The post পর্যটকদের চোখ এড়িয়ে যাওয়া হিমাচলের ৫ লেক, যাদের সৌন্দর্যে আপনি মুগ্ধ হবেনই appeared first on Bhramon Online.
]]>কুলু থেকে প্রায় ৭৫ কিমি দূরে অবস্থিত ছোট, বৃত্তাকার এই লেকটি যেন আয়নার মতো স্বচ্ছ। জলোরি পাস থেকে ট্রেক করে পৌঁছাতে হয় এখানে। স্থানীয় বিশ্বাস, এই লেকে এক দেবীর বাস, যিনি লেকের শুদ্ধতা রক্ষা করেন। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য আদর্শ এই লেক।
স্পিতি, কিন্নর ও লাহৌল জেলার সীমানায়, মানে ও মানেয়োগমা গ্রামের ওপরে অবস্থিত এই মৌসুমি লেকটি গ্লেসিয়ারের গলানো জলে তৈরি হয়। গ্রীষ্মে লেক পরিপূর্ণ থাকে, কিন্তু দেরিতে গেলে শুকনো অবস্থায় পাওয়া যেতে পারে। একেবারেই নিঃসঙ্গ, মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
তুষারঢাকা ধৌলাধার পর্বত ও উঁচু বৃক্ষের মাঝে নীল জলের এই লেকটির তীরে রয়েছে পরাশর মুনির নামে একটি প্যাগোডা আকৃতির মন্দির। কথিত আছে, প্রাচীন ঋষিরা এখানে দীর্ঘ সময় ধরে ধ্যান করতেন। এখানে একটি ভাসমান দ্বীপ রয়েছে যা এই লেককে আরও রহস্যময় করে তোলে।
চাঁদের মতো দেখতে এই লেক ‘মুন লেক’ নামেও পরিচিত। প্রায় ৪৩০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় ভ্রমণের উপযুক্ত। ট্রেকিং করে পৌঁছতে হয় এখানে, আর এই পথের প্রকৃতি আপনাকে বিস্ময়াবিষ্ট করে তুলবে।
ভারতের তৃতীয় উচ্চতম এবং বিশ্বের ২১তম উচ্চতম লেক এটি। হিন্দু পুরাণ অনুসারে সূর্যদেব এখানে স্নান করেছিলেন, তাই এটি পবিত্র বলে ধরা হয়। আশেপাশে জনবসতি নেই বললেই চলে, নিঃসঙ্গতায় প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চাইলে এটি আদর্শ গন্তব্য।
যদি আপনি প্রকৃতির কোলে কিছু সময় একান্তে কাটাতে চান, এবং পাহাড়ের বুকে এখনও অপরিচিত এমন সৌন্দর্যের খোঁজে থাকেন—তবে হিমাচলের এই পাঁচটি লুকনো লেক আপনার ভ্রমণ তালিকায় থাকতেই হবে। প্রচলিত রুট থেকে একটু সরে এলেই মিলবে অনন্য অভিজ্ঞতা।
আরও পড়ুন: চলুন সড়কপথে: জয়পুর থেকে জৈসলমের
The post পর্যটকদের চোখ এড়িয়ে যাওয়া হিমাচলের ৫ লেক, যাদের সৌন্দর্যে আপনি মুগ্ধ হবেনই appeared first on Bhramon Online.
]]>The post আপনার হারিয়ে যাবার সফরে এবার কমলালেবুর গ্রাম সিটং appeared first on Bhramon Online.
]]>নিরিবিলি এই গ্রামে কিছু পাহাড়ি মানুষের বাস। কুয়াশামাখা পাহাড়ি পথ ধরে এগোলে দেখা যাবে চারিদিকে প্রচুর কমলালেবুর বাগান।
সিটং প্রবেশের সময় দেখা মিলবে পাহাড়ি রিয়াং নদী। নদীটি ছবির মত সুন্দর। নদীর কল কল শব্দ আপনাকে অনেকখানি প্রশান্তি দেবে। শান্ত পাহাড়ি নদীর কূলে গ্রামটি। রিয়াং নদীর ওপর কাঠের ব্রিজটি অসম্ভব সুন্দর।
সিটং গ্রামে কমলালেবুর টানে পর্যটকের ভিড় হয়। বাগানে এসে দু’দণ্ড জিরিয়ে নেন। বাগানে অনাবিল আনন্দ আপনি উপভোগ করবেন। বাগান মালিকের অনুমতি মিলে গেলে কিছু কমলালেবু সঙ্গে করে নিয়েও আসতে পারবেন। তবে এই বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার। মালিকের অনুমতি ছাড়া নিয়ে আসা ঠিক না। সিটং থেকে শ্বেতশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা উপভোগ করা যায়।
কমলালেবু দেখার জন্য আদর্শ সময় নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস। এখানে থাকার জন্য প্রচুর হোমস্টে আছে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সিটং গ্রামের দূরত্ব মাত্র দুই ঘন্টা। দার্জিলিং থেকেও সাইট সিনে জায়গাটি ঘুরে দেখে নিতে পারবেন।
The post আপনার হারিয়ে যাবার সফরে এবার কমলালেবুর গ্রাম সিটং appeared first on Bhramon Online.
]]>The post চলুন উত্তরাখণ্ডের সেই গ্রামে যেখানে পূজিত হন না হনুমান appeared first on Bhramon Online.
]]>গ্রামে কেউ হনুমানের নাম নিলে বা তাঁর পুজো করলে তাঁকে একঘরে করে দেওয়া হয়। শুনে অবাক লাগলেও, উত্তরাখণ্ডের দ্রোণাগিরি গ্রামে হনুমান একেবারে নিষিদ্ধ।
স্থানীয় বিশ্বাস, সীতাহরণের পর যখন রাবণের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ চলছিল তখন মেঘনাথের বাণ লেগে লক্ষ্মণ অজ্ঞান হয়ে যান। তাঁর প্রাণ বাঁচাতে হনুমান বিশল্যকরণী গাছ খুঁজতে এই গ্রামে আসেন। গ্রামের এক মহিলা তাঁকে দ্রোনাগিরি পাহাড়ের একটি নির্দিষ্ট স্থানে বিশল্যকরণী গাছ দেখিয়ে দেন।
কিন্তু তার পরও হনুমান সেই সঞ্জীবনী ভেষজ চিনতে পারেননি। ফলে, পুরো পাহাড়টিকে কাঁধে তুলে নিয়ে লঙ্কার উদ্দেশে রওনা দেন। এ দিকে, স্থানীয়রা দ্রোনাগিরি পাহাড়কে ভগবানের মতো পুজো করেন। অদ্ভুত ভাবে এই পাহাড়ের চূড়াটা সমতল। স্থানীয়দের বিশ্বাস হনুমান যে হেতু পাহাড়ের একটা বড়ো অংশ কেটে নিয়ে চলে গিয়েছেন, তাই পাহাড়টা এই রকম।

যাঁকে তাঁরা ভগবানের মতো পুজো করেন, সেই দ্রোনাগিরি পাহাড়ের এই অবস্থার জন্য গ্রামবাসীরা হনুমানকেই দায়ী করেন। সেই থেকে এখানকার মানুষ হনুমানের উপর ক্ষুব্ধ। এই গ্রামে তাঁর পুজো করা হয় না। গ্রামে হনুমানের পুজো তো হয়ই না বরং কেউ তাঁর পুজো করলে তাঁকে গ্রামছাড়া করা হয় বা একঘরে করে দেওয়া হয়।
হনুমানের পুজো না করা এই স্থানটি দ্রোনাগিরি ট্রেকের জন্যও বিখ্যাত। প্রতি বছর এই ট্রেকের আকর্ষণে হাজার হাজার পর্যটক এই গ্রামে আসেন।
১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জুম্মা-দ্রোনাগিরি ট্রেকটি পর্যটকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এই ট্রেকটি আপনাকে ডাহুলিগঙ্গার তীরে নিয়ে যাবে। ট্রেক শুরু করার পরে ধৌলিগঙ্গা নদীর উপর ঝুলন্ত সেতু পার হতে হবে। ট্রেক করে এই দ্রোনাগিরি গ্রামে আসা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
প্রথমে আপনাকে জোশীমঠ পৌঁছোতে হবে। জোশীমঠ থেকে নীতিগ্রামের রাস্তায় ৪৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলে আপনি পৌঁছে যাবেন জুম্মা। জুম্মা থেকে ১১ কিলোমিটার ট্রেক করলে আপনি পৌঁছে যাবেন দ্রোনাগিরি গ্রামে।
আরও পড়তে পারেন
খাঁড়ি, নারকেল গাছ, সমুদ্র — এক টুকরো কেরলের স্বাদ পেতে চলুন অন্ধ্রপ্রদেশের ডিন্ডি
ভগবানের আপন দেশে ৭ / ঘুরে এলাম টপ স্টেশন
ভগবানের আপন দেশে ৬ / পৌঁছে গেলাম মেঘে ঢাকা মুন্নারে
ভগবানের আপন দেশে ৫/ সন্ধ্যা কাটল মাত্তানচেরি, ফোর্ট কোচিনে
The post চলুন উত্তরাখণ্ডের সেই গ্রামে যেখানে পূজিত হন না হনুমান appeared first on Bhramon Online.
]]>The post অফবিট উত্তরাখণ্ড: মন্দাকিনীর ধারে তিলওয়ারা appeared first on Bhramon Online.
]]>এমনই এক জায়গা তিলওয়ারা। তবে এই তিলওয়ারা প্রসঙ্গে বলার আগে অন্য একটা জায়গার ব্যাপারে একটু বলা যাক। তার নাম চন্দ্রপুরী। রুদ্রপ্রয়াগ থেকে গৌরীকুণ্ডের পথে চন্দ্রপুরীতে মন্দাকিনী নদীর একদম ধারেই ছিল গাড়োয়াল মণ্ডল বিকাশ নিগমের (জিএমভিএন) রিসর্ট। এটা ছিল এক কথায় প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে স্বর্গরাজ্য। কেদার-যাত্রা শুরু করার আগে চন্দ্রপুরীতে একদিন জিরিয়ে নিতেন ভ্রামণিকরা। কিন্তু ২০১৩ সালের সেই ভয়ংকর দুর্যোগে মন্দাকিনী গর্ভে চলে যায় পুরো রিসর্টটাই। একটা সুন্দর টুরিস্ট স্পট অচিরেই হারিয়ে যায় গাড়োয়ালের পর্যটন মানচিত্র থেকে।

সেই চন্দ্রপুরী থেকে রুদ্রপ্রয়াগের দিকে ১৪ কিলোমিটার গেলেই পাবেন তিলওয়ারাকে। চন্দ্রপুরীকে যে ভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিল জিএমভিএন, এখন তিলওয়ারাকে ঘিরে সেই স্বপ্ন দেখছে তারা। মন্দাকিনীর ধারে ছোট্ট এই জনপদে দর্শনীয় স্থান মন্দাকিনীই। প্রকৃতির সান্নিধ্যে দু’টো দিন কাটানোর জন্য এই জায়গাটা আদর্শ। তবে এখানে রাত্রিবাস করে আপনারা ঘুরে নিতে পারেন গুপ্তকাশী, মক্কুমঠ, উখিমঠের মতো জায়গাগুলো।
তিলওয়ারার জিএমভিএন পরিচালিত মন্দাকিনী রিসর্টে ৪৪টা দ্বিশয্যা ঘর রয়েছে। ভাড়া ২৬০০ থেকে ৩১০০-এর মধ্যে। বুক করতে পারেন জিএমভিএনের ওয়েবসাইট থেকে (https://gmvnonline.com/)।
আরও পড়তে পারেন
ভগবানের আপন দেশে ৭ / ঘুরে এলাম টপ স্টেশন
কাশ্মীর-কেরলের অভিজ্ঞতা পশ্চিমবঙ্গেও, রাত্রিবাস করুন হাউসবোটে
The post অফবিট উত্তরাখণ্ড: মন্দাকিনীর ধারে তিলওয়ারা appeared first on Bhramon Online.
]]>The post ট্রেকিং-এর নতুন গন্তব্য: মুন্নারের কাছে মিসাপুলিমালা appeared first on Bhramon Online.
]]>‘মিসাপুলিমালা’, এই মালায়ালম শব্দের অর্থ হল গোঁফযুক্ত বাঘের পাহাড়। ‘মিসা’র অর্থ গোঁফযুক্ত, ‘পুলি’র অর্থ বাঘ আর ‘মালা’ অর্থে পাহাড়। দক্ষিণপশ্চিম দিক থেকে যদি এই পাহাড়কে দেখা হয়, তা হলে সে রকমই মনে হয়। আনাইমালাই পাহাড় আর পালানি পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত মিসাপুলিমালা।
কেরলের শৈলশহর মুন্নার থেকে যেতে হয় এই পাহাড়ে। প্রথমে যেতে হয় এই পাহাড়ের বেস ক্যাম্পে। সেখান থেকে রোডো ভ্যালি এবং তার পর বাকিটা ট্রেকিং করে। রোডো ভ্যালি যাওয়ার পথে পড়বে পাণ্ডব গুহা। দেখে নিতে ভুলবেন না।
চিরসবুজ অরণ্য আপনার হাঁটাপথের সঙ্গী হবে। পথের সৌন্দর্য ভুলিয়ে দেবে পথের ক্লান্তি। শীর্ষদেশের কিছুটা অঞ্চল ছাড়া প্রায় গোটা পথটাই রডোডেনড্রোনে ছাওয়া।
শীর্ষে পৌঁছে গেলে মনে হবে আপনি স্বর্গে এলেন। সমস্ত মেঘ চলে যাবে নীচে আর বাতাস আপনার কানে কানে সব সময় গুনগুনিয়ে যাবে।
মিসাপুলিমালা শীর্ষ থেকে দেখা যাবে মুন্নার আর সূর্যনেল্লি শহর। নজরে পড়বে কেরল-তামিলনাড়ু সীমানা।

বর্ষা এড়িয়ে যাওয়া ভালো। আর দক্ষিণ ভারতে গরমকালে পাহাড় অঞ্চলে তেমন গরম না পড়লেও ট্রেকিং-এর সময় প্রখর সূর্যের তাপে বেশ কষ্ট হতে পারে। তাই বর্ষার পরে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি, এই পাঁচ মাস ট্রেকিং-এর আদর্শ সময়।
(১) মুন্নার থেকে মিসাপুলিমালার বেস ক্যাম্পে যাওয়া যায় দু’টি পথে। একটা পথ সূর্যনেল্লি-কোলুক্কুমালাই টি এস্টেটের মধ্য দিয়ে। এ পথে দূরত্ব পড়ে ৪০ কিমি। দ্বিতীয় পথটি হল আরুভিক্কাড়-মাট্টুপেট্টি হয়ে। এ পথে দূরত্ব ২৫ কিমি।
(২) গাড়িতে বেসক্যাম্পে পৌঁছোনোর পর ৪ কিমি যেতে হবে জিপে। পৌঁছে যাবেন রোডো ভ্যালি। এখানেই চার চাকার পথ শেষ।
(৩) এর পরই শুরু হবে হাঁটা। ৮ কিমি পথ ট্রেক করে পৌঁছে যাবেন মিসাপুলিমালাড় শীর্ষে।
মুন্নার থেকে রোডো ভ্যালি পৌঁছে, সেখান থেকে যাতায়াতে ১৬ কিমি ট্রেক করে ওই দিনই মুন্নার ফিরে আসা সম্ভব নয়। এই ট্রেক সারা দিনের। তাই বেস ক্যাম্পে একটা রাত থাকতে হবে। থাকার জন্য রয়েছে কেরলের বন দফতরের টেন্ট। যোগাযোগ: KFDC Ecotourism MUNNAR, Mattupetty Road, Munnar, Ph. 91 4865 230332, 91 8289821408, www.munnar.kfdcecotourism.com
এ ছাড়াও রোডো ভ্যালিতে রোডো ম্যানসন, ওই পথেই স্কাই কটেজে থাকতে পারেন। বিস্তারিত তথ্যের জন্য দেখুন: https://munnar.kfdcecotourism.com/

(১) ট্রেকিং-এর সময় এক জন গাইড সঙ্গে রাখা ভালো।
(২) মালায়ালম না জানা থাকলে গাইড বহুভাষী হলে ভালো হয়।
(৩) ট্রেকিং রুটে কোনো রকম জঞ্জাল বা প্লাস্টিক ফেলবেন না।
(৪) কোনো কোনো জায়গায় ট্রেকিংটা কিছুটা কষ্টকর। তাই ট্রেকিং-এর উপযুক্ত পোশাক ও জুতো পরা উচিত।
(৫) সঙ্গে কিছু খাবার আর জল রাখবেন।
আরও পড়তে পারেন
সেলফি নেওয়া, ছবি তোলা, ভিডিও করা মানা গঙ্গাসাগরে কপিলমুনি মন্দিরে
The post ট্রেকিং-এর নতুন গন্তব্য: মুন্নারের কাছে মিসাপুলিমালা appeared first on Bhramon Online.
]]>The post বরফে ঢেকেছে হিমনগরী মুন্সিয়ারি appeared first on Bhramon Online.
]]>তুষারশুভ্র এই মুন্সিয়ারির কিছু ছবি দেখে নিন। মুন্সিয়ারি নিবাসী সুরেশ কুমারের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এই ছবিগুলি।



এবার দেখে নিন এই তুষারপাতের কিছু ভিডিও। মুন্সিয়ারি নামক একটি ফেসবুক পেজে এই ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে।
The post বরফে ঢেকেছে হিমনগরী মুন্সিয়ারি appeared first on Bhramon Online.
]]>The post চলুন ফুলের উপত্যকায় ৩: মণিপুর-নাগাল্যান্ডের জোকু ভ্যালি appeared first on Bhramon Online.
]]>ভারতের প্রকৃতিরাজ্যে এ যেন এক লুকোনো মুক্ত, মণিপুর-নাগাল্যান্ড সীমানায় ২৪৫২ মিটার (৮০৪৪ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত। ২৭ বর্গ কিমি জুড়ে ব্যাপ্ত এই উপত্যকায় চারিদিকের পাহাড়গুলো যেন ফুলের চাদরে মোড়া। নানা ধরনের ফুল। তার মধ্যে সব চেয়ে বেশি চোখে পড়ে গোলাপি আর সাদা লিলি। এখানে এক ধরনের লিলি ফোটে, যা আর কোথাও ফোটে না। ভাগ্য ভালো থাকলে সেই জোকু লিলির দেখা পেতে পারেন। অন্যান্য ফুলের উপত্যকার তুলনায় এখানে পর্যটকদের পা পড়ে কম। তাই জোকু ভ্যালিকে বলা যায় প্রশান্তির নিলয়। এই উপত্যকায় উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট আইসো (মাউন্ট তেনিপু), উচ্চতা ২৯৯৪ মিটার (৯৮২২ ফুট)। এটি মণিপুরেরও উচ্চতম শৃঙ্গ।
যাওয়ার সব চেয়ে ভালো সময়
এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর, ফুলে ফুলে ছেয়ে থাকবে পাহাড়গুলো।

কী ভাবে যাবেন
নাগাল্যান্ড দিয়ে যাওয়াই সুবিধাজনক। বিমানে বা ট্রেনে ডিমাপুর চলুন। সেখান থেকে বাস, ট্যাক্সি বা ভাড়া গাড়িতে চলুন নাগাল্যান্ডের কোহিমা, দূরত্ব ৬৫-৭০ কিমি। দু’ জায়গা দিয়ে জোকু ভ্যালি ঢোকা যায় – জাখামা (কোহিমা থেকে ২০ কিমি) আর বিস্বেমা (কোহিমা থেকে ২৫ কিমি)। জাখামা থেকে জোকু ভ্যালির পথ বেশি চড়াই, তবে সময় লাগে কম। আর বিস্বেমা থেকে জোকু ভ্যালির পথে চড়াই তুলনায় কম। তাই বিস্বেমা দিয়ে গিয়ে জাখামা দিয়ে ফেরা যেতেই পারে।
কোহিমার নেটওয়ার্ক ট্রাভেলস্ এওসি বাসস্ট্যান্ড থেকে শেয়ার ভ্যান বা জিপে চলুন বিস্বেমা। বিস্বেমা থেকে ৮ কিমি রাস্তা গাড়ি ভাড়া করে যেতে পারেন বা হেঁটেও যেতে পারেন। অল্প চড়াই, হেঁটে ঘণ্টা তিনেক সময় লাগে। গাড়ির রাস্তা যেখানে শেষ সেখানে পাহাড়ের গা বেয়ে খাড়া সিঁড়ি-পথ উঠতে হবে, ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা। এই রাস্তা শেষ হলে শুরু হবে জোকু ভ্যালি। জোকু ভ্যালিতে একটি রেস্ট হাউস আছে। রেস্ট হাউসে পৌঁছোতে ঘণ্টা দুয়েক সময় লাগবে।
রেস্ট হাউসের খুব কাছেই জাখামা নেমে যাওয়ার পথ, ধাপকাটা। ওই পথে ৪-৫ ঘণ্টা হাঁটলে পৌঁছে যাওয়া যাবে গাড়ির রাস্তায়। গাড়ির রাস্তায় ৩-৪ কিমি হাঁটলে পৌঁছে যাবেন জাখামা। সেখান থেকে শেয়ার ভ্যান বা সুমোয় চলে আসুন কোহিমায়।
আরও পড়ুন: চলুন ফুলের উপত্যকায় ১: উত্তরাখণ্ডের ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স
কোথায় থাকবেন
এই পথে থাকতে পারেন কোহিমা ও জোকু ভ্যালির রেস্ট হাউসে। কোহিমায় থাকার জন্য বেশ কিছু হোটেল ও হোমস্টে আছে।
প্রয়োজনীয় পরামর্শ
প্লাস্টিকমুক্ত অঞ্চল। প্রতিজনা ৫০ টাকা করে প্রবেশ ফি দিতে হয়। প্রবেশ ফি সংগ্রহ করা হয় রেস্ট হাউসে। রেস্ট হাউসে ডর্মিটরি ও ঘর আছে। এ ছাড়া ম্যাট্রেস, কম্বল ও বালিশের জন্য আলাদা চার্জ দিয়ে হয়। অত্যন্ত প্রয়োজনীয় খাবারটুকু পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: চলুন ফুলের উপত্যকায় ২: সিকিমের ইয়ুমথাং ভ্যালি
The post চলুন ফুলের উপত্যকায় ৩: মণিপুর-নাগাল্যান্ডের জোকু ভ্যালি appeared first on Bhramon Online.
]]>The post চলুন ফুলের উপত্যকায় ২: সিকিমের ইয়ুমথাং ভ্যালি appeared first on Bhramon Online.
]]>উত্তর সিকিমে ৩৫৬৪ মিটার (১১৬৯২ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত এই ফুলের উপত্যকা আরও একটি প্রাকৃতিক বিস্ময়। ফুলের নানা রঙ, নানা বাহার। এখানেই শিংবা রডোডেনড্রন স্যাঙ্কচুয়ারি। ২৪ রকমের রডোডেনড্রন হয় আর তার ২৪ রকম ফুল। ইয়ুমথাং থেকে ঘুরে আসতে পারেন ১৫ কিমি দূরে ইউমেস্যামডং তথা জিরো পয়েন্ট (৪৭২৪ মি, ১৫৫১১ ফুট), লাচুং নদীর উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি। কাছেই চিন সীমান্ত। এর পর পর্যটকদের যেতে মানা।
যাওয়ার সব চেয়ে ভালো সময়
ফেব্রুয়ারি ও জুন, ফুল ফোটার সময়।

উত্তর সিকিমের পথ।
কী ভাবে যাবেন
ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি বা বিমানে বাগডোগরা। নিউ জলপাইগুড়ি বা বাগডোগরা থেকে ভাড়া করা গাড়ি বা শেয়ার গাড়িতে গ্যাংটক (নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ১১৬ কিমি, বাগডোগরা থেকে ১২৪ কিমি)। গ্যাংটক থেকে লাচুং, ১০৯ কিমি। লাচুং থেকে ইয়ুমথাং ভ্যালি ২৫ কিমি, সেখান থেকে ইউমেস্যামডং, ১৫ কিমি।
এই পথে রাত কাটাতে হবে গ্যাংটক ও লাচুং-এ। গ্যাংটকে প্রচুর বেসরকারি হোটেল, রিসর্ট আছে। লাচুং-এ থাকার ব্যবস্থা করবেন আপনার ট্রাভেল এজেন্ট।
প্রয়োজনীয় পরামর্শ
চিন সীমান্তের কাছাকাছি বলে ইয়ুমথাং-ইউমেস্যামডং যেতে হলে সেনাবাহিনীর অনুমতি নিতে হয়। আর এই অনুমতি জোগাড় করে দেন গ্যাংটকের ট্রাভেল এজেন্টরা। তাই গ্যাংটকে পৌঁছে কোনো ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে নর্থ সিকিম যাওয়ার প্যাকেজ বুক করতে হবে। ১ রাত ২ দিন বা ২ রাত ৩ দিনের প্যাকেজ বুক করতে পারেন।
আপনার ভ্রমণসূচিতে নিশ্চয় ইউমেস্যামডং থাকবে। সে ক্ষেত্রে ২ রাত ৩ দিনের প্যাকেজ বুক করাই ভালো। উত্তর সিকিমের রাস্তা কিছুটা ধসপ্রবণ। তাই প্রথম দিন লাচুং পৌঁছোতে পৌঁছোতে বিকেল হয়ে যেতে পারে। সে দিন লাচুং নদীর পাড়ে লাচুং জায়গাটা উপভোগ করে নিন।
পরের দিন প্রথমে চলে যান ইউমেস্যামডং, ফেরার পথে আসুন ইয়ুমথাং ভ্যালিতে। ইয়ুমথাং ঘুরে ফিরুন লাচুং-এ। তৃতীয় দিন ফিরে আসুন গ্যাংটকে।
আরও পড়ুন: চলুন ফুলের উপত্যকায় ১: উত্তরাখণ্ডের ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স
The post চলুন ফুলের উপত্যকায় ২: সিকিমের ইয়ুমথাং ভ্যালি appeared first on Bhramon Online.
]]>The post চলুন ফুলের উপত্যকায় ১: উত্তরাখণ্ডের ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স appeared first on Bhramon Online.
]]>তাই বেরিয়ে পড়তেই পারেন প্রকৃতি সন্দর্শনে। প্রকৃতি বলতে তো শুধু পাহাড়-সমুদ্র-জঙ্গল নয়, আদিগন্ত সবুজ শস্যশ্যামলা প্রকৃতিই বা কম কী! ধানগাছের ওপর দিয়ে বাতাস কী ভাবে ঢেউ খেলে যায়, তা যদি আপনি স্বচক্ষে দেখতে পান, তা হলে সেই দৃশ্য জীবনের সম্পদ হয়ে থাকে।
কিংবা সেই প্রকৃতি যদি হয় ফুলের উপত্যকা, নানা ধরনের ফুলের বাহার মন এক্কেবারে ভালো করে দেবে। ফুলের উপত্যকা বলতেই অবশ্য আমাদের মন চলে যায় উত্তরাখণ্ডের ‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স’-এ কিংবা সিকিমের ইয়ুমথাং ভ্যালিতে। কিন্তু আরও আছে। এই পর্বে থাকল দেশের পাঁচ ফুলের উপত্যকার সুলুকসন্ধান। আজ প্রথম পর্ব।

ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স যাওয়ার পথ।
ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তকমা পেয়েছে উত্তরাখণ্ডের ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স ন্যাশনাল পার্ক। চামোলি জেলায় ৩৬৫৮ মিটার (১২০০১ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত এই ফুলের উপত্যকা আদতে স্বর্গোদ্যান। ৫০০ রকমের ফুল ফোটে এই উপত্যকায়। শুধু তা-ই নয়, মাস্ক ডিয়ার আর রেড ফক্স-সহ বেশ কিছু প্রাণী ও নানা ধরনের পাখির দেখা মেলে এই উপত্যকায়। হিমালয়ের তুষারমণ্ডিত পর্বতমালার কোলে অবস্থিত এই ফুলের উপত্যকায় যেতে পারলে স্বর্গ দর্শনের অনুভূতি হয়।
যাওয়ার সব চেয়ে ভালো সময়
জুন থেকে সেপ্টেম্বর।
কী ভাবে যাবেন
ট্রেনে হরিদ্বার বা দেহরাদুন। কিংবা বিমানে দেহরাদুন। হরিদ্বার বা দেহরাদুন থেকে বাসে বা গাড়িতে গোবিন্দঘাট (দেহরাদুন থেকে ৩০৮ কিমি, হরিদ্বার থেকে ২৯২ কিমি)। গোবিন্দঘাট থেকে জিপে পুলনা, ৪ কিমি। সেখান থেকে হাঁটা শুরু। পুলনা থেকে ঘাংগারিয়া ১০ কিমি। সেখান থেকে ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স ৪ কিমি। গোবিন্দঘাট পৌঁছোতে পৌঁছোতে সন্ধে হয়ে যাবে। তার পরের দিন ভোর ভোর বেরিয়ে পড়ুন। পুলনা থেকে হাঁটা শুরু করুন।

ফুলের জলসা।
ক’ দিন থাকবেন
তিনটে রাত কাটান ঘাংগারিয়ায়। প্রথম দিন পৌঁছে বিশ্রাম নিন। দ্বিতীয় দিন চলুন ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স। সন্ধের আগে ঘাংগারিয়ায় ফিরুন। তৃতীয় দিন চলুন হেমকুণ্ড সাহেবে (৪৩২৯ মি, ১৪৪০২ ফুট), ঘাংগারিয়া থেকে ৬ কিমি। চতুর্থ দিন ঘাংগারিয়া থেকে পুলনা হয়ে ফিরে আসুন গোবিন্দঘাট। সেই দিনটা গোবিন্দঘাটে কাটিয়ে পরের দিন চলুন ঘরপানে।
কোথায় থাকবেন
ঘাংগারিয়ায় থাকার জন্য এখন বেশ কিছু বেসরকারি ব্যবস্থা হয়েছে। রয়েছে গুরুদ্বারও। তা ছাড়া জিএমভিএন-এর টুরিস্ট কমপ্লেক্স তো আছেই। অনলাইন বুকিং: gmvnonline.com। গোবিন্দঘাটেও বেশ কিছু হোটেল আছে। আছে গুরুদ্বারও।
আরও পড়ুন: চেনা ছকের বাইরে: দ্বারকা থেকে ঘুরে আসুন শিবরাজপুর সৈকত
The post চলুন ফুলের উপত্যকায় ১: উত্তরাখণ্ডের ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স appeared first on Bhramon Online.
]]>The post চেনা বৃত্তের বাইরে: ফুটফুটে ফুটিয়ারি appeared first on Bhramon Online.
]]>
সুন্দরী কলাবনি আর লধুড়কার মাঝে ফুটিয়ারির রূপকথা। আপন খেয়ালে বয়ে চলা ফুটিয়ারি নদীর ছন্দ কাটে ফুটিয়ারির ড্যামে, তিন দিক থেকে চলে শাসন তিন পাহাড়ের – তিলাবনি, পাঞ্জোনিয়া, সিন্দুরপুর – এই ত্রয়ীর কড়া অনুশাসনে ফুটিয়ারি গেঁথে চলে রূপকথা।
বেশ কিছু দিন ধরেই দিব্যেন্দুদা বলছিলেন, “দাদা, একবার সময় করে আসুন, দেখে যান।” কিন্তু পরিস্থিতির চাপে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। হঠাৎ একদিন মনোস্থির করেই ফেললাম। ক’ দিন ধরেই পুরুলিয়া টানছিল, তাই চাকা ছুটল।
কাশের আগমনীবার্তা রাস্তার ধারে, শরতের নীল আকাশ আর রাঙামাটির মনে দোলা দেওয়া ল্যান্ডস্কেপ – এ নিয়েই গাড়ি ছুটে চলে পুরুলিয়ার দিকে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা অপরূপা বাংলার স্বাদ নিতে নিতে অবশেষে ফুটিয়ারির কোলে। আকাশে তখন মেঘের আস্তরণ বেড়েই চলেছে। তালগাছগুলি আরও দৃপ্ত পদচ্ছাপ রেখে দেওয়ার প্রস্তুতিতে, ফুটিয়ারির জলে ধীরে ধীরে ছোট্ট ছোট্ট ঢেউ বয়ে চলেছে।

অপর দিকে তিলাবনি আর প্যাঞ্জোনিয়া ক্রমেই স্নানের প্রস্তুতি নিয়ে চলেছে, মাঝে আমি বুনে চলেছি স্বপ্নের বাসভবন। আহা! এর মাঝে যদি হত আমার স্বপ্নকুটির। মোহাচ্ছন্নতা কাটালেন দিব্যেন্দুদা – “আরে দাদা, দেশি মুরগির ঝোল রেডি, গরম গরম দু’টো ভাত পেটে দিয়ে আবার নিজের স্বপ্নকুঁড়ি ফোটান।”
ডাল, বেগুনভাজা আর গরম মুরগির ঝোল দিয়ে সপাসপ মেরে এ বার সারপেন্টাইল রাস্তা ধরে হন্টন। কী অপরূপ ল্যান্ডস্কেপ বলে বোঝানো যাবে না। সবুজের বুক চিরে লালমাটির চোখরাঙানি, তাল-পলাশ-কুসুম-মহুয়াদের সদর্প অধিষ্ঠান, তিলাবনিদের বিশ্বস্ত সঙ্গ, ড্যামের রাস্তা ধরে স্থানীয়দের সাইক্লিং – সবে মিলে শোণিতধারা পালটে দেওয়ার সব উপকরণ হাজির।
মেঘ আরও জমে আসছে, কালো আকাশের নীচে ফুটিয়ারি যেন আরও অভিমানী। উষ্ণতার পারদ ক্রমেই নিম্নমুখী, গায়ে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির আয়োজন, বাতাসে লালমাটির ভেজা গন্ধ, কাশঝোপে মেটাক্রোনাল তরঙ্গ…। এ আমি স্বপ্ন দেখছি না তো? বৃষ্টির তেজ বাড়তে অগত্যা টেন্টে ফেরা।

ফুটিয়ারি রিট্রিট দিব্যেন্দুদার স্বপ্নের প্রজেক্ট। আগে তাজপুর রিট্রিট বানিয়েছিলেন, তার পর এই ফুটিয়ারি প্রজেক্ট। আপাতত একটি ডিলাক্স কটেজ আর চারটি টেন্ট। বাথরুম থেকে বেডরুম – সবেতেই সুরুচিসম্মত মননের ছাপ। ফুটিয়ারির পাশে হওয়া এই ফুটিয়ারি রিট্রিট অবস্থান মাহাত্ম্যে বেশ মনোমুগ্ধকর। আপাতত এসি না থাকলেও ধীরে সে ব্যবস্থাও হবে। সবে তো পথচলা শুরু হয়েছে।
রক ক্লাইম্বিং থেকে জিপ লাইনিং, অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের বহু ক্রিয়াকলাপ আগামী বছর থেকে শুরু হয়ে যাবে প্রায় ১৪ বিঘার বিশাল প্রজেক্টে। তবে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস শুরু হওয়ার আগের ফুটিয়ারি রিট্রিট দেখে আমি মুগ্ধ। বাকিগুলি শুরু হলে হয়তো ট্যুরিজমের এক অন্য দিক খুলে যাবে। কায়াকিংও শুরু হয়ে যাবে এই বছরের শেষ দিক থেকে।
রাত জেগে ড্যামের ধারে বেশ কিছুক্ষণ কাটিয়ে আরামকেদারায় বসে শুধু ভাবছিলাম এই বাংলাকে ঠিক কতটা চিনেছি আমরা। কত অদেখা জায়গা শুধু এই বাংলাতেই। বিশেষ করে এই পুরুলিয়ার কত জায়গা অনাঘ্রাত থেকে গিয়েছে আমাদের কাছে।
ভোর হতেই গাড়ির চাকা ছুটে চলে তিলাবনি, প্যাঞ্জোনিয়া আর সিন্দুরপুরের দিকে। পথের শোভা ভাষায় প্রকাশ অসম্ভব। মাত্র ১০-১২ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে এ এক স্বপ্নভূমিই বটে। তিনটে পাহাড়ই আবহবিকারের ফলে ভগ্নপ্রায় অবস্থায়। পাহাড় ভেঙে বড়ো বড়ো বোল্ডার গা বেয়ে নেমে আসছে। দাবার ছকে যেন বোল্ডারের গুটি সাজানো। পাহাড়ের নিচু ঢালের পাশ থেকে বয়ে চলেছে পিচঢালা কালো রাস্তার ঢেউ। মনে এসে গেল সেই পঞ্চমদার সুরে গানের দৃশ্যায়ণ – ‘পান্না কি তমান্না হ্যায় কি হিরা মুঝে মিল যায়ে’ – হ্যাঁ, একদম সেই স্পট।

তিন পাহাড়ের সান্নিধ্যলাভের পর চললাম দ্বারকেশ্বর নদীর উৎপত্তিস্থল দেখতে। সুন্দর ল্যান্ডস্কেপকে পাশে রেখে দুর্গাসিংডাঙায় পৌঁছে তো অবাক। প্রস্রবণের জলধারা সরু হয়ে বয়ে চলেছে ক্যানিয়ন বেয়ে। ভাবা যায়, এই দ্বারকেশ্বরই ‘বাঁকুড়ার দুঃখ’-এর রূপ নেয় বছরে বছরে।
পরের গন্তব্য পাকবিড়রা ভৈরবস্থান। কষ্টিপাথরের এক অদ্ভুত শৈলী যে এই বাংলায় আছে জানতামও না, দিব্যেন্দুদা না বললে। সময় কম। তাই এর পর কাশীপুর রাজবাড়ি দেখে আবার ফিরে আসতে হল।
তবে এই ফুটিয়ারি রিট্রিট-এ থেকে আপনি ঘুরে নিতে পারেন অচেনা, অনাঘ্রাত পুরুলিয়ার বেশ কিছু অংশ। এ ছাড়া চেনা পুরুলিয়া তো আছেই – আপার ড্যাম, লোয়ার ড্যাম, বামনি ফলস, চড়িদা, পাখিপাহাড় ইত্যাদি ইত্যাদি।
কী ভাবে যাবেন
কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ২৮০ কিমি, সময় লাগবে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। পথ: কলকাতা থেকে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে পানাগড়, টোল প্লাজা পেরিয়ে দুর্গাপুরের কাছে বাঁ দিকে বাঁকুড়ার পথ ধরুন। বাঁকুড়ার ধলডাঙা মোড় থেকে ডান দিকে পুরুলিয়ার পথ ধরুন (জাতীয় সড়ক ৬০এ)। ৬ কিমি মতো গিয়ে পুয়াবাগান মোড় থেকে ডান দিকে চলুন হুরা। ওই পথে আরও ১৫ কিমি গিয়ে লধুড়কা মোড়। সেখান থেকে ডান দিকে চলুন শালডিহা মোড় (৩ কিমি)। সেখান থেকে বাঁ দিকে ২ কিমি ফুটিয়ারি রিট্রিট।
হাওড়া থেকে ট্রেনে আদ্রা বা পুরুলিয়ায় গিয়ে সেখান থেকে গাড়িতে ফুটিয়ারি। দূরত্ব ২৭-২৮ কিমি।

কোথায় থাকবেন
খরচ: ডিলাক্স কটেজ – প্রতি দিন মাথাপিছু ১৬০০ টাকা (যদি দু’ জন থাকেন)/১৪০০ টাকা (যদি তিন বা চার জন থাকেন)।
টেন্ট – প্রতি দিন মাথাপিছু ১৪০০ টাকা (যদি দু’ জন থাকেন)/১২০০ টাকা (যদি তিন জন থাকেন)।
খরচ থাকা এবং খাওয়া-সহ।
ঘোরাঘুরি
ফুটিয়ারি থেকে অফবিট পুরুলিয়া ঘুরে দেখতে বোলেরো গাড়িতে খরচ হবে ২৫০০-২৮০০ টাকা।
ভ্রমণঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন
চেনা বৃত্তের বাইরে: তামিলনাড়ুর শৈলশহর ভালপারাই
The post চেনা বৃত্তের বাইরে: ফুটফুটে ফুটিয়ারি appeared first on Bhramon Online.
]]>