শিকার উৎসবে ঐতিহ্য ও সচেতনতার মেলবন্ধন, অযোধ্যা পাহাড়ে পালিত প্রাচীন রীতি
আদিবাসী জনজাতি জন্মগত ভাবেই প্রকৃতির বড় কাছাকাছি বাস করে। বনের হিংস্র জানোয়ারকে শিকার করে বাঁচার তাগিদে অভ্যস্ত হতে হয়েছে। এক কালে তাদের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়েছিল সে কালের ইংরেজ সরকার।
প্রাচীন প্রথা অনুসারে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে হয় শিকার উৎসব। শিকার না করলেই অমঙ্গল হয়, এমন বিশ্বাস আদিবাসীদের মধ্যে আছে। উৎসব ঘিরে আদিবাসীদের মধ্যে থাকে উন্মাদনা। শিকার উৎসবকে কেন্দ্র করে অযোধ্যা পাহাড়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আদিবাসী জনজাতিরা শামিল হন।
জনজাতিরা তীর ধনুক হাতে নিয়ে বুনো শুয়োর, সজারু, খরগোশ শিকারে বেড়িয়ে পড়েন। এর পর সারা রাত ধরে চলে নাচ গান ও খাওয়াদাওয়া। মাটির পাত্রে খাওয়া হয়। আদিবাসী সম্প্রদায়ে পূর্বপুরুষদের আমল থেকে এই রীতি চলে আসছে।
তবে বর্তমানে বন্য প্রাণী শিকার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ব্যাপারে বন বিভাগ অত্যন্ত সতর্ক। গ্রামে গ্রামে চলে প্রচার। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে বোঝানো হয়।
বন বিভাগ মাইকিং করে বোঝায় উৎসবের আগে থেকে যে, বন্যপ্রাণী নিধন করা যাবে না। প্রাণীদের নিশ্চিন্ত হয়ে বাঁচতে দাও। তোমাদের অস্ত্র, রক্ষার অস্ত্র।
অবশ্য এখন গ্রামবাসীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে এই সচেতনতা। রক্ত না ঝরিয়েই পালিত হয় জঙ্গলমহলের উৎসব।
