The post সময়কে হার মানানো নির্মাণ—ভারতের প্রাচীন মন্দিরগুলো দর্শনের বহিঃপ্রকাশ appeared first on Bhramon Online.
]]>কৈলাস মন্দির, এলোরার উপকণ্ঠে, একটি পাহাড় খোদাই করে সম্পূর্ণ তৈরি। উপর থেকে নিচে, একটিই পাথর। কোনো জোড়া নয়, কেবল অপসারণ। এই মন্দির শিখিয়ে দেয়, কখনও কখনও শ্রেষ্ঠত্ব আসে কমিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে—অহংকার, অতিরিক্ততা, অপ্রয়োজনীয় সবকিছু বাদ দিয়ে।
বৃহদেশ্বর মন্দির, তাঞ্জাভুর, ৮০ টন ওজনের শিখরখণ্ড ২১৬ ফুট উঁচুতে তোলা হয়েছিল এক কিলোমিটারের র্যাম্প বানিয়ে, হাজার হাজার মানুষের হাতে। আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই এই কাজ সম্ভব হয়েছিল, কারণ তখন প্রশ্ন ছিল না “সম্ভব কি?”, বরং এক শাসকের অটল বিশ্বাস ছিল ‘এটা হবেই।’
মীনাক্ষী মন্দির, মাদুরাই—একটি রঙিন, জটিল, প্রাণবন্ত সৌন্দর্য। প্রতিটি কোণায়, প্রতিটি ইঞ্চিতে আছে কাহিনি, শিল্প, স্পন্দন। এই মন্দির জীবনকে তার সমস্ত বিশৃঙ্খলা ও আবেগসহ গ্রহণ করে এবং সেগুলিকেই সৌন্দর্যে পরিণত করে।
কোনার্ক সূর্য মন্দির, ওড়িশা, সূর্যদেবের রথ হিসেবে নির্মিত, যার চাকাগুলি সূর্যঘড়ির মতো কাজ করে—প্রতিটি মুহূর্ত নির্ভুল। এটি প্রমাণ করে, প্রাচীন ভারতে বিশ্বাস মানেই তা অন্ধ নয়, বরং বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা এবং স্পষ্টতায় সেই বিশ্বাস ছিল জারিত।

লেপাক্ষী মন্দির, অন্ধ্রপ্রদেশ—একটি স্তম্ভ মাটিতে স্পর্শই করে না। কেমন করে সম্ভব, তা আজও রহস্য। কেউ বলে কৌশল, কেউ বলে অলৌকিকতা। কিন্তু মন্দির নিজে কিছু বলেনা, কেবল বিস্ময়কে জায়গা দেয়।
রণকপুর জৈন মন্দির, রাজস্থান—১,৪৪৪টি স্তম্ভ, একটিও অন্যটির অনুরূপ নয়। এই মন্দির আমাদের শেখায়, শ্রদ্ধা সবসময় উচ্চকণ্ঠে আসে না। কখনও তা থাকে নিঃশব্দে, নিখুঁত কারুকার্যে।
রমেশ্বরম মন্দির, তামিলনাড়ু, সমুদ্রপৃষ্ঠে, লবণাক্ত বাতাসের ধাক্কায়। তবুও দাঁড়িয়ে। কারণ কিছু কিছুর অর্থ পেতে গেলে দূর যেতে হয়, সংগ্রাম করতে হয়। সেই অর্থেই এই মন্দির দাঁড়িয়ে আছে আমাদের সামনে।
এই সব মন্দির একবারেই নির্মিত হয়নি। এগুলো ছিল ইচ্ছাশক্তির ফসল। হাজারো প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা এই মন্দিরগুলো আজও বলে—”যা হৃদয় থেকে নির্মিত, তা কালজয়ী হয়।”
এই তালিকা কেবল মন্দিরের নাম নয়, বরং অতীত থেকে আসা এক গভীর প্রশ্ন: তুমি কী এমন কিছু তৈরি করছো, যা তোমার বেঁচে থাকার অনেক পরেও থেকে যাবে?
The post সময়কে হার মানানো নির্মাণ—ভারতের প্রাচীন মন্দিরগুলো দর্শনের বহিঃপ্রকাশ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post বিক্রমাদিত্য ও সম্রাট আকবরের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক চুনারগড় appeared first on Bhramon Online.
]]>শোনা যায় গুপ্ত সম্রাট বিক্রমাদিত্যের সময়কার দুর্গটি। প্রাচীন ভারতের সাক্ষ্য বহন করছে। কেউ কেউ বলেন চন্দ্রার কেল্লা। গুপ্ত যুগের শিলালিপি চুনারগড় থেকে পাওয়া গিয়েছিল।

চন্দ্রগুপ্তের মুদ্রা
একসময় শের শাহ সুরির অপ্রতিরোধ্য ঘাঁটি ছিল চুনারগড়। তিনি নাকি এই দুর্গ বিয়ের যৌতুক হিসেবে পেয়েছিলেন। মুঘল সম্রাট হুমায়ুন এই দুর্গ আক্রমণ করেছিলেন। চুনারগড়কে কেন্দ্র করে মুঘল ও পাঠানদের মধ্যে একাধিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। আকবর এই দুর্গ দখল করেছিলেন। বর্তমান দুর্গের বেশিরভাগ স্থান সম্রাট আকবরের আমলে নির্মিত হয়েছিল মনে করা হয়।

চুনারের পুরনো চিত্র
চুনারগড় এর মধ্যেই আছে এক অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপত্য। যা রহস্যে আবৃত। সোনওয়া মন্ডপ। দুর্গের ভেতর এক বিশেষ ভবন। মনে করা হয় ভবনে দরজার ওপরটি সোনা দিয়ে মোড়ানো। সোনওয়া মন্ডপের সঙ্গে নেপালি রাজা সন্দেবের রাজকন্যা সোনওয়ার নাম জড়িয়ে। রাজকন্যা মন্ডপের এক গোপন সুড়ঙ্গ পথে গঙ্গাস্নান করতে যেতেন। ১০২৯ খ্রিস্টাব্দে রাজা সহদেব এটি নির্মাণ করেছিলেন।

সোনওয়া মন্ডপ, চুনারগড়
১৭৬৪ সালে বক্সার যুদ্ধের পর চুনারগড় ইংরেজদের দখলে আসে। এখানে আজও একটি ইংরেজদের গোরস্থান আছে।
কিভাবে যাবেন:
কলকাতা বা হাওড়া থেকে ট্রেনে কাশীধাম চলে আসুন। সেখান থেকে গাড়ি বুকিং করে ঘুরে নিন চুনারগড়।
The post বিক্রমাদিত্য ও সম্রাট আকবরের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক চুনারগড় appeared first on Bhramon Online.
]]>The post জিঞ্জি দুর্গ প্রাচ্যের ট্রয় appeared first on Bhramon Online.
]]>দক্ষিণ ভারতে জিঞ্জি দুর্গে রাজাদের সঙ্গে মুঘল বাহিনীর বহুদিন ধরে যুদ্ধ চলে। অপ্রতিরোধ্য এই দুর্গ দখল করা একরকম দুরূহ ব্যাপার ছিল মুঘলদের কাছে। আট বছর পর দখল করতে পেরেছিল। যা এক ঐতিহাসিক ঘটনা। চোল, কুরুম্বার, বিজয়নগর, বিজাপুর, মারাঠা, ফরাসি ও সবশেষে ব্রিটিশ বাহিনী দুর্গে নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করে।
তিনটি পাহাড় দিয়ে উঁচু প্রাচীরে ঘেরা এই দুর্গ এক কথায় অসাধারণ। প্রাচীন সেনজিয়াম্মান মন্দির থেকে এই দুর্গের নামকরণ জিঞ্জি হয়।
এক মেষপালক জিঞ্জি দুর্গের কাছে পাহাড়ে বিপুল ধন সম্পদ খুঁজে পায়। সেই দিয়ে ওই মেষপালক সৈন্য সামন্ত জোগাড় করে আর এক দুর্গ নির্মাণ করেন। নাম দেন আনন্দগিরি।

স্থাপত্যের দিক থেকে জিঞ্জিতে বিখ্যাত কৃষ্ণগিরির মন্দির ও রানী দুর্গ। জিঞ্জিতে সবচেয়ে উঁচু দুর্গের নাম রাজাগিরি। যার অর্থ রাজার দুর্গ। বেশ কয়েকটি দুর্গ নিয়ে জিঞ্জি। একসময় এই দুর্গ ঘিরে নগর গড়ে উঠেছিল। টিলার উপর দুর্গের ধ্বংসাবশেষ ও পুরো দুর্গ ঘুরে দেখতে চমৎকার লাগে। একবার দেখলে কখনো ভোলার নয়।
কিভাবে যাবেন:
পন্ডিচেরি ও চেন্নাই দুই জায়গা থেকে সহজেই যাওয়া যায়। চেন্নাই থেকে যেতে ঘন্টা দুই তিনেক সময় লাগে।
The post জিঞ্জি দুর্গ প্রাচ্যের ট্রয় appeared first on Bhramon Online.
]]>The post অচেনা কলকাতা, পর্ব ৪ appeared first on Bhramon Online.
]]>কলকাতায় ট্রাম ১৫২ বছরে পড়লো। সেই উপলক্ষে সম্প্রতি এসপ্ল্যানেড ডিপোতে ছিল একাধিক অনুষ্ঠান।
১৮৮০ সালে ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ পথ হাঁটা শুরু করে। সেকালের চিতপুর রোডে ঘোড়ায় টানা ট্রাম লাইন বসে। প্রথম ঘোড়ায় টানা ট্রাম চলেছিল শিয়ালদা থেকে আর্মেনিয়ান ঘাট পর্যন্ত। ১৯০২ সালে বিদ্যুৎ চালিত ট্রাম শহরে চালু হয়। উত্তর কলকাতা ধরে ট্রাম যেতো বিবাদী বাগ।
১৮৮২ সালে বেশ কিছুদিনের জন্য বাষ্পচালিত ট্রাম আমাদের শহরে চলেছিল। খিদিরপুর-এসপ্ল্যানেড, গড়িয়াহাট-বিবাদী বাগ, বালিগঞ্জ-টালিগঞ্জ, বেলগাছিয়া-এসপ্ল্যানেড, শ্যামবাজার-এসপ্ল্যানেড রুটে ট্রামের সঙ্গে যুক্ত মানুষের কত স্মৃতি। সেই সময়ের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ট্রাম।
শৈশবে দুপুরে ট্রামে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরা, ৭০-এর দশকে প্রেম, নস্টালজিয়া, সঙ্গীত, রাজনীতি এই সব একটি যানকে নির্ভর করে মানুষের আবেগ সহজাতভাবে এসেছে।
আজও ট্রামের গায়ে লেখা থাকে ‘এই গাড়ি আপনার দয়া করে যত্ন নিন।’ এক এক করে অনেকগুলো রুটের ট্রাম শহরে বন্ধ হয়েছে। সব বাধা পেরিয়ে আজো এই মন্থর গতির যান আছে। পরিবহন দপ্তর জানিয়েছেন, তারা ঐতিহ্যবাহী ট্রাম চালাতে আগ্রহী। কয়েকটি রুটে ট্রাম চলছে।
The post অচেনা কলকাতা, পর্ব ৪ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post কাশীর জ্ঞানবাপী কূপ যা রহস্যে আবৃত appeared first on Bhramon Online.
]]>রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব একবার মথুর বাবুকে সঙ্গে নিয়ে কাশীধামে এসেছিলেন। তখন মণিকর্ণিকা ঘাটের শ্মশান দেখে বলেছিলেন, দেখিলাম পিঙ্গলবর্ণ জটাধারী দীর্ঘাকার এক শ্বেতকায় পুরুষ গম্ভীর পাদবিক্ষেপে শ্মশানে প্রত্যেক চিতার পার্শ্বে আগমন করিতেছেন এবং প্রত্যেক দেহীকে সযত্নে উত্তোলন করিয়া তাহার কর্ণে তারক ব্রহ্মমন্ত্র প্রদান করিতেছেন!

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম কাশীর বিশ্বেশ্বর। জ্ঞানবাপী কথার অর্থ জ্ঞানের কূপ। যেখানে জ্ঞানের আবাস।
প্রাচীন গ্রন্থ থেকে জানা যায় কাশীর বিশ্বনাথ মন্দিরের পাশে জ্ঞানবাপী কূপে স্নান করে বাহন নন্দীকে পুজো দিয়ে তারপর শিবের পুজো হওয়ার রীতি ছিল।

জানেন কি, ভারতে অসংখ্য শিব মন্দির আছে। সব মন্দিরে শিবের দিকে মুখ করা থাকে নন্দীর। কিন্তু কাশীতে জ্ঞানবাপী কূপের দিকে মুখ বাহন নন্দীর। এক অতি আশ্চর্য ব্যাপার।
মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব শোনা যায় এই কূপের ওপর ইন্দো ইসলামিক স্থাপত্যের জ্ঞানবাপী মসজিদ নির্মাণ করেন। সেই সময় মুঘল বাহিনী ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। পরবর্তীতে ইন্দোরের রানি অহল্যা বাই এই স্থানের ব্যাপক সংস্কার করেন। সম্প্রতি পুণ্যভূমি কাশীর জ্ঞানবাপী মামলা নিয়ে সারা দেশ উত্তাল হয়েছে। আদালত হস্তক্ষেপ করেছেন গোটা বিষয়টিতে।
The post কাশীর জ্ঞানবাপী কূপ যা রহস্যে আবৃত appeared first on Bhramon Online.
]]>The post অজয় নদের তীরে জয়দেব কেঁদুলি appeared first on Bhramon Online.
]]>বীরভূমের জয়দেব কেঁদুলি গ্রাম। অজয় নদের তীরে এখানেই গীতগোবিন্দ রচয়িতা কবি জয়দেবের জন্মস্থান।
অজয় নদের প্রান্তরে পৌষ সংক্রান্তিতে হয় জয়দেব কেঁদুলি মেলা। মেলা ঘিরে মেতে ওঠেন মানুষজন। বহু বাউলের দর্শন পাওয়া যায়। কেঁদুলির মূল আকর্ষণ।
অতীতের কেন্দুবিল্ব গ্রাম আজকের কেঁদুলি। রাজা লক্ষণ সেনের কবি ছিলেন জয়দেব। কথিত আছে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ কবি জয়দেবের অসম্পূর্ণ পদের অংশ লিখেছিলেন। এমনই আশ্চর্য বর্ণনা শোনা যায়।
জয়দেব কেঁদুলির নবরত্ন রাধাবিনোদ মন্দিরটি এখানকার আরেক আকর্ষণ। জয়দেবের ভিটের ওপর মন্দিরটি নির্মাণ হয়েছিল। অপূর্ব টেরাকোটা অলংকরণে অলংকৃত মন্দিরটি। এছাড়া এখানে দেখার আছে কদমখন্ডির ঘাট।
কিভাবে যাবেন:
ট্রেনে চলে আসুন বোলপুর স্টেশন। সেখান থেকে ইলামবাজারগামী বাস ধরে চলে যান কেঁদুলি। অথবা দুর্গাপুর স্টেশন থেকে বাসে সহজেই চলে আসা যায়।
The post অজয় নদের তীরে জয়দেব কেঁদুলি appeared first on Bhramon Online.
]]>The post অচেনা কলকাতা, পর্ব ১ appeared first on Bhramon Online.
]]>বটতলার কাঠখোদাই শিল্প। ঐতিহাসিক বটতলার ছাপাখানা ও কাঠখোদাই ছবি উনিশ শতকের কলকাতায় এক নতুন উদীয়মান নিদর্শন। শহরে সেই ছাপাখানার হাত ধরে মুদ্রণ শিল্পে এক বিপ্লব এলো।
কথায় বলে,
ধন্য হে কলিকাতা ধন্য হে তুমি,
যত কিছু নতুনের তুমি জন্মভূমি।
গরানহাটা অঞ্চলে নদীপথে আসত কাঠ। কারিগররা সেই কাঠ নিয়ে যেতেন বটতলা অঞ্চলে। এরপর কাঠের ব্লক খোদাই করে কারিগরি দক্ষতায় কাগজে লেখা ও ছবি বের হতো। আজও সেই অঞ্চলে ঘুরেফিরে চিৎপুরে রাস্তার দুপাশে দেখা যায় কিছু পুরোনো কাঠখোদাই এর দোকান। পঞ্চানন কর্মকার ছিলেন ওই সময়ে এক স্বনামধন্য কাঠখোদাই শিল্পী।
বটতলা :
দেশীয় সাহিত্য, সামাজিক প্রহসন, পঞ্জিকা, বেশ্যারহস্য, প্রেমবিলাস, অন্নদামঙ্গল, পুরাণের কাহিনী বটতলায় ছাপা হতে শুরু হলো। খুব সস্তায় সেই বই বিক্রি হতো। তৎকালীন অভিজাত বাবু শ্রেণীর মানুষ বটতলার সাহিত্য রসে সুরা পান করে নিমজ্জিত থাকতেন। তাই দেখে অনেকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করতে ছাড়তেন না। বলতেন, বটতলার লেখনী অশ্লীল সাহিত্য। ভদ্রবাবুরা বিগড়ে গেলেন। শুরু হল বাবুদের মাত্রাতিরিক্ত জীবন। উনিশ শতকে চিৎপুর রোডের পাশে এক বিশাল বট গাছ ছিল। গাছটি আজ আর নেই। সেই বটতলায় কলকাতায় প্রথম প্রকাশকদের হাত ধরে ছাপাখানা খোলা হয়।
সন্দেশের ছাঁচ :
কাঠের তৈরি সন্দেশের ছাঁচ। নানারকম নকশার হয় সন্দেশের ছাঁচ। বিভিন্ন ধরনের পিঠে ও সন্দেশ এই ছাঁচ দিয়ে তৈরি করা যায়। তালের শাঁস, পদ্মচিনি, শঙ্খ, মাছ, চন্দ্রপুলি, প্রজাপতি এই সমস্ত সন্দেশের ছাঁচ দিয়ে তৈরি হয়। কাঠ খোদাই করে এই সকল ছাঁচ তৈরি হয়।

বইমেলায় বটতলা :
সেকালের এই দেশীয় শিল্প আজকের নাগরিক সমাজ বোধহয় একেবারে ভুলে যায়নি। সেই বিষয় সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার কাজটি করেছেন জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য। ৪৮ তম আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তক মেলায় বহু দুষ্প্রাপ্য কাঠখোদাই ছবি নিয়ে প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। ‘উনিশ শতকের খোদাই চিত্র’ প্রদর্শনী। আগামী ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ পর্যন্ত চলবে। ঘুরে আসুন কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় বিশেষ স্টলটি।
বটতলা কিভাবে যাবেন :
হাওড়া বা শিয়ালদহ স্টেশন থেকে সড়কপথে গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টপেজে নামুন। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে চিৎপুর রোড চলে আসুন। এরপর গরানহাটা স্ট্রিট ধরে বটতলা অঞ্চল দেখে নিন।
(চলবে)
The post অচেনা কলকাতা, পর্ব ১ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post বোলপুরের কাছেই গুপ্ত, পাল, সেন প্রভৃতি আমলের নিদর্শন! যেন এক সংগ্রহশালা, পর্ব ৫ appeared first on Bhramon Online.
]]>পর্ব ৫
মুকুট তপাদার
সমগ্র এশিয়ার প্রাচীনতম দুর্গামূর্তি দেউলী গ্রামে। অজয় নদীর পাড়ে পার্বতী মন্দির। যার লোকমুখে প্রচলিত নাম খ্যাঁদা পার্বতী। গবেষকরা মনে করেন মূর্তিটি পাল যুগের সময়কার। প্রস্তরমূর্তিটি গ্রামবাসীদের কাছে জাগ্রত দেবী। জনপ্রিয় ধারণা অনুযায়ী আছে বহু রহস্য। গোটা গ্রামে কোথাও দুর্গোৎসব হয় না। শরৎকালে এই প্রস্তরমূর্তিকে শাস্ত্র মতে পুজো করা হয়। নবমীর দিন হয় বিশেষ পুজোপাঠ।

বৃহৎ বঙ্গে পাল যুগের সময়কার ভাস্কর্য শিল্প চরম শিখরে পৌঁছায়। শিল্পকর্মে ধর্মীয় চিন্তাভাবনার পাশাপাশি সেকালের শিল্পীদের অবিশ্বাস্য কাজ আশ্চর্য করে। নিজস্ব উৎকীর্ণ সৃষ্টির মধ্যে থাকে যেন শিল্পের জাল বোনা। যদি শিল্পানুরাগী হন, তবে আপনাকে মুগ্ধ করে তুলবে!
দেউলীর মূর্তি পাল রাজা নয় পালের আমলে নির্মিত মনে করা হয়। ঐতিহাসিকরা জায়গাটি পরিদর্শন করে এমনই তথ্য দেন। তার রাজত্বকাল ছিল ১০৩৮ থেকে ১০৫৫ খ্রিস্টাব্দ। তিনি প্রথম মহিপালের পুত্র। এমন প্রস্তরমূর্তি আরো আটটি ছিল জানা যায়। বর্তমানে সেই সময়ের মূর্তি এই একটি আছে।
পাদপীঠের ওপর মূর্তিটি। নিচে মহিষের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছে মহিষাসুর। বামদিকে শার্দুল। মূর্তির পিছনের অংশে দুইদিকে আছেন অপ্সরা। মাথায় কীর্তিমুখ, শক্তির প্রতীক।

কালাপাহাড়ের হাত থেকেও রেহাই পায়নি পাল যুগের এই ভাস্কর্য। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে একাধিক মন্দিরে আক্রমণ চালিয়ে উন্মত্ত অবস্থায় এলেন এখানে। মূর্তিটির ক্ষতিসাধন করলেন। নাকের সামনের অংশটি তরবারির কোপে দিলেন ভেঙে। করলেন লুটপাট। সেই কালাপাহাড়ের আক্রমণের পর থেকে দেউলী গ্রামে দেবীর নাম হয় খ্যাঁদা পার্বতী।
কিভাবে যাবেন :
শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে ট্রেনে বোলপুর। সেখান থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্বে দেউলী গ্রাম। বোলপুর থেকে টোটো বা গাড়ি বুক করে ঘুরে নিন।
(সমাপ্তি)
The post বোলপুরের কাছেই গুপ্ত, পাল, সেন প্রভৃতি আমলের নিদর্শন! যেন এক সংগ্রহশালা, পর্ব ৫ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post বোলপুরের কাছেই গুপ্ত, পাল, সেন প্রভৃতি আমলের নিদর্শন! যেন এক সংগ্রহশালা, পর্ব ৪ appeared first on Bhramon Online.
]]>মুকুট তপাদার
ভারত তপস্বীর দেশ। তাদের শক্তির মধ্যেই থাকে ঈশ্বরের মহিমা। আমাদের দেশনায়কও শৌলমারির সাধু বা ভগবানজী হয়ে জীবনের শেষ সময় ছিলেন শোনা যায়। যাইহোক, সারাদেশের তপস্বী ও ভক্তরা পৌষ পূর্ণিমায় মকর সংক্রান্তির দিন পূণ্যস্নান করেন। দিনটি অত্যন্ত পবিত্র।
মকর সংক্রান্তিতে শ্রী শ্রী লোচন দাস ঠাকুরের আবির্ভাব তিথি। চৈতন্যজীবনীকার লোচন দাস ছিলেন মধ্যযুগের বৈষ্ণব কবি। অজয় নদের পাড়ে বসে তিনি চৈতন্যদেবের জীবনী লিখে গেছেন। এই অজয় নদে মকর সংক্রান্তির দিন ভক্তরা পূণ্যস্নান করেন।

লোচন দাস শ্রীচৈতন্যমঙ্গল রচনা করেন। তার আগে বা পরে সকল কবি চৈতন্যদেবকে ঈশ্বরের স্বরূপ হিসেবে দেখিয়েছিলেন। কিন্তু লোচন দাস চার খন্ডে মহাপ্রভুর মানবিক যাত্রাকে কাব্যে ফুটিয়ে তোলেন। ভক্তি প্রসারে কীর্তনের অবদান উঠে আসে। মহাপ্রভুর সহধর্মিনী বিদুষী নারী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর কাহিনীও কাব্যে আলোচিত হয়।
অজয় নদের পাড়ে দেউলী গ্রামে আছে লোচন দাস প্রভুর সিদ্ধাসন। তিনি এখানে বসেই তাঁর গুরু নরহরি সরকারের নির্দেশে চৈতন্যমঙ্গল রচনা করেন। বিষয়টি অনেকেরই অজানা। চার খন্ডে নবদ্বীপ লীলা, শ্রীচৈতন্যর দেশ ভ্রমণ, নীলাচলের কাহিনী রচিত হয়। এখানে বেশকিছু প্রাচীন ভাস্কর্য আছে। যেগুলো অনুমান করা হয় প্রায় ৯ম থেকে ১২শ শতাব্দীর সময়কার।

অজয় নদের কাছেই জায়গাটি শান্ত পরিবেশ। সময় কাটানোর জন্য আপনার বেশ পছন্দ হতে পারে। সিদ্ধাসনটি দৃশ্যত গাছ গাছালি ও মন্দির ঘেরা স্নিগ্ধ পরিবেশে। লোচন দাস প্রভুর সিদ্ধাসন দেখে ভক্তদের চৈতন্য হোক।
কিভাবে যাবেন :
শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে ট্রেনে বোলপুর। সেখান থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্বে দেউলী গ্রাম। বোলপুর থেকে টোটো বা গাড়ি বুক করে ঘুরে নিন।
(চলবে)
The post বোলপুরের কাছেই গুপ্ত, পাল, সেন প্রভৃতি আমলের নিদর্শন! যেন এক সংগ্রহশালা, পর্ব ৪ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post বোলপুরের কাছেই গুপ্ত, পাল, সেন প্রভৃতি আমলের নিদর্শন! যেন এক সংগ্রহশালা, পর্ব- ৩ appeared first on Bhramon Online.
]]>মুকুট তপাদার
দেউলীর মকর সংক্রান্তি মেলা
পৌষ মাসে মকর সংক্রান্তিতে সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করে। ২০২৫ সাল, এ বছর মহাকুম্ভ স্নান। ১৪৪ বছর পর এই যোগ আসে। ১৪ই জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি।
বীরভূমে দেউলীর মকর সংক্রান্তি মেলা উৎসবের সঙ্গে পালন করা হয়। শ্রী শ্রী মহাদেব মন্দির, কুবের নাথ মন্দির, শ্রী শ্রী ভৈরব নাথ মন্দির ও পার্বতী মন্দিরে বিশেষ নিয়ম করে পূজা-অর্চনা হয়। মন্দিরগুলো অত্যন্ত প্রাচীন। এই দিনগুলিকে কেন্দ্র করে হরিনাম সংকীর্তন মেলাতে অনুষ্ঠিত হয়।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষও দিনটি পালন করেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষের কাছে দিনগুলো খুবই পবিত্র। বীরভূমে অতীতে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের বসবাস ছিল। দেউলীতে অজয় নদী পেরিয়ে পান্ডুক এলাকায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বাস ছিল। সেই আমলের নানা প্রত্নসামগ্রী নদীর আশেপাশে পাওয়া গেছে।

দেউলীতে অজয় নদে দিব্য স্নান সেরে সূর্য পূজা হয়। কেন্দুলী গ্রামের মেলার আকর্ষণ অনেকের কাছে খুবই চেনা। কিন্তু দেউলীর ঐতিহ্যময় মকর সংক্রান্তি মেলাও আনন্দের সঙ্গে উদযাপিত হয়।
গ্রামের বয়স্ক মানুষদের মুখে মুখে এই মেলার কথা শোনা যায়। মেলার আকর্ষণ বাউল গান। বীরভূমের বাউল শিল্পীরা মেলায় গান গাইতে আসেন। হয়তো কোন এক বাউলের কণ্ঠে শোনা যায় গগন হরকরার সেই গান,
“আমি কোথায় পাব তারে,
আমার মনের মানুষ যে রে।”
নানা ধরনের মিষ্টি ও নতুন গুড়ের পিঠে মেলাতে বিক্রি হয়। রকমারি পসরা নিয়ে হাজির হন বিক্রেতারা। অনেক লোকসমাগম ঘটে। দেউলীর মকর সংক্রান্তির মেলা ঘিরে থাকে গ্রামে স্থানীয় ও খুদেদের ভিড়।
মেলায় কিভাবে যাবেন : শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে ট্রেনে বোলপুর। সেখান থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্বে দেউলী গ্রাম। বোলপুর থেকে টোটো বা গাড়ি বুক করে ঘুরে নিন।
(চলবে)
The post বোলপুরের কাছেই গুপ্ত, পাল, সেন প্রভৃতি আমলের নিদর্শন! যেন এক সংগ্রহশালা, পর্ব- ৩ appeared first on Bhramon Online.
]]>