Category ভ্রমণকথা

কৃত্তিবাস ও গোঁসাইবাড়ির শান্তিপুর : শেষ পর্ব

পরোটা, আলুভাজা আর রসগোল্লা উদরস্থ করে আবার ছুট। প্রথমেই ৩২৩ বছর পুরোনো তোপখানা মসজিদ। গাজী ইয়ার মহম্মদের প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদটিতে মোঘল আমল থেকে ঝোলানো একটি ঝাড়বাতি একই ভাবে রয়েছে বলে খবর ছিল। কিন্তু না, নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেটা আর দেখা…

শীতের হিমাচলে ৭/ ডালহৌসির প্রবল ঠান্ডায়

সুভাষ বাউলি দেখে চামেরা লেকের পথ ধরতেই বুঝতে পারলাম, ডালহৌসিতে দু’দিন থাকার পরিকল্পনা বাতিল করে মন্দ কিছু করিনি। সকাল সাড়ে ন’টার মধ্যেই ডালহৌসির সাইটসিয়িং শেষ। দু’দিন থাকলে একটা দিন নষ্টই হত বলা যায়। গতকাল রাতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ডালহৌসিতে দু’দিন…

শীতের হিমাচলে ৬/ খাজিয়ারের তুষারচমক

নতুন বছরটা এর থেকে বেশি ভালো হতে পারত না। ঘরের দরজা খুলতেই পুরো চমকে দেওয়া দৃশ্য। সামনের মাঠ পুরো সাদা হয়ে রয়েছে। দূরের হোটেলের চাল, দূরের রেস্তোরাঁর টেবিলও সাদা। সব কিছুতেই বরফের একটা আস্তরণ। অথচ সারারাত বৃষ্টি বা তুষারপাত কিছুই…

চলুন মমতাজমহলের স্মৃতি বিজড়িত শাহি হাম্মামের শহরে

‘হাম্মাম’ আরবি শব্দ। ‘হাম্মাম’ থেকে ‘হাম্মামখানা’ শব্দটি এসেছে, যার অর্থ ‘স্নানাগার’ অর্থাৎ ‘গোসলখানা’। তবে সর্বসাধারণের নয়, রাজকীয় গোসলখানা। হাম্মামখানা আদতে সুইমিং পুলের মতো একটি চৌবাচ্চা। মাটি থেকে কিছুটা উঁচুতে তৈরি করা হত। পোড়ামাটির নল দিয়ে গরম ও ঠান্ডা জল চৌবাচ্চায়…

শীতের হিমাচলে ৫/ মণিমহেশের প্রবেশদ্বারে

কনকনে ঠান্ডা হাওয়া সহ্য করেই এগিয়ে যাচ্ছি মন্দিরের দিকে। রাস্তার ধারে উঁকি মারছে ইতিউতি বরফ। মোবাইলে তাপমাত্রা দেখতে গিয়েই চক্ষু চড়কগাছ! এই ভরদুপুর বারোটায় তাপমাত্রা বলছে কি না ২ ডিগ্রি! অবশ্য হবে নাই বা কেন। অন্য বার হলে এখন এখানে…

শীতের হিমাচলে ৪/ জোত পাস, যেখানে হাতছানি দেয় স্বর্গ

মদনলালজি গাড়িটা থামাতেই নিজের চোখকে যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এ আমি কী দেখছি! আমার সামনে ধবধবে সাদা বরফ! এই বরফ দেখার জন্যই তো এত কড়া শীতেও হিমাচল ভ্রমণের রিস্ক নিয়েছি। অবশেষে তার দেখা পেলাম! গাড়ি থেকে নামতেই আরও এক…

শীতের হিমাচলে ৩/ কাংড়া ফোর্ট দেখে দলাই-ভূমে

গাড়ির দরজা খুলতেই হাড়হিম করা ঠান্ডা গ্রাস করল। এই ট্যুরে আপাতত সব থেকে বেশি ঠান্ডার মুখোমুখি। আকাশের মুখ ভার, সেই সঙ্গে দোসর কনকনে ঠান্ডা হাওয়া। অথচ এক ঘন্টা আগেই রীতিমতো ঘেমেছি। ঘামব নাই বা কেন, পুরো কাংড়া ফোর্ট হেঁটে উঠতে…

নির্জনবিলাসী ঘাটশিলায় ২ / ‘অপুর পথ’ ধরে সুবর্ণরেখা-তীরে

ছায়ামাখা পথ টিলা ঘিরে উঠে গিয়েছে। আকাশছোঁয়া বনবীথিকা ইঙ্গিত জানায় কাছে আসার। টিলার মাথায় বুনো গাছের জঙ্গল, বসন্তের হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার হতে শুরু হয়। সাঁওতাল উৎসবের পূর্ব সূচনা, বাহা পরবের প্রস্তুতি। ঘাটশিলার ফুলডুংরি তখন মাদলের ছন্দে আর মহুয়ার নেশায়…

শীতের হিমাচলে ২/ ধৌলাধারের পাদদেশে পালমপুরে

Dhauladhar range from the road to Palampur

ঈশ্বরের কী দান! পালমপুর ঢোকার আগে থেকে ঠিক এটাই ভেবে যাচ্ছিলাম। প্রকৃতির রূপ যে তুলনাহীন। গোটা অঞ্চলের উচ্চতা সমুদ্রতল থেকে চার-সাড়ে চার হাজার ফুট হবে। কিন্তু সম্পূর্ণ সমতল। সামনেই বরফমাখা ধৌলাধার। অঞ্চলের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে ব্রিটিশ আমলের চা বাগান। এই…

নির্জনবিলাসী ঘাটশিলায় ১ / বড়ো মন ছুঁয়ে যাওয়া নাম, ফুলডুংরি

অগত্যা সাংবাদিক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হল। পথ ডাকলে কী হবে? মনের সাড়া পেতে হবে। এ ঘর সে ঘর ঘুরে মন বলল চলো যেখানে প্রকৃতির চেটেপুটে স্বাদ নেওয়া যায়, যেখানে বাইরে কঠি্‌ন, ভিতরে নরম মাটির সুর শোনা যায়, সেখানেই খ্যাপার…