ভ্রমণের খবর

ভারতের দীর্ঘতম ফিউনিকুলার রেল চালু শ্রী মালঙ্গড়ে, দু’ঘণ্টার কঠিন পাহাড়ি আরোহণ এখন মাত্র ১০ মিনিটে

ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: আর দু’ঘণ্টার কঠিন পাহাড়ি পথ ভাঙতে হবে না। মাত্র ১০ মিনিটেই পৌঁছে যাবেন শ্রী মালংগড়ে, যেখানে রয়েছে হাজি মালং দরগা। মহারাষ্ট্রের কল্যাণের কাছে অবস্থিত পবিত্র শ্রী মালংগড়ে অবশেষে চালু হল ভারতের দীর্ঘতম ফিউনিকুলার রেল। বহু প্রতীক্ষার পর গত ১৮ জানুয়ারি এই রেলপথের উদ্বোধন হয়। তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এত দিন যেখানে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে ২৬০০ খাড়া সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হত, এখন সেখানে পৌঁছোনো যাবে মাত্র ৭-১০ মিনিটের আরামদায়ক যাত্রায়।

এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন বিধায়ক কিসান কাথোরে, যিনি ২০০৪ সালে প্রথম এই প্রকল্পের প্রস্তাব দেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সুলভা গায়কোয়াড়। নতুন এই পরিষেবা বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং শারীরিকভাবে অক্ষম তীর্থযাত্রীদের পক্ষে শ্রী মালংগড়ে পৌঁছোনো অনেক সহজ করে তুলেছে।

২৬০০ সিঁড়ি ভাঙার বদলে মনোরম রেলযাত্রা  

এত দিন শ্রী মালংগড়ে যেতে হলে পাথরের গায়ে কাটা প্রায় ২,৬০০টি খাড়া সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হত। ভিড়ের দিন বা বর্ষাকালে এই পথ ছিল অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন ফিউনিকুলার রেল চালু হওয়ায় সেই দীর্ঘ আরোহণ এখন অতীত।

এই রেলে একবারে ১২০ জন যাত্রী উঠতে পারবেন এবং প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১২০০ যাত্রী পরিবহণ করা সম্ভব হবে। ফলে উৎসব বা ছুটির দিনে ভিড় অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফিউনিকুলার রেলপথ।

ফিউনিকুলার রেল কী ভাবে কাজ করে

ফিউনিকুলার রেল সাধারণ ট্রেনের মতো নয়। এখানে একটি তারের যুক্ত দুটি কোচ বিপরীত দিকে চলাচল করে—একটি ওপরে উঠলে অন্যটি নীচে নামে। এতে শক্তির সাশ্রয় হয় এবং খাড়া পাহাড়ি ঢালেও যাত্রা হয় মসৃণ ও নিরাপদ।

শ্রী মালংগড় ফিউনিকুলার রেলে রয়েছে পাঁচ স্তরের সুরক্ষা ব্যবস্থা, যার মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং সিস্টেমও রয়েছে। ম্যানুয়াল কন্ট্রোল ব্যর্থ হলেও এই ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করবে।

শ্রী মালংগড় কোথায়

শ্রী মালংগড় বা হাজি মালং গড় মহারাষ্ট্রের ঠানে জেলায়। কল্যাণ থেকে ১৫ কিমি দূরে, মুম্বইয়ের উপকণ্ঠে। পাহাড়টির উচ্চতা স্থানবিশেষে ২৫৯০ ফুট থেকে ৩২০০ ফুট এবং তিনটি স্তরে বিভক্ত— পীর মাচি, সোনে মাচি এবং শিখর।

চূড়ায় রয়েছে সপ্তম শতাব্দীর সুফি সাধক হাজি মালং-এর দরগা। এই স্থানটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক, যেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। তীর্থযাত্রীদের পাশাপাশি ট্রেকার ও প্রকৃতিপ্রেমীরাও এখানে ভিড় জমান।

পাহাড়ের মাথায় হাজি মালং ফোর্ট।

আগে কী ভাবে যাওয়া হত

আগে কল্যাণ রেলস্টেশন থেকে প্রায় ২০ কিমি পথ বাস নম্বর ৪৫, অটো বা ব্যক্তিগত গাড়িতে গিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে পৌঁছোতে হত। সেখান থেকেই শুরু হতো দীর্ঘ ও কষ্টকর পাহাড়ি আরোহণ।

ফিউনিকুলার রেলের সময়সূচি ও টিকিটের দাম

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত

রাউন্ড ট্রিপ টিকিটের দাম

প্রাপ্তবয়স্ক: ১৫০ টাকা

শিশু: ৭৫ টাকা

পার্কিং চার্জ (২ ঘণ্টা পর্যন্ত)

দুই চাকা: ২০ টাকা

গাড়ি: ৫০ টাকা

টিকিট বুকিং কী ভাবে করবেন

বর্তমানে ফিউনিকুলার রেলের টিকিট শুধুমাত্র অফলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। যাত্রীদের যাত্রার দিন নীচের স্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কাটতে হবে। অনলাইন বুকিংয়ের ব্যবস্থা এখনও চালু হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *