শহর ছেড়ে জঙ্গলের ডাক: রনথম্ভৌর বনাম জিম করবেট
ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: শহরের কোলাহল ধীরে ধীরে পেছনে ফেলে যখন গাড়ি এগিয়ে চলে অজানার দিকে, তখনই শুরু হয় প্রকৃত ভ্রমণের রোমাঞ্চ। ভারতের অসংখ্য অরণ্যের মধ্যে রনথম্ভৌর এবং জিম করবেট জাতীয় উদ্যান ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি গন্তব্য। উভয় জায়গাতেই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দেখার সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু প্রকৃতি, পরিবেশ এবং অভিজ্ঞতার দিক থেকে এই দুই অরণ্য একেবারেই আলাদা। সেই ভিন্নতাই এই দুই জায়গাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
কেন বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের প্রথম পছন্দ রনথম্ভৌর
রনথম্ভৌর জাতীয় উদ্যান বিখ্যাত তার তুলনামূলক সহজ টাইগার সাইটিং-এর জন্য। এখানে শুষ্ক পর্ণমোচী বন, পাথুরে পাহাড়, খোলা প্রান্তর এবং বড়ো বড়ো জলাশয় থাকায় প্রাণী দেখার সুযোগ অনেক বেশি। ঘন জঙ্গল না হওয়ায় প্রথমবার সাফারিতে আসা পর্যটকরাও ভালো দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন।
এর সঙ্গে রয়েছে ঐতিহাসিক রনথম্ভৌর দুর্গ, যা অরণ্যের ওপর দাঁড়িয়ে এক নাটকীয় পটভূমি তৈরি করে। ফোটোগ্রাফারদের কাছে এটি বিশেষ আকর্ষণ। এখানে আসা বেশির ভাগ পর্যটকই সাফারি-কেন্দ্রিক—ভোরে ওঠা, লং লেন্স হাতে জিপে চড়া এবং একটাই লক্ষ্য, বাঘ দেখা।

রনথম্ভৌর দুর্গ।
কেন জিম করবেট একেবারে গভীর জঙ্গলের অভিজ্ঞতা দেয়
ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যান জিম করবেট প্রকৃত অর্থেই একটি জীবন্ত অরণ্য। ঘন শাল বন, নদীর চর, ঘাসের মাঠ এবং আঁকাবাঁকা জঙ্গলপথ এই পার্ককে আলাদা করে তোলে। যারা পাখি দেখা, শান্ত প্রকৃতি আর বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণী উপভোগ করতে চান, তাদের কাছে করবেট আদর্শ।
এখানে হাতি, ভোঁদড়, কুমির ছাড়াও রয়েছে ৬৫০টিরও বেশি পাখির প্রজাতি। ঘন জঙ্গলের কারণে বাঘ দেখা তুলনামূলক কঠিন হলেও পুরো অভিজ্ঞতাটি অনেক বেশি গভীর ও আবেশময়। ভোরের কুয়াশা, গাছের ফাঁকে আলো-ছায়ার খেলা—সব মিলিয়ে করবেট এক আলাদা মুড তৈরি করে।
কী ভাবে যাবেন
রনথম্ভৌর
রনথম্ভৌর অবস্থিত রাজস্থানের সওয়াই মাধোপুরে।
ট্রেনে: সওয়াই মাধোপুর রেলস্টেশন দিল্লি ও জয়পুর-সহ বড়ো শহরের সঙ্গে যুক্ত।
সড়কপথে: জয়পুর থেকে রনথম্ভৌর জাতীয় উদ্যান ১৭৫ কিমি, প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার ড্রাইভ।
বিমানপথে: নিকটতম বিমানবন্দর জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
জিম করবেট
জিম করবেট জাতীয় উদ্যান উত্তরাখণ্ডের রামনগর শহরের কাছে অবস্থিত।
ট্রেনে: রামনগর স্টেশন দিল্লি থেকে সরাসরি ট্রেনে পৌঁছোনো যায়।
সড়কপথে: দিল্লি থেকে জিম করবেট জাতীয় উদ্যান ২৭৫ কিমি, প্রায় ৫–৬ ঘণ্টার ড্রাইভ।
বিমানপথে: নিকটতম বিমানবন্দর পন্থনগর না হলে দিল্লি (যদিও বেশির ভাগ পর্যটক ট্রেন বা গাড়ি পছন্দ করেন)।

জিম করবেট জাতীয় উদ্যান, আমডণ্ডা গেট।
ভ্রমণের সেরা সময়
রনথম্ভৌর
অক্টোবর থেকে জুন রনথম্ভৌর ভ্রমণের আদর্শ সময়। বিশেষ করে মার্চ থেকে মে পর্যন্ত জলাশয়ের আশেপাশে প্রাণীদের আনাগোনা বেশি থাকায় টাইগার দেখার সম্ভাবনাও সর্বাধিক।
জিম করবেট
করবেট সারা বছর খোলা থাকলেও মূল সাফারি জোনগুলি নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত চালু থাকে। শীতকালে পরিষ্কার আকাশ ও ভালো দৃশ্যমানতা পাওয়া যায়, আর গ্রীষ্মে টাইগার ট্র্যাকিংয়ের সুযোগ বেশি। ঝিরনা ও ঢেলা জোন সারা বছর খোলা থাকে, যা অফ-সিজন ভ্রমণকারীদের জন্য সুবিধাজনক।

ঝুমর বাওরি, রনথম্ভৌর।
আগে কোনটি ঘুরবেন – রনথম্ভৌর না জিম করবেট?
আপনি যদি চান—
- বেশি বাঘ দেখার সম্ভাবনা
- খোলা ও নাটকীয় ল্যান্ডস্কেপ
- তুলনামূলক সহজ সাফারি অভিজ্ঞতা
তা হলে রনথম্ভৌর দিয়ে শুরু করুন।
আর যদি আপনার পছন্দ হয়—
- ঘন জঙ্গল ও নদীর ধারে প্রকৃতি
- পাখি ও বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণী
- শান্ত, গভীর অরণ্যের আবেশ
তা হলে জিম করবেট হবে আদর্শ প্রথম গন্তব্য।

কোথায় থাকবেন
গুগুল সার্চ করলেই দু’জায়গাতেই বহু থাকার জায়গা পেয়ে যাবেন।
রনথম্ভৌর জাতীয় উদ্যানের খুব কাছেই সওয়াই মাধোপুরে রাজস্থান পর্যটনের (আরটিডিসি) দু’টি হোটেল আছে – বিনায়ক ও ঝুমর বাওরি।
বিনায়ক: যোগাযোগ – ০৭৪৬২-২২১৩৩৩, ০৭৪৬২-২২১৩২২, ৯৪১৪৩৪১৯৩৪; ইমেল – vinayak.rtdc@rajasthan.gov.in
ঝুমর বাওরি: যোগাযোগ – ০৭৪৬২-২২০৪৯৫, ৯৪১৪২৮৭৪৯১; ইমেল – cjb. rtdc@rajasthan.gov.in
জিম করবেট জাতীয় উদ্যানের খুব কাছেই কুমায়ুন মণ্ডল বিকাশ নিগমের (কেএমভিএন) দুটি হোটেল আছে – টিআরএইচ মোহন এবং টিআরএইচ রামনগর।
টিআরএইচ মোহন: যোগাযোগ – ৯৭৫৮৩৩০৮৬৭; ইমেল – crckmvn@gmail.com
টিআরএইচ রামনগর: যোগাযোগ – ৮৬৫০০০২৫২৭; ইমেল – crckmvn@gmail.com
