The post গঙ্গার তীরে নতুন বিলাসবহুল ঠিকানা, রায়চকে খুলল তাজ গঙ্গা কুটির রিসর্ট অ্যান্ড স্পা appeared first on Bhramon Online.
]]>আইএইচসিএল-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও পুণীত ছাটওয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, “গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলের কাছে রায়চকের অনন্য পরিবেশ বাংলার ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। তাজ গঙ্গা কুটির চালুর মাধ্যমে আমরা দেশের স্বতন্ত্র গন্তব্যগুলিতে প্রসারিত হওয়ার অঙ্গীকারকে আরও জোরদার করছি।”

১০০ একর বিস্তৃত এই সম্পত্তিতে রয়েছে ১৫৫টি কক্ষ ও স্যুইট, যেখানে গঙ্গার অপরূপ দৃশ্যের সঙ্গে মিলবে গ্রামীণ বাংলার অনুরণন। অতিথিদের জন্য রয়েছে ‘মাচান’ ও ‘হাউস অফ মিং’-এর মতো স্বাক্ষর রেস্টুরেন্ট, রিভার ভিউ লাউঞ্জ, ইনফিনিটি-এজ পুল, আধুনিক ফিটনেস সেন্টার, ইনডোর-আউটডোর খেলার ব্যবস্থা এবং তাজের স্বাক্ষর স্পা— জে ওয়েলনেস সার্কেল।
৭০,০০০ বর্গফুট জুড়ে থাকা ব্যাঙ্কোয়েট স্পেস রিসর্টটিকে উপযুক্ত করে তুলেছে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং, কর্পোরেট রিট্রিট এবং বৃহৎ অনুষ্ঠানের জন্য।
অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়া বলেন, “আইএইচসিএল-এর সঙ্গে আমাদের সফল অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিয়ে এই উৎসব মরসুমে তাজ গঙ্গা কুটির উন্মোচন করতে পেরে আমরা গর্বিত। এটি শুধু আতিথেয়তায় উৎকর্ষতার প্রতিফলন নয়, বরং স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে প্রসারিত করার দিকেও এক বড় পদক্ষেপ।”

কলকাতা থেকে মাত্র আড়াই ঘণ্টার ড্রাইভ দূরে অবস্থিত রায়চককে নতুন করে সাজিয়েছে গঙ্গার তীরের আবহ, দুর্গসদৃশ স্থাপত্য, গ্রামীণ পথে হাঁটা, লোকসংস্কৃতির আসর এবং বাংলার বিখ্যাত চায়ের আস্বাদন। উৎসবের মরসুমে পর্যটন শিল্পে রায়চক যে বিশেষ মাত্রা যোগ করবে, তা বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুন: যমুনাসুল: ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে শান্ত সমুদ্রতটে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা
The post গঙ্গার তীরে নতুন বিলাসবহুল ঠিকানা, রায়চকে খুলল তাজ গঙ্গা কুটির রিসর্ট অ্যান্ড স্পা appeared first on Bhramon Online.
]]>The post শারদীয় ঐতিহ্যে ৬০০ বছরের সাক্ষী, নদিয়ার শান্তিপুরের জজ পণ্ডিত বাড়ির একচালা দুর্গাপুজো appeared first on Bhramon Online.
]]>দেবীপুরাণ মতে একচালা ঠাকুরের মৃন্ময়ী রূপের পূজা হয় এখানে। একচালা প্রতিমায় লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশের অনুপস্থিতি এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
সাড়ে চারশো বছরের গণ্ডি পেরিয়েছে অনেক আগে। কারও মতে, ইতিহাস আরও পুরনো—৬০০ বছরেরও বেশি। সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছে জমিদারির ঐশ্বর্য, কিন্তু প্রথা ও নিষ্ঠা আজও টিকে আছে নদিয়ার শান্তিপুরের তর্কবাগীশ লেনের জজ পণ্ডিত বাড়ির দুর্গাপুজোয়।
আদতে চৈতল মাহেশের বংশধর চট্টোপাধ্যায় পরিবার বিহারের গয়ার যদুয়াতে জমিদার ছিলেন। এই পরিবারের পীতাম্বর চট্টোপাধ্যায় ব্রিটিশ আমলে পান ‘তর্কবাগীশ’ উপাধি। প্রজাদের সমস্যা মেটানোর জন্য তাঁকে ‘জজ পণ্ডিত’ নামেও ডাকা হত। পরে পরিবারটি শান্তিপুরে চলে আসে এবং এখানেই শুরু হয় দুর্গার আরাধনা।
এখানে দেবী মহিষাসুরমর্দিনী রূপে একাই বিরাজ করেন। পরিবারের সদস্যরাই দেবীর পূজার্চনা করেন। বোধন হয় ঠাকুরবাড়ির কাছে পঞ্চবটি আসনে। মায়ের পাদদেশে রয়েছে পঞ্চমুণ্ডির আসন, সম্পূর্ণ মাটির তৈরি। পঞ্চবটি ও পঞ্চমুণ্ডির একত্র উপস্থিতি বাংলার পুজোয় বিরল দৃশ্য।

একসময় নবমীর দিনে ১০৮ মোষ ও ২৮ পাঁঠা বলি হত। এখন প্রতীকী কুমড়ো বলি হয়। দশমীতে মায়ের ভোগে থাকে পান্তা ভাত।
আগে নবমীতে নাটমন্দিরের মাঠে কর্দমাক্ত উৎসব ও ফানুস উড়ানোর আয়োজন ছিল। এখন তা নেই, তবে ডগরের বাজনায় সেই ঐতিহ্যের ঝলক এখনও পাওয়া যায়।
এই পুজোয় একসময় এসেছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারের জামাতা ছিলেন কবি ভোলানাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (শোককাব্য ‘অশ্রু’ খ্যাত)। তাঁর প্রপৌত্র ড. শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভোলানাথের সঙ্গে বন্ধুত্বের সূত্রে বিভূতিভূষণ এসেছিলেন এই পুজোয়।
ড. সঞ্চারী চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই বাড়িতে দুর্গাপুজো আসলে এক মিলন উৎসব। পরিবারের সবাই একত্রিত হন, আর প্রথা-রীতির মধ্য দিয়েই আজও দেবীর পুজো হয়।”
কী ভাবে যাবেন
ট্রেন – শিয়ালদহ থেকে শান্তিপুর লোকাল → শান্তিপুর স্টেশন → টোটো/রিকশা → ডাকঘর মোড়।
বাস – কলকাতা থেকে শান্তিপুর বাস → ডাকঘর স্টপেজ/বাইপাস → টোটো/রিকশা।
গাড়ি – এনএইচ-১২ হয়ে রানাঘাট হয়ে শান্তিপুর → ডাকঘর মোড়।
The post শারদীয় ঐতিহ্যে ৬০০ বছরের সাক্ষী, নদিয়ার শান্তিপুরের জজ পণ্ডিত বাড়ির একচালা দুর্গাপুজো appeared first on Bhramon Online.
]]>The post জঙ্গলমহল ঝাড়গ্রামের অন্যতম দর্শনীয় স্থান চিলকিগড় রাজবাড়ি appeared first on Bhramon Online.
]]>চিলকিগড়ের অন্যতম আকর্ষণ কনকদুর্গা মন্দির ও রাজবাড়ি। রাজবংশের কুলদেবতা কালাচাঁদ মন্দির এখানকার আরেকটি আকর্ষণ। নয় রত্ন বিশিষ্ট কালাচাঁদ মন্দির।
ডুলুং নদীর ধারে কনকদূর্গা মন্দির অনন্য স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে। মন্দিরকে ঘিরে আছে এক প্রাচীন অশ্বত্থ গাছ। গোপীনাথ সিংহ দ্বারা চিলকিগড়ের রাজবাড়ি প্রতিষ্ঠা পায়। তিনিই কনকদুর্গা মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
কনকদুর্গা মন্দির সংলগ্ন এলাকায় আছে একটি ঔষধি গাছের জঙ্গল। কলকাতা থেকে ১৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিস্মৃত ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে আসা অঞ্চলটি।
প্রাচীন এই রাজবাড়ি এতদিন পর্যটকরা বাইরে থেকে দেখেই ফিরে আসতেন। ভেতরে প্রবেশের অনুমতি ছিল না। তবে এই প্রথম এবার অন্দরমহলে থাকবার সুযোগ পাবেন পর্যটকরা। পাঁচটি ঘর রাত্রিবাসের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। রাজ প্যালেস অতিথিশালা চালু করা হয়েছে। তাই শীতের সময় ছুটিতে সেরা গন্তব্য হতে পারে চিলকিগড়।
কি কি দেখবেন : পাহাড়ি ডুলুং নদী। নদী দেখে পায়ে হেঁটে দেখে নিন কনক দূর্গা মন্দির। রাধাকৃষ্ণের নবরত্ন কালাচাঁদ মন্দির।
কিভাবে যাবেন : হাওড়া থেকে ট্রেনে ঝাড়গ্রাম। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন চিলকিগড়।
রাজ প্যালেসের বুকিং নাম্বারটি হল,
৭০০১৮৪৬৮৩৯/৭০২৯৫৯১২৪৭
The post জঙ্গলমহল ঝাড়গ্রামের অন্যতম দর্শনীয় স্থান চিলকিগড় রাজবাড়ি appeared first on Bhramon Online.
]]>The post শীতে স্বল্প দিনের ভ্রমণ: রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ঐতিহাসিক গঙ্গাবাস appeared first on Bhramon Online.
]]>কৃষ্ণনগরে আমঘাটার গঙ্গাবাসে মন্দিরটির চারপাশের সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করতে আসেন পর্যটকরা। গঙ্গাবাস নামকরণ করেছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র স্বয়ং।
জায়গাটি নবদ্বীপের নয়টি দ্বীপের মধ্যে একটি। দ্বীপের নাম গোদ্রুম দ্বীপ। এর অন্তর্গত সুবর্ণবিহার। একটি প্রত্নক্ষেত্র।
একটা সময় শান্তিপুর হয়ে এই আমঘাটার উপর দিয়ে মার্টিন কোম্পানির ন্যারোগেজ রেল নবদ্বীপ ঘাট অবদি যেত। এই আমঘাটাতেই গঙ্গাবাস।

অলকানন্দা নদীর তীরে গঙ্গাবাসে কৃষ্ণচন্দ্র শেষ জীবন কাটান। গঙ্গাবাস সবুজে ঘেরা মনোরম। আশেপাশে বিশাল কান্ড নিয়ে কটি বহু বছরের পুরনো তেঁতুল গাছ রয়েছে। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে অলকানন্দা নদী। বর্তমানে অলকানন্দা ক্ষীণতোয়া। হরিহর মন্দিরে হরিহরের বিগ্রহটি কৃষ্ণচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত করেন। বিগ্রহ চতুর্ভুজ। সঙ্গে আছে মাটির পার্বতী ও লক্ষী। মন্দিরে অন্যান্য মূর্তিও আছে।
অতীতকালে শোনা যায়, যে বৌদ্ধধর্ম বনাম হিন্দু ধর্মে হরিহর দেবতা নির্মান হয়। বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব বৃদ্ধি পেলে শৈব ও বৈষ্ণবরা একত্রিত হয়ে হরিহর মূর্তি স্থাপন করেছিলেন। ১৭৭৬ সালে মন্দিরটি তৈরি হয়। শিখরদেশটি ত্রিকোণ চারচালা।

মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র নিভৃতে তার শেষ জীবন এখানেই কাটিয়েছিলেন। সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র মন্দির যেখানে শ্রীরামচন্দ্রের প্রস্তর পদচিহ্ন আছে। বিপুল অর্থ খরচ করে কৃষ্ণচন্দ্র এই পদচিহ্ন ত্রিকুট পাহাড় থেকে নিয়ে আসেন।
কিভাবে যাবেন
ট্রেন পথে কৃষ্ণনগর স্টেশন থেকে টোটো বা বাসে আমঘাটা স্টপেজে নামুন। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে বা টোটো করে চলে আসুন মন্দির প্রাঙ্গণ। শান্ত, নিরিবিলি জায়গাটি আপনার মন ভরিয়ে তুলবে।
The post শীতে স্বল্প দিনের ভ্রমণ: রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ঐতিহাসিক গঙ্গাবাস appeared first on Bhramon Online.
]]>The post বছরের প্রথম দিন অঙ্গরাগের পর ফের ভক্তদের সামনে আসেন ধামেশ্বর মহাপ্রভু appeared first on Bhramon Online.
]]>বৈষ্ণব কবিদের বিবরণ থেকে জানা যায়, “নবদ্বীপ সম্পত্তি কে বর্ণিবারে পারে, একো গঙ্গা ঘাটে লক্ষ লোক স্নান করে।” এই ধাম ছিল এক বৈষ্ণবতীর্থ। মহাপ্রভুর সম্পূর্ণ লীলা দ্বারা বেষ্টিত।
ষোড়শ শতকের বাঙালির নবজাগরণের পথিক শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। এই নবদ্বীপের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ হল ধামেশ্বর মহাপ্রভুর মন্দির। সিংহদরজা পেরিয়ে প্রভুর মন্দিরে আজও সেবা হয়ে চলেছে।
বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী ধামেশ্বর মহাপ্রভুর বিগ্রহ নিজে সেবা করতেন। যে নিমগাছের তলায় মহাপ্রভুর জন্ম হয়েছিল সেই কাঠ দিয়ে দারু বিগ্রহটি তৈরি হয়। মন্দিরে আছে মহাপ্রভুর পাদুকা। ধামেশ্বর মহাপ্রভুর বিগ্রহটি নির্মাণ করেছিলেন বংশীবদন নামের এক শিল্পী। এই বছর মহাপ্রভুর অঙ্গরাগ।
প্রাচীন এই বিগ্রহের অঙ্গরাগ করেন বাবলু চক্রবর্তী মহাশয়। তিনি হলেন বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর বংশধর। প্রতি দু’বছর পর হয় এই নিয়ম। এই ক’দিন পুরনো ইঁটের দেউল মন্দিরে নিত্যপুজো হয়। চিত্রপটে সেবা করা হয়। পুরনো মন্দিরটি বহু প্রাচীন। শিখর দেশটি রেখদেউল আকারে। বীর হাম্বির এই মন্দির নির্মাণ করে দেন।
মহাপ্রভুর অন্তিম দর্শনের পর সকল নবদ্বীপবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন। ভক্তদের মন খারাপ। পয়লা জানুয়ারি প্রভু নব রূপে আসবেন। এই দিন উৎসব ঘিরে মেতে উঠবে চৈতন্যভূমি।
হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে কাটোয়া লোকাল আসুন নবদ্বীপ স্টেশন। সেখান থেকে টোটো বা রিক্সায় ধামেশ্বর মহাপ্রভুর মন্দির। কিংবা সরাসরি গাড়িতে চলে যেতে পারেন। কলকাতা দিল্লি রোড হয়ে ব্যান্ডেল, তার পর মগরা-কালনা-সমুদ্রগড় হয়ে নবদ্বীপ, দূরত্ব ১১৯ কিমি কিংবা মধ্যমগ্রাম-বারাসত-রানাঘাট- কৃষ্ণনগর হয়ে নবদ্বীপ, দুরত্ব ১৩৩ কিমি।
আরও পড়ুন। কলকাতাকে চিনুন: প্রাচ্যবিদ জেমস লং সাহেবের গির্জা
The post বছরের প্রথম দিন অঙ্গরাগের পর ফের ভক্তদের সামনে আসেন ধামেশ্বর মহাপ্রভু appeared first on Bhramon Online.
]]>The post কলকাতাকে চিনুন: প্রাচ্যবিদ জেমস লং সাহেবের গির্জা appeared first on Bhramon Online.
]]>গির্জার নাম ‘হোলি ট্রিনিটি চার্চ’। ১৮২৬ সালে আর্চডিকন কোরি গির্জার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। গির্জাটি ছিল প্রোটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায়ের। বহু বাঙালি খ্রিস্টানের আনাগোনা ছিল এই গির্জায়।
কলকাতায় এককালে মিশনারি ও কিছু সাহেব সমাজকে সংস্কারের ভূমিকা নেয়। এঁদের মধ্যে অন্যতম জেমস লং। এঁদের মূল লক্ষ্য ছিল সামাজিক উন্নতিসাধন। হিংসা বিদ্বেষ নয়, ধর্মপ্রচারে ব্রতী হন। বহু বাঙালি খ্রিস্টীয় ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।

তবে বাঙালি খ্রিস্টানদের ইংরেজি ভাষায় প্রার্থনা ও গ্রন্থপাঠ বেশ সমস্যায় ফেলে। বাংলা ভাষায় গ্রন্থপাঠ প্রথম এই গির্জায় শুরু হয়েছিল।
জেমস লং সাহেব দীর্ঘদিন এই গির্জাতে ছিলেন। এখান থেকে তিনি সিপাহী বিদ্রোহ ও নীল বিদ্রোহে সাহেবদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন। দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটকের অনুবাদ করেছিলেন লং সাহেব।
গির্জায় এসেছিলেন মথুরবাবুকে সঙ্গে করে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব। শোনা যায় গির্জা ঘুরে তিনি ভাবসমাধিস্থ হন। গির্জাটি আজ বিস্মৃতির অতলে। একবার সেই গির্জা ঘুরে এলে কলকাতার অমূল্য ইতিহাসে ফিরে যাওয়া যায়।
The post কলকাতাকে চিনুন: প্রাচ্যবিদ জেমস লং সাহেবের গির্জা appeared first on Bhramon Online.
]]>The post চলুন ঘুরে আসি দেশের সেরা পর্যটন গ্রাম বড়নগর, দেখে আসি টেরাকোটার অপূর্ব মন্দিররাজি appeared first on Bhramon Online.
]]>২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। ভারতের গ্রামগুলিতে পর্যটনকে তুলে ধরার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এই দিবস উপলক্ষ্যে ২০২৩ সাল থেকে ‘সেরা পর্যটন গ্রাম’-এর সম্মান দেওয়া শুরু করে। ৮টি বিভাগে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। বিভাগগুলি হল, অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন, কৃষি পর্যটন, সম্প্রদায়ভিত্তিক পর্যটন, হস্তশিল্প, ঐতিহ্য, দায়িত্বশীল পর্যটন, আধ্যাত্মিক ও সুস্থতা পর্যটন এবং প্রাণবন্ত পর্যটন।
২০২৪-এ এই সম্মাননা পাওয়ার জন্য দেশের ৩০টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ৯৯১টি আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। তার মধ্যে ৮টি বিভাগে ৩৬টি গ্রামকে ‘সেরা পর্যটন গ্রাম’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কৃষি পর্যটন বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে ৫টি গ্রাম। তাদের মধ্যে অন্যতম হল রানি ভবানীর স্মৃতিধন্য বড়নগর গ্রাম। বাকি ৪টি গ্রাম হল কেরলের কুমারাকোম, মহারাষ্ট্রের কারড়ে, পাঞ্জাবের হনসলি এবং উত্তরাখণ্ডের সুপি।
পরপর দু’ বছর সেরা পর্যটন গ্রামের স্বীকৃতি মিলল মুর্শিদাবাদ জেলার গ্রামের। ২০২৩ সালে ভারতের অন্যতম সেরা পর্যটন গ্রাম হিসেবে মুর্শিদাবাদের কিরীটেশ্বরীকে স্বীকৃতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার।

ভবানীশ্বর মন্দির।
মুর্শিদাবাদ জেলার লালবাগ মহকুমার জিয়াগঞ্জ ব্লকের বড়নগর গ্রামকে বলা হয় ‘বাংলার কাশী’। আজিমগঞ্জ সিটি স্টেশন থেকে দেড় কিমি দূরে, জেলাসদর বহরমপুর থেকে দূরত্ব ২১ কিমির মতো।
নাটোর রাজবংশের গঙ্গাবাস ছিল এই বড়নগর। নাটোরের রানি ভবানী অষ্টাদশ শতকে একের পর এক মন্দির গড়ে তোলেন ভাগীরথীর তীরে অবস্থিত এই বড়নগরে। তাঁর ইচ্ছা ছিল বড়নগরকে তিনি কাশীর মতো করে গড়ে তুলবেন। বড়নগর বিখ্যাত রানির গড়ে তোলা টেরাকোটা মন্দিরগুচ্ছের জন্য।
হস্তশিল্পের জন্যও বিখ্যাত বড়নগর। এখানকার তাঁতশিল্প, পেতল-কাঁসার শিল্প, মৃৎশিল্প এবং বাঁশ-বেতের তৈরি হস্তশিল্প রীতিমতো আকর্ষণ করে। তাঁতশিল্পের জন্য বিশেষ খ্যাতি আছে বড়নগরের। এখানে বোনা হয় বালুচরী, জামদানি আর টাঙ্গাইল শাড়ি। স্থানীয় বাজারে এবং মেলা-উৎসবে স্থানীয় শিল্পীরা নিজেদের তৈরি হস্তশিল্পসমূহ বিক্রি করেন।
এ যেন আর-এক বিষ্ণুপুর। বড়নগরের মূল আকর্ষণ পোড়ামাটির মন্দিররাজি। আধ কিমি এলাকা জুড়ে ডজনখানেক মন্দিরের সমাবেশ। এই সব মন্দির বিভিন্ন দেবতাকে উৎসর্গ করা – শিব, বিষ্ণু, কালী, দুর্গা।মন্দিরগাত্রে রয়েছে অনন্য পোড়ামাটির কাজ। তাতে মূর্ত হয়েছে রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনি, নানান পৌরাণিক আখ্যান, লোককাহিনি, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার কাহিনি। বাংলার মন্দিরস্থাপত্যের উজ্জ্বল নিদর্শন বরনগরের মন্দিরগুচ্ছ।
প্রথমে দেখে নিন একবাংলা পঞ্চানন শিব। শিববিগ্রহের পাঁচটি মুখ এখানে, তাই শিবঠাকুরের এখানে পঞ্চানন। খিলানে পোড়ামাটির কাজ।
উত্তর দিকে সামান্য যেতেই চারবাংলা মন্দির – ৪টি একচালা বাংলা মন্দির। তিন খিলানযুক্ত চতুষ্কোণ চত্বরের চারদিকে ৪টি মন্দির। দেবতা শিব। পোড়ামাটির অলংকরণে বৈচিত্র্য আছে।
এরই উত্তর-পশ্চিমে ভবানীশ্বর মন্দির। এই অষ্টকোণী মন্দিরে পঙ্খের কাজ অনবদ্য। এটিও শিবমন্দির। অদূরেই রানি ভবানীর কন্যা তারাসুন্দরীর তৈরি গোপালমন্দিরটি আজ দীর্ণ।

জোড়বাংলা – গঙ্গেশ্বর শিবমন্দির।
দুপাশে ভাঙা দুই শিবমন্দির। এদেরই বাঁয়ে রাজরাজেশ্বরী মন্দির। সপরিবার মহিষাসুরমর্দিনী মা দুর্গা এখানে বিরাজ করছেন। বিগ্রহটি অষ্টধাতুর। প্যানেলের দুর্গামূর্তিটি অনবদ্য। এই মন্দিরে মদনগোপাল, জয়দুর্গা, মহালক্ষ্মী, ঘোড়ার মতো গ্রীবাযুক্ত বিষ্ণুও বিরাজমান।
কিছুটা উত্তরে সেই রাজবাড়ি যা রানি ভবানীর নির্মিত এবং যেখানে ১৭৯৫ সালে তিনি দেহ রেখেছিলেন। রাজবাড়ির অনেকটাই বিধ্বস্ত। তবে রাজপরিবারের উত্তরপুরুষরা কিছু কিছু সংস্কার করেছেন। এখানে তৈলচিত্রে রাজপরিবারের বংশপরিচয় পাওয়া যায়।
রাজবাড়ি থেকে আরও উত্তরমুখী যেতে অষ্টভুজ গণেশমন্দির। এখানকার টেরাকোটার কাজ খুবই সুন্দর। এর আরও কিছুটা উত্তরে রানি ভবানীর গুরুবংশের মঠবাড়ি। এখানে রয়েছে কয়েকটি কালীমন্দির ও শিবমন্দির। বিপরীতে জোড়বাংলা – গঙ্গেশ্বর শিবমন্দির। আরও খানিকটা উত্তরে কিছুটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বড়নগরের সবচেয়ে প্রাচীন মন্দির চারচালা গঠনশৈলীর রামেশ্বর মন্দির।
বড়নগর বহরমপুর থেকে ২১ কিমি, মুর্শিদাবাদ থেকে ১০ কিমি, জিয়াগঞ্জ থেকে ৪ কিমি এবং আজিমগঞ্জ সিটি স্টেশন থেকে দেড় কিমির মতো। কলকাতা থেকে বড়নগরের দূরত্ব ২৩০ কিমির মতো। সরাসরি গাড়িতে চলে যেতে পারেন। কিংবা ট্রেনে বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ, জিয়াগঞ্জ বা আজিমগঞ্জ পৌঁছে গাড়িতে চলে যেতে পারেন। তবে আজিমগঞ্জ থেকে ইচ্ছা করলে হেঁটেও যাওয়া যায়।
থাকার জন্য চার জায়গাতেই হোটেল পাবেন। গুগুল সার্চ করলে পেয়ে যাবেন। আর পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের হোটেল রয়েছে বহরমপুর ও মুর্শিদাবাদে। অনলাইন বুকিং wbtdcl.wbtourismgov.in।
The post চলুন ঘুরে আসি দেশের সেরা পর্যটন গ্রাম বড়নগর, দেখে আসি টেরাকোটার অপূর্ব মন্দিররাজি appeared first on Bhramon Online.
]]>The post কালিম্পঙের মর্গ্যান হাউস কি ভূতুড়ে বাড়ি? একবার গিয়ে থেকে আসুন না! appeared first on Bhramon Online.
]]>আপাতত চলুন কালিম্পং। কালিম্পঙে থাকার বহু ব্যবস্থা আছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের রয়েছে তিনটে জায়গা – হিল টপ ট্যুরিজম প্রপার্টি, তাশিডিং ট্যুরিজম প্রপার্টি, আর মর্গ্যান হাউস ট্যুরিজম প্রপার্টি। এবার কালিম্পঙে গিয়ে থাকা যাক মর্গ্যান হাউস ট্যুরিজম প্রপার্টিতে, সাধারণের কাছে যার পরিচয় মর্গ্যান হাউস হিসাবে।
কালিম্পং শহরের দুরপিনদাঁড়া পাহাড়ের শীর্ষে ১৬ একর জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে আছে মর্গ্যান হাউস। এখানে কটেজও আছে, তবে সেখানে থাকবেন না। থাকবেন মর্গ্যান হাউস বাড়িটিতে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ এই মর্গ্যান হাউস। দোতলা এই বাড়িটি পাথর আর কাঠ দিয়ে তৈরি। পাটের কারবারি জর্জ মর্গ্যান ১৯৩০ সালে এই বাড়িটি তৈরি করেন বলে শোনা যায়।
ভারত স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পরেও তাঁরা তাঁদের দেশে ফেরেননি। ষাটের দশকের একেবারে গোড়ায় মি. মর্গ্যান মারা যান। মিসেস মর্গ্যানও বেশি দিন বাঁচেননি। ১৯৬৪ সালে দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে তিনি মারা যান। মর্গ্যানদম্পতির কোনো উত্তরাধিকারী ছিল না। তাই ১৯৬৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন দফতর বাড়িটি অধিগ্রহণ করে। ১০ বছর পরে এই বাড়িটি তুলে দেওয়া হয় রাজ্যের ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের হাতে।
এর বহু বছর পরে মর্গ্যান হাউসকে নিয়ে গল্প ছড়াতে শুরু করে। এটা নাকি ভূতুড়ে বাড়ি, এখানে মিসেস মর্গ্যান নাকি ঘুরে বেড়ান। কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, সৎ উদ্দেশ্যেই বাড়ির চারপাশে, বাড়ির মধ্যে ঘুরে বেড়ান তিনি। দেখেন, সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি না, অতিথিদের ঠিকমতো যত্নআত্তি করা হচ্ছে কি না ইত্যাদি।
যে সব সরকারি কর্মী মর্গ্যান হাউসের দায়িত্বে রয়েছেন তাঁরা ভূতের গল্প হেসে উড়িয়ে দেন। তাঁদের বক্তব্য, এসব গল্পের কোনো ভিত্তি নেই। পর্যটকেরা এখানে থাকার সময় প্রায়ই বলেন, রাতে ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ হয়েছে। মনে হচ্ছে অতিপ্রাকৃত কিছু ঘটনা ঘটছে। আসলে যে সব কর্মী রাতে ডিউটিতে থাকেন তাঁরা করিডোর দিয়ে হেঁটে যান, জানলা বন্ধ করতে হয়, করিডোরের আলো নেভাতে হয়। রাত্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে, সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি না তা দেখতে তাঁদের অনেক রাত পর্যন্ত জাগতে হয়। বাড়ির সিঁড়ি, মেঝে সব কাঠের তৈরি। বাড়িটা এরকম একটা নির্জন এলাকায়। করিডোর দিয়ে হেঁটে গেলেই তার শব্দ হয়, প্রতিধ্বনি হয়। সুতরাং ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ শুনতে পাওয়া তো স্বাভাবিক ব্যাপার।

তার পর সোশ্যাল মিডিয়া তো আছেই। পর্যটকরা আসবেন, হাতে-মুখে অদ্ভুত রঙ লাগাবেন, তার পর রিল করে সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়বেন। সেই ভিডিও বা ভ্লগ ভাইরাল হবে। আর সাধারণের মধ্যে এই ধারণা গেঁড়ে বসবে যে মর্গ্যান হাউস ভূতের বাড়ি।
এতশত যুক্তির পরেও কিন্তু স্থানীয়দের বিশ্বাস যায় না। কালিম্পঙের যে সব গাড়ি পর্যটকদের নিয়ে মর্গ্যান হাউসে আসেন, তাঁদের জিগগেস করুন। তাঁরা কিন্তু ভূতের গল্প শোনাবেন। বলবেন, তিনি অবশ্য দেখেননি, কিন্তু স্থানীয় মানুষজন বলেন, ‘তিনি’ এখনও থাকেন সেখানে। তবে চিন্তার কিছু নেই। তিনি কোনো পর্যটকের ক্ষতি করেন না। কিন্তু যারা এই সম্পত্তিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে বা এখানে ঢুকে কুকর্ম চালায়, বিশেষ করে রাতে, তাদের মিসেস মর্গ্যানের মুখোমুখি হতে হয়। আসলে তিনিই হলেন এই সম্পত্তির অভিভাবক।
এই নিয়ে এখানকার কর্মীদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা বলেন, বিশ্বাস বলুন বা অপবিশ্বাসই বলুন, সাধারণত কোনো জায়গায় কারও অপঘাতে মৃত্যু হলে তাঁর আত্মা নাকি সেখানে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু মর্গ্যান হাউসের ক্ষেত্রে তো তা সত্যি হতে পারে না। মিসেস মর্গ্যান এখানে থাকবেন কী করে? তাঁর তো স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল, তাও এই বাড়িতে নয়, হাসপাতালে।
আসলে মর্গ্যান হাউসের পরিবেশটাই এমন। কালিম্পং শহরের ভিড়ভাট্টা থেকে অনেক দূরে। কালিম্পং ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মধ্যে একটা বিচ্ছিন্ন জায়গায়। কাছাকাছি কোনো বসতি নেই, দোকানপাট-বাজার, কিচ্ছু নেই। একেবারে নিরিবিলি নির্জন। আর নির্জনতারও যে একটা শব্দ আছে, তা এই মর্গ্যান হাউসে এলে বোঝা যায়। একনাগাড়ে কান পেতে থাকুন, মনে হবে অদ্ভুত একটা শব্দ কানে আসছে। সন্ধে হলেই পরিবেশটা কেমন গা ছমেছমে হয়ে যায়। ঠান্ডাটাও বাড়ে। মনে হয় একটা শিরশিরানি গা দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে একটা ভৌতিক পরিবেশ কল্পনা করেই নেওয়া যায়।
মর্গ্যান হাউস সরকার পর্যটক আবাসে রূপান্তরিত করার বহু বছর পরে এটি ভূতুড়ে বাড়ির তকমা পায়। এর জন্য বেশ কিছু ফিল্মের কিছু অবদান আছে। ‘পাতাললোক’, ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘তারকার মৃত্যু’ প্রভৃতি সাসপেন্স ফিল্মের শুটিং হয়েছে এখানে। এর পরেই মর্গ্যান হাউস আরও পরিচিতি পায় এবং ভূতের বাড়ির তকমাও জুটে যায়।
কীভাবে বুকিং করবেন
সুতরাং চলুন কালিম্পং, থাকুন মর্গ্যান হাউসে। বুকিং করুন রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ওয়েবসাইট www.wbtdcl.com –এর মাধ্যমে।
আরও পড়ুন
বাঙালির প্রিয় বেড়ানোর জায়গা যেখানে গেলেই পাবেন তেনাদের দেখা
পর্যটকদের নতুন গন্তব্য উত্তরপ্রদেশের রানিপুর টাইগার রিজার্ভ
The post কালিম্পঙের মর্গ্যান হাউস কি ভূতুড়ে বাড়ি? একবার গিয়ে থেকে আসুন না! appeared first on Bhramon Online.
]]>The post পলাশের পার্বণে গন্তব্য হোক পুরুলিয়ার ‘মিনি সুন্দরবন’ appeared first on Bhramon Online.
]]>পলাশ পার্বণে অনেকেই পুরুলিয়া ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন। এ বারও করুন। তবে এ বার আপনার গন্তব্য হোক কিছুটা অফবিট পুরুলিয়া। এ এক অন্য ‘সুন্দরবন’! তবে তা ম্যানগ্রোভ অরণ্যকে ঘিরে নয়। রয়েছে বিস্তীর্ণ সোনাঝুরি জঙ্গলকে ঘিরে।
কাশীপুর শহরের কাছেই রয়েছে এই জলাশয়। প্রায় বছর পাঁচেক ধরে রঞ্জনডি ড্যামকে ঘিরে সাজিয়ে-গুছিয়ে জঙ্গলমহলের পর্যটনে নয়া ঠিকানার রূপ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের অর্থ সেই সঙ্গে কাশীপুরের বিদায়ী বিধায়ক স্বপন বেলথরিয়ার উন্নয়ন তহবিল থেকে এই জলাশয় সৌন্দর্যায়নের কাজ হয়। যার নাম দেওয়া হয়েছে যোগমায়া সরোবর।
সোনাঝুরি জঙ্গল ঘিরে থাকা এই সরোবর এখন চোখ টানছে পর্যটকদের। জলাশয়ের পাশে রয়েছে একটি অতিথিনিবাস। নৌকো বিহারে যেন সুন্দরবনের স্বাদ পাচ্ছেন।জলাশয়ের পাশে জঙ্গলের চেহারা মনে করাচ্ছে ম্যানগ্রোভ অরণ্যকেই। সেই সঙ্গে জলাশয়ের মধ্যেই সুন্দরবনের মতো একাধিক দ্বীপ। যেখানে খাটিয়া পেতে দিব্যি সময় কাটাতেপারছেন পর্যটকরা।
সেই সঙ্গে পরিযায়ী পাখির সমাহার তো আছেই। নৌকাবিহারের সময় হাতের নাগালে পেয়ে যাবেন পানডুবি, পানকৌড়ি। এমনকি দেখা মিলতে পারে পিনটেল, বালি হাঁস বা নীল শিরেরও। নৌকাবিহারে গা ঘেঁষে ডানা ঝাপটিয়ে চলে যাবে পরিযায়ীর দল।
The post পলাশের পার্বণে গন্তব্য হোক পুরুলিয়ার ‘মিনি সুন্দরবন’ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post স্বল্পচেনা উত্তরবঙ্গের অনন্য জায়গা, চলুন ঘুরে আসি চিসাং appeared first on Bhramon Online.
]]>উপভোগ করুন
ব্যস্ত জীবনের অবকাশে অনাবিল আনন্দে দিন কয়েকের ছুটি কাটাতে চলুন চিসাং, কালিম্পং জেলায় ৫০০০ ফুট উচ্চতায় ভুটান সীমান্ত লাগোয়া নিরিবিলি পাহাড়ি গ্রাম। ওখানে একটা ঝরনাও আছে, নাম চিসাংখোলা। এর থেকেই গ্রামের নাম চিসাং।
‘গেলাম-দেখলাম-ফিরে এলাম’, এই তত্ত্বে যাঁরা বিশ্বাস করেন না, তাঁদের ছুটি কাটানোর আদর্শ জায়গা চিসাং। যাঁরা ফোন থেকে দূরে থাকতে চান, তাঁদের ছুটি কাটানোর আদর্শ জায়গা চিসাং। তড়িঘড়ি ট্যুর যাঁরা পছন্দ করেন না, তাঁদের জন্য চিসাং।
পাহাড়, সবুজ গাছগাছালি আর হরেক রকম পাখির কুজন চিসাং-এ আপনাকে স্বাগত জানাবে। হাত বাড়ালেই ভুটানের পাহাড়, নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত যার শীর্ষদেশ বরফে মোড়া থাকে। সেই পাহাড়ের কোলে অসাধারণ সূর্যোদয়ের সাক্ষী থাকুন।
এলাচের জঙ্গলে হাঁটাহাঁটি করুন, হাত বাড়িয়ে স্কোয়াশ তুলে নিন আর নানা ওষধি গাছের সঙ্গে পরিচিত হন।
ফোর হুইল গাড়ি নিয়ে ঘুরে আসুন দ্রুক থেক সাম চোলিং মন্যাস্টেরি, আর দাবাইখোলা নদী। নদীর ও পারেই ভুটান। বরফঠান্ডা জলে অল্প স্রোত ঠেলে পায়ের পাতা ডুবিয়ে চলে যান ও পারে, ভুটানের মাটি ছুঁয়ে আসুন। স্থানীয় মানুষরা বলেন, দাবাইখোলার জলের ওষধি গুণ আছে, তাই তো নাম দাবাইখোলা বা দাওয়াইখোলা। নদীর পাড়ে জমিয়ে পিকনিক করুন।

কাছেপিঠেই রয়েছে ঝালং-পারেন-বিন্দু। ঘুরে আসুন ডুয়ার্সের অতি পরিচিত এই তিন পর্যটনকেন্দ্র থেকে।
কী ভাবে যাবেন
চিসাং-এর কাছের রেলস্টেশন নিউ মাল। কলকাতা থেকে নিউ মাল যাওয়ার ট্রেন কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, রোজ শিয়ালদহ থেকে ছাড়ে রাত সাড়ে ৮টায়, নিউ মাল পৌঁছোয় পরের দিন সকাল সাড়ে ৯টায়। নিউ মাল থেকে চিসাং ৫৪ কিমি, গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন।
তা ছাড়া নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন দেশের সব বড়ো জায়গার সঙ্গেই ট্রেনপথে যুক্ত। কলকাতা থেকেও নিউ জলপাইগুড়ি যাওয়ার প্রচুর ট্রেন আছে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে চিসাং ১১১ কিমি, গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন।
আর সে রকম লং ড্রাইভে যাওয়ার নেশা থাকলে গাড়িতেই কলকাতা থেকে চলুন চিসাং, ৬৬১ কিমি। তেমন বুঝলে শিলিগুড়িতে একটা রাত কাটিয়ে যেতে পারেন।
ট্রেনের বিশদ তথ্যের জন্য দেখুন erail.in।
কোথায় থাকবেন
থাকার জন্য রয়েছে ‘দ্য ওয়াইল্ডউডস রিট্রিট’, যোগাযোগ ৮৯০০৩৭০৮০১। হোয়াটস অ্যাপ ৮২৫০৩১৭৫১১।
জেনে রাখুন
আগে থেকে বলে রাখলে স্টেশন থেকে পিক আপ এবং স্টেশনে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে ‘দ্য ওয়াইল্ডউডস রিট্রিট’। চিসাং এবং তার আশেপাশে ঘোরার জন্যও গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয় তারা।
The post স্বল্পচেনা উত্তরবঙ্গের অনন্য জায়গা, চলুন ঘুরে আসি চিসাং appeared first on Bhramon Online.
]]>