ভ্রমণের খবর

পশ্চিমবঙ্গ থেকে সাতটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, সাশ্রয়ী ভাড়ায় দেশের নানা প্রান্তে নতুন রেলসংযোগ

ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ থেকে দীর্ঘ দূরত্বের সাশ্রয়ী রেলযাত্রা আরও সহজ করতে সাতটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালু করতে চলেছে ভারতীয় রেল। আধুনিক, নন-এসি এই ট্রেনগুলির ভাড়া রাখা হয়েছে সরল ও সাশ্রয়ী—প্রায় প্রতি ১,০০০ কিলোমিটারে ৫০০ টাকা। রাজ্য থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাত্রীদের জন্য এটি একটি বড়ো সুবিধা বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।

কলকাতা থেকে ৩টি অমৃত ভারত

সাতটি পরিষেবার মধ্যে তিনটি ট্রেনের যাত্রা শুরু হবে কলকাতা থেকে।

(১) সাঁতরাগাছি থেকে চেন্নাই – সাঁতরাগাছি–তাম্বরম (চেন্নাই) অমৃত ভারত এক্সপ্রেস প্রতি শুক্রবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে তাম্বরম ছাড়বে এবং পরদিন রাত ৮টা ১৫ মিনিটে সাঁতরাগাছি পৌঁছবে। ফেরার পথে শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সাঁতরাগাছি ছাড়বে এবং তৃতীয় দিনে সকাল ১০টায় তাম্বরম পৌঁছোবে।

(২) হাওড়া থেকে দিল্লি – হাওড়া–আনন্দ বিহার টার্মিনাল (নয়াদিল্লি) অমৃত ভারত এক্সপ্রেস প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ১০ মিনিটে হাওড়া ছাড়বে এবং তৃতীয় দিনে ভোর ২টা ৫০ মিনিটে আনন্দ বিহার টার্মিনালে পৌঁছোবে। ফিরতি ট্রেনটি শনিবার সকাল ৫টা ১৫ মিনিটে আনন্দ বিহার ছাড়বে এবং পরদিন সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে হাওড়া পৌঁছবে।

(৩) শিয়ালদহ থেকে বারাণসী – শিয়ালদহ–বারাণসী অমৃত ভারত এক্সপ্রেস সপ্তাহে তিন দিন চলবে। বারাণসী থেকে শিয়ালদহ ট্রেনটি রবিবার, মঙ্গলবার ও শুক্রবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছাড়বে এবং পরদিন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে পৌঁছোবে। শিয়ালদহ থেকে বারাণসী ট্রেনটি সোমবার, বুধবার ও শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ছাড়বে এবং পরদিন সকাল ৭টা ২০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছোবে।

নিউ জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার থেকে ২টি করে অমৃত ভারত

এ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য প্রান্ত থেকে চারটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালু হবে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দুটি ট্রেন উত্তরবঙ্গকে যথাক্রমে তামিলনাড়ুর  নাগারকোয়েল ও তিরুচিরাপল্লির সঙ্গে যুক্ত করবে।

আলিপুরদুয়ার থেকে আরও দুটি ট্রেন সরাসরি সংযোগসাধন করবে এসএমভিটি বেঙ্গালুরু এবং মুম্বইয়ের পানভেলের সঙ্গে।

ট্রেনের ভিতরের ছবি।

অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের বিশেষত্ব

২২ কোচের অমৃত ভারত এক্সপ্রেসে থাকছে জেনারেল ও স্লিপার কোচের পাশাপাশি একটি প্যান্ট্রি কার। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য উন্নত আসন ও শয্যা, ভাঁজ করা স্ন্যাক টেবিল, রেডিয়াম ফ্লোর স্ট্রিপ, এলইডি আলো, সুরক্ষিত ফ্যান, চার্জিং পয়েন্ট এবং মোবাইল ফোন ও পানীয় জলের বোতল রাখার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এয়ার-স্প্রিং সাসপেনশন বগির ফলে যাত্রা আরও মসৃণ হবে। পাশাপাশি অনবোর্ড প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া যাবে।

প্রতিটি কোচে চারটি করে ভারতীয় ও পশ্চিমি ধাঁচের শৌচালয় রয়েছে, যেখানে ইলেক্ট্রো-নিউম্যাটিক প্রেসারাইজড ফ্লাশিং সিস্টেম ও স্বয়ংক্রিয় সাবান সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে—বৈদ্যুতিক অংশ ও শৌচালয়ে অ্যারোসল-ভিত্তিক অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, ধুলো ঢোকা কমাতে সিল করা গ্যাংওয়ে এবং অনির্ধারিত যাত্রাবিরতির সময় ব্যবহারের জন্য বাহ্যিক জরুরি আলো সংযোজন করা হয়েছে। আধা-স্বয়ংক্রিয় কাপলার ব্যবহারে কাপলিংয়ের সময় শব্দ ও ধাক্কা কমবে। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আঘাত শোষণের জন্য ডিফরমেশন টিউব এবং অপারেশনাল দক্ষতা বাড়াতে পুশ-পুল প্রযুক্তিও যুক্ত করা হয়েছে। এই পরিষেবাগুলিতে ডায়নামিক প্রাইসিং থাকছে না।

রেল কর্তৃপক্ষের মতে, অমৃত ভারত এক্সপ্রেস রাজ্যের যাত্রীদের জন্য দীর্ঘদূরত্বে কম খরচে, নিরাপদ ও আধুনিক রেলযাত্রার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *