গন্তব্য

ঘুরে আসুন রাজ্যের বারোটি শৈব তীর্থ, পর্ব ১

পর্ব ১

গ্রাম বাংলাতে শিব হলেন জামাই। আবার কোথাও কোথাও শিব হচ্ছেন বুড়ো। ভোজনরসিক বলেও খ্যাতি। তবে তিনি বিরাজ করেন শ্মশানে। তাঁর মাহাত্ম্যে বাংলার মানুষের সকল দুর্দশা দূর হয়। বাংলায় গুপ্ত কুশাণ যুগেও শিব উপাসনার কথা জানা যায়। রাজা শশাঙ্ক ছিলেন নিজে শিব উপাসক।

দেবাদিদেব একটি বেলপাতা, ধুতরার ফুল ও গঙ্গা জলে তুষ্ট হন। গ্রামীণ লোকাচারে তাঁর আবাহন সবচাইতে বেশি। গাঁয়ে গঞ্জে চড়ক, গাজন, শিবচতুর্দশী উৎসবে ধুম লাগে।

ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিটি হল শিবচতুর্দশী ব্রত। ফাল্গুনের এই তিথিতে পুরাণে আছে, শিব ও পার্বতীয় বিয়ে হয়েছিল। নির্দিষ্ট আচার ও নিয়ম রীতি মেনে শিব ও পার্বতীর পুজো করা হয়। শিব নাকি পার্বতীকে বলেছিলেন, এই তিথি পালন করলে সমস্ত পাপ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে। সব দোষ ক্ষয় হবে। শিবচতুর্দশীর আগে থেকেই জেনে নিন আমাদের রাজ্যের বারোটি শৈব তীর্থ সম্বন্ধে।

গৌরীপট্ট

ঘুরে আসুন রাজ্যের ১২ টি শৈব তীর্থ থেকে। অজানা জাগ্রত মন্দির গুলো নিয়ে কত গল্প কথা ছড়িয়ে। আসুন মন্দির গুলো দেখেনি,

তারকেশ্বর :
বাংলার সবচেয়ে প্রধান এক শৈব তীর্থ। দেশের মধ্যেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা বছর তারকেশ্বর ধামে মানুষের ঢল নামে। কলকাতা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে তারকেশ্বর ধাম। ধর্মমঙ্গল কাব্যে এই মন্দিরের উল্লেখ আছে। হাওড়া থেকে ট্রেনে সহজেই পৌঁছে যান তারকেশ্বর স্টেশন। তারকেশ্বরে পৌঁছে বাবা তারকনাথ মন্দিরে পুজো দিয়ে পূণ্য দুধপুকুরে স্নান করে নিন। আপনার সকল মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে।

মহানাদ:
হুগলির পান্ডুয়ার উপকণ্ঠে অবস্থিত মহানাদ শৈব তীর্থ। বাংলার অন্যতম এক প্রাচীন জনপদ। মহানাদ অত্যন্ত জাগ্রত এক স্থান। শিবচতুর্দশী এখানে মহা সমারহে পালন হয়। একসময়ে রাঢ় অঞ্চলের রাজধানী ছিল মহানাদ। কুশাণ যুগের মুদ্রা, গুপ্তযুগের সুবর্ণ মুদ্রা ও বহু নিদর্শন এখানে মাটি খোঁড়াখুড়ি করে পাওয়া যায়। মহানাদে নাথ সম্প্রদায়ের দেবতা জটেশ্বর শিব। হাওড়া থেকে ট্রেনে পান্ডুয়া স্টেশন নেমে টোটো নিয়ে সহজেই চলে আসুন মহানাদ। ভক্তদের বিশ্বাস জটেশ্বর শিবের কাছে মানত করলে ফল মিলবেই। মন্দির চত্বরে আছে বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

শিব অন্নপূর্ণা মন্দির, মহানাদ

গঙ্গাবাস :
মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের হরিহর মন্দির গঙ্গাবাসে অবস্থিত। গঙ্গাবাস নামকরণ করেছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র স্বয়ং। ট্রেন পথে কৃষ্ণনগর স্টেশন। সেখান থেকে বাসে আমঘাটা স্টপেজে নেমে পায়ে হেঁটে বা টোটোতে চলে আসুন মন্দির প্রাঙ্গণ। অলকানন্দা নদীর তীরে গঙ্গাবাস। কৃষ্ণচন্দ্র শেষ জীবন এখানে কাটান। হরিহর মন্দিরে হরিহরের বিগ্রহটি কৃষ্ণচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত করেন। বিগ্রহ চতুর্ভুজ। সঙ্গে আছে মাটির পার্বতী ও লক্ষী। ১৭৭৬ সালে মন্দিরটি তৈরি হয়। শিখরদেশটি ত্রিকোণ চারচালা। আমঘাটার গঙ্গাবাসে মন্দিরের চারপাশের সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করতে আসেন পর্যটকরা।

(চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *