিহাস – বাণগড়

bangarh

 দুই বাংলার কাঁটাতার গলে অশ্রুধারার মতো নেমে এসেছে তিনটে নদী – টাঙ্গন, পুনর্ভবা আর আত্রেয়ী। বুনিয়াদপুর থেকে জাতীয় সড়ক ধরে বালুরঘাটের দিকে গেলে এরা তিনজনই একে একে এসে ধরা দেয়। ইতিহাসের চোরাস্রোতে তলিয়ে যাওয়া কত গল্প বলে। গঙ্গারামপুর থেকে শিববাটির…

জঙ্গল, পাহাড় ও কাঞ্চনময় তিনচুলে

অঙ্কিতা দত্ত “এ তো গভীর জঙ্গল! সূর্যের আলো প্রায় ঢুকছেই না” – গাড়ি থেকে নেমেই জেঠু বললেন। এইমাত্র তিনচুলে এসে পৌঁছোলাম। দু’দিকের চা বাগান আর তার মাঝের রাস্তা দিয়ে গাড়ি করে আসতে আসতে চা বাগানের রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যে…

কাঁকসা, দেউল ও কেঁদুলির জয়দেব

through the forest path

নিজেকে নিয়ে চিন্তা হচ্ছে ইদানীং। ক্যালেন্ডারে লাল কালি দেখলেই, পল্টু উঠছে লাফিয়ে। চলো পালাই, কিছু করে দেখাই। আর পড়ে যাচ্ছি দোটানায়, না গেলে ছুটি নষ্ট, আর গেলে বউ রুষ্ট। আবার সর্বদা সে সঙ্গে যাবে, তা-ও না। যেতে বললে হাজারো টালবাহনা,…

ইতিহাসের দেশে ৪ / দেখে নিলাম একলাখি, কুতুবশাহী আর আদিনা

আগের দিন অব্দি গৌড়ের ইতিকথা বলার চেষ্টা করেছি। এটা বলতেই হবে যে তথ্যের জন্য ইন্টারনেট ঘাঁটতে হয়েছে। যা পেয়েছি সেটাই কেটেছেঁটে আমার ভাষায় আপনাদের কাছে পেশ করেছি মাত্র। তাই এই লেখায় আমি প্রধানত পেশকারের ভূমিকা পালন করেছি, লেখকের ভূমিকা নয়।…

ইতিহাসের দেশে ৩ / গৌড় দেখা শেষ করে পান্ডুয়ার পথে

বাইশগজী দেওয়াল থেকে আমবাগানের মাঝখান দিয়ে বাঁ দিকে মাটির রাস্তা চলে গিয়েছে। বাঁ দিকে কিছু দূর হেঁটে যাওয়ার পর দেখলাম অস্পষ্ট এক বোর্ডে লেখা ‘বল্লালবাটি’। এটা যে মাটি খুঁড়ে পাওয়া গিয়েছে সেটা স্পষ্টই বোঝা যায়। কারণ আমরা উপর থেকে নীচের…

ইতিহাসের দেশে ২ / দাখিল দরওয়াজা, ফিরোজ মিনার, বাইশগজী দেওয়াল

একটু চলেই পৌঁছে গেলাম দাখিল দরওয়াজায়। এটি যে কে তৈরি করেছিল তা নিয়ে বিতর্ক আছে। কেউ বলেন হুসেন শাহ ১৪২৫ সালে এটা তৈরি করেছিলেন। আবার বলা হয় এই সৌধটির রূপকার বারবক শাহ। যদি গৌড়কে একটা দুর্গ বলে ধরে নেওয়া হয়,…

ইতিহাসের দেশে ১ / এলাম বড়ো সোনা মসজিদে

লেখার আগে একটু ভূমিকা। অনেক দিন পরে আবার লিখতে বসেছি। উদ্দেশ্য একটি ভ্রমণবৃত্তান্ত লেখার। কিন্তু লিখতে গিয়ে মুশকিলে পড়লাম। মুশকিল হল এ বারের দ্রষ্টব্য হল ইতিহাস। তাই যা দেখেছি তার একটু ইতিহাস না দিলে লেখাটাই হয় না। অতএব ইন্টারনেট ঘেঁটে…

মেঘ পিওনের পাটনিটপ

‘…আমার দিকে কেন তাকায়, তোমার চোখ,/লিখতে কেন বাধ্য করে এই অবেলায়,/দ্বিধান্বিত সুখ! সেও তো এক মনের অসুখ…’। পাইনের বুক চিরে যখন সূর্য উঁকি দিল, তখন একদল মেঘ উড়ে গেল নির্জন রাস্তা দিয়ে। ৬৫০০ ফুট উঁচু এই হিল স্টেশনে মেঘ ঘুরে…

মধুবনীর সৌরাটে, স্বয়ংবরসভার গ্রামে টোটোগিরি

ট্রেনের শয়নযানে দ্বারভাঙা চলেছি৷ এপ্রিলের প্রথম দিকের ভোরে ঘুম ভাঙতেই ট্রেনের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালাম। বিহারের উত্তর অংশের রুক্ষ সবুজ গ্রাম আর নতুন গমগাছে সোনালী হয়ে ওঠা খেত, সঙ্গে ঠান্ডা ঠান্ডা হাওয়া। সব মিলিয়ে এক পরম প্রাপ্তি৷ দিন শুরু হওয়ার প্রথমেই…