The post মধু মাসে নন্দগাঁও ও বারসানার হোলি উৎসব appeared first on Bhramon Online.
]]>আজ রঙে রঙে সেজেছে ব্রজধাম। দিগন্ত জুড়ে শুধুই বসন্তের রঙ। মথুরা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে নন্দগাঁও। এক ঐতিহাসিক জায়গা। সেখানে হরেক রঙের আবিরে মেতেছে ব্রজবাসী। ধর্মীয় উৎসব, কিন্তু সে যেন সকল মানুষের একতার বন্ধন। এখানকার জলবায়ু অত্যন্ত মনোরম।
নন্দগাঁও গ্রামে নন্দভবন এক তীর্থ। ভগবান কৃষ্ণের বেড়ে ওঠা এই গ্রামে। পিতা নন্দ মহারাজ কৃষ্ণকে নিয়ে এই পাহাড়ের ওপরে গ্রামে থাকতেন। পাহাড়ের নাম নন্দীশ্বর পাহাড়। আরও দুটি পাহাড় আছে। এদের মধ্যে একটি গিরি গোবর্ধন। মা যশোদার সঙ্গে কৃষ্ণের সকল লীলা এই নন্দগাঁওতে। গিরি গোবর্ধন মন্দির, রাধা মদন মোহন মন্দির, মনসা মন্দির, নরসিংহ মন্দির, যশোদা মাতার মন্দির এখানকার আকর্ষণীয় সব জায়গা।

তিনটি পাহাড়ের মধ্যে একটি পাহাড়ের মাথায় বারসানা গ্রাম। রাধা কৃষ্ণের মিলনস্থল। কথিত আছে যে, শ্রীকৃষ্ণ এখানেই রাধাকে রং মাখিয়ে দেন। এযে এক মিলন ভূমি। মথুরা ও বৃন্দাবনের থেকে এখানকার রঙ খেলা একটু অন্যরকম। হোলির এক সপ্তাহ আগে থেকেই এখানে উৎসবের সূচনা। লাঠি দিয়ে রঙ খেলা হয়। যার নাম লাঠমার হোলি। সারা ভারতে আর কোথাও এমন দৃশ্য দেখা যায় না। নন্দগাঁও ও বারসানা গ্রামে এই বিশেষ হোলির আলাদাই এক আকর্ষন আছে।
The post মধু মাসে নন্দগাঁও ও বারসানার হোলি উৎসব appeared first on Bhramon Online.
]]>The post শ্রীধামে চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান, চার্লস ডি’অলির ছবি বলছে অন্য কথা appeared first on Bhramon Online.
]]>আজ দোল পূর্ণিমা। শ্রীধাম নবদ্বীপ ও মায়াপুর দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে মেতে উঠেছে। দোলের দিন গৌর নিতাইকে কেন্দ্র করে মুখরিত হয় নবদ্বীপ মায়াপুরের সকল মন্দির। এই সময় তিন দিন নিরামিষ আহার করেন নবদ্বীপবাসী। আজ এই বিশেষ দিনটিতে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব।
তিনি কোথায়? তাঁর জন্ম থেকে মৃত্যু আজও রহস্যে ভরা। পুরী ধামে মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের পর অনেকেই মনে করতেন তিনি জীবিত ছিলেন। আবার এক শ্রেণীর মানুষের বিশ্বাস পুরীতে চৈতন্যকে হত্যা করা হয়।

একসময় নবদ্বীপের চাঁদ কাজীর কোপ পড়ে চৈতন্যের ভক্তি আন্দোলনে। কিন্তু ভক্তিমূলক আন্দোলন কাজী থামাতে পারেননি। এরপর দেশব্যাপী হরি ভক্তি নামের ঢেউ ওঠে।
দোল ও হোলির সময় হাতে দু তিন দিন ছুটি আছে। নবদ্বীপ ভ্রমণ করতে চান? সকাল সকাল খুব অল্প খরচে হাওড়া থেকে কাটোয়া লোকাল ধরে নবদ্বীপ চলে আসুন। নবদ্বীপে চৈতন্যের জন্মস্থান অবশ্যই দর্শন করবেন।

জানেন কি, এই চৈতন্যের জন্মস্থান নিয়েও রয়েছে এক গভীর রহস্য। মুর্শিদাবাদের কান্দির রাজা গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ নবদ্বীপের রামচন্দ্রপুরে এক সুবিশাল মহাপ্রভু মন্দির নির্মাণ করেন।
স্যার চার্লস ডি’অলি ছিলেন একজন ব্রিটিশ চিত্রকর। তিনি ভারতের বহু বিখ্যাত জায়গার ছবি এঁকেছিলেন। ডি’অলির তৈলচিত্রে নবদ্বীপে সেই মহাপ্রভু মন্দিরের ছবি পাওয়া যায়। বলা হয় যে গঙ্গার পাড়ে ওই জায়গাতেই ছিল মহাপ্রভুর আসল জন্মস্থান। গঙ্গার পাড়ে ১৮২৩ সালে মন্দিরটি ভেঙ্গে পড়ে। এরপর গঙ্গায় জায়গাটি বিলীন হয়। সেই ঘটনা আজও এক রহস্যে আবৃত।
অনেকেই বর্তমান মায়াপুর মহাপ্রভুর জন্মস্থান বলে দাবি জানান। অনেক ঐতিহাসিক এই দাবি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য মনে করেন। বর্তমানে নবদ্বীপে নিদয়ার ঘাটের কাছে চৈতন্যের জন্মস্থান বলে প্রচলিত জায়গাটিই সকলে দর্শন করতে আসেন।
The post শ্রীধামে চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান, চার্লস ডি’অলির ছবি বলছে অন্য কথা appeared first on Bhramon Online.
]]>The post কাশীর জ্ঞানবাপী কূপ যা রহস্যে আবৃত appeared first on Bhramon Online.
]]>রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব একবার মথুর বাবুকে সঙ্গে নিয়ে কাশীধামে এসেছিলেন। তখন মণিকর্ণিকা ঘাটের শ্মশান দেখে বলেছিলেন, দেখিলাম পিঙ্গলবর্ণ জটাধারী দীর্ঘাকার এক শ্বেতকায় পুরুষ গম্ভীর পাদবিক্ষেপে শ্মশানে প্রত্যেক চিতার পার্শ্বে আগমন করিতেছেন এবং প্রত্যেক দেহীকে সযত্নে উত্তোলন করিয়া তাহার কর্ণে তারক ব্রহ্মমন্ত্র প্রদান করিতেছেন!

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম কাশীর বিশ্বেশ্বর। জ্ঞানবাপী কথার অর্থ জ্ঞানের কূপ। যেখানে জ্ঞানের আবাস।
প্রাচীন গ্রন্থ থেকে জানা যায় কাশীর বিশ্বনাথ মন্দিরের পাশে জ্ঞানবাপী কূপে স্নান করে বাহন নন্দীকে পুজো দিয়ে তারপর শিবের পুজো হওয়ার রীতি ছিল।

জানেন কি, ভারতে অসংখ্য শিব মন্দির আছে। সব মন্দিরে শিবের দিকে মুখ করা থাকে নন্দীর। কিন্তু কাশীতে জ্ঞানবাপী কূপের দিকে মুখ বাহন নন্দীর। এক অতি আশ্চর্য ব্যাপার।
মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব শোনা যায় এই কূপের ওপর ইন্দো ইসলামিক স্থাপত্যের জ্ঞানবাপী মসজিদ নির্মাণ করেন। সেই সময় মুঘল বাহিনী ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। পরবর্তীতে ইন্দোরের রানি অহল্যা বাই এই স্থানের ব্যাপক সংস্কার করেন। সম্প্রতি পুণ্যভূমি কাশীর জ্ঞানবাপী মামলা নিয়ে সারা দেশ উত্তাল হয়েছে। আদালত হস্তক্ষেপ করেছেন গোটা বিষয়টিতে।
The post কাশীর জ্ঞানবাপী কূপ যা রহস্যে আবৃত appeared first on Bhramon Online.
]]>The post ঘুরে আসুন রাজ্যের বারোটি শৈব তীর্থ,পর্ব ৪ appeared first on Bhramon Online.
]]>বাংলায় তখন মাঘ মাস। ১৭৪৫ সাল। বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব আলীবর্দী খানের সৈন্যরা হঠাৎ বিদ্রোহ করে বসলেন। সেই সুযোগে চতুর্থবারের মতো বর্গিরা বাংলায় এলো। বাংলার বুকে ত্রাহি ত্রাহি রব। সেই আক্রমণ এসে পড়ল বীরভূম জেলায়। ঘোড়ায় চড়ে বর্গিরা লুঠপাঠ চালালেন বীরভূমে গ্রামের পর গ্রাম। ভাস্কর পন্ডিতের নেতৃত্বে সব গ্রাম তখন বর্গি হানার শিকার। লুঠেরাদের অত্যাচারে বর্ধিষ্ণু গ্রাম উজাড় হয়ে গেছে। অজয় নদের পাড়ে শৈব তীর্থ সুপুর জনপদে বর্গি সৈন্য লুঠ চালাতে এলো। রুখে দাঁড়ালেন এক বৈষ্ণব গোঁসাই। আনন্দ চাঁদ গোস্বামী বর্গিদের বিরূদ্ধে দাঁড়াতেই লুঠেরার দল সুপুর ছেড়ে পালাল। আনন্দ চাঁদ গোস্বামী বর্গি হানা রুখতে গ্রামের চারদিকে খাল কেটে পরিখা গড়েছিলেন। এমনই গৌরবময় ইতিহাস সুপুরের।
মার্কণ্ডেয় পুরাণ মতে রাজা সুরথের রাজধানী ছিল সুপুর। সুরথের নাম অনুসারে এখানকার বিখ্যাত মন্দির সুরথেশ্বর শিব মন্দির।

সুপুর গ্রাম ও সুরথেশ্বর মন্দির:
বোলপুরের নিকটে সুপুরে রাজা সুরথ পূজিত সুরথেশ্বর শিব। বোলপুর ইলামবাজার রাস্তার ওপর মন্দিরটি। সুপুরের জোড়া শিব মন্দিরও খুবই জনপ্রিয়। বাংলার এই সুরথেশ্বর মন্দিরে বহু মানুষের সমাগম হয়। ফাল্গুন মাসে শিবরাত্রি পালিত হয় মহাসমারোহে। বিভিন্ন জেলা থেকে বহু ভক্তের আগমন ঘটে।
কিভাবে যাবেন:
হাওড়া ও শিয়ালদা থেকে ট্রেনে বোলপুর স্টেশন। সেখান থেকে টোটো বুক করে ঘুরে নিন সুপুর গ্রাম ও সুরথেশ্বর মন্দির। শহর থেকে দূরে ঘুরে আসার একেবারে আদর্শ জায়গা।
(চলবে)
The post ঘুরে আসুন রাজ্যের বারোটি শৈব তীর্থ,পর্ব ৪ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post ঘুরে আসুন, বীরভূমের অজানা পাঁচ সতীপীঠ appeared first on Bhramon Online.
]]>“লক্ষ লক্ষ ছায়ার শরীর! দুঃখরাশি জগতে ছড়ায়,
নাচে তারা উন্মাদ তান্ডবে; মৃত্যুরূপা মা আমার আয়!”
পীঠনির্ণয় তন্ত্রে উল্লেখিত যে, দক্ষযজ্ঞের সময় বিষ্ণু সুদর্শন চক্রে সতীর দেহ ৫১টি অংশে কেটে ফেলেছিলেন। যেখানে দেহের অংশ পড়েছিল সেই জায়গাতে গড়ে ওঠে সতীপীঠ। বীরভূমে আছে পাঁচটি সতীপীঠ। আলোচনা করা হলো, নিচে দেখুন।

নলাটেশ্বরী :
বীরভূম জেলার নলহাটিতে অবস্থিত নলাটেশ্বরী মন্দির। নল রাজার নাম থেকে জায়গাটির নাম হয় নলহাটি। এখানে সতীর নলা বা গলার নালী পড়ে। চারচালা মন্দির স্থাপত্য। গর্ভগৃহে পাথরের উপর বসানো আছে তিনটি চোখ ও সোনার জিভ। সারা বছর কালী রূপে পূজিত হন। দুর্গাপূজোর সময় দেবীকে চার দিন দুর্গা রূপে পুজো করা হয়।
নন্দীকেশ্বরী :
বীরভূম জেলার সাঁইথিয়ায় নন্দীকেশ্বরী মন্দির। এখানে সতীর কন্ঠহার পড়েছিল। অতীতে এক বটবৃক্ষের নিচে দেবী প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। পরে এক স্থানীয় জমিদার স্বপ্নাদেশ পেয়ে মন্দির গড়ে দেন। ঘন জঙ্গলের মধ্যে একসময়ে তান্ত্রিকদের সাধনক্ষেত্র ছিল। কথিত আছে, সাধক বামাক্ষ্যাপা এখানে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। কালীপুজোর সময় মন্দিরে বিশেষ পুজো হয়।
বক্রেশ্বর :
বীরভূম জেলায় পাপহারা নদীর তীরে অবস্থিত বক্রেশ্বর সতীপীঠ। একাধারে এই জায়গা শৈব তীর্থ বটে। এখানে দেবীর দুই ভ্রুর মধ্যবর্তী অংশটি মন পড়েছিল। বক্রেশ্বরে পাঁচটি শিবলিঙ্গ আছে। দেবীর দশভূজা মূর্তি প্রতিষ্ঠিত। পূণ্যলোভে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে মানুষ আসেন। বক্রেশ্বরের কুন্ড ও উষ্ণ প্রস্রবণে ডুব দিয়ে স্নান করেন। তান্ত্রিক, সাধক, বাউলের দর্শন এখানে আসলে সব সময় পাওয়া যায়।
কঙ্কালীতলা :
বীরভূম জেলার বোলপুরে কোপাই নদীর পাড়ে কঙ্কালীতলা সতীপীঠ। শান্তিনিকেতনের খুব কাছেই অবস্থিত। এখানে সতীর কাঁখাল পড়ে। কুণ্ডের জলে নিমজ্জিত কাঁখাল অংশটি। সারাবছর পূণ্য কুণ্ডটি পুজো হয়। মন্দিরে কোন বিগ্রহ নেই। ছবিতে পুজো করা হয়। পৌষ সংক্রান্তি ও কৌশিকী অমাবস্যায় খুব জাঁকজমক ভাবে এখানে পুজো হয়।
ফুল্লরা :
বীরভূম জেলার লাভপুরে ফুল্লরা সতীপীঠ। এখানে দেবীর ঠোঁট পড়েছিল। সিঁদুর মাখানো শিলাখণ্ডকে পুজো করা হয়। কথিত আছে, মন্দিরের পাশে পুষ্করিণী থেকে শ্রীরামচন্দ্র ১০৮টি পদ্মফুল সংগ্রহ করেন। এখানে এক বিশেষ রীতি আছে। পঞ্চমুন্ডির আসনে সকলে শঙ্খ দিয়ে মানত করেন।
কিভাবে যাবেন :
হাওড়া অথবা শিয়ালদা থেকে ট্রেনে রামপুরহাট স্টেশন আসুন। সেখান থেকে সোজা নলহাটি চলে যান। নলাটেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিয়ে ট্রেন ধরে সাঁইথিয়া চলে আসুন। স্টেশনের কাছে নন্দীকেশ্বরী মন্দির দর্শন করে একটি সংরক্ষিত গাড়ি ভাড়া নিয়ে বক্রেশ্বর, কঙ্কালীতলা ও ফুল্লরা ঘুরে নিন।
The post ঘুরে আসুন, বীরভূমের অজানা পাঁচ সতীপীঠ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post বিপ্লবতীর্থ চন্দননগরে বিবেকানন্দ স্মৃতি মন্দির appeared first on Bhramon Online.
]]>গঙ্গার পশ্চিম পাড় ফরাসি উপনিবেশ ঘাঁটি চন্দননগর। ফরাসি অধিকারের জন্য শহরের নাম সেকালে হয় ফরাসডাঙ্গা। ফরাসি উপনিবেশ হওয়ার কারণে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বহু বিপ্লবীরা এখানে এসে আশ্রয় নেয়। সেই সময় এখানে কোন অস্ত্র আইন ছিল না। তাই খুব সহজে বিপ্লবীরা এই জায়গাটিকে ঘাঁটি হিসেবে বেছে নেয়।

স্ট্র্যান্ড ঘাটের পাশে ফরাসি গভর্নর ডুপ্লের বাসস্থানের ঠিক উল্টোদিকে গঙ্গা পাড়ে আছে একটি মন্দির। নাম বিবেকানন্দ মন্দির। মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয় চন্দননগরে স্বামীজির স্মৃতিতে। স্বামীজির আবক্ষ মূর্তি রয়েছে। চন্দননগরে স্বামীজি জাতীয়তাবাদী বিপ্লবের মশালে আগুন জ্বালান। তিনি চন্দননগরের মধ্যে দিয়ে ভারতে অস্ত্র প্রবেশ করাতেন। অগ্নিযুগে বাগবাজারে ভগিনী নিবেদিতার বাড়িতে গুপ্ত সমিতির একটি কেন্দ্র হয়। নিবেদিতা এঁকে দিয়েছিলেন বিপ্লবী ভারতের জাতীয় পতাকা। ভগিনী নিবেদিতা বলেন,
“পুলিশ গোয়েন্দা মারফত স্বামীজীর উপর নজর রাখছে। এবার মশালে আগুন জ্বলবে। সেই আগুন ছড়াবে সারা দেশে।”

স্বামীজীর আরেক শিষ্যা জোসেফিন ম্যাকলাউড জানিয়েছিলেন অস্ত্র বোঝাই একটি নৌকা ধরা পড়ে। নৌকাটি অস্ত্রসহ চন্দননগরে আসছিল। স্বামীজি অস্ত্র নিয়ে আসছিলেন। তাই অধ্যাপক কামাখ্যানাথ মিত্রকে একবার স্বামীজি বলেন,
“ভারতের প্রয়োজন এখন বোমা।”
“দেশকে জাগিয়ে তোলা ছাড়া আর আমার অন্য কোন কামনা নাই, দেশের প্রাণ ঘুমিয়ে আছে, আত্মশক্তিতে কোন ই আস্থা নাই….”। প্রিয় শিষ্যাদের তিনি এ সংক্রান্ত বহু চিঠি লেখেন।
চন্দননগরে বিপ্লবী উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, মতিলাল রায়, শ্রীশচন্দ্র ঘোষ, কানাইলাল দত্ত প্রমুখরা স্বামীজীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হন।
বিবেকানন্দ মন্দির কিভাবে যাবেন : হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে সরাসরি চন্দননগর। সেখান থেকে টোটো নিয়ে চলে আসুন স্ট্র্যান্ড। ঘাটের পাশেই এই মন্দির।
দর্শন : ভক্তদের জন্য মন্দিরটি সারাদিন খোলা।
The post বিপ্লবতীর্থ চন্দননগরে বিবেকানন্দ স্মৃতি মন্দির appeared first on Bhramon Online.
]]>The post বোলপুরের কাছেই গুপ্ত, পাল, সেন প্রভৃতি আমলের নিদর্শন! যেন এক সংগ্রহশালা appeared first on Bhramon Online.
]]>পর্ব ২
বাংলার রাঢ় অঞ্চলটির নাম তখন লাড় দেশ। এখানে একাধিক বণিক শ্রেণীর বসবাস ছিল। অজয় নদ ধরে বাণিজ্য চলতো। দেউলী জনপদের কাছেই এক বন্দর নগর গড়ে ওঠে। সুপুর বন্দর। কার্পাস, রেশম, পশম, তসর, নীল, লাক্ষা প্ৰভৃতি নানা পণ্যদ্রব্য বন্দরে রপ্তানি হত। প্রাচীনকালে সুপুরে বাস করতেন রাজা সুবাহু। পরবর্তীতে অজয় নদ দিয়ে বহু জমিদার এখানে এসে বসতি স্থাপন করেন। তারা গৃহ ও মন্দির নির্মাণ করে থাকতে শুরু করেন। চারপাশে আজও পুরনো ইঁট, ভগ্ন স্তুপ, পোড়া মন্দির দেখলে জায়গাটির প্রাচীনত্ব সম্বন্ধে ধারণা পাওয়া যায়।
নদের নাব্যতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলে বন্দরটিও হারিয়ে যায়। এই বন্দর নগরের কাছেই দেউলী জনপদটি। বোলপুর থেকে দশ কিলোমিটার দূরত্ব।
দেউলী নামের বিশেষ একটি কারণ আছে। এখানকার দেউল রীতি মন্দির দেউলেশ্বর। তিনি হলেন শ্রী শ্রী মহাদেব ঠাকুর। দেউলেশ্বর থেকে দেউলী। বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন মন্দির স্থাপত্যশৈলীর মধ্যে দেউল অন্যতম। আকৃতিগতভাবে গঠন উড়িষ্যার ‘রেখ দেউল’।

বাংলার বহু পোড়ামাটির মন্দিরগুলো যেভাবে অবহেলায় একটু একটু করে হারিয়ে যেতে বসেছে। তেমন এই দেউল মন্দিরটিও একই রকম অবস্থায়। দেউলে প্রবেশ দ্বারটির চারদিক দিয়ে পোড়ামাটির সূক্ষ্ম কাজগুলো দেখে সেকালের শিল্পীর নৈপুণ্যতা মুগ্ধ করে। তবে উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে কাজগুলো সেভাবে রক্ষা করা যায়নি। সামান্য কিছুই অবশিষ্ট আছে।

দেউলের ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে অজয় নদ। গঠনশৈলীর দিক কিছু সংখ্যক আজ টিকে আছে। সুউচ্চ মিনারটি গ্রামে দূর থেকে দেখা যায়। আর নদী পথ ধরে গেলেও অনেকটা দূর থেকে চোখে পড়ে। গ্রামে এই একটিই আছে।
(চলবে)
The post বোলপুরের কাছেই গুপ্ত, পাল, সেন প্রভৃতি আমলের নিদর্শন! যেন এক সংগ্রহশালা appeared first on Bhramon Online.
]]>The post অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে কাশীরামের জন্মভিটা appeared first on Bhramon Online.
]]>অতীতের ইন্দ্রাণী জনপদ। সেই জনপদের একাংশ ভাগীরথী তটে সিঙ্গি গ্রাম। এই গ্রাম বিখ্যাত হয়ে আছে মহাভারত বাংলা রচয়িতা কাশীরাম দাসের জন্মস্থানের জন্য। আজও এই গ্রামে এলে দেখা যায় কাশীরাম দাসের ভগ্ন ভিটা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, ‘মহাভারত শুধু মহাকাব্যই নয়, ইতিহাসও। এ ইতিহাস বিশেষ ঘটনাবলীর উপর নয়, ভারতবর্ষের শাশ্বত ইতিহাস। ভারতবর্ষের সাধনা, আরাধনা ও সংকল্পের ইতিহাস। তাই কাশীদাসী মহাভারত মুদির দোকান থেকে রাজার প্রাসাদ পর্যন্ত সমভাবে চর্চিত।’
সিঙ্গি গ্রামে মহাকবি কাশীরাম দাসের জন্ম হয়। মহাভারতের বাংলা অনুবাদ করতে তার সময় লেগেছিল ১৫৯৫ সাল থেকে ১৬১৩ সাল। গ্রামের বাস স্ট্যান্ডের কাছে একটি কাশীরাম দাস এর নামাঙ্কিত স্মৃতি পাঠাগার আছে।

জন্মভিটে দেখতে সারা বছর বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসেন। গ্রামের বাসিন্দারা বহু যত্ন করে এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কেউ গেলে তারাই পথ দেখিয়ে নিয়ে যান। জন্মভিটাতে এক কুঠুরি দেখা যায়। বলা হয় এখানে বসেই তিনি মহাভারত অনুবাদ করেছিলেন।
বর্তমানে অবহেলায় পড়ে এই জন্মস্থান। সাধারণ মানুষ উপযুক্ত সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। যথার্থ সংরক্ষণের প্রয়োজন আছে। অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে পুরনো স্থাপত্যের প্রমাণ।
কিভাবে যাবেন : হাওড়া থেকে ট্রেনে কাটোয়া স্টেশন। সেখান থেকে সিঙ্গি গ্রাম ১৪ কিলোমিটার। গাড়ি বা টোটো বুক করে সিঙ্গি গ্রাম ঘুরে নিন।
The post অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে কাশীরামের জন্মভিটা appeared first on Bhramon Online.
]]>The post বছরের প্রথম দিন অঙ্গরাগের পর ফের ভক্তদের সামনে আসেন ধামেশ্বর মহাপ্রভু appeared first on Bhramon Online.
]]>বৈষ্ণব কবিদের বিবরণ থেকে জানা যায়, “নবদ্বীপ সম্পত্তি কে বর্ণিবারে পারে, একো গঙ্গা ঘাটে লক্ষ লোক স্নান করে।” এই ধাম ছিল এক বৈষ্ণবতীর্থ। মহাপ্রভুর সম্পূর্ণ লীলা দ্বারা বেষ্টিত।
ষোড়শ শতকের বাঙালির নবজাগরণের পথিক শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। এই নবদ্বীপের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ হল ধামেশ্বর মহাপ্রভুর মন্দির। সিংহদরজা পেরিয়ে প্রভুর মন্দিরে আজও সেবা হয়ে চলেছে।
বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী ধামেশ্বর মহাপ্রভুর বিগ্রহ নিজে সেবা করতেন। যে নিমগাছের তলায় মহাপ্রভুর জন্ম হয়েছিল সেই কাঠ দিয়ে দারু বিগ্রহটি তৈরি হয়। মন্দিরে আছে মহাপ্রভুর পাদুকা। ধামেশ্বর মহাপ্রভুর বিগ্রহটি নির্মাণ করেছিলেন বংশীবদন নামের এক শিল্পী। এই বছর মহাপ্রভুর অঙ্গরাগ।
প্রাচীন এই বিগ্রহের অঙ্গরাগ করেন বাবলু চক্রবর্তী মহাশয়। তিনি হলেন বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর বংশধর। প্রতি দু’বছর পর হয় এই নিয়ম। এই ক’দিন পুরনো ইঁটের দেউল মন্দিরে নিত্যপুজো হয়। চিত্রপটে সেবা করা হয়। পুরনো মন্দিরটি বহু প্রাচীন। শিখর দেশটি রেখদেউল আকারে। বীর হাম্বির এই মন্দির নির্মাণ করে দেন।
মহাপ্রভুর অন্তিম দর্শনের পর সকল নবদ্বীপবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন। ভক্তদের মন খারাপ। পয়লা জানুয়ারি প্রভু নব রূপে আসবেন। এই দিন উৎসব ঘিরে মেতে উঠবে চৈতন্যভূমি।
হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে কাটোয়া লোকাল আসুন নবদ্বীপ স্টেশন। সেখান থেকে টোটো বা রিক্সায় ধামেশ্বর মহাপ্রভুর মন্দির। কিংবা সরাসরি গাড়িতে চলে যেতে পারেন। কলকাতা দিল্লি রোড হয়ে ব্যান্ডেল, তার পর মগরা-কালনা-সমুদ্রগড় হয়ে নবদ্বীপ, দূরত্ব ১১৯ কিমি কিংবা মধ্যমগ্রাম-বারাসত-রানাঘাট- কৃষ্ণনগর হয়ে নবদ্বীপ, দুরত্ব ১৩৩ কিমি।
আরও পড়ুন। কলকাতাকে চিনুন: প্রাচ্যবিদ জেমস লং সাহেবের গির্জা
The post বছরের প্রথম দিন অঙ্গরাগের পর ফের ভক্তদের সামনে আসেন ধামেশ্বর মহাপ্রভু appeared first on Bhramon Online.
]]>The post চলুন ত্রিযুগীনারায়ণ, রাত কাটান জিএমভিএন পর্যটক আবাসে appeared first on Bhramon Online.
]]>পুরাণের কাহিনি অনুযায়ী, এই ত্রিযুগীনারায়ণেই বিয়ে হয়েছিল হর-পার্বতীর। বিয়ে হয়েছিল অগ্নিকুণ্ডকে ঘিরে নারায়ণকে সাক্ষী রেখে। বিয়ের যজ্ঞের সেই অগ্নিকুণ্ড আজও জ্বলছে। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর – তিন যুগ ধরে নারায়ণ তথা বিষ্ণুর বাস এখানে। তাই নাম ত্রিযুগীনারায়ণ।
উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় ১৯৮০ মিটার (৬৪৯৭ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত ত্রিযুগীনারায়ণ গ্রাম মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। মন্দিরের স্থাপত্যরীতি পুরোপুরিই গাড়োয়াল শৈলীর, কেদারনাথ-বদরীনাথ মন্দিরের মতো। কথিত আছে, শঙ্করাচার্য এই মন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরে রয়েছে অষ্টধাতুর চতুর্ভুজ বিষ্ণু। তাঁর সঙ্গে লক্ষ্মী ও সরস্বতী। পদতলে জয় ও বিজয়।
মন্দিরের সামনেই জ্বলছে অগ্নিকুণ্ড। যুগ যুগ ধরে প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডের জন্য এই মন্দিরের আর-এক নাম অখণ্ড ধুনি মন্দির। যুগলে (দম্পতি) মন্দির দর্শন করতে গেলে অগ্নিকুণ্ডের সামনে পুজো দেওয়ার রীতি আছে। মন্দিরের একেবারে সামনে আছে ব্রহ্মশিলা। কথিত আছে, এইটিই নাকি হর-পার্বতীর বিবাহস্থল।

মন্দির-চত্বরেই রয়েছে এক অবিরাম জলের উৎস। এর নাম সরস্বতী গঙ্গা। এর জলেই পুষ্ট হচ্ছে কাছাকাছি চারটি কুণ্ড – রুদ্র কুণ্ড, বিষ্ণু কুণ্ড, ব্রহ্মা কুণ্ড এবং সরস্বতী কুণ্ড। রুদ্র কুণ্ড স্নানের জন্য, বিষ্ণু কুণ্ড মার্জনের জন্য, ব্রহ্মা কুণ্ড চুমুক দেওয়ার জন্য আর সরস্বতী কুণ্ড পিণ্ডদানের জন্য।
কেদারনাথ যাওয়ার পথে শোনপ্রয়াগ থেকে রাস্তা উঠেছে ত্রিযুগীনারায়ণের। মন্দাকিনী ও শোনগঙ্গা নদীর সঙ্গমস্থলে শোনপ্রয়াগ। এখান থেকে ত্রিযুগীনারায়ণ সড়কপথে ১২ কিলোমিটার।
মন্দির দেখা ছাড়াও একটা দিন ত্রিযুগীনারায়ণে কাটিয়ে সমগ্র জায়গাটা উপভোগ করুন। ভিউ পয়েন্ট থেকে দেখুন হিমালয়ের তুষারাচ্ছাদিত শৃঙ্গরাজি।
জিএমভিএন কলকাতা অফিস – উত্তরাখণ্ড ট্যুরিজম, ৭/২সি চক্রবেড়িয়া রোড (সাউথ), ভবানীপুর, কলকাতা ৭০০০২৫। ফোন: ০৩৩-২৪৭৬৫৫৫৫, ৯৮৩১১১০৯৯৯। ইমেল: gmvnkol@gmail.com
অনলাইন বুকিং: https://gmvnonline.com/
আরও পড়তে পারেন
পর্যটনকে নেতিবাচক চোখে দেখবেন না, সংবাদমাধ্যমের কাছে আর্জি ভ্রমণ সংগঠনগুলির
পূর্ব উপকূলের অল্প-চেনা সৈকত: সূর্যলঙ্কা
পর্যটনকে চাগিয়ে তুলতে পশ্চিমবঙ্গের দিকে তাকিয়ে কর্নাটক
The post চলুন ত্রিযুগীনারায়ণ, রাত কাটান জিএমভিএন পর্যটক আবাসে appeared first on Bhramon Online.
]]>